প্রশ্ন-উত্তর

/প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন-উত্তর2019-10-30T05:03:43+06:00
প্রশ্ন: বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আমাদের দেশে যে অরাজনৈতিক বা রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো এ যাবৎ হয়েছে সেসব আন্দোলনে আপনাদের ব্যানারে সরব অংশগ্রহণ আমরা দেখি না কেন? ইস্যুভিত্তিক এসব আন্দোলনগুলোর বিষয়ে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করলে ভালো হয়।2019-10-30T05:00:14+06:00

উত্তর: আমরা জানি যে আন্দোলনগুলো আমাদের দেশে করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের দ্বারা সৃষ্টি হয়, তাদের কিছু দাবি দাওয়া থাকে। সেগুলোর কোনো কোনোটা গোটা জাতির মধ্যে উদ্দীপনা ও মনোযোগ সৃষ্টি করে, কোনো কোনোটা একটি গণ্ডির মধ্যে সীমিত থাকে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করা হলো। আমরাও নিরাপদ সড়ক চাই কোনো সন্দেহ নেই। এর আগে কোটা সংস্কার, গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের আন্দোলন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন, শিক্ষক আন্দোলন, গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্দোলন, তনু হত্যা ইত্যাদি আরো কত কত বিষয় নিয়ে আন্দোলন হলো। আমরা চাই এসব বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত সমাধান হোক, মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাক। কিন্তু প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে সেগুলোতে আমরা আমাদের ব্যানার নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাঠে নামি না তার কারণ অতি সরল। সেটা হলো- দাবি আদায়ের যে পদ্ধতি তারা নিয়েছেন এই পদ্ধতিকে আমরা সংকট সমাধানের প্রকৃত পদ্ধতি মনে করি না। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এ পর্যন্ত এসব আন্দোলন করে বিশেষ কোনো ফায়দা হয়নি। হ্যাঁ, মিডিয়ায় তোলপাড় হয়, ফেসবুকে খুব আহাজারি হয়, সরকারি দল-বিরোধী দলের মধ্যে গরম বাগবিতণ্ডা হয়, শ্লোগান ওঠে, সুযোগসন্ধানীরা ঢুকে পড়ে, পুলিশের সঙ্গে সংঘাত হয়, মারধোর হয়, রক্তপাত ও গ্রেফতার হয়, ভাঙচুর-জ্বালাও পোড়াও হয়। এক সময় সরকার চাপে পড়ে কিছু দাবি মেনে নেয়, কিছু দাবি ঝুলে থাকে। তারপর সময় গড়িয়ে যায়। মানুষ সব ভুলে যায়। সিস্টেমটা এমনভাবে দাঁড়িয়ে গেছে যে হুট করে একটা সমস্যার সমাধান করা যায় না, কারণ সমস্যাগুলো জালের মতো। একটার সাথে আরেকটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন থেকে এই জটলার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ সিস্টেমের চাকা যেভাবে চলছিল সেভাবেই চলতে থাকে, সামান্য পরিবর্তনও হয় না, কিছুদিন বাদে নতুন করে আরেকটি জটের সৃষ্টি হয়। তাই আমাদেরকে এখন নতুনভাবে ভাবতে হবে, আমূল পরিবর্তনের চিন্তা করতে হবে।
আমরা যেটা বলতে চাই, যে সিস্টেমের ফলে এই রকম হাজারো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই সিস্টেমের গোড়ায় যেতে হবে। কয়টা ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করবেন। সারাদেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে, ইয়াবার দংশনে পুরো তরুণ সমাজ আক্রান্ত, অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে পরিবারব্যবস্থা ধসে পড়েছে, সামাজিক অবক্ষয় চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। এগুলো সবই বড় বড় সমস্যা। এই তালিকা দিনকেদিন বাড়তেই থাকবে। কারণ সমস্যাগুলো হলো একই বিষবৃক্ষের বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা, ডালপালা ও ফলমাত্র। এই বিষবৃক্ষটি বহু আগেই সাম্রাজ্যবাদী দাজ্জালীয় ‘সভ্যতা’ বিশ্বের বুকে রোপণ করেছে। আমরাও দুই শতাধিক বছর তাদের প্রত্যক্ষ দাসত্ব করেছি, আর এখনও তাদের প্রবর্তিত সেই জীবনব্যবস্থাই মেনে চলছি। বিষ খাওয়ার পর শরীরে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেবেই। সেই প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন বিক্ষোভ করে কী ফল? ঐ বিষপান বন্ধ করার জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা।
আমাদের সোজা কথা হচ্ছে, এমন একটি জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এখন জরুরি যেটা একাধারে আমাদেরকে আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করবে, পরিতৃপ্ত করবে, আমাদের পরিবারকে শান্তিপূর্ণ রাখবে, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে, অর্থনৈতিক ভারসাম্য আসবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এক কথায় সর্ব অঙ্গনে সাম্য সুবিচার প্রতিষ্ঠা হবে। প্রশ্ন হতে পারে, তেমন জীবনব্যবস্থা কি পৃথিবীতে আছে? আমরা বলবো, হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সেই ব্যবস্থা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। সেই জীবনব্যবস্থা দিয়ে রসুলাল্লাহ আইয়্যামে জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকার দূর করে দিলেন সেই জীবনব্যবস্থা আমাদের হাতে থাকা সত্ত্বেও সেটা আমরা প্রয়োগ করছি না। এখন আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষের সামনে সেই সঠিক জীবনব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে ন্যায়ভিত্তিক শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলার জন্য।
আমরা যদি ঐসব ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগ দিতাম তাহলে হয়তো কিছু লোকসংখ্যা বাড়তো কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হতো না। আমরা সমস্যগুলোর গোড়া থেকে পরিবর্তন চাই। আমরা সর্বাবস্থায়ই যাবতীয় অন্যায়ের বিপক্ষে, সে অন্যায় যারাই করুক না কেন। আমরা সারাবছর মাঠেই আছি। আজকে ঈদের দিন। আন্দোলনকারীরা দুই দিন আন্দোলন করে আজ ঠিকই ঈদ পালন করছেন, কিন্তু আমরা আজও পুরো হেযবুত তওহীদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠে আছি। এভাবে সারাবছর আমরা অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদ কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকোণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাহলে জাতীয় নির্বাচনে তারা ভোট দিবে কিনা? দিলে তারা কোন দলকে সমর্থন দেবেন? যদি না দেন তাহলে তারা দেশের নাগরিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন না, আর যদি দেন তাহলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়েই গেল।2019-10-30T05:00:27+06:00

উত্তর: আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা শর্ত হলো এই প্রচলিত রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করব না। কিন্তু আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কাউকেই ভোট দেব না – এই অধিকার অবশ্যই আমার আছে। একবার অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও ‘না-ভোট’ দেওয়ার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তারপর কী কারণে যেন সেটা আবার উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম। এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী বলেছিলেন, ‘না-ভোট’ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে আমরা দলেবলে গিয়ে ভোট দেব। এখন কেন তারা ‘না – ভোট’ উঠিয়ে দিলেন? কারণ সম্ভবত ভোটে না ভোটের বাক্স ভর্তি হয়ে যাবে।
ভোট দিতে আমাদের অসুবিধা নাই। আমাদের দাবি শুধু একটা- যারা প্রার্থী হবেন তারা একটি অঙ্গীকার করবেন যে তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানবেন না আর স্বার্থের রাজনীতি পরিহার করবেন। তারা যদি এই কথার উপরে এশতেহার দাঁড় করাতে পারেন যে, তারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, জাতির ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না, নিজেদের ঘরে খাবেন, নিজের পকেটের টাকা খরচ করে জাতির কল্যাণে কাজ করবেন, নিজের টেলিফোন বিল ব্যবহার করবেন, নিজের গাড়ির তেল খরচ করবেন, মানুষের টাকায় রাজনীতি করবেন না- তাহলে আমরা তাদেরকে ঘোড়া সাজিয়ে, হাতি সাজিয়ে, ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে ভোট দিতে যাব। আমার কোনো আপত্তি নাই।
কেউ বলতে পারেন যে নিজের ঘরে খাব গাড়ির তেল পোড়াব, নিজের টেলিফোন ব্যবহার করব আমার কী দায় পড়েছে? আমি সেক্ষেত্রে বলব, আপনার যদি দায় না পড়ে তাহলে রাজনীতির নামে মানুষ খুন করে নেতা হওয়ার এত খায়েসটা কেন? আপনারা সামান্য একটা পদের জন্য নিজের দলের লোক পর্যন্ত খুন করে ফেলেন। এইটাই আমার কথা। স্বার্থ যদি নাই থাকে আপনি সরে যান সামনে থেকে। নিশ্চয়ই সমাজে ভালো মানুষ আছেন, তারা এগিয়ে আসবেন। শিক্ষিত, ভদ্র, মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিক মানুষ সমাজে আছেন। তারা মানুষের ক্ষতি করবেন না, দেশের ক্ষতি করবেন না, মরে গেলেও ওয়াদা খেলাফ করবেন না, তারা আল্লাহর নাফরমানি করবে না। আমি বিশ্বাস করি এই মানুষ বাংলার মাটিতে আছে। স্বার্থান্বেষী কিছু রাজনীতিকদের কারণে তারা উঠে আসতে পারছেন না। কাজেই আমাদের দাবি পরিষ্কার। আমাদের চাওয়া জটিল নয়, প্যাঁচালো নয়। নির্বাচনে ভোট দিতে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এই সংস্কৃতি, এই দ্বন্দ্বের রাজনীতি, হানাহানির রাজনীতি পরিহার করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে আমরা ভোট দিয়ে আপনাদেরকে নির্বাচিত করব। তখন এটা হবে আমাদের জন্য এবাদত। আপনারা হবেন আমাদের আমীর, আমাদের নেতা। আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করব। আপনারা আমাদের কল্যাণকামী হবেন। উমরের (রা.) মত পিঠে আটার বস্তা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরবেন। আমার আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু যতক্ষণ বর্তমানের নেতাদের মতো স্বার্থান্ধ, ধান্ধাবাজ রাজনীতিকরা আছেন ততক্ষণ আমাদের টেনশন আছে। আমাদের কথা সার্বজনীন কথা, সকলের জন্য কল্যাণকর কথা। জানি না আমার এ কথা কার কানে যাবে।

প্রশ্ন: আপনারা যে কাজ করছেন তা প্রশংসনীয় কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসায় করছেন না কেন?2018-06-16T12:21:07+06:00

উত্তর: আমরা মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ করছি না, এটা সম্পূর্ণ সত্য নয়। বেশ কিছু মাদ্রাসায় আমরা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করেছি। পত্রিকা তো যাচ্ছেই। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কাজ করা আমাদের নীতি নয়। আমরা আমাদের কর্মকাণ্ডে সর্বশ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততা আশা করি। মসজিদের ইমাম, খতিব, বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রধান এরকম অনেক আলেমদেরকে নিয়ে আমরা রাজধানীতে আলোচনা অনুষ্ঠান করেছি, বহু স্থানে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। অনেক আলেম আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধও হচ্ছেন।
আসলে বর্তমানে মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা হচ্ছে, ইসলাম মানেই দাড়ি, টুপি, মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম ওলামা, সুর করে কোর’আন তেলাওয়াত, আযান দেয়া, হজ্জ করা ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলাম শব্দের অর্থ হলো শান্তি অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার, ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শৃংখলা, আনুগত্য, কোথাও অভাব নেই, অনটন নেই, দুঃখ নেই, যন্ত্রণা নেই এমন একটা পরিস্থিতির নাম ইসলাম। আপনারা জানেন, ১৬ কোটি বাঙালি কেবল মসজিদ মাদ্রাসায় থাকে না। তারা বাড়িঘরে থাকে, পার্টি অফিসে থাকে, প্রেসক্লাবে থাকে, উপাসনালয়ে থাকে, সিনেমা হলে থাকে, সংসদে থাকে, তারা হাটে বাজারে থাকে, রাস্তাঘাটে সর্বত্র থাকে। মানুষ যেখানে আছে সেখানেই সত্য পৌঁছানো আমাদের কর্তব্য। এ কারণে আমরা সবজায়গাতেই কাজ করার চেষ্টা করি। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে গ্রাম-পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত সর্বত্র কাজ করার চেষ্টা করছি।
তবে বাস্তবতা হলো- মসজিদ মাদ্রাসাগুলো যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা অধিকাংশই ধর্মীয় বিভিন্ন উপাসনামূলক কার্যাদি করে অর্থ রোজগার করে থাকেন যেটা আল্লাহ হারাম করেছেন। তারা ভাবছেন আমাদের আদর্শের প্রচারে তাদের স্বার্থ নষ্ট হবে। এই কারণে মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ করতে গেলে সহযোগিতার পরিবর্তে শত্রুতাই করা হয়, এমন কি কোনো কোনো স্থানে মানুষকে মিথ্যা বুঝিয়ে ফেতনা সৃষ্টি করে আমাদের সদস্যদেরকে হয়রানিও করা হয়েছে। ফলে ওসব প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার, কথা বলার পরিবেশটাই থাকে না। তথাপিও আমরা আশাবাদী যে সত্যনিষ্ঠ আলেমদের সহযোগিতা পেলে মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ব্যাপক আকারে কাজ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।

হেযবুত তওহীদের সভা-সমাবেশ ও একটি বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের জবাব2018-03-19T10:28:25+06:00

মোহাম্মদ আসাদ আলী
আমাদেরকে অর্থাৎ হেযবুত তওহীদকে প্রায়ই একটি ‘হাস্যকর’ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে, ‘আপনারা ইসলামের কাজ করছেন অথচ বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন না, সরকার আপনাদেরকে বাধা দেওয়ার বদলে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে, ব্যাপারটা কী ভাই?’ এই প্রশ্নটার সাথে আমার মনে হয় হেযবুত তওহীদের ভাই/বোনেরা কম-বেশি সবাই পরিচিত আছেন, কারণ এর জবাব তাদেরকে প্রতিনিয়তই দিতে হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও বহুবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশ্নটা যারা করেন তারা উত্তর পাবার আশায় করেন না, প্রশ্নটা করে জনমনে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে একটি সন্দেহ সৃষ্টি করে দেওয়াই থাকে তাদের মূল্য উদ্দেশ্য এবং এই প্রশ্নকারীদের পরিচয়ও সহজেই অনুমেয়।

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে একটি শ্রেণি এতটাই নাজেহাল হয়েছেন যে, সভা-সমাবেশ করা তো দূরের কথা, নিজেদেরকে ঐ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বলে প্রকাশ্যে পরিচয় দিতেও পারেন না প্রতিপক্ষের ধরপাকড়ের মুখে পড়তে হয় বলে। সেই শ্রেণিটি যখন দেখেন হেযবুত তওহীদ সারা দেশে ক্রমাগত সভা-সমাবেশ করে চলেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ হেযবুত তওহীদের বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, তখন স্বভাবতই তারা উপরোক্ত প্রশ্নটি করে কিছুটা সান্ত¦নাবোধ করেন!

হেযবুত তওহীদ সারা দেশে ক্রমাগত জনসভা, আলোচনা সভা, কর্মি সভা, সংবাদ সম্মেলন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদির আয়োজন করে চলেছে এটা দিবালোকের ন্যায় সত্য, কিন্তু তার আড়ালে আরেকটি সত্য আছে যেটা ঐ প্রশ্নকারীরা জানেন না বা জানলেও জনগণকে বলতে চান না। প্রকৃতপক্ষে আমরা দশটা জনসভার অনুমোদন চাইলে হয়ত একটার অনুমোদন পাই, তাও বহুপ্রকার শর্তসাপেক্ষে। কয়টার বেশি মাইক লাগানো যাবে না, কতক্ষণের মধ্যে সভা শেষ করতে হবে, বড়জোড় কতজন মানুষ জমায়েত হতে পারবে ইত্যাকার নানান বেড়াজালে এমনভাবে আবদ্ধ থাকতে হয় যে, সামান্য উনিশ বিশ করার সাধ্য নেই, করলে মাইকের তার কেটে দেওয়ার উদাহরণও আছে।

এই যে বহুবিধ শর্তসাপেক্ষে দশটা দরখাস্ত দিয়ে একটা জনসভার অনুমোদন পেলাম এটার অনুমোদন পেলাম প্রথমত এই কারণে যে, গত ২৩ বছর ধরে নানান নির্যাতন হয়রানির শিকার হয়েও, বহু ভাইবোনের রক্ত ঝরলেও আমরা রাষ্ট্রের একটিও আইন ভঙ্গ না করার অনন্য নজির স্থাপন করতে পেরেছি। অতীতে আমাদের বিরুদ্ধে সন্দেহমূলক ও নিপীড়নমূলক বহু মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোথাও ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়ার অপপ্রচার, কোথাও ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ইন্ধনে আমাদের সদস্যরা বারবার নির্যাতন ও হয়রানির মুখে পড়েছেন। কিন্তু আমরা সমস্ত কিছু নীরবে সহ্য করে গেছি আন্দোলনের কেবল একটি নীতির কারণে যে- ‘আমরা রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করব না’। সত্যিই আমরা জীবন দিয়েছি কিন্তু আইন হাতে তুলে নিই নি। ২৩ বছর ধরে আমরা রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা মেনে চলার যে অনন্য নজির স্থাপন করেছি তা কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও স্থাপন করতে পারে নাই, কাজেই আমাদেরকে জনসভা করতে না দেওয়াটা কেবল অযৌক্তিকই নয়, অনৈতিকও বটে। হয়ত সেই চেতনা থেকেই দশটা আবেদন করলে একটার অনুমোদন দিচ্ছেন তারা।

দ্বিতীয়ত, আমরা আমাদের সভা-সমাবেশে কী বলি তা ভিডিও আকারে ফেসবুকে ইউটিউবে ছড়িয়ে আছে, যে কেউ ইচ্ছে হলেই দেখতে পারবেন। জনসভা চলাকালীনই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এসে আমাদের বক্তব্য রেকর্ড করে নিয়ে যান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সরকারের উচ্চ মহল অব্দি সেগুলো পৌঁছে যাবার কথা। যদি আমাদের উচ্চারিত একটা বাক্যাংশও তারা অযৌক্তিক পেতেন, ক্ষতিকর পেতেন তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখুন- একটা জনসভার অনুমোদনও আমাদের নসিবে কুলোতো কিনা সন্দেহ! আমাদের বইগুলো পড়লে ও ভাষণগুলো দেখলে সবাই বুঝবেন আমরা একটাও জাতিবিনাশী কথা বলি না, একটাও বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী কথা বলি না, একটাও সা¤প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারী কথা বলি না, বরং আমাদের প্রতিটি বক্তব্য জনকল্যাণমুখী, উপকারী বক্তব্য। আমাদের বক্তব্য শুনে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ জঙ্গিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে, ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা জানতে পারছে, জাতি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রের কর্ণধাররা সেটাই তো চাইবেন, তাই নয় কি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বারবার দেশবাসীকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাহলে সরকার কেন আমাদেরকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দিবে না? যারা হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে চান এবং অভিমানে গাল ফুলিয়ে প্রশ্ন করেন, হেযবুত তওহীদকে কেন সরকার জনসভার অনুমতি দিচ্ছে তারা নিশ্চয়ই দেখছেন সরকার সারা দেশে হাজার হাজার ওয়াজ-মাহফিলেরও অনুমতি দিচ্ছে, তবে কি ওয়াজ-মাহফিলগুলোও তাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ? হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন, সভা-সমাবেশ করার বৈধ অধিকার আমাদের আছে, আমরা যে অনুমোদন পাই সেটা আমাদের প্রতি কারো করুণা নয়, ওটা আমাদের প্রাপ্য। শুধু হেযবুত তওহীদ কেন, দেশের অন্যান্য অরাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকেও সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এমনটা আমাদের নজরে পড়ে নাই, যদিও আমাদেরকে বহুবার বাধা দেওয়া হয়েছে, আমাদের সমাবেশ পণ্ড করা হয়েছে কোনো কারণ ছাড়াই।

‘অরাজনৈতিক আর রাজনৈতিক’- এই দুইটি শব্দেই বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়ে যায়। এমনতিইে আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সুখকর নয়, রাজনীতির নামে হানাহানি জ্বালাও পোড়াও হরতাল অবরোধের সংস্কৃতি বহু যুগ ধরে চলে আসছে। সরকারী দল বিরোধী দলগুলোকে কোনঠাসা করে রাখবে, আর বিরোধী দলগুলো সুযোগ পেলেই সরকারের কণ্ঠনালী চেপে ধরবে- এ যেন রাজনীতির অমোঘ বিধান! এখানে কোন্ দল কোন্ আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে সেটা মুখ্য নয়, ক্ষমতার প্রশ্নে সবগুলো দলই একে অপরের সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন আবার ক্ষমতার প্রশ্নেই একে অপরকে জেলের ভাত খাওয়ান। যারা বলেন ইসলামের কথা বলার কারণে নির্যাতিত হচ্ছেন তাদের চাইতে এক কালে বামপন্থীরাও কম জেল-জরিমানার শিকার হয় নাই। বস্তুত ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতা ধরে রাখার এই কামড়াকামড়িতে যারা ইসলামকে মই হিসেবে ব্যবহার করেছেন তারা ইসলামকেই খাটো করেছেন, ইসলামের মত সুমহান আদর্শের গায়ে কলঙ্কের কাদামাটি লাগিয়েছেন। ইসলামের নামে তাদের ধান্দাবাজী দেখে দেখে মানুষ এতটাই বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে যে, এখন প্রকৃত ইসলামের কথা বললেও অনেকে সন্দেহের চোখে তাকায়! খুব আফসোস হয় যখন তারা ঐ হানাহানির রাজনীতি করতে গিয়ে, আল্লাহ-রসুলকে নিয়ে পলিটিক্স করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের কায়দা-কৌশল ঠিকমত না বোঝার কারণে ধরা খান এবং তারপর ‘ইসলাম গেল ইসলাম গেল’ জিগির তুলে মানুষের সহানুভ‚তি লাভ করতে চান। আপনারা ধর্মের নামে সহিংস জাতিবিনাশী রাজনীতি করবেন, আল্লাহু আকবার ¯েøাগান দিয়ে পেট্রল বোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা করবেন, জাতির লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করবেন, ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেঁতলে দিবেন, তারপর পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আমাদের দিকে আঙ্গুল তুলে বলবেন- ‘আমরা ইসলামের কথা বলার কারণে ধাওয়া খাচ্ছি, তোমরা কেন ধাওয়া খাচ্ছ না’- এর চেয়ে হাস্যকর প্রশ্ন আর কী হতে পারে?

বিভ্রান্তির অবসান: ফেরকার প্রাচীর ভেঙে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করছে হেযবুত তওহীদ2018-03-16T10:40:10+06:00

মো. মশিউর রহমান
আমাদের সম্পর্কে অনেকের মনে অনেক রকম জিজ্ঞাসা থাকে। অনেকেই আমাদের কথা শুনে মন্তব্য করেন যে আমরা নতুন একটি ধর্মমতের দিকে আহ্বান করছি। অনেকে আবার বলেন, বর্তমানে মুসলিম জনগোষ্ঠী ইতমধ্যেই শত শত ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত, আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম জাতিতে আবার নতুন একটি ফেরকার সংযোজন করছি না তো?
জনগণের এ সকল প্রশ্নের জবাবে বলব তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের মনে এ ধরনের প্রশ্ন আসার মুল কারণ হচ্ছে আমাদের কথা অনেকের কাছেই নতুন। বংশপরম্পরায় ও প্রচলিত সমাজের ভাবধারায় একটি বিষয় সম্পর্কে তারা একভাবে শুনে অভ্যস্ত এর ফলে আমরা যখন সে বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করি তখন তাদের কাছে তা নতুন বলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। যেমন ধরুন অনেককেই আমরা জিজ্ঞেস করি যে ইসলামের স্তম্ভ কয়টি? তখন তারা জবাব দেয় পাঁচটি। কিন্তু যখন এই পাঁচটি কী কী জিজ্ঞেস করা হয় তখন তারা বলেন, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত। প্রথমটি ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটির কথা অনেকেই বলতে পারেন না। সেই প্রথমটি হচ্ছে ঈমান, কালেমা বা তওহীদ। তখন আমরা সর্বপ্রথম এই তওহীদকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানাই। কারণ তওহীদ ছাড়া নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত বাকি সকল আমল ব্যর্থ। এই প্রথম তারা তওহীদের গুরুত্ব সম্পর্কে কারো থেকে কোন বক্তব্য শুনে। আবার বহুবছর ধরে সমাজে একটি ভুল ধারা প্রচলিত রয়েছে যে যারা ধর্মের কাজ করে তাদের সেই কাজের বিনিময় দেয়াটা জায়েজ, শুধু জায়েজই নয় সেই কাজের জন্য তাদের বিনিময় দেয়াটা সওয়াবের কাজ। এমনকি যারা বিনিময় নেয় তারাও মনে করে মিলাদ পড়িয়ে, মুর্দা দাফন করে টাকা কামানো তাদের অধিকার। সেখানে আমরাই প্রথম বলছি যে ধর্মের নামে টাকা নেওয়া হারাম, সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তখন মানুষের মনে ধাক্কা লাগে। তাদের চিন্তার জগতে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে ধর্মের বিনিময় হারাম হলে আলেমগণ তাদের ঘর-সংসার চালাবেন কী করে। এ ধরনের কথার ফলে তারা মনে করে আমরা নতুন ধর্মমত নিয়ে আগত হয়েছি। কিন্তু আমরা জানি যে আল্লাহর রসুল (স.) এর আগমনের মাধ্যমে নবুয়াতের ধারা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাঁর পর আর কোন নবী বা রসুল আসবেন না। তিনি যে হেদায়াত ও সত্যদীন নিয়ে এসেছেন তাই কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবুও তাদের এই প্রশ্নের একমাত্র কারণ হচ্ছে আমরা আল্লাহর কোর’আন ও রসুলের জীবনী থেকে সত্যকে তুলে ধরছি যে সত্য কালের পরিক্রমায় বহু আগেই হারিয়ে গিয়েছে।
আমাদের কথা শুনে আবার যারা বলেন আমরা নতুন ফেরকা তৈরি করছি তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো আল্লাহর দৃষ্টিতে দল কিন্তু দুটি। সুরা তাগবুনের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাদের মধ্যে একদল মো’মেন ও অন্যদল কাফের।” আমরা নিজেরা হাজার দল-উপদল, ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত হতে পারি কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টিতে দল শত শত নয় মাত্র দুটি। তেমনি পথ ও দুটি। হয় সত্যের পথ, ন্যায়ের পথ, সিরাতুল মুস্তাকিম। নয়তো মিথ্যার পথ, অন্যায়ের পথ, দালালাহ (পথভ্রষ্টতা)। এর ফলস্বরূপ পরিণতিও দুটি, হয় জান্নাত নয়তো জাহান্নাম। যারা সত্যের পথে থাকবে, তওহীদের উপর থাকবে অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানি না- এই কথার উপর থাকবে তারা হবেন মো’মেন। তাদের জাতি হবে একটি, এমাম (খবধফবৎ) হবেন একজন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও হবে একটি আর হুকুম চলবে শুধুমাত্র আল্লাহর। তাদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি, ডানপন্থী-বামপন্থী ইত্যাদি মতবাদের তো কোন প্রশ্নই আসে না। আর এর বাইরে যারা থাকবে তারা সকলেই পথভ্রষ্ট, কাফের। তারা সিরাতুল মুস্তাকিমের বদলে দালালা তে রয়েছে ও তাদের হুকুমদাতা হচ্ছে ইবলিস।
আমরা হেযবুত তওহীদ বলছি পৃথিবী জুড়ে বর্তমানে যে মুসলিম জনসমষ্টি রয়েছে তারা বহু আগেই তওহীদকে ত্যাগ করেছে। আল্লাহর রসুলে ওফাতের ৬০-৭০ বছর পরই মুসলিম জাতি আর এক জাতি ছিল না। আকিদা বিচ্যুতির ফলে তওহীদ প্রত্যখ্যান করায় তারা তখনই সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে দুরে সরে গিয়েছে। আজকে এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে পুনরায় আমরা সে সত্যকে তুলে ধরেছি। আমরা বলছি যে মানবজাতি হেদায়াহ-তে নেই, আল্লাহর হুকুমকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে, মানবজাতি আজ ইবলিস তথা দাজ্জালকে নিজেদের প্রভু হিসেবে গ্রহন করে সিরাতুল মুস্তাকিমের বদলে দালালাতে নিমজ্জিত রয়েছে। আমরা এখন মানবজাতিকে এ সত্য প্রচারের মাধ্যমে তাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
তাহলে পৃথিবীতে এখন দল হল দুটো। একটি হেযবুত তওহীদ, তওহীদের উপর বিশ্বাসীদের দল, এবং অপরটি হচ্ছে দুনিয়ার অন্যান্য যেসকল দল রয়েছে সেগুলো। আমরা কোন নতুন দল সৃষ্টি করি নি। আমরা, আল্লাহর রসুল যে সত্য নিয়ে এসেছিলেন, সেই সত্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য দাঁড়িয়েছি। আমি নিবেদন করব যারা আমাদের সম্পর্কে এরকম ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করেন যে আমরা নতুন ধর্মমত নিয়ে হাজির হয়েছি তারা আমাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানবেন। আমাদের ব্যাপারে না জেনে কোনো মন্তব্য করবেন না। আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে স্পষ্ট বলেছেন, “ধ্বংস হোক তাদের যারা অনুমানে কথা বলে (সুরা যারিয়াত ১০)।”
নতুন ধর্মমতের কোন প্রয়োজন নেই কারণ আল্লাহ তাঁর শেষ রসুলের মাধ্যমে এই শেষ দীন প্রেরণ করেছেন যা সমস্ত মানবজাতির জন্য উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। আমরা আল্লাহর রসুলের সেই আদর্শকেই গ্রহণ করেছি ও মানবজাতিকে পুনরায় সেই পথের দিকেই আহ্বান করছি। এর ফলে পুনরায় মানবজাতি সঠিক পথে আসতে পারবে, সিরাতুল মুস্তাকিমে উঠার মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারবে। আমরা আল্লাহর কিছু নগণ্য গুনাহগার বান্দা আজ এতবড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আসুন আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হন এবং পুনরায় তওহীদের পথে এসে নিজেদের ইহকাল ও পরকালকে সমৃদ্ধ করুন।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ

জনতার প্রশ্ন- আমাদের উত্তর: হেযবুত তওহীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?2019-10-30T05:00:39+06:00

যদি আক্ষরিক অর্থে ‘হেযবুত তওহীদ’ নামটিকে বিশ্লেষণ করি তবে, ‘হেযব’ শব্দটির অর্থ হলো দল, ইংরেজিতে পার্টি (Party), আর তওহীদ শব্দটি আরবি ওয়াহ্দানিয়াত থেকে এসেছে যার অর্থ আল্লাহর একত্ববাদ। ‘হেযবুত তওহীদ’ এর আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহর একত্ববাদের দল অর্থাৎ যারা ‘এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানি না’ এ বিশ্বাসে বিশ্বাসী তাদের দল। প্রকৃতপক্ষে এই নামের মধ্যেই হেযবুত তওহীদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায়, আর তা হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিরাজিত যাবতীয় বিভেদ, বৈষম্য ইত্যাদি নির্মূল করে দিয়ে আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা।

মানুষ সামাজিক জীব, তাকে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হয়। আর সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে গেলেই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র অর্থাৎ জীবনের সর্বাঙ্গনে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা কর্তৃপক্ষের দরকার পড়ে, কাউকে না কাউকে হুকুমদাতা (ইলাহ) হিসেবে মেনে নিতে হয়। এই সিদ্ধান্তদাতা কর্তৃপক্ষ হতে পারে মূলত দুইটি- স্রষ্টা ও সৃষ্টি। মানুষ তাদের সর্বময় জীবনের একমাত্র হুকুমদাতা হিসেবে স্রষ্টা আল্লাহকে গ্রহণ করে নিতে পারে, অথবা অহংকারবশত: আল্লাহকে অস্বীকার করে নিজেরাই হুকুমদাতার আসনে বসতে পারে। এক্ষেত্রে মানুষের পূর্ণ স্বাধীনতা আল্লাহ দিয়েছেন এবং এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি পেয়ে মানুষ কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল তার উপরেই নির্ভর করছে মানুষের আখেরাত। এদিকে ইবলিস আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছে সে মানুষকে দিয়ে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করিয়ে মানুষকেই মানুষের ইলাহ বা হুকুমদাতার আসনে বসাবে এবং যুগে যুগে যখনই সুযোগ পেয়েছে মানুষকে দিয়ে তা-ই করিয়ে নিয়েছে। পক্ষান্তরে নবী-রসুলরা এসে মানুষকে তওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন, ইবলিসের ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করে দিয়েছেন।

আল্লাহর শেষ রসুল মোহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। চল্লিশ বছর বয়সে অর্থাৎ ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নবুয়তপ্রাপ্ত হন। নবুয়তপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি সাফা পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে সকলকে একটি কথার দিকেই আহ্বান করলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আল্লাহ ছাড়া কারো হুকুম মানাবো না। তিনি দেখলেন তৎকালীন আরব সমাজে অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, জুলুম, রক্তপাত ইত্যাদি প্রতিদিনকার ব্যাপার। সমাজে মানুষের কোনো অধিকার নেই, নারীদের কোনো সম্মান নেই, লোকজন মদ খেয়ে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকছে, যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই রয়েছে, সাথে ডাকাতি, মূর্তিপূজা ইত্যাদি যেন স্বাভাবিক ব্যাপার। বলতে গেলে সকল দিক দিয়ে সমাজের অবস্থা ছিল দুর্বিসহ, যার কারণে তৎকালীন আরব সমাজকে বলা হয় আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা জাহেলিয়াতের যুগ। রসুল (সা.) এই জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে সমাজকে মুক্ত করার জন্য, সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব আনার জন্য উপায় খুঁজতে লাগলেন। তিনি হেরা গুহায় মানবজাতির মুক্তির উপায় নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হলেন। আল্লাহ তাঁর হৃদয়ের আকুলতা শুনলেন এবং সারা মানবজাতির ‘রহমতস্বরূপ’ প্রেরণ করলেন। তাঁর মাধ্যমে মানুষকে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার এবং আখেরাতে জান্নাত লাভের সঠিক পথ (হেদায়াহ) দান করলেন।

আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, কাজেই আমরা কিভাবে জীবনযাপন করলে আমাদের সামগ্রিক জীবনে শান্তি আসবে তা মহান আল্লাহর চাইতে আর কে ভালো জানে? আল্লাহ যেমন নিখুঁত, ত্রুটিহীন, তাঁর প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাও হচ্ছে ত্রুটিহীন। মানুষ যখন তওহীদের স্বীকৃতি প্রদান করে অর্থাৎ “এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানব না” এই কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হয়, কার্যত এর দ্বারা নিজেদের সমষ্টিগত জীবন পরিচালনার জন্য তারা একটি ত্রুটিহীন জীবনব্যবস্থা নির্বাচন করে। পক্ষান্তরে যেহেতু মানুষকে আল্লাহ এতখানি জ্ঞান-বুদ্ধি ও সামর্থ্য দান করেন নি যেটা খাটিয়ে তারা নিজেদের জন্য একটি নিখুঁত জীবনব্যবস্থা নিজেরাই তৈরি করে নিতে পারে, সেহেতু আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসেবে স্বীকার না করে মানুষ যখন নিজেই জীবনবিধান তৈরি করে নিতে গেছে, অনিবার্যভাবে তারা অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। উদাহরণ- বর্তমান সময়।

আল্লাহর হুকুম কী? আল্লাহর হুকুম হচ্ছে ন্যায় ও সুবিচার। যেটা ন্যায়, যেটা সত্য, সেটাই আল্লাহর হুকুম। আর এর বিপরীতে যেটা অন্যায়, অবিচার সেটাই ইবলিসের হুকুম। আল্লাহর এই হুকুমসমূহ আল্লাহ ধীরে ধীরে নবুয়্যতের তেইশ বছর ধরে রসুল (স.) এর কাছে প্রেরণ করেছেন যার সংকলিত রূপই হচ্ছে আল কোর’আন। কোর’আনে একশ’ ১৪টি সুরা রয়েছে কিন্তু মনে রাখতে হবে এ সম্পূর্ণ কোর’আন একদিনে নাযিল হয়নি। প্রথম থেকেই আল্লাহর রসুল সবাইকে কালেমার উপর, তওহীদের উপর ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান করেছেন। অর্থাৎ মানুষকে সেই গোড়ার সিদ্ধান্তের দিকে ডেকেছেন যে, তারা কাকে হুকুমদাতা হিসেবে মানবে। যারা আল্লাহকে মানতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন তাঁরা হলেন মো’মেন। তাদের নিয়ে যে জাতি গঠিত হলো সেই জাতি হলো মো’মেন জাতি, আর তার নেতা হলেন রসুলে পাক (সা.)। জাতি পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিটি বিষয় সেভাবেই পরিচালনা করল যেভাবে আল্লাহ হুকুম করলেন। একজন ব্যক্তি শুকরের গোশত খাবে নাকি গরুর গোশত খাবে, বিয়েতে যৌতুকের প্রচলন চলবে নাকি মোহরানার প্রচলন চলবে, ব্যবসাকার্যে সুদের কারবার চলবে নাকি মুনাফার ভিত্তিতে চলবে, দাসব্যবস্থা চলবে নাকি সেবাব্যবস্থা চলবে ইত্যাদি সমস্তক্ষেত্রে জাতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল আল্লাহর হুকুম মোতাবেক এবং এই সিদ্ধান্তসূত্রটিই হলো তওহীদ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহর রসুল বলেছেন যারা তওহীদে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবে আল্লাহ তাদের সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। আর এই তওহীদের বিপরীতেই রয়েছে শিরক, যার কোনো ক্ষমা নেই, ছাড় নেই (সুরা নিসা ৪৮)। ওই তওহীদের দিকে মানবজাতিকে আহ্বান করার আন্দোলনই হচ্ছে হেযবুত তওহীদ।

প্রশ্ন আসতে পারে- হেযবুত তওহীদ কেন তওহীদের দিকে ডাকছে? মানুষ তো কলেমা পড়ছেই, আমল করছেই, মসজিদ-মাদ্রাসায় আল্লাহর মহীমা কীর্তন করছেই। হ্যাঁ, এটা সত্য যে, কোটি কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত আল্লাহর উপাসনা আরাধনায় নিমগ্ন রয়েছে, খুব আন্তরিকতার সাথেই রয়েছে, কিন্তু আল্লাহর হুকুম মানছে না! পৃথিবীর এক ইঞ্চি জমিনেও আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা (ইলাহ) হিসেবে মানা হচ্ছে না এবং তার প্রাকৃতিক পরিণতি হয়েছে এই যে, সমস্ত অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাত মাত্রা ছাড়িয়েছে। পৃথিবী নামক এই গ্রহটিই এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এমনকি মুসলিম নামক জাতিটিও গত কয়েক শতাব্দী ধরে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন তন্ত্র, মন্ত্র, মতাদর্শ দিয়ে নিজেদের সমষ্টিগত জীবন পরিচালনা করে চলেছে।
এক জাতির দুই ইলাহ হতে পারে না। ব্যক্তিগত জীবনের নামাজ, রোজা ইত্যাদিতে আল্লাহকে ইলাহ মানলাম, পক্ষান্তরে জাতীয় জীবনে অন্য কাউকে ইলাহ মানলাম- এটা স্পষ্টত শিরক, যার ব্যাপারে আল্লাহ কোর’আনে বলেন, তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। (বাকারা: ৮৫)

চৌদ্দশ’ বছরের কালপরিক্রমায় বর্তমানে এসে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে তওহীদ ত্যাগ করার ফলে রসুলের সেই জাতি আজ আর নেই। সেই এক জাতি আজ হাজারো ফেরকা, মাজহাব, দল, উপদল, তরিকাতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অন্যান্য জাতির গোলামে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য জাতিরা আজ তাদের প্রতিটি ভূখণ্ডকে একটি একটি করে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তারা হচ্ছে উদ্বাস্তু। পরিণত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতিতে। তারা আজ অন্যান্য সকল জাতির ঘৃণার পাত্র। ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহকে বিশ্বাস করে, সালাহ করে, সওম পালন করে, হজ করে, যাকাত দিয়ে তারা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে মুসলিম, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী, কিন্তু বাস্তবে তারা আত্মসমর্পণ করে আছে পশ্চিমা বস্তুবাদী দাজ্জালীয় সভ্যতার কাছে, যাবতীয় অন্যায়-অবিচারের কাছে। এখন জাতিকে সর্বপ্রথম এই সূত্রে অঙ্গিকারবদ্ধ হতে হবে যে আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানবো না। তাহলে এ জাতি পুনরায় শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে, সমৃদ্ধ হবে। শিক্ষাতে, প্রযুক্তিতে সর্বদিক দিয়ে এগিয়ে থাকবে এবং পরিণত হবে একটি শিক্ষকের জাতিতে যেমন রসুল গঠন করে গিয়েছিলেন তওহীদের ভিত্তির উপরে। আমরা হেযবুত তওহীদ এই লক্ষ্যেই সংগ্রাম করে চলেছি।

আজ পুরো মানবজাতি সামগ্রিক অন্যায়ের মধ্যে ডুবে রয়েছে, তারা অ্যাটম বোমার তাণ্ডবের ভয়ে আতঙ্কিত, সভ্যতা এসে উপনীত মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। প্রযুক্তিগত একটি ছোট্ট ভুলের কারণেও যে কোনো সময় লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে এই সুন্দর পৃথিবী। জাতিসংঘ রক্ষা করতে পারে নি, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো অধিক সমৃদ্ধ করা হচ্ছে কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন নতুন আইন প্রণিত হচ্ছে, সাজার কঠোরতা বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু অন্যায়-অপরাধও তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সকল তন্ত্রমন্ত্রই আজ ব্যর্থ। এই অবস্থায় হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী মানবজাতির মুক্তির একমাত্র উপায় তওহীদের ঝাণ্ডা তুলে ধরলেন।

আমরা হেযবুত তওহীদ এই একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এক আদম হাওয়ার সন্তান। আমাদের প্রভু একজন, আমাদের জাতি হবে একটি, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে মানুষকে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। মানবজাতি আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান গ্রহণও করতে পারে আবার বর্জনও করতে পারে। উভয় স্বাধীনতাই রয়েছে। কিন্তু অবশ্যই আমরা আমাদের এই সংগ্রাম চালিয়ে যাব এবং মানবজাতি যদি একে গ্রহণ করে তবে অবশ্যই একটি সুন্দর শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে, নয়তো জাতি এ ক্রান্তিকাল থেকে অন্য কোনো উপায়েই মুক্ত হতে পারবে না।

“আপনারা ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু আপনাদের সাড়ে তিন হাত শরীরেই তো ইসলাম নাই?”2019-10-30T05:01:44+06:00

