হেযবুত তওহীদকে জানুন
আল্লাহর পথে নিজের চার সন্তানকে কোরবানি! -মুখলেছুর রহমান সুমন
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির আশায় নবী ইব্রাহিম (আ.) নিজের শিশুপুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি পুত্রের গলায় ছুরি চালনা করলে আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা জবাই হয়ে যায়। পিতা কর্তৃক নিজের পুত্রকে কোরবানি করার এই ঘটনা নিঃসন্দেহে বিরল ও বিস্ময়কর। কিন্তু আজকে আমি ইসলামের ইতিহাসের এক মহিয়সী নারীর কথা বলবো, যিনি এমন এক কোরবানির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যা পয়গম্বর ইব্রাহিম (আ.) এর কোরবানির চেয়েও অধিক বিস্ময়কর। তিনি নিজের এক পুত্রকে নয়, বরং চারজন পুত্রকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি করেছিলেন। আল্লাহর সত্যদীন ইসলামকে দুনিয়াতে বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত করতে কত মানুষকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে, নিজের সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবান করতে হয়েছে, ওই নারীর হৃদয়বিদারক ঘটনা জানার পর আপনি তা কিছুটা হলেও ধারণা করতে পারবেন। দশম হিজরীতে মদীনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)। তাঁর ওফাতের পর মুসলিম জাতির অভিভাবক হিসেবে খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন হযরত আবু বকর (রা.)। আবু বকরের খেলাফতকালে আরবের সীমানা ছাড়িয়ে দিকে দিকে ইসলামের বিজয়যাত্রা শুরু হয়। সত্যদীনের বিজয় নিশান উড়াতে নাঙ্গা তলোয়ার হাতে বেরিয়ে পরেন রাসুলুল্লাহর (স.) সাহাবীরা। তারা একই সাথে তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যে আক্রমণ করেন। ইরাক ও সিরিয়ায় সমান তালে চলতে থাকে দুই পরাশক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধ। এরই মধ্যে হযরত আবু বকর (রা.) ইন্তেকাল করলে নতুন খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হযরত উমর ফারুক (রা.)। তিনিও বিরতিহীনভাবে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার এই অভিযান অব্যাহত রাখেন। খলিফা উমরের শাসনামলে হিজরী চতুর্দশ সনে ইরাকের কাদিসিয়ায় মুসলিম ও পারস্য বাহিনীর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা কাদিসিয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে পারস্য বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল দেড় লাখেরও বেশি। বিপরীতে মুসলিমরা ছিলেন মাত্র ৩২ হাজার। এর আগেও তারা একাধিক যুদ্ধে পারসিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু এত বড় বাহিনী তারা কখনো দেখেন নি। পারসিকরাও অতীতে কখনো কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে এত বিশাল সৈন্যসমাবেশ ঘটায় নি। তবে মুসিলমরা সংখ্যায় অনেক কম হলেও তাদের আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি ছিল না। মুসলিম সৈনিকরা জানতেন, মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদের সাথে বিজয় দানের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য যতটা রক্ত দেয়ার প্রয়োজন, যতটা আত্মত্যাগের প্রয়োজন, তা দিতে প্রস্তুত ছিলেন মুসলিম জওয়ানরা। কেবল পুরুষ যোদ্ধারা নয়, তাবুতে অবস্থানকারী নারীরাও সে দিন আল্লাহর সত্যদীনের বিজয়ের স্বার্থে নিজেদের সর্বস্ব ত্যাগের শপথ নিয়েছিলেন। তারা জানতেন, আজকের দিনে তাদের স্বামী, সন্তান আর ভাইয়েরা যারা যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে, দিনশেষে তাদের অনেকেই ফিরে আসবে না। কিন্তু এই বলিদানে তাদের এতটুকু আফসোস কিংবা আপত্তি ছিল না। বরং নিজের পরিবারের পুরুষদের মনে প্রতিনিয়ত সাহস আর উদ্দীপনা জুগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। মুসলিম শিবিরের এই আত্মত্যাগী নারীদের একজন ছিলেন খানসা বিনতে আমর (রা.)। খানসা ছিল তাঁর ডাকনাম, যার অর্থ ‘হরিণী’। সাহাবীরা এই নামেই তাকে ডাকতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন কবি। তাঁকে আরব সাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রসুল (স.) এর ইন্তেকালের চার বছর পর কাদিসিয়ার যুদ্ধে নিজের পুত্রদেরকে নিয়ে উপস্থিত হোন খানসা (রা.)