
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বরিশালে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম জেলা শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা ছাত্র ফোরামের সভাপতি ফারজানা আক্তার সুমাইয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের বরিশাল জেলা সভাপতি লোকমান হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছেন। তাঁরা একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারপূর্ণ রাষ্ট্র চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের এই বিপ্লব হাইজ্যাক করা হয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের হীন স্বার্থে ছাত্রদের এই ত্যাগকে ব্যবহার করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিক আদর্শ না থাকার কারণেই যারা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের অনেকেই আজ টাকার কাছে মাথা নত করেছে। হেযবুত তওহীদের কাছে সেই কালজয়ী আদর্শ রয়েছে, যা দিয়ে গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব। যে আদর্শ ধারণ করে ক্রীতদাস বেলাল (রা.) গভর্নর হয়েছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করলেই একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাআজ বিন জসিম, বরিশাল জেলার সহ-সভাপতি খোকন হাওলাদার এবং বিভাগীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আরিফ প্রমুখ।
বক্তারা শিক্ষাঙ্গন ও দেশের বর্তমান চরম অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমরা এমন একটি ভয়াবহ সময় পার করছি, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় শিক্ষকরা তাঁদের ছাত্রদের কাছে অনিরাপদ বোধ করছেন। দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পবিত্র মাহে রমজানেও সীতাকুণ্ডে ছয় বছরের একটি শিশুকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সমাজ আজ আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে।”
মুসলিম বিশ্বের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তাঁরা বলেন, “সারা বিশ্বে আজ মুসলমানরা চরমভাবে নির্যাতিত। তাদের হত্যা, উদ্বাস্তু এবং নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের এই অশান্ত পরিস্থিতির একমাত্র কারণ হলো—মানুষ আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষের তৈরি মানব-রচিত জীবনব্যবস্থা দিয়ে কখনোই শান্তি আসেনি, আর আসবেও না। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থায় ফিরে আসা।”
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে মাগরিবের আজান হলে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।