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হেযবুত তওহীদের সদস্যরা যখন আল্লাহর তাওহীদের প্রচারে থাকেন তখন এ প্রশ্নটি প্রায়শই করা হয়ে থাকে। আমরা অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি যে “শরীরে ইসলাম নাই” বলতে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? তারা বলেছেন, ‘আপনাদের দাড়ি নাই, টুপি নাই, পাগড়ি নাই, গায়ে জোব্বা নাই। আগে তো নিজেদের শরীরে ইসলাম কায়েম করতে হবে’? তাদের এ প্রশ্নের প্রেক্ষিতে যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়- দাড়ি, টুপি, পাগড়ি ধারণ না করলে ইসলামের কথা বলা যাবে না এমন কোনো কথা পবিত্র কোরআন-বা হাদিসে উল্লেখ আছে কি? স্বাভাবিকভাবেই এমন কোনো শর্ত আল্লাহ বা রসুল (স.) দেননি। তাহলে এমন প্রশ্ন কেন উঠল?
কারণ গুরুত্বের উলট-পালট। ইসলামের মূল বিষয়বস্তুকে বাদ দিয়ে সুক্ষèাতি-সুক্ষè বিশ্লেষণের ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন যদি জিজ্ঞেস করা হয় ইসলামের উদ্দেশ্য কি? তাহলে ১৫০ কোটি মুসলিমের কাছে অন্ততঃ ভিন্ন ধরনের কয়েক কোটি উত্তর পাওয়া যাবে। তাই আগে আমাদেরকে ইসলামের উদ্দেশ্য কী সেটা উপলব্ধি করতে হবে।
মানবসৃষ্টির সূচনালগ্নে মহান আল্লাহর সঙ্গে ইবলিসের একটি চ্যালেঞ্জ হয়। সেই চ্যালেঞ্জটি বিষয়বস্তু ছিল মানবজাতি পৃথিবীতে শান্তিতে বসবাস করবে, নাকি মারামারি কাটাকাটি হানাহানি, যুদ্ধ, রক্তপাতে লিপ্ত থাকবে? মানুষ যদি শান্তিতে থাকে তাহলে চ্যালেঞ্জে আল্লাহ বিজয়ী হবেন, আর যদি অশান্তি অরাজকতার মধ্যে বাস করে তাহলে ইবলিস বিজয়ী হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ নবী রসুলদের মাধ্যমে জীবনবিধান পাঠালেন। সেটা মানুষের সামগ্রিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করলে সমাজে শান্তি আসবে। আর অন্য জীবনব্যবস্থা দিয়ে জীবন চালালে অশান্তি বিরাজ করবে। নবী-রসুলগণ এভাবে আল্লাহকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে গেছেন।
সত্য দীনের ফল হচ্ছে শান্তি, এ কারণে ইসলামের শাব্দিক অর্থই হচ্ছে শান্তি। আজ ধর্মের নামে বহু বাহ্যিক আড়ম্বর করা হয়, উপাসনা, আনুষ্ঠানিকতার কোনো শেষ নেই, অথচ আমরা আমাদের সামগ্রিক জীবন পরিচালনা করছি আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে। আজ সর্বত্র ঘোর অশান্তি, যার অর্থ আজ ইবলিস বিজয়ী হয়ে আছে। আর আল্লাহর দীন, জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে আর কোনো কিছু দিয়েই আল্লাহকে বিজয়ী করা সম্ভব না। ফলে যে কাজের দ্বারা আল্লাহ বিজয়ী হন না, সমাজে ন্যায়, শান্তি, সুবিচার প্রতিষ্ঠা হয় না, সে কাজের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
এখন চিন্তা করুন, ইসলামের সাথে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জুব্বার সম্পর্ক কোথায়? ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থা অর্থাৎ ব্যক্তি, পরিবার, যুদ্ধনীতি, বাণিজ্যনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুই ইসলাম নামক জীবন-ব্যবস্থার এক একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং যারা আমাদের শরীরে ইসলাম নাই এই প্রশ্ন করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন একটি দেশের সব মানুষ যদি দাড়ি রাখে, টুপি পরে, জোব্বা গায়ে দেয় কিন্তু তাদের সামষ্টিক জীবনের ঐ বিষয়গুলো যদি ইসলামের না হয় তাহলে কি সেই দেশে শান্তি এসে যাবে? আসবে না। কারণ রসুলের (স.) আগমণের পূর্বেও আরবের মানুষগুলো দাড়ি রাখত, টুপি, পাগড়ি, জোব্বা পরত।
প্রকৃতপক্ষে এই শেষ দীনে কোন নির্দিষ্ট পোষাক হতে পারে না, কারণ এটা এসেছে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের জন্য। পৃথিবীর মানুষ প্রচ- গরমের দেশে, প্রচ- শীতের দেশে, নাতিশীতোষ্ণ দেশে, অর্থাৎ সর্বরকম আবহাওয়ায় বাস করে, এদের সবার জন্য এক রকম পোষাক নির্দেশ করা অসম্ভব। তা করলে এ দীন সমস্ত মানব জাতির জন্য প্রযোজ্য হতে পারত না, সীমিত হয়ে যেত। তাই আল্লাহ ও তাঁর রসুল (দ.) তা করেনও নি। বিশ্বনবীর (দ.) সময়ে তাঁর নিজের এবং সাহাবাদের পোষাক-পরিচ্ছদ ও তখনকার আরবের মোশরেক ও কাফেরদের পরিচ্ছদ যেমন একই ধরনের ছিল, বর্তমানেও মুসলিম আরব, খ্রিষ্টান আরব ও ইহুদি আরবরও একই ধরনের পোষাক-পরিচ্ছদ পড়ে। দেখলে বলা যাবে না কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান আর কে ইহুদি। ইসলামে পোশাকের ব্যাপারে আল্লাহ এমন বিশ্বজনীন একটি নীতি দিয়েছেন যা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের জন্যই অনুসরণযোগ্য, সেটা হচ্ছে তিনি পুরুষদের জন্য সতর নির্দ্ধারণ করেছেন নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত (এ নিয়েও মতভেদ আছে)। তবে আল্লাহ বা রসুল কেউই বলে দেন নি যে দেহের এই স্থান কী পোশাক দিয়ে আবৃত করতে হবে।
টুপি ইহুদী, শিখ বা অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুরাও পরেন, তাদেরও দাড়ি আছে, তারাও জুব্বা পরেন, তাদের অনেকেই পাগড়ি পরেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাড়ি, টুপি, জোব্বা সবই ছিল। আল্লাহর অস্তিত্বে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী হিসাবে পরিচিত অনেকেরই দাড়ি ছিল যেমন কার্ল মার্কস, চার্লস ডারউইন, আব্রাহাম লিঙ্কন প্রমুখ। হয়ত বলতে পারেন তাদের টুপি, জুব্বা, পাগড়ি, দাড়ি মুসলিমদের মত না। হ্যাঁ, তা হয়ত ঠিক, কিন্তু টুপির আকার-আকৃতি ও রং নিয়ে, জুব্বার আকার-আকৃতি নিয়ে, পাগড়ির রং, দাড়ির পরিমাণ ইত্যাদি নিয়ে আলেম ওলামাদের মধ্যেও মতভেদ কম নেই। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধে গিয়ে মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়া একপ্রকার মুর্খতা বলেই আমরা মনে করি। গত কয়েক শতাব্দী ধরে এ জাতির দুর্ভাগ্যজনক পরাজয়ের কারণ এগুলিই। অথচ এটা ইতিহাস যে রসুলের সাহাবিদের অনেকেরই গায়ে জোব্বা তো দূরের কথা ঠিকমত লজ্জাস্থান ঢাকার মত কাপড় সংস্থান করতেও কষ্ট হতো।
তবে এতে কোন সন্দেহ নেই, বিশ্বনবী (দ.) তার অনুসারীদের একটা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যরে দাড়ি রাখতে বলেছেন। কেন বলেছেন? এই জন্য বলেছেন যে, তিনি যে জাতিটি, উম্মাহ সৃষ্টি করলেন তা যেমন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি তেমনি বাইরে থেকে দেখতেও যেন এই উম্মাহর মানুষগুলি সুন্দর হয়। আদিকাল থেকে দাড়ি মানুষের পৌরুষ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আছে। সিংহের যেমন কেশর, ময়ূরের যেমন লেজ, হাতির যেমন দাঁত, হরিণের যেমন শিং, তেমনি দাড়ি মানুষের প্রাকৃতিক পৌরুষ সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য নষ্ট না করার উদ্দেশ্যেই দাড়ি রাখার নির্দেশ। দীন প্রতিষ্ঠা করে ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহ জয়ী করার উদ্দেশ্যে নয়।
তবে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জোব্বা ইত্যাদিকে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিষয় বলছি না বা কোন রকম অসম্মানও করছি না। আমরা শুধু বলছি এই দীনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আজ যেমন উল্টো হয়ে গিয়েছে তেমনি এর বাহ্যিক দিকটিও বিকৃত দীনের আলেমরা অপরিসীম অজ্ঞতায় উল্টে ফেলেছেন। দাড়ি রাখা, বাহ্যিক পোষাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি এই দীনের বুনিয়াদী কোন ব্যাপার নয় অর্থাৎ ফরদ নয়, সুন্নত। তাও রসুলের একেবারে ব্যক্তিগত সুন্নত যে ব্যাপারে রসুলাল্লাহ তাঁর একটি অন্তীম অসিয়তে বলেছেন, হে মানবজাতি! আগুনকে প্রজ্জলিত করা হয়েছে এবং অশান্তি অন্ধকার রাত্রির মতো ধেয়ে আসছে। আল্লাহর শপথ, আমি আমার থেকে কোনো কাজ তোমাদের উপর অর্পণ করি নি, আমি শুধু সেটাই বৈধ করেছি যেটা কোরা’আন বৈধ করেছেন, আর শুধু সেটাই নিষেধ করেছি যেটা কোর’আন নিষেধ করেছে। রসুলাল্লাহর প্রথম জীবনীগ্রন্থ সেরাত ইবনে ইসহাকে এ কথাটি আছে। সুতরাং দাড়ি-টুপি (লেবাস) যদি এই দীনের কোন ফরদ বা বুনিয়াদী বিষয় হতো, তবে কোর’আনে একবার হলেও এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হতো। আল্লাহর রসুল এটা সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে- আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক অবস্থা, পোশাক, চেহারা বা সম্পদ কোন কিছুর দিকেই দৃষ্টিপাত করেন না, তিনি দেখেন তোমাদের হৃদয় এবং তোমাদের কাজ [আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মুসলিম]।
তাই ‘দাড়ি ইসলামের চিহ্ন’, ‘দাড়ি না রাখলে ইসলামের কথা বলা যাবে না’ এ ধারণা সঠিক নয়। সেজন্য হেযবুত তওহীদে কেউ যদি দাড়ি রাখতে চায় আমরা এটুকুই বলি, যদি দাড়ি রাখেন তবে, রসুল যেভাবে দাড়ি রাখতে বলেছেন সেভাবে রাখুন যেন সুন্দর, পরিপাটি (Smart) দেখায়। রসুলাল্লাহর যে কোনো সুন্নাহই কল্যাণকর, তাই ব্যক্তিগত জীবনেও রসুলাল্লাহর যা কিছু অনুসরণ করা হবে তাতে মানুষ কল্যাণ পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আগে কোনটা? আজ সারা পৃথিবীতে কোথাও আল্লাহকে বিধানদাতা হিসাবে মানা হচ্ছে না। মুসলিম নামের এই জনসংখ্যাও পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতাকে বিধাতার আসনে বসিয়ে রেখেছে। এ কারণে আল্লাহর দৃষ্টিতে তারা মোমেন নেই, রসুলে কথা মতে উম্মতে মোহাম্মদীও নেই। কাজেই তারা আগে ফরজ- যা সরাসরি আল্লাহর হুকুম তা পালন করুক। পরে সামর্থ্য মোতাবেক সুন্নত, নফল, মুস্তাহাব পালন করুক কোনো আপত্তি নেই। আল্লাহর রসুল বলেছেন, এমন সময় আসবে যখন মানুষ তাহাজ্জুদ পড়বে কিন্তু ঘুম কামাই করা হবে, সওম রাখবে কিন্তু না খেয়ে থাকা হবে (হাদিস)। রসুলাল্লাহ বর্ণিত সেই সময়টি এখন। যেখানে তাহাজ্জুদ, সওমের মত একনিষ্ঠ আমলও বৃথা যাবে, সেখানে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জোব্বার মত আমল গৃহীত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

উত্তরে: মো. মশিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ

প্রশ্ন-উত্তর: আপনারা মানবতার কথা বলেন তাহলে আপনারা শীতার্তদের, উদ্বাস্তুদের ত্রাণ বিতরণে অংশগ্রহণ করেন না কেন?2018-01-22T12:57:06+06:00

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম:
হেযবুত তওহীদ সমাজ পরিবর্তনের জন্য যে আদর্শটি প্রস্তাব করছে তা হচ্ছে প্রকৃত ধর্ম। সুতরাং প্রতিষ্ঠিত বিকৃত ধর্মের ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসীরা আমাদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে অনেক প্রশ্ন করে থাকেন। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করি তাদের সবার উত্তর দিতে। এই প্রশ্নকারীদের মধ্যে হেযবুত তওহীদের অনেক সদস্যও যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন হেযবুত তওহীদের বাইরের অনেক মানুষ। আমি এই লেখার মধ্যে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেব যেগুলো অনেকের মনেই রয়েছে। হেযবুত তওহীদের একজন সমর্থক আমাকে বলেছিলেন যে-

প্রশ্ন: আপনারা মানবতার কথা বলেন তাহলে আপনারা শীতার্তদের, উদ্বাস্তুদের ত্রাণ বিতরণে অংশগ্রহণ করেন না কেন?

উত্তর: অনেকই হেযবুত তওহীদকে এই প্রশ্নটি করে থাকেন। তাদের অবগতির জন্য প্রথমেই জানাচ্ছি যে আমরা হেযবুত তওহীদ সাধ্যমত ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ করি কিন্তু সেগুলো আমরা প্রচার করি না কারণ দানের বিষয়টি প্রচার করার বিষয় না। আল্লাহর রসুল বলেছেন এমন ভাবে দান করা উচিত যেন ডান হাত দান করলে বাম হাত টের না পায়।
আমরা যদি কোন দুর্যোগে আক্রান্ত হই তবে তার থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারকে সর্বপ্রথম ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কারণ একটি দেশ সরকার সে দেশের যে কোন সমস্যা মোকাবেলার জন্য দায়বদ্ধ। আমরা প্রতিবছর সরকারকে নানা রকম কর প্রদান করি যার মূল উদ্দেশ্যই হলো সরকার যাতে আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে পারে ও সংকটকালীন সময়ে সেই অর্থ দ্বারা সংকট নিরসন করতে পারে। তাই মূলত শীতার্ত, উদ্বাস্তু, এতিমদের সাহায্য করার কাজ সরকারের। তারাই মূলত দায়বদ্ধ।
কিন্তু এই ত্রাণ প্রেরণের ব্যাপারে আমাদের মতামত ভিন্ন। ধরুন, আমরা কয়েকশো বন্যার্ত, উদ্বাস্তু মানুষকে ত্রাণ দিয়ে আসলাম, রেল স্টেশনে বাসকারী বস্ত্রহীন মানুষটিকে কম্বল দিয়ে আসলাম, গণমাধ্যমে সেটা আবার ফলাও করে প্রচারও করলাম কিন্তু এরপর সারা বছর তার আর কোন খোঁজ নিলাম না, এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নাই। আমাদের কর্মকাণ্ড আপনাদের বুঝতে হবে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নেমেছি যা প্রতিষ্ঠিত হলে কোন মানুষকে রাস্তায় ঘুমাতে হবে না, কোন মানুষকে বাস্তুহারা হতে হবে না, কোন মানুষকে ঠাণ্ডায় কষ্ট করতে হবে না।
আমাদের দেশে যে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রবেশ করেছে পরিসংখ্যান মতে তাদের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। এই ৮ লক্ষ মানুষকে একক কোন মানুষ বা একক কোন দল কিভাবে খাওয়াবে? কতদিন খাওয়াতে পারবে? তাদের শিক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে, তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে যখন একটি পরিবারের খেয়াল রাখতেই অনেকে হিমশিম খায় সেখানে ৮ লক্ষ মানুষের খেয়াল রাখা কোন দল বা ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব। এ দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু এই অপ্রাকৃতিক সমস্যাকে সামাল দেয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রেরও নেই। তাদের যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না দেয়া হয়, তাদের নিজের ভূমিতে যতদিন না তারা চাষাবাদ করছে, ব্যবসা বাণিজ্য করছে ততদিন তাদের বসে বসে খাওয়ানো কোন রাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব নয়।
এমন পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সে জন্যই আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের সবকিছু দিয়ে সংগ্রাম করে চলছি। আমাদের ভাই ও বোনেরা তাদের সমস্ত কিছু কোরবানী করে দিচ্ছেন। অনেকই ভাল চাকরি করতেন কিন্তু তারা সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, মেয়েরা তাদের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করেছেন শুধু মাত্র মানবতার কল্যাণের জন্য। এই কাজ আমরা ছাড়া আর কেউ করে নি। আপনারা যারা লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলে কয়েকজন মিলে ত্রাণ দিয়ে, ছবি তুলে গণমাধ্যমে দিচ্ছেন আর পরের দিন সব ভুলে নিজের ঘরে বসে আছেন। কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিটি সকাল শুরু করি জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করে। সারাদিন কাটে জাতিকে রক্ষার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রামের মাধ্যমে, কারণ আমরা দাঁড়িয়েছি এজন্যই যেন আজ বাদে কাল আমাদের অবস্থাও অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলিম দেশগুলোর নাগরিকদের মতো না হয়, রোহিঙ্গাদের মতো না হয়।
আল্লাহর রসুল যখন এসেছেন তখন তিনি সমাজের দুরাবস্থা রোধের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? তিনি কী এতিমখানা বসিয়েছিলেন? তিনি কী ত্রাণ প্রকল্প চালু করেছিলেন? না। তিনি জানতেন যদি শিকড় থেকে অন্যায়-অত্যাচার-অবিচারের উৎস সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে ন্যায় ও সুবিচারের সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা যায় তবেই সমাজের সকল সমস্যা দূর হবে। তাই রসুল অমানবিক বৃদ্ধাশ্রম বা এতিমখানা বানান নি। তিনি এমন সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে মানুষ অসহায়দের পরিবারভুক্ত করে নিয়েছিল। আপনার ক্যান্সার হয়েছে, তার কারণে আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে এটা আপনাকে বুঝতে হবে। যদি আপনি এখন চুল পড়ে যাওয়ার ঔষধ খান তবে কোন লাভ হবে না। আসল কাজ হবে এই শোষণের সিস্টেমকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে একটি সঠিক সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা। এমন সমাজ আনা যেখানে ত্রাণ দেয়ার পরিস্থিতিই সৃষ্টি হবে না। আমরা সেই সমাজকেই প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছি। আপনাদেরকে ও আমরা আহ্বান করবো আসুন আমাদের সাথে প্রকৃত সংগ্রামে নামুন। সেই সিস্টেম প্রতিষ্ঠায় নিজেদের আত্মত্যাগ করুন যেই সিস্টেমে কেউ উদ্বাস্তু হবে না, কোন এতিমখানা লাগবে না, বৃদ্ধাশ্রম লাগবে না, কেউ শীতে কষ্ট পাবে না।

 

আরও প্রশ্নের উত্তর পড়ুন:

প্রশ্ন: আপনারা পশ্চিমাদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের ক্ষতি করছেন না তো?
প্রশ্ন: এত ধর্ম-কর্ম! তবু কেন অশান্তিতে সমাজ?
প্রশ্ন: আপনারা অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেন। আসলে অপশক্তি বলতে কোন দল বা গোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছেন?
প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদের কথা বলতে গিয়ে আমি প্রশাসনকে ভয় পাই। এই ভীতি থেকে আমি কী করে রক্ষা পেতে পারি?

 

প্রশ্ন: আপনারা পশ্চিমাদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের ক্ষতি করছেন না তো?2018-01-11T12:07:33+06:00

উত্তর: এ ধরনের সন্দেহের কোনোই ভিত্তি নেই, বরং অনেকে আমাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমরা পশ্চিমাদের বিরোধিতা কেন করছি, কেন ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলি না ইত্যাদি। বাস্তবতা হলো- আমরা না পশ্চিমাদের পক্ষে বলছি, না আমরা আরবীয় ইসলামের কথা বলছি। আসলে আমরা মুসলমান জনগোষ্ঠীর ঈমানকে সঠিক পথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছি। যারা অপপ্রচার করেন হেযবুত তওহীদ সরলমনা মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করে দিচ্ছেন, তাদের বোঝা উচিত যে, তাদের ঈমান আমরা কী নষ্ট করব, ঈমান তো বহু আগেই নষ্ট করে দিয়েছে এই জাতির ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি আর পশ্চিমা ষড়যন্ত্রমূলক দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থা। ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের ঈমানকে ছিনতাই করে নিয়ে নিজেরা টাকা কামাচ্ছে, কেউ রাজনীতির মাঠে ছক্কা মারতে চাইছে, কেউ জঙ্গি বানিয়ে আত্মঘাতি হতে উদ্বুদ্ধ করছে। সেখান থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানকে উদ্ধার করতে চাইছি আমরা। এবং সেটাকে সঠিক পথে ব্যবহার করতে চাইছি যেন সে দুনিয়াতেও লাভবান হয়, আখেরাতেও লাভবান হয়। এই যে বলা হয় ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমান, আমরা এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। আগে বলুন ধর্মপ্রাণ কী? ধর্ম যাদের প্রাণের মধ্যে তারাই ধর্মপ্রাণ। আজ মুসলমান জনগোষ্ঠীর কাছে ধর্ম হচ্ছে নামাজ, রোজা, ঈদ, মিলাদ, ওয়াজ, ধ্যান, যিকির-আজকার ইত্যাদি। ধর্ম কি এগুলো? না। মানুষের প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে মানবতা, মনুষ্যত্ব। এটি যার নেই সে ধার্মিক নয়, নামাজ রোযা যতই করুক না কেন। প্রতিটি ধর্মের এক উদ্দেশ্য, মানুষের দুঃখ দুর্দশা, অন্যায়-অবিচার, শ্রেণি-বৈষম্য দূর করে একটি শান্তিময় সমাজ নির্মাণের পথনির্দেশ দান করা। মানবতা বাদ দিয়ে ধর্ম নেই, এটাই ধর্মের আত্মা, এই আত্মাকে বাদ দিলে ধর্ম মৃত। আজ আমরা পৃথিবীতে যে ধর্মগুলো দেখছি সব মৃত, উপাসনাসর্বস্ব। এ কথা আমরা সকল ধর্মগ্রন্থ থেকে প্রমাণ করেছি। মানুষ যখন ধর্মের আত্মার সন্ধান অর্থাৎ মানবতাবোধ ফিরে পাবে তখন সে আর অন্যের বিপদ দেখে চোখ বুঁজে থাকবে না, সে ধর্ম দ্বারা তাড়িত হয়ে ছুটে যাবে- ঠিক যেভাবে এখন সে ধর্মীয় অনুভূতি দ্বারা তাড়িত হয়ে মসজিদে-মন্দিরে ছুটে যায়, মক্কা-মদিনায় ছুটে যায়, তেমনি সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। সে বুঝতে পারবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই আসল এবাদত। আমরা ধর্মের এই সঠিক রূপ আবার তুলে ধরছি। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় আমরা মানুষের ঈমান নষ্ট করছি!
প্রশ্ন হলো কেন আসছে এই অভিযোগ? কারণ আমাদের কথাগুলো ধর্ম সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত ভুল ধারণাগুলোকে চুরমার করে দেয়। এটা তো সবযুগেই হয়েছে। সকল নবী-রসুলই তাঁর সমসাময়িক বিকৃত ধর্মের ধারক বাহকদের মিথ্যার ইমারতে আঘাত করেছেন এবং তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন, বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। ঈমান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ স্বয়ং আমাদের নবী মোহাম্মদ (দ.) এর বিরুদ্ধেও উঠেছিল। আল্লাহর অশেষ শোকর, এ অভিযোগটি আমাদের বিরুদ্ধেও করা হয়। এ বিষয়ে আমাদের কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু করা হলে তার সমালোচনা হবে এটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি স্রষ্টার দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বললে বা আচার-আচরণ করলে, সেটারও সমালোচনা করা স্বাভাবিক এবং করা কর্তব্য। আমরা সেটাই করছি। আমরা শত শত বিষয়ে প্রমাণ দিচ্ছি যে ধর্মব্যবসায়ীরা যা বলছেন ও করছেন তা আল্লাহর সংবিধান তথা কোর’আন হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারাই ঈমানদার মানুষকে দিয়ে অবৈধ কাজ করাচ্ছে, তাদেরকে জাহান্নামের দিকে চালিত করছে। তাদের কাজের ফলে মানুষ ধর্ম থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, আল্লাহ-রসুলকে গালাগালি করছে। সুতরাং আমরা ধর্মের অবমাননা করছি না, অবমাননা থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে চাইছি। ধর্মবিশ্বাস বা ঈমানকে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে চাইছি।

আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছেন, আপনারা তাদেরকে জঙ্গি বলছেন কী করে? আপনারা ইসলামের কথা বলেন, তারাও তো ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছেন। তাদেরকে অন্যরা জঙ্গি বলতে পারে, আপনারা বলেন কেন?
প্রশ্ন: আপনারা অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেন। আসলে অপশক্তি বলতে কোন দল বা গোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছেন?
প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদের কথা বলতে গিয়ে আমি প্রশাসনকে ভয় পাই। এই ভীতি থেকে আমি কী করে রক্ষা পেতে পারি?
আপনাদের প্রোগামে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসাবে যারা গিয়েছিলেন তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বিভিন্ন প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। পরবর্তীতে তাদের আপনারা অতিথি হিসাবে পাবেন না।

প্রশ্ন: আপনারা অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেন। আসলে অপশক্তি বলতে কোন দল বা গোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছেন?2018-01-09T12:27:16+06:00

উত্তর: ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বই হচ্ছে মানবসমাজের শ্বাশ্বত ইতিহাস। এই দ্বন্দ্ব সত্য হচ্ছে শুভশক্তি আর মিথ্যা হচ্ছে অপশক্তি। যাবতীয় সত্য এসেছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে, সত্যের ফল হচ্ছে শান্তি, ঐক্য, সম্প্রীতি, মানবতা। পক্ষান্তরে মিথ্যার ফল হচ্ছে অশান্তি, অনৈক্য, বিদ্বেষ ও পাশবিকতা। সুতরাং কোনো স্বার্থের দ্বারা প্রণোদিত হয়ে যারাই মিথ্যার পক্ষ অবলম্বন করে, মিথ্যার বিস্তার ঘটায় তারাই অপশক্তি। তারা মানবসমাজের অশান্তির কারণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, যারা ধর্মের প্রকৃত সত্যগুলোকে গোপন করে এবং ধর্মকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে তারা সমাজে মিথ্যার বিস্তার ঘটায়। সুতরাং তারা বড় একটি অপশক্তি। যারা জনসেবার নামে রাজনীতি করেন আর ব্যক্তিগত আয়-উন্নতির জন্য দুর্নীতি, লুটতরাজ করেন তারা একটি বড় অপশক্তি। বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অপশক্তি হচ্ছে দাজ্জাল অর্থাৎ ইহুদি-খ্রিষ্টান বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’, যা আত্মাহীন, আত্মকেন্দ্রিক, জড়বাদী, ভোগবাদী, স্বার্থপর একটি জীবনযাত্রায় মানুষকে অভ্যস্ত করে তুলেছে। পরিণামে মানুষ দিন দিন পশুতে পরিণত হয়েছে। আজ আমাদের ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিহিংসা আর স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে হানাহানি, রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ধর্মব্যবসা ও স্বার্থের রাজনীতি চলছে তার মূল হোতা এই পাশ্চাত্য জড়বাদী সভ্যতা। একেই আল্লাহর রসুল রূপকভাবে বলেছেন যে আখেরি যুগে একটি বিরাট শক্তিশালী দানব আসবে যার এক চক্ষু কানা হবে অর্থাৎ সে শুধু জড়ের দিক, বস্তুর দিক দেখবে, আত্মার দিক দেখবে না। তার কপালে কাফের লেখা থাকবে। কাফের শব্দের তাৎপর্য হচ্ছে সে স্রষ্টার প্রেরিত মূল্যবোধ, ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করবে, তার দ্বারা মানবতার অকল্যাণ হবে, অশান্তি বিস্তার হবে। আমরা এই সব অপশক্তিগুলোর বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানোর কথা বলছি।

প্রশ্ন-উত্তর: যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছেন, আপনারা তাদেরকে জঙ্গি বলছেন কী করে? ….2019-10-30T05:02:03+06:00

প্রশ্ন: যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছেন, আপনারা তাদেরকে জঙ্গি বলছেন কী করে? আপনারা ইসলামের কথা বলেন, তারাও তো ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছেন। তাদেরকে অন্যরা জঙ্গি বলতে পারে, আপনারা বলেন কেন?

উত্তর: আপনি বলছেন যে তারা ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছেন, আমরা কিন্তু সেটা বলছি না। তারা যেটাকে ইসলাম মনে করছে আমরা সেটাকে ইসলামই মনে করি না, বরং আমরা শত শত প্রমাণ দিয়েছি যে সেটা একটি বিকৃত ও বিপরীতমুখী ইসলাম। আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, জঙ্গিবাদ আসলে মানুষের ধর্মীয় চেতনার অপব্যবহার। মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে বহু পন্থায় হাইজ্যাক করা হয়, এটি তারই একটি উপায়। এর দ্বারা ব্যক্তি, জাতি ও সমাজ সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
গত তেরশো বছরে বিকৃত হতে হতে আল্লাহ রসুলের ইসলাম বর্তমানে একেবারে বিপরীত হয়ে গেছে। সবশেষে ইউরোপীয় প্রভুরা এ জাতিকে পদানত করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে এবং আরো বহু প্রকার ষড়যন্ত্র করে এরকম একটা বিকৃত ইসলাম শিক্ষা দিয়ে গেছে। কাজেই কেবল যুদ্ধ করলেই তো হবে না, যেটার জন্য যুদ্ধ সেটা আল্লাহর ইসলাম হতে হবে। এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওটা কখনোই আল্লাহ-রসুলের ইসলাম না। এটা প্রতিষ্ঠা হলে শান্তি পাবে না মানুষ। তালেবানরা শরিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে, সৌদিরা করেছে, ইরান করেছে, আই.এস. করেছে কিন্তু শান্তি আসে নাই। যাদের উপরে সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের আত্মা মুক্তির জন্য ত্রাহিসুরে চিৎকার করে উঠেছে। সুতরাং তারা যতই বলুক যে ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছে আমরা মনে করি তারা বিভ্রান্তির মধ্যে আছে।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে তারা যে প্রক্রিয়ায় প্রচেষ্টা করছেন সেটা অবশ্যই ভুল তরিকা। আল্লাহ্র রসুল এভাবে করেন নি। তারা এখানে-ওখানে বোমা মেরে, আতঙ্ক সৃষ্টি করে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, গাড়িতে বোম মেরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছেন। কিন্তু এসব করে তারা আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, জনগণ তাদেরকে ভালোবাসে নি। কিন্তু আল্লাহর রসুল আগে মানুষের মন জয় করেছেন। এই জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড ইসলামের শত্রুরাই লাভবান হচ্ছে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে যে, ‘দেখো, ইসলাম কত খারাপ, এরা জঙ্গি, এরা মানুষদের হত্যা করে, এরা শিশু-নারী হত্যা করছে, এরা কত নিষ্ঠুর’। তাদের অপপ্রচারের ফলে মানুষ এখন জেহাদ ও কেতালকে ঘৃণা করছে, ইসলামকে ঘৃণা করছে। ইসলাম ধর্মকে মানবতাবিরোধী, নৃশংস-বর্বর, অযৌক্তিক ইত্যাদি বলে ইসলামকে উপস্থাপন করছে। আমাদের কথা হলো, এই জঙ্গিবাদ প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের একটি পাতানো ফাঁদ বা পাতানো খেলা মাত্র। যারা ইসলামকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসে এমন হাজার হাজার কিংবা লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পাতানো এই ফাঁদে পা দিয়েছে। আফগানিস্তানের রণাঙ্গন, সিরিয়ার রণাঙ্গন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গন তার প্রমাণ। আমরা তাদের প্রতি করুণা বোধ করি, তাদের জন্য আমাদের দুঃখ হয় কিন্তু সত্যের খাতিরে আমরা বলতে বাধ্য যে, এই সরলপ্রাণ মানুষগুলোর ধর্মবিশ্বাসকে মানবতার অকল্যাণে এবং ইসলামের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছ পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারী সভ্যতা।
কাজেই ইসলামের নামে যারা অস্ত্র ধরেছে তাদেরকে আমরা জঙ্গি বলে গালাগাল দিচ্ছি না। বরং আমরা জঙ্গিবাদকে ভুল পন্থা বলে চিহ্নিত করছি। যারা এই ভুল পথে পা বাড়িয়েছে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এইপথ ভুল। আপনারা এইপথ ত্যাগ করুন। কারণ এতে আপনারা দুই জীবনেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, আপনাদের দ্বারা মানবজাতিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, ইসলাম তো প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনই না, কারণ ইসলাম আপনাদের কাছে নেই। শুধু শুধু আপনাদের দ্বারা ইসলামের বদনাম হচ্ছে। বরং আপনাদের কর্তব্য হলো, আগে প্রকৃত ইসলাম কি তা বুঝুন, তারপর সেই সত্যের ভিত্তিতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন।

প্রশ্ন: আপনাদের পত্রিকাতে পরপর একই বিষয় যায় কেন?2018-01-07T11:57:07+06:00

উত্তর: এই অভিযোগ আমরা প্রায়শই শুনি। পাহাড় সমান মিথ্যার বিরুদ্ধে যখন কোনো সত্যকে তুলে ধরতে হয়, সেই সত্যের পক্ষে মানুষকে উজ্জীবিত করতে হয়, তখন সেই সত্যকে বারবার উত্থাপন করতে হয়, বারবার বলতে হয়, বিভিন্নভাবে নানা আঙ্গিকে উল্লেখ করতে হয়। আমরা ১৩০০ বছরের জমানো জঞ্জালকে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত ১৩‘শ বছর থেকে বিকৃত হতে-হতে আল্লাহর প্রকৃত ইসলাম একেবারে হারিয়ে গেছে। যে বিষয়টার গুরুত্ব নেই, সেটাকে এক নাম্বারে আনা হয়েছে, আর যেটার গুরুত্ব এক নাম্বারে সেটা গায়েব করে দেয়া হয়েছে। বহুত সুন্নত-মোস্তাহাব জাতীয় আমলকে ফরযের উপরে জায়গা দেয়া হয়েছে। কাজেই এখন প্রকৃত ইসলামের কথা বলতে গেলে মানুষ মনে করে, আমরা পুরো ইসলামের বিরুদ্ধেই কাজ করছি। আসলে কিন্তু ঘটনা তা নয়। এখন এই বিষয়টাকে বোঝানোর জন্য বারবার উল্লেখ না করে আমাদের কোনো উপায় নাই। যে মিথ্যাগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রচার মাধ্যম, বই-পত্র, আলেম ওলামাদের ওয়াজে খোতবায় লক্ষ লক্ষবার প্রচার করা হয়েছে, যা মানুষের মনে মগজে স্থায়ীভাবে গেড়ে বসেছে, সেটাকে পরিবর্তন করে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ক্ষীণ কণ্ঠে একটি বিষয় হাজার হাজার বার বললেও কমই বলা হবে।
দ্বিতীয় কথা হলো, আমাদের পত্রিকাটি প্রচলিত যে মাধ্যমগুলোর দ্বারা পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছায় আমরা সেই মাধ্যম ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের পত্রিকা সাধারণ হকাররাও বিক্রি করেন না, কারণ তাদেরকে যে মূল্যে পত্রিকা দিতে হয়, তার বহুগুণ টাকা আমাদের খরচ করতে হয় পত্রিকা প্রকাশ করতে। অন্যান্য পত্রিকাগুলোর প্রধান আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন, অন্যদিকে আমাদের পত্রিকা বাণিজ্যিক নয়, আদর্শিক। এসমস্ত কারণে আমাদের পত্রিকা আমাদের নিজেদের লোকেরাই অর্থাৎ হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারাই হকারি করে বিক্রি করে থাকেন। এজন্য আজ যে এলাকায় পত্রিকা যাচ্ছে, পরদিন হয়তো সেই এলাকায় পত্রিকা যাচ্ছে না। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের হাতে আমাদের পত্রিকা পড়ছে। দেখা গেল একই আর্টিকেল বা বিষয়বস্তু একজনে পেলেন আরেকজনে পেলেন না। এজন্য আমাদেরকে বারবার দিতে হচ্ছে। আর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তির কথা যদি বলেন তাহলে আল্লাহর পবিত্র কোর’আন সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। এটা গুরুত্বের উপর নির্ভর করে। কাজেই বারবার দেয়াটা দোষের কিছু না।

আপনাদের বক্তব্য সবই বুঝলাম। মুসলমানরা তাদের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছে, ঐক্য নষ্ট করে বিভক্ত হয়ে গেছে, এমনকি তওহীদের চুক্তি থেকেও সরে গেছে। কিন্তু এখন তাদের করণীয় কী?2017-12-15T08:55:08+06:00

দেখুন লক্ষ্য হারিয়ে বিভক্ত হয়ে এবং তওহীদ থেকে বহির্গত হয়ে এই জাতির জীবনে যে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব নেমে এসেছে তা থেকে বাঁচার জন্য অনেকে অনেকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার চেষ্টা করছেন, কেউ দলগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এই অপমানের জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় অনেকে নিজের মুসলিম নাম-পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টাও করছেন। ইউরোপ-আমেরিকার কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কাউকে বিয়ে করছেন, এফিডেভিট করে প্রয়োজনে নিজের নাম পরিবর্তন করছেন। তাও যদি মুসলিম হয়ে জন্মগ্রহণের ‘লজ্জা’ থেকে বেরিয়ে আসা যায়! কথা হলো, এভাবে কি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব? এতে কি মুক্তি আসবে? আমি বলব, না; এই চেষ্টা আমাদেরকে মুক্তি এনে দিতে পারবে না। আমাদেরকে বাঁচতে হলে মুসলিম পরিচয় নিয়েই বাঁচতে হবে,  ইসলামকে ধারণ করেই বাঁচতে হবে। ভিন্ন কোনো প্রচেষ্টা আমাদেরকে মুক্তি এনে দিতে পারবে না।
একই সাথে দুই মালিকের দাসত্ব করা যায় না। ইউরোপীয়রা মুসলিম ভূ-খণ্ডগুলো দখল করার পর তাদের উপর নিজেদের শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দিল। এভাবে এই মুসলিম নামক জাতি আল্লাহর দাসত্ব থেকে সরে এসে কার্যত ইংরেজদের দাসত্ব করতে লাগল। আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে তাদের হুকুম-বিধান নিজেদের জীবনে গ্রহণ করে নিতে বাধ্য হলো। আমরা মুসলমানরা ইংরেজ শাসকদের তৈরি আইন, তাদের তৈরি বিচারব্যবস্থা, শাসন পদ্ধতি, সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, অনৈক্য ও হানাহানির রাজনৈতিক সিস্টেম সবকিছু গ্রহণ করে নিলাম। আদর্শ হিসাবে রসুলাল্লাহকে (সা.) বাদ দিয়ে আমরা গ্রহণ করে নিলাম আব্রাহাম লিংকন, কার্লমার্কস, লেনিন, ম্যাকিয়েভেলি, হ্যাগেল, এ্যাঙ্গেল প্রমুখদেরকে। আমরা গোলাম হয়ে তাদের সমস্ত কিছু গ্রহণ করে নিলাম, তাদের তৈরি শিক্ষাব্যবস্থাও গ্রহণ করলাম। তারা বস্তুবাদী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নাস্তিকতার শেকড় গেড়ে দিল আমাদের মননে। আজ বস্তুবাদী শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণিটির বড় একটা অংশই ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, বিদ্বেষপূর্ণ ভাব পোষণ করে। তারা মনে করে কোর’আন মানুষের রচনা করা প্রাচীন একটা গ্রন্থ যা এই যুগে অচল, মধ্যযুগের বর্বর আরবজাতির জন্য এটা প্রয়োগযোগ্য হলেও বিজ্ঞানের এই যুগে এটা চলবে না। জান্নাত, জাহান্নাম, আখেরাত এগুলো সব বানানো গল্প মাত্র। তারা কেবল এটা বিশ্বাসই করে না তারা এটা প্রচারও করে। তারা মনে করে নাস্তিকতার প্রচার করলে পশ্চিমা দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে, সেখানে গিয়ে আরাম-আয়েশে জীবন পার করা যাবে। কিন্তু তাদেরকে বুঝতে হবে নাস্তিক পরিচয় দিয়েও আপনি বাঁচতে পারবেন না। আপনি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-নাস্তিক যাই হোন না কেন, আল্লাহর আযাব আপনার পেছনে পেছনে ধাওয়া করবে। নাম পাল্টে মোহাম্মদ থেকে উইলিয়াম করতে পারেন কিন্তু আপনাকে তারা মুসলিম হিসাবেই দেখবে এবং অবিশ্বাস করবে। গত কয়েক শতাব্দী থেকে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে চালাতে পুরো মানবজাতির মধ্যে একটা ধারণা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে- মুসলিমরা খারাপ, মুসলিমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসী; ইসলাম মৌলবাদি, কূপমণ্ডূক, ধর্মান্ধ, যুক্তিবোধহীন। অন্য সকল জাতিই এখন মুসলিমদেরকে ঘৃণা করে। মুসলিম যেই দেশে থাকবে সেই দেশেই বিপদ। কাজেই এদেরকে রাখা যাবে না, তাদেরকে ইউরোপ-আমেরিকায় প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। আজকে এভাবে সারা পৃথিবীতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বহু প্রপাগাণ্ডা চালানো হয়েছে। এখন তাদের মধ্যে ইসলামের প্রতি, মুসলিমদের প্রতি একটা ভীতি তৈরি হয়ে গেছে। ইউরোপে এটার নাম দিয়েছে ‘ইসলামোফোবিয়া’ অর্থাৎ ইসলামভীতি। ‘মুসলিম! ওরে বাপরে বাপ!!’ কিছুদিন আগে পত্রিকায় এসেছে, পোল্যান্ড এবং জার্মানির কয়েকশত মাইল লম্বা সীমান্ত এলাকার মধ্যে প্রায় পাঁচশত গীর্জায় প্রার্থনা সভা হয়। হাজার হাজার খ্রিস্টান যোগ দেয় ওই প্রার্থনা সভায়। প্রার্থনার মূল বিষয় ছিল- কোনো মুসলিম যেন ইউরোপে ঢুকতে না পারে। একটা এন্টি-ইসলামিক মুভমেন্ট শুরু হয়েছে। ভারতে, ইউরোপে, আমেরিকায়, সর্বত্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এখন অবস্থা এমন যে, মুসলিমরা যেন শুধুই মার খাবে। সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে ‘মুসলিম তাড়াও’ অভিযানে নেমেছে। এখন কোথায় যাবেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে তো এখানে আসলেন, এখানেও যদি শুরু হয় তাহলে কোথায় যাবেন? যাওয়ার জায়গা নেই, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
এই দুর্দশা থেকে এখন বাঁচতে হলে আত্মপরিচয় মুছে দিয়ে লাভ নেই। লা’নত আপনার পিছু পিছু ধাওয়া করবে। বাঁচতে হলে মুসলিম পরিচয় নিয়েই বাঁচতে হবে। আবার ইসলামকে ধারণ করতে হবে। যে পরশ পাথরের ছোঁয়ায় এসে বর্বর আরবরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হয়েছিল সেই পরশ পাথর আবার খুঁজে নিতে হবে। আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে আপনারা কয়েক শতাব্দী থেকে পশ্চিমাদের হুকুম মেনে নিয়েছেন, বাঁচতে পারছেন কোথাও? সুতরাং খ্রিস্টান কিংবা নাস্তিক হয়েও বাঁচতে পারবেন না। এখন আপনারা প্রায় সাত কোটি উদ্বাস্তু। বাড়ি নেই, ঘর নেই, বসবাসের জায়গা নেই। পলিথিন ব্যাগের ভেতর গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। মান-সম্মান, ইজ্জত সব শেষ। কাজেই মুসলিমদেরকে এখন বাঁচতে হলে একটা কথার উপরে তাদেরকে আসতে হবে, আমাদের ইসলাম নিয়ে বাঁচতে হবে, মুসলিম পরিচয়েই বাঁচতে হবে। এখন আমাদেরকে তওবা করতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা ছিলাম আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দা। আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমাদের প্রিয় নবীকে (সা.) পাঠিয়েছিলেন একটা কিতাব দিয়ে, আমরা আল্লাহর হুকুম প্রত্যাখ্যান করেছি। এখন তওবা করে মুসলিমদেরকে এই পরিচয় দিতে হবে যে, আমরা মুসলিম।
এখানে একটা বড় প্রশ্ন হচ্ছে, আজ তো বহু রকমের ‘ইসলাম’ সমাজে চালু আছে, তাহলে আমরা কোন্ ইসলাম গ্রহণ করব? কোন্ ইসলাম আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে মুক্তি দেবে? একেক পীরের একেক ইসলাম, একেক তরিকা। সেখানে গিয়ে আত্মার ঘষা-মাজা কর আর তাদেরকে টাকা দাও। মুসলিম জাতির মুক্তি নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। আবার রাজনৈতিকভাবে যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন ধরন, বিভিন্ন কর্মসূচি, বিভিন্ন রূপরেখা। তাহলে মানুষ কোন্ ইসলাম গ্রহণ করবে? বলার অপেক্ষা রাখে না, যে বিকৃত ইসলাম বর্তমানে দুনিয়াজুড়ে প্রচলিত আছে তা দিয়ে এই জাতি শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হতে পারবে না। যদি পারতো তাহলে আগেই পারতো।
যে ইসলাম মানবজাতির মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করবে, যে ইসলাম সমাজকে দারিদ্র্যমুক্ত করবে, সমৃদ্ধ করবে, যে ইসলাম মানুষের অন্ধত্ব দূর করবে, আমাদের কূপমণ্ডূকতা দূর করবে, যে ইসলাম মানুষকে চিন্তা-ভাবনায় সভ্য করবে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সামরিক শক্তিতে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে, নৈতিক চরিত্রে, নব নব আবিষ্কারে এক কথায় সকল দিক থেকে আমাদেরকে শিক্ষকের আসনে নিয়ে যাবে সেই ইসলাম গ্রহণ করতে পারলে আমরা মুসলিম হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। সেটা কোন্ ইসলাম? আল্লাহর রসুল পৃথিবীতে যে ইসলাম নিয়ে এসেছিলেন সেই ইসলাম। প্রশ্ন হতে পারে, সেই ইসলাম কি এখন পৃথিবীতে আছে? উত্তরে বলব, হ্যাঁ, রসুলাল্লাহর সেই প্রকৃত ইসলাম আবার মহান আল্লাহ অতীব দয়া করে মাননীয় এমামুয্যামানকে তথা হেযবুত তওহীদকে দান করেছেন। শত শত বছরের অজস্র বিকৃতির আড়ালে চাপা পড়ে আছে যে  সহজ-সরল সত্যিকার ইসলাম, হেযবুত তওহীদ মানুষের সামনে সেই ইসলামটিই তুলে ধরছে। এখন এই মুসলিম নামক জাতিকে বাঁচতে হলে একটাই পথ, তাদেরকে এই প্রকৃত ইসলাম ধারণ করতে হবে। আল্লাহর তওহীদে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে তারা আর বাঁচবে না। তারা এতদিন সমাজতন্ত্রী হয়েছে, গণতন্ত্রী হয়েছে, মাওবাদী হয়েছে, লেলিনপন্থী হয়েছে, পশ্চিমাপন্থী হয়েছে কিন্তু তারা বাঁচতে পারেনি। এগুলো করে করে আমরা নিজেরা নিজেরা শত শত ভাগে বিভক্ত হয়েছি। ভূখণ্ডগতভাবে, শরীয়াগতভাবে, আধ্যাত্মিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, এক কথায় সর্বপ্রকারে আমরা বিভক্ত হয়েছি। যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে আগামীতেও আমাদের চোখের সামনে আমাদের নারীরা ধর্ষিতা হবে, আমাদের যুবকেরা বেয়নেটের খোঁচায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে, আমাদের বৃদ্ধ ও শিশুদেরকেও মেশিনগান চালিয়ে হত্যা করা হবে। আমরা কিছুই করতে পারব না। আমাদের ধন-সম্পদ, ঘর-বাড়ি সমস্ত কিছু আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হবে, আমরা অসহায়ের মতো শুধু চেয়ে দেখব, প্রতিরোধ করতে পারব না।