। সেখানে ৩২ হাজার মুসলিম যোদ্ধার বিপরীতে যখন দেড় লাখেরও বেশি পারস্য সৈনিক দাঁড়িয়ে গেল, তখন এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হলো। তবে মুসলিম সৈনিকরা ভেঙে পড়েন নি। বরং আল্লাহ পাকের উপর ভরসা করে তারা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর নারীরা এগিয়ে আসেন তাদের স্বামী, পিতা, পুত্র আর ভাইদের মনোবল বৃদ্ধি করার জন্য। যুদ্ধের প্রাক্কালে হযরত খানসাকে (রা) দেখা যায় তার পুত্রদের সাথে কথা বলতে। তিনি নিজের সন্তানদের উদ্দেশে বলেন, “হে আমার পুত্রগণ! তোমরা খুশি মনে ইসলাম গ্রহণ করেছ। ইসলাম গ্রহণ করতে তোমাদেরকে কেউ বাধ্য করে নি। তোমরা স্বেচ্ছায় হিজরত করেছ। অতএব আজকে আল্লাহর এই দীনকে হেফাজত করা তোমাদের দায়িত্ব।” খানসা (রা.) বলেন, “আল্লাহ তাআলা জিহাদের বিনিময়ে তাঁর বান্দাদেরকে এত বেশি সম্মানিত করেন, যা অন্য কোনো কাজের বিনিময়ে করেন না। সুতরাং শত্রুর বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য কামনা করবে। যখন যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠবে, শত্রুর সামনে দ্রুত অগ্রসর হবে।” তিনি আরো বলেন, “আগামীকাল প্রভাতে সুস্থ মনে শয্যা ত্যাগ করে সাহসের সাথে যুদ্ধে যোগদান করবে। শত্রুর সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় প্রবেশ করবে, সবচেয়ে সাহসী শত্রুর মোকাবেলা করবে। প্রয়োজন হলে নির্ভীক চিত্তে শহীদ হবে।” পরদিন সকালে যুদ্ধ শুরু হলে হযরত খানসার পুত্ররা তাদের মায়ের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। তারা চারজনই ছিলেন বয়সে যুবক। তারা যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশে প্রবেশ করেন। সেখানে সাহসী ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করেন আর বীর বিক্রমে লড়াই করেন। তারা আবেগ-উচ্ছ্বাসে উদ্দীপ্ত রণসংগীত গেয়ে একে অপরকে উৎসাহিত করেন। তাদের এক ভাই কবিতা আবৃত্তি করলেন -হে আমার ভাইয়েরা! রাতের বেলায় আমাদের পরম শুভাকাঙ্ক্ষী মা আমাদেরকে ডেকে নসিহত করেছিলেন। তার সেই স্পষ্ট নসিহত তোমাদের মনে আছে কি? যদি মনে থাকে তাহলে, ধ্বংসাত্মক ও আকৃতি বিকৃতিকারী ভয়ঙ্কর এই যুদ্ধে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়। এই রণকবিতা আবৃত্তি করতে করতে তিনি পূর্ণ সাহসে উদ্দীপিত অবস্থায় যুদ্ধ করে শহীদ হন। একই ভাবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ভাইটিও শহীদ হয়ে যান। তিন ভাইয়ের শাহাদাতের পর চতুর্থ ভাই আবৃত্তি করেন, “খানসার পুত্র বলে পরিচয় পাওয়ার আমার কোনো অধিকার নেই; যদি না আমার ভাইদের মতো আমিও পারস্যবাহিনীর সাথে চরম যুদ্ধে মুখোমুখি হই। যদি না আমি পারস্যবাহিনীর সারিতে প্রবেশ করতে পারি। যদি না বিজয় কিংবা শাহাদাত লাভ করতে পারি।” অতঃপর তিনিও বীরবিক্রমে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে যান। এটা ছিল চারদিন ব্যাপী চলমান কাদিসিয়ার যুদ্ধের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় দিবসের ঘটনা। ওই দিনের সংঘর্ষ শেষে মুসলিম যোদ্ধারা যখন তাঁবুতে ফিরে আসছিলেন, তখন খানসা (রা.) তাদের মধ্যে নিজের পুত্রদেরকে খুঁজে বেড়ান। কিন্তু যুদ্ধফেরত সৈনিকদের মধ্যে তাদেরকে দেখা গেল না। কেউ তাদের সন্ধানও দিতে পারলো না। অবশেষে যেখানে শহীদদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে নিজের পুত্রদের মরদেহ খুঁজে পান খানসা (রা.)। তাদের লাশ যখন কবরে নামানো হয় তখন তিনি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি এতটুকু বিলাপ করেন নি, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করেন নি, কিংবা কোনো আক্ষেপও করেন নি। তিনি বলেন, আমার পালনকর্তা অসন্তুষ্ট হয় এমন কোনো কথা আজ আমি বলবো না। পুত্রদের শাহাদাতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করবো না, হৃদয়েও কোনো কষ্ট পুষে রাখবো না। বরং আমি মহান আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করবো, যিনি আমাকে শহীদ সন্তানদের মা হওয়ার সম্মান ও সৌভাগ্য দান করেছেন। