সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপ-রাজনীতিসহ সমাজ থেকে সর্ব প্রকার অন্যায় অবিচার দূর করে ধর্মের প্রকৃত আদর্শের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে দেশব্যাপী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মার্চ, ২০১৮ শনিবার দুপুর ২ টায় গাইবান্ধায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা হেযবুত তওহীদ। জেলার স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় মুখ্য আলোচকের কক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা পৌরসভা মেয়র ও গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাইবান্ধা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোসতাক আহম্মেদ রঞ্জু, হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক ও জেটিভি অনলাইনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মশিউর রহমান, হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পদাক আশেক মাহমুদ, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, গাইবান্ধা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম, গাইবান্ধা পুরাতন বাজার কমিটির সহ-সাধারণ সম্পদাক মো. ফরিদুল ইসলাম, হেযবুত তওহীদের গাইবান্ধা সদর উপজেলা সভাপতি সাজেদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন খান ওপেল, জেলা সহ-সভাপতি জুলহাস হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সিরল।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে মুসলমানদেরকে যাবতীয় ফেরকা-মাজহাবের বিভেদ ভুলে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি মুসলিম জাতির উদ্দেশে বলেন, মুসলমানরা আজকে সমস্ত পৃথিবীতে মার খাচ্ছে- কারণ তাদের মধ্যে ঐক্যের মূলমন্ত্র ‘তওহীদ’ নেই। এক আল্লাহ, এক রসুল, এক কিতাবের অনুসারী হয়েও তারা ছোটখাটো বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ করে শত শত দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং একেকজন একেক রাস্তায় ছুটে চলেছে।’ তিনি বলেন, যদি অনৈক্য চলতেই থাকে তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারে পর্যবসিত হবে! একটার পর একটা মুসলিমপ্রধান দেশ ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। মিয়ানমারে গণহত্যা হলো কেউ কিছু বলল না, কোনো পরাশক্তি বা জাতিসংঘও বাঁচাতে পারল না। একইভাবে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ধ্বংস হলো কেউ এগিয়ে আসলো না, একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ পর্যন্ত করা হল না।

তিনি ইসলামের স্বরূপ তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ-রসুলের ইসলাম ছিল সাম্যের ইসলাম, মুক্তির ইসলাম, নিরাপত্তার ইসলাম, ঐক্যের ইসলাম। সেটা আজকে হারিয়ে গেছে। রসুল (সা.) সংগ্রাম করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ক্রীতদাসের অশ্রু মুছে দিয়েছিলেন, নারীকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন, মানুষের জান-মালকে নিরাপদ করেছিলেন। ঠিক সেইভাবে সারা দুনিয়ার মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে আমাদের সংগ্রাম, আমাদের এই নিঃস্বার্থ কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. জাহিদ হাসান মুকুল এবং সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক বজ্রশক্তি ও জেটিভি অনলাইনের রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মো. আমিরুল ইসলাম।

See Photos
See Video