আপনাদের এখানে বলা হয়েছে, দাজ্জাল হচ্ছে পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতা। কিন্তু আমরা জানি, দাজ্জাল বিরাট একটি দানবীয় প্রাণী। আবার বলা হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা জন্ম দিয়েছে দাজ্জাল। কিন্তু কীভাবে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার সাথে একটা প্রাণীর সম্পর্ক থাকতে পারে? তাছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা কি মানব জাতির কোনো কল্যাণে আসছে না?2019-10-30T05:02:10+06:00

দাজ্জাল সম্পর্কে হাদিসে যে অতিকায় দানবের কথা বলা আছে সেটা বর্তমানের পাশ্চাত্য সভ্যতার রূপক বর্ণনা, মাননীয় এমামুয্যামান তাঁর দাজ্জাল বইতে এটা প্রমাণ করেছেন। তাঁর যুক্তিগুলো কেউ খণ্ডাতে পারেন নি, পারবেও না। সংক্ষেপে মূল কথা হচ্ছে, ইউরোপের মধ্যযুগে যখন চার্চ ও রাজতন্ত্রের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, তখন রাজা অষ্টম হেনরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চার্চের ক্ষমতাকে খর্ব করেন এবং রাজাকে চার্চের প্রধান বলে ঘোষণা করেন। সেই থেকে জাতীয় জীবনে ধর্মের আর কোনো গুরুত্ব রইল না, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত হলো।
এর পূর্বে মানুষের ইতিহাস যতদূর জানা যায়, ধর্মের দ্বারাই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, সেই ধর্ম সঠিক হোক আর বিকৃতই হোক। ১৫৩৭ এর পরের রেনেসাঁ যুগের দার্শনিক, সাহিত্যিক ও রাষ্ট্রনীতির কারণে ধর্মহীন একটি জীবনব্যবস্থা সৃষ্টি হলো যাকে কেতাবি ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতা বলা হচ্ছে। পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক যুগে প্রায় সমগ্র বিশ্বে এটি চালু করা হয়। এর কু-প্রভাবে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে গেল যে কোনো উপায়েই হোক অধিক উপার্জন, ভোগবিলাস, বস্তুগত স্বার্থোদ্ধার। একেই বলা হচ্ছে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। অথচ মানুষ দেহসর্বস্ব নয়, তার আত্মাও আছে। তার আত্মিক পরিশুদ্ধির ও চারিত্রিক উৎকর্ষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ধর্মহীন জীবন ব্যবস্থার প্রভাবে ব্যক্তিজীবন থেকেও ধর্ম লুপ্ত হয়ে মানবসমাজে চরম নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি হলো। সর্বত্র বিরাজমান স্রষ্টার ভয়ে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ অপরাধ করে না, কিন্তু স্রষ্টাহীন জীবনব্যবস্থায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেই অপরাধ সংঘটন করে। এভাবে সর্বপ্রকার অপরাধ মাত্রা ছাড়িয়ে গেল। এই যে একদিকে প্রযুক্তির উন্নয়ন, অপরদিকে মনুষ্যত্বের চরম অধঃপতন পৃথিবীতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অবশ্যই মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ ও স্রষ্টার নেয়ামত, কিন্তু আজ এগুলো যতটা না মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বহুগুণ ব্যবহৃত হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে। সংবাদপত্রগুলো দুঃসংবাদে ভরা, রাজনীতি আর মিথ্যা সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে, নিকৃষ্ট চরিত্রের মানুষ সম্মানিত হচ্ছে। ধর্মকে জাতীয় জীবন থেকে নির্বাসন দেওয়ার পরিণামেই এই ভয়ঙ্কর বস্তুবাদী সভ্যতার জন্ম হয়েছে। তাই একে আল্লাহর রসুল দানবের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা মানুষের কোনো উপকারে আসছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। আমাদের কথা হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতা যদি ধর্মহীনতায় পর্যবসিত হয় তাহলে তা মানবজাতিকে আত্মিকভাবে ভারসাম্যহীন করবে, মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আত্মাহীন পশুতে পরিণত হবে- যার প্রমাণ বর্তমান সময়। আর জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য ধর্মকে বিসর্জন করার প্রয়োজন নেই, ধর্মকে বাদ দিলে জ্ঞান বিজ্ঞানের ব্যবহার হয় মানুষের ক্ষতিসাধনে। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, ইসলামের সোনালি যুগে অর্থাৎ ১২৫৮ সনে আব্বাসীয় খেলাফতের পতন পর্যন্ত বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলিমরাই ছিল শিক্ষকের আসনে। ঐ সময়ে ইউরোপে চলছিল মধ্যযুগীয় বর্বর যুগ। আজকের আধুনিক বিজ্ঞানে ইউরোপীয়দের একচেটিয়া আধিপত্য যার ভিত্তি রচনা করে গেছেন মুসলিম বিজ্ঞানীরাই। এটা ইতিহাস যদিও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেগুলো চাপা দেওয়া হয়েছে।

আপনাদের আন্দোলনের বিভিন্ন পদে যারা আসীন আছেন তাদের পদবী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধবাদী সংগঠনের পদবিগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। যেমন আমীর। কথাটা আমীর না হয়ে সেক্রেটারি, সভাপতি ইত্যাদি তো হতে পারত?2017-12-12T10:37:23+06:00

একই কথা। আপনি বাংলায় বা ইংরেজিতে যা বলছেন সেটাই আরবি করলে দাঁড়াচ্ছে আমীর। এ পদবি যে কোনো সংগঠনেই থাকতে পারে। আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধবাদীদের দলের কথা বললেন। ’৭১ সনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি। তাদের সেনাবাহিনীর পদবিগুলো ছিল জেনারেল, মেজর, ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার ইত্যাদি, আমাদের সেনাবাহিনীর পদগুলোও কি তা-ই ছিল না? আজও আমাদের দেশের সেনাবাহিনী এ পদবিগুলোই ব্যবহার করছে। ওটা নিয়ে তো কথা উঠছে না। কেন উঠছে না? কারণ এগুলো পারিভাষিক শব্দ, যে কোনো দেশের সেনাবাহিনী এ পদবিগুলো ব্যবহার করতে পারে। পাকিস্তান আর্মি পদবিটি ব্যবহার করে বলে অন্য কোনো দেশের আর্মি সেটা ব্যবহার করতে পারবে না এটা ভাবা ঠিক নয়। আমীর শব্দটি ইসলামের পরিভাষা, শব্দটি কোর’আনে আছে, খলিফাদেরকেও আমীরুল মো’মেনীন বলা হতো। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক দেশ আছে আমিরাত, সেগুলোতে রাষ্ট্রনায়কের পদবি আমীর। মনে হয় সুচতুরভাবে ইসলামের যে কোনো কিছুর প্রতিই একটা অ্যালার্জি সৃষ্টি করা হয়েছে আমাদের সমাজে।

আপনাদের কর্মসূচির মধ্যে আছে প্রশ্নহীন, শর্তহীন আনুগত্যের কথা। তাহলে কি অন্যায় হুকুমেরও আনুগত্য করতে হবে?2017-12-11T10:09:05+06:00

দেখুন আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রসুল, আমরা হেযবুত তওহীদ সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করি মাত্র। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য কর আর আনুগত্য করো তোমাদের আমীরের (নিসা-৫৯)।’’ আল্লাহর এই কথার প্রতিধ্বনি করে আমীর কেমন হলেও আনুগত্য করতে হবে সে সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেছেন, “আমীর কানকাটা নিগ্রো, ক্রীতদাস, ক্ষুদ্রমস্তিষ্ক হলেও তার আনুগত্য করবে।” কাজেই আনুগত্য হচ্ছে ঈমানী কর্তব্য।
আপনি যদি হেযবুত তওহীদের কর্মসূচি পড়েন তাহলে বুঝবেন এই কর্মসূচি আমাদের নিজেদের তৈরি করে নেওয়া নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া কর্মসূচি যেটা আল্লাহর রসুল তাঁর উম্মতের জন্য রেখে গিয়েছিলেন। তিনি জাতির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি সারাজীবন সেই পাঁচটি কাজ করেছি এবং তোমাদেরকেও সেই পাঁচটি কাজের দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি। সেগুলো হলো- ঐক্যবদ্ধ হবে, (নেতার আদেশ) শুনবে, পালন করবে (অর্থাৎ আনুগত্য করবে), হেজরত করবে এবং সংগ্রাম করবে। যে ব্যক্তি এই ঐক্যবদ্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও সরে যাবে তার গলদেশ থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে যাবে, যদি না সে তওবা করে ফিরে আসে। আর যদি কেউ (এর বাইরে) জাহেলিয়াতের কোনোকিছুর দিকে আহ্বান করে তাহলে সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথরে পরিণত হবে, যদিও সে নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে (আহমদ ইবনে মাজাহ, বাব উল ইমারত, মেশকাত)’। খেয়াল করুন কর্মসূচির তৃতীয় দফাটিই কিন্তু আনুগত্য। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, অন্যসমস্ত কিছু ঠিক থাকলেও একজন মানুষের জ্বাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবার জন্য আনুগত্য না করাটাই যথেষ্ট হতে পারে!
প্রশ্ন হচ্ছে, আনুগত্যের এত প্রয়োজনীয়তা কেন? এই কারণে যে, আনুগত্য ছাড়া কোনো শক্তিশালী জাতিসত্ত্বা গঠন সম্ভব নয়। জনসাধারণ অবাধ্য হলে, কথায় কথায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধাচারণ করলে তাদেরকে দিয়ে মহান কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না এবং জাতির সমস্ত উন্নতি, প্রগতি, গতিশীলতাই রুদ্ধ হয়ে পড়ে। এজন্য ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহর রসুল মূলত এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়েই এক অপ্রতিরোধ্য জাতি গঠন করেছিলেন তাঁর ইন্তেকালের পরে যে জাতির সামনে ঝড়ের মুখে তুলোর মত উড়ে গিয়েছিল তৎকালীন দুইটি সুপার পাওয়ার রোমান ও পারস্য সা¤্রাজ্য। আজও যদি আমরা তেমন একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে চাই তাহলে সেই জাতির সদস্যদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করার পরেই প্রয়োজন হবে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের।
ইবলিশকে যখন আল্লাহ হুকুম দিলেন আদম (আ.) কে সেজদা করার জন্য তখন ইবলিশ অহংকার করে সেজদা করল না অর্থাৎ আনুগত্য করল না। এর ফল কী হলো? তার বহু বছরের আমলসহ আল্লাহ তাকে রাজীম (বহিষ্কৃৃত) করে দিলেন। এই ঘটনা থেকেও আমরা আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর দেওয়া কর্মসূচি থেকে বহির্গত হয়ে আমরা মুসলমানরা আজ এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে আমাদের না আছে ঐক্য, না আছে শৃঙ্খলা, না আছে আনুগত্য। আল্লাহর রসুল এই জাতিকে যে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে গিয়েছিলেন সেই লক্ষ্য বহু শতাব্দী আগেই আমাদের সামনে থেকে হারিয়ে গেছে। লক্ষ্য হারিয়ে আমরা একেক ভাগ একেক দিকে যাত্রা করেছি। তৈরি হয়েছে নানাবিধ ফেরকা-মাজহাব, দল-উপদল। জাতি হয়ে গেছে বিশৃঙ্খল, লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যহীন। এখন এই জাতির নির্দিষ্ট কোনো নেতাই নেই, কে কার আনুগত্য করবে? সুতরাং আনুগত্যও নেই।
এই যে আমরা আনুগত্যের কথা বলছি, প্রথমত এই আনুগত্য কিন্তু ন্যায়-অন্যায় নির্বিশেষে নয়। ইমাম ও আমীর হুকুম করবেন আল্লাহ-রসুলের হুকুম মোতাবেক, সেই হুকুমের আনুগত্য জাতির জন্য বাধ্যতামূলক, কেননা কলেমার চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিম আল্লাহ-রসুলের হুকুম মানতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। দ্বিতীয়ত, আমীরের আদেশের পূর্বে পরামর্শ দেবার বেলায় সবাই কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীন, কাউকে ভয় না করে জাতির কল্যাণ অকল্যাণ চিন্তা করে উন্মুক্তভাবে পরামর্শ সবাই দিতে পারবেন। সেখানে দোষ-ত্রæটি, সমালোচনা সবই করা যাবে। কিন্তু একবার আমীরের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে তখন আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। তখনই শর্তহীন, দ্বিধাহীন আনুগত্য করার প্রশ্ন আসবে। আল্লাহ নিজেই মানুষ সৃষ্টির পূর্বে মালায়েকদের নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি সিদ্ধান্ত দিলেন সকল মালায়েককে যে, তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলিশ সেজদা করল না, অবাধ্য হলো, এর শাস্তি তাকে ভোগ করতে হলো। আল্লাহর অবাধ্যতা যেই করবে তাকেই প্রাকৃতিক নিয়মেই শাস্তি ভোগ করতে হয়। কারণ আল্লাহ তাঁর সমুদয় সৃষ্টিজগত পরিচালনা করছেন এক নিখুঁত শৃঙ্খলা দিয়ে, যেখানেই তাঁর আনুগত্য লঙ্ঘন হবে সেখানেই অশান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই আনুগত্যের জায়গটাতেই আজ এই জাতি ব্যর্থ।

শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ নাগরিক2017-06-20T14:30:52+06:00

১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ রাজধানীর উত্তরায় শুভ উদ্বোধন হলো তওহীদ ফুটবল ক্লাব আন্তঃশাখা ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০১৬-১৭। হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর সভাপতি আলী হোসেনের সভাপতিত্বে রাজধানীর উত্তরা ১৪ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠে গতকাল সকাল ৭টায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ নাগরিক। আর সুস্থ, সুঠাম, বলিষ্ঠ নাগরিক গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি এমন একটি মহতী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর কমিটির সংশ্লিষ্টদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা যা একজন মানুষকে একই সাথে গতিশীল, ক্ষিপ্র, সাহসী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলে, পাশাপাশি হৃদয়কেও প্রফুল্ল, উজ্জীবিত করে তোলে। জাতির অগ্রগতিতে অবদান রাখার গুণাবলি সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা দারুন ভূমিকা পালন করে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে তা যেন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত না হয়, সে ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন হেযবুত তওহীদের এমাম।
উদ্বোধনী দিনে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় উত্তরা শাখা ও মিরপুর শাখার মধ্যে। খেলার প্রথমার্ধে উত্তরা শাখা এক গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্থে সমতায় ফেরে মিরপুর শাখা। নির্ধারিত সময়শেষে ১-১ গোলের সমতায় খেলাটি শেষ হয়। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে অংশ নেয় মতিঝিল শাখা ও কেরানীগঞ্জ শাখা। খেলার প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে যায় মতিঝিল শাখা। দ্বিতীয়ার্থে কোনো পক্ষে আর গোল না হলে ২-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নেয় মতিঝিল শাখা।
অন্যদিকে ১-০ গোলে লালবাগ শাখাকে হারিয়ে দিনের তৃতীয় ম্যাচটি জিতে নেয় রামপুরা শাখা এবং ১-০ গোলে যাত্রাবাড়ি শাখাকে হারিয়ে চতুর্থ ম্যাচটি জিতে নেয় নারায়ণগঞ্জ শাখা। ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ শহীদুল ইসলাম।

আপনারা কি চান যে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবাইকে এক ধর্ম শিখাবেন?2016-12-06T15:14:44+06:00

এক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো, আমাদের নবীজী এসেছেন সমস্ত দুনিয়ার মানুষের জন্য। আল্লাহ বলছেন, “হে মুহাম্মদ (দ.)! ঘোষণা করে দাও, ওহে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি মহান আল্লাহর রসুল (সুরা আরাফ-১৫৮)”। কাজেই তিনি সমস্ত মানব জাতির জন্য রসুল, তিনি রহমাতাল্লিল আলামিন। সমস্ত মানুষকে সুখ-শান্তি দেওয়ার জন্য ওনার আবির্ভাব হয়েছে, আর সুখ-শান্তির প্রথম শর্ত হচ্ছে ঐক্য।
এখন সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা উম্মতে মোহাম্মাদির উপর রেখে যাওয়া আল্লাহর রসুলের দায়িত্ব। এখন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যারা তারা শত-সহস্র বছর থেকে তারা বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন কারণে সংঘাত-সংঘর্ষ করতে করতে আজকের এ পর্যায় এসেছে। হিন্দু দেখতে পারে না মুসলমানদেরকে, মুসলমান দেখতে পারে না হিন্দুকে। তারা একে অপরের ধর্মকে গালাগালি করে। আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা খ্রিষ্টান শব্দটি গালি হিসাবে ব্যবহার করে। আবার পাশ্চাত্যের অনেক দেশে মুসলমানদেরকে হাজার উপায়ে নিগ্রহ করা হয়, থুথু দেওয়া হয়, মেয়েদের হেজাব টেনে খুলে দেওয়া হয়, বাসা ভাড়া দেওয়া হয় না, সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এখন এই পৃথিবীর বাস্তবতার আলোকে আপনি সমস্ত জাতি-গোষ্ঠিীকে এক মঞ্চে, এক প্লাটফর্মে কিভাবে আনবেন? তারা তো কোর’আনকে স্বীকার করে না, নবীকে স্বীকার করে না, আপনারা তাদেরকে স্বীকার করেন না।
আমরা বলতে চাচ্ছি যে, অন্তত কয়েকটা মৌলিক বিষয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। প্রতিটি ধর্মের মূল সত্য হচ্ছে মানবতার কল্যাণ। এটাই সকল ধর্মের শ্বাশ্বত শিক্ষা। এই শিক্ষাকে পরিত্যাগ করে কেউ ধার্মিক হতে পারবে না, সে যতই উপাসনা, পূজা, অর্চনা করুক না কেন। আমরা প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ থেকে মিলগুলো খুঁজে নিয়ে তাদেরকে এক ঐক্যসূত্রে বাঁধতে চাই। আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারি সেজন্য হাজার হাজার গ্রন্থ লেখা হয়েছে, কিন্তু আমরা বলছি, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য একটি লাইনও যদি আমরা পাই, সেটাকে সূত্র ধরে আমাদের আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কিনউত আমরা একটি লাইন না, আমরা হাজার হাজার লাইন উপস্থাপন করছি বাইবেল থেকে, কোর’আন থেকে, বেদ থেকে, গীতা থেকে। আমরা বলেছি যে, সকল নবীই এসেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে, কেতাবগুলিও এসেছে আল্লাহর থেকে যদিও সেগুলো পরবর্তীতে বিকৃত করে ফেলা হয়েছে। কাজেই আপনারা এই কথাগুলো স্বীকার করেন যে; আমরা এক স্রষ্টার সৃষ্টি, এক পিতা-মাতা আদম-হাওয়ার সন্তান, আমাদের নবী-রসুলরা এক আল্লাহর থেকে আসছেন। সকলের শিক্ষাগুলো একই, সেই একই শিক্ষাটা কি? এক কথায়, মানবতার কল্যাণসাধনই স্রষ্টাকে পাওয়ার একমাত্র উপায়।
আসুন না, আমরা এক স্রষ্টার বিধানের অন্তত এই কথাটির উপর ঐক্য হই। আমরা মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করি। যেটা সত্য-হক, সেটার আমরা স্বীকৃতি দেই। আমরা বলি না যে সবাইকে শেষ রসুল মোহাম্মদ (দ.) এর উপর ঈমান আনতে হবে, সবাইকে হিন্দু বা খ্রিষ্টানও বানাতে চাই না, আমরা চাই সবাই যার যার ধর্মের এই একটি শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করুন, তাহলেই মানবজাতি সুখে, শান্তিতে, নিরাপত্তায় সহাবস্থান করতে পারবে, তাদের মধ্য থেকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ দূরীভূত হয়ে যাবে। তারা যার যার জায়গায় থাকুন, যেহেতু তারা ধর্ম পরিবর্তন করবেন না, এখন অন্তত শত্র“তা পরিহার করুন। যে বিষয়গুলোয় মতভেদ নাই, ঐকমত্য আছে সেগুলোতে অন্তত এক হই। এইজন্য অনেকে ভুল বোঝেন যে, আমরা নতুন ধর্ম শেখাতে চাই। না, আমরা চাচ্ছি মূলত মানবতার কল্যাণ, এজন্য মানবজাতির ঐক্য অপরিহার্য।

ঢালাওভাবে আপনারা জাতিকে কাফের, মোশরেক বলছেন। তবে মুমিন কি নেই দুনিয়াতে?2016-12-06T15:13:50+06:00

আমরা ঢালাওভাবে জাতিকে কাফের, মোশরেক বলছি না। আমরা বলছি জাতি কার্যত  কাফের-মোশরেক। এখানে কিন্তু আলেমরা দুটো ভাগ করেছেন, যেমন শেরকের ক্ষেত্রে বলা হয় আমলগত শেরক আর বিশ্বাসগত শেরক। আমরা বলি, জাতির যে ব্যক্তিগণ আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, যারা অন্যান্য বাধ্যতামূলক বিষয় যেমন নবী-রসুল, কেতাব, হাশর, তকদির ইত্যাদিতে বিশ্বাস করেন তারা বিশ্বাসগতভাবে মুমিন দাবি করতে পারেন, কিন্তু তাদের আমল বা কাজকে বিবেচনায় নিলে অর্থাৎ কার্যত তারা কাফের ও মোশরেক ছাড়া কিছুই না। মক্কার কাফেররাও কিন্তু তাদের মত আল্লাহয় বিশ্বাস করতো, নামাজ, রোযা, হজ্ব, কোরবানি ইত্যাদি আমল করত, কিন্তু জাতীয় জীবনে আল্লাহর বিধান মানতো না, তাই তারা কাফের মোশরেক ছিল। একইভাবে এই জাতিটিরও আল্লাহ-রসুলের প্রতি বিশ্বাস থাকা সত্বেও, কার্যত তারা কাফের। কারণ তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও দীনকে প্রত্যাখ্যান করে পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতার তৈরি জীবনব্যবস্থা ও মূল্যবোধকে জাতিগতভাবে বরণ করে নিয়েছে। জাতীয় জীবনে আল্লাহর হুকুম প্রত্যাখান করার কারণে এরা কাফের হয়ে গেছে। এটা আমাদের কথা না, আল্লাহর কথা এবং আল্লাহর রসুল যে কারণে আবু জাহেল, আবু লাহাবদের কাফের বলেছেন সেই একই কারণে আমরা এ জাতিকে কার্যত কাফের ও মোশরেক বলছি।

আপনাদের পত্রিকাতে পরপর একই বিষয় যায় কেন?2016-12-06T15:11:25+06:00

এই একটা অভিযোগ আমরা প্রায়শই শুনি। কিন্তু পাহাড় সমান মিথ্যার বিরুদ্ধে যখন কোনো সত্যকে তুলে ধরতে হয়, সেই সত্যের পক্ষে মানুষকে উজ্জীবিত করতে হয়, তখন সেই সত্যকে বারবার উত্থাপন করতে হয়, বারবার বলতে হয়, বিভিন্নভাবে নানা আঙ্গিকে উল্লেখ করতে হয়। আমরা ১৩০০ বছরের জমানো জঞ্জালকে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত ১৩‘শ বছর থেকে বিকৃত হতে-হতে আল্লাহর প্রকৃত ইসলাম একেবারে হারিয়ে গেছে। যে বিষয়টার গুরুত্ব নেই, সেটাকে এক নাম্বারে আনা হয়েছে, আর যেটার গুরুত্ব এক নাম্বারে সেটা গায়েব করে দেয়া হয়েছে। বহুত সুন্নত-মোস্তাহাব জাতীয় আমলকে ফরযের উপরে জায়গা দেয়া হয়েছে। কাজেই এখন প্রকৃত ইসলামের কথা বলতে গেলে মানুষ মনে করে, আমরা পুরো ইসলামের বিরুদ্ধেই কাজ করছি। আসলে কিন্তু ঘটনা তা নয়। এখন এই বিষয়টাকে বোঝানোর জন্য বারবার উল্লেখ না করে আমাদের কোনো উপায় নাই। যে মিথ্যাগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রচার মাধ্যম, বই-পত্র, আলেম ওলামাদের ওয়াজে খোতবায় লক্ষ লক্ষবার প্রচার করা হয়েছে, যা মানুষের মনে মগজে স্থায়িভাবে গেড়ে বসেছে, সেটাকে পরিবর্তন করে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ক্ষীণ কণ্ঠে একটি বিষয় হাজার হাজার বার বললেও কমই বলা হবে।
দ্বিতীয় কথা হলো, আমাদের পত্রিকাটি প্রচলিত যে মাধ্যমগুলোর দ্বারা পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছায় আমরা সেই মাধ্যম ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের পত্রিকা সাধারণ হকাররাও বিক্রি করেন না, কারণ তাদেরকে যে মূল্যে পত্রিকা দিতে হয়, তার বহুগুণ টাকা আমাদের খরচ করতে হয় পত্রিকা প্রকাশ করতে। অন্যান্য পত্রিকাগুলোর প্রধান আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন যা আমরা বলতে গেলেই একেবারেই পাই না। এসমস্ত কারণে আমাদের পত্রিকা আমাদের নিজেদের লোকেরাই অর্থাৎ হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারাই হকারি করে বিক্রি করে থাকেন। এজন্য আজ যে এলাকায় পত্রিকা যাচ্ছে, পরদিন হয়তো সেই এলাকায় পত্রিকা যাচ্ছে না। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের হাতে আমাদের পত্রিকা পড়ছে। কাজেই একই আর্টিকেল বা বিষয়বস্তু একজনে পেলেন আরেকজনে পেলেন না। এজন্য আমাদেরকে বারবার দিতে হচ্ছে। আর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তির কথা যদি বলেন তাহলে আল্লাহর পবিত্র কোর’আন সম্পর্কেও এই অভিযোগ আছে। এটা গুরুত্বের উপর নির্ভর করে। কাজেই বারবার দেয়াটা দোষের কিছু না।

আপনাদের কর্মকান্ডে মসজিদ কি গুরুত্বহীন মনে করা হয়?2016-12-06T15:08:18+06:00

 আমাদের কর্মকান্ডে মসজিদকে গুরুত্বহীন করা হয় না। পত্রিকাতে আমরা বলেছি, মসজিদের উদ্দেশ্য কি এবং আজানের উদ্দেশ্য কি। উদ্দেশ্যহীন সবকিছুই নিষ্ফল, ব্যর্থ।
প্রথম কথা হলো, মসজিদে আমরা যাই কি-না? মসজিদ নিয়ে আমাদের কোনো নেতিবাচক বক্তব্য নেই। কিন্তু মসজিদ কেমন হওয়া উচিত ছিল সেটা আমরা তুলে ধরছি। মসজিদ হলো মুসলিম জাতির সমস্ত কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনিক, শাসনব্যবস্থা, আইন-কানুন থেকে সালাহ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু মসজিদ। কিন্তু সেই মসজিদ হয়ে গেছে আজকে নি®প্রাণ। শুধু নির্দিষ্ট কয়েক মিনিট নামায পড়ানো হয়, অধিকাংশ সময় তালা মারা থাকে। ওখানে যারা নামায পড়াচ্ছেন, তারা ধর্মের বিনিময়ে টাকা নিচ্ছেন, টাকার বিনিময় নামায পড়াচ্ছেন, আমরা তাদের পেছনে নামায পড়ি না। এজন্যই প্রশ্নটি উঠেছে যে, আমরা মসজিদকে গুরুত্বহীন মনে করি কিনা। কাবাঘর আল্লাহর ঘর, কিন্তু মক্কার কাফের মোশরেকরা এই পবিত্র ঘরে তিনশ ষাটটি প্রতিমা স্থাপন করে একে গৃহকে অসম্মান ও অপবিত্র করেছিল। তারা কাবাগৃহকে নিজেদের ব্যবসার মাধ্যমে পরিণত করেছিল। কোরায়েশ নেতৃবৃন্দ রসুলাল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেন নি এর প্রধান কারণ ছিল তাদের কাবাকেন্দ্রিক ধর্মব্যবসা তাতে বন্ধ হয়ে যাবে। রসুলাল্লাহ সেই মূর্তি অপসারণ করে ধর্মব্যবসায়ীদের হাত থেকে, শেরকের হাত থেকে কাবাকে পুনরুদ্ধার করেন। একইভাবে আজ ধর্মব্যবসায়ীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এই ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। এইজন্য ধর্মব্যবসায়ীরা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে থাকেন। কিন্তু আমরা যে একেবারে মসজিদে যাই না তা নয়, ব্যক্তিগতভাবে সালাহ করার জন্য আমরা প্রয়োজনে মসজিদে যাই, কিন্তু ধর্মব্যবসায়ীরেদ পেছনে পড়ি না, তাদের আগে পড়ি বা পরে পড়ি। তবে যে মসজিদের এমাম সাহেব অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আল্লাহর নাজেল করা সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, হকের পক্ষে অবস্থান নেবেন এবং যিনি ধর্মব্যবসা করবেন না, ধর্মের বিনিময় নিবেন না, টাকা ছাড়া নামায পড়াবেন, এমন এমাম হলে তার পেছনে নামায পড়তে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা আরও খুশি, আনন্দিত হবো। আমরা চাই ঐটাই। সুতরাং আমরা মসজিদ অপছন্দ করি না, কিন্তু দুইটি কারণে আমরা মসজিদকেন্দ্রিক নই। প্রথমত, ইসলামের ধারণা মোতাবেক মসজিদ হবে জাতির সমস্ত কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু, যেটা বর্তমানে নেই। সুতরাং এই মসজিদ ইসলামের প্রকৃত মসজিদ নয়। দ্বিতীয়ত, মসজিদ আজ যাদের দখলে, সেই পেশাদার ধর্মীয় নেতারা মুমিন না, কোনো অবস্থাতেই মুমিন না তারা। মুমিন হতে হবে জান-মাল দিয়ে, যে নেবে সে মোমেন হতে পারবে না। যদি তারা আল্লাহর দেওয়া সংজ্ঞা মোতাবেক মুমিন হন তবে তার পেছনে তাদের পেছনে নামায পড়বো, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে, কোনো ইট-পাথরের ঘর-বাড়িকে নিয়ে কোনো কথা নাই, সেটা দিয়ে কী হচ্ছে? এইটা আসল কথা।

হেযবুত তওহীদের সবাই জন্মসূত্রে মুসলমান কি না?2016-12-06T15:06:42+06:00

না। হেযবুত তওহীদ মানবতার কল্যাণে, পুরো মানবজাতিকে, মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বায়ক। কাজেই ‘হেযবুত তওহীদ’ সবাই মুসলমান ব্যাপারটা তা নয়। এখানে বহু সনাতনধর্মীয় বা বৌদ্ধধর্মীয় ব্যক্তিরও সমর্থন আছে। আমরা আমাদের সেমিনারগুলিতে ‘সকল ধর্মের মর্মকথা – সবার ঊর্ধ্বে মানবতা’ নামক ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখিয়েছি। সেখানে সনাতন ধর্মী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, উপজাতি অনেকেই আমাদের সম্মেলনে এসেছেন এবং দু’হাত তুলে আমাদেরকে সমর্থন জানিয়েছেন, একাত্ম হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি তারাও আমাদের দলভুক্ত। কারণ আমাদের এটি একটি আদর্শিক আন্দোলন। কেউ আমাদের আদর্শের সঙ্গে একমত হলেই তিনি আমাদের সহযাত্রী। আমরা বামপন্থীদের সঙ্গেও কাজ করেছি, তাদের অনেক নেতা-কর্মী আমাদের মিটিংয়ে এসেছেন। তারাও আমাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আমাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করার, সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। কাজেই আমাদের আন্দোলনের সাথে শুধুমাত্র যে মুসলমান, ব্যপারটা তা নয়। সকল ধর্ম, জাতি, বর্ণ এমনকি ধর্ম-অস্বীকারকারীদেরও সমর্থন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যে ডকুমেন্টারি দেখানো হয়, বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকা বিক্রি করা হয়, সেখানেও কিন্তু আমাদের অনেক সনাতনধর্মী ভাইয়েরা উদ্যোগী হয়ে তাদের মহল্লায় বা মন্দিরে আমাদের ডকুমেন্টারি দেখানোর আয়োজন করেছেন। আমাদের পত্রিকাতে অনেক সনাতন ধর্মের ভাই সাংবাদিকতার কাজ করছেন, আমাদের সকল কাজেই সহযোগিতা করছেন। আমরা যে কাজ করছি তা কেবল মুসলমানদের কাজ নয়, এটা মানুষের কাজ।

‘হেযবুত তওহীদ’ এর সবাই নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করে কি না?2016-12-06T15:04:48+06:00

 আক্ষরিক ও প্রায়োগিক অর্থ ধরতে গেলে মুসলিম দাবি করা যায় না। কারণ যারা আল্লাহর আইন, বিধানের আওতাধীন ভূখ-ে বাস করে না তারা পারিভাষিক অর্থে মুসলিম হয় না। মুসলিম আর মুমিন আলাদা। আমাদের বইতে বিস্তারিত আছে, আপনারা পড়ে দেখবেন। মুসলিম হলো যারা আল্লাহর হুকুমকে সসম্মানে তসলিম বা গ্রহণ করে ন্যায়। এখন আর পৃথিবীতে কোথাও আল্লাহর হুকুম নেই। কাজেই মুসলিম হওয়ার কোন সুযোগই নেই। এখন আমরা মুমিন হওয়ার প্রচেষ্টারত। আল্লাহ মুমিনের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, মোমেন শুধু তারাই, যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনে, আর তাতে সন্দেহ পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ বা সংগ্রাম করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ (সুরা হুজুরাত ১৫)। আমরা জীবন ও সম্পদ দিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছি। এই সংগ্রামের ফলে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা হবে, তখন আমরাও মুসলিম হবো, যারা আল্লাহর হুকুমকে সসম্মানে গ্রহণ করবে তারাও মুসলিম হবেন এনশাল্লাহ।

ডকুমেন্টারি দেখানোর আসল উদ্দেশ্য?2016-12-06T15:03:35+06:00

একটাই উদ্দেশ্য, মানুষকে সত্য জানানো, সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে গড়ঃরাধঃব করা, উদ্বুদ্ধ করা। কারণ, এমন অনেক মানুষ আছে যারা লেখা-পড়া জানেন না, পড়তে পারেন না। আমরা পত্রিকায় বহু লিখেছি কিন্তু পড়ার প্রতি অনেকের আগ্রহ কম থাকায় আমাদের বক্তব্য অনেকেই সুস্পষ্টরূপে জানতে পারছেন না। অনেকে অল্প একটু জেনেই বাকিটা বোঝার জন্য নামধারী আলেমদের কাছে দৌঁড়ে যান, আর আলেমরা নিজেদের অবস্থান ও ধর্মব্যবসাকে নিরাপদ রাখার জন্য আমাদের ব্যাপারে ভুল বুঝিয়ে দেন। আমরা অসংখ্য হ্যান্ডবিল দিয়েছি, অনেকে পড়েনই না। ইসলাম-বিদ্বেষী মিডিয়ার অপপ্রচারে যাদের মনোভাব আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে তারা আমাদের হ্যান্ডবিল, বই ইত্যাদি প্রচার করতেও বাধা দেন, বলেন জঙ্গিদের হ্যান্ডবিল, কেউ ধরবেন না, ধরলে পুলিশে ধরবে। তারপরে মোল্লারা অপপ্রচার চালিয়েছে যে, এ হ্যান্ডবিল পড়লে তাদের ঈমান চলে যাবে। বিবিধ কারণে বহু সংখ্যক মানুষ আমাদের কোন হ্যান্ডবিলও পড়েন না, এমামুয্যামানের লেখা কোন বইই তারা পড়েন না। কিন্তু মানুষকে তো জানাইতে হবে আমাদের সম্পর্কে। তখন আমরা এই ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার চিন্তা করলাম। এই যুগটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার। মানুষ এখন পড়ার থেকে শোনে বেশি। সেজন্য আমরা আমাদের এ সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্য দিয়ে ঘরোয়াভাবে আমাদের বক্তব্যটাকে বোঝার মতো করে সংক্ষিপ্ত কিছু ডকুমেন্টারি আমরা নির্মাণ করেছি এবং বিভিন্ন জায়গায় আমরা প্রদর্শন করেছি যাতে মানুষ শোনে এবং বোঝে। এটাই উদ্দেশ্য যে, মানুষকে অধর্মের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অনুপ্রাণিত করা। আর কোনো উদ্দেশ্য নাই।

বর্তমানে এ অপশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় কিভাবে সম্ভব?2016-12-06T15:02:52+06:00

অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন। প্রশ্নকারীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এমামুয্যামান যখন হেযবুত তওহীদ গঠন করেছেন তখন থেকেই তিনি একটি কথা প্রায়ই বলতেন, ‘হেযবুত তওহীদ যে কাজ নিয়ে দাঁড়িয়েছে, দুনিয়াবি হিসাবে এ এক অসম্ভব কাজ। অল্প কিছু মানুষ দাঁড়িয়েছে এই বড় যমুনা নদীর উল্টে দেওয়ার জন্য। আমাদের মত কয়েকজন দরিদ্র্য সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, অস্ত্র নেই, শক্তি নেই, এই আমরা যে দাজ্জালের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি সে দাজ্জাল বর্তমান দুনিয়ার প্রভুর আসনে উপবিষ্ট। তার হাতে রয়েছে বিরাট সামরিক শক্তি, সমস্ত মিডিয়া, বিশাল অর্থ-সম্পদ। কাজেই এত বিরাট অপশক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ অসম্ভব ব্যাপার। ‘হেযবুত তওহীদ’ সেই দাজ্জালের তুলনায় একটা বিন্দু বা একটা ক্ষুদ্র কণার মতো। এই অসম শক্তির মোকাবেলা কী আদৌ সম্ভব?
হ্যাঁ। এই অসম শক্তির মোকাবেলা করতে সক্ষম কেবলমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ। তিনিই আমাদের শক্তি। তিনিই হেযবুত তওহীদের দ্বারা বিরাট দাজ্জালকে পরাজিত করবেন ইনশাল্লাহ। তিনি বলেছেন, “তোমরা হতোদ্দম হয়ো না, নিরাশ হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।” যদি আমরা আল্লাহকে আমাদের সমুদয় জীবন-সম্পদ দিয়ে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাই তাইলে আল্লাহ মুমিনদের প্রতি ওয়াদাবদ্ধ-অঙ্গিকারাবদ্ধ যে তিনি তাদের পৃথিবীময় কর্তৃত্ব দিবেন, এই হলো আল্লাহর ওয়াদা (সুরা নুর ৫৫)। তাছাড়া ২০০৮ সনে যাত্রাবাড়ীতে এমামুয্যামানের ভাষণের মধ্যে দিয়ে আল্লাহ স্বয়ং এক মহান মো’জেজা ঘটিয়েছিলেন, সেখানে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তিনি হেযবুত তওহীদ দিয়ে সমস্ত দুনিয়াময় তার সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করবেন। এটা শুধু আমাদের ঈমান নয়, এটা আমরা জানি, এটা আমাদের ইলমাল ইয়াকীন বা নিশ্চিত জ্ঞান। এমামুয্যামান বলেছেন, “পৃথিবীতে ‘হেযবুত তওহীদ’ দিয়ে সত্যদীন প্রতিষ্ঠা হবে না, হয়ে গেছে। এটা অতীতের মতো সত্য। আল্লাহ এনশাল্লাহ বিজয় করবেন। কারণ ‘হেযবুত তওহীদ’ আল্লাহর। একে অশান্তির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয়ী করার দায়িত্ব আল্লাহর। কীভাবে সম্ভব? ঐ যে বললাম, আল্লাহ করবেন। তবে শর্ত হলো, আমাদের জীবন-সম্পদ দিতে হবে। আমরা আমাদের শর্ত পূরণ করার চেষ্টা করছি।

আপনারা অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেন। আসলে অপশক্তি বলতে কোন দল বা গোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছেন?2016-12-06T15:01:20+06:00

ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বই হচ্ছে মানবসমাজের শ্বাশ্বত ইতিহাস। এই দ্বন্দ্বে সত্য হচ্ছে শুভশক্তি আর মিথ্যা হচ্ছে অপশক্তি। যাবতীয় সত্য এসেছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে, সত্যের ফল হচ্ছে শান্তি, ঐক্য, সম্প্রীতি, মানবতা। পক্ষান্তরে মিথ্যার ফল হচ্ছে অশান্তি, অনৈক্য, বিদ্বেষ ও পাশবিকতা। সুতরাং কোনো স্বার্থের দ্বারা প্রণোদিত হয়ে যারাই মিথ্যার পক্ষ অবলম্বন করে, মিথ্যার বিস্তার ঘটায় তারাই অপশক্তি। তারা মানবসমাজের অশান্তির কারণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, যারা ধর্মের প্রকৃত সত্যগুলোকে গোপন করে এবং ধর্মকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে তারা সমাজে মিথ্যার বিস্তার ঘটায়। সুতরাং তারা বড় একটি অপশক্তি। যারা জনসেবার নামে রাজনীতি করেন আর ব্যক্তিগত আয়-উন্নতির জন্য দুর্নীতি, লুটতরাজ করেন তারা একটি বড় অপশক্তি। বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অপশক্তি হচ্ছে দাজ্জাল অর্থাৎ ইহুদি-খ্রিষ্টান বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’, যা আত্মাহীন, আত্মকেন্দ্রিক, জড়বাদী, ভোগবাদী, স্বার্থপর একটি জীবনযাত্রায় মানুষকে অভ্যস্ত করে তুলেছে। পরিণামে মানুষ দিন দিন পশুতে পরিণত হয়েছে। আজ আমাদের ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিহিংসা আর স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে হানাহানি, রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ধর্মব্যবসা ও স্বার্থের রাজনীতি চলছে তার মূল হোতা এই পাশ্চাত্য জড়বাদী সভ্যতা। একেই আল্লাহর রসুল রূপকভাবে বলেছেন যে আখেরি যুগে একটি বিরাট শক্তিশালী দানব আসবে যার এক চক্ষু কানা হবে অর্থাৎ সে শুধু জড়ের দিক, বস্তুর দিক দেখবে, আত্মার দিক দেখবে না। তার কপালে কাফের লেখা থাকবে। কাফের শব্দের তাৎপর্য হচ্ছে সে স্রষ্টার প্রেরিত মূল্যবোধ, ন্যায়-অন্যায়ের মানদ-কে প্রত্যাখ্যান করবে, তার দ্বারা মানবতার অকল্যাণ হবে, অশান্তি বিস্তার হবে। আমরা এই সব অপশক্তিগুলোর বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানোর কথা বলছি।

হেযবুত তওহীদ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পরেও পুলিশ গ্রেফতার করছে কেন?2016-12-06T12:20:17+06:00

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শুধু তাই নয়, হাইকোর্ট থেকেও নির্দেশনা, রায়, অনুমোদন ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, প্রত্যেকটা আদালতের রায় আছে। পুলিশ, র্যাব সদস্যরা আমাদের বই-পুস্তক যাচাই বাছাইয়ের জন্য সন্দেহবশত জব্দ করছে বিভিন্ন সময়ে, কিন্তু আদালত সেগুলো কিন্তু ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই আপনারা বলতে পারেন যে, সরকার কর্তৃক আমরা অনুমোদিত এবং আমরা প্রতিটা কাজ করি অনুমতি নিয়ে। আমাদের মত এতো অনুমোদন নিয়ে, এতো বিধিবিধান মেনে, সরকারের নিয়ম-নীতি রক্ষা করে, সাংবিধানিক নিয়ম-নীতি রক্ষা করে এদেশে এমন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর দ্বিতীয় কেউ করছে না তা আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। কিন্তু তবুও এই হয়রানি করছে কেন? এখানেই হলো প্রশ্ন।
প্রথমত ভুল প্রচারণা। ধরুণ এক জায়গায় আমাদের হ্যান্ডবিল বিতরণ বা পত্রিকা বিক্রি করা হচ্ছে, কেউ একজন অতি উৎসাহী হয়ে তাদেরকে থামিয়ে থানায় ফোন করে দিল যে, ওখানে জঙ্গিরা হ্যান্ডবিল বিতরণ করছে। শুনেই পুলিশ হাজির। কোনো কথা-বার্তা নাই, তিনজন লোককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে এলো। থানায় সাংবাদিকরা বসেই থাকে ক্রাইম রিপোর্টের আশায়। তারা পুলিশকে তাদের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে বুকে নেমপ্লেট লিখে ছবি তুলে পত্রিকায় প্রকাশ করে দিল যে, হেযবুত তওহীদের তিন জঙ্গি গ্রেফতার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই হয়েছে। জনগণ, সাংবাদিক জানাজানি হয়ে গেছে এই অজুহাতে ৫৪ ধারায় পুলিশ তাদেরকে আদালতে ও হাজতে চালান দিয়েছে, কিছুদিন বাদে ৫৪ ধারা থেকে অব্যহতি চেয়ে তারাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আবার কোনো ক্ষেত্রে গ্রেফতারের পর আমরা থানায় যোগাযোগ করলে ভুল বুঝতে পেরে পুলিশ তাদেরকে থানা থেকেই ছেড়ে দিয়েছে। এইভাবে সন্দেহবাদীদের বা স্বার্থান্বেষীদের অপপ্রচারে, মিথ্যা তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদেরকে প্রশাসন হয়রানি করেছেন।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের মধ্যে এমন অনেক লোক আছেন যারা আদর্শিকভাবে আমাদেরকে সঠিক বলে গ্রহণ করেন নি। হয়তো তারা কোনো না কোনো পীরের অনুসারী ওনারা বা কোনো আলেমের অনুসারী, বা কোনো দলের মতবাদের অনুসারী। আবার অনেকেই আছেন উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে ভালো হওয়ার জন্য, জঙ্গি ধরেছি বলে নিজেদের চাকুরির সুবিধাবৃদ্ধির জন্য ইত্যাদি বিবিধ কারণে আমাদেরকে হয়রানি করেছেন।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর মধ্যে অনেকে আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম বুঝতে সক্ষম হয়েছেন এবং এনশা’আল্লাহ অন্যরাও অচিরেই বুঝবেন। ফলে এখন হয়রানির মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। আমাদেরকে হয়রানি করার পেছনে প্রধানত দু’টি শ্রেণির অপপ্রচার দায়ী- ধর্মব্যবসায়ী ও ইসলামবিদ্বেষী গণমাধ্যম। গণমাধ্যমকর্মীরা বিন্দুমাত্র যাচাই-বাছাই না করে আমাদেরকে জঙ্গি, চরমপন্থী, নিষিদ্ধ, গোপন বলে প্রচারণা চালিয়েছে হাজার হাজার বার। বিষোদগার করার সুবিধার্থে এমামুয্যামানের নাম পর্যন্ত বিকৃত করেছে, আন্দোলনের নাম বিকৃত করেছে, বিভিন্ন নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে, হিজবুত তাহরীর, জেএমবি, হুজি, শিবির ইত্যাদির সঙ্গে হেযবুত তওহীদের নাম মিশিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। জেএমবির সঙ্গে তওহীদ প্রচার করেছে। বিভিন্ন নামি-বেনামি সংগঠনের সাথে..তারা অপপ্রচার চালিয়েছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা আছেন; (আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যারা নতুন নতুন নিয়োগ পেয়েছেন) ভালোভাবে এখনও কাজের ওনার অভিজ্ঞতা হয় নাই, আমাদের সংস্পর্শে অনেকে আসেন নাই। ফলে এসমস্তকিছুর মধ্যে উরভবৎবহপব টা কি? পার্থক্য নির্ণয় করতে না পেরে সবগুলিকে এক কাতারে ফেলেছেন। একই রকম আচরণ আমাদের সাথে করেছেন। এর ফলেও আমরা অনেকটাই হয়রানির স্বীকার হয়েছি।

যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছেন, আপনারা তাদেরকে জঙ্গি বলছেন কি করে? আপনারা ইসলামের কথা বলেন, তারাও তো ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছেন। তাদেরকে অন্যরা জঙ্গি বলতে পারে, আপনারা বলেন কেন?2016-12-06T12:18:12+06:00

আপনি বলছেন যে তারা ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছেন, আমরা কিন্তু সেটা বলছি না। তারা যেটাকে ইসলাম মনে করছে আমরা সেটাকে ইসলামই মনে করি না, বরং আমরা শত শত প্রমাণ দিয়েছি যে সেটা একটি বিকৃত ও বিপরীতমুখী ইসলাম। আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, জঙ্গিবাদ আসলে মানুষের ধর্মীয় চেতনার অপব্যবহার। মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে বহু পন্থায় হাইজ্যাক করা হয়, এটি তারই একটি উপায়। এর দ্বারা ব্যক্তি, জাতি ও সমাজ সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
গত তেরশো বছরে বিকৃত হতে হতে আল্লাহ রসুলের ইসলাম বর্তমানে একেবারে বিপরীত হয়ে গেছে। সবশেষে ইউরোপীয় প্রভুরা এ জাতিকে পদানত করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে এবং আরো বহু প্রকার ষড়যন্ত্র করে এরকম একটা বিকৃত ইসলাম শিক্ষা দিয়ে গেছে। কাজেই কেবল যুদ্ধ করলেই তো হবে না, যেটার জন্য যুদ্ধ সেটা আল্লাহর ইসলাম হতে হবে। এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওটা কখনোই আল্লাহ-রসুলের ইসলাম না। এটা প্রতিষ্ঠা হলে শান্তি পাবে না মানুষ। তালেবানরা শরিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে, সৌদিরা করেছে, ইরান করেছে, আই.এস. করেছে কিন্তু শান্তি আসে নাই। যাদের উপরে সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের আত্মা মুক্তির জন্য ত্রাহিসুরে চিৎকার করে উঠেছে। সুতরাং তারা যতই বলুক যে ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছে আমরা মনে করি তারা বিভ্রান্তির মধ্যে আছে।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে তারা যে প্রক্রিয়ায় প্রচেষ্টা করছেন সেটা অবশ্যই ভুল তরিকা। আল্লাহ্র রসুল এভাবে করেন নি। তারা এখানে-ওখানে বোমা মেরে, আতঙ্ক সৃষ্টি করে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, গাড়ীতে বোম মেরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছেন। কিন্তু এসব করে তারা আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, জনগণ তাদেরকে ভালোবাসে নি। কিন্তু আল্লাহর রসুল আগে মানুষের মন জয় করেছেন। এই জঙ্গিদের কর্মকা-ে ইসলামের শত্র“রাই লাভবান হচ্ছে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে যে, ‘দেখো, ইসলাম কত খারাপ, এরা জঙ্গি, এরা মানুষদের হত্যা করে, এরা শিশু-নারী হত্যা করছে, এরা কত নিষ্ঠুর’। তাদের অপপ্রচারের ফলে মানুষ এখন জেহাদ ও কেতালকে ঘৃণা করছে, ইসলামকে ঘৃণা করছে। ইসলাম ধর্মকে মানবতাবিরোধী, নৃশংস-বর্বর, অযৌক্তিক ইত্যাদি বলে ইসলামকে উপস্থাপন করছে। আমাদের কথা হলো, এই জঙ্গিবাদ প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের একটি পাতানো ফাঁদ বা পাতানো খেলা মাত্র। যারা ইসলামকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসে এমন হাজার হাজার কিংবা লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পাতানো এই ফাঁদে পা দিয়েছে। আফগানিস্তানের রণাঙ্গন, সিরিয়ার রণাঙ্গন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গন তার প্রমাণ। আমরা তাদের প্রতি করুণা বোধ করি, তাদের জন্য আমাদের দুঃখ হয় কিন্তু সত্যের খাতিরে আমরা বলতে বাধ্য যে, এই সরলপ্রাণ মানুষগুলোর ধর্মবিশ্বাসকে মানবতার অকল্যাণে এবং ইসলামের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছ পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারী সভ্যতা।
কাজেই ইসলামের নামে যারা অস্ত্র ধরেছে তাদেরকে আমরা জঙ্গি বলে গালাগাল দিচ্ছি না। বরং আমরা জঙ্গিবাদকে ভুল পন্থা বলে চিহ্নিত করছি। যারা এই ভুল পথে পা বাড়িয়েছে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এইপথ ভুল। আপনারা এইপথ ত্যাগ করুন। কারণ এতে আপনারা দুই জীবনেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, আপনাদের দ্বারা মানবজাতিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, ইসলাম তো প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনই না, কারণ ইসলাম আপনাদের কাছে নেই। শুধু শুধু আপনাদের দ্বারা ইসলামের বদনাম হচ্ছে। বরং আপনাদের কর্তব্য হলো, আগে প্রকৃত ইসলাম কি তা বুঝুন, তারপর সেই সত্যের ভিত্তিতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন।

বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে আপনাদের পরিকল্পনা কী?2016-12-06T12:17:03+06:00

যেহেতু আল্লাহ বাংলাদেশ থেকে হেযবুত তওহীদ নামক পবিত্র আন্দোলনের সূচনা করেছেন, তাই বাংলাদেশ আমাদের চোখে বাকি দুনিয়া থেকে আলাদা। এদেশে আমরা জন্ম নিয়ে, দেশের সম্পদে ও প্রতিপালনে লালিত হয়েছি, তাই এদেশের প্রতি আমাদের আত্মিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা চাই এ জাতিটি শাশ্বত ও চিরন্তন সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ হোক। কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা, কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায় তা বোঝার জন্য প্রতিটি মানুষের বিবেকই যথেষ্ট। তারপরও আমরা সবচেয়ে মারাত্মক কয়েকটি অন্যায় যা আমাদের সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে গেছে সেই অন্যায়গুলোকে বিশেষভাবে প্রতিরোধ করতে চাই যেমন জঙ্গিবাদ, স্বার্থের রাজনীতি, ধর্মব্যবসা ইত্যাদি। আমরা চাই মানুষ ধর্ম বলতে বুঝুক মানবতা, এবাদত বলতে বুঝুক দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মোৎসর্গ করা। এই শিক্ষাগুলো এ জাতিকে দেওয়া হলে জাতির বিরুদ্ধে দেশে ও আন্তর্জাতিক অংগনে যে ষড়যন্ত্র চলছে তা রুখে দেওয়া যাবে এবং ষোল কোটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ জাতি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হতে পারবে। একটি অধঃপতিত জাতি থেকে রেনেসাঁ সৃষ্টির জন্য যে আদর্শিক প্রেরণা দরকার তা আমাদের কাছে আছে। আর অন্যায় প্রতিহত করার জন্য যে শক্তি দরকার তা সরকারের কাছে আছে। শুধু শক্তি দিয়ে হবে না, শুধু আদর্শ দিয়েও হবে না। দুটোই একসঙ্গে লাগবে। জাতিকে উন্নতি অগ্রগতির দিকে ধাবিত করার জন্য এবং একটি আদর্শকে গণমানুষের কাছে শিক্ষাব্যবস্থা, গণমাধ্যম প্রভৃতি ব্যবহার করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যা কিছ প্রয়োজন সবই সরকারের কাছে আছে, এবং এটা সরকারেরই কাজ। এই কাজে আমরা চাই সরকারকে আদর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে। রাজনীতি বা রাষ্ট্রক্ষমতা কোনোটাই আমাদের প্রয়োজন নেই, ইচ্ছাও নেই। কারণ দেশের কর্ণধারগণ তিনি যে-ই হোন, যদি সত্যের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তাহলে দেশে শান্তি আসবে, আর সেটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি, হেযবুত তওহীদ কোনোদিন বাংলাদেশে সহিংসতা সৃষ্টি করে নি, করবে না, দেশের কোনো আইনভঙ্গ করে নি, করবে না। কারণ যিনি আমাদের আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, আমরা যাঁর অনুসারী- তিনি এই নীতি নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। তাঁর অবাধ্যতা করলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব এটা আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।
আজকাল তো সবকিছু বস্তুবাদী দৃষ্টিতে বিচার করা হয়, কিন্তু আমরা তা করি না, কারণ আল্লাহ আমাদের দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, হেযবুত তওহীদের পরিচালক ও রক্ষাকর্তা মহান আল্লাহ। তাই কারো দ্বারাই হেযবুত তওহীদের কোনো ক্ষতি হওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বের মানুষের সুখ, দুঃখ নিয়ে ভাবার দায়িত্ব আমাদের আছে, কারণ একদিকে আমরা এই পৃথিবীর মানুষ। অপরদিকে আমরা আল্লাহর মনোনীত আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। আমরা শুধু বিশ্বাস করি না, আমরা জানি যে, হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমগ্র পৃথিবীতে এনশা’আল্লাহ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সিনসিয়ারলি বলছি, সেটা কীভাবে হবে তা আমাদের জানা নেই। আল্লাহ কীভাবে সেটা করবেন আল্লাহই জানেন। হেযবুত তওহীদের ক্ষেত্রে আল্লাহই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। আমরা উপস্থিত সংকট নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ্য সারা দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বড় কাজ কী প্রক্রিয়ায় সিদ্ধ হবে সেটা আমরা জানি না।

আপনাদের বইগুলোতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার যে সামরিক তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে তার আলোকে হেযবুত তওহীদের সামরিক নীতি টু দি পয়েন্টে ব্যাখ্যা করুন।2016-12-06T12:14:46+06:00

আমি টু দি পয়েন্টে উত্তর দিতে চেষ্টা করব কিন্তু যদি বলেন এক কথায় উত্তর দিতে, সেটা পারব না। কারণ ইসলামের প্রতিটি বিষয় নিয়েই প্রচুর কন্ট্রোভার্সি আছে, সেগুলো নিষ্পন্ন করেই আমাদেরকে কথা বলতে হয়, তাই আমাদের কোন একটা বিষয়ই এক কথায় বা এক লাইনে দু-এক শব্দের ভিতর দেওয়া সম্ভব নয়। আপনি এমামুয্যামানের সামরিক নীতি জানতে চেয়েছেন। অ্যাকচুয়ালি এমামুয্যামানের নিজস্ব কোন সামরিক নীতি নেই, তিনি মহানবীর নীতি অর্থাৎ ইসলামের রূপটাকেই তুলে ধরেছেন।
আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক এই সত্যদীনকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার নীতি হচ্ছে জেহাদ। আদর্শিক লড়াই যেকোনো যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা জেহাদের অন্তর্ভুক্ত, এরপর আছে সশস্ত্র যুদ্ধ যাকে কেতাল বলা হয়। ইসলাম প্রতিষ্ঠার নীতি যে জেহাদ তার মধ্যে আদর্শিক লড়াই ও সামরিক লড়াই উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। আদর্শিক লড়াই যে কেউ করতে পারে কিন্তু সশস্ত্র যুদ্ধ ইসলামের নীতি মোতাবেক কেবল সার্বভৌম রাষ্ট্র করতে পারে, ব্যক্তি বা দল সেটা করতে পারে না। করলে তা অবৈধ হবে। কিন্তু আদর্শিক ও সামরিক যুদ্ধ উভয়টাই ইসলামের নীতি, যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট ভূখ-ের জন্য আসে নি, এর আওতা সমগ্র মানবজাতি ও সমগ্র বিশ্ব। উম্মতে মোহাম্মদীর দৃষ্টিভঙ্গিও তাই বিশ্বকেন্দ্রিক হতে হবে। কিন্তু সমগ্র বিশ্বে ইসলাম প্রতিষ্ঠা একবারে হওয়া সম্ভব নয়, যেহেতু তা চিরকালই বিভিন্ন সার্বভৌমত্বের অধীনে খ-িত অবস্থায় আছে। ইসলামে একটি শব্দ আছে আকীদা যার অর্থ ধারণাগতভাবে (ঈড়হপবঢ়ঃঁধষষু)। শেষ নবীর আনীত জীবনব্যবস্থাটি আকীদাগতভাবে সমস্ত দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠার নীতি হলো সামরিক। খেয়াল করলে দেখবেন, এ প্রসঙ্গে প্রতিবার এমামুয্যামান সমস্ত দুনিয়াতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটা আসলে এমামুয্যামানের ব্যবহার না, আল্লাহ কোর’আনে ফিল আরদ কথাটি ব্যবহার করেছেন। সমগ্র পৃথিবীতে, সকল জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে কেবল ইসলামই নয়, যে কোনো আদর্শ বা জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে এই সামরিক নীতি গ্রহণ করতে হয়েছে, সেটা সাম্যবাদই হোক, রাজতন্ত্রই হোক বা গণতন্ত্রই হোক। প্রচার দ্বারা, যুক্তিতর্ক দ্বারা মাহাত্ম্য বর্ণনা করে হয়তো একটি ব্যবস্থা একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সমস্ত দুনিয়া জুড়ে, উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত জনপদে, পাহাড়ে, সমতলে, মরুভূমি-বনাঞ্চল-দ্বীপাঞ্চলের মানুষকে একটি সিস্টেমে আনতে হলে সেটা প্রচারের দ্বারা অসম্ভব। পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে গণতন্ত্র নেই সেখানে পশ্চিমারা গণতন্ত্র আনার নামে সামরিক নীতিই প্রয়োগ করছে। বলতে পারেন এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। তবে প্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনসাধারণকে মোটিভেট করেও কিছু কিছু এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। উদাহরণ: মদীনা। অন্য অনেক এলাকাতেও পরবর্তীতে বিনা যুদ্ধে ইসলাম (শান্তি) প্রতিষ্ঠা করা গেছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যুদ্ধ হয়েছে। তাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপের গুরুত্ব কোনো মুসলিম বা সত্যনিষ্ঠ মানুষ অস্বীকার করতে পারবে না, করলে সে কাফের হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ এটি কোর’আনে বলেছেন। সমস্ত পৃথিবীতে যতক্ষণ একটি মানুষও কষ্টে থাকবে, একটি জনপদেও ফেতনা থাকবে ততক্ষণ উম্মতে মোহাম্মদীর উপর স্রষ্টা কর্তৃক প্রদত্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব শেষ হবে না। এই সত্যটিই এমামুয্যামান তাঁর বইতে তুলে ধরেছেন। সকল নবী ও রসুল এসেছেন মানুষকে অশান্তি থেকে মুক্তি দিতে, তাঁদের জাতির উপরেও সেই একই দায়িত্ব বর্তায়। বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় ঘটলে এ কারণেই জাতিসংঘসহ অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও হস্তক্ষেপ করে, প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপও নেয়, (যদিও তাদের মূল উদ্দেশ্য ভিন্ন)। সুতরাং শান্তির লক্ষ্যে যুদ্ধ সর্বযুগে কর্তব্য বলে স্বীকৃত।
আল্লাহ বলেছেন, সমস্ত পৃথিবীতে সশস্ত্র সংগ্রাম কর যতক্ষণ না ফেতনা দূর হয়ে দীন (শান্তিময় জীবনব্যবস্থা যা ফেতনার বিপরীত) প্রতিষ্ঠিত হয় (সুরা আনফাল ৩৯)। কাজেই এমামুয্যামান বইতে যে কথাটি বলেছেন, এর তাৎপর্য হলো একটা অঞ্চল না, একটা এলাকাতে না, সমস্ত দুনিয়াময় (অষষ ড়াবৎ ঃযব ড়িৎষফ) ন্যায় সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এবং তা সম্পূর্ণরূপে করতে হলে সামরিক ছাড়া আর কোনো ভাবে সম্ভব নয়। আপনি আলোচনা করে মাহাত্ম্য বর্ণনা করে, যুক্তি দিয়ে বই লিখে হয়ত একটি নির্দিষ্ট কিছু লোককে এই সত্যের পথে আনতে পারবেন, কিন্তু সমস্ত দুনিয়ার মানুষকে আনা অসম্ভব। পৃথিবীর কোন মতবাদ এই পর্যন্ত তা পারে নি। সেই জন্য আল্লাহ অতি প্রাকৃতিক, অতি যৌক্তিক এই নীতিটি শান্তি প্রতিষ্ঠার মিশনে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য নির্ধারণ করেছেন আর এমামুয্যামান সেটাই উল্লেখ করেছেন। যারা ইসলামের যুদ্ধকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বলে অপপ্রচার করে, তিনি অকাট্য যুক্তি দিয়ে তাদের দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অহিংস পন্থায় বহুদূর যাওয়া যায়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত যাওয়া যায় না। যেমন ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু এদেশের অধিকাংশ লোকের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব দেয়া হয় নাই। অবশেষে পুরো জাতির ঐক্যবদ্ধ সামরিক মোকাবেলার দ্বারাই পাকিস্তানকে পরাভূত করা গেছে। এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। আমি যেটা বুঝানোর চেষ্টা করছি যে, সমস্ত দুনিয়াময় একটা জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শেষ পর্যন্ত সামরিক নীতি লাগবে। কারণ একটি ছোট এলাকা হলে কথা ছিল, বিষয়টা সারা দুনিয়ার। পুরো দুনিয়াবাসীকে আলোচনা করে, বুঝিয়ে শুনিয়ে একটি সিস্টেমের মধ্যে আনতে পারবে না, মুখের কথায় এত বড় কাজ হবে না, এটা অসম্ভব। কারণ অধিকাংশ মানুষই তাদের অভ্যস্ত বিশ্বাসের প্রতি যুক্তিহীন ও অন্ধ থাকে। বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে একটি আদর্শকে সবাই মেনে নেয় না। বিশেষ করে রাষ্ট্রক্ষমতা কেউ বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দেয় না। পুরো জনগোষ্ঠী ইন্টেলেচুয়াল হলে একটা কথা ছিল। তাই পৃথিবীর সমস্ত আদর্শ যথা গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সবকিছুই সামরিক পন্থাতেই বিজয় লাভ করছে। কাজেই এটা একটি প্রাকৃতিক নীতি, এটা ইসলামেরও নীতি। ইসলামের একটি নাম তাই দীনুল ফিতরাহ বা প্রকৃতিনির্ভর জীবনব্যবস্থা। এই সত্যকে কোনো সত্যনিষ্ঠ মানুষ অস্বীকার করতে পারবে না।

আমরা জানি ইসলামে মূর্তি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না। অথচ আপনারা এ বিষয়ে ভিন্ন মতামত দিয়ে থাকেন, যা আলেমদের মতের সাথে সাংঘর্ষিক। মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে পার্থক্য কী? কখন ভাস্কর্য বৈধতা পায়?2016-12-06T12:12:32+06:00

প্রথমেই একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন যে, ইসলাম হলো একটি সত্য জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগের ফলে আর্থ-সামাজিকভাবে দৃশ্যমান শান্তিময় অবস্থা। যেই দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগের ফলে শান্তি আসবে সেটাই ইসলাম, আর যেটা অশান্তি সৃষ্টি করবে তা ইসলাম নয় অর্থাৎ আল্লাহর মনোনীত নয়। আল্লাহ তাঁর দীন মানবজাতির প্রতি নাযেল করেছেন একটি মাত্র কারণে, আর তা হলো- মানবজাতি যেন অন্যায় অবিচার থেকে বেঁচে একটি শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল সমাজে জীবনযাপন করতে পারে। তাই এই দীনের প্রতিটি আদেশ মানুষের সুখের জন্য এবং প্রতিটি নিষেধ মানুষকে ক্ষতি থেকে, অশান্তি থেকে রক্ষা করার জন্য। এমন কোন আদেশ বা নিষেধ ইসলামে থাকা সম্ভব নয় যেটার সঙ্গে মানুষের ভালো মন্দের কোন সম্পর্ক নেই। যে জিনিস বা যে কাজ মানুষের জন্য অপকারী তা-ই আল্লাহ নিষেধ করেছেন। এই আলোকে আমাদের জানা দরকার, ভাস্কর্য নির্মাণ বা চিত্রাঙ্কন আমাদের জন্য ক্ষতিকর কিনা। এখানে আমাদেরকে একটি বিষয় আরও পরিষ্কার হতে হবে যে, প্রতিমা আর ভাস্কর্য কিন্তু এক নয়। প্রতিমাকে পূজা করা হয়, তার কাছে প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া প্রতিমাকে ভাগ্যবিধাতা, রিজিকদাতা, শক্তিদাতা এমনকি এলাহ বা হুকুমদাতার আসনেও বসানো হয়, যা স্পষ্ট শেরক। প্রতিমা নির্মাণের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অতীতে যে সমাজেই মূর্তিকে বিধাতার আসনে বসানো হয়েছে সে সমাজ পরিচালিত হয়েছে মূর্তিগুলোর পুরোহিতদের সিন্ধান্ত বা ফতোয়া দ্বারা। পুরোহিতদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ধর্মের বিধান বলে স্বীকৃত হয়েছে। বিভিন্ন পুরোহিত বিভিন্ন বিধান, আইন-কানুন, দ-বিধি রচনা করেছে এবং প্রয়োগ করেছে, যাকে কেন্দ্র করে বিবিধ অন্যায়, অবিচার, অশান্তির জন্ম হয়েছে। এ কারণে প্রতিমাপূজা ইসলামে নিষিদ্ধ। অপরদিকে ভাস্কর্য একটি প্রাচীনতম শিল্পকলা। একটি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্পকলা, রুচিবোধের নিদর্শন হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়, যার কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং এই ভাস্কর্য শিল্পের দরুন হাজার হাজার বছর পূর্বের বিভিন্ন সভ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া আজ সহজ হচ্ছে। সুতরাং ইসলামে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ হবার কোনো কারণ নেই। এক কথায়- মানবতার জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় কাঠ-পাথরের প্রতিমা ইসলামে নিষিদ্ধ, কিন্তু ক্ষতিকর না হওয়ায় কাঠ-পাথরের ভাস্কর্য নিষিদ্ধ নয়। কোনটা নিষিদ্ধ কোনটা বৈধ তার মানদ- হচ্ছে মানবতার কল্যাণ অথবা অকল্যাণ।
এখানে একটি বিষয় বলে রাখা দরকার- ইসলামে প্রতিমা নির্মাণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ বটে, তবে তার মানে এই নয় যে, ইসলাম শক্তির জোরে প্রতিমাধ্বংসকে জায়েজ করছে। এমন ধারণা করা ভুল হবে। ইসলামের নীতি হলো ধর্মবিশ্বাসের উপর জোর-জবরদস্তি করা চলবে না। ব্যক্তিগতভাবে মুশরিকরা প্রতিমাপূজা করতে পারে তাতে কারও বাধা দেবার অধিকার নেই। প্রশ্ন করতে পারেন- তাহলে রসুলাল্লাহ ক্বাবাঘরের মূর্তি ভেঙেছিলেন কেন? রসুলাল্লাহ মক্কা বিজয়ের দিন কাবাঘরে অবস্থিত মূর্তি ভেঙেছিলেন। এর কারণ প্রথমত, সেগুলি ছিলো লাত, মানাত, উজ্জা, হোবল ইত্যাদির মূর্তি। আরবের গোত্রগুলি পরিচালিত হতো এই মূর্তিগুলির পুরোহিতদের সিদ্ধান্ত বা ফতোয়া দ্বারা। পুরোহিতদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ধর্মের বিধান বলে স্বীকৃত হতো। এই মূর্তিগুলিকে কেন্দ্র করে তাদের নিজস্ব আইন কনুন, দ-বিধি ইত্যাদি প্রয়োগ করত। অর্থাৎ এক কথায় ঐ মূর্তিগুলিকে তারা বিধাতার আসনে এবং সমাজ পরিচালক বা এলাহের আসনে বসিয়েছিল, যাকে কেন্দ্র করে বিবিধ অন্যায়, অবিচার, অশান্তির জন্ম হতো। কাজেই মহানবী (দ.) এ সমস্ত গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ক্বাবাঘর হচ্ছে পৃথিবীর বুকে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার জন্য পবিত্রতম স্থান, যা আল্লাহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এমন স্থানে সত্য বিরোধীদের কোনো অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে না। কাজেই এই গৃহের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষাও মূর্তিধ্বংসের অন্যতম কারণ ছিল। কিন্তু আমরা যদি তার পরের ইতিহাস দেখি অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম যখন সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার জন্য দুনিয়ার বুকে বেরিয়ে পড়েছেন তখন যে সমস্ত এলাকা বিজীত হয়েছিল, ঐ সমস্ত স্থানে অন্যধর্মের লোকদের উপাস্য মূর্তি, ধর্ম উপাসনালয় ধ্বংস করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনায় যদি বিধর্মীদের কোন মূর্তির অঙ্গহানীও হয়ে থাকে, সাহাবীরা সেগুলিও মেরামত করে দিয়েছেন। ঐ সমস্ত এলাকার মূর্তিগুলি আর জাতীয় পর্যায়ে বিধাতার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলো না কাজেই ঐগুলি ভাঙ্গার প্রয়োজন পড়ে নি। অর্থাৎ ইসলামের নীতি হলো জাতীয়ভাবে চলবে আল্লাহর হুকুম ব্যক্তিগতভাবে যে যার বিশ্বাস স্থাপন করুক তাতে কোনো আপত্তি নেই। ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস পরিবর্তনে কোনরূপ জোরাজুরি চলবে না। এক কথায় ইসলামের নীতি হলো- রাষ্ট্র চলবে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে, কিন্তু ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার উপর (ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারে) ছেড়ে দিতে হবে। সুতরাং বর্তমানে যারা ইসলামের ধুয়া তুলে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের মূর্তি ধ্বংস করছে, এমনকি চূড়ান্ত অজ্ঞতা ও মূর্খতার পরিচয় দিয়ে বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক ভাস্কর্য গুড়িয়ে দিচ্ছে তারা সম্পূর্ণ ইসলামপরিপন্থী কাজ করছে সন্দেহ নেই। এর জন্য তাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

সম্প্রতি হেযবুত তওহীদ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করছে। আমরা যতটুকু জানি, ধর্ম নাচ-গান ইত্যাদিকে বৈধতা দেয় না।2016-12-06T12:10:43+06:00

আমাদের সমাজে শিল্প ও সংস্কৃতির পথেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধর্মের অপব্যাখ্যা। আমাদের সমাজে যারা সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করছেন তাদের অনেকের মধ্যেই একটা দ্বিধা ও অপরাধবোধ আজীবন কাজ করে। কেননা তারা মনে করেন যে, তারা খুব গোনাহের কাজ করছেন। ফলে প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ হচ্ছে না।
আবার অনেক সংস্কৃতিমনা মানুষ ধর্মের নামে চলা কূপম-ূকতাকে মেনে নিতে না পেরে ধর্ম বিদ্বেষী হয়ে গেছেন। তারা দেখছেন ধর্মান্ধরা কীভাবে বোমা মেরে সুপ্রাচীন নান্দনিক ভাস্কর্যগুলো গুড়িয়ে দিচ্ছে, সঙ্গীতানুষ্ঠানে, সিনেমা হলে বোমা হামলা করছে। এসব দেখে ধর্মবিদ্বেষীরা ধর্মকেই গালাগালি করছেন ব্লগে, পত্রিকায়, চলচ্চিত্রে, যা ধর্মপ্রাণ মানুষকে আহত করছে, ধর্মব্যবসায়ীরাও পেয়ে যাচ্ছে দাঙ্গা সৃষ্টি করার সুযোগ। তারা খোদ চলচ্চিত্র, ব্লগ ও শিল্পমাধ্যমকেই প্রতিপক্ষে পরিণত করছে।
এ বিষয়ে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য হচ্ছে, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি বা শিল্প যে কোনো কিছুরই ভালো-মন্দ নির্ভর করে তার ব্যবহারের উপর। শিল্পের নামে অশ্লীলতা, মিথ্যা ও অন্যায়ের প্রসার শুধু ধর্মে নয় বিশ্বের সমস্ত আইনেও নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে, কিন্তু সুস্থধারার শিল্পচর্চা নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আল্লাহর রসুল কি সঙ্গীত, শিল্প-সাহিত্যের প্রতি বিরূপ ছিলেন? না, ইতিহাসের এই ব্যস্ততম মহামানব যাঁর নবী জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে, তাঁর পক্ষে শিল্পচর্চায় মেতে থাকা সম্ভব ছিল না। তথাপি এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি গান শুনেছেন। আরবের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিবসে, বিবাহে, যুদ্ধে সর্বত্র গানের চর্চা ছিল, রসুলাল্লাহ সেগুলোকে উৎসাহিত করেছেন। মিনার এক উৎসবের দিন আবু বকর (রা.) আম্মা আয়েশার (রা.) ঘরে এসে দেখেন দু’টি মেয়ে দফ বা তাম্বুরা সহযোগে গান গাইছে। নবীগৃহে গান-বাজনা দেখে আবু বকর (রা.) কন্যা আয়েশাকে তিরস্কার করতে আরম্ভ করলেন। তখন মহানবী বললেন, ‘আবু বকর! ওদেরকে বিরক্ত করো না, আজ ওদের উৎসবের দিন (বোখারি, মুসলিম)। এমন কি আল্লাহর রসুল নিজে একজন আনসার সাহাবির বিয়ের আসরে গায়ক রাখার হুকুম দিয়েছেন, কেননা আনসারেরা ছিলেন গোত্রীয়ভাবে সঙ্গীতপ্রিয়। অথচ বর্তমানে কেবল হামদ-নাত জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াকেই আলেমগণ বৈধ বলে মনে করে থাকেন। তাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্র“য়ারি বা পহেলা বৈশাখের গান দূরে থাক, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীতও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
কোন ধর্মই শিল্পকলাকে নাজায়েজ করতে পারে না। কেননা স্বয়ং স্রষ্টাই সুর ও নৃত্যকলা সৃষ্টি করেছেন। প্রজাপতির ডানায় তিনি এঁকেছেন মনোমুগ্ধকর আল্পনা। শেষ প্রেরিত গ্রন্থ আল কোর’আনকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন ছন্দবদ্ধ করে। কেবল কোর’আন নয়, যবুর, গীতা, পুরান, ত্রিপিটক ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থও আল্লাহ পাঠিয়েছেন কাব্যময় কোরে। গীতা শব্দের অর্থই তো গান। অনেক আলেম মনে করেন, ইসলামী গান করা বৈধ হলেও সেটা বাদ্য বাজিয়ে গাওয়া যাবে না। কিন্তু ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী তাঁর ‘এহইয়াও উলুমদ্দিন’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, “কোকিলের সুর শোনা যেমন হারাম নয়, তেমনি মানুষের ইচ্ছা মোতাবেক কণ্ঠ নিঃসৃত সুর শ্রবণ করাও হারাম নয়। প্রাণহীন যন্ত্রের সুর এবং প্রাণীর স্বর পৃথক নয়। মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত সুর, বিভিন্ন তারযন্ত্রের ওপর আঘাত বা ঘর্ষণজনিত আওয়াজ, দফ, তবলা বা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজও হারাম নয়”।
আমাদের কথা হচ্ছে, একজন লেখকের কলমের কালী যদি শহীদের রক্তের চেয়ে পবিত্র হতে পারে তবে একজন গায়কের গান যদি মানুষকে মানবকল্যাণে আত্মদান করতে উদ্বুদ্ধ করে, তখন সে গান কেন এবাদত বলে গণ্য হবে না? তাই আল্লাহ যাদেরকে শিল্পপ্রতিভা দান করেছেন তাদেরকে এর হক আদায় করতে হলে এই গুণকে স্বার্থহাসিলের জন্য ব্যবহার না করে মানবতার কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

ধারণা করা হয়, রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা করেছিল ইসলামী চরমপন্থীরা। আমাদের দেশীয় যে সংস্কৃতি সেগুলোকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে অনেকে ঘৃণা ও বর্জন করে থাকেন। তারা তাদের বক্তব্যের পক্ষে ধর্মীয় যুক্তিও উল্লেখ করেন। কিন্তু হেযবুত তওহীদকে আমরা দেখি পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশজ অনুষ্ঠানগুলোতে বক্তব্য দিচ্ছে। ধর্মীয় দল হয়েও ধর্মের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন কীভাবে?2016-12-06T12:09:18+06:00