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আশা করি, তিনি আমাকে তাদের সাথে তাঁর রহমতের ঠিকানা জান্নাতে সাক্ষাৎ করাবেন। সুধী পাঠক, কাদিসিয়ার যুদ্ধ ছিল তৎকালীন বিশ্বপরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। এই যুদ্ধে দেড় লাখ সেনাসজ্জিত পারসিক বাহিনীকে পরাজিত করে ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনী। কিন্তু এই বিজয়ের পেছনে কত বাবা-মায়ের কোরবানি, কত সন্তানের বলিদান লুকিয়ে আছে, তার কয়টা ঘটনাই বা আমরা জানি! ইসলামের সোনালি যুগে সেই মানুষেরা যদি তাদের জীবন-সম্পদকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ না করতেন, তাহলে আরবভূমিতে আগত ‘ইসলাম’ নামক এই আদর্শ আমাদের পর্যন্ত কখনোই পৌঁছাতো না। আজকে চৌদ্দশ বছর পরে এসে আমরা বিশ্বের প্রায় দুইশ’ কোটি মুসলিম ধর্মকর্ম পালন করে যাচ্ছি। কোরবানির নামে কোটি কোটি পশু জবাই করছি। এক বাংলাদেশে প্রতি বছর কম-বেশি এক কোটি পশু জবাই করা হয়। কিন্তু আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে কোরবানি করার জন্য কতজন মানুষ প্রস্তুত, এই প্রশ্নটা কিন্তু থেকে যায়।
হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে অপপ্রচারের জবাব
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত পর্দা, নবী দাবি, কুফরি সংগঠন, মহিলা ইমাম ও আলেম-বিরোধিতা সংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাব ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা। .faq-wrap{--faq-line:#d9e2de;--faq-tint:rgba(11,93,75,.07);--faq-accent:#0b5d4b;--faq-accent-dark:#0b5d4b;max-width:820px;margin:1.5rem auto 2.5rem;font-family:inherit;color:inherit;text-align:left}.faq-wrap *{box-sizing:border-box}.faq-wrap .faq-list{border-top:1px solid var(--faq-line)}.faq-wrap details.faq-item{margin:0;padding:0;border:0;border-bottom:1px solid var(--faq-line);background:none;transition:background-color .25s ease}.faq-wrap details.faq-item[open]{background:var(--faq-tint);box-shadow:inset 4px 0 0 var(--faq-accent)}.faq-wrap summary.faq-q{display:flex;align-items:flex-start;justify-content:space-between;gap:1rem;margin:0;padding:1.1rem 1rem 1.1rem 1.1rem;list-style:none;cursor:pointer;font-weight:600;line-height:1.6;-webkit-tap-highlight-color:transparent}.faq-wrap summary.faq-q::-webkit-details-marker{display:none}.faq-wrap summary.faq-q::marker{content:""}.faq-wrap summary.faq-q:hover .faq-title{color:var(--faq-accent)}.faq-wrap summary.faq-q:focus-visible{outline:3px solid var(--faq-accent);outline-offset:-3px}.faq-wrap .faq-title{font-size:1.1em;font-weight:600;line-height:1.6}.faq-wrap summary.faq-q::after{content:"";flex:none;width:.6rem;height:.6rem;margin:.5rem .4rem 0 0;border-right:2px solid var(--faq-accent);border-bottom:2px solid var(--faq-accent);transform:rotate(45deg);transition:transform .25s ease,margin-top .25s ease}.faq-wrap details[open]>summary.faq-q::after{transform:rotate(-135deg);margin-top:.85rem}.faq-wrap .faq-body{padding:.1rem 1.25rem 1.6rem 1.1rem;font-size:1.02em;line-height:1.95}.faq-wrap details[open]>.faq-body{animation:faqIn .3s ease}@keyframes faqIn{from{opacity:0;transform:translateY(-6px)}to{opacity:1;transform:none}}.faq-wrap .faq-body p{margin:0 0 1em;padding:0;text-align:justify}.faq-wrap .faq-body p:last-child{margin-bottom:0}.faq-wrap .faq-body h4{font-size:1.05em;line-height:1.6;margin:1.4em 0 .5em;color:var(--faq-accent-dark)}.faq-wrap .faq-body strong{font-weight:600}.faq-wrap .faq-body ul,.faq-wrap .faq-body ol{margin:0 0 1em;padding:0 0 0 1.6em;list-style-position:outside}.faq-wrap .faq-body ul{list-style-type:disc}.faq-wrap .faq-body ol{list-style-type:bengali;text-align:justify}.faq-wrap .faq-body li{margin:0 0 .45em;padding:0 0 0 .2em}.faq-wrap .faq-links{display:flex;flex-direction:column;align-items:flex-start;gap:.35rem;margin-top:1.4rem;padding-top:.9rem;border-top:1px dashed var(--faq-line)}.faq-wrap .faq-links:empty{display:none}.faq-wrap .faq-links a{color:var(--faq-accent);font-weight:500;text-decoration:underline;text-underline-offset:3px;box-shadow:none;border:0}.faq-wrap .faq-links a:hover{opacity:.75}@media (max-width:520px){.faq-wrap summary.faq-q{padding:1rem .8rem 1rem .9rem}.faq-wrap .faq-title{font-size:1.04em}.faq-wrap .faq-body{padding-right:.9rem}}@media (prefers-reduced-motion:reduce){.faq-wrap details[open]>.faq-body{animation:none}.faq-wrap details.faq-item{transition:none}}.faq-wrap .faq-body a{color:var(--faq-accent);font-weight:600;text-decoration:underline;text-underline-offset:3px}.faq-wrap .faq-body a:hover{opacity:.75} হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ছড়ানো কিছু প্রচলিত অপপ্রচার ও তার জবাব নিচে তুলে ধরা হলো। ‘পর্দার বিধান’ সংক্রান্ত অপপ্রচারহেযবুত তওহীদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার হয়েছে নারীদের পর্দা সংক্রান্ত। কেননা হেযবুত তওহীদের মেয়েরা মুখ ঢেকে পর্দা করে না। তাই ধর্মব্যবসায়ী স্বার্থান্বেষী মহল হেযবুত তওহীদের নারী পর্দা নিয়ে ডাহা ডাহা মিথ্যা অপপ্রচার করেছে সবচেয়ে বেশি। যেমন তারা বলে, ‘হেযবুত তওহীদ নাকি পর্দার বিধান স্বীকার করে না এবং মনে করে নারী-পুরুষের পর্দার প্রয়োজন নেই।’ এধরনের নানা মিথ্যা কথা বলে তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে অপপ্রচার করেছে।তাদের এসব অপপ্রচারের জবাবে আমরা বলতে চাই, হেযবুত তওহীদ নারীদের পর্দার বিধান অস্বীকার করে না। এটি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট-ভিত্তিহীন একটি প্রোপাগান্ডা। পর্দা প্রত্যেকটা নর-নারীর জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক। পর্দা ছাড়া কোন নারী-পুরুষ চলতে পারে না। আমরা বলেছি, পর্দার বিধান আল্লাহ ফরজ করেছেন নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই। তবে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ। যেটা আল্লাহ বলেন নি, যেটা রসুল করেন নি সেটার উপর অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতে আল্লাহই নিষেধ করেছেন। অতীতের উম্মাহ বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই আমরা চাই, প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সহজ সরল বিধান অনুসরণ করতে।কিন্তু আমরা দেখেছি নারীদের এই পর্দার বিধান নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী একটি শ্রেণি অতিব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে এটাকে জটিল-কঠিন, ভারসাম্যহীন করে তুলেছে। পর্দার নামে বাড়াবাড়ি করে নারীদের স্বাভাবিক বিচরণকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের কথা হচ্ছে, কোরআনে আল্লাহ নারীদের পর্দার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান দিয়েছেন। সেখানে আল্লাহ এমনভাবে হিজাব করতে বলেছেন যাতে তাদের চেনা সহজ হয়। কোন নির্দিষ্ট পোশাক বা আপাদমস্তক কালো কাপড়ে আবৃত করে পর্দা করতে আল্লাহ নির্দেশ দেন নি। কিন্তু পরবর্তীতে অতি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও বাড়াবাড়ি করে এই জিনিসগুলো যুক্ত করা হয়েছে। যদিও এব্যাপারে ইমামগণের মধ্যেও মতভেদ আছে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন মুখ খোলা রেখে নারীরা পর্দা করা জায়েজ আছে, আবার কেউ মনে করেন মুখ খোলা রাখলে পর্দা লঙ্ঘন হবে। কাজেই আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আল্লাহ কোরআনে নারীদের পর্দার ব্যাপারে যতটুকু নির্দেশ দিয়েছেন ততটুকু অনুসরণ করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-১. এই বইটি পড়ুন২. এই ভিডিওটি দেখুন ‘নবী দাবি’ সংক্রান্ত অপপ্রচারকোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য যে সমস্ত অপপ্রচার সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তার মধ্যে অন্যতম হলো কারো বিরুদ্ধে নবী দাবির অপবাদ আরোপ করা। কারণ এটা সরাসরি মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে আঘাত করে। এই কাজটিই করেছে ধর্মব্যবসায়ী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটি। তারা হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে এমন সব কথা ব্যবহার করেছে যা শুনলে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করা সহজ হবে। তাই তারা হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়জীদ খান পন্নীর ব্যাপারে বলেছেন, তিনি নাকি নিজেকে নবী দাবি করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।