ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ও ধর্মবিশ্বাসী মুসলিমদের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে জন্ম দেয়া হচ্ছে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের। আর সেগুলোকে পুঁজি করে সারা পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদীদের চালানো তাণ্ডবে একটার পর একটা মুসলিমপ্রধান দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তান ধ্বংস হলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে প্রতিনিয়ত চলছে ধ্বংসের উন্মাদনা।
সিরিয়ায় গত কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রাণ হারিয়েছে। লিবিয়া আজকে লণ্ডভণ্ড, ইয়েমেনে চলছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। আফ্রিকাতেও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ লাগিয়ে রেখেছে সাম্রাজ্যবাদীরা। মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান ইত্যাদি মুসলিমপ্রধান দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন ভয়াবহ হুমকির মুখে। এক কথায় যেখানেই মুসলিমরা আছে সেখানেই চলছে যুদ্ধ ও ধ্বংসের উন্মাদনা। আর তাতে জ্বালানি যোগাচ্ছে ইসলামের নামে গড়ে ওঠা ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো।
এই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ আক্রান্ত, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমতাবস্থায় কীভাবে এই জঙ্গিবাদী তাণ্ডব ও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করা সম্ভব তা গুরুতর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই অনেক ধরনের মতামত প্রদান করলেও প্রধানমন্ত্রী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একটি কথা এখন জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করছেন যে, মানুষকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা দিতে হবে। তার মানে একথা মোটামুটি স্বীকার করেই নেওয়া হচ্ছে যে, ‘বর্তমানে ইসলামের বিকৃত শিক্ষাও চালু আছে।’ অথচ এই কথাটি বলার কারণে বিগত ২৪ বছর ধরে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে কতই না হয়রানি-নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
যাহোক, আজকে আমরা জানার চেষ্টা করব আল্লাহ-রসুলের সেই প্রকৃত ইসলামের সাথে বর্তমানে প্রচলিত ইসলামের পার্থক্যগুলো কোথায়।
এরকম পার্থক্যের কথা অনেক বলা যাবে, এর কোনো শেষ নেই। কিন্তু সুস্থচিন্তার যুক্তিশীল মানুষের বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট হবে যে, আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম ঐক্যহীন কলহ-বিবাদে ও দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত আরব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, শত্রুকে ভাই বানিয়ে দিয়েছিল, অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত জাতিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি বানিয়েছিল, ভীরুকে প্রচণ্ড সাহসী বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত করেছিল এবং ওই ন্যায়যোদ্ধাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার হিম্মত বাকি পৃথিবীর কারো ছিল না। তারা ছিলেন পৃথিবীর যাবতীয় অত্যাচারী শক্তির ত্রাসের কারণ।
আর আজকে প্রকৃত ইসলামের বিপরীত শিক্ষাসংবলিত ধর্মব্যবসায়ীদের চালু করে রাখা বিকৃত ইসলাম মৃত্যুভয়ে ভীত কাপুরুষ তৈরি করে, যাদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই, শৃঙ্খলা নেই, যারা সারা পৃথিবীর অবজ্ঞা ও ঘৃণার পাত্র। যাদের দেশগুলো ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানি হচ্ছে, কিন্তু একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোর হিম্মত তাদের নেই। কথায় আছে, বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়। একই বৃক্ষে দুই রকম ফল ধরতে পারে না। আল্লাহ-রসুলের ইসলামের ফলের সাথে বর্তমানের ইসলামের ফল আকাশ-পাতাল তফাৎ এবং এতেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর রসুল যেই ইসলাম নিয়ে সংগ্রাম করেছেন আর বর্তমানে আমরা যে ইসলাম পালন করছি তা এক নয়, একটি প্রকৃত ইসলাম, অপরটি বিকৃত ও বিপরীতমুখী ইসলাম।