আমাদের দেশের অনেক আলেম ও মুফতির দৃষ্টিতে চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব ইত্যাদি উদ্যাপন করা প্রকৃতপক্ষে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি, শেরক ও বেদাত। তাদের জ্ঞানের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, এ বিষয়ে আমাদের কিঞ্চিৎ দ্বিমত রয়েছে। দু’টি দিক থেকে বিষয়টি উপস্থাপনের চেষ্টা করছি, (ক) ইসলামের আকীদা, (খ) শরিয়াহ।
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা সমগ্র মানবজাতির উপযোগী করে আল্লাহ রচনা করেছেন। এতে যে বিধানগুলো স্থান পেয়েছে সেগুলো কোনোটাই কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি জনপদের মানুষের একটি নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে যা তাদের ভৌগোলিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিশীল, যা গড়ে ওঠে হাজার হাজার বছরের ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে। ইসলাম কোনো বিশেষ অঞ্চলের সংস্কৃতিকে অন্য অঞ্চলের উপর চাপিয়ে দেয় নি, তেমনি কোনো আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে নিষিদ্ধও করে নি। ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে কেবল অশ্লীলতা, অন্যায় ও আল্লাহর নাফরমানিকে। সে বিচারে আমাদের দেশে আবহমান কাল থেকে চলে আসা নবান্ন উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তি বা পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি কোনো উৎসবই শরিয়ত পরিপন্থী হতে পারে না। তবে উৎসবের নামে যদি অশ্লীলতা, অপচয় ও অন্যায়ের বিস্তার ঘটানো হয়, সেটা অবশ্যই নিষিদ্ধ। কেননা তার দ্বারা মানবসমাজে অশান্তি সাধিত হবে এবং যা কিছুই অশান্তির কারণ তা-ই যে কোনো জীবনব্যবস্থায় নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে। একজন বাংলাদেশি নেতা বাংলায় কথা বলবেন, বাঙালি পোষাক পরবেন এটাই স্বাভাবিক। তেমনি আল্লাহর শেষ রসুল আরবে এসেছেন, তাঁর আসহাবগণও আরবের মানুষ হিসাবে স্বভাবতই আরবীয় সংস্কৃতির পোষাক, ভাষা, আচার-আচরণ, রুচি-অভিরুচি, খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতেন। কিন্তু এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ আমাদের সমাজে ইসলামী সংস্কৃতির নামে আরবীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যেমন: ইসলামের অধিকাংশ আলেমদের সিদ্ধান্তমতে পুরুষের ছতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকতে হবে। এখন কেউ যদি ধুতি পরিধান করে তাহলেও কিন্তু তার ছতর আবৃত হয়। কিন্তু ধুতি পরাকে কি আলেমরা ইসলামী সংস্কৃতি বলে মেনে নেবেন? না। তারা চান মানুষকে তেমন জোব্বা পরাতে যেটা আরবের লোকেরা পরে থাকেন।
বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি বলতে কৃষি সংস্কৃতিই বোঝায়। বাংলার কৃষক ধর্মে হিন্দু বা মুসলিম যেটাই হোক, তার জীবনের আনন্দ, বেদনা, উৎসব, আশা-নিরাশার সঙ্গে ফসল ও ফসলী বছরের নিবিড় বন্ধন থাকবে এ কথা সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়। তাই চৈত্রসংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব ইত্যাদি কৃষিনির্ভর বাঙালির জীবনমানের মানদ-।
আসুন দেখা যাক এই উৎসবগুলো কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ না অবৈধ? শরিয়তের মানদ- হচ্ছে, আল্লাহ নির্দিষ্টভাবে যে বিষয় বা বস্তুগুলোকে হারাম করেছেন তার বাইরে সবই হালাল বা বৈধ। এছাড়া কোনো বিষয় (যেমন একটি উৎসব) হালাল না হারাম তা নির্ভর করে তার উদ্দেশ্য ও ফলাফলের উপর। কোনো কাজের উদ্দেশ্য বা পরিণতি যদি মানুষের অনিষ্টের কারণ হয় তাহলে সেটা কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না। আর যদি তার উদ্দেশ্য হয় মানুষের কল্যাণ তাহলে একে হারাম ফতোয়া দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। আমরা পবিত্র কোর’আনে কৃষি-সংস্কৃতির দিবস উদ্যাপন প্রসঙ্গে আল্লাহর নীতিমালা জানতে পারি। আল্লাহ বলছেন, তিনিই লতা ও বৃক্ষ-উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদ বিশিষ্ট খাদ্যশস্য, জলপাই ও ডালিম জাতীয় ফলও সৃষ্ট করেছেন। এইগুলো একে অন্যের সদৃশ এবং সাদৃশ্যহীন। যখন তা ফলবান হয় তখন তার ফল আহার করবে আর ফসল তোলার দিনে (ইয়াওমুল হাসাদ) এগুলোর হক প্রদান করবে এবং অপচয় করবে না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না (সুরা আন’আম, আয়াত- ১৪১)।
এ আয়াতে তিনটি শব্দ লক্ষণীয়, (ক) ফসল তোলার দিন, (খ) হক আদায় করা, (গ) অপচয় না করা। কোর’আনের প্রসিদ্ধ ইংরেজি অনুবাদগুলোতে (যেমন আল্লামা ইউসুফ আলী, মারমাডিউক পিকথল) ফসল তোলার দিনের অনুবাদ করা হয়েছে ঐধৎাবংঃ ফধু. আয়াতটিতে আমরা কয়েকটি বিষয় পাচ্ছি:
১. ফল বা ফসল তোলার দিন এর হক আদায় করতে হবে। সেই হক হচ্ছে- এর একটি নির্দিষ্ট অংশ হিসাব করে গরিব মানুষকে বিলিয়ে দিতে হবে। ফসলের এই বাধ্যতামূলক যাকাতকে বলা হয় ওশর।
২. যেদিন নতুন ফসল কৃষকের ঘরে উঠবে সেদিন স্বভাবতই কৃষকের আনন্দ হবে। যে কোনো আনন্দই পূর্ণতা পায় অপরের মধ্যে তা সঞ্চারিত করার মাধ্যমে। নতুন ফসল তোলার আনন্দের ভাগিদার যেন গরিবরাও হতে পারে সেজন্য তাদের অধিকার প্রদান করে তাদের মুখেও হাসি এনে দিতে হবে। কিন্তু আল্লাহ সাবধান করে দিলেন এই আনন্দের আতিশয্যে যেন কেউ অপচয় না করে।
আমাদের দেশে ফসল কাটার দিনে আনন্দ করা হয়, বিভিন্ন ফসলের জন্য বিভিন্ন পার্বণ পালন করা হয়। এ আয়াতের প্রেক্ষিতে দেখা গেল এই দিবসগুলোতে উল্লিখিত কাজগুলো করা ফরদ। কেবল ইসলামের শেষ সংস্করণ নয়, মুসা (আ.) এর উপর যে শরিয়ত নাজেল হয়েছিল সেখানেও আল্লাহ বলেন, “তুমি ফসল কাটার উৎসব অর্থাৎ ক্ষেতে যা কিছু বুনেছ তার প্রথম ফসলের উৎসব পালন করবে। বছর শেষে ক্ষেত থেকে ফসল সংগ্রহ করার সময় ফলসঞ্চয় উৎসব পালন করবে” (তওরাত: এক্সোডাস ২৩:১৬)। সুতরাং আল্লাহর হুকুম মোতাবেকই বিভিন্ন জনপদে বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎসব প্রচলিত হয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে যেভাবে দিবসগুলো পালিত হচ্ছে সেটাও সঠিক নয়। ক্রিসমাস, ঈদ, পূজা ইত্যাদি ধর্মীয় উৎসব হলেও বাস্তবে এগুলোর আসল উদ্দেশ্য ধর্মানুরাগ নয়, গরিবের মুখে হাসি ফোটানোও নয়। এগুলোর নিরেট উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক স্বার্থ। পহেলা বৈশাখও তাই। এদিন একটি ৫০০ টাকার ইলিশের দাম হয়ে যায় ১০,০০০ টাকা, যা সেই দরিদ্র কৃষকের ধরাছোঁয়ার সম্পূর্ণ বাইরে থাকে। অপরপক্ষে যারা সারা বছর বার্গার, পিজা খায় তারা এই একদিন মাটির বাসনে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার জন্য হা-পিত্তেশ করেন; যেন একদিনের মাতৃভক্তি, দিন শেষ ভক্তি শেষ। ব্যবসায়ী শ্রেণি ও মিডিয়ার প্রচারণায় ভুলে আমাদের তারুণ্যও উন্মাদনা আর অপচয়ে মত্ত হয়ে যাচ্ছে। বহিঃর্বিশ্বেও এমনই হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার শিনচিলা শহরে প্রতিবছর উদযাপিত তরমুজ উৎসবে হাজার হাজার তরমুজের রস দিয়ে পিচ্ছিল পথ তৈরি করে তাতে স্কি করা হয়। বিভিন্ন দেশে আঙ্গুর, টমাটো ইত্যাদি নিয়েও অপচয়ের মহোৎসব হয়। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন, “খাও, পান কর, কিন্তু অপচয় করো না।… হে রসুল! আপনি বলে দিন, কে হারাম করেছে সাজসজ্জা গ্রহণ করাকে–যা আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন?” (সুরা আরাফ ৩১-৩২)। অর্থাৎ আনন্দ ফুর্তি, সাজগোজ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ আছে যারা দুর্ভিক্ষপীড়িত, আমাদের দেশেও অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। এই মানুষগুলোর হক আছে আল্লাহ প্রদত্ত সকল ফল ও ফসলে, এই নবান্নে, পহেলা বৈশাখে, চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণে। তাদের সেই হক আদায় করা হলেই এই উৎসব হবে পবিত্র দিন। উৎসব আর ঈদ আসলে একই কথা। উৎসবের নামে আজ অর্থের যে নিদারুণ অপচয় হচ্ছে, বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে তা না করে যদি আল্লাহর হুকুম মোতাবেক গরিব-দুখী মানুষকে তাদের অধিকার প্রদান করা হতো, তাহলে এ আনন্দ পূর্ণতা পেত, আর এই উৎসবগুলো এবাদতে পরিণত হতো।

নারী ক্ষমতায়ন সম্পর্কে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী?2016-12-06T12:06:25+06:00

এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলা আগে দু’টি পূর্বসিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানতে হবে –
(১) পারিবারিক জীবনের বিধান রাষ্ট্রে চলে না, উভয় অঙ্গনে আলাদা বিধান লাগবে।
(২) আল্লাহ বিধানের ভারসাম্য এর অপূর্ব বৈশিষ্ট্য। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে ধর্ম অধর্মে পরিণত হয়।
মানবসমাজের ক্রমবিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে এবলিস প্ররোচনা দিয়ে এই দীনের ভারসাম্য বিনষ্ট করেছে। ফলে মানুষ ভুলে গেছে কার কি কর্তব্য ও স্রষ্টা নির্ধারিত দায়িত্ব। দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট না থাকলে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা হতে বাধ্য, যেমন একটি ফুটবল টিমে মাঠের কে কোথায় খেলবে তা ঠিক করা থাকে। অন্যায় অবিচারে মানবজাতি ডুবে গেলে আল্লাহ কোন নবী রসুল পাঠিয়ে সেই ভারসাম্যকে ফিরিয়ে এনেছেন। বর্তমানের ইহুদি-খ্রিস্টান বস্তুবাদী সভ্যতা (দাজ্জাল) মানুষের জীবন থেকে সর্বপ্রকার নৈতিকতার শিক্ষাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে এবং স্রষ্টা ও আখেরাতের ধারণাকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে সমাজে নারী ও পুরুষের কার কী অবস্থান, কার কী দায়িত্ব ও কর্তব্য তা মানুষ একেবারেই ভুলে গেছে। সকল ধর্ম বিকৃত হয়ে যাওয়ার কারণে এ বিষয়ে স্রষ্টার দেওয়া মানদ-ও দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেছে। প্রচলিত বিকৃত ইসলামে নারী পুরুষের সঠিক অবস্থান নিয়ে বিস্তর মতভেদ আছে। তবে সকল আলেমই “সুরা নেসার ৩৪ নং আয়াত”কে ভিত্তি হিসাবে উপস্থাপন করেন।
“আর রেজালু কাওয়্যামুনা আলান্নেসায়ী” – এ আয়াতটিকে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এ আয়াতটির অনুবাদ করা হয়, “পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে।” (সুরা নিসা: ৩৪)
দেখুন, আমরা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে যে কাজের দায়িত্ব দেই, একজন শিশুকে তা দেই না। কারণ তাদের শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা ও সক্ষমতার তারতম্য। তারা উভয়েই একই পরিবারে থাকে কিন্তু উভয়ের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। ঐ ফুটবল টিমের মত, সবাই মাঠেই আছে কিন্তু সবার দায়িত্ব আলাদা। পরিবার হচ্ছে মানবসমাজের ক্ষুদ্রতম সংগঠন। এই আয়াতে ইসলামে নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত পরিবারে কার কী অবস্থান, অধিকার ও কর্তব্য সে সম্পর্কে একটি মূলনীতি ঘোষিত হয়েছে। এই আয়াতে আল্লাহ পুরুষের ক্ষেত্রে বিশেষণ ব্যবহার করেছেন ‘কাওয়্যামুনা’। শাসক, কর্তৃত্বের অধিকারী, আদেশদাতা, ক্ষমতাশালী, নেতৃত্বের অধিকারী, অঁঃযড়ৎরঃু চড়বিৎ ইত্যাদি বোঝাতে আরবিতে আমীর, সাইয়্যেদ, এমাম, সুলতান, হাকীম, মালিক ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ কোন যুক্তিতে এবং কোন ক্ষেত্রে পুরুষকে নারীর উপরে কর্তৃত্বশীল করেছেন তা এই ‘কাউয়ামুনা’ শব্দের মধ্যেই নিহিত রোয়েছে। কাউয়ামুনা শব্দের অর্থ হচ্ছে সুঠাম ও সুডৌল দেহবিশিষ্ট, মানুষের গঠন কাঠামো, ঠেক্না, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, তত্ত্বাবধায়ক, অভিভাবক, শাসক, নেতা (আরবি-বাংলা অভিধান ২য় খ-, পৃ ৫৩১- ই.ফা.বা.)। সুতরাং এই আয়াতের মর্মার্থ হচ্ছে, পুরুষ শারীরিক দিক থেকে নারীর চেয়ে শক্তিশালী, তার পেশী, বাহু, হাড়ের গঠন, মেরুদ- এক কথায় তার দেহকাঠামো নারীর তুলনায় অধিক পরিশ্রমের উপযোগী, আল্লাহই তাকে রুক্ষ পরিবেশে কাজ করে উপার্জন করার সামর্থ্য বেশি দান করেছেন, তাই পুরুষের দায়িত্ব হলো সে পুরুষ শক্তি সামর্থ্য প্রয়োগ করে, কঠোর পরিশ্রম করে রোজগার করবে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ভূমি কর্ষণ করে ফসল ফলিয়ে, শিল্পকারখানায় কাজ করে উপার্জন করবে এবং পরিবারের ভরণপোষণ করবে। এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই পুরুষকে আল্লাহ নারীর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছেন, নারীর অভিভাবক করেছেন। এটা মানব সমাজে বিশেষ করে পরিবারে পুরুষের বুনিয়াদি দায়িত্ব। অপরদিকে নারীদেরকে আল্লাহ সন্তান ধারণের উপযোগী শরীর দান করেছেন, সন্তানবাৎসল্য ও সেবাপরায়নতা দান করেছেন। তাই প্রকৃতিগতভাবেই তাদের মূল কাজ হচ্ছে সন্তানধারণ করা, তাদের লালন-পালন করা, রান্না-বান্না করা এক কথায় গৃহকর্ম করা। সংসদ বাঙ্গালা অভিধানে স্বামী শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে পতি, ভর্তা, প্রভু, মনিব, অধিপতি, মালিক। আল্লাহর একটি সিফত হচ্ছে রাব্বুল আলামীন বা বিশ্বজগতের প্রতিপালক। আল্লাহ যেমন কোন প্রাণী সৃষ্টি করার আগেই তার রেজেকের বন্দোবস্ত করে রাখেন, কেবল আহার্য নয় জীবনোপকরণ হিসাবে তার যখন যা দরকার তাই তিনি নিরন্তর সরবরাহ করে যান। বিশ্বজগতে প্রতিপালক হিসাবে আল্লাহর যে ভূমিকা, একটি পরিবারে আল্লাহরই প্রতিভূ (খলিফা) হিসাবে পুরুষেরও অনেকটা সেই ভূমিকা, কিন্তু ক্ষুদ্র পরিসরে।
সালাহ বা নামাজ হচ্ছে উম্মতে মোহাম্মদী জাতিটির মডেল। এখানে প্রথম সারিতে পুরুষ এবং দ্বিতীয় সারিতে নারী। বাস্তব জীবনেও এই মডেলের রূপায়ণ ঘটা ইসলামের কাম্য। উপার্জন করা পুরুষের কাজ, তাই বলা যায় জীবিকার যুদ্ধক্ষেত্রে মেয়েরা দ্বিতীয় সারির সৈনিক। কখনও কখনও যদি অবস্থার প্রয়োজনে নারীকে প্রথম সারিতে গিয়ে জীবিকার লড়াইতে অবতীর্ণ হতে হয় সেটার সুযোগ আল্লাহ রেখেছেন। শোয়াইব (আ.) বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং তাঁর পুত্র সন্তান না থাকায় তাঁর দুই তরুণী কন্যা তাঁদের পশুপালের দেখাশোনা করতেন (সুরা কাসাস ২৩)। এছাড়া ইসলামের বিধান হলো স্বামীর উপার্জনের উপর স্ত্রীর অধিকার রয়েছে কিন্তু স্ত্রীর উপার্জনের উপর স্বামীর কোন অধিকার নেই। এখানেও নারীর উপার্জন করার অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে স্বীকার করে নেওয়া হলো। রসুলাল্লাহর অনেক নারী আসহাব পরিবারে পুরুষ সদস্য না থাকায় বা পুরুষ সদস্যরা জেহাদে অধিক ব্যস্ত থাকায় নিজেরাই কৃষিকাজ করে, কুটির শিল্পের মাধ্যমে উপার্জন করতেন, অনেকে ব্যবসাও করতেন। রসুলাল্লাহর আহ্বানে সর্বপ্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন তিনি একজন নারী, আম্মা খাদিজা (রা.)। তিনি তাঁর সকল সম্পদ আল্লাহর রাস্তায়, মানবতার কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সর্বোচ্চ ত্যাগের পরিচয় তিনি দিয়ে গেছেন। আবার ইসলামের জন্য সর্বপ্রথম যিনি জীবন দিলেন, শহীদ হলেন তিনি একজন নারী, সুমাইয়া (রা.)।
এবার আসা যাক সত্যিকার যুদ্ধের ক্ষেত্রে। যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রথম সারিতে (ঋৎড়হঃ খরহব) থেকে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার দায়িত্ব পুরুষদের। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাতেও সকল সামরিক বাহিনীতে এটাই হয়ে থাকে। এখানেও কারণ পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, শক্তি, সামর্থ্য, কষ্টসহিষ্ণুতা ইত্যাদি। সেখানে নারীর স্বাভাবিক অবস্থান দ্বিতীয় সারিতে। তাদের কাজের মধ্যে প্রধান কাজ হচ্ছে রসদ সরবরাহ। যুদ্ধের বেলাতে রসদ সরবরাহকে যুদ্ধের অর্ধেক বলে ধরা হয়। সৈনিকদের খাদ্য, পানি, যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধের আনুষঙ্গিক উপাদান সরবরাহ, আহতদেরকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদ স্থানে সোরিয়ে নেওয়া ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া, নিহতদেরকে দাফন করা ইত্যাদি সবই দ্বিতীয় সারির কাজ। রসুলাল্লাহর সময় নারীরা প্রায় সকল যুদ্ধেই প্রথমে এই দ্বিতীয় সারির দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন, নিহতদের দাফনে সহায়তা করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈন্যদেরকে পানি পান করিয়েছেন। তাছাড়া মসজিদে নববীর এক পাশে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার প্রধান ছিলেন একজন নারী রুফায়দাহ (রা.)। যোদ্ধাদেরকে যদি রসদ ও এই সেবাগুলি দিয়ে সাহায্য না করা হয় তবে তারা কখনোই যুদ্ধ করতে পারবে না।
তবে যুদ্ধে এমন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন মেয়েদেরকেও অস্ত্র হাতে নিতে হয়। ওহুদের যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনী বিরাট বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, বহু সাহাবি শহীদ হয়ে যান, স্বয়ং রসুলাল্লাহ মারাত্মকভাবে আহত হন, কাফেররা প্রচার করে দেয় যে, রসুলাল্লাহও শহীদ হয়ে গেছেন এমনই বিপজ্জনক মুহূর্তে মেয়েরা আর দ্বিতীয় সারিতে থাকলেন না, তারা অস্ত্র হাতে নিয়ে রসুলাল্লাহকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কাফের সৈন্যদের বিরুদ্ধে বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ওহুদ যুদ্ধে নারী সাহাবি উম্মে আম্মারার (রা.) অবিশ্বাস্য বীরত্ব সম্পর্কে রসুলাল্লাহ বলেছিলেন, ‘ওহুদের দিন ডানে-বামে যেদিকেই নজর দিয়েছি, উম্মে আম্মারাকেই লড়াই করতে দেখেছি।’
এর অনেক পরে ইয়ারমুকের যুদ্ধে বীর যোদ্ধা দেরার বিন আজওয়ার যখন শত্র“র হাতে আটকা পড়েন তখন তারই বোন খাওলা ঘোড়ায় চড়ে এমন লড়াই শুরু করে ভাইকে উদ্ধার করেন যে স্বয়ং খালিদ (রা.) বিস্ময়প্রকাশ করেন। অর্থাৎ রসুলাল্লাহর সময়ে নারীরা ঠিকই প্রয়োজনবোধ প্রথম সারির ভূমিকাও পালন করেছেন, মাসলা মাসায়েলের জটিল জাল বিস্তার করে কোনো কাজেই তাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হয় নি, আজ যেমনটা করা হচ্ছে। নারীর নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতাকে ইসলাম মোটেও অস্বীকার করে না। উটের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন উম্মুল মো’মেনীন আয়েশা (রা.), বহু সাহাবি তাঁর অধীনে থেকে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধটির বিভিন্ন দিক নিয়ে ঐতিহাসিকরা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন, সমালোচনা করেছেন কিন্তু “ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম” বলে তখন তাঁর পক্ষে বিপক্ষে যুদ্ধরত কোন সাহাবি ফতোয়া দিয়েছেন বলে ইতিহাসে পাওয়া যায় না।
আল্লাহর বিধানমতে কেবল একটি মাত্র পদ নারীকে দেওয়া বৈধ নয়, সেটি হলো- সমস্ত পৃথিবীময় উম্মতে মোহাম্মদী নামক যে মহাজাতি সৃষ্টি হবে সে জাতির এমামের পদ। আল্লাহ স্রষ্টা হিসাবে জানেন যে নারীর শারীরিক গঠন যেমন পুরুষের তুলনায় কোমল, তার হৃদয়ও পুরুষের তুলনায় কোমল, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল। সহজেই তার চিত্তচাঞ্চল্য ঘটে, তার স্থৈর্য্য, দূরদর্শীতা পুরুষের চেয়ে কম, তাকে প্রভাবিত করা সহজতর। এবলিস নারীকেই প্রথম আল্লাহর হুকুম থেকে বিচলিত করেছিল। এ কারণেই আল্লাহর অগণ্য নবী-রসুলের মধ্যে একজনও নারী নেই। পারস্যের সঙ্গে রোমের যুদ্ধের সময় রসুলাল্লাহ একটি পূর্বাভাষে বলেছিলেন, নারীর হাতে যে জাতি তার শাসনভার অর্পণ করেছে যে কখনো সফল হতে পারে না (তিরমিজি)। তবে স্বীয় যোগ্যতাবলে উম্মতে মোহাম্মদীর এমামের পদ ছাড়া অন্যান্য যে কোন পর্যায়ের আমীর বা নেতা সে হতে পারবে। এমন কি একজন নারী কোন এলাকার রাজনৈতিক প্রশাসকও (এড়াবৎহড়ৎ) হতে পারেন। শুধু নারী হওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নেতৃত্বলাভের যোগ্যতা অযোগ্যতার মাপকাঠি নয়।
পুরুষ যেহেতু পরিবারের সবাইকে ভরন-পোষণ করাচ্ছে, লালন-পালন করছে কাজেই তার কথা পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে শুনতে হবে, এটা একটি পারিবারিক শৃঙ্খলা। কিন্তু পারিবারিক জীবনের শৃঙ্খলা সম্পর্কিত এই আয়াতটিকে সামষ্টিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন একশ্রেণির আলেম। তাদের এই অপচেষ্টার ফলে নারী সমাজের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত হচ্ছে না, তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণও দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আজকের বিকৃত ইসলামের কূপম-ূক ধর্মজীবী আলেম-মোল্লারা এটা বুঝতে সক্ষম নন যে, একটি পরিবার পরিচালনার শৃঙ্খলা দিয়ে রাষ্ট্র চলতে পারে না, বা জীবনের অন্যান্য অঙ্গনগুলি চলতে পারে না। তাই জীবনের অন্যান্য অঙ্গনে যার নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা বেশি সে পুরুষই হোক আর নারীই হোক, তাকেই নেতা মনোনীত করা যাবে।

ইসলামে তো যুদ্ধ আছে, আপনারা অস্বীকার করছেন কেন?2016-12-06T12:04:54+06:00

 অসম্ভব, আমরা অস্বীকার করছি না তো। কোর’আনে যুদ্ধ আছে, আল্লাহর রসুলের অর্ধেক জীবন গেছে যুদ্ধ করে। সেটা কোন যুদ্ধ? কোন পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ রসুল যুদ্ধ করেছন সেটা বুঝতে হবে। সেটা আমরা আমাদের জেহাদ, কেতাল সন্ত্রাস বইতে পরিষ্কার তুলে ধরেছি। তবু সংক্ষেপে বলছি, আল্লাহ বিশ্বনবীকে (দ.) পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এই জন্য যে তিনি যেন পৃথিবীতে প্রচলিত সব রকম (পূর্ববর্তী বিকৃত ধর্ম ও মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা) দীন অর্থাৎ জীবন-ব্যবস্থাগুলি অকেজো, নিষ্ক্রিয়, বিলুপ্ত করে দিয়ে এই শেষ ইসলামকে সমগ্র পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা করে মানবজীবন থেকে সর্বরকম অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাত, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ইত্যাদি দূর করে ন্যায়, সুবিচার অর্থাৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ আল্লাহ শেষনবীকে (দ.) তার জীবনের সমস্ত কর্মকান্ডে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যে কেউ মহানবীর (দ.) জীবনী পড়লেই দেখতে পাবেন তাঁর সমস্তটা পবিত্র জীবন ঐ একটি কাজে ব্যয় হয়েছে, আল্লাহর নির্দিষ্ট করে দেয়া লক্ষ্য মানবজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জেহাদে। জেহাদ শব্দের অর্থ হলো কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য পূর্ণভাবে চেষ্টা করা (ঝঃৎঁমমষব) সর্বতোভাবে, অক্লান্তভাবে চেষ্টা করা। আর অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা হলো কেতাল, অর্থাৎ সশস্ত্র সংগ্রাম। তাহলে কেতাল, সশস্ত্র সংগ্রাম হলো জেহাদের একটা অংশ। সামগ্রিকভাবে এই জীবন-ব্যবস্থাকে সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস, সংগ্রামে সব রকমের চেষ্টাই অন্তর্ভুক্ত। প্রথমে যুক্তি দিয়ে, বুঝিয়ে, লিখে, হাতে-কলমে দেখিয়ে এবং কোনো কিছুতেই কাজ না হলে সশস্ত্র সংগ্রাম অর্থাৎ কেতালের মাধ্যমে। এখানে একটি কথা অতি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ব্যক্তি বা দলগত পর্যায়ে কেতাল নেই। কেতাল বা সশস্ত্র যুদ্ধ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। একটা জাতি যদি তওহীদের উপর একতাবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র গঠন করে তখন ঐ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বিধান ইত্যাদির প্রয়োজনে যুদ্ধ। মানুষ তার অভ্যস্ত বিশ্বাসে এত যুক্তিহীন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফেতনা ফাসাদ দূর করে শান্তি আনয়নের জন্য শেষ পর্যন্ত হাতে অস্ত্র নিতে হয়েছে। বিশ্বনবীকেও (দ.), তাঁর আসহাবদেরও ঐ একই কাজ করতে হয়েছে। তাই কিছুদিনের মধ্যেই জেহাদ (প্রচেষ্টা) ও কেতাল (সশস্ত্র যুদ্ধ) একার্থবোধক হয়ে গিয়েছিল। মহানবীর সমগ্র নব্যুয়তি জীবন ২৩ বছরের মধ্যে মক্কার ১৩ বছর তিনি শুধু আল্লাহর সার্বভৌমত্বের দিকে মানুষকে ডাক দিয়েছেন। এই সময় তিনি অস্ত্র হাতে নেন নি, সংঘাত-সংঘর্ষ করেন নি। এমনকি তাঁকে চরম নির্যাতন করা হয়েছিল। তবুও তিনি প্রত্যাঘাত করেন নি। তারপর মদিনার মানুষ যখন তাঁর তওহীদের ডাক গ্রহণ করল, তখন তিনি হেজরত করে সেখানে যেয়ে রাষ্ট্র গঠন করলেন। যেই রাষ্ট্র গঠন করলেন তখনই নীতি বদলে গেল। কারণ কোনো রাষ্ট্র কোনোদিন ব্যক্তি বা দলের নীতিতে টিকে থাকতে পারে না। তখন তাঁর প্রয়োজন হবে অস্ত্রের, সৈনিকের, যুদ্ধের প্রশিক্ষণের। আল্লাহর রসুলও তাই করলেনÑ হাতে অস্ত্র নিলেন এবং তখন থেকে তাঁর পবিত্র জীবনের বাকিটার সমস্তটাই কাটল যুদ্ধ করে। অর্থাৎ তওহীদ ভিত্তিক এই সত্যদীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি গোষ্ঠী বা দলগতভাবে কোনো কেতাল অর্থাৎ সশস্ত্র যুদ্ধ নেই, আছে শুধু তওহীদের, আল্লাহর সার্বভৌমত্বের আহ্বান, বালাগ দেয়া। ঠিক তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আছে সশস্ত্র যুদ্ধ। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অস্ত্র, যুদ্ধ ইত্যাদি যদি আইন সম্মত না হয় তবে পৃথিবীর সব দেশের সামরিক বাহিনীই বে-আইনী, সন্ত্রাসী। কোর’আন ও হাদীসে যে জেহাদ ও কেতালের কথা আছে তা রাষ্ট্রগত।
তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা দল যদি দীন প্রতিষ্ঠার জন্য অস্ত্র হাতে নেয় তবে সেটা হবে মারাত্মক ভুল। তাদের কাজ হবে মানুষকে যুক্তি দিয়ে কোর’আন-হাদিস দেখিয়ে, বই লিখে, বক্তৃতা করে অর্থাৎ সর্বপ্রকারে মানুষকে এ কথা বোঝানো যে পৃথিবীতে অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন, শোষণ, ক্রন্দন, রক্তপাত, যুদ্ধহীন একটি সমাজে নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের মধ্যে অর্থাৎ নিরঙ্কুশ শান্তিতে বাস করতে হলে একমাত্র পথ যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর দেয়া জীবন বিধান মোতাবেক আমাদের জীবন পরিচালনা করা। সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায় যে, যিনি যে জিনিস তৈরি করেছেন তাঁর চেয়ে আর কে বেশি জানবে যে জিনিসটি কীভাবে চালালে সেটা ঠিকমত, ভালোভাবে চলবে। আল্লাহ সুরা মুলকের ১৪ নং আয়াতে বলেছেন যে সৃষ্টি করেছে তার চেয়ে বেশি জান? (তুমি সৃষ্ট হয়ে?) এ যুক্তির কোনো জবাব আছে? কিন্তু আমরা মো’মেন মুসলিম হবার দাবিদার হয়েও দাজ্জালের (ইহুদি খ্রিষ্টান বস্তুবাদী সভ্যতা) নির্দেশে আল্লাহর দেয়া দীন, জীবন-ব্যবস্থা থেকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অংশটুকু ছাড়া সমষ্টিগত (যেটাই প্রধান) অংশটুকু বাদ দিয়ে সেখানে নিজেরা বিধান, আইন-কানুন, নিয়মনীতি নির্ধারণ করে সেই মোতাবেক আমাদের সমষ্টিগত জীবন পরিচালিত করছি। ফল কি হয়েছে? শিক্ষা দীক্ষায়, বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে মানব ইতিহাসের চূড়ান্ত স্থানে উপস্থিত হয়েও আজ পৃথিবী অশান্তি, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার আর মানুষে মানুষে সংঘর্ষ ও রক্তপাতে অস্থির। তাহলে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে যে মানুষ তার জীবন পরিচালনার জন্য যে ব্যবস্থা তৈরি করে নিয়েছে তা তাকে শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই মানুষকেই বোঝাতে হবে যে এ পথ ত্যাগ করে মানুষের সার্বভৌমত্বকে ত্যাগ করে আল্লাহর রসুল যা শিখিয়েছেন সেই আল্লাহর সার্বভৌমত্বে ফিরে যেতে হবে, সেই সার্বভৌমত্বকে গ্রহণ করে তাঁর দেয়া দীন, জীবন-ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই কাজ কি জোর করে করাবার কাজ? এটাতো সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায় যে জোর করে, শক্তি প্রয়োগ করে মানুষকে কোনো কিছু বিশ্বাস করানো অসম্ভব।

হুমায়ুন খান পন্নী স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন, মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সর্ম্পকে বলুন।2016-12-06T12:03:27+06:00

পন্নী পরিবারের দুটি ভাগ। তাঁদের বংশের অনেকেই ওলি আল্লাহ ছিলেন, আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন। আবার অনেকে উপমহাদেশের পরিচিত রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ভারতের বিখ্যাত সুফি সাধক সৈয়দ খাজা মোহাম্মদ হোসাইনী গেসুদারাজ বন্দে নেওয়াজ (র.) (১৩২১-১৪২২), টাঙ্গাইলের হযরত মুঈন খান পন্নী (র.) ছিলেন এমামুয্যামানের পূর্বপুরুষ। উপমহাদেশের বিখ্যাত সাধক হায়দার আলী খান পন্নী (রহ.) ছিলেন এমামুযযামানের দাদাজান। তাঁরা চিরকালই মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। প্রখ্যাত দানবীর ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওরফে চান মিয়া ছিলেন এমামুয্যামানের দাদার বড় ভাই। পন্নী পরিবার অনেক বড়। একটা বড় পরিবারে বিভিন্ন মতের বিভিন্ন চরিত্রের মানুষ থাকে। এখানে অনেকেই আছেন যাদের মধ্যে কে বিএনপি করেন, কে আওয়ামী লীগ করেন, কে বিদেশে গিয়ে কী করছেন এগুলো তো এমামুয্যামানের উপর বর্তানোর কোনো মানে হয় না। এটা ইতিহাস যে, তৎকালীন আরবের কোরাইশ বংশে আল্লাহর রসুল এসেছেন। মক্কার সবচাইতে সম্ভ্রান্ত পরিবার কোরাইশ আপনারা জানেন। তারা কাবা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেই কোরাইশ বংশের আবু লাহাব, আবু জাহেল, ওতবা, শায়েবা এমন এমন জঘন্য কাজ করেছেন যে তারা ঐতিহাসিকভাবে ঘৃণিত হচ্ছেন। তারা কাবাকে অপবিত্র করেছেন। তাদের কেউ কেউ রসুলাল্লাহর আপন চাচা। কিন্তু তাদের দুষ্কর্ম কি আল্লাহর রসুলের উপর বর্তাবে? রসুলাল্লাহ ছিলেন মক্কার সেই কোরাইশদের থেকে আলাদা। সেই কোরাইশরা আল্লাহ রসুলকে বলতো আল-আমিন, আস-সাদেক, সত্যবাদী। তিনি কখনও মিথ্যা বলতে পারেন না, ওয়াদা নষ্ট করেন না, কারও হক নষ্ট করেন না, তিনি ন্যায় নীতিবান। মানুষের কল্যাণের চিন্তাই তিনি সবসময় করেন। আমাদের এমামুয্যামানও তাঁর পরিবারের মধ্যে সত্যবাদী, আল্লাহর পছন্দনীয় চরিত্রবান ও সাহায্যপ্রাপ্ত ছিলেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত পন্নী পরিবারের শাসনকার্য পরিচালনা, আধ্যাত্মিক ও রাজনীতিক কর্মকা-ের ইতিহাস হাজার বছরের। এমন একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এমামুয্যামান বংশের অন্য অনেকের থেকে একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ছিলেন, এ কথা তাঁর পরিবার ও পরিচিতমহলের সকলেই জানেন।

ধর্মব্যবসায়ী বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?2016-12-06T12:02:31+06:00

যারা ধর্মের বিনিময় নেয় তারা সবাই। ধর্মের নামে কোনো বিনিময় চলে না। এটা একেবারে সুত্রের মতো মনে রাখতে হবে। আল্লাহ বলছেন শুয়োর খাওয়া হারাম, মৃত জন্তু খাওয়া হারাম, তারপর বলছেন নিরুপায় হলে তাও খেতে পারো। কিন্তু ধর্মের বিনিময় নেয়া একেবারে নিষেধ। এটা কোনোভাবে ক্ষমা করবেন না আল্লাহ এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না আল্লাহ। সুরা বাকারার ১৭৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “আল্লাহ যে কেতাব অবতীর্ণ করেছেন যারা তা গোপন করে এবং বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে তারা (১) নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া কিছুই পুরে না, (২) কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, (৩) আল্লাহ তাদের পবিত্রও করবেন না, (৪) তারা ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে, (৫) তারা হেদায়াতের পরিবর্তে পথভ্রষ্টতা বা গোমরাহী ক্রয় করেছে, (৬) তারা দীন সম্পর্কে ঘোরতর মতভেদে লিপ্ত আছে (৭) আগুন সহ্য করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল”। সুতরাং ধর্মকে স্বার্থহাসিলের উপায় বানানোর ব্যাপারে ইসলামে কোনো শিথিলতা নেই। কারণ এটা করলে ধর্মই বিকৃত হয়ে যাবে, মানুষ আর সঠিক পথ পাবে না, মুক্তির পথ পাবে না। ভুল পথে চলতে বাধ্য হবে, সে দুনিয়াও হারাবে আখেরাতও হারাবে। তাই ধর্মের কাজ হবে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে। এ ধর্মের কাজ করে একেবারে শুরুতে নামাজ পড়িয়ে, ওয়াজ করিয়ে, মুর্দা দাফন করিয়ে, এখান থেকে শুরু করে একেবারে রাজনীতি পর্যন্ত যে অঙ্গনেই হোক ধর্মের কাজ করে পার্থিব স্বার্থ হাসিল করবে সেই ধর্মব্যবসায়ী। ধর্মব্যবসায়ী বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?
উত্তর: যারা ধর্মের বিনিময় নেয় তারা সবাই। ধর্মের নামে কোনো বিনিময় চলে না। এটা একেবারে সুত্রের মতো মনে রাখতে হবে। আল্লাহ বলছেন শুয়োর খাওয়া হারাম, মৃত জন্তু খাওয়া হারাম, তারপর বলছেন নিরুপায় হলে তাও খেতে পারো। কিন্তু ধর্মের বিনিময় নেয়া একেবারে নিষেধ। এটা কোনোভাবে ক্ষমা করবেন না আল্লাহ এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না আল্লাহ। সুরা বাকারার ১৭৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “আল্লাহ যে কেতাব অবতীর্ণ করেছেন যারা তা গোপন করে এবং বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে তারা (১) নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া কিছুই পুরে না, (২) কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, (৩) আল্লাহ তাদের পবিত্রও করবেন না, (৪) তারা ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে, (৫) তারা হেদায়াতের পরিবর্তে পথভ্রষ্টতা বা গোমরাহী ক্রয় করেছে, (৬) তারা দীন সম্পর্কে ঘোরতর মতভেদে লিপ্ত আছে (৭) আগুন সহ্য করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল”। সুতরাং ধর্মকে স্বার্থহাসিলের উপায় বানানোর ব্যাপারে ইসলামে কোনো শিথিলতা নেই। কারণ এটা করলে ধর্মই বিকৃত হয়ে যাবে, মানুষ আর সঠিক পথ পাবে না, মুক্তির পথ পাবে না। ভুল পথে চলতে বাধ্য হবে, সে দুনিয়াও হারাবে আখেরাতও হারাবে। তাই ধর্মের কাজ হবে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে। এ ধর্মের কাজ করে একেবারে শুরুতে নামাজ পড়িয়ে, ওয়াজ করিয়ে, মুর্দা দাফন করিয়ে, এখান থেকে শুরু করে একেবারে রাজনীতি পর্যন্ত যে অঙ্গনেই হোক ধর্মের কাজ করে পার্থিব স্বার্থ হাসিল করবে সেই ধর্মব্যবসায়ী।

এমামুযযামান কি নিজেকে নবী বা অন্য কিছু দাবি করেন কিনা?2016-12-06T11:59:52+06:00

প্রশ্নই আসে না। এমামুযযামান বলতেন আমি আল্লাহর এক গুনাহগার বান্দা, আল্লাহ রসুলের গুনাহগার উম্মত। তিনি আল্লাহ রসুলকে যেভাবে সম্মান করতেন, শ্রদ্ধা করতেন আমাদের চর্মচক্ষুতে কখনও দেখি নি কেউ আল্লাহ রসুলকে এভাবে সম্মান করে। আমরা দেখেছি এমামুযযামান কখনও পশ্চিম দিকে ফিরিয়ে জুতা রাখতেন না, কখনও তিনি পশ্চিম দিকে পিঠ দিয়ে বসতেন না। রসুলের সম্মানে তিনি শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে যেতেন। তাঁর নবী হওয়ার বা নবী দাবি করার প্রশ্নই আসে না, মানুষ যেন আমাদের কথা না শোনে, আমরা যেন সর্বত্র হয়রানির শিকার হই এজন্য এরকম কথাবার্তা ধর্মব্যবসায়ীরা অপপ্রচার চালিয়েছে। তাঁর ‘এ ইসলাম ইসলামই নয় বই’-তে তিনি হাজার হাজার বার শেষ নবী, আখেরি নবী রসুল (দ.) বলেছেন। আমাদের সব লেখায় আমরা মোহাম্মদ (দ.) কে আখেরি নবী, শেষ নবী বলেছি সুতরাং এমামুয্যামানের নবী দাবি করার অভিযোগ অবান্তর। আমরা বিশ্বাস করি তিনি ইসলাম সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন সেগুলো শতভাগ সত্য। তাঁর একটি বক্তব্যকেও আজ পর্যন্ত কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে নি। তাই তাঁকে আমরা এই যুগের নেতা বলে বিশ্বাস করি।

আপনারা কোনো তরিকাপন্থী কি না?2016-12-06T11:56:58+06:00

আমরা উম্মতে মোহাম্মদী। আমরা মনে করি বিভিন্ন তরিকা, মাজহাব, ফেরকার নামে দুঃখজনক বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিটাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এক আল্লাহ, এক রসুল, এক কোর’আন, এক জাতি হওয়ারই কথা ছিল। সমস্ত পৃথিবীতে ন্যায় সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহর রসুল যে জাতিটি গঠন করলেন সে জাতিটাকে তিনি সংগ্রামের দিকে পরিচালিত করে আল্লাহর কাছে চলে গেলেন। তারপর স্ত্রী, পুত্র পরিজন, সহায়, সম্পত্তি সব কিছু কোরবান করে দিয়ে সেই উম্মতে মোহাম্মদীর সদস্যরা দুনিয়ার বুকে ছড়িয়ে পড়লেন। তারা অর্ধ পৃথিবীতে ন্যায়, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করলেন। একটা পর্যায়ে এসে এ উম্মতে মোহাম্মদী তাদের উদ্দেশ্য ভুলে গেল। এরপর তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ করে শিয়া-সুন্নি, শাফেয়ী-হাম্বলি হলো, নকশাবন্দিয়া, মুজাদ্দেদিয়া ইত্যাদি হলো। তারা আর উম্মতে মোহাম্মদী রইলেন না, এক জাতি রইলেন না। আল্লাহ তাদেরকে লানত দিলেন। ফলে তারা এখন সমস্ত দুনিয়ায় অন্য জাতিগুলোর গোলাম। তারা আজকে আল্লাহর গজবের বস্তু। কাজেই আমরা হেযবুত তওহীদ কোনো নির্দিষ্ট তরিকাপন্থি না। আমরা প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী হবার চেষ্টা করছি, কারণ উম্মতে মোহাম্মদীর জন্যই জান্নাত সুনিশ্চিত, আল্লাহর রসুল তাদেরকেই শাফায়াত করবেন।

আপনারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করছেন কেন?2016-12-06T11:56:14+06:00

আমাদেরকে অনেকে অভিযোগ করে থাকেন যে, আপনারা সরকারের সাথে কাজ করছেন কেন? আবার অনেকে কথাটা অন্যভাবে বলেন যে, সরকারের দালালী অথবা লেজুড়বৃত্তি করছেন কেন? আসলে এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে কয়েকটা ধাপে কথাগুলি বলতে হবে নয়তো সামগ্রিক বিষয়টা পরিষ্কার হবে না।
প্রথমত, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করছি বলতে যা বোঝানো হচ্ছে বিষয়টা তেমন নয়, আমরা আসলে সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা যে বিশেষ করে এই সরকারের সঙ্গেই কাজ করছি বা করতে চাই তাও নয়, বিগত বিশ বছরে যে কয়টি সরকার পেয়েছি সবগুলো সরকারের সঙ্গে বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেই কাজ করেছি। কারণ এমামুয্যামান আন্দোলনের জন্য এই নীতিটি স্থির করে দিয়ে গেছেন যে, সব সময় সরকারের সংস্পর্শে থেকে, সরকারকে জানিয়ে, সরকারের কর্মকর্তাদেরকে পরিষ্কার ধারণা দিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ আমরা ইসলাম নিয়ে কাজ করি, ভুল বোঝাবুঝির অনেক সুযোগ এখানে থেকে যেতে পারে। তাই আমরা বিগত সরকারগুলোর সঙ্গেও কাজ করেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গেও কাজ করেছি, এমামুয্যামান জঙ্গিবাদ দমনের ব্যপারে আদর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য লিখিতভাবে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। সুতরাং খালি যে এই সরকারের সঙ্গে বা এই সরকারের আমলে কাজ করছি বিষয়টি সত্য নয়। আর সরকার ও সরকারী দলকে আলাদা করা যায় না। তবে সরকার প্রথমে। এটা হচ্ছে প্রথম কথা।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আপনারা জানেন যে, আমরা একটা জাতিকে যদি একটা সমস্ত দেহের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে সরকার হলো সেই দেহের মস্তিষ্কের জায়গায় আর জনগণ হলো সেই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। কাজেই মস্তকবিহীন যেমন শরীর চলে না তেমনি সরকারবিহীন জাতির কোনো কিছুই কল্পনা করা যায় না। আমাদের যে কাজ, যে যে কর্মকা- সেটি সমস্ত জাতিকে নিয়ে, একটি সামষ্টিক কর্মকা-। একটি জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অশান্তি-অপরাজনীতি, ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা। সেটা করা একটি আন্দোলনের একার পক্ষে, একজন ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব, আর এটি গোপনে লুকিয়ে করার তো বিষয়ই নয়। আর এ কাজটি প্রকৃতপক্ষে সরকারেরই কাজ। আমরা করছি আমাদের ধর্মীয় দায়িত্বজ্ঞান ও সামাজিক কর্তব্যবোধ থেকে, সমাজে অশান্তি থাকলে সেটা আমাদেরকেও কষ্ট দেয় সেজন্য আমরা করছি, যেহেতু এটা করার পথ আমাদের কাছে আছে। কিন্তু এটা করতে সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য। সরকারের কাছে আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি, অর্থ, আইন ইত্যাদি কিন্তু সমাজকে অন্যায়-অপরাধমুক্ত করতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা ও আদর্শ দ্বারা মানুষের মানসিক পরিবর্তন সাধন অর্থাৎ মোটিভেশন, সেই আদর্শ আমাদের কাছে আছে যা আমাদেরকে, আমাদের এমামুয্যামানকে দান করেছেন। সরকারের শক্তি ও আমাদের আদর্শ এ দুইয়ের সম্মিলনে একটি শান্তিময় সমাজ আমরা গড়ে তুলতে পারি। এই কথাটিই আমরা সরকারকে পত্রিকার মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করছি, সাধারণ মানুষকেও বুঝাচ্ছি। আমরা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছি যেন তারা কেউ কোনো অন্যায়কারীকে সহযোগিতা না করে, দেশের ও জাতির ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজে নিজেরাও অংশ না নেয়, অন্যকেও বাধা দেয় এবং তারা সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসে। এটি কেবল দেশপ্রেমই নয় তাদের এবাদত হিসাবে গণ্য হবে। তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের পক্ষে দেশের শান্তি রক্ষার জন্য এমন হিমসিম খেতে হবে না। সেই আদর্শ আমরা নিঃস্বার্থভাবে মানবতার কল্যাণে দিতে চাই। সরকার যদি আমাদের এই আদর্শকে অনুধাবন করেন এবং মানবতার কল্যাণে যদি সেটা কাজে লাগান তবে মানুষ উপকৃত হবে, সরকার উপকৃত হবে, সবাই উপকৃত হবে।
একটি জাতিকে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে মুখ্য দায়িত্ব কিন্তু সরকারের, সরকার জাতির অভিভাবক, তারা জনগণের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্বটি গ্রহণ করেছেন। সরকার জনগণ থেকে অর্থ আদায় করেন এবং উন্নয়নমূলক কাজ করেন। এক কথায় জনগণের ভালো-মন্দের দায়-দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। তাই জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করার মুখ্য দায়িত্ব সরকারেরই। আমরা এখানে আল্লাহর রহমে বলতে পারি, একটা সঠিক আদর্শ সরকারকে দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছি। যদি আমার ব্যক্তি স্বার্থ থাকতো তাহলে কেউ হয়তো আপত্তি তুলতে পারেন যে, আমরা সরকারের থেকে কোনো সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে কাজ করছি। আমরা সরকারে যে দল আছে তাদেরকে মিটিংয়ে দাওয়াত দিচ্ছি, আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছি, মন্ত্রীদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, এমপিদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরকেও আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। কাজেই সরকারের লোকদেরকে এই মহতি কাজে সম্পৃক্ত করে জাতির উন্নয়নের জন্য কাজ করা সরকারের দালালী করা বুঝায় না, দালালির সঙ্গে হীনস্বার্থ জড়িত থাকে। আমাদের প্রতিটি কাজকেই বাঁকা চোখে দেখার একটি শ্রেণি আছে। আমরা যখন ধর্মব্যবসায়ের বিরুদ্ধে কাজ করি তখন ধর্মব্যবসায়ীরা বলেন আমরা ইসলামবিরোধী, খ্রিষ্টান, মুরতাদ, কাফের। আমরা আল্লাহ-রসুলের কথা বলি, তাই বলা হয়েছে হেযবুত তওহীদ জঙ্গি। সরকারসহ এ জাতির অধিকাংশ মানুষই আমাদের সম্পর্কে এই ভুল ধারণাগুলো নিয়েই ছিল। আজ যখন আমাদের প্রাণান্তকর প্রয়াসে এবং আল্লাহ দয়াই সেই মিথ্যাগুলো বিদূরিত হচ্ছে, তখন সরকারসহ অনেকেই আমাদের সম্পর্কে সত্য জেনে এই মহৎ কাজে অংশ গ্রহণ করছেন। এখন একেও বাঁকা চোখে দেখে বলছে যে আমরা সরকারের দালালি করছি। সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো লিখিত চুক্তি বা মৌখিক চুক্তি হয়েছে তেমনও নয়। যারা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জেনেছেন তারা আমাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন। এই হলো একদিকের কথা, আর অন্যদিকের কথা হলো:
বছর দুয়েক আগে আমরা যখন ব্যাপকভাবে এই সেমিনার-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে লাগলাম তখন কিন্তু আমরা অন্যান্য দলের লোকদেরকে তেমন পাই নাই, আমরা দাওয়াত দিয়েছি তাদের। বিভিন্ন মামলা-মকদ্দমা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের কারণে। যারা বিরোধীদলে আছেন বা যারা অন্যান্য দল করছেন, তাদেরকেও আমরা দাওয়াত করেছি। তাদের বাড়িতে গিয়েছি, অফিসে গিয়েছি। কিন্তু তাদের অনেককেই আমরা পাই নি। অনেকে বলেছেন, আমাদের নামে মামলা আছে, আমরা কীভাবে আপনাদের অনুষ্ঠানে আসবো? অনেকে বলেছেন যে, আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করবো তবে এখন তো আমরা পারছি না। অনেকে আবার এই অভিযোগ করেছেন যে, সরকারী দলের লোকেরা মিটিংয়ে থাকবেন আমরা কিভাবে আসবো? এই পরিস্থিতিতে বাস্তব ক্ষেত্রে অনেককেই আমরা পাই নি। কিন্তু আমাদের কাজ তো করতে হবে, কাজেই আমরা আমাদের চলার পথে সহযোগী হিসেবে যাদেরকে পেয়েছি তাদেরকে নিয়েই কাজ করছি। আমরা আসলে ১৬ কোটি মানুষকে নিয়েই কাজ করতে চাই, এখানে এতে সরকার আর বিরোধীদলের মধ্যে ধারণাগতভাবে কোনো পার্থক্য আমাদের কাছে নেই।
আরেকটি কথা কিন্তু বলতে হয়। আপনারা ভালো করেই জানেন যে, সরকারের নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইসলামের নামে সারা দুনিয়াতে একটা জঙ্গিবাদী কর্মকা- চলছে। ঢালাওভাবে পশ্চিমারা যারা ইসলামের কথা বলছে, ইসলামী দল করছে তাদেরকেই জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। কাজেই আমাদের এখানেও এই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যতিক্রম নয়। ‘হেযবুত তওহীদ’ প্রকৃত ইসলামের কথা বলছে। এইক্ষেত্রে আমরা যদি শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের সরকারকে সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েই করতে হবে, আমাদের ন্যায্যতার ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় উৎপাদন করেই করতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেই করতে হবে। তাদেরকে পাশ কাটিয়ে, তাদের থেকে গোপন থেকে কিছু করা যাবে না, তারা করতে দেবেও না। এবং সবচেয়ে বড় কথা আমাদের গোপন করার কিছু নেই। ঈসা (আ.) বলেছিলেন, প্রদীপ জ্বালিয়ে কেউ খাটের নিচে রাখে না। সূর্যের পক্ষে যেমন নিজের প্রভাকে গোপন করা অসম্ভব, তেমনি হেযবুত তওহীদ। এখানে গোপনের কিছু নেই, কাউকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ারও কিছু নেই যেহেতু জাতির কাজ। সেইজন্যই যেই সরকারই থাকুক না কেন সরকারকে নিয়ে কাজ করতে হবে।
আরেকটি কারণ হচ্ছে, ৭১ সালে যেহেতু আওয়ামী-লীগের একটা গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। জাতিকে শান্তি দেওয়ার স্বপ্ন ও প্রতিশ্র“তি নিয়েই কিন্তু তাদের নেতৃত্বে ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা তাদেরকে এটা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, আপনারা জাতিকে শান্তি-সমৃদ্ধি, সুখ দেওয়ার জন্য জাতির প্রতি অঙ্গিকারাবদ্ধ; যদিও গত ৪৪ বছরে সেই সুখ-শান্তি আপনারা বা অন্য কেউই জাতিকে দিতে পারে নাই। কারণ একটা আদর্শের অভাব ছিল। সেই আদর্শটা আমরা দিচ্ছি। আসুন; আপনারা সেটা প্রয়োগ করে জাতির প্রতি আপনাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করুণ।

আপনারা গণতন্ত্র চান কি চান না?2016-12-06T11:55:17+06:00

এই কথা সত্য যে, বর্তমানে যে গণতন্ত্র চলছে এমন গণতন্ত্র আমরা চাই না। আমরা কী চাই তা একটু আগে বলেছি। গণতন্ত্রের নামে এখন যে তা-ব চলছে তা আমরা চাই না, তা কেউ চায় কিনা আমরা জানি না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন এই গণতন্ত্র কেউ চায় কিনা।

আপনাদের পিছনে বড় কোনো শক্তি আছে কিনা?2016-12-06T11:54:35+06:00

 হ্যাঁ, আমাদের পিছনে অনেক বড় শক্তি আছে। বিরাট বিশাল শক্তি আছে। অসম্ভব, অসীম শক্তি আছে। এত বড় শক্তি পেছনে না থাকলে আমরা এই বিশ্বজোড়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবনেও দাঁড়াতে পারতাম না। আমাদের কি আছে? কিচ্ছু নেই। সমাজে আমাদেরকে কেউ চেনে না। আমাদের কোনো পরিচিতি নাই, আমরা সাধারণ পরিবারের লোক সবাই। আমাদের তেমন অর্থনৈতিক সামর্থ্যও নাই। গরিব নিঃস্ব লোক সবাই। আমরা দাঁড়িয়েছি এই পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতা দাজ্জালের বিরুদ্ধে, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে, এই পাহাড় পরিমাণ অন্ধকারের বিরুদ্ধে। যমুনা নদীর স্রোতকে উল্টে দেয়ার মতো প্রায় অসম্ভব কাজ নিয়ে আমরা দাঁড়িয়েছি। আমাদের পিছনে এই বিরাট শক্তি হলেন মহান রাব্বুল আলামিন। যিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, যিনি একটি অণু পরমাণু থেকে বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। যিনি কুন শব্দ দিয়ে সব কিছু সৃষ্টি করেন এবং যিনি একদিন সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দিবেন। যিনি প্রত্যেকটা মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহ ভরসা, হাসবুন আল্লাহ নিশ্চয় আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এত বড় শক্তি আমাদের সঙ্গে আছে, আমরা কাউকে পরোয়া করি না। এজন্য বলি আমরা বলি কোর’আনের ভাষায় যত পারো ষড়যন্ত্র করো আমাদেরকে বিরাম দিয়ো না।

আপনারা সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান, তাহলে হুজুরদের পেছনে লেগে তাদেরকে সমাজে ছোট করছেন কেন?2016-12-06T11:52:08+06:00

হুজুর বলতে আজ যাদেরকে বোঝানো হয় তারা আসলে ইসলামের কেউ নয়। আজকে সমাজে এই পুরোহিত শ্রেণিটি ব্রিটিশদের দেয়া আল্লামা, মুফতি, মাওলানা, ইত্যাদি টাইটেল নিজেদের নামের আগে পিছে যোগ দিচ্ছেন এগুলো কতটুকু বৈধ, কতটুকু অবৈধ সেটা নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আল্লাহর রসুলের সাহাবিরা কি এদের চেয়ে ইসলাম কম জানতেন? তাদের নামের সঙ্গে তো কোনো মাওলানা, গাউস কুতুব, আল্লামা জাতীয় খেতাব দেখি না? মাওলানা শব্দের অর্থ কী? মাওলা মানে প্রভু, আর মাওলানা মানে আমাদের প্রভু। ওরা কি আমাদের প্রভু? এই সত্য কথাগুলো বলি দেখে বলা হয়, আমরা হুজুরদের পেছনে লেগেছি। এ অভিযোগ সত্য নয়। আমরা বলছি ধর্ম এসেছে মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য, এটা বিক্রি করে খাওয়ার জন্য নয়। এটা করলে ধর্ম বিকৃত হয়ে যায়, সেটা থেকে মানুষ আর কল্যাণ পায় না, অকল্যাণ পায়। এজন্য আল্লাহ ধর্মব্যবসাকে হারাম করেছেন। এই সত্যটি আমরা মানবজাতির সামনে তুলে ধরেছি। এতে যাদের কায়েমি স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই আমাদের বিরুদ্ধে লেগেছে, আমরা কারো পিছনে লাগি নি। আমরা হুজুর বলতে বুঝি কেবল একজনকেই, তিনি মহানবী (দ.)। সমাজে যারা আজ হুজুর হিসাবে পরিচিত আমরা তাদেরকে ছোট করছিনা। তারা আগেই ছোট হয়ে আছেন। সবাই তাদেরকে বলে দুই টাকার মোল্লা, দুই টাকা দিয়ে কেনা যায়। মসজিদ কমিটির সুদখোর সেক্রেটারির হাতে তার চাকরি বাঁধা, সেই কমিটির লোকদের জুতার তলা মুছতে মুছতে তাদের দফারফা, তাদের পেছনে আমরা লেগে কী করব? এত নিকৃষ্ট অবস্থা হয়েছে মসজিদের এমামদের, মুয়াজ্জিনদের। ধর্মব্যবসা করে, হারাম খেয়ে তারা নিজেদেরকে অনেক ছোট করে ফেলেছে। মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য তাদের কোনো আত্মিক শক্তি বা নৈতিক মনোবল কিছুই নেই। ছোট হতে হতে এত ছোট হয়েছেন যে সমাজে তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না, গোনা যায় না। এখন তারা কয়দিন পর পর কুয়ার ব্যাঙ এর মতো কুয়ার থেকে বেরিয়ে এসে একটা তা-ব সৃষ্টি করে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আবার ইঁদুরের মতো পাগড়ির লেজ হাওয়ায় উড়িয়ে গর্তে লুকায়। এরা না পারছে মানবতার কল্যাণ করতে, না পারছে নিজেদের কল্যাণ করতে। কাজেই এরা নিজেরা নিজেদেরকে ছোট করেছে। আমরা বরং তাদেরকে ডেকে ডেকে এনে বড় করার চেষ্টা করছি। আমরা বলছি, আপনারা ধর্মব্যবসা থেকে হালাল উপার্জন করেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তাহলে আপনারা আল্লাহর কাছে বড় হবেন, মানুষের কাছে বড় হবেন। কিন্তু তারা এ ক্ষুদ্র স্বার্থে ধর্মব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক ক্ষুদ্র হয়ে গেছেন। আজকে মুর্দা দাফন করলে তাদেরকে প্রয়োজন, বাচ্চার নাম রাখার জন্য তাদের ডেকে আনে, তাদেরকে আর কোনো কাজে সমাজের প্রয়োজন নাই। একজন অপরাধীকে অপরাধীকে হিসেবে চিহ্নিত করা কি তাকে ছোট করা হয়? মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী এই ধর্মব্যবসায়ীরা।

অনেকে বলে থাকে, কিছুদিন পর পূর্বে যারা জঙ্গি হয়েছে তাদের মত আপনারাও সন্ত্রাস করবেন না তার প্রমাণ কী?2016-12-06T11:48:24+06:00

 এ কথাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এরা হঠাৎ করে এ দেশে সৃষ্টি হয়েছিল আর হঠাৎ করে সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটিয়েছিল। মানুষ তাদের সম্পর্কে জেনেছেই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের দ্বারা। পক্ষান্তরে হেযবুত তওহিদ ২০ বছর ধরে এ দেশে কাজ করছে। এ ধরণের কথাবার্তা হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অন্যায়। আমাদের সম্পর্কে এ ধারণা করার মূল কারণ আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার হয়েছে।
বাংলা ভাইকে আজ এত গালাগালি করা হয়, মন্দ বলা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে যারা গণতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক ধারার রাজনীতি করছেন তারা কি নৃশংসতা, সন্ত্রাস, সহিংসতার দিক থেকে বাংলা ভাইকে ছাড়িয়ে যান নি? ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও পর ডান বলেন, বাম বলেন, সেকুলার বলেন এ পর্যন্ত যারা এদেশে রাজনীতি করেছেন তারা বাংলা ভাইকে ছাড়িয়ে গেছেন অনেক আগেই। বাংলা ভাই কয়টা লোক মেরেছেন, কয় জায়গায় বোম মেরেছেন, কয়জন ছাত্র হত্যা করেছেন, কয়জন মানুষ গুম করেছেন? তার তুলনায় গত ৪৪ বছরে এই রাজনীতিকরা কী করেছেন? কাজেই বলব, নিজের দিকে একটু তাকান, তারপর অন্যদের দিকে তাকাবেন। হেযবুত তওহীদকে এসব বাংলা ভাইদের সঙ্গে মিলিয়ে লাভ নেই। বাংলা ভাইদের উত্থানের বহু আগে থেকে এদেশে হেযবুত তওহীদ আছে। তাদের উত্থানের পর যখন গণমাধ্যমগুলো তাদের বিরুদ্ধে একচেটিয়া লিখতে লাগলো তারা হয়ে গেল ভিলেন। তাদের সম্পর্কে মানুষের মনে ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো। এরপর থেকে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা যেখানেই কাজ করতে যেত, বহু স্থানে তাদেরকেও জে.এম.বি. সন্দেহ করে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে অন্তত চার শতাধিক মামলা হয়েছে যেখানে হেযবুত তওহীদকে জঙ্গি সন্দেহে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে, সেগুলোতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে হেযবুত তওহীদকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পত্রিকায় হাজার হাজার সংবাদ ছাপা হয়েছে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে যেখানে বিভিন্ন নিষিদ্ধ দলের সঙ্গে হেযবুত তওহীদকে সুকৌশলে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু লাভ হয় নি। তদন্তে প্রতিবারই হেযবুত তওহীদ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। যে আন্দোলনটা ২০ বছর যাবত কোনো আইন ভঙ্গ করে নি, কোনো অন্যায় করে নি, জীবন সম্পদ দিয়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে, নিজেদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে কতবড় নির্লজ্জ হলে তারা বাংলা ভাইদের সাথে হেযবুত তওহীদকে মেলায়? যারা এ প্রশ্নগুলো করে তাদের চরিত্র কী এ ৪৪ বছরে? এদেশে বামদের ইতিহাস আমরা জানি, নকশালপন্থী সর্বহারাদের ইতিহাস আমরা জানি, এদেশে যারা গণতন্ত্র করে তাদের ইতিহাস আমরা জানি। ২০১৩ সালে এই গণতান্ত্রিকরা ও ধর্মব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে যে তা-ব করেছে ১০০ বাংলা ভাইও একাজ করতে পারবে না। সত্য কথা তিতা হলেও বলতে হবে, না হলে মিথ্যা কখনও দূরীভূত হবে না।

এমামুয্যামান এবং বর্তমান এমাম কোন মাদ্রাসায় পড়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বদানে তাদের যোগ্যতা কী?2016-12-06T11:47:35+06:00

 তাঁরা কেউই মাদ্রাসায় পড়েন নি। আল্লাহ রসুলের সময় বর্তমানের মতো কোনো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ছিল না। সুতরাং মাদ্রাসায় না পড়লেই যে ইসলাম সম্পর্কে কথা বলতে পারবে না, এমন ধারণা অযৌক্তিক। বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে যে মাদ্রাসাগুলো আপনারা দেখতে পাচ্ছেন সেগুলো আল্লাহর নাজেল করা প্রকৃত ইসলাম শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়। এটা হলো একটি বিকৃত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম জাতিকে রাজনীতিক ও ধর্মীয় নানা মতে পথে বিভক্ত করে পদানত করে রাখার একটি ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র। ব্রিটিশরা যখন আমাদেরকে পদানত করেছিল তখন তারা আমাদেরকে একটি বিকৃত ইসলাম শিক্ষা দেয়ার জন্য এই মাদ্রাসাগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিল, তারাই এর সিলেবাস কারিকুলাম সব তৈরি করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমরা যেন আর কোনোদিন ইসলামের সেই নীতি আদর্শের দিকে ফিরে না যাই, শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করতে না পারি। ব্রিটিশদের তৈরি বিকৃত ইসলাম শিখেই মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি, বিকৃত ইসলামের আলেমরা, যারা ফতোয়াবাজী, মাসলা-মাসায়েল, ফেরকা-মাযহাব ইত্যাদি নিয়ে নিজেরা দ্বন্দ্ব, বাহাসে, দলাদলিতে লিপ্ত থাকে। দেশ জাতি ধ্বংস হয়ে গেলেও সেদিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকে না। তারা কোনোদিন মানবতার কল্যাণে এতটুকু ভুমিকা রাখতে পারে নি। হয়তো দু একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারেন যারা মানবতার মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন তবে সেটা অন্য কোনো মহান ব্যক্তির দ্বারা দীক্ষিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে, মাদ্রাসার শিক্ষার প্রভাবে নয়। ধর্মব্যবসা করেই তাদের জীবন চলে। কাজেই আল্লাহ রসুলের বর্ণনা মোতাবেক এ শ্রেণির আলেমরা হলো আসমানের নিচে নিকৃষ্টতম জীব। সুতরাং এসব মাদ্রাসায় যে আমরা পড়ি নাই এ জন্য আল্লাহর শোকর। আমাদের এমামুয্যামান ও মাননীয় এমামের যোগ্যতা হলো- তাদেরকে আল্লাহ রব্বুল আলামিন সত্য মিথ্যার পার্থক্য করার জ্ঞান দান করেছেন এবং সত্য পথে সংগ্রাম করার তওফিক দান করেছেন। এ থেকে বড় যোগ্যতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর নাই।

“আপনারা এসলামের কথা বলেন, কিন্তু আপনাদের সাড়ে তিন হাত শরীরেই তো ইসলাম নাই?”2016-12-06T11:46:07+06:00

এই প্রশ্নটি আমাদেরকে প্রায়ই করা হয়। আমরা অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি যে “শরীরে ইসলাম নাই” বলতে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? তারা বলেছেন, ‘আপনাদের দাড়ি নাই, টুপি নাই, পাগড়ি নাই, গায়ে জোব্বা নাই। আগে নিজেদের শরীরে ইসলাম কায়েম করতে হবে, তারপরে দুনিয়াতে কায়েম করার প্রশ্ন’। এ প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই আমি বলব, ইসলাম আসলে কি এবং কেন, তা আগে আমাদের বুঝতে হবে। এটা পরিষ্কার হলে আমরা বুঝতে পারব আসলে দাড়ি, টুপি, পাগড়ির সাথে এসলামের সম্পর্ক কতটুকু।
ইসলাম শব্দটি এসেছে ‘সালাম’ থেকে যার অর্থ শান্তি। শান্তি ও ইসলাম সমার্থক। সমস্ত রকম অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, মারামারি, রক্তপাত থেকে মানবজাতির মুক্তির জন্য আল্লাহ আদম থেকে শুরু করে শেষ রসুল পর্যন্ত সকল নবী-রসুল-অবতারদের মাধ্যমে যে জীবন-ব্যবস্থা পাঠিয়েছেন তার নাম আল্লাহ রেখেছেন ইসলাম। সকল সত্যই ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। সত্য হচ্ছে শান্তির উৎস, মিথ্যা যাবতীয় অশান্তির উৎস। আল্লাহর দেওয়া এই সত্যময় জীবন-ব্যবস্থা, দীনুল হক যদি মানুষ পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিচার-ব্যবস্থায় অর্থাৎ তার সমগ্রিক জীবনে চর্চা করে তাহেেল তারা শান্তিতে থাকবে। এই শান্তির নামই ইসলাম। ১৪০০ বছর আগে এই শান্তি এসেছিল অর্ধেক দুনিয়াতে।
এই হল ইসলাম শব্দের শাব্দিক ও প্রায়োগিক অর্থ। এই ধারণা মোতাবেক এসলামের সাথে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জুব্বার সম্পর্ক কোথায়? ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থা অর্থাৎ রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুই ইসলাম নামক জীবন-ব্যবস্থার এক একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং যারা আমাদের শরীরে ইসলাম নাই এই প্রশ্ন করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন একটি দেশের সব মানুষ যদি দাড়ি রাখে, টুপি পরে, জোব্বা গায়ে দেয় কিন্তু তাদের সামষ্টিক জীবনের ঐ বিষয়গুলো যদি এসলামের না হয় তাহলে কি সেই দেশে শান্তি এসে যাবে? আসবে না। কারণ ইসলাম আসার আগেও আরবের মানুষগুলো আরবীয় পোশাকগুলো পরত, তাদেরও দাড়ি ছিল। আসলে এই শেষ দীনে কোন নির্দিষ্ট পোষাক হতে পারে না, কারণ এটা এসেছে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের জন্য। পৃথিবীর মানুষ প্রচ- গরমের দেশে, প্রচ- শীতের দেশে, নাতিশীতোষ্ণ দেশে, অর্থাৎ সর্বরকম আবহাওয়ায় বাস করে, এদের সবার জন্য এক রকম পোষাক নির্দেশ করা অসম্ভব। তা করলে এ দীন সমস্ত মানব জাতির জন্য প্রযোজ্য হতে পারত না, সীমিত হয়ে যেতো। তাই আল্লাহ ও তার রসুল (দ.) তা করেনও নি। বিশ্বনবীর (দ.) সময়ে তার নিজের এবং সাহাবাদের পোষাক-পরিচ্ছদ ও তখনকার আরবের মোশরেক ও কাফেরদের পরিচ্ছদ একই ছিল। বর্তমানেও আরবে মুসলিম আরব, খ্রিষ্টান আরব ও ইহুদি আরবদের একই পোষাক-পরিচ্ছদ। দেখলে বলা যাবে না কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান আর কে ইহুদি। এসলামে পোশাকের ব্যাপারে আল্লাহ এমন বিশ্বজনীন একটি নীতি দিয়েছেন যা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষের জন্যই অনুসরণযোগ্য, সেটা হচ্ছে তিনি পুরুষদের জন্য সতর নির্দ্ধারণ করেছেন নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত (এ নিয়েও মতভেদ আছে)। আল্লাহ বা রসুল কেউই বলে দেন নি যে দেহের এই স্থান কী পোশাক দিয়ে আবৃত করতে হবে।
টুপি ইহুদী, শিখ বা অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুরাও পরেন, তাদেরও দাড়ি আছে, তারাও জুব্বা পরেন, তাদের অনেকেই পাগড়ি পরেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাড়ি, টুপি, জোব্বা সবই ছিল। আল্লাহর অস্তিত্বে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী হিসাবে পরিচিত অনেকেরই দাড়ি ছিল যেমন কার্ল মার্কস, চার্লস ডারউইন, আব্রাহাম লিঙ্কন প্রমুখ। হয়ত বলতে পারেন তাদের টুপি, জুব্বা, পাগড়ি, দাড়ি মুসলিমদের মত না। হ্যাঁ, তা হয়ত ঠিক, কিন্তু টুপির আকার-আকৃতি ও রং নিয়ে, জুব্বার আকার-আকৃতি নিয়ে, পাগড়ির রং, দাড়ির পরিমাণ ইত্যাদি নিয়ে আলেম ওলামাদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধে গিয়ে মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়া একপ্রকার মুর্খতা বলেই আমরা মনে করি। গত কয়েক শতাব্দী ধরে এ জাতির দুর্ভাগ্যজনক পরাজয়ের কারণ এগুলিই। অথচ এটা ইতিহাস যে রসুলের সাহাবিদের অনেকেরই গায়ে জোব্বা তো দূরের কথা ঠিকমত লজ্জাস্থান ঢাকার মত কাপড় সংস্থান করতেও কষ্ট হতো।
কোন সন্দেহ নেই, বিশ্বনবী (দ.) তার অনুসারীদের একটা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের দাড়ি রাখতে বলেছেন। কেন বলেছেন? এই জন্য বলেছেন যে, তিনি যে জাতিটি, উম্মাহ সৃষ্টি করলেন তা যেমন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি তেমনি বাইরে থেকে দেখতেও যেন এই উম্মাহর মানুষগুলি সুন্দর হয়। আদিকাল থেকে দাড়ি মানুষের পৌরুষ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আছে। সিংহের যেমন কেশর, ময়ূরের যেমন লেজ, হাতির যেমন দাঁত, হরিণের যেমন শিং, তেমনি দাড়ি মানুষের প্রাকৃতিক পৌরুষ সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য নষ্ট না করার উদ্দেশ্যেই দাড়ি রাখার নির্দেশ।
দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জোব্বা ইত্যাদিকে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিষয় বলছি না বা কোন রকম অসম্মানও করছি না। আমরা শুধু বলছি এই দীনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আজ যেমন উল্টো হয়ে গিয়েছে তেমনি এর বাহ্যিক দিকটিও বিকৃত দীনের আলেমরা অপরিসীম অজ্ঞতায় উল্টে ফেলেছেন। দাড়ি রাখা, বাহ্যিক পোষাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি এই দীনের বুনিয়াদী কোন ব্যাপার নয় অর্থাৎ ফরদ নয়, সুন্নত। তাও রসুলের একেবারে ব্যক্তিগত সুন্নত যে ব্যাপারে রসুলাল্লাহ তাঁর একটি অন্তীম অসিয়তে বলেছেন, হে মানবজাতি! আগুনকে প্রজ্জলিত করা হয়েছে এবং অশান্তি অন্ধকার রাত্রির মতো ধেয়ে আসছে। আল্লাহর শপথ, আমি আমার থেকে কোনো কাজ তোমাদের উপর অর্পণ করি নি, আমি শুধু সেটাই বৈধ করেছি যেটা কোরা’আন বৈধ করেছেন, আর শুধু সেটাই নিষেধ করেছি যেটা কোর’আন নিষেধ করেছে। রসুলাল্লাহর প্রথম জীবনীগ্রন্থ সেরাত ইবনে ইসহাকে এ কথাটি আছে। সুতরাং দাড়ি-টুপি (লেবাস) যদি এই দীনের কোন ফরদ বা বুনিয়াদী বিষয় হতো, তবে কোর’আনে একবার হলেও এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হতো। আল্লাহর রসুল এটা সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে- আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক অবস্থা, পোশাক, চেহারা বা সম্পদ কোন কিছুর দিকেই দৃষ্টিপাত করেন না, তিনি দেখেন তোমাদের হৃদয় এবং তোমাদের কাজ। [আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মুসলিম]।
তাই ‘দাড়ি এসলামের চিহ্ন’, ‘দাড়ি না রাখলে এসলামের কথা বলা যাবে না’ এ ধারণা সঠিক নয়। সেজন্য হেযবুত তওহীদে কেউ যদি দাড়ি রাখতে চায় আমরা এটুকুই বলি, যদি দাড়ি রাখেন তবে, রসুল যেভাবে দাড়ি রাখতে বলেছেন সেভাবে রাখুন যেন সুন্দর, পরিপাটি (ঝসধৎঃ) দেখায়। রসুলাল্লাহর যে কোনো সুন্নাহই কল্যাণকর, তাই ব্যক্তিগত জীবনেও রসুলাল্লাহর যা কিছু অনুসরণ করা হবে তাতে মানুষ কল্যাণ পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আগে কোনটা? আজ সারা পৃথিবীতে কোথাও আল্লাহকে বিধানদাতা হিসাবে মানা হচ্ছে না। মুসলিম নামের এই জনসংখ্যাও পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতাকে বিধাতার আসনে বসিয়ে রেখেছে। এ কারণে আল্লাহর দৃষ্টিতে তারা কাফের-মোশরেক হয়ে আছে। আল্লাহর রসুল বলেছেন, এমন সময় আসবে যখন মানুষ তাহাজ্জুদ পড়বে কিন্তু ঘুম কামাই করা হবে, সওম রাখবে কিন্তু না খেয়ে থাকা হবে (হাদিস)। রসুলাল্লাহ বর্ণিত সেই সময়টি এখন। যেখানে তাহাজ্জুদ, সওমের মত একনিষ্ঠ আমলও বৃথা যাবে, সেখানে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জোব্বার মত আমল গৃহীত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

আপনারা যে কাজ করছেন তা প্রশংসনীয় কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসায় করছেন না কেন?2016-12-06T11:44:15+06:00

আসলে বর্তমানে মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা হচ্ছে, ইসলাম মানেই দাড়ি, টুপি, মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম ওলামা, সুর করে কোর’আন তেলাওয়াত, আযান দেয়া, হজ্জ করা ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলাম শব্দের অর্থ হলো শান্তি অর্থাৎ ন্যায়বিচার, ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শৃংখলা, আনুগত্য, কোথাও অভাব নেই, অনটন নেই, দুঃখ নেই, যন্ত্রণা নেই এমন একটা পরিস্থিতির নাম ইসলাম। এই ১৬ কোটি বাঙালি কি মসজিদ মাদ্রাসায় বসবাস করে? না, তারা প্রেসক্লাবে থাকে, উপাসনালয়ে থাকে, সিনেমা হলে থাকে, সংসদে থাকে, ঘরে থাকে, তারা হাটে থাকে, বাজারে থাকে, রাস্তাঘাটে থাকে, অনেক আপত্তিকর জায়গায়ও তারা সর্বত্র থাকে। মানুষ যেখানে আছে সেখানেই সত্য পৌঁছানো আমাদের কর্তব্য। ইসলামের মানে বুঝতে হবে। ইসলাম মানে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি পায়জামা নয়। ইসলামকে এখানে বন্দী করা হয়েছে।
আমরা মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ করছি না, এটা সম্পূর্ণ সত্য নয়। বেশ কিছু মাদ্রাসায় আমরা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে করেছি। পত্রিকা তো যাচ্ছেই। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কাজ করা আমাদের নীতি নয়। আমরা আমাদের কর্মকা-ে সর্বশ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততা আশা করি। কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসায় যারা থাকেন তাদের অধিকাংশই ধর্মব্যবসায়ী এবং আমরা ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছি। এ কারণে ধর্মব্যবসায়ীরা আমাদের কাজে সহযোগিতা করা দূরে থাক, গত ২০ বছর ধরে ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। এখনও তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তথাপিও আমরা আশাবাদী যে সত্যনিষ্ঠ আলেমদের সহযোগিতা পেলে মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ব্যাপক আকারে কাজ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।

আপনারা কত সালে সরকারকে প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন?2016-12-06T11:43:13+06:00

আমাদের এমামুয্যামান সরকারকে বেশ কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে পত্র মারফত প্রস্তাবনা দিয়েছেন। ১৮ মে ২০০৮ এ তিনি প্রথম চিঠিটি দেন হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমের বিষয়ে সরকারকে কোনো সুস্পষ্ট নীতি অর্থাৎ ঈড়হংরংঃধহপব ঢ়ড়ষরপু গ্রহণ করে একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়ার প্রস্তাব করেন। তখন দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। পরে যখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলো, তিনি আবারও সেই প্রস্তাবনা নতুন সরকারকে প্রেরণ করেন। জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়ে এমামুয্যামান চিঠি প্রেরণ করেন ২২ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে। তিনি সে প্রস্তাবনায় বলেছিলেন শক্তি প্রয়োগে জঙ্গি দমন সম্ভব নয়। সেটার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। আজ পর্যন্ত দমন হয়নি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু ভুল পথেই এখনো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে সরকারের বিপুল অর্থ ও সময়।

মানবজাতি তো এক জাতিই আছে? তাদেরকে আবার নতুন করে একজাতি করতে হবে কেন? আপনারা কি তাহলে ভৌগোলিক সীমাকে অস্বীকার করছেন?2016-12-06T11:40:29+06:00

হ্যাঁ। সৃষ্টি বা ক্রিয়েচার হিসাবে পৃথিবীর সমস্ত গরু যেমন এক জাতি, তেমনি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এক জাতি। এই হিসাবে আপনার কথা ঠিক আছে। কিন্তু গরুরা গরুদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না, একের অধিকারে অন্যে হস্তক্ষেপ করছে না। মানুষ সেটা করছে তাই কার্যত তারা এক জাতি নেই, তারা হাজার হাজার দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। এদের সবাইকে একতাবদ্ধ না করা গেলে রক্তপাত, হানাহানি বন্ধ হবে না- এটাই আমরা বলতে চাই। আমরা পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতিকে বলছি যে, তোমরা এক জাতি আরেক জাতিকে হামলা করো না, ধ্বংস করো না, খনিজ সম্পদ লুটে নিও না, পানি আটকে রেখে কষ্ট দিও না, সেও তোমার ভাই, সেও মানুষ। আল্লাহ সৃষ্টি আলো, বাতাস, পানিতে তোমার যেমন অধিকার তেমনি তারও অধিকার। তুমি যে আল্লাহর সৃষ্টি, সেও ওই আল্লাহরই সৃষ্টি। তোমরা উভয়ই আদম-হাওয়ার সন্তান। ভাই-ভাই লড়াই করলে পিতা-মাতা যেমন খুশি থাকতে পারে না তেমনি তোমাদের ভ্রাতৃঘাতী লড়াই দেখে তোমাদের আদি পিতা-মাতা কষ্ট পাচ্ছেন। তোমরা এক জাতি। এই যে ধারণা- আমরা সকলের মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টি করতে চাই যে, ধারণাগতভাবে, অনুভূতির দিক থেকে সকল মানুষই এক জাতি।
তখন মানুষ চিন্তা করবে যে, তাদের বর্ডার তারা রাখবে কিনা, দুই ভাইয়ের বাড়ির মাঝে কোনো বেড়া থাকবে কি থাকবে না, সেটা সময়ই বলবে। এখানে তো বর্ডার তুলে ফেলার বা সরকার সরিয়ে ফেলার কোনো প্রশ্ন আসছে না। আমরা তো আসল কাজটিই করতে পারছি না। আমরা চাই একজাতির ধারণা সৃষ্টি করতে। বর্তমানে আমেরিকানরা চিন্তা করছেন ইরাকিরা মরলে মরুক, আমেরিকানরা বেঁচে থাকলেই হলো, আবার ভারতীয়রা হয়তো ভাবছেন, পাকিস্তানিরা মরলে মরুক, আমরা বাঁচলেই যথেষ্ট। আমরা এই ভাবনাটাকে অস্বীকার করে, আমরা ভাবতে চাই, তারাও আমার ভাই। আমার ভাই মরুক এটা আমি চাই না। এই ধারণাটা সবার মধ্যে আসলে মনের মধ্যে যে বর্ডার সেটা লুপ্ত হয়ে যাবে, তখন কাঁটাতারের বর্ডার কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে বলে মনে করি না। তখন একদেশের সীমানায় নদীতে বাধ দিয়ে ভাটির দেশকে মরুকরণ করা হবে না। সেটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ। আমাদের নিজেদের দেশের মধ্যে তো কোনো বর্ডার নেই। তাহলে আগে আমরা এই ষোল কোটি এক হই না কেন? আমাদের মধ্যেও তো এই ভ্রাতৃত্বের ধারণা নেই। আমরা ভাবি অমুকে আওয়ামী লীগ, অমুকে বিএনপি, অমুকে হিন্দু, অমুকে চাকমা। আগে তাদের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হতে হবে যে, আমরা ভাই ভাই। আজ হিন্দুর ঘরে মুসলিম খায় না, প্রতিবেশী বাঙালির ঘরে আগুন দেয় চাকমা, চাকমাকে আক্রমণ করে বাঙালি। আগে এই দেওয়াল ভাঙতে হবে। তাদের বুঝতে হবে, স্রষ্টার কোনো জাত নেই, তাই মানুষেরও কোনো জাত নেই। সবাই একজাতি, কেউ উপজাতি নয়, কেউ সংখ্যালঘু নয়। এক মানুষের ঘরে আরেক মানুষ খেলে কারো জাত যাবে না। এই ধারণাই তো হয় নি এখনও, এটা আমরা সৃষ্টি করতে চাই। এই শিক্ষাটা ব্যাপকভাবে প্রসার করে আমরা ধারণাগতভাবে (ঈড়হপবঢ়ঃঁধষষু) মানবজাতিকে একজাতি করতে চাই।

দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে আপনাদের মূল্যায়ন কী? এই যুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কতজন বলে আপনারা মনে করেন?2016-12-06T11:39:44+06:00

এটি দুঃখজনক বিষয় যে আমাদের দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কি ইসলামের চেতনার পক্ষে হয়েছে না বিপক্ষে হয়েছে– এ প্রশ্নের সমাধান আজও হয় নি। অধিকাংশ আলেম মনে করেন ইসলামের চেতনার বিরুদ্ধে হয়েছে, অন্যরা মনে করেন এর সঙ্গে ইসলামের কোনো স¤পর্ক নেই। এ প্রশ্নটি নিয়ে ৪৪ বছর পরও রাজনীতি ও ধর্মব্যবসা দুটোই চলমান আছে। আমরা যতই একাত্তরের চেতনা নিয়ে আবেগ প্রদর্শন করি না কেন, ধর্মের প্রশ্নে এসে সেই আবেগ, জাতীয় ঐক্য দেশপ্রেম দ্বিধাবিভক্ত ও পরাজিত হতে বাধ্য। তাই এ প্রশ্নের সমাধান হওয়াটা জরুরি।
উত্তরবঙ্গের জনৈক পুলিশ সুপার হেযবুত তওহীদের একজন সদস্যকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনারা একাত্তর সাল (মুক্তিযুদ্ধ) স্বীকার করেন কিনা? আবার এক জায়গায় জিজ্ঞাসা করা হয়, একাত্তর সালে বাংলাদেশের কয়জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মনে করেন? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন আরও অনেক প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হয়েছে আমাদের। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী চেতনা নাম দিয়ে যে বিতর্ক ও বিভক্তি বছরের পর বছর জিইয়ে আছে, তা কারা কী উদ্দেশ্যে জিইয়ে রেখেছে সেটাই এক দুর্বোধ্য বিষয়।
এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী আছেন যারা অবিশ্রান্ত প্রচারণা চালিয়ে একটি মতবাদ প্রায় প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন যে, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ধর্মের বিরুদ্ধে, বিশেষত ইসলামের বিরুদ্ধে। অতঃপর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইসলামপন্থীরা পরাজিত হয় আর ধর্মবিরোধীদের উত্থান ঘটে।’ যারা এই প্রচারণায় প্রভাবিত তারা যখন হেযবুত তওহীদকে ধর্মের কথা বলতে শোনেন, ইসলামের কথা বলতে শোনেন, তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের উদ্রেক হয় যে, হেযবুত তওহীদ মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে কিনা। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি ’৭১ এর যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে হয় নি, ধর্মের বিরুদ্ধে হয় নি, যুদ্ধ হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়, অবিচার, যুলুম, বঞ্চনা, শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে। এখনও অনেক মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন, তারা কেউই বলেন না যে, তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আসলে লক্ষ লক্ষ বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ন্যায়, শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, নিজেদের অধিকার আদায় করতে। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা ধর্মকে অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো, ধর্মের নাম করে অধর্ম করতো, বাঙালিরা লড়েছে সেই অধর্মের বিরুদ্ধে। সুতরাং ন্যায়, শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার লড়াইকে হেযবুত তওহীদ অস্বীকার করতে পারে না, কেননা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা পৃথিবীতে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসলামের আলোকে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে বিবেচনা করতে গেলে প্রথমেই আমাদেরকে দেখতে হবে এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটটা কী। ইতিহাস যদি আমরা ভুলে যাই তাহলে বর্তমানকে উপলব্ধি করতে পারব না, আমার ভবিষ্যৎ গন্তব্যও বিভ্রান্তিময় হবে।
এ উপমহাদেশ দু’শ বছর ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। পুরো ভারতবর্ষকে শোষণ করতে করতে তারা সমৃদ্ধ হয়েছে, আর আমাদেরকে নিঃস্ব ভিখারি বানিয়েছে। তারা এখানে হিন্দু-মুসলিম শত্র“তা ও দাঙ্গা সৃষ্টি করেছে। এভাবে আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে দুটি মেরু সৃষ্টি করেছিল সেই ব্রিটিশরাই যারা নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষতার অবতার মনে করে। তারাই বানিয়েছিল কংগ্রেস আর মুসলিম লীগ। এভাবে উপমহাদেশে তারা সাম্প্রদায়িকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতেই তারা ভারতবর্ষের মানচিত্রে দেশবিভাগ ঘটিয়েছে- হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান। এ ছিল এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র যার ফলে এই উপমহাদেশে আজও বিরাজ করছে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় শত্র“তার সম্পর্ক।
দেশবিভাগের সময় পাকিস্তানের নেতারা দাবি করলেন যে, পাকিস্তান হবে ইসলামী রাষ্ট্র, নাম দিল ওংষধসরপ জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ চধশরংঃধহ, কিন্তু বাস্তবে তারা কী করলেন? তারা আল্লাহর সাথে, ঈমানদার মানুষের সাথে ও মানবতার সাথে গাদ্দারি করে ভোগ-বিলাসে গা ভাসিয়ে দিলেন পূর্বতন ভাইসরয়দের মতোই। পূর্ব পাকিস্তানকে উপনিবেশ বানিয়ে ব্রিটিশদের মতই শোষণ করতে লাগলেন। এ দেশের মানুষকে তারা মানুষই মনে করলেন না, এদের ভাষাকেও তারা পরিবর্তন করে দিতে চাইলেন। এভাবে চব্বিশটি বছর বঞ্চনার শিকার হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণ, যাদের অধিকাংশই পাকিস্তানীদের মতই মুসলিম বলে পরিচয় দেয়। এই বঞ্চিত মানুষগুলোর মনে ক্ষোভ থাকাটা অস্বাভাবিক ছিল না। অত্যাচারিত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে সেখানে শক্তির বিস্ফোরণ হয় এটাই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক। কাজেই পাকিস্তানি শাসকদের ধর্মের নামে প্রতারণা, সামরিক শাসন, অবিচার, অত্যাচারের চূড়ান্ত পরিণতিই একাত্তরের যুদ্ধ। যুদ্ধ ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের কোনো উপায় ছিল না। রাজনৈতিকভাবে বহু সমাধানের চেষ্টা করেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের পক্ষে থেকে কোনো ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায় নি। বঙ্গবন্ধু ’৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু সেই বিজয়কে অস্বীকার করা হয়েছিল। উপরন্তু ২৫ মার্চ রাতে অতর্কিত হামলা করে নির্মমভাগে কথিত ‘মুসলিম’ ভাইদের উপর গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। সুতরাং আত্মরক্ষার প্রশ্নেও যুদ্ধ সর্ববিধানে বৈধতা পায়। আর অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে পড়ে পড়ে মার খাওয়াকে কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না।
তাছাড়া পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান – হাজার মাইল দূরত্বে অবস্থিত এই দুটি ভূখ- কোনোভাবেই একসাথে চলতে পারত না। ভাষা, পোশাক, আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি সব দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান ছিল পৃথক। একটি মাত্র ঐক্যসূত্র হতে পারত ধর্ম। কিন্তু প্রকৃত ইসলাম তো হারিয়েই গেছে ১৩০০ বছর পূর্বেই। তথাপি যে ইসলামের ধুয়া তুলে তারা সাতচল্লিশে ভাগ হলো সেই চেতনাকেই কবর দিয়ে, একমাত্র ঐক্যসূত্রকে ছিঁড়ে ফেলে ব্রিটিশদের মতো ঔপনিবেশিক শাসননীতি চালিয়ে পাকিস্তান কী করে এই দেশকে নিজেদের আয়ত্ব রাখতে পারত? অধিকন্তু দেশটি যখন পাকিস্তানের বৈরী দেশ ভারতের পেটের ভেতরে, তখন এই বিচ্ছিন্নতা ৭১ সালে হোক আর তার পরেই হোক, সেটা হতোই। এটা বুঝেই তারা যতটুকু পেরেছে এদেশটিকে ধ্বংস করেছে, এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে।
এই বাস্তবতাকে যারা অস্বীকার করবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। মনে রাখতে হবে যারা অন্যায় করে, অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়, যুলুম করে তারা কখনও মুসলিম হতে পারে না। তারা যতই নামাজ পড়–ক, রোজা রাখুক, হজ্ব করুক, কোনো মুসলিম তাদেরকে ভাই বলে গণ্য করতে পারে না। তাদের একটাই পরিচয় তারা ইসলামের শত্র“, আল্লাহর শত্র“, লেবাস-সুরত তাদের যেমনই হোক। তাছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা এ দেশের মুসলিমদেরকেও যে ভাই মনে করতো না তার প্রমাণ তারা নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদির মাধ্যমে দিয়েছে। ভাই কখনও ভাইয়ের বুকে গুলি চালাতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতেও যারা ধর্মের অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধকে, স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে তারা ধর্মান্ধ ছাড়া কিছু নয়। আবার যারা একাত্তরকে অবলম্বন করে ধর্মবিদ্বেষী চেতনার বিস্তার ঘটাচ্ছে নিঃসন্দেহে তারাও দেশবাসীর সাথে প্রতারণা করছে। আমরা এই ধর্মান্ধতা ও ধর্মবিদ্বেষ উভয়কেই পরিত্যাজ্য মনে করি।
একইভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আমাদের মতামত জানতে চান তাদেরকে বুঝতে হবে যুদ্ধে তিরিশ লক্ষ নিহত হোক কিংবা তিনজন নিহত হোক, অন্যায়ভাবে একজন মানুষ হত্যা করাও ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহর দৃষ্টিতে একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা করার সমান। অন্যায় অন্যায়ই, তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে বলে অন্যায়কারী হবে, একজন মানুষকে হত্যা করলে অন্যায়কারীর লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পাবে তেমনটা মনে করার কারণ নেই। সুতরাং মৃতের সংখ্যা নিয়ে অহেতুক বিতর্কে যেতে আমরা রাজি নই।
এখন আমাদের কথা হলো- আমাদের স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দ বহু কষ্ট করে, বহু ত্যাগ তিতীক্ষার বিনিময়ে দেশকে শত্র“মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু কেন করেছিলেন সেটাই এখন মুখ্য বিষয়। তারা চেয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, বঞ্চনাহীন একটি শান্তিময় জীবন এ জাতিকে উপহার দিতে, সেটা আমরা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারলাম। নাকি আজও আমরা সেই আগের মতোই কেঁদে চলেছি, নাকি অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ? এ প্রশ্নের মধ্যে আমাদের স্বাধীনতার সফলতা-ব্যর্থতার জবাব রয়েছে।
সত্য হচ্ছে স্বাধীনতার যুদ্ধ যে স্বপ্ন নিয়ে সেটার বাস্তবায়ন আমরা ৪৪ বছরেও দেখতে পাচ্ছি না। সেটা বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ, শুধু স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে গলাবাজি, রাজনীতি আর ব্যবসা করে দিনপার করলে চলবে না। জাতি আজ বহুধাবিভক্ত, ক্ষয়িষ্ণু, শক্তিহীন, ভঙ্গুর। তাদেরকে কেউ ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে নি বিগত ৪৪ বছরে। ফলে উন্নয়ন অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এক পা এগোলে আমরা দশ পা পিছিয়েছি, আগে গরিবের টাকা শোষণ করত পাকিস্তানী বুর্জোয়ারা, আর এখন করছে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদেরা, আমলা ও পুঁজিবাদী বুর্জোয়ারা। সুতরাং অন্যায়, অবিচার, শোষণের অবসান এখনো হয় নি। ’৭১ সলে সেই বুর্জোয় শোষকদের বিরুদ্ধে বঞ্চিত জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করলেন বঙ্গবন্ধু। এখন বর্তমানের এই বঞ্চিত, নিপীড়িত জনতাকে ধান্ধাবাজ রাজনীতিক ও ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কে ঐক্যবদ্ধ করবে? সেই কাজটিই করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ।
এখন একটাই কাজ, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কীসে কীসে অতীতে ঐক্যভঙ্গ করেছে সেগুলোর খতিয়ান নিয়ে তা পরিহার করতে হবে। আমরা দেখেছি এ জাতি সবচেয়ে বেশি বিভক্ত হয়েছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে অপরাজনীতিক কর্মকা-ের দ্বারা, রাজনীতিক দলগুলোর ক্ষমতার লড়াই আজও এ জাতিকে পিষে যাচ্ছে। এগুলো দূর করতে প্রয়োজন জাতির ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, একাত্তর ছিল বাঙালির জন্য আশীর্বাদ ও শিক্ষা, কারণ একাত্তর আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সেই ইতিহাস থেকে প্রেরণা নিয়ে আমরা যদি একাত্তরের আশীর্বাদকে কাজে লাগাতে না পারি তাহলে মুক্তিযুদ্ধ অপূর্ণাঙ্গ ও ব্যর্থ হয়ে যাবে। এখন আমাদের দেশকে আসন্ন সঙ্কট থেকে মুক্ত করতে হলে ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্ত্বা গঠন করতে হবে। এমতাবস্থায়, ১৬ কোটি বাঙালির ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তেমন ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়নিষ্ঠ জাতিসত্ত্বা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে হেযবুত তওহীদ। আমাদের অবস্থান মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করা না করা কিংবা স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্কের অনেক ঊর্ধ্বে।

হেযবুত তওহীদের মেয়েরা পত্রিকা বিক্রি করেন। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু শরিয়তসম্মত?2016-12-06T11:37:41+06:00

ধর্মব্যবসায়ী মোল্লারা বাস্তবেই মেয়েদেরকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্য বন্দী করে রাখতে চায়, হেযবুত তওহীদের বেলায় এ কথাটি বহুবার বহুভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মোল্লারা যখন ফতোয়া দেয়, তাদের কথাগুলি মানুষ আল্লাহ-রসুলের কথা বলেই বিশ্বাস করে। শিক্ষিত শ্রেণির এ এক অন্ধত্ব। তারা যাচাই করে না যে সেগুলি ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না। এটা বিবেচনা না করেই মানুষ ইসলামকে বর্বর, পশ্চাৎমুখী বলে অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ পর্দা প্রথার নামে যে জগদ্দল পাথর মোল্লারা মেয়েদের উপরে চাপিয়ে রেখেছে সেটা এসলাম সম্মত নয়। আমাদের নারী কর্মীরা যখন সত্য প্রচারে বা পত্রিকা বিক্রি করতে বের হয়, তাদেরকে অনেকেই প্রশ্ন করে, ‘তোমরা ঘর থেকে বের হলে কেন? মেয়েদেরকে রাস্তায় বের করে দিয়ে হেযবুত তওহীদ তো এসলামটা ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ আবার কেউ বলে, ‘রাস্তার মধ্যে এসলামের কথা বলে, এটা আবার কোন এসলাম? হকারি করে মেয়েরা, পত্রিকা বিক্রি করে মেয়েরা, এটা তো কোন দিন দেখি নি।’ অনেকে সময় তারা সন্দেহ করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ অফিসারও একই মন্তব্য করেন, ‘মেয়ে মানুষ পত্রিকা বিক্রি করে এমন কখনও দেখি নি।’
এইসব অদ্ভুত ও যুক্তিহীন প্রশ্নের একটাই অর্থ দাঁড়ায়- মেয়েরা ইটভাটায় দিনমজুরের কাজ থেকে শুরু করে দেশ পরিচালনা পর্যন্ত সবই কোরতে পারবে, কিন্তু এসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তারা ঘর থেকেও বের হতে পারবে না। জাতির এই মানসিক পক্ষাঘাত কবে ঘুঁচবে? এসলামের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতাই এ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আল্লাহর রসুলের সময় মেয়েরা রসুলের সঙ্গে যুদ্ধে পর্যন্ত গেছেন। তারা সামাজিক সকল কর্মকা-ে ভূমিকা রেখেছেন, মসজিদে পুরুষদের সঙ্গেই সালাতে অংশ নিয়েছেন, পরামর্শ সভায় পরামর্শ দিয়েছেন, হাসপাতালের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেছেন। রসুলের সময় সবকাজে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল অবারিত। অথচ আজ মেয়েদের কেবলই ঘরের কাজে আটকে রাখতে চায় ধর্মব্যবসায়ীরা। জাতির অর্ধেক শক্তিকে এভাবে অপচয় করে তারা জাতির ধ্বংস ডেকে এনেছেন এটা বোঝার শক্তিও তাদের নেই। আমাদের মেয়েরা পত্রিকা বিক্রি করেন এটা তাদের পেশা নয়, সংগ্রাম। এটি নারীমুক্তির একটি সোপান।

সমাজে যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না অর্থাৎ নাস্তিকরা তাদের মতবাদ প্রকাশ করবে, আপনারা কি তাদের এ স্বাধীনতা দিবেন?2016-12-06T11:37:06+06:00

আমাদের কথা হল মানুষকে আল্লাহ কণ্ঠ দিয়েছেন বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ কথা বলবে। মানুষকে আল্লাহ লেখার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ লিখবে। মানুষকে চিন্তার স্বাধীনতা দিয়েছেন, তাই মানুষ যে কোনো বিষয়ে চিন্তা করবে। এসব স্বাধীনতা আল্লাহ প্রদত্ত স্বাধীনতা, এতে কারোর হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। বাক-স্বাধীনতার সংজ্ঞায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন,  সমগ্র জাতির মতের বিরুদ্ধেও যদি আমার কিছু বলার থাকে সেটা আমি নির্ভয়ে বলতে পারব, এজন্য আমার কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। এই বাক-স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি, এবং একমাত্র সত্য ইসলাম এই স্বাধীনতা দিতে পারে। আর কেউ দিতে পারবে না, যদিও সবাই দাবি করে থাকে। যাই হোক, এই স্বাধীনতার মানে কিন্তু এটা নয় যে, আমি মিথ্যা কথা বলব। মিথ্যা কথা বলার অধিকার অবশ্যই বাক-স্বাধীনতা নয়। আপনি যদি কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করেন এবং সেটা যদি প্রমাণিত হয়, তবে অবশ্যই আপনাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। এখন আমরা প্রায়ই দেখি, মিডিয়ায় তিলকে তাল বানানো হয়, মানুষের কথাকে টুইস্ট করে বা অফ দ্যা রেকর্ড কথা প্রকাশ করা হয়, গোপনীয় বিষয় খুঁজে বের করা হয়, এভাবে মানুষের সারাজীবনের অর্জিত মান-সম্মান ধূলায় মিশে যায়। এটাও স্বাধীনতা নয়। এভাবে অন্যের মানহানি করা, জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, এসবের অনুমতি কোনো জীবনবব্যস্থাই দেয় না। হ্যাঁ, কেউ যদি ইসলামের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত, সত্য ইতিহাসভিত্তিক, তথ্যবহুল কিছু লিখেন সেটার স্বাধীনতা অবশ্যই থাকবে, কেউ তার কলমকে বন্ধ করতে পারবে না। কিন্তু কেউ যদি কোনো ধর্মের নবী-রসুল বা অবতারকে নিয়ে অমর্যাদাসূচক মিথ্যাচার করে, যা সমাজের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে সেটা নিশ্চয়ই বাক-স্বাধীনতা নয়, সেটা তথ্য-সন্ত্রাস। স্বাধীনতা তো সেটাই যেটা অন্যের স্বাধীনতাকেও সমুন্নত রাখে।

ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে অন্যান্য ধর্মের লোক কী করবে?2016-12-06T11:35:22+06:00

অন্যান্য ধর্ম বলতে কী বুঝাচ্ছেন আসলে? আমি তো অন্যান্য ধর্মকেও আমার ধর্ম বলছি। অন্যান্য ধর্ম বলে যে বিভক্তি সৃষ্টি করা হয় তা অসত্য ও অন্যায়। আমি বলছি ঈসা (আ.) আমার নবী, তাঁর অনুসারীরা আমার ভাই। মুসা (আ.) আমারও রাসুল, আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি, তাঁর নিদের্শাবলীকেও সত্য বলে শিরোধার্য মনে করি। মুসা (আ.) এর উম্মাহ বলে দাবিদার ইহুদিরা আমার বাবা আদম-হাওয়ারই সন্তান। মহাভারতে যারা এসেছেন কৃষ্ণ, মনু, যুধিষ্ঠির তাঁরাও একই স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসছেন, তাঁদের স্রষ্টা তো আলাদা স্রষ্টা নয়। তাঁদের কেতাবগুলো আমার আল্লাহরই পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই ওগুলো আমারও ধর্মগ্রন্থ। সনাতন ধর্ম মানে হল চিরন্তন শাশ্বত ধর্ম, ইসলামের একটি নাম দীনুল কাইয়্যেমা, তার মানেও চিরন্তন শাশ্বত জীবনবিধান। ধর্ম তো একটাই, আপনারা অন্য ধর্ম বলেন কেন? আমরা কোনো ধর্মের অনুসারীদের প্রতি তাচ্ছিল্য, বিদ্বেষ পোষণ করি না, আমাদের সংগ্রাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে – সেটা যে ধর্মের লোকই করুক, যে রাজনীতিক মতবাদের লোকই করুক। ইসলামের আকীদা মোতাবেক সকল নবী-রসুল ও তাঁদের আনীত কেতাবগুলোর উপর ঈমান আনা অবশ্য কর্তব্য বা ফরদ। একজন নবীকে শ্রদ্ধা করলাম আরেকজনকে অস্বীকার করলাম বা অশ্রদ্ধা করলাম তবে তো আমি মো’মেনই হতে পারব না। ইসলাম অর্থই শান্তি, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা মানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। জোর করে লেবাস চাপিয়ে দেওয়া নয়, একটি নির্দিষ্ট আইন-বিধান একটি জাতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া নয়। প্রত্যেক মানুষ যার যার বিশ্বাস নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবে। কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না, কেউ কারো অধিকার বিনষ্ট করবে না, কোনো মানুষ অপর কোনো মানুষের থেকে ক্ষতির আশঙ্কা করবে না। মেজরিটি, মাইনরিটি কথাগুলো ইসলামে নেই কারণ এসব কথা ভাইয়ের বেলায় খাটে না। আমার ভাইয়ের সম্পদ আর ইজ্জত রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।

আপনারা কি ইসলামিক দল?2016-12-06T11:34:44+06:00

হেযবুত তওহীদ অরাজনীতিক সংস্কারমূলক সামাজিক আন্দোলন। বর্তমানে ডানপন্থী-বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি বিভিন্ন ফরমেটের দল আছে, সেগুলোর গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি ইত্যাদির সঙ্গে তুলনা করা হলে হেযবুত তওহীদ ইসলামিক দল নয় আবার ধর্মনিরপেক্ষ দলও নয়। হেযবুত তওহীদের বক্তব্য, দর্শন, কর্মসূচি, কর্মপদ্ধতি সবই এর নিজস্ব।

মানবতার কথা বলেন আপনারা কি ইসলাম চান না?2016-12-06T11:34:08+06:00

আপনাদের আগে বুঝতে হবে ইসলামটা কি জিনিস? আমাদের অনেকের কাছেই ইসলাম মানে দাড়ি, টুপি, পায়জামা, মিলাদ, মিসওয়াক, ঢিলাকুলুক, মসজিদ, মাদ্রাসা, সুর করে কোর’আন তেলাওয়াত করা, মসজিদে মসজিদে আজান দেওয়া, দলে দলে মক্কায় যাওয়া এগুলোই ইসলাম। আসলে তা না। মানবতা ও ইসলাম একই সূত্রে গাঁথা। ইসলাম অর্থ শান্তি, শান্তি প্রতিষ্ঠা মানেই মানবতা প্রতিষ্ঠা। ইসলামের দাবি হচ্ছে সমাজে এমন একটা পরিস্থিতি থাকবে যে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাবে। আতঙ্ক নেই, ভয় নেই, কাল কী খাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই এমন একটা শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির নাম হলো ইসলাম। আজকে ধর্মব্যবসায়ীরা এটা বিকৃত করে ইসলামটাকে ঐ গুটিকয় ব্যক্তিগত আমল, রুচি-অভিরুচি, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচার-আচরণের মধ্যে বন্দী করে রেখেছে। সেজন্যই আজ এই প্রশ্ন উঠছে যে, আমরা কি মানবতা চাই না ইসলাম চাই। আসলে ধর্ম আর মানবতা একই কথা। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানেই মানবতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া। যেই মানবতার প্রতিষ্ঠা চায়, সে-ই ইসলাম চায়, সে হিসাবে পৃথিবীর সমস্ত পৃথিবীর মানুষ ইসলাম চায়, গুটিকয় দাঙ্গাবাজ শয়তান বাদে। হ্যাঁ, বলতে পারেন, মানবতাবাদী বহু আন্দোলন পৃথিবীতে আছে যারা ধর্মকে বাদ দিয়েই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, সেবামূলক কাজ করছে। তারা মিটিং, সিম্পোজিয়াম করছে, মানববন্ধন করছি কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত কোথাও মানবতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে। আজকাল তো ধর্মব্যবসার মত মানবতার ব্যবসাও হয়, এটা সরকারি-বেসরকারি-আন্তর্জাতিক সব ক্ষেত্রেই হয়। তাদের এ ব্যর্থতার কারণ তারা নৌকা ছিদ্র করে দিয়ে পানি সেচছেন। এটা কোনো কাজের কথা না। এটা ইতিহাস যে, মানুষ যখন স্রষ্টার দেওয়া বিধান, মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি মান্য করেছে সেখানেই মানবতা বিকশিত হয়েছে। তাকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ভালো মানুষ বানাতে হয় নি, সে সব সময় স্রষ্টার উপস্থিতি ও স্রষ্টার দৃষ্টির গ-ির মধ্যে আছে বলে বিশ্বাস করার কারণে যেখানে সে একা সেখানেও সেও নীতিভ্রষ্ট হয় নি, সে ভেবেছে আমি যদি এখন অন্যায় করি তাহলে আমাকে একদিন এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। মানুষ অন্য মানুষকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছে। অপরের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিল। সে উপলব্ধি করেছে যে আমি যেমন মানুষ সেও মানুষ। এই পৃথিবীর সকল উপাদানের উপরে আমার যেমন অধিকার রয়েছে মাটির উপরে অন্যদেরও অধিকার রয়েছে। কাজেই আমি অন্যের অধিকার হরণ করতে পারি না। এই হলো মানবতাবাদী। আর এই চিন্তাকে মানুষ তখনই ধারণ করতে পারবে যখন তার মধ্যে স্রষ্টার ভয় থাকবে অর্থাৎ ধর্মগুণ থাকবে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন দু একজনকে মানবতাবাদী করা গেলেও জাতিগতভাবে অসম্ভব। আজ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানবতাবাদী র্যালি, কর্মসূচি, শ্লোগান হয় আমেরিকায়, কিন্তু পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে মানবতাবিরোধী কাজ তারাই করছে। তারা নিজেরা যুদ্ধ করছে, অন্যদের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে উভয়পক্ষের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে। বিগত কয়েক শতাব্দীতে এই পশ্চিমা সভ্যতা যা করেছে, পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে এরকম মানবতার লঙ্ঘন আর হয় নাই। কিন্তু রাষ্ট্রীয় জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলেই মানবতার প্রকৃত রূপ মানবজাতি দেখতে পেয়েছে। এই ইসলাম যখন প্রকৃত ইসলাম ছিল- অর্থাৎ বিশ্বনবীর (দ.) কাছ থেকে যারা সরাসরি শিক্ষা-গ্রহণ করেছিলেন, তাদের অন্যতম, দ্বিতীয় খলিফা ওমরের (রা.) সময় একবার দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। যতদিন দুর্ভিক্ষ ছিল ততদিন দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষ যেমন অর্দ্ধাহারে অনাহারে থাকে তিনিও তেমনি থাকতেন। ওমর (রা.) প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যতদিন না জনসাধারণ এমন অবস্থায় পৌঁছবে যে তারা ভালো করে খাবার পরও উদ্বৃত্ত থাকবে ততদিন তিনি গোশত-মাখন এমনকি দুধ পর্যন্ত খাবেন না এবং খানও নি। তিনি বলতেন “আমি যদি ঠিকমত খাই তবে আমি কী করে বুঝব আমার জাতি কী কষ্ট সহ্য করছে?” এই অর্ধাহারে অনাহারে থেকে খলিফা ওমরের (রা.) মুখ রক্তশূন্য ও চুপসে গিয়েছিল। এই ঘটনা ও ওমরের (রা.) ঐ কথা গুলো ঐতিহাসিক সত্য, যারা বিস্তারিত জানতে চান, স্যার উইলিয়াম ম্যুর এর অহহধষং ড়ভ ঊধৎষু ঈধষরঢ়যধঃব বইটি পড়ে নেবেন। এই বছর চুরির জন্য হাত কাটার বিধান পর্যন্ত উমর (রা.) স্থগিত করেছিলেন। এর চেয়ে মানবিক আর কী হতে পারে?

আপনাদের আন্দোলন কার বিরুদ্ধে?2016-12-06T11:32:55+06:00

আন্দোলন অসত্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, পশ্চিমা বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’ দাজ্জালের অপশক্তির বিরুদ্ধে, সর্বপ্রকার অনৈক্যের বিরুদ্ধে, বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে, অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে, কূপম-ূকতার বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, ধর্মের নামে অযৌক্তিক বিশ্বাস, কথা ও আচরণের বিরুদ্ধে, এক কথায় সকল অধর্মের বিরুদ্ধে। আমাদের আন্দোলন সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, ঐক্যের পক্ষে, শান্তির পক্ষে।

আপনারা কি দীনে এলাহী করতে চান?2016-12-06T11:31:43+06:00

ধর্মের প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে কিছু দেখলেই, কিংবা সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে ঐক্যসৃষ্টির কোনো উদ্যোগ দেখলেই অনেক প-িতমন্য ব্যক্তি দীনে এলাহীর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাদের উদ্দেশ্য থাকে যারা দীনে এলাহী সম্পর্কে জানেন না তাদেরকে বিভ্রান্ত করা। আমরা মনে করি, আমাদের বক্তব্য এবং দীনে এলাহী সম্পর্কে না জানার কারণেই এমন প্রশ্ন ওঠে। প্রকৃত ইসলাম আর দীনে এলাহী কি এক জিনিস? আল্লাহর রসুলও সকল আহলে কেতাবকে বলেছেন, এসো আমরা এমন একটি বিষয়ের উপর মিলিত হই যে বিষয়ে তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, সেটা হচ্ছে আমরা একমাত্র প্রতিপালক আল্লাহর এবাদত করব (সুরা ইমরান ৬৪)। সুতরাং সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্য আল্লাহরই অভিপ্রায়। বিগত তেরশ বছর ধরে ইসলাম বিকৃত হতে হতে আজকে সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে গেছে। আল্লাহর দয়ায় আমরা আবার সেই সত্য এসলাম লাভ করেছি। সব ধর্মের মানুষের জন্যই শেষ রসুল এসেছিলেন, তিনি যেমন সব ধর্মের মানুষের কাছে গিয়েছেন আমরাও সব ধর্মের মানুষের কাছেই যাচ্ছি। সমগ্র মানবজাতিকে এক মহজাতিতে পরিণত করে তাদের শান্তিময় সহাবস্থান নিশ্চিন্ত করাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমাদের এই ধারণার সঙ্গে দীনের এলাহীর দূরতমও কোনো সাদৃশ্য নেই।
কারণ দীনে এলাহী ছিল সম্রাট আকবরের একটি রাজনৈতিক কূটকৌশলমাত্র। প্রাচীনকাল থেকে ভারতে ডজন এর উপর ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রাজস্থানের রাজপুতনারা। ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় তারা সম্রাট আকবরের বিরূদ্ধে চরম সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সাম্প্রদায়িকতার এ বিষবাষ্প থেকে ভবিষ্যতে মোঘল সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার পথ খুঁজতে থাকেন আকবর। তিনি রাজপুত কন্যা যোধাবাঈসহ বিভিন্ন রাজপরিবারের মেয়েদেরকে বিয়ে করে তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স¤পর্ক স্থাপন করেন, অনেকের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করেন। কিন্তু তার গৃহীত এসকল পদক্ষেপগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি স্থায়ী মোঘল ধর্মীয় নীতি। এটাই হলো দীনে এলাহি। বিরাট ভূ-ভারতের বিভিন্ন দূরবর্তী রাজ্যের শক্তিমান হিন্দু রাজাদের পক্ষে রাখার জন্য তিনি সনাতন ধর্মের প্রচলিত পূজা-পদ্ধতিগুলো নিজ ধর্মে গ্রহণ করেন এবং একটি একটি করে ইসলামের সকল বিধি-বিধানকে বাদ দেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি বিরাট সুযোগ-সুবিধার লোভ দেখিয়েও হিন্দু-মুসলিম থেকে মাত্র ১৯ জন অনুসারী সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন, যারা কিনা তার মৃত্যুর পরই যার যার ফিরে যায়। মুসলিমরা (যদিও প্রকৃত মুসলিম নয়, কার্যত কাফের মোশরেক) এ ধর্মটি মেনে নিতে পারে নি কারণ এর প্রধান উপাদানই ছিল সূর্যের উপাসনা করা। বাদশাহ প-িতদের কাছ থেকে সূর্যকে বশীভূত করার মন্ত্র শিখেছিলেন যা তিনি মাঝরাত্রে ও ভোরে পাঠ করতেন। এ ধর্মে আগুন, পানি, গাছ, গাভী ও নক্ষত্র পূজাও করা হত। দীনে এলাহীর কলেমা ছিল লা ইলাহা ইল্লালাহু আকবারু খলিলুল্লাহ। এ ধর্মে বাদশাহকেও সেজদা করতে হত। সূদ ও জুয়া ছিল বৈধ। খাস দরবারে জুয়া খেলার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয় এবং জুয়াড়ীদেরকে রাজকোষ থেকে সুদি কর্জ দেয়া হত। মদ্যপান করাও হালাল সাব্যস্ত করা হয়। বাদশাহ স্বয়ং দরবারের নিকট একটি শরাবখানা খুলে দেন। নববর্ষের অনুষ্ঠানে আলেম, কাজী ও মুফতিগণকেও শরাব পানে বাধ্য করা হত। শহরের বাহিরে বিভিন্ন জায়গায় পতিতাদের বসতি স্থাপন করে ব্যাভিচারকে আইনসিদ্ধ করা হয়। বার বৎসরের পূর্বে বালকদের খৎনা করা নিষিদ্ধ করা হয়। এই ধর্মাবলম্বী কোন লোকের মৃত্যু হলে তার গলায় কাচা গম ও পাকা ইট বেঁধে তাকে পানিতে নিক্ষেপ করা হতো। যেখানে পানি পাওয়া যেত না, সেখানে মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হতো অথবা পূর্ব দিকে মাথা ও কাবার দিকে পা দিয়ে দাফন করা হতো। গরু, উট, ভেড়া প্রভৃতি জন্তুর গোশত হারাম বলে ঘোষিত হয়েছিল, ঈদুল আযহার সময়ও এগুলো কোরবানি করা যেতন না। পক্ষান্তরে বাঘ ভাল্লুকের গোশত হালালের মর্যাদা লাভ করে। এমন আরো অনেক আছে যা বিস্তারিত লেখার জায়গা এটা নয়। মোট কথা সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিরোধিতা করাই ছিল দিন-ই-ইলাহির মূল উদ্দেশ্য, এর পেছনে মূল প্রেরণা ছিল রাজনীতি। সম্রাট আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর পিতার নীতিতেই রাষ্ট্র চালাতেন, ফলে তাকে মুসলিমদের বিদ্রোহে পড়তে হয় এবং তিনি সম্মুখযুদ্ধে পরাজিতও হন, তার সেনাবাহিনীও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। অনন্যোপায় জাহাঙ্গীর দীনে এলাহি ত্যাগ করার শর্তে দিল্লির সিংহাসন ফিরে পান। এহেন দীনে এলাহীর সঙ্গে হেযবুত তওহীদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ কোথায় মেলে সেটাই আমাদের বোধগম্য নয়। হেযবুত তওহীদ ১৩০০ বছরের বিকৃতির আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ইসলামের বহু সত্যকে পুনর্জীবন দিয়েছে এবং রসুলাল্লাহর প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী হওয়ার জন্য আপ্রাণ সাধনা করছে, সমগ্র দুনিয়াতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজেদের জীবন-সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই যারা কথায় কথায় দীনে এলাহীর কথা বলেন আসলে তারা এ বিষয়ে কতটুকু জানেন সেটাই প্রশ্ন। আমাদের মতে আগে তাদের দীনে এলাহীটা পড়া উচিত, হেযবুত তওহীদের লেখাগুলোও পড়া উচিত, তারপর নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করলে আপনিই উত্তর পেয়ে যাবেন।

আপনারা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে মহামানব, এমামুয্যামান বা যামানার এমাম বলে কী বুঝাতে চাচ্ছেন? মহামানব বা যামানার এমাম হিসাবে এমাম মাহদী আসবেন এর আগে কেউ মহামানব বা যামানার এমাম দাবী করতে পারেন না।2016-12-06T11:30:13+06:00

যিনি কোনো মহৎ কাজ করেন তিনিই মহান ব্যক্তি, তিনিই মহামানব। মহামানব হতে হলে ইমাম মাহদী হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। রসুলাল্লাহর বিদায়ের পর এই উম্মাহ যে খলিফাদেরকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ ছিল তারাও সে যামানার নেতাই ছিলেন। এমন কথা কোথাও থাকলে আমাদেরকে দেখান যে, এমাম মাহদী ছাড়া আর কেউ যামানার এমাম দাবী করতে পারবেন না, আমরা উপকৃত হব।
আর মহামানব শব্দটি তো অনেকের বেলাতেই আপনারা ব্যবহার করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের লেখা শেষ গানটিতে এই পূর্বদেশ, প্রাচ্যভূমি থেকেই একজন মহামানবের আগমনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল রবীন্দ্রনাথের ঐ গান- ‘ওই মহামানব আসে, দিকে দিকে রোমাঞ্চ জাগে।’ মহাÍা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলাকেও মহামানব বলা হয়, বাস্তবেও তারা মহামানবই ছিলেন। কারণ আমরা মনে করি যারাই মানুষের কল্যাণে জীবনকে উৎসর্গ করে দেন তারা অবশ্যই মহামানব। রানা প্লাজায় আটকে পড়া গার্মেন্টসকর্মী শাহীনা কে উদ্ধার করতে গিয়ে জীবন দেন ইজাজ, এভাবে আরো অনেকেই জীবনকে বিপন্ন করে অন্যের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাদেরকে সাধারণ মানুষ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়, কিন্তু আমরা বলি তারা সাধারণ নন, তারা অসাধারণ। তারা মহামানব। মাননীয় এমামুয্যামান তাঁর জীবনের উপার্জিত সমস্ত সম্পদ, তাঁর পৈত্রিক সম্পদ মানবতার কল্যাণে নিঃশেষ করে দিয়েছেন। তিনি শেষ মুহূর্তেও বলে গেছেন, ‘সংগ্রাম চলবে।’ যারা তাঁকে মহামানব বলতে কার্পণ্য করছেন, আমরা সবিনয়ে বলছি, তাঁরা এমামুয্যামানকে সঠিকভাবে জানলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে একমত হতেন। আমরা জানি, তাই আমরা বলছি। তাঁর সংস্পর্শে গিয়ে কিছু সংখ্যক মানুষ নিজেদের আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করে মানুষের কল্যাণে জীবন-সম্পদ উৎসর্গ করে দিয়েছেন এবং একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে দিনরাত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। যাঁর মাধ্যমে মানুষ এই কঠিন সময়েও মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের সব সাধ-আহ্লাদ, জীবন-জীবিকা বিসর্জন দিয়ে পথে নামতে পারে তিনি মহামানব না হলে মহামানব কাকে বলে আমাদের জানা নেই। যা-ই হোক এমামুয্যামানকে মহামানব বলে আমরা সঠিক করছি না বাড়াবাড়ি করছি সেটা এনশা’আল্লাহ ভবিষ্যত সময়ই বলে দেবে।

পশ্চিমাদের পক্ষ হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করছেন কেন?2016-12-06T11:28:39+06:00

আসলে আপনাদের অনেকের প্রশ্ন একেবারে বিপরীতমুখী। এক সাংবাদিক বললেন আমরা পশ্চিমাদের বিরোধিতা কেন করছি, কেন ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলি না। আরেক সাংবাদিক সরাসরি বললেন আমরা পশ্চিমাদের পক্ষ হয়ে ইসলামের সুনাম ক্ষুণœ করছি। একেবারে পরস্পর বিপরীত প্রশ্ন্। আসলে আমরা কোনটা করছি শুনুন। আমরা না পশ্চিমাদের পক্ষে বলছি, না আমরা আরবীয় ইসলামের কথা বলছি। আসলে আমরা মুসলমান জনগোষ্ঠীর ঈমানকে সঠিক পথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছি। তাদের ঈমান আমরা কী নষ্ট করব, তাদের ঈমান তো বহু আগেই নষ্ট করে দিয়েছে এই জাতির ধর্মব্যবসায়ী, আলেম-মোল্লা শ্রেণি আর পশ্চিমা ষড়যন্ত্রমূলক দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থা। ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের ঈমানকে ছিনতাই করে নিয়ে নিজেরা টাকা কামাচ্ছে, কেউ রাজনীতির মাঠে ছক্কা মারতে চাইছে, কেউ জঙ্গি বানিয়ে আত্মঘাতি হতে উদ্বুদ্ধ করছে। সেখান থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানকে উদ্ধার করতে চাইছি আমরা। এবং সেটাকে সঠিক পথে ব্যবহার করতে চাইছি যেন সে দুনিয়াতেও লাভবান হয়, আখেরাতেও লাভবান হয়। এই যে বলা হয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমান। আমরা এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। আগে বলুন ধর্মপ্রাণ কী? ধর্ম যাদের প্রাণের মধ্যে তারাই ধর্মপ্রাণ। আজ মুসলমান জনগোষ্ঠীর কাছে ধর্ম বলতে নামাজ, রোজা, পূজা, ঈদ, মিলাদ, ওয়াজ, ধ্যান, যিকির-আজকার ইত্যাদি। ধর্ম কি এগুলো? না। মানুষের প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে মানবতা, মনুষ্যত্ব। এটি যার নেই সে ধার্মিক নয়, নামাজ রোযা যতই করুক না কেন। প্রতিটি ধর্মের এ উদ্দেশ্য, মানুষের দুঃখ দুর্দশা, অন্যায়-অবিচার, শ্রেণি-বৈষম্য দূর করে একটি শান্তিময় সমাজ নির্মাণের পথনির্দেশ দান করা। মানবতা বাদ দিয়ে ধর্ম নেই, এটাই ধর্মের আত্মা, এই আত্মাকে বাদ দিলে ধর্ম মৃত। আজ আমরা পৃথিবীতে যে ধর্মগুলো দেখছি সব মৃত, উপাসনা সর্বস্ব। এ কথা আমরা সকল ধর্মগ্রন্থ থেকে প্রমাণ করেছি। মানুষ যখন ধর্মের আত্মার সন্ধান অর্থাৎ মানবতাবোধ ফিরে পাবে তখন সে আর অন্যের বিপদ দেখে চোখ বুঁজে থাকবে না, সে ধর্ম দ্বারা তাড়িত হয়ে ছুটে যাবে- ঠিক যেভাবে এখন সে ধর্মীয় অনুভূতি দ্বারা তাড়িত হয়ে মসজিদে-মন্দিরে ছুটে যায়, মক্কা-মদিনায় ছুটে যায়। সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। সে বুঝতে পারবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই আসল এবাদত। আমরা ধর্মের এই সঠিক রূপ আবার তুলে ধরছি। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় আমরা মানুষের ঈমান নষ্ট করছি।
কেন আসছে এই অভিযোগ? কারণ আমাদের কথাগুলো ধর্ম সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত ভুল ধারণাগুলোকে চুরমার করে দেয়। এটাকেই বলা হচ্ছে- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া। এটা তো সবযুগেই হয়েছে। সকল নবী-রসুলই তাঁর সমসাময়িক বিকৃত ধর্মের ধারক বাহকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন এবং তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন, বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। ঈমান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ স্বয়ং আমাদের নবী মোহাম্মদ (দ.) এর বিরুদ্ধেও উঠেছিল। আল্লাহর অশেষ শোকর, এ অভিযোগটি আমাদের বিরুদ্ধেও করা হয়। এ বিষয়ে আমাদের কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু করা হলে তার সমালোচনা হবে এটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি স্রষ্টার দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বললে বা আচার-আচরণ করলে, সেটারও সমালোচনা করা স্বাভাবিক এবং করা কর্তব্য। আমরা সেটাই করছি। আমরা শত শত বিষয়ে প্রমাণ দিচ্ছি যে ধর্মব্যবসায়ীরা যা বলছেন ও করছেন তা আল্লাহর সংবিধান তথা কোর’আন হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারাই ঈমানদার মানুষকে দিয়ে অবৈধ করা করাচ্ছে, তাদেরকে জাহান্নামের দিকে চালিত করছে। তাদের কাজের ফলে মানুষ ধর্মের থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, আল্লাহ-রসুলকে গালাগালি করছে। সুতরাং আমরা ধর্মের অবমাননা করছি না, অবমাননা থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে চাইছি। ধর্মবিশ্বাস বা ঈমানকে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে চাইছি।
প্রশ্ন: আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে তাদের সাথে কাজ করছেন। আগামী দিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে নামলে তাদের বিরুদ্ধে যে যাবেন না তার নিশ্চয়তা কি?
উত্তর: দেখুন আমাদের কথা হলো আমরা এই ষোলো কোটি মানুষকে যে ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে যে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই এ কাজটা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা একটা জাতির কাজ, জাতিগত কাজ। জাতির কর্ণধার হিসাবে আমরা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে আমাদের মিটিংগুলোতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যেন তারা এই কাজের গুরুত্ব বুঝে সেটাকে বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ না হয়ে যে কোনো সরকার থাকলেও এটাই করতাম। আমরা তাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়ে, চিঠি দিয়ে, আলোচনা করে সর্ব উপায়ে বোঝাতে চেয়েছি যে, দেশের ষোলো কোটি মানুষ যদি দাঙ্গা হাঙ্গামার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়, তারা যদি সর্বপ্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করে তাহলে ধর্মব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম আর থাকবে না, ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হবে, মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারবে, আইন শৃঙ্খলা উদ্ধার হবে, মানুষের উন্নতি অগ্রগতি হবে। এতে সরকারের জনপ্রিয়তাও উদ্ধার হবে, সরকারেরই এখানে সম্মান বাড়বে। আবার সরকারি দল হিসাবে আওয়ামী লীগকেও বলছি যে, আপনারা ৬৫ বছরের পুরানো একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনীতিক দল। ১৯৭১ সালের মত একটা যুদ্ধ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আপনাদের রয়েছে। ৭০ সালের নির্বাচনে দেশের আপামর জনসাধারণ আপনাদেরকে একটা শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনের জন্য সমর্থন দিয়েছিল। পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করেছেন, যুদ্ধ করেছেন। এখনও আপনারা ক্ষমতায় আছেন। কাজেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব ও কর্তব্য কিন্তু আপনাদের উপর বর্তায়। আপনাদেরকেও কিন্তু প্রচুর নাস্তিক্যবাদের অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, যেজন্য আপানাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হয়েছে। কাজেই আপনারা যদি ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাটা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেন তখন আপনারা সবদিক দিয়েই লাভবান হবেন, জাতিও লাভবান হবে। এর বিনিময়ে আমরা আওয়ামী লীগের থেকে একটি পয়সাও আসা করি না, দিলেও নেব না। কোনো রাজনীতিক স্বার্থও আমাদের নেই, তাদের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ারও শখ আমাদের নেই। এই দেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে, সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে এসেছি, কারণ দেশের সঙ্কট সমাধান করার উপায় আমাদের কাছে আছে। আমাদের এ অনুভূতিটা অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ভালো দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং আমাদের কাজে সহযোগিতা করেছেন। এখন যুগটাই এমন যে, কেউ যে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের ভালোর জন্য কোনো কাজ করবে সে কল্পনাই কেউ করতে পারে না। করতে গেলে তাকে সন্দেহ করা হয় যে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো মতলব আছে। আমরাও এমনই সন্দেহের শিকার। আমাদের অনুষ্ঠানে আসার আগে প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সন্দেহ করলে তো কতকিছুই ভাবা যায়। এমনিভাবেই সন্দেহ করা হচ্ছে যে, আজ আমরা আওয়ামী লীগ সরাকারের সঙ্গে আছি, কাল তারা তারা ক্ষমতায় না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে চলে যাব। এটা বলতে পারতেন যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের কোনো স্বার্থের সম্পর্ক থাকত। সেটা যখন নেই, তখন আমরা এটুকু বলতে পারি, আমরা যে সত্য নিয়ে দাঁড়িয়েছি যারা এর সাহায্যকারী হয়েছে এবং সাহায্যকারী থাকবে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবল এ জগতেই নয়, পরজগতেও বজায় থাকবে এনশা’আল্লাহ। এখানে দল কোনো ফ্যাক্টর নয়, আদর্শটা ফ্যাক্টর।
আমরা গত কুড়ি বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এই কুড়ি বছরে সরকার কিন্তু পরিবর্তন হয়েছে কয়েকটা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও এসেছে, সামরিক সরকারও এসেছে, দুইদলও ক্ষমতায় ক্ষমতায় এসেছে, আমরা সকলের সঙ্গেই কাজ করেছি। জঙ্গিবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করার প্রস্তাবনা যখন এমামুয্যামান দিয়েছিলেন তখন ২০০৮ সন। তখন কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল? ছিল না। আরেকটা কথা হলো, বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে আমাদের বিষয়ে ভুল বুঝানো হয়, যার জন্য আমাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। এজন্য যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক আমরা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকতে চাই যেন কেউ তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে।

এই যে বিশ্বময় মাঝে মধ্যে মহানবীকে নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র অংকন করা হয়, এ বিষয়ে আপনাদের মন্তব্য কী?2016-12-06T11:27:34+06:00

আমাদের প্রথম কথা হল এই যে অন্য ধর্মের নবী রাসুল অবতার বা ধর্মগ্রন্থগুলিকে নিয়ে যারা ব্যঙ্গচিত্র আঁকে বা চলচ্চিত্র বানায়, এই কাজগুলো যারা করে আমরা মনে করি তারা আসলে সুস্থ মানুষ না। তারা সমাজের শত্র“ মানবতার শত্র“। যে কারও বাবা-মাকে নিয়ে অশোভন উক্তি করলে মানুষ তাতে ক্ষুব্ধ হবে এটা যেমন যুক্তিযুক্ত তেমনি প্রাণাধিক প্রিয় নবীকে নিয়ে কটূক্তি করলেও যারা তাঁর অনুসারী তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে, এটাও যুক্তিযুক্ত। তবুও যারা এটা করে তারা মূলত একটি দাঙ্গাময় পরিস্থিতি সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্যে কাজটি করে। পরে যখন কেউ সহিংসতা ঘটিয়ে ফেলে তখন পুরো মুসলিম জাতির উপর সন্ত্রাসের লেবেল এঁটে দেওয়া হয়। একটি ঘটনা যখন ঘটে তখন সেটা চলে যায় রাজনৈতিক ধান্ধাবাজদের নিয়ন্ত্রণে, তারা এর থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। আমাদের কথা হচ্ছে, ভিন্ন ধর্মের কোনো বিষয় নিয়ে কারো বক্তব্য থাকলে সেটাকে যৌক্তিক তথ্য উপাত্ত ইতিহাস দিয়ে তুলে ধরার সব পথ খোলা আছে। কিন্তু তা না করে এভাবে কটাক্ষ করা হয় শুধুমাত্র একটি ইস্যু সৃষ্টির জন্য। শার্লি হেবদো পত্রিকাটি ছিল পেছনের সারির একটি অখ্যাত সাপ্তাহিক, সেটার নাম এখন বিশ্বের সবাই জানে, ৬০ লক্ষ কপি ছাপা হয়। এটাই হল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার। আমরা এসব কাজের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
পক্ষান্তরে যারা রসুলাল্লাহকে অপমান করলেই ফুঁসে উঠে হামলা চালিয়ে বসেন তাদেরকে আমরা রসুলাল্লাহর জীবনাদর্শ স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। রসুলাল্লাহর আড়ালে নয় একেবারে সামনে গালাগালি করা হয়েছে শত শতবার, তাঁর গায়ে থুথু ছেটানো হয়েছে, তাঁর পিঠে উটের নাড়ি-ভুঁড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁকে মুরতাদ, কাফের, পাগল, জাদুকর, মিথ্যাবাদী ইত্যাদি বলে অপবাদ প্রচার করা হয়েছে। আল্লাহর রসুল কি পারতেন না তাঁর আসহাবদেরকে নির্দেশ দিয়ে রাতের অন্ধকারে আবু জেহেল, আবু সুফিয়ানের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে, বা তাদেরকে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে হত্যা করে ফেলতে? অবশ্যই পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি, তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েও যুক্তি দিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে গেছেন যে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারও হুকুমে শান্তি আসবে না। এক সময় সত্যিই তাঁর আহ্বান মানুষ মেনে নিল, একদিন যারা তাঁর বিরোধিতা করেছে তারাই নবীর ডান হাত বাঁ হাতে পরিণত হলো। জোর করে রাষ্ট্রশক্তি দখল করার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই, সেখানে শান্তি আসে না। বার বার বিদ্রোহ হয়। কিন্তু মন জয় করার মধ্যে কৃতিত্ব আছে। রসুলাল্লাহ সেটা করেছিলেন, এজন্য আজও তাঁর জন্য মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত, আর ঐ আবু জেহেলদের বংশ নির্বংশ হয়ে গেছে। এই সত্যটি এসব জঙ্গিবাদীদেরকে বুঝতে হবে যে তারা রসুলাল্লাহর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে যা করছেন তাতে না ইসলামের কোনো উপকার হচ্ছে, না উম্মাহর কোনো উপকার হচ্ছে। উল্টো বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দেশে দেশে মুসলমানরা নিজেদের বাসে ট্রেনে আগুন দিয়ে নিজেদের স¤পদই ধ্বংস করে ফেলছে, নিজের পায়ে কুড়াল মারা আর কাকে বলে? এর চেয়ে বড় মূর্খতা আর কী হতে পারে। সুতরাং এটা সঠিক পন্থা নয়। আগে তাদের নিজেদেরকে সত্যের পক্ষে, হকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। তারপর প্রতিপক্ষের এ মন্তব্যগুলিকে যুক্তি দিয়ে ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রতিহত করা, মিথ্যা অভিযোগ খ-ন করা। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া যেহেতু প্রচলিত আইনেও বৈধ নয়, যারা এমন কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয়ও নেয়া যেতে পারে।
এই মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ করে মুসলিম দেশে আগ্রাসন চালানোর প্রতিবাদে। কিন্তু তারা নিজেরাই যে নিজেদেরকে ধ্বংস করছে গত ১৩০০ বছর ধরে, এর সমাধান কে করবে? সিরিয়াতে কে কাকে মারছে, ইরাকে কে কাকে মারছে? সেখানে তো মুসলমান মুসলামনের বুকে গুলি চালাচ্ছে। সেখানে তো পাশ্চাত্য আগ্রাসন বর্তমানে নেই। গত দুই বছরে সিরিয়াতে মারা গেল ২ লক্ষ ২০ হাজার মুসলমান। এই শিয়া বনাম সুন্নি দাঙ্গায় ইরাকে, আফগানিস্তানে, পাকিস্তানে কত কোটি মানুষ মারা গেছে আজ পর্যন্ত তার ইয়ত্তা নেই। এই সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি কথা হচ্ছে, আগে দয়া করে ১৬০ কোটি মুসলিম জাতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করুন, শিয়া-সুন্নি, হানাফি-হাম্বলী নিয়ে হানাহানি বন্ধ করুন, সবাইকে নিয়ে একটি ই¯পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তুলুন, দেখবেন এসব কার্টুন আঁকা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এই জাতিটি ১৪০০ বছর আগে যখন একটি অখ- জাতি ছিল তখন কি কেউ রসুলাল্লাহর বিরুদ্ধে কটূক্তি করার সাহস পেত? এটা হচ্ছে কবিগুরুর ভাষায়, নির্বিষ সর্পের ব্যর্থ ফনা আস্ফালন।
অনেকে অভিযোগ করেন, আমরা হেযবুত তওহীদ কেন কোনো প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করি না? করি না, কারণ আমাদের দৃষ্টি এগুলো অন্তঃসারশূন্য ও অর্থহীন। ১০০ বছর আগেও রসুলাল্লাহর নামে বহু অপপ্রচার করা হয়েছে, তখনো অনেক বিক্ষোভ হয়েছে। এখনো হয়। এসব করে কি অপপ্রচার কমেছে? না। বরং আরো বেড়েছে। তাই এ পথে আরো হাজার বছর চেষ্টা চালিয়ে লাভ হবে না, উল্টো ক্ষতি হবে। আমরা মনে করি, সত্যটা তুলে ধরা, সত্যের পক্ষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করাই আমাদের মুখ্য কর্তব্য। আর যারা ধর্মব্যবসা করেন তাদের তো রসুলাল্লাহর পবিত্র নামই মুখে আনা উচিত নয়। যে কাজ আল্লাহ হারাম করেছেন তারা সেটাকেই ধর্ম বানিয়ে নিয়েছেন। তারা যখন রসুলাল্লাহকে অবমাননা করার প্রতিবাদ করে সেটাকে বক ধার্মিকতা আর নিজেদের জাহির করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই আমরা মনে করি না।

হিন্দু ধর্মের অবতারদের নামের শেষে (আ.) লিখে কেনো বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছেন?2016-12-06T11:26:34+06:00

প্রকৃতপক্ষে কথাটি হিন্দু ধর্ম নয়, সনাতন ধর্ম। হিন্দু ধর্ম বলে কোনো কথা বেদ, পুরাণ, গীতা, উপনিষদ কোথাও নেই। তবু বোঝার সুবিধার্থে বলা যাবে না, এমন নয়, কিন্তু সনাতন শব্দের যে তাৎপর্য তা হিন্দু শব্দে নেই। যাই হোক, এই যে অভিযোগটি আমাদের বিরুদ্ধে করা হয় এটা সত্য নয়। প্রতিষ্ঠিত কোনো মিথ্যার বিরুদ্ধে একটি যুক্তি প্রমাণসহ একটি সত্য উপস্থাপন করলে সেটাকে কি বিভ্রান্তি ছড়ানো বলা যায়? আমরা মনে করি, অভিযোগ করতে হলে আগে আমাদের উপস্থাপিত যুক্তি-প্রমাণগুলোকে ভুল প্রমাণ করতে হবে।
এই যে সত্যটা আমরা বলছি, এর একটি বড় উদ্দেশ্য আছে। এ উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দু’টি প্রধান জাতি। বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে এ দুই জাতির সংঘাতে কী না হয়েছে উপমহাদেশে! কত লক্ষ লক্ষ প্রাণ গেছে! তাদের হৃদয়ের গভীরে পরস্পরের প্রতি সীমাহীন শত্র“তা ও ঘৃণা রয়েছে যার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্নভাবে ঘটে থাকে। দু এক বছর পর পরই রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা হয়, ভারতে বা বাংলাদেশে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সারাবছরই শোনা যায়। এই ঘৃণাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সৃষ্টি করা হয়, ব্যবহার করা হয়। এটা সৃষ্টি করে ধর্মব্যবসায়ীরা, একে রাজনীতিক ইস্যুতে পরিণত করে ব্রিটিশদের থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদরা। একটি ধর্মের লোকের ভোট পাওয়ার আশায় তারা বিভিন্ন কলাকৌশল অবলম্বন করে। ফলে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে শত্র“তা থেকেই যায়। তারা একে অন্যের ঘরে খায় না, একে অন্যের স্পর্শ এড়িয়ে চলে। ধর্মের নামে এ সব আচার ধর্মের শিক্ষা নয়, এটা মনুষ্যত্বের অপমান। আমরা এদের গালাগালিকে গলাগলিতে রূপান্তরিত করতে চাই। এটা করতে চাই সত্যের ভিত্তিতে, তাদের ধর্মেরই ভিত্তিতে। এই যে অবতারের প্রসঙ্গ- এটা আসলে একটি গবেষণার বিষয় যা আমাদের আগেও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় গবেষক, মনীষী বলে গেছেন। তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে ভারতবর্ষে প্রচলিত ধর্মগ্রন্থগুলোর সঙ্গে কোর’আনের অনেক কথা মিলে যায়। কোর’আনে আল্লাহ বলেছেন, এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে আমি নবী-রসুল পাঠাই নি। সে হিসাবে ভারতবর্ষ হাজার হাজার বছরের সভ্যতার লীলাক্ষেত্র, এইখানে নবী-রসুল কোথায়, তাদের গ্রন্থগুলি কোথায়, তাদের সেই শিক্ষা কোথায়? সনাতন ধর্মের গ্রন্থগুলোই হচ্ছে সেগুলো, এবং যাদের মাধ্যমে এ গ্রন্থগুলো আমরা পেয়েছি তারা আল্লাহরই নবী-রসুল বা অবতার। যেহেতু এটি একটি গবেষণার বিষয় আমরা কাউকে এটা মেনে নিতে জোর করছি না। তবে আমরা মানি, কারণ ইসলামের শিক্ষা মতে শুধু শেষ নবীর উপর ঈমান আনলে হবে না, সকল নবীর উপর ঈমান আনতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। কাজেই ভারতবর্ষের অবতারগণ যদি নবী হয়ে থকেন তাঁদেরকে (আ.) বলা আমাদের ঈমানের অঙ্গ। মুসা (আ.) কে আমরা ইহুদি ধর্মাবলম্বী মনে করি না, ঈসা (আ.)-কেও খ্রিষ্টান মনে করি না, ইসলামের নবীই মনে করি। এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবীর মধ্যে মাত্র ২৫ জনের নাম কোর’আনে হাদিসে পাওয়া যায়, কিন্তু যে বিরাট সংখ্যক নবী-রসুল এর বাইরে রয়ে গেলেন, তাদেরকে যদি আমরা আল্লাহর নবী হিসাবে চিনতে পাই, তবু কি তাদেরকে অসম্মান, অমর্যাদা করব, গালাগালি করব? এর পরিণতি কি ভালো হবে? ইহুদিরা ঈসা (আ.)-সেই দু হাজার বছর ধরে মেরির অবৈধ সন্তান বলে গালি গালাজ করে আসছে। নাউযুবিল্লাহ। এ নিয়ে ইউরোপে ইহুদিদের উপর ১৯৪৫ পর্যন্ত কী গণহত্যা চালিয়েছে খ্রিষ্টানরা তা আপনারা দেখেছেন। ভারতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা বৌদ্ধদের উপর সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছে, অথচ গৌতম বুদ্ধ (আ.) সনাতন ধর্মেরই একজন অবতার যা সনাতন ধর্মেই স্বীকৃত। শেষ নবী মোহাম্মদ (দ.) কে নবী হিসাবে স্বীকৃতি না দিয়ে কার্টুন সিনেমা বানিয়ে কতবার অকারণ দাঙ্গার জন্ম দেওয়া হয়েছে আপনারা জানেন। সিন্ধু শব্দ থেকেই হিন্দু শব্দটি এসেছে, অথচ পাকিস্তানে আজ শতকরা দুইভাগও হিন্দু নেই। ব্রিটিশ আমলে এই দাঙ্গার সূত্র ধরেই ’৪৭ সালে হিন্দু-মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, এখানেও ছিল সেই ডিভাইড অ্যান্ড রুলের কারিগরি। হিন্দু-মুসলিম শত্র“তার বীজ তাদের বিশ্বাসের অনেক গভীরে, আমরা একে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাই। আমরা মুসলমানদেরকে বলছি, তোমরা সনাতন ধর্মের অবতারদের যে গালাগালি করো, অথচ তারা আল্লাহর নবী-রসুল ছিলেন। আবার সনাতন ধর্মের ভাইদের বলছি তোমরা নিজেদের ধর্মের অবতারদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করো, অথচ মোহাম্মদ (দ.) ও স্রষ্টারই অবতার বা নবী। কীভাবে- তার প্রমাণ আমরা দিয়েছি। তাকে তোমরা অশ্রদ্ধা করো, এটা ঠিক নয়। অন্যের যেটুকু সত্য সেটুকু অবশ্যই সত্য বলে স্বীকৃতি পেতে পারে, সেটা না দিলে ঘৃণা-বিদ্বেষের অবসান কোনো দিনও হবে না। এ ঘৃণা তো ধর্মের অপব্যাখ্যা, মিথ্যা ইতিহাসের থেকে সৃষ্টি হয়েছে, একে লাঠিপেটা করে দূর করা যাবে না। দূর করতে হবে ধর্মের অপ্রকাশিত সত্যকে প্রকাশ করার মাধ্যমে, গোপন করা ইতিহাসকে উন্মোচন করার মাধ্যমে। আমরা বলছি, সনাতন ধর্ম আলাদা কোনো ধর্ম নয়, ইসলামেরই একটি সংস্করণ। সনাতন যা কোর’আনে বর্ণিত দীনুল কাইয়্যেমা তা। হিন্দু-মুসলিম একই পিতা-মাতার সন্তান, হিন্দুরা বলছে আদম ও হব্যবতী, মুসলিমরা বলছে আদম ও হাওয়া। তাহলে এই যে বিভেদ, এটা কত বড় মূর্খতা! আমরা বিশ্বাস করি প্রকৃত সত্য জানলে এই বিভেদ চিরস্থায়ীভাবে দূর হবে এনশা’আল্লাহ। যারা আমাদের এ বিষয়ে বিরোধিতা করছেন তারা হয় আমাদের ভুল বুঝছেন অথবা তারা চান এই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ যে টিকে থাকে।

অন্যান্য রাজনীতিক দলের মতো আপনার কোনো রাজনীতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন না এই কারণে আপনাদের গোপন বা জঙ্গি হিসাবে দেখা হয়।2016-12-06T11:25:36+06:00

ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। আমি রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর করলাম, একটা বিক্ষোভ মিছিল করলাম, হরতাল ডাক দিলাম তখন আমাকে ‘প্রকাশ্য সংগঠন’ বলবে এটা কিন্তু যৌক্তিক নয়। ইতিহাসের বহু সামাজিক আন্দোলন আছে আপনারা জানেন যে সহিংস পন্থায় না গিয়েও, আমাদের মতোই সমাজ সচেতনতামূলক কাজ করেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং বিরাট সংখ্যক মানুষের ভালোবাসা তারা পেয়েছেন। কাজেই আমাদেরকে যারা গোপন বলে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বলে পরিকল্পিতভাবে বলে। আমাদের সরকারের কাছে আমাদেরকে প্রভাবিত করার জন্য যেন আমাদেরকে হয়রানি করা হয় এবং জনগণকে আমাদের সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এগুলো করা হয়। আমাদের সমস্ত কর্মকা- প্রকাশ্য। আমাদের কার্যালয় প্রকাশ্য আমাদের টেলিফোন নম্বর প্রকাশ্য, আমাদের প্রত্যেকের বাসভবন ঠিকানা জানা আছে। আমাদের বই বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর মধ্যে। কাজেই আমাদের সম্পর্কে গোপন বলা হয় পরিকল্পিতভাবে। তারা দৃষ্টিহীন। যারা জাজ্¡ল্য দিবাকরকে দেখে যারা বলে সূর্য নেই তাদেরকে বলব শুধু অন্ধ বধির। তারা প্রজ্জ্বল সূর্যকে দেখে বলে অন্ধকার। তাদের আমি অন্ধ ছাড়া আর কিছু বলতে পারি না। স্পষ্ট হেযবুত তওহীদকে যদি তারা যদি গোপন বলে তাহলে তারা অন্ধ। তারা হেযবুত তওহীদকে দেখবে না। কারণ তারা একচোখ কানা; দাজ্জাল।

আপনাদের প্রোগামে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসাবে যারা গিয়েছিলেন তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বিভিন্ন প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। পরবর্তীতে তাদের আপনারা অতিথি হিসাবে পাবেন না।2016-12-06T11:24:48+06:00

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয়, যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলেন, যারা সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের অধিকারের কথা বলেন, সভা-সমাবেশে বিরাট বিরাট বুলি আওড়ান তারাই যদি এসমস্ত নীতিমালা পরিপন্থী কাজ করে তখন সেটা কী মেনে নেওয়া যায়? হেযবুত তওহীদ কর্তৃক আয়োজিত সভা সেমিনারগুলো রাজনীতিক আলোচনামুক্ত। আপনারা জানেন আমাদের আলোচ্য বিষয়গুলো কী কী। আমাদের বিষয়গুলো হলো, ‘এক জাতি এক দেশ ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’, ‘ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদের ইতিবৃত্ত’, ‘সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতা’ ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো নিয়ে মনোভাব বিনিময়ের জন্যই আমরা আমন্ত্রণ জানাই সর্বশ্রেণীর মানুষদেরকে, সাহিত্যিক, শিল্পি, সাংবাদিক, অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমরা কাউকে বাদ রাখি নি। একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে এরা অন্যদের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। আমরা কৃষক শ্রমিক মেহনতি জনতা সবাইকে আমরা দাওয়াত দিই। কারণ তারাই এ সমাজের বাসিন্দা, তাদের সুখ শান্তির জন্যই সবকিছু। সমাজের মানুষগুলোকে যদি শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হয় তাহলে যে সমস্ত ফ্যাক্টরগুলো ঐক্যের সঙ্গে সংগতিশীল নয়, যে সমস্ত বিকৃতিগুলো প্রকৃত ইসলামের সঙ্গে সঙ্গতিশীল নয়, সে সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। সরকার কথায় কথায় বলেন, সর্বস্তরের জনগণকে জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান করছি। এখন আমরা যখন এগেিয় গেলাম, তখন বলা হলো, ওদের প্রোগ্রামে যাবেন না। আমরা যদি কোনো অন্যায় কথা বলে থাকি, আমাদেরকে সেটা দেখিয়ে দিন, আমরা শুধরে নেব। আমাদের সেই মানসিকতা আছে। কিন্তু তাও করছেন না। আসলে আমাদের এ সমস্ত সেমিনারগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করলে সেটা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে, জাতির সমৃদ্ধির পথ রচিত হবে, আর একটি বড় গোষ্ঠী আছে যারা এটা চায় না। তারা সমাজে দুর্নীতি, অন্যায়, অশান্তি, মারামারি, কোন্দল টিকিয়ে রাখতে চায় ব্যক্তিস্বার্থে বা গোষ্ঠীস্বার্থে। ধর্মব্যবসা সমাজের জন্য ক্যান্সারস্বরূপ। যারা একে টিকিয়ে রাখতে চায় তারা কি সমাজের শুভাকাক্সক্ষী? আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এটাই কি মুক্তচিন্তা, উদার নৈতিকতার পরিচয় নাকি কূপম-ূকতা ও ক্ষুদ্রতার পরিচয়? অমুকের মিটিং-এ যাবেন না, অমুকের পেপার পড়বেন না এ কথা বলতে পারে অসভ্য বর্বর ইউরোপীয় মধ্যযুগীয় সমাজের বাসিন্দারা, অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির সভ্য জগতে কোনো শিক্ষিত শ্রেণি এ জাতীয় কথা কীভাবে বলে? হেযবুত তওহীদ যদি নিষিদ্ধ হতো তাহলে এক কথা ছিল। হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধ নয়, জঙ্গি নয়। হেযবুত তওহীদের সেমিনারে এসে কোনও গণ্যমান্য ব্যক্তি কথা বললে তিনি হেযবুত তওহীদ হয়ে যান না, দূষিত হয়ে যান না। আমরা গোলটেবিল বৈঠক করছি, মুক্ত আলোচনা করছি। তিনি যদি আমাদের কথার সঙ্গে একমত না হন, তবে তিনি প্রকাশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিন, আমরা সে সুযোগ অবশ্যই তাকে দেব। সমাজের দায়িত্বশীল অবস্থানে যারা আছেন তারা যদি আমাদের অনুষ্ঠানে না-ই আসেন তবে আমরা যা বলছি তা সত্য বলছি না মিথ্যা বলছি তা তারা কীভাবে জানবেন? আমাদের বক্তব্য যদি সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়, কথা যদি মিথ্যা হয় তার প্রতিবাদ করার অধিকার ও কর্তব্য দুটোই তার আছে। তিনি সেই অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আর যদি কথা সত্য হয়, তবে তাকে সত্যবিমুখ করা হলো যা একটি ক্রাইম।
দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমরটারে রুখি,
সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?
দ্বার বন্ধ করে অজ্ঞতার অন্ধকারের মধ্যে বসে থাকাই কি আপনার শিক্ষা? সত্য-মিথ্যা যাচাই করবেন না? আমাদের কথা হচ্ছে সত্যের প্রবেশের পথটি খোলা রাখুন। মানুষের কল্যাণ হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই আচরণে আমার মক্কার সেই ঘটনা মনে পড়ে যায়। আল্লাহর রসুল যখন মানুষকে সত্যের দিকে ডাকতে লাগলেন তখন ক্বাবার পুরোহিতরা প্রচার করতে লাগল যে, কেউ তার কাছে যাবে না, তার কথা শুনবে না। শুনলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। কিন্তু এ করে কি সত্যের উত্থান রোধ করা গেছে? যায় নি। এতদিন ধর্মব্যবসায়ীরা আমাদের বিরুদ্ধে এমন বহু অপপ্রচার চালিয়েছে যে ওদের বই পড়বে না, মিটিং-এ যাবে না। গেলে খ্রিষ্টান হয়ে যাবে, কাফের হয়ে যাবে। এখন তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত শ্রেণিরও একটি অংশ একই কাজ আরম্ভ করেছেন। যারাই আমাদের মিটিং-এ আসেন তাদেরকে হাজারো প্রশ্ন করা হয়, কেন গেলেন, তারা বিতর্কিত ওখানে যাবেন না, গেলে অসুবিধা আছে। এসব কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, তারা এমন এক সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, যে সত্যকে রুখবার সাধ্য পৃথিবীতে কারো নেই। যে কেউ চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

আপনাদের এই হেযবুত তওহীদ নামটিই মানুষের কাছে সন্দেহজনক। আপনারা যত ভালো কাজই করেন না কেন এই নামের কারণে আপনাদের অধিকাংশই মানুষই ভালোভাবে নিবে না।2016-12-06T11:13:47+06:00

আসলে বাংলাদেশে হিজবুত তাহরীর নামে হঠাৎ করে একটা দলের উদ্ভব হয়েছে কয়েক বছর আগে। তাদেরকে বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কাকতালীয়ভাবে তাদের নামের সাথে হেযবুত তওহীদের নামের আংশিক মিল আছে। এমন মিল তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে মুসলিম লীগেরও আছে, তাতে কি মুসলিম লীগের কর্মকা- আওয়ামী লীগের উপর বর্তেছে? বর্তায় নি। আপনার নাম আব্দুর রহমান, আরেকজন আছেন জঙ্গি শায়খ আব্দুর রহমান। এখন একই নাম হওয়ার জন্য আপনাকে যদি হয়রানি করা হয় সেটা কি উচিত হবে, আর এজন্য কি আপনি আপনার পিতৃদত্ত নাম পরিবর্তন করে ফেলবেন? ফেলবেন না। কুড়ি বছর আগে হেযবুত তওহীদ নামটি রাখা হয়েছিল, তখন তাহরীর এদেশে ছিলই না। তথাপি এই আংশিক মিলের কারণে আমাদেরকে অহেতুক সন্দেহ এবং হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে, আমাদের ব্যাপারে ভুল ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা যৌক্তিক নয়। আমরা গত কুড়ি বছরে সন্দেহ করার মতো কোনো কাজ করি নি, করবও না এনশা’আল্লাহ। আমাদের কোনো গোপন কর্মকা- নেই, এটা আমাদের নীতি। কারণ গোপনীয়তাই সন্দেহের জন্ম দেয়। যারা কোনো বে-আইনি কাজ করে না, বে-আইনি কথা বলে না, বিনা তথ্যে তাদেরকে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই। তারপরও সন্দেহবাতিক একটি মানসিক ব্যাধি। এটা যদি কারো থাকে তবে তিনি আমরা তার সন্দেহ দূর করতে পারব না, তিনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে পারেন।

অনেক বাংলা বানান আপনারা বিকৃত করে লিখেন, এমনকি ইসলামকে এসলাম লিখেন। এর কারণ কী?2016-12-06T11:12:29+06:00

অমর্ত্য সেন বই লিখেছেন- তর্কপ্রিয় ভারতীয়। মানুষ তর্ক ভালোবাসে। অপ্রিয় লোকের ভালো কিছুই তার চোখে পড়ে না। পৃথিবীর কোন বিষয়টা নিয়ে বিতর্ক হয় নি? সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে আল্লাহকে নিয়ে, তারপর নবী-রসুল ও অন্যান্য মহামানবদের নিয়ে। গত ৪৪ বছর ধরে জাতির জনক আর স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে এদেশের জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। আমাদের বানান নিয়েও বহু বিতর্ক হচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা একটি নির্দিষ্ট বানানরীতি অনুসরণ করি। এর ব্যাখ্যা আমরা পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ করেছি, হ্যান্ডবিল বিতরণ করে জানিয়েছি, বইয়ের সঙ্গে যোগ করে দিয়েছি, আপনারা সেখানে ভুল থাকলে আমাদের দেখান, আমরা শুধরে নেব। আজ পর্যন্ত কেউ ভুল দেখাতে পারে নি। আল্লাহর রহমে আমরা ভুল লিখছি না। এক্ষেত্রে বলা প্রয়োজন, ধরুণ টিভিতে বিজ্ঞাপন দিল- একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। আপনার সঙ্গে রক্তের গ্র“প মিলল। কিন্তু আপনি রক্ত দিতে গেলেন না, অজুহাত দেখালেন বিজ্ঞাপনে মুমূর্ষু বানানটি ভুল লেখা হয়েছিল। এটা কি উচিত হবে? আমরা বলছি, আপনারা বানান না দেখে আমাদের বক্তব্য দেখুন, মুমূর্ষু জাতি বাঁচবে। তা না করে বানান নিয়ে বিতর্ককে আমরা যৌক্তিক মনে করি না।

সব ধর্মেই সহিংসতা থাকে জঙ্গিবাদ থাকে কিন্তু আপনারা ইসলাম ধর্মের জঙ্গিদের নিয়ে ডকুমেন্টারি করেছেন এবং আলাপ আলোচনা করেছেন কেন? ইসলাম ধর্মকে খাটো করাই কি আপনাদের উদ্দেশ্য?2016-12-06T11:11:55+06:00

কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা কাজ করছি এখানে ৯০% মুসলমান আর এখানে রাজনীতির প্রধান ট্রাম্পকার্ড ইসলাম ধর্ম। পাশের দেশ ভারতে হিন্দু ইস্যু প্রধান, যেটা কাজে লাগিয়ে আজ বিজেপি ক্ষমতায়। আমাদের দেশেও ধর্মকে রাজনীতিক স্বার্থে কাজে লাগানো হয়। তাছাড়া সারা বিশ্বে গত একযুগে ইসলামি জঙ্গিবাদটিই প্রায় বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববাসীর জন্য থ্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যান্যগুলো অতটা না। আর পশ্চিমা সভ্যতা বিগত কয়েকদশক থেকে কিন্তু ইসলামকেই টার্গেট করেছে যা আপনারা ভালো করেই জানেন। প্রফেসর হান্টিংটন যাকে বলেছেন ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন। তথাপি সকল ধর্মের উগ্রপন্থার বিরুদ্ধেই আমরা “সকল ধর্মের মর্মকথা-সবার ঊর্ধ্বে মানবতা” শীর্ষক ডকুমেন্টারিতে কথা বলেছি।

আপনারা কি ইসলামিক রাজনীতিকে নিরুৎসাহিত করেন বা অবৈধ বলে মনে করেন?2016-12-06T11:11:21+06:00

আমরা মনে করি বর্তমানে যে ইসলাম চলছে এটা ইসলামই না। যারা এই রাজনীতি করছেন তারা এই বিকৃতটাকেই প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। তারা যদি সেটা কায়েম করতে পারেন তবে তা প্রকৃত ইসলাম হবে না, হবে তালেবানি রাষ্ট্র বা একটা জগাখিচুড়ি। মূল কথা সেটা তারা কোনোদিনও জাতিকে শান্তি দিতে পারবে না। আর রাজনীতির বিষয়ে কথা হচ্ছে, আল্লাহ রসুল কি এই সিস্টেমে রাজনীতি করেছেন? তিনি কি মার্কা নিয়ে মিছিল করেছেন? নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য দলের নেতৃত্বে মন্ত্রিত্ব করেছেন? করেন নি। তিনি ও তাঁর সাহাবিরা আগে সত্যটা আগে মানুষের সামনে বুঝিয়েছেন, তওহীদের বালাগ করেছেন। তারপরে মানুষ যখন সত্যটা গ্রহণ করে নিয়েছে তারপর ধীরৈ ধীরে তারা এ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন, যেভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে ষড়ঋতুর পরিবর্তন হয়, তেমনি প্রাকৃতিকভাবে ধীরে ধীরে জঘন্যতম আরব জাতি মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিল।

আপনারা রাষ্ট্রীয়ভাবে কোর’আনের শাসন চান কি না?2016-12-06T11:10:47+06:00

কোর’আনের শাসন চাওয়া ও না চাওয়ার বিষয়টি বর্তমান যুগের সবচেয়ে আলোচিত, বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন এসলামের কথা বললেই শুরুতেই চলে আসে কোর’আনী শাসনের কথা। তাই হেযবুত তওহীদ যখন প্রকৃত এসলামের রূপরেখা মানুষের সামনে তুলে ধরছে তখন এ প্রশ্নটির উত্থাপন খুবই প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিসংগত। কোর’আন চাই কি চাই না এ প্রশ্নের জবাব এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয় কারণ বিষয়টি নিয়ে আমদের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি আর বর্তমান প্রচলিত ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক কথায় এর উত্তর দিলে তা অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাবে এবং শ্রোতা ভুল বার্তা পাবেন।
প্রথমে আমাদেরকে কতগুলো বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা মাথায় রাখতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে কোর’আন কী? আজকে গ্রন্থাকারে যে কেতাবটি আমরা দেখতে পাচ্ছি তা হচ্ছে বিভিন্ন বিধি বিধান সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা হঠাৎ করে আল্লাহর রসুল পান নি, এটি ২৩ বছরে একটি সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন সঙ্কট, বিভিন্ন সমস্যা, বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে নাযেল হওয়া আল্লাহর বিধি বিধানের সমষ্টি। এই কোর’আন হুট করে নাযিল হয় নি, রসুলাল্লাহও হুট করে এটি প্রতিষ্ঠা করে শরিয়াহগুলো প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন নি। আমাদের দেশের সংবিধান আজকে যে অবস্থায় এসেছে সেটা কি একদিনে এসেছে? বহু ঘটনার প্রেক্ষিতে, জাতির প্রয়োজনে সংবিধানে নতুন নতুন বিধান সংযুক্ত হয়েছে। কোর’আনটাও এভাবেই ধীরে ধীরে পূর্ণ হয়েছে এবং ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ধারণা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, একে বলা হয় তওহীদ। আজকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার অধিকাংশ লোকেরাই তওহীদ কী জানে না। কলেমা তো শুধু মুখস্থ বললেই হবে না, যিকির করলেই হবে না। এর মানে কী, তাৎপর্য্য কী, দাবি কী জানতে হবে। এটি আসলে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার একটি চুক্তি যে চুক্তির উপর মানবজাতির পার্থিব জীবনের শান্তি-অশান্তি এবং পারলৌকিক জীবনের জান্নাত-জাহান্নাম নির্ভর করছে। কীভাবে? সর্বপ্রথম মানুষকে বুঝতে হবে যে, স্রষ্টার বিধান সর্বোত্তম, তাঁর চেয়ে বেশি কেউ জানে না যে কীসে মানবজাতি শান্তিতে থাকবে। এটা যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে বোঝার পর তাদেরকে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, তাহলে আমরা আল্লাহর বিধান যে বিষয়ে আছে সে বিষয়ে নিজেরা বিধান তৈরি করব না, আল্লাহরটাই মানব। আল্লাহরটা মানার মানসিকতা আসলে তখন মানুষ দেখবে যে আল্লাহ কী বিধান দিচ্ছেন। আজ কলেমার মানে করা হয়, একমাত্র আল্লাহকেই সেজদা করতে হবে, ডাকতে হবে, তাঁরই জন্য নামাজ-রোযা করতে হবে ইত্যাদি। কলেমার এই ভুল ব্যাখ্যা মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে এ জাতির মনে মগজে গেড়ে গেছে। এই বিকৃত ইসলামে যার গুরুত্ব এক নম্বর সেটাকে একশত নম্বরে রাখা হয়েছে আর যেটার গুরুত্ব একশত নম্বর সেটাকে বানানো হয়েছে এক নম্বর। মানবদেহে নখের গুরুত্ব আর হৃৎপি-ের গুরুত্ব কি সমান? ইসলামের উদ্দেশ্য শান্তি, কিন্তু দাড়ির সঙ্গে সমাজের শান্তি-নিরাপত্তার কী কোনো সম্পর্ক আছে? অথচ অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা মানেই আগে দাড়ি প্রতিষ্ঠ, টুপি প্রতিষ্ঠা, জোব্বা আর বোরখা প্রতিষ্ঠা। ইসলাম প্রতিষ্ঠা মানেই চোর-ডাকাত ধরে হাত পা কেটে দেওয়া। জেহাদ মানেই যেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, ভিন্ন সম্প্রদায়ে উপাসনালয়ে, সিনেমা হলে, আদালতে চোরাগোপ্তা বোমা মারা। ইসলাম সম্পর্কে যে সমাজে এমন কু-ধারণা, সেখানে কোর’আনের শাসন আরোপ করলেও শান্তি আসবে না। প্রতিটি কাজের একটি ধারাবাহিকতা আছে, এ ধারাবাহিকতাও একটি প্রাকৃতিক নিয়ম। এই নিয়ম না মেনে যদি গায়ের জোরে একটি দ-বিধি, জীবনব্যবস্থা কোনো জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সমাজে অসন্তোষ আরো বাড়বে। কারণ এ সমাজে ধর্মব্যবসায়ীদের দীর্ঘ অপপ্রচারের ফলে এসলামের প্রকৃত ধারণাটাই বিকৃত হয়ে রয়েছে। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতার দ্বারা তাদের মন-মগজ আমূল বিবর্তিত ও প্রভাবিত। ফলে এ সমাজের মানুষগুলো ন্যায় অন্যায়ের মানদ- জানে না, জানলেও পরোয়া করে না, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য কি, ধর্ম কি, মানবজাতির প্রকৃত এবাদত কি তা বোঝে না, তারা লেবাসকেই মনে করে ধর্ম। আমি শুধু স্বল্পশিক্ষিত শ্রেণির কথা বলছি না, গোটা জনগোষ্ঠী যারা ইসলামপ্রিয় এবং ইসলামবিদ্বেষী সবাই ধর্ম বলতে এসব আনুষ্ঠানিকতা, লেবাস, বোরকা, অভ্যাস অনভ্যাস এবং কোর’আনের কয়েকটি আইন-কানুনকেই বোঝেন। ধর্মব্যবসায়ীদের অর্থ দেওয়াকেই মুসল্লিরা সওয়াবের কাজ মনে করে। ধর্মব্যবসা অর্থাৎ নামাজ পড়ানো থেকে শুরু করে ধর্মের যে কোনো কাজ করে টাকা নেওয়া যে আল্লাহ হারাম করেছেন এটা সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষ জানেনই না। সুতরাং ইসলাম প্রতিষ্ঠা বলতেই তারা বোঝেন যে ইসলামটা মোল্লাদের হাতে আছে সেটাই ক্ষমতাসীন হওয়া অর্থাৎ থিয়োক্রেসি বা মোল্লাতন্ত্র কায়েম হওয়া। এটাকে কোনোভাবেই শিক্ষিত, যুক্তিশীল, সভ্য মানুষ মেনে নিতে পারে না, এটাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠাও বলা যায় না।
আজ তারা এবাদত বলতে বোঝে মসজিদ আর খানকায় গিয়ে পড়ে থাকা, যিকির করা। এটা করে কি দেশে শান্তি আসবে না এসেছে কোনো কালে? আগে ধর্মবিশ্বাসীদেরকে বোঝাতে হবে যে এবাদত হচ্ছে এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা যে সমাজে মানুষ নিরাপদে থাকবে, পিকেটারের ইট খেয়ে হাসপাতালে যেতে হবে না, সকলের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে, আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে, কোনো নারী ধর্ষিত হবে না, কষ্টের উপার্জন ঘুষখোর বা ছিনতাইকারীর পকেটে যাবে না, বেকারত্বের গ্লানি নিয়ে কেউ আত্মহত্যা করবে না, কেউ যেন ক্ষুধায় কষ্ট পাবে না, কেউ বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরবে না। এমন সমাজ তৈরি করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করাই জেহাদ, এটাই বড় এবাদত।
বর্তমানে সমগ্র মুসলিম বিশ্বেই পশ্চিমা বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থাকে জাতীয় জীবনব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করে তা পালন করে চলছে। আমরা মনে করি, এটা এমন একটি সিস্টেম যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা আমাদেরকে চিরস্থায়ীভাবে দাসে পরিণত করার জন্য চাপিয়ে দিয়ে গেছে। সুতরাং এ সমাজের মানুষকে হুট করে কোর’আনের শাসনের কথা বলা অবান্তর ও অযৌক্তিক হবে। এজন্য আল্লাহর রসুলও তা বলেন নি। আপনি যদি রসুলের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চান, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান তবে রসুলাল্লাহ যেভাবে শুরু করেছিলেন আপনাকেও সেভাবেই শুরু করতে হবে, রসুলের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। কারণ তিনি হচ্ছেন উত্তম আদর্শ, উসওয়াতুল হাসানা। তিনি দাড়ি রেখেছেন বিধায় আপনিও ঐভাবে দাড়ি রাখবেন এই জন্য নয়, দাড়ি সব মানুষেরই হয়। তাই একটি নির্দিষ্ট স্টাইলের দাড়ি রাখানোর, নির্দিষ্ট পোশাক পরানোর জন্য আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন এমন ধারণা মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি দাড়ি রাখার আদর্শ নিয়ে আসেন নি, তিনি এসেছেন মানবজীবন থেকে সকল অন্যায় দূর করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে। পবিত্র কোর’আনে অন্তত তিনটি স্থানে আল্লাহ মহানবীর আগমনের উদ্দেশ্য এবং কাজ কী তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন, “আল্লাহ সঠিক দিক নির্দেশনা ও সত্য জীবনব্যবস্থাসহ তাঁর রসুল প্রেরণ করেছেন এই জন্য যে রসুল যেন একে অন্যান্য সকল জীবনব্যবস্থার উপর বিজয়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন (সুরা তওবা ৩৩, সুরা ফাতাহ ২৮, সুরা সফ ৯)। এই কাজটি করতে গিয়ে তিনি প্রথমে কী করলেন? প্রথমে তিনি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের দিকে আহ্বান জানালেন। মক্কার লোকেদের কলেমা বোঝালেন, তওহীদ বোঝালেন। মক্কার লোকেরা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিল না। তিনি প্রথমে তাদের আল্লাহর বিধান কেন মানতে হবে তা বোঝালেন, ঐক্য বোঝালেন, একক নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের প্রয়োজনীয়তা বোঝালেন। তখন তারা ধীরে ধীরে কলেমা বুঝতে পারল তখন রসুলাল্লাহকে তাদের নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি হলো। বিচ্ছিন্ন একটি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করল তাঁকে কেন্দ্র করে। মক্কায় যে তের বছর ছিলেন এ দীর্ঘ সময়ে সেখানে তাঁর অনেক আনুগত্যশীল অনুসারী তৈরি হয়েছিলেন, তিনি কিন্তু ইচ্ছা করলে একটি সহিংস অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাঁর প্রধান বিরোধীদেরকে হত্যা করে তাঁর আদর্শকে মক্কাবাসীদের উপর চাপিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি, কারণ অধিকাংশ লোকের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে শাসনক্ষমতা নিলেও নিরাপদ সমাজ গঠন করা যায় না। একবার মক্কার শাসন ক্ষমতা তাঁকে দেওয়ার প্রস্তাবও তাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটাও প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ তিনি দেখেছেন তিনি যে ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করতে চান তখনও জনগণ সেটা বোঝে নি, তারা তাদের পূর্ববর্তী জীবনবিধান বা ধারণা নিয়েই থাকতে চেয়েছে। তাই রসুল অপেক্ষা করেছেন তাঁর আদর্শটা জনগণের কাছে গৃহীত হওয়ার জন্য। এভাবে অপেক্ষা করে ১৩ বছর শুধু তওহীদের আহ্বান করে গেছেন। মক্কাবাসীকে এ কথাই বুঝিয়েছেন যে তোমরা সমস্ত ন্যায় অন্যায়ের মাপকাঠি হিসাবে আল্লাহকে মেনে নাও। এটাই সমস্ত জীবনের মঙ্গল। কিন্তু গুটিকয় লোক বাদে সবাই প্রত্যাখ্যান করল। এরই মধ্যে মদিনাবাসীদের মধ্যে একটি বড় অংশ তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলো এবং তাঁকে নিজেদের পরিবারের মতো করে আশ