জনতার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর | হেযবুত তওহীদ

জনতার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদ মানুষকে কলেমার দিকে আহ্বান করছে। কলেমাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য ফরজ ও সুন্নত আমলগুলো পালন করার নসিহত করছে না কেন?
উত্তর: আল্লাহর রসুল (সা.) তাঁর মক্কার ১৩ বছরের জীবনে মানুষকে শুধু কলেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মোহাম্মাদুর রসুলাল্লাহ (সা.)” এই কথার উপর ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তাই এখনও আমাদের কর্তব্য হবে জাতিকে আগে কলেমার উপর ঐক্যবদ্ধ করা। জাতিকে এখন এই কথার উপর দাঁড়াতে হবে যে, আমরা এতদিন সা¤্রাজ্যবাদীদের যেসব হুকুম মেনেছি সেগুলো এখন থেকে প্রত্যাখান করলাম এবং আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানবো না। আগে জাতিকে একটা আদর্শিক ভিত্তির উপর এক হতে হবে। সেটা হচ্ছে এই তওহীদ আর জান্নাতের শর্ত এই তওহীদের স্বীকৃতি প্রদান করা। এরপর আসবে আপনি জান্নাতের কোন স্তরে বাস করবেন। যেমন প্রথমে একটি দেশে যেতে সে দেশের ভিসা প্রয়োজন হয়। সেখানে গিয়ে কোন শহরে বাস করবে সেটা নির্ভর করে তার কর্মসংস্থানের উপর। একইভাবে জান্নাতে যেতে হলে শর্ত হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল বিধানদাতার বিধানকে অস্বীকার করা। এরপরে জান্নাতের স্তরের উঁচু নিচু নির্ভর করবে আমলের উপর। আল্লাহর রসুল তাঁর নবুয়তি জীবনের যে পর্যায়ে যে কাজ করেছেন আমাদেরকেও সেটাই করতে হবে। অন্যথায় সব আমলই বৃথা। আগে ঘোড়া দিয়ে তারপরে গাড়ি জুড়তে হবে। তেমনি আগে তওহীদ, ঈমান তারপরে আমল। জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত হলো ঈমান অর্থাৎ মো’মেন হওয়া। তারপর আমলের মাধ্যমে জান্নাতের স্তর বৃদ্ধি করার প্রশ্ন।
প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদ নাকি মসজিদে নামাজ পড়ে না?
উত্তর: এ কথাটি ঠিক নয়। হেযবুত তওহীদ মসজিদে নামাজ পড়ে। যে জায়গায় নামাজ পড়া হয় সেই জায়গাটাই মূলত মসজিদ। তবে আমরা কিছু কিছু জায়গায় যাই না। আমরা ইচ্ছা করেই এই জায়গাগুলো এড়িয়ে চলি। যে ব্যক্তি ধর্মের বিনিময় নেয়, দীনের কাজ করে স্বার্থ উদ্ধার করে আমরা তাকে অনুসরণ করি না এবং তার পিছনে নামাজও পড়ি না। কারণ আল্লাহ ধর্মব্যবসা হারাম করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪) এবং ধর্মব্যবসায়ীদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন (সুরা ইয়াসিন ২১)। তবে যে ব্যক্তি ধর্মের বিনিময় নেয় না তার পিছনে নামাজ পড়তে আমরা দ্বিধাবোধ করি না।
প্রত্যেক নবী-রসুল ধর্মের কাজ করে গেছেন নিঃস্বার্থভাবে। তারা বলেছেন, আমি তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাই না; আমার বিনিময় রয়েছে আল্লাহর কাছে। অথচ বর্তমানে বিনিময় ছাড়া ধর্মের কোনো কাজ চলে না। বর্তমানে কথিত আলেমরা ধর্মকে ব্যবসায় পরিণত করেছে যা নবী-রসুলদের নীতি ও জীবনাদর্শের পরিপন্থী। তাই আমরা সকল ধর্মব্যবসায়ীদেরকে বয়কট করেছি।

Search Here

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ধর্মবিশ্বাসে জোর জবরদস্তি চলে না

April 15, 2019

মোহাম্মদ আসাদ আলী ইসলামের বিরুদ্ধে বহুল উত্থাপিত একটি অভিযোগ হচ্ছে- ‘ইসলাম বিকশিত হয়েছে তলোয়ারের জোরে’। পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া, লেখক, সাহিত্যিক এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত ও পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত গোষ্ঠী এই অভিযোগটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের প্রচারণায় অনেকে বিভ্রান্তও হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের প্রতি অনেকের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি […]

আরও→

সময়ের দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন রেনেসাঁ

April 14, 2019

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম অন্যায়ের দুর্গ যতই মজবুত হোক সত্যের আঘাতে তার পতন অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.) কে দিয়ে মহাশক্তিধর বাদশাহ নমরুদের জুলুমবাজির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটালেন। সেটা ছিল প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা যার নিদর্শন আজও হারিয়ে যায়নি। তৎকালে সেটাই ছিল বিশ্বের শীর্ষ সভ্যতা। তারা অহঙ্কারে এতটাই স্ফীত হয়েছিল যে উঁচু মিনার তৈরি করে তারা আল্লাহর আরশ দেখতে […]

আরও→

Categories