হেযবুত তওহীদের নারীদের উপর উগ্রবাদী হামলা বিক্ষুব্ধ নারীদের শ্লোগানে প্রকম্পিত প্রেসক্লাব

দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী কর্মীদেরকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে হেযবুত তওহীদ। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নারী এ প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে তাদের উপর সহিংস আচরণের জন্য ধর্মব্যবসায়ী ফতোয়াবাজ গোষ্ঠীকে দায়ী করেন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন। ঢাকা মহানগরী হেযবুত তওহীদের নারী শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল দশটায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় নারী বিভাগের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নীসহ আরো নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
.
হেযবুত তওহীদের বক্তব্য অনুযায়ী এ আন্দোলনের কর্মীরা বিগত ২৮ বছর ধরে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা জাতির সামনে তুলে ধরে ইসলামের নামে প্রচলিত যাবতীয় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, স্বার্থের রাজনীতি, ধর্মব্যবসা, গুজব-হুজুগ উন্মাদনা সৃষ্টি করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে আসছে। এ লক্ষ্যে তারা দৈনিক দেশেরপত্র ও দৈনিক বজ্রশক্তি পত্রিকায় তাদের বক্তব্য প্রকাশ করছে। এই পত্রিকা এবং আন্দোলনের প্রকাশনা সামগ্রী যেমন বই গুলো নিয়ে যখন হেযবুত তওহীদের নারী ও পুরুষ সদস্যগণ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারকার্যে নামছেন তখন তাদেরকে বে-আইনীভাবে বাধা প্রদান করছে ধর্মীয় লেবাসধারী, মাদ্রাসাশিক্ষিত, আলেম দাবিদার শ্রেণিটি যারা নিদেরকে ইসলামের কর্তৃপক্ষ বলে মনে করে এবং অন্য কারো ইসলামের কথা বলার অধিকার আছে বলে স্বীকার করে না। এই শ্রেণিটি হেযবুত তওহীদের বক্তব্যের কোনো দলিলভিত্তিক ও যুক্তিযুক্ত জবাব দিতে না পেরে আন্দোলনের প্রচারকর্মীদের উপর শারীরিকভাবে হামলা চালায়। কখনও কখনও তারা মসজিদের মাইকে মিথ্যা গুজব রটিয়ে দিয়ে স্থানীয় ধর্মবিশ্বাসী মুসুল্লিদেকে উত্তেজিত করে তোলে। এতে করে ধর্মীয় উন্মাদনা ও সন্ত্রাসের শিকার হয়ে হতাহত হন আন্দোলনের বহু সদস্য-সদস্যা। এ সকল বে-আইনী হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তারা মঙ্গলবার সমবেত হন প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে।
.
বিগত তিন মাসে হেযবুত তওহীদের নারীরা প্রায় ৩০টি স্থানে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হিংস্রতার শিকার হয়েছেন বলে জানান আন্দোলনের নারী বিভাগীয় সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। তিনি বলেন, ‘হেযবুত তওহীদের সদস্যরা যখন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাগুলো তুলে ধরতে আন্দোলনের প্রকাশনা সামগ্রী নিয়ে প্রচারকার্যে যাচ্ছে, তখন এই আলেম ওলামা দাবিদার কট্টরপন্থী মোল্লাশ্রেণির লোকেরা বিনা উস্কানিতে তাদেরকে বাধা দিচ্ছে, তাদের কাছ থেকে পত্রিকা বই ছিনিয়ে নিচ্ছে, মেরে আহত রক্তাক্ত করছে। বিগত আটাশ বছরে এভাবে সাড়ে চারশতাধিক স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন আমাদের সদস্যরা। তাদের হাতে আমাদের পাঁচজন সদস্য-সদস্যা নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন। গত কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত তিরিশটি জায়গায় তারা হামলা চালিয়েছে। অধিকাংশ হামলাই করা হয়েছে আমাদের নারী কর্মীদের ওপর যদিও তারা রাষ্ট্রীয় আইন, সামাজিক শালীনতা ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনেই প্রচারকার্যে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেকটি ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু ধর্মান্ধ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির কলকাঠি যাদের হাতে সেই লেবাসধারী আলেম দাবিদার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। মনে হয় সরকার, প্রশাসন, রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের ফতোয়া সন্ত্রাসের কাছে অসহায়।’
.
হেযবুত তওহীদ ঢাকা মহানগরীর নারী বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা ইসলাম বলেন, ‘আমরাও স্বাধীন বাংলাদেশের আইন মান্যকারী নাগরিক। সংবিধানমতে আমাদেরও ধর্মীয় মত প্রকাশ ও প্রচারের অধিকার রয়েছে। দীন ইসলামের দাওয়াত দেওয়া আমাদের ঈমানি কর্তব্য ও সাংবিধানিক অধিকার। আল্লাহ-রসুলের ইসলাম নারীদেরকে সকল জাতীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অধিকার দিয়েছে, তাদের শিক্ষা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, সাহসের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সেগুলোকে বিকশিত করার পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। আজ বিকৃত ফতোয়ার জালে বন্দী করে নারীদের সেই অধিকার ও যোগ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তারা এখন নিজেদের সেই অধিকার সম্পর্কেও অজ্ঞ। হেযবুত তওহীদ আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসলামের সেই সঠিক আকিদা ও ইতিহাস তুলে ধরে সমাজকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে।’
.
বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন হেযবুত তওহীদের তথ্য বিভাগীয় সম্পাদক এস এম শামসুল হুদা, ঢাকা মহানগরী বিভাগীয় আমির ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী। কেন্দ্রীয় নারী বিভাগের নেত্রীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন দিল আফরোজ, ইলা ইয়াসমিন, আয়েশা সিদ্দিকা, শাকিলা আলম, আফরোজা শবনম, সুমাইয়া আক্তার, আফরোজা মুনির প্রমুখ। সমাবেশের পর একটি র্যালিতে অংশ নেন নেতাকর্মীবৃন্দ। ধর্মব্যবসা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ, গুজব-সন্ত্রাস ও ফতোয়াবাজি করে নারীদেরকে বাক্সবন্দী করার বিরুদ্ধে শ্লোগান তোলা হয়। হেযবুত তওহীদের নারীদের শ্লোগানে প্রকম্পিত ওঠে রাজপথ। র্যালিটি তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে আবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাপ্ত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি আদিবা ইসলামের সঞ্চালনায় হেযবুত তওহীদের অফিসিয়াল পেইজে লাইভ সম্প্রচারিত হয়।

 

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