হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের সদস্যদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে সংবাদ সম্মেলন

লক্ষ্মীপুর ও আশুলিয়ায় হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের সদস্যদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই এদিন ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। বক্তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

লিখিত বক্তব্যে মো. মেহেদী হাসান বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন যা ১৯৯৫ সাল থেকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত প্রায় তিন দশকে এই সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের কোনো নজির নেই। ছাত্র ফোরামও মূল সংগঠনের নীতি অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বারবার ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক দুটি হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের ভাষণ প্রচার ও লিফলেট বিতরণের সময় একদল ধর্মীয় লেবাসধারী ব্যক্তি বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ‘খ্রিষ্টান’, ‘ইহুদির দালাল’ ও ‘ভারতের দালাল’ -এমন উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর স্লোগান দিয়ে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। এই হামলায় ছাত্র ফোরাম আশুলিয়া শাখার সভাপতি সাকলাইন মোস্তাক (১৯) এবং বোরাক পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট শাখার আহ্বায়ক আবির হাসান (১৯) গুরুতর আহত হন।

এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাইসমারা এলাকায় সংগঠনের প্রচারকাজে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালানো হয়। এই হামলায় রেদুয়ান হাসান (২১) নামে এক সদস্যের মাথা ফেটে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তারা বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত প্রকাশের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন তারুণ্যের বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেখানে কারো কণ্ঠ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা এবং অসহিষ্ণু আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে আশুলিয়া ও লক্ষ্মীপুরের হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একইসাথে নিজেদের মতাদর্শ নির্বিঘ্নে প্রচারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র সংগঠনটির উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান সুমন ও ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাদ উল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল মামুন আকাশসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।