চলমান সংকট দূর করে শান্তিময় ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে শেরপুরে মতবিনিময় সভা

বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, সামাজিক অবক্ষয় এবং দেশের চলমান সংকটের বিপরীতে একটি শান্তিময় ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে স্রষ্টার বিধান অর্থাৎ তওহীদের ভিত্তিতে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে হেযবুত তওহীদ।

এই আদর্শ ও রূপরেখাকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং জনমত গঠনের লক্ষ্যে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শেরপুরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। উভয় অনুষ্ঠানেই বক্তারা তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।

শনিবার সকাল ১১টায় শেরপুর শহরের নিউ আলিশান রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে ‘শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে তওহীদ ভিত্তিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান।

মশিউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘মানবজাতির সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ একমাত্র স্রষ্টার দেওয়া জীবনবিধান অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। মানুষের তৈরি কোনো মতবাদ বা ব্যবস্থা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বরং সংঘাত ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ নয়, একমাত্র আল্লাহ। তাই সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আল্লাহর বিধান বা তওহীদের উপর ভিত্তি করে রচিত হতে হবে।”

তিনি তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “এই ব্যবস্থা কোনো পশ্চাৎপদ ধারণা নয়, বরং এটিই একমাত্র আধুনিক ও কল্যাণকর ব্যবস্থা। এই শাসনব্যবস্থায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ব্যবস্থায় নারীদের প্রকৃত সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান থাকবে না।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সত্যিকারের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মুক্ত গণমাধ্যমের নিশ্চয়তা একমাত্র আল্লাহর দেওয়া নীতিমালার মধ্যেই নিহিত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যেকোনো তথ্য প্রচারের পূর্বে তার সত্যতা যাচাই করা, মিথ্যা পরিহার করা, এবং কারও বিরুদ্ধে মানহানিকর বা উপহাসমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকা গণমাধ্যমের অপরিহার্য দায়িত্ব, যা ইসলাম নির্দেশিত নীতি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকবৃন্দ রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রস্তাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উপস্থিত থেকে মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন- শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মাসুদ হাসান বাদল, কার্যকরী সভাপতি আব্দুর রফিক মজিদ, এটিএন নিউজ প্রতিনিধি শফিউল আলম সম্রাট, সময় টিভি’র শহিদুল ইসলাম হীরা, যমুনা টিভি’র আদিল মাহমুদ উজ্জল, নিউজ ২৪ প্রতিনিধি যোবায়দুল ইসলাম, আমাদের সময় প্রতিনিধি এডিএম শহিদুল ইসলাম, নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মান্নান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

শেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মুমিনুর রহমান পান্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সভাপতি এনামুল হক বাপ্পা, বিভাগীয় নারী নেত্রী রোজিনা আক্তার, জামালপুর জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মিয়া।