123

০৫ মে ২০১৪ গাজীপুরের আউটপাড়ায় দৈনিক দেশেরপত্রের ব্যুরো অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এম.পি

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্তি পেতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। আর জাতির এই ঐক্যের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় ধর্মজীবীদের মিথ্যা ফতোয়াবাজি আর পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেওয়া জীবনব্যবস্থা। ধর্মব্যবসায়ীদের ফতোয়াবাজি ও পশ্চিমা জীবনব্যবস্থার দ্বৈত আগ্রাসন দেশের আপামর জনসাধারণকে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত করে রেখেছে। এর অকাট্য যুক্তি, তথ্য এবং প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ধর্মব্যবসায়ী ও পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দৈনিক দেশেরপত্র। আর এই উপলক্ষে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে দেশেরপত্রের কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তার আউটপাড়ায় দৈনিক দেশেরপত্রের জেলা ব্যুরো কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। কার্যালয়টি উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এম.পি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো: আজমত উল্লা খান,  দেশেরপত্রের উপদেষ্টা উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী  এবং প্রধান বার্তা সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা। ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ এবং গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এম বারী, গাজীপুর জেলা যুবলীগ সভাপতি এস এম আলতাব হোসেন, দেশেরপত্রের উপদেষ্টা মসীহ উর রহমান,  উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ইয়াহিয়া খন্দকার, সহ-সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম, প্রভাষক মনিরুজ্জমান ভূইয়া; হোসনে আরা সিদ্দিকী, কাউন্সিলর ৪০,৪১,৪২, প্যানেল মেয়র (৩), গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন; মরিয়ম খাতুন আশা, সহকারী কাউন্সিলর ৪০,৪১,৪২, প্যানেল মেয়র (৩), গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে এলাকার সর্বস্তরের দুই শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন ,“চারজন খলিফার মধ্যে তিনজন খলিফাই ঘাতকদের হাতে নিহত হয়েছেন। সব ঘাতকরাই ইসলাম নামধারী ছিলেন। প্রত্যেক হত্যার পরই তারা রব উঠিয়েছিল যে ইসলামকে রক্ষার জন্য এটা করা হয়েছে। এজিদের যে বাহিনী কারবালায় হুজুর (স) এর বংশধরকে শেষ করেছিল সেই এজিদ বাহিনীও নামাজ পড়ত। তারা নামাজে দুরুদ শরীফ পড়ে নবীর বংশধরের জন্য দোয়া করত আবার এর পরেও হাসান এবং হোসেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত।” বর্তমান ধর্মব্যবসায়ী ও ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি ও সন্ত্রাসকারীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আজ এক শ্রেণির মানুষ পৃথিবীতে সেই এজিদের ইসলাম কায়েম করতে চায়।”  তিনি আরো বলেন, “যারা ইসলাম ধর্মকে রক্ষার জন্য শ্লোগান দেয় তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামের কোন উপকারই হয় না। তারা যদি তাদের ক্ষমতায় থাকাকালে সত্যিই কোর’আনের কোন আইন প্রতিষ্ঠা করত তবে মুসলমান হিসেবে তাদের কাছে ঋণী থাকতাম, তবে তারা সেটা কোনদিনই করেননি।” এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর সম্পর্কে তিনি বলেন, বায়াজীদ খান পন্নী যে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছেন আমাদের বাংলার ইতিহাসের সাথে সেই পরিবারের গভীর সম্পর্ক আছে। এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার এবং প্রসারের জন্য সেই পরিবারের অনেক সম্পর্ক আছে। ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলার আদর্শকে সামনে রেখে দৈনিক দেশেরপত্রের চলমান কার্যক্রমকে সম্পর্কে তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্নকে সামনে রেখে দেশেরপত্র কাজ করে যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধারাও এই একই স্বপ্নকে সামনে রেখে সংগ্রাম করে দেশকে মুক্ত করেছিলেন। আজ দেশেরপত্রের যে আদর্শ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদেরও সেই একই আদর্শ। দৈনিক দেশেরপত্র যদি তাদের এই লক্ষ্য  ও আদর্শে অটল থাকে তাহলে আমরা সর্বাবস্থায় তাদের পাশে থাকব।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি গাজীপুর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো: আজমত উল্লা খান বলেন, “যারা সত্যের পথে থাকে, যারা হক কথা বলে তাদের সব সময়ই দঃখ কষ্ট সহ্য করার জন্য তৈরি থাকতে হয়। দেশেরপত্রও একটি সত্য নিয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই তাদেরকেও কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। কিন্তু সত্যের পথে অটল থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত।”
অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি, “ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ও গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এম বারী বলেন,  জনাব বায়াজীদ খান পন্নী সমাজের কুফর এবং বাতিল মতবাদের বিরুদ্ধে যে সত্য তুলে ধরেছেন আমরা তার সাধুবাদ জানাই। আজ দেশেরপত্র তার সেই মতবাদ তুলে ধরছে। আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ।