• প্রতিষ্ঠা: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ ঈসায়ী; করটিয়া, টাঙ্গাইল।
  • প্রতিষ্ঠাতা: টাঙ্গাইলের করটিয়ার বিখ্যাত জমিদার পন্নী পরিবারের উত্তরসূরি এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী।
  • ধরন: সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন যার মূল কাজই হলো মানবজাতিকে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা এবং মানবজাতির অশান্তির মূল কারণ দাজ্জালের অনুসরণ না করে সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
  • উদ্দেশ্য: যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা, একটি সঠিক আদর্শ মানবজাতির সামনে তুলে ধরা। মানুষকে এ কথা বলা যে, সমগ্র মানবজাতি আজ অন্যায়, অবিচার, অশান্তিতে পরিপূর্ণ, এর কারণ- প্রচলিত স্রষ্টাহীন বস্তুবাদী ‘দাজ্জালীয় সভ্যতা’র জীবনব্যবস্থা তারা গ্রহণ করে নিয়েছে। এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে তাদেরকে এই সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, তারা একই বাবা-মা আদম-হওয়ার সন্তান, একই স্রষ্টার সৃষ্টি, তারা মূলত একজাতি। কাজেই তারা স্রষ্টার দেওয়া ভারসাম্যযুক্ত জীবনব্যবস্থা তথা দীনুল হক তাদের সামগ্রিক জীবনে যদি গ্রহণ করে নেয় তাহলে তারা শান্তি পাবে এবং পরকালে জান্নাতে যাবে। হেযবুত তওহীদের উদ্দেশ্যই হলো এই কথার উপরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা।
  • কর্মসূচি: মানবজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহ যে কর্মসূচি তাঁর শেষ রসুলকে দান করেছিলেন, যে কর্মসূচি স্বয়ং আল্লাহর রসুল এবং তাঁর হাতে গড়া উম্মতে মোহাম্মদী অনুসরণ করেছিলেন, সেই পাঁচ দফা কর্মসূচি অনুসরণ করেই হেযবুত তওহীদ সত্যদীন, দীনুল হক প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ৫ দফা কর্মসূচি তিনি তাঁর উম্মাহর উপর অর্পণ করার সময় বলেছেন- এই কর্মসূচি আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, এখন এটা তোমাদের হাতে অর্পণ করে আমি চলে যাচ্ছি। সেগুলো হলো: (১) ঐক্যবদ্ধ হও; (২) (নেতার আদেশ) শোন; (৩) (নেতার ঐ আদেশ) পালন করো; (৪) হেযরত (যাবতীয় অন্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কত্যাগ) করো; (৫) এই দীনুল হক (ন্যায়, সত্য) পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা, প্রচেষ্টা। যে ব্যক্তি এই ঐক্যবন্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও বহির্গত হলো, সে নিশ্চয় তার গলা থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলল- যদি না সে আবার ফিরে আসে (তওবা করে) এবং যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের দিকে আহ্বান করল, সে নিজেকে মুসলিম বলে বিশ্বাস করলেও, নামাজ পড়লেও এবং রোজা রাখলেও নিশ্চয়ই সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে [আল হারিস আল আশয়ারী (রাঃ) থেকে আহমদ, তিরমিযি, বাব উল এমারাত, মেশকাত]।
  • মূলনীতি:
    ১. হেযবুত তওহীদ চেষ্টা করে আল্লাহর রসুলের প্রতিটি পদক্ষেপকে অনুসরণ করতে।
    ২. হেযবুত তওহীদের কোনো গোপন কার্যক্রম নেই, সবকিছু হবে প্রকাশ্য এবং দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
    ৩. হেযবুত তওহীদের কেউ কোনো আইন ভঙ্গ করবে না, অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবে না, গেলে তাকে এমাম নিজেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেবেন।
    ৪. যারা হেযবুত তওহীদের সদস্য নয়, তাদের কাছ থেকে কোনরূপ অর্থ গ্রহণ করা হবে না।
    ৫. হেযবুত তওহীদের কোনো সদস্য কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারবে না।
    ৬. কর্মক্ষম কেউ বেকার থাকতে পারবে না, বৈধ উপায়ে রিজিক হাসিলের চেষ্টা করবে।
  • অনন্যতা: হেযবুত তওহীদ গত ২২ বছরে দেশের একটিও আইনভঙ্গ করেনি, এর কোন সদস্য একটিও অপরাধ করেনি। এর প্রমাণ গত ২২ বছরে এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ৫০০টির অধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে কিন্তু একটি মামলাতেও এর কোন একজন সদস্যেরও কোন আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং তাদের কেউ সাজাপ্রাপ্ত হননি। আইন মান্য করার এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে অনন্য। অথচ ধর্মব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক কতিপয় দলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত আমাদের চার জন ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, শত শত আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, বহু বাড়ি-ঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
  • কাঠামো: এমাম-আমীর-সদস্য (সদস্যদেরকে মোজাহেদ-মোজাহেদা বলা হয়ে থাকে)
  • বর্তমান নেতৃত্ব: ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামানের ইন্তেকালের পর থেকে আন্দোলনের এমাম (Leader) হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাঁরই আদর্শের উত্তরাধিকার জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার পোরকরা গ্রামে ২৮ নভেম্বর, ১৯৭২ ঈসায়ী সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পড়ালেখা শেষ করে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেন।
  • কর্মপ্রক্রিয়া: ইসলামের প্রকৃত রূপ সংবলিত হ্যান্ডবিল, বই, পত্রিকা, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদি প্রচার করে থাকে। সমাজের সকল ধর্ম-বর্ণ, দল-মত, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বশ্রেণির মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা, জনসভা, পথসভা ইত্যাদি করা হয়। হেযবুত তওহীদের প্রকাশনাগুলি আন্দোলন ও পত্রিকার ওয়েবসাইটগুলিতেও প্রকাশ করা হয়। ফেসবুক, ইউটিউব ও বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়াতে সঠিক আদর্শ সংবলিত বক্তব্য প্রচার করা হয়।
  • অর্থের উৎস: হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিজেদের উপার্জিত বা অর্জিত সম্পদ ব্যয় করে আন্দোলনের কাজ করে থাকেন। হেযবুত তওহীদের সদস্য নয় এমন কারো কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে না।
  • উল্লেখযোগ্য বই: ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা, ইসলামের প্রকৃত সালাহ, দাজ্জাল! ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতা, ধর্মব্যবসার ফাঁদে, বিকৃত সুফিবাদ, সরকারের প্রতি যামানার এমামের পত্রাবলী, জঙ্গিবাদ সঙ্কট- সমাধানের উপায়, সম্মানিত আলেমদের প্রতি।
    প্রচারে: হেযবুত তওহীদ, কেন্দ্রীয় কমিটি
    ০১৬৭০-১৭৪৬৪৩, ০১৬৭০-১৭৪৬৫১