হেযবুত তওহীদের উপর একটি মিথ্যা অপবাদ। এই কথার কোন দলিল তারা দেখাতে পারবে না। হেযবুত তওহীদের কোন বই, বক্তব্য, পুস্তিকা কোথাও কেউ এটা বলতে পারবে না যে হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমাম নিজেকে নবী দাবি করেছেন বা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাঁর নবুয়তের দাবি করেছেন। বরং আমরা এটা দেখাতে পারবো যে, তিনি তার বক্তব্য, লেখায় বহু জায়গায় এটা বলেছেন যে, তিনি নবী নন, রসুল নন, অ্যাস্ট্রোলজার নন এমনকি পীর-ফকিরও নন। তিনি একজন সাধারণ মানুষ। তাহলে তারা কিভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এমন ডাহা মিথ্যাচার করতে পারেন! কাজেই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অপপ্রচারকারীদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানুন। আমাদের ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকেই শুনুন। তাহলে সত্যনিষ্ঠ মানুষেরা মিথ্যাবাদীদের দ্বারা প্রতারিত হবেন না ইনশাল্লাহ।এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-১. এই ভিডিওটি দেখুন২. এই লেখাটি পড়ুন ‘কুফরি সংগঠন’ সংক্রান্ত অপপ্রচারসাধারণ জনগণকে হেযবুত তওহীদ বিমুখ করার জন্য ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণীটির বহুল ব্যবহৃত একটি মিথ্যা অপবাদ হলো, ‘হেযবুত তওহীদ ঈমানবিধ্বংসী কুফরি সংগঠন’। এই অপবাদ দিয়েই তারা সাধারণ মানুষকে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে। সাধারণ মানুষ যেন হেযবুত তওহীদের বক্তব্য না শোনে, তাই তারা বলে, আমাদের কথা শোনা যাবে না, তাতে ঈমান চলে যাবে। ধর্মব্যবসায়ীদের এসব মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট কথা হচ্ছে, ‘হেযবুত তওহীদ যদি কুফরি সংগঠনই হয় তাহলে আমাদের বক্তব্যকে টুইস্ট করে আপনাদের আলাদা হ্যান্ডবিল রচনা করার দরকার পড়ছে কেন? এত কষ্ট করে খণ্ড খণ্ড লাইন তুলে তুলে এনে হ্যান্ডবিল প্রচার করছেন কেন? আমাদের বই জনগণকে পড়তে দিন। পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসায় সব জায়গায় মানুষকে পড়তে দিন। জনগণ পড়ুক, তারপর বইয়ে আন্ডারলাইন করুক। আমাদের ৫/১০ টাকা দামের ছোট ছোট পুস্তিকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা দামের বইও আছে। বাংলায় আছে, ইংরেজিতেও আছে। এই বইগুলো জনগণকে দিয়ে দিন।বই জনগণের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়ার মত সামর্থ্য আপনাদের না থাকলে আমাদের বলেন, আমরা জমি বিক্রি করে হলেও সবার হাতে হাতে বই পৌঁছে দিব। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট, জজ, পুলিশের এসপি, ডিসি, থানার দারোগা, ওসি, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, মুহতামিম হুজুর, মসজিদের খতিব, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট, মাদ্রাসার স্টুডেন্ট, পাঠক, ব্যবসায়ী সকলের সামনে আমাদের বই উন্মুক্ত করে দিন। এরপর আমাদের বইয়ে একটা শব্দ বা একটা লাইন যদি আল্লাহর বিরুদ্ধে, রসুলের বিরুদ্ধে, কোরআনের বিরুদ্ধে থাকে (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক) বা কোনো ঈমান বিধ্বংসী কথা থাকে, কেউ দেখাতে পারেন, আমরা ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি, সেটার জন্য তওবা করবো।আমাদের একেকটা বই শত শত পৃষ্ঠার। সেই পূর্ণাঙ্গ বই না পড়ে, ভিতর থেকে একটা লাইনের অর্ধেক টুকরা তুলে এনে আমাদের বিরুদ্ধে বলে যে, ‘এই দেখো, এই লোক ঈমান বিধ্বংসী কথা বলেছে!’ কতটা জঘন্য মিথ্যাচার! একটা লাইনের থেকে দুইটি মধ্যখানের শব্দ তুলে দিলে সে লাইনের বিপরীত অর্থ হয়ে যেতে পারে। অথচ সেই কাজটিই করছে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি। আমরা বুঝতে পারছি তারা আমাদের কথাকে ভয় পাচ্ছেন, আমাদের বক্তব্যকে ভয় পাচ্ছেন, আতঙ্কিত হচ্ছেন। কিন্তু লাভ হবে না। জনগণকে বোকা ভাববেন না। জনগণ পড়তে জানে। তাদেরকে বেশিদিন বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। কারণ আল্লাহ দেখছেন যে, হেযবুত তওহীদ জমিনের আল্লাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে দাঁড়িয়েছে। হেযবুত তওহীদ জনগণের ঈমান নষ্ট নয়, রক্ষা করতে দাঁড়িয়েছে।এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-১. এই ভিডিওটি দেখুন২. এই বইটি পড়ুন ‘মহিলা ইমামের পিছনে নামাজ নিয়ে’ অপপ্রচারের জবাবআদর্শিকভাবে হেযবুত তওহীদের কাছে পরাজিত হয়ে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি কতটা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে তার নমুনা পাবেন এই অপপ্রচারে। ঘটনার সূত্রপাত ভারতের কেরালা রাজ্যের একজন মহিলা ইমামের নামাজের ইমামতি নিয়ে। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ানে’ প্রকাশিত হয়। এই ঘটনা প্রকাশের পর মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই নারী ইমামের নামাজের ইমামতির ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি ২০১৮ সালের হলেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এতেই যেন হাতে পানি পায় আমাদের দেশি হুজুররা। তারা ভারতের সেই মহিলার ইমামের ছবি সুপার এডিট করে একজন মুসল্লির মাথা কেটে সেখানে হেযবুত তওহীদের এমামের মাথা বসিয়ে দেন। এরপর সেটা হেযবুত তওহীদের বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে শুরু করেন। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ তো আর ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করতে যাবে না। তারা হুজুরের কথাকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার দ্বারা প্রভাবিত হয়। এবং মনে করে হেযবুত তওহীদের এমাম মহিলা ইমামের পিছনে নামাজ পড়েছেন। যা একেবারেই নির্জলা মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা। এ ব্যাপারে Newschecker ফ্যাক্ট চেক করে রিপোর্টও করেছে যে ঘটনাটি বাংলাদেশেরই না।এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-১. এই ভিডিওটি দেখুন২. এই লেখাটি পড়ুন ‘হেযবুত তওহীদ আলেমদের বিরোধিতা করে’ অপপ্রচারের জবাবসাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে আরেকটি যে অপপ্রচার করে তা হলো, ‘হেযবুত তওহীদ নাকি আলেমদের বিরোধিতা করে’! যেহেতু সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ আলেম-ওলামাদের ইসলামের ধারক-বাহক মনে করেন, তাই ‘আলেম-ওলামাদের বিরোধিতা করলে সেটা প্রকারান্তরে ইসলামেরই বিরোধিতা হয়’ এটা সাধারণ জনগণকে বোঝানো সহজ। তাই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদকে দমাতে না পেরে প্রোপাগান্ডা চালায় যে, হেযবুত তওহীদ নাকি আলেমদের বিরোধিতা করে।এ ব্যাপারে আমাদের পরিষ্কার কথা হচ্ছে, হেযবুত তওহীদ কখনোই আলেমদের বিরোধিতা করে না। আমাদের বক্তব্যকে টুইস্ট করা হয়েছে। আমরা বলেছি আলেম দুই প্রকার: এক. হক্কানি আলেম, দুই. ধর্মব্যবসায়ী আলেম। যারা নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের জীবন-সম্পদ দিয়ে এলেমকে কাজে লাগিয়ে দ্বীনের খেদমত করেন, তারা হলেন হক্কানি আলেম। তারা জ্ঞান অর্জন করেছেন মানুষের শান্তির জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য। কোন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নয়। মানুষের ক্ষতি করার জন্য নয়। তারা হলেন সত্যনিষ্ঠ আলেম, ওরাসাতুল আম্বিয়া। সেই সত্যনিষ্ঠ আলেমদের আমরা সালাম জানাই, শ্রদ্ধা করি। আর যারা নিজেদের জ্ঞানকে স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বানায়, ধর্মকে ব্যক্তিস্বার্থ-গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহার করে, ধর্মের কাজের বিনিময়ে তুচ্ছমূল্য গ্রহণ করে, তারা হলেন ধর্মব্যবসায়ী আলেম। তাদের কাছে ধর্ম কেবলই ব্যবসার হাতিয়ার। আমরা সেসকল ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কিন্তু আমাদের কথাকে টুইস্ট করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। কাজেই আমরা বলতে চাই, আমাদের ব্যাপারে করা এই অপপ্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। হেযবুত তওহীদ হক্কানি আলেমদের বিরোধিতা তো করেই না, বরং স্যালুট জানায় এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে আমাদের সাথে একাত্ম হতে আহ্বান জানায়।এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-১. এই ভিডিওটি দেখুন২. এই লেখাটি পড়ুন
