২০ ফেবুয়ারি ২০১৭ তারিখে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে এক বিশাল ধর্মসভা (ওয়াজ মাহফিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চৌমুহনীতে স্থানীয় জনতার উপচে পড়া উপস্থিতিতে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সুনামগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান তাসাদ্দুক রাজা ইমনের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকসেদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উসমান গণি, বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান (জজমিয়া), হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম উখবাহ, সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: শাহনুর, রঙ্গারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আ: লতিফ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. নাদির শাহ, আমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক মো. হোসেন প্রমুখ।
মাহফিলে বক্তারা বলেন, ইসলাম এসেছে মানুষকে শান্তি দেওয়ার জন্য। আল্লাহর রসুল জীবনভর সংগ্রাম করেছেন সমাজে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার জন্য। সেখানে আজকে যারা ইসলামের নাম করে অমানবিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা পায় নি। তারা বলেন, জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করতে হলে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রতিটি ঘরে পৌছে দিতে হবে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করতে না পারে।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আজকে সারা পৃথিবীতে মুসলিম জাতির উপর যে নির্যাতন ও বিভীষিকা চলছে তা আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বিপরীত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোমেনদের হাতে তিনি পৃথিবীর কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব তুলে দেবেন। অথচ বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। পৃথিবীতে আবারো সম্মানের অবস্থানে ফিরে আসতে মুসলিম জাতিকে ইসলামের সঠিক শিক্ষার উপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদের বিভীষিকায় একটার পর একটা মুসলিম দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের একটা ভূ-খ-ও রক্ষা করতে পারছি না। ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, লিবিয়া, সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে পশ্চিমা পরাশক্তি মিথ্যা অজুহাতে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা তা প্রতিরোধ করতে পারি নি। এর কারণ, মুসলিম জাতি ঐক্যহীন হয়ে পড়েছে, যা উম্মতে মোহাম্মদীর বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
জঙ্গিবাদকে পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি ও ধর্মব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্রের ফসল বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোকে আক্রমণ করে দখল ও পদানত করে রাখার উদ্দেশ্যেই জঙ্গিবাদের জন্ম দেওয়া হয়েছে। এর সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। আজকে বাংলাদেশকে নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে। এই অবস্থায় আমরা যদি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি তবে আগামীতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের ন্যায় ভয়ানক পরিস্থিতিতে পড়তে বাধ্য। তিনি প্রতিটি মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে বারবার সহিংসতার জন্ম দেওয়া হয়েছে এবং আজও হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন হেযবুত তওহীদের এমাম। তিনি বলেন, মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে আজকে ব্যবসা করা হয়, রাজনীতি করা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ব্যবহার করা হয়। ধর্মের এই অপব্যবহার যদি বন্ধ না হয় তবে মানুষ ধর্ম থেকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই কাজ করতে গিয়ে এই আন্দোলনের সদস্যরা নিজেদের সুখ-সাচ্ছন্দ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত চিন্তাকে বিসর্জন দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদের বিভীষিকা থেকে এ দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করতে তিনি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, ‘ধর্মের নামে চলা যাবতীয় অন্যায় থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাকে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে দিতে হবে। সেই কাজটিই করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। এ কাজে আমরা আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”

See Photos
See Video