০৪ ডিসেম্বর ২০১৬ মেহেরপুর গাংনী উপজেলায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনসাধারণের মধ্যে ঐক্যচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় মানবতার কল্যাণে নিবেদিত অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে গাংনীর নিশিপুর জামে মসজিদ (হাজি কবির উদ্দিনের বাসা সংলগ্ন) প্রাঙ্গণে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হেযবুত তওহীদের মেহেরপুর জেলা সভাপতি শাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইনমোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, জেলা ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান পলাশ হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও মেহেরপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, দৈনিক বজ্রশক্তির উপদেষ্টা উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, গাংনী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হবিবুর রহমান হবি, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, প্রমুখ।
গতকাল বিকেল থেকে মাহফিলস্থলে জন সমাগম শুরু হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত লোকজন দলে দলে মাহফিলে যোগদান করেন। মাগরিবের নামাজের পর পবিত্র কোর’আন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান বক্তা হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বক্তব্য শুরু করলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে লোক সমাগম আরো বাড়তে থাকে এবং এক সময় তা অনুষ্ঠানস্থল ছাপিয়ে যায়। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি হেযবুত তওহীদের নিজস্ব শৃঙ্খলা কর্মীদের সজাগ উপস্থিতি দেখা যায়। অনুষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে এসময় মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা বলেন, জঙ্গিবাদকে ইস্যু করে মধ্যপ্রাচ্যে একটির পর একটি দেশ যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশকে নিয়েও সেই নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র কেবল এই দেশের বিরুদ্ধেই নয়, ইসলামের বিরুদ্ধে বলেও তারা মন্তব্য করেন। তারা বলেন, ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে প্রশ্নবিদ্ধ ও কালিমালিপ্ত করা জঙ্গিবাদের বিশ্বায়নের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের তরুণ, যুুবকেরাও সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়েছে। তাদের ঈমানকে বিপথে পরিচালিত করা হচ্ছে। এখন তাদের সামনে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরা গেলে তারা আর জঙ্গিবাদের দিকে পা বাড়াবে না। স্থানীয় জনসাধারণ হেযবুত তওহীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, “আজকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রতিটি মো’মেনের জন্য অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু জঙ্গিবাদ একটি আদর্শিক বিষয়, মতবাদগত সন্ত্রাস, তাই একে মোকাবেলা করার জন্য শুধুমাত্র শক্তিপ্রয়োগ যথেষ্ট নয়। একে নির্মূল করার জন্য শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন একটি সঠিক আদর্শ যা দিয়ে বাস্তবিক অর্থেই জঙ্গিবাদকে ভ্রান্ত ও অসার মতবাদ হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। আর সেই আদর্শটি প্রস্তাব করছে হেযবুত তওহীদ।” এটা জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা যদি এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, তবে আমাদেরকেও শীঘ্রই ইরাক-সিরিয়ার ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।” তিনি বলেন, “এই সংকটকালে হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি রসুলাল্লাহর জীবনী ও কোর’আন-হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে, জঙ্গিদের ইসলাম আর আল্লাহ-রসুলের ইসলাম এক নয়। তিনি বলেন, মানুষের সামনে যদি এই যুক্তি-প্রমাণগুলো তুলে ধরা যায় ও ব্যাপকভাবে প্রচার করা যায় তবে সাধারণ মানুষের ঈমানকে হাইজ্যাক করে আর তাদেরকে জঙ্গিবাদী কর্মকা-ে লিপ্ত করা যাবে না। যারা ইতোমধ্যেই জঙ্গিবাদের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে তাদের অনেকেও ভুল বুঝতে পেরে ঐ পথ পরিত্যাগ করবে।
ইসলামের প্রকৃত ইকীদা, ঈমান, আমল সম্পর্কে প্রধান বক্তা অতন্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রাখেন। বর্তমান সমাজে ইসলামের যে বিকৃতি চলছে সে বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন, প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার ইতিহাস তুলে ধরে আলোচনা করেন।

See Photos
See Video