গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে বগুড়ায় এক বিরাট তাফসিরুল কোর’আন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলের মূল আলোচ্য ছিল জঙ্গিবাদসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব। বক্তারা কোর’আন-হাদীসের আলোকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার ভ্রান্ততা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য দান করেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। মাহফিলে দ্বিতীয় বক্তা হিসাবে বক্তব্য দেন মাও. মো. ওমর ফারুখ (উজ্জল)। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. মহররম আলী। বিশেষ অতিথি হিসাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ফাঁপোর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ কমিটি গত নয় বছর যাবৎ উক্ত মসজিদ প্রাঙ্গণে তাফসিরুল কোর’আন মাহফিলের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বাদ আসর আয়োজন করা হয় উক্ত মাহফিলের ১০ম অধিবেশন। তবে এবার দেশের সাম্প্রতিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে মাহফিলের বিষয়বস্তু ঠিক করা হয় “জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাফসিরুল কোর’আন মাহফিল।” বিষয়বস্তুর দিকে লক্ষ্য রেখেই প্রধান বক্তা হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমকে যিনি ইতোমধ্যে দেশব্যাপী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, ওয়াজ-মাহফিলে ভাষণ দানের মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বাদ আসর শুরু হয় মাহফিলের সাধারণ কার্যক্রম- হামদ্, নাত্, পবিত্র কোর’আন থেকে তেলাওয়াত ইত্যাদি।
বাদ এশা মাহফিলের প্রধান বক্তা হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম স্টেজে ওঠেন। অধীর আগ্রহে সকলেই যেন প্রহর গুনছিলেন হেযবুত তওহীদের এমামের হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য শোনার জন্য। অবশেষে প্রতীক্ষার ক্ষণ শেষ করে প্রধান বক্তা তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই বলেন- “আমার বক্তব্য কোনো গতানুগতিক ওয়াজ মাহফিলের বক্তব্য নয় যে, আপনারা সারারাত জেগে ওয়াজ শুনলেন, হাসলেন, কাঁদলেন তারপর বাড়ি ফিরে গিয়ে সব ভুলে গেলেন আর আমি পকেট ভর্তী টাকা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেলাম। আমার বক্তব্য হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে, আমাদের কী করণীয় তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমি মানবজাতির এক মহা সঙ্কট নিয়ে কথা বলার জন্য এখানে এসেছি, মুসলিম জাতির চরম বিপদ নিয়ে কথা বলার জন্য এখানে এসেছি, বাঙালি জাতির মুক্তির কথা বলার জন্য এখানে এসেছি, আপনাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে নিরাপদ করা যায় সে বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য এখানে উপস্থিত হয়েছি।”
তিনি জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “জঙ্গিবাদ একটি ভয়ানক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে একটার পর একটা মুসলিম দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক হলো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলো। তারা কেবল মুসলিম জাতিকে নয়, সমগ্র মানবজাতিকে বিনাশ করে দেবার জন্য ৪০ হাজার এটম বোম প্রস্তুত করে রেখেছে। তাদের কোনো ধর্ম নেই, তাদের কাছে কোনো ন্যায়-অন্যায় নেই। তারা নিজেদের স্বার্থে সমগ্র পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে পারে। ইরাক ধ্বংস করে দেওয়া হলো, আফগানিস্তান ধ্বংস করে দেওয়া হলো, সিরিয়া ধ্বংস করে দেওয়া হলো, লিবিয়া ধ্বংস করে দেওয়া হলো কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না।
এখন আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিটুকুর উপর তাদের শ্যেনদৃষ্টি পড়েছে। তারা এই দেশকে নিয়েও গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এখন আমাদেরকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।।” তিনি কোর’আন-হাদীস ও রসুলাল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনী থেকে বিভিন্ন ঘটনা উপস্থাপন করে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে জঙ্গিবাদ আসলে ইসলাম থেকে সৃষ্টি হয়নি, বরং ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য, মুসলিমদেরকে বিনাশ করে দেওয়ার জন্যই জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে তার সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রচলিত ভুল ব্যাখ্যাগুলোকে খণ্ডন করেন। তিনি ইসলামের প্রকৃত আকীদা, ঈমান ও আমল সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
এছাড়াও বক্তারা বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সমস্ত পৃথিবীকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারা বলেন, ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রচারিত ধর্মের অপব্যাখ্যা থেকে বের হয়ে আমাদের ধর্মের প্রকৃত চেতনা দ্বারা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে যে ষড়যন্ত্র চলছে, দেশ যে সঙ্কটে পতিত হয়েছে তা থেকে দেশকে বাঁচানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ও সামাজিক কর্তব্য। তারা আরো বলেন, জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করার কেবল শক্তি প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। মানুষ ইসলামের সঠিক আদর্শ পেলে তাদেরকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

See Photos
See Video