লালমনিরহাটে যামানার এমামের প্রস্তাবনার উপর আলোচনা

বাম থেকে মসীহ উর রহমান, উপদেষ্টা, দৈনিক দেশেরপত্র; মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, মজিদা খাতুন মহাবিদ্যালয়; কমরেড শামছুল হক ভাষা সৈনিক; শেখ আব্দুল হামিদ, সভাপতি, চেম্বার অব কমার্স, লালমনিরহাট; এ্যাড. মাসুমা ইয়াছমিন, ভাইস চেয়ারম্যান, সদর; আহ্মেদুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসক্লাব লালমনিরহাট।
বাম থেকে মসীহ উর রহমান, উপদেষ্টা, দৈনিক দেশেরপত্র; মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, মজিদা খাতুন মহাবিদ্যালয়; কমরেড শামছুল হক ভাষা সৈনিক; শেখ আব্দুল হামিদ, সভাপতি, চেম্বার অব কমার্স, লালমনিরহাট; এ্যাড. মাসুমা ইয়াছমিন, ভাইস চেয়ারম্যান, সদর; আহ্মেদুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসক্লাব লালমনিরহাট।

পৃথিবী থেকে সকল প্রকার জঙ্গিবাদ, যুদ্ধ, রক্তপাত, অশান্তি ও অন্যায়-অত্যাচার মুক্ত করার দাবি সর্বশ্রেণীর মানুষের, কিন্তু কিভাবে এই দাবি পূরণ সম্ভব? এ প্রশ্নকে সামনে রেখে মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে, দৈনিক দেশেরপত্রের উদ্যোগে “জঙ্গিবাদ তথা যাবতীয় সন্ত্রাস দমনে যামানার এমামের প্রস্তাবনা” এবং “অন্যায় দূরীকরণে সিস্টেম পরিবর্তনের বিকল্প নেই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানুর সভাপতিত্বে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ, প্রভাষক, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পৌর কমিশনার, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, শিল্প-উদ্যোক্তা, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সমাজ সেবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে আয়োজিত সভায় সমাজে ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ এর কারণে সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে, তাদের মন থেকে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে মুছে ফেলে প্রকৃত ইসলামের ইতিহাস জানাতে হবে’, এমন অভিমত ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক লালমনিরহাট চেম্বার এন্ড কমার্সের সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ। তিনি উপস্থিত অতিথিবর্গকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দেশেরপত্র বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই মানুষের মন জয় করেছে।’ তিনি দেশেরপত্রের উত্থাপিত প্রস্তাবনাকে যাচাই বাছাই করে প্রশাসনসহ সকলকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানান।
দেশেরপত্রের উপদেষ্টা মসীহ উর রহমান জঙ্গিবাদ দমনে চার বছর আগে বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর প্রস্তাবনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রস্তাবনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বর্তমান পৃথিবীর এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শত দমননীতি প্রয়োগ করেও এর কোন সমাধান আসছে না। যারা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন তারা জীবনকে পরোয়া করেন না। নিজের বুকে বোমা বেঁধে এরা শত্র“ দমনে নেমে পড়ে। সুতরাং ভয় দেখিয়ে তাদের কিছুতেই নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাদেরকে নির্মূল করতে প্রয়োজন বিকল্প আদর্শ। সে আদর্শই ২০০৯ সালে প্রশাসনের সকল স্তরে তুলে ধরেছেন হেযবুত তওহীদের এমাম এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। এখন সরকারের উচিত সে প্রস্তাবকে আমলে নেওয়া। একমাত্র হেযবুত তওহীদই পারবে জঙ্গিবাদের মত এমন একটি ভুল মতবাদের মোকাবেলা করতে।’ তিনি বর্তমানে প্রচলিত সিস্টেমের অসারতাগুলো একে একে তুলে ধরে বলেন, ‘যে সিস্টেম ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির বিস্তার ঘটায়, যে সিস্টেম সমাজের একজন নিরীহ ছেলেকে সন্ত্রাসী বানায়, যে সিস্টেম একজন সৎ ব্যবসায়ীকে ভেজাল মেশাতে প্রলুব্ধ করে, মানুষকে জড়বাদী ও স্রষ্টাবিমুখ করে সেই সিস্টেমের পরিবর্তন করে আল্লাহর দেওয়া সিস্টেমে পুনরায় ফিরে গিয়ে আমাদের সমাজের যাবতীয় অন্যায় ও অশান্তি দূর করা আজকের সময়ের দাবী।’ তিনি জঙ্গিবাদ দমন ও সিস্টেম পরিবর্তনে সমাজের সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
দেশেরপত্রের প্রধান বার্তা সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা বলেন, ‘সত্যনিষ্ঠ মানুষ ও মানবজাতি গড়ার মাধ্যম হিসাবে যুগে যুগে আল্লাহ তাঁর নবী রসুলদের মাধ্যমে বিধান প্রেরণ করেছেন যাকে আমরা এখন ধর্ম বলি। এই ধর্ম যদি মানুষের অকল্যাণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন বুঝতে হবে যে সেটাকে বিকৃত করা হয়েছে, সেটা ধর্মের সত্যরূপ নয়। আজ আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসা আছে যেখানে ধর্মকে পুঁজি কোরে চাকরি ও ব্যবসা করার শিক্ষা নিয়ে ছাত্ররা বেরিয়ে আসছে এবং ধর্মকেই জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করছে। কিন্তু কোন নবী রসুল, কোন সাহাবী, ধর্ম প্রচার করে বিনিময় নিয়েছেন- এটা কেউ দেখাতে পারবে না। দুঃখজনক বিষয় এটাই এখন বৈধ হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ধর্মে প্রবিষ্ট আরেকটি মিথ্যা হচ্ছে জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদ দমনের জন্য সারা পৃথিবীতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ব্যাপক চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু কার্যত জঙ্গিবাদ নির্মূল হয় নি। কোরআন-হাদিস থেকে ভুল বোঝানোর কারণেই মানুষ জঙ্গি হয়। তারা মনে করে এই পথেই জান্নাত। এই বিশ্বাসে তারা জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দেয়। এখন যদি কোরআন-হাদিস থেকে যুক্তি দিয়ে তাদের বোঝানো যায় যে, এটা ভুল পথ, এই পথে তারা দুনিয়া এবং জান্নাত দুটিই হারাচ্ছে তবে নিশ্চয় তারা সে পথ ত্যাগ করবে’।
মজিদা খাতুন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে দেশেরপত্রের প্রস্তাবনা কে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কোর’আনে সবরের বিষয় থাকলেও জঙ্গিরা সবর করে না, তারা ভুল পন্থায় উগ্র“ হোয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়ে পরে। তাদের একটা ভুল ধারনা আছে-বাঁচলে গাজি মরলে শহিদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত পুঁজিবাদি, গণতান্ত্রিক, সমাজ তান্ত্রিক সব ব্যাবস্থাকেই পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যে ভুলে আছি তার এক মাত্র কারণ বৃটিশদের তৈরি করা সিস্টেম। তাই আমাদের এর থেকে বেড়িয়ে এসে আমাদের ধ্যান ধারনাকে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত করতে হবে।’
লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুর রহমান মুকুল বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে দেশেরপত্র যে প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছে তা সত্যিকার অর্থে মানবতার কল্যাণের জন্য হয় তবে সফল হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, ‘আমাদের দেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র বলা হলেও মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা পায় নি। কারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নি, তারা ন্যায় বিচার পায় নি, শুধু পেয়েছে পাশ্চাত্যের গোলামী। আজকের এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু, মহামানব জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ইসলামের যে আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁর প্রস্তাবনা যদি সত্যিকার অর্থেই মানুষ গ্রহণ করে নেয় তাহলে এই দেশ একটা শান্তি পূর্ণ দেশ হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হলেও সর্বদিক থেকে বঞ্চিত শুধুমাত্র সিস্টেমের অভাবে- তাই আমাদের প্রচলিত এই সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিস্টেম পরিবর্তন করতে অনেক লোকের দরকার নেই, কিছু নিবেদিত লোক হলেই সম্ভব, আর সেই নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজটাই করছে দেশেরপত্র।’
অনুষ্ঠানে আগত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ তাদের আলোচনায় জাতির বিশেষ সঙ্কটকালে দেশেরপত্রের এই উদ্যোগকে একান্ত সময়োপযোগী ও কার্যকরী উল্লেখ করে সবাইকে দেশেরপত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মানবতার কল্যাণে সত্য প্রকাশে দেশেরপত্রের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং জঙ্গিবাদের উত্থান ও উত্তরণের উপায়ের উপর নির্মিত সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যামানার এমামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রংপুরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাজমুল আলম। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম মন্টু, হাতিবান্ধা দই খাওয়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোফাজ্জল হোসেন, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মো: আমিরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ চাপারহাট এস কে ডিগ্রী কলেজের সহঃ অধ্যাপক সালেহ আহমেদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (আদিতমারী) সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক মতিউর রহমান প্রমুখ।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