রাজধানীর হাজারীবাগে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংগঠনটির রমনা জোনের সভাপতিসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় তিনজনের মাথা ফেটে গেছে এবং একজনের কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে জানা গেছে। তারা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে দোকানটিতে হেবযুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এর বক্তব্য শুনছিলেন বলে জানা গেছে। হামলায় আহতরা হলেন হেযবুত তওহীদের রমনা জোনের সভাপতি মো. এরশাদ শিকদার, সহ-সভাপতি মো. ফারুক হাসান, সদস্য ফজলে রাব্বী, নিজাম উদ্দিন, আল-আমিন, সেন্টু ইসলাম ও শাহাজান আলী। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে হাজারীবাগের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় লোকজনসহ হেযবুত তওহীদের কয়েকজন সদস্য সংগঠনের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের ভিডিও বক্তব্য শুনছিলেন। এ সময় স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের বাধা দেয় এবং প্রচার বন্ধ করতে বলে। হামলাকারীরা হেযবুত তওহীদকে ‘ইসলামবিরোধী’, ‘নাস্তিক’ ও ‘ইহুদিদের দালাল’ আখ্যায়িত করে উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে এবং পরিকল্পিতভাবে একটি ‘মব’ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে সংঘাত এড়াতে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য প্রচার বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করতে শুরু করেন। কিন্তু তারা ফিরে আসার সময় পেছন থেকে ৩০-৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিন সদস্যের মাথা ফেটে যায় এবং অন্যরা গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। হামলার শিকার সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের মাননীয় ইমামের বক্তব্য শোনাচ্ছিলাম। হঠাৎ ১৫-২০ জন লোক এসে আমাদের ইহুদি-খ্রিস্টানদের দালাল ও ইসলামবিরোধী বলে গালিগালাজ শুরু করে। আমরা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাথে সাথে প্রোগ্রাম বন্ধ করে মালামাল গুছিয়ে চলে আসছিলাম। কিন্তু তারা পেছন থেকে আক্রমণ করে আমাকে কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমাদের দায়িত্বশীল ভাই ঘটনাস্থলে এলে তার কোনো কথা না শুনেই আমাদের ইট ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আমার শরীরে চারটি সেলাই লেগেছে, তিন ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে এবং এক ভাইয়ের কানের পর্দা ফেটে গেছে। ডাক্তাররা তার শ্রবণশক্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আরেক ভুক্তভোগী ফারুক হাসান অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যারা দেশকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে, তারাই আজ আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের অপরাধ শুধু আমরা মানুষের মাঝে সত্য প্রচার করছিলাম। তারা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে আমাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। আহত রমনা জোনের সভাপতি মো. এরশাদ শিকদার বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, হামলাকারীরা ফোন করে আরও লোকজন জড়ো করছে। তারা প্রচার করছিল যে হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধ সংগঠন এবং আমরা খ্রিস্টানদের দালাল। এভাবে উসকানিমূলক কথা বলে মানুষকে উত্তেজিত করে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তবে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাজারীবাগ থানা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আকতার উল আলম সোহেল বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হেযবুত তওহীদের ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
যাঁর অনুপ্রেরণায় আমরা উজ্জীবিত...
যাঁর অনুপ্রেরণায় আমরা উজ্জীবিত...
যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে হারিয়ে যাওয়া ইসলামের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর সাহায্যে হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি মহামান্য এমামুযযামান, The Leader of the Time, জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। এবং হেযবুত তওহীদ এর বর্তমান এমাম মাননীয় এমাম হোসেন মোহাম্মদ সেলিম।
জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
অরাজনৈতিক সংগঠন 'হেযবুত তওহীদ'-এর প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী—যিনি প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা প্রচার করেন—তিনি এই পরিবারেরই সন্তান।
জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
হোসেন মোহাম্মদ সেলিম বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব; তিনি অরাজনৈতিক আন্দোলন ‘হেযবুত তওহীদের ইমাম হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় প্রোথিত অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি ও স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
এক নজরে হেযবুত তওহীদ
এক নজরে হেযবুত তওহীদ
হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন যার মূল কাজই হলো মানবজাতিকে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা এবং মানবজাতির অশান্তির মূল কারণ দাজ্জালের অনুসরণ না করে সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা.
পুরো মানবজাতিকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে অর্থাৎ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করাই হেযবুত তওহীদের মূল লক্ষ্য। মানবজীবনে সঠিক পথ, হেদায়াহ (Right Direction) ও সত্য জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সমস্ত মানবজাতি অন্যায় ও অবিচার থেকে মুক্তি পাবে। পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে অনাবিল শান্তি। সেই শান্তিময় পৃথিবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারা।
হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে পালিত হয়েছে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে দিনব্যাপী এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবু...
সর্বশেষ সংবাদ ও প্রেস রিলিজ
সর্বশেষ সংবাদ ও প্রেস রিলিজ
আকিদা ও আদর্শ
আল্লাহর পথে নিজের চার সন্তানকে কোরবানি! -মুখলেছুর রহমান সুমন
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির আশায় নবী ইব্রাহিম (আ.) নিজের শিশুপুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিন...
আকিদা ও আদর্শ
হেযবুত তওহীদের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রব্যবস্থা মসজিদকেন্দ্রিক সমাজব্যব...
মসজিদ অর্থ সেজদার স্থান। আল্লাহর উদ্দেশে ভূমিতে মাথা ঠেকানোই কেবল সেজদা নয়। নামাজের সেজদা হচ্ছে সর্বান্তকরণে আল্লাহর হুক...
আকিদা ও আদর্শ
ধর্ম রাষ্ট্রের জন্য সংকট নয়, আশীর্বাদ -ডা. জাকারিয়া হাবিব
১৫শ ও ১৬শ শতাব্দীতে ইউরোপে রেনেসাঁ হয়েছিল খ্রিষ্টধর্মের গোড়ামি থেকে মানুষের চিন্তাকে মুক্ত করার জন্য। এর কারণ মধ্যযুগের...
হেযবুত তওহীদের সংগ্রামের ৩০ বছর
হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো জেলাতেই আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত। ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আদর্শিক প্রচারণা চালিয়ে আমরা দেশব্যাপী সুপরিচিতি লাভ করতে পেরেছি।
১,০০০+
জনসভা
১০,০০০+
সেমিনার
১,০০,০০০+
পথসভা
৫০০+
ওয়াজ মাহফিল
গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও বক্তব্যসমূহ
গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও বক্তব্যসমূহ
আব্দুল মালেকের মিথ্যাচারের জবাব দিলেন ইমাম সেলিম || বায়তুল মোকারকম || হেযবুত তওহীদ
হিন্দু যুবক হ/ত্যার প্রতিবাদে ইমাম সেলিমের সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য || Hossain Mohammad Salim || HT
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কওমি হেফাজতীদের সমালোচনা করে যা বললেন ইমাম সেলিম
সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম
সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম
আমাদের প্রকাশনাসমূহ
আমাদের প্রকাশনাসমূহ
হেযবুত তওহীদের একটি নিবন্ধ বা বই
পাল্টে দিতে পারে আপনার জীবন!
বেস্টসেলার
আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা
সম্পাদনা: মোহাম্মদ রিয়াদুল হাসান
আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিন
আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিন
আন্দোলনের নীতি, সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রম বা আমাদের প্রচারণা সম্পর্কে আপনার মূল্যবান উপদেশ ও গঠনমূলক পরামর্শ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি কেন্দ্রীয় দপ্তরে আপনার মতামত জানাতে পাশের ফরমটি পূরণ করুন।
সুরক্ষিত ও গোপনীয়
আপনার প্রেরিত সকল পরামর্শ ও তথ্য আমাদের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদ।শুভাকাঙ্ক্ষীদের বক্তব্য
আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক সত্যদীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যোগ দিন
সমাজ থেকে অন্যায়-অশান্তি দূর করে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর তওহীদভিত্তিক জীবনব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপনিও শরীক হোন। উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সকল অবিচারের বিরুদ্ধে এবং মানবতার কল্যাণে হেযবুত তওহীদের সহযাত্রী হোন।