বর্তমানে মানবজাতি যে সীমাহীন দুর্নীতি, অন্যায়-অশান্তি, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাতে নিমজ্জিত তার প্রধান কারণ হলো- মানবজাতি আজ সম্পূর্ণরূপে আদর্শহীন। সত্য, সুন্দর, ন্যায়, কল্যাণমুখী কোনো আদর্শ এখন আর মানবজাতির সামনে নেই। সবাই মেতে আছে স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, ভোগ-বিলাসের মধ্যে। কিন্তু এই ভোগবাদী সভ্যতা আমাদেরকে কখনোই শান্তি দিতে পারবে না, যা আজ পরীক্ষিত। সুতরাং মানবজাতির সামনে এখন একটি সঠিক আদর্শ প্রয়োজন যা জাতিকে সত্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিবে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপ-রাজনীতি, মাদক ইত্যাদি থেকে জাতিকে মুক্ত করবে।
গত রবিবার রাজধানীর উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাবে ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন অতিথিরা। ‘সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আন্দোলনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ও এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, প্রধান উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন, ঢাকা মহানগরের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, ধর্ম এসেছে মানবতার কল্যাণের জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ মানুষ ধর্মকে নিজেদের মর্জিমতো ব্যবহার করছে। কেউ ধর্মের নামে অর্থনৈতিক স্বার্থোদ্ধার করছে, কেউ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করছে, কেউ বা আবার বিকৃত পীরতন্ত্রে নিমজ্জিত, কেউ কেউ ধর্মের বিকৃত ফতোয়া দিয়ে নারীদেরকে পশ্চাৎপদ করার হীন উদ্দেশ্য ব্যস্ত। সবমিলে ধর্মকে আজ নানাভাবে বিকৃত করা হচ্ছে। যার ফলে আমাদের তরুণ সমাজের সামনে এখন আর কোনো আদর্শ নেই। স্বাভাবিকভাবেই ধর্মীয় মূল্যবোধ এখন আর যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। এখন আমাদের উচিত ধর্মের সঠিক রূপ, আদর্শ মানবজাতির সামনে তুলে ধরা। আদর্শের সঙ্কটকে আদর্শ দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্য বক্তাগণ বলেন, আমাদের তরুণ সমাজও আজ গৃহমুখী, আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপরতায় মগ্ন। তাদেরকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে হবে। তাদেরকে মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে উৎসাহিত করতে হবে। ধর্মের সকল বিকৃতির হাত থেকে তাদেরকে মুক্ত করতে হবে। জাঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি যে ধর্মের বিকৃতির ফলাফল তা সকলকে বোঝাতে হবে। তারা হেযবুত তওহীদের বক্তব্য ও আদর্শের সাথে সহমত ব্যক্ত করেন এবং মানবতার কল্যাণধর্মী এ কার্যক্রমে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের ভিডিও চিত্র