নাটোরে হেযবুত তওহীদের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

নাটোরে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এক বিশাল কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে হেযবুত তওহীদের কর্মীদেরকে সাধারণ মানুষের সামনে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার আহ্বান জানান আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত ০২ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৮ রোজ শুক্রবার বিকালে হেযবুত তওহীদ নাটোর জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার ৫নং মাঝগাঁও ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হেযবুত তওহীদের বনপাড়া উপজেলা সভাপতি মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মী সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিরেন বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল জলিল প্রামাণিক।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি হেযবুত তওহীদের বিষয়ে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যাচাই করে, তাদের সদস্যদেরকে খুব কাছে থেকে মিশে দেখেছি। তারা মানবতার কল্যাণে খেয়ে না খেয়ে নিজেদের জীবন সম্পদ উৎসর্গ করে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সমাজের বিভিন্ন অন্যায় অশান্তি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ কতিপয় সার্থস্বেশী মহল তাদের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে। বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সভাপতি আরো বলেন, আপনারা যারা এই মহতী কার্যক্রমের বিরোধিতা করছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। কারণ সত্যের জয় সর্বদাই। হেযবুত তওহীদ সেই মহাসত্য নিয়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা গণমানুষের সামনে তুলে ধরছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, মানুষ অন্য সৃষ্টির মতো নয়। আল্লাহ তার মধ্যে অসম্ভব চিন্তাশক্তি দান করেছেন। কাজেই আজকের সংকটময় বিশ্বপরিস্থিতি নিয়ে মানুষকে ভাবতে হবে, চিন্তা করতে হবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো। এখন আমাদেরকে এর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। অন্যথায় ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ মানুষের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে দেশে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাতেই থাকবে। ফলে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকেও ইরাক-সিরিয়ার মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন একটি সঠিক আদর্শের। আর সেই সঠিক আদর্শটি হেযবুত তওহীদ মানুষের সামনে তুলে ধরছে। তিনি নাটোরের প্রতিটি ঘরে ঘরে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় এ দেশের মাটিকে ধর্মব্যবসায়ী ও সা¤্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এসময় হেযবুত তওহীদের এ সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই ভয়ঙ্কর সঙ্কট থেকে রক্ষা করতে পারেন একমাত্র মহান আল্লাহ। এই সঙ্কটে পড়ে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া ইত্যাদি দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন যদি বাংলাদেশকে এই সঙ্কট থেকে বাঁচাতে হয় তবে একমাত্র উপায় হলো আমাদেরকে মো’মেনহ ওয়া। কারণ মো’মেনের সাথে আল্লাহর ওয়াদা, তিনি মো’মেনদের রক্ষা করবেন, তিনি মো’মেনদের অভিভাবক। আর এই মো’মেন হতে হলে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায় যে-ই করুক তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলামের নামে আমাদের সমাজে বহু অনৈসলামিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো আল্লাহ রসুলের ইসলাম নয়। তিনি প্রকৃত ইসলাম ও বিকৃত ইসলামের পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, প্রকৃত ইসলাম মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, শত্রুকে ভাই বানিয়েছিল, আরবের অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত, অশিক্ষিত একটা জাতিকে শ্রেষ্ঠজাতি, শিক্ষকের জাতিতে পরিণত করেছিল। আর বর্তমানের বিকৃত ইসলাম মানুষের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে, এক জাতিকে হাজার হাজার ফেরকা, মাজহাব, দল-উপদলে ভাগ করে পরস্পর শত্রুতে পরিণত করে।
তিনি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, মুসলিম জাতির করুণ দুর্দশার চিত্র, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জঙ্গিবাদের উৎপত্তি কীভাবে হলো, কীভাবে পরাশক্তিরা মুসলমানদের ঈমানকে কিছু ভাড়াটে আলেমদের মাধ্যমে হাইজ্যাক করে জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করল সেটাও ইতিহাসের আলোকে তুলে ধরেন। তিনি হেযবুত তওহীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, মানবজাতির মধ্য থেকে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, অনৈক্য, ভেদাভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য রসুলাল্লাহ (সা.) এর প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরে মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। এটা করার জন্য হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাদের জীবন ও সম্পদ মানবতার কল্যাণে উৎসর্গ করে যাচ্ছেন। এই কাজের পুরস্কার তারা মহান আল্লাহর নিকট আশা করেন, তারা এর বিনিময়ে পার্থিব কোনো স্বার্থ আশা করেন না। তাদের কোরবানীর বিনিময়েই হেযবুত তওহীদ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। কাজেই হেযবুত তওহীদের কোনো আর্থিক ও রাজনীতিক স্বার্থ নেই। তিনি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অপপ্রচারের জবাব দেন, হেযবুত তওহীদের বৈধতার দলিলপত্র উপস্থাপন করেন এবং হেযবুত তওহীদ যে গত ২২ বছরে একটিও আইন ভঙ্গ করেনি তার স্বপক্ষে আদালতের রাইয়ের শত শত কপি সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। দেশবাসীর প্রতি তিনি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান করে বলেন, ধর্মব্যবসায়ীদে রদ্বারা প্রচারিত ধর্মের অপব্যাখ্যা থেকে বেরহয়ে আমাদের ধর্মের প্রকৃত চেতনা দ্বারা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
কর্মী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুয্যামান, বনপাড়া পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সমেজান বেগম। হেযবুত তওহীদের কর্মীদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও প্রধান বক্তার বক্তব্য শুরু হবার কিছু সময়ের মধ্যেই এলাকার সাধারণ মানুষের ঢল নামে এবং কর্র্মীসভাটি জনসভায় রূপান্তরিত হয়। উপস্থিত আপামর জনতা হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের বক্তব্যের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে বহু মানুষ হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের সাথে একবার হাত মেলানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। একটু হাত মিলিয়ে অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মোঃ আব্দুস সবুর খানের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন বিশিষ্ট আলেম মোঃ মেহেদী হাসান সাগর ।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