হেযবুত তওহীদ

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত

সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ

সালাহ (নামাজ) পৃথিবীতে কিসের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ? –

সত্য, শ্বাশ্বত এবং পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হোল দীনুল ইসলাম। মানবজাতির আদিকাল থেকেই ইসলামের যাত্রা শুরু। মানবজাতিকে যাবতীয় অন্যায়-অবিচার, অশান্তি থেকে মুক্ত কোরে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই যুগে যুগে দীনুল ইসলাম, সত্য জীবনব্যবস্থা দিয়ে আল্লাহ নবী-রসুলদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ এসেছেন মহানবী মোহাম্মদ (দ:)। তাঁর আগমন হোয়েছে সম্পূর্ণ মানবজাতির জন্য এবং তাঁর নবুওয়াতকাল কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী। আল কোর’আনের অন্ততঃ তিনটি আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর শেষ নবী প্রেরণের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাষায় ব্যক্ত কোরেছেন। আল্লাহ বলেছেন- ‘আমি তাঁকে (মোহাম্মদকে) সত্যদীন এবং সঠিক পথনির্দেশ দিয়ে এই কারণে প্রেরণ কোরেছি যে তিনি এটাকে অন্যান্য সমস্ত দীনের উপর বিজয়ী কোরবেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট’ (সুরা আল ফাতাহ: ২৮, সফ: ৯, তওবা: ৩৩)। অর্থাৎ সমস্ত পৃথিবীতে এই শেষ দীনকে প্রতিষ্ঠা করাই হোল তাঁর দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব যতদিন না পূরণ হোচ্ছে ততদিন রসুলাল্লাহর উপর আল্লাহর উপাধি ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ও অর্থবহ হয় না। আল্লাহর একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ নাম হোল সোবহান যার অর্থ- নিখুঁত, ত্র“টিহীন। তাঁর প্রতিটি কাজ নিখুঁত। কাজেই তিনি তাঁর রসুলকে যে বিরাট-বিশাল দায়িত্ব দিয়ে পৃথিবীতে পাঠালেন সেই দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া, কর্মপদ্ধতিও নির্দিষ্ট করে দিলেন। সেই প্রক্রিয়া হোল সংগ্রাম এবং সর্বাত্মক সংগ্রাম। আর এই সর্বাত্মক সংগ্রামের জন্য যে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন ত্র“টিহীন (সোবহান) আল্লাহ সেটাও দিয়ে দিলেন। সেই প্রশিক্ষণ হোল সালাহ (নামাজ)। উম্মতে মোহাম্মদীর পাহাড়সম দায়িত্ব পালনের জন্য যে চরিত্রের, আত্মার বল প্রয়োজন সেই চরিত্র সৃষ্টির প্রশিক্ষণ হোল সালাহ (নামাজ)।
সালাহর আকিদা বিকৃতি:

বর্তমানে সালাহর আকিদা বিকৃত হোয়ে গেছে। ইসলামের অন্যান্য বিষয়াবলির মতো সালাহকেও উপাসনা সর্বস্ব একটি আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত করা হোয়েছে। প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী তদানীন্তন অর্ধপৃথিবীতে যে বিপ্লব সৃষ্টি কোরেছিল এবং যাদের ঐক্য-শৃঙ্খলা এবং আনুগত্যের সামনে তৎকালীন বিশ্বের সুপার পাওয়ারগুলো মাথা নোয়াতে বাধ্য হোয়েছিল সেই জাতির সালাহ আর বর্তমানের এই মোসলেম নামধারী জাতির সালাহর মাঝে রয়েছে আকাশ-পাতাল ফারাক। এই ফারাক বাহ্যত এবং অভ্যন্তরীণ উভয় দিক দিয়েই। বর্তমানের এই সালাহকারীদের কাছে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কোনই মূল্য নেই, কাজেই সালাহর সেই প্রকৃত আকিদা অর্থাৎ সংগ্রামী চরিত্রের মোজাহেদ তৈরির প্রশিক্ষণও তাদের কাছে অনুপস্থিত হওয়াই স্বাভাবিক। সালাহ এখন নিছক একটি আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভের পথ হিসেবে বিবেচিত হোচ্ছে। অথচ সালাহর যে নিয়ম-কানুন, হুকুম-আহকাম রয়েছে সেগুলো দেখলেই বোঝা যাবে সালাহ ধ্যাণ বা উপাসনা নয় বরং ধ্যাণের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর সাথে যে বিষয়টির মিল সবচেয়ে বেশি তাহোল- যে কোন দেশের সামরিকবাহিনীর কুচকাওয়াজ। শুধু আচার-অনুষ্ঠানের মিলই নয়, উদ্দেশ্য এবং প্রক্রিয়াতেও সালাহ ও সামরিক বাহিনীর কুচাকাওয়াজের যথেষ্ঠ মিল দৃশ্যমান হয়। এই মিল এতটাই প্রকট যে বর্তমানের প্রায়ান্ধ ইসলামের দৃষ্টিতেও তা ধরা পড়ে। যেমন ডিগ্রী ইসলামিক স্টাডিজের তৃতীয় পত্রের অনুশীলনের ৬ষ্ঠ প্রশ্নের ১৮ নং উত্তরে লেখা হোচ্ছে- “মসজিদ নেতৃত্ব ও নেতার আনুগত্যের শিক্ষা দেয়; মসজিদ নেতৃত্ব ও আনুগত্যের এক অনুপম শিক্ষা কেন্দ্র। মসজিদে সব মুসল্লির একই এমামের পেছনে সারিবদ্ধভাবে উঠাবসার দৃশ্য দেখে মনে হয় তারা একজন সেনাপতির নির্দেশে কুচকাওয়াজে লিপ্ত। এখানেই নেতার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য ও নেতৃত্বের বৈশিষ্টের উত্তম সবক বিদ্যমান।” এই মিল স্বাভাবিক, কারণ দু’টোরই উদ্দেশ্য এক। এমনই প্রধান প্রধান কিছু মিল তুলে ধরলাম-

Shena-bahini-254x300

সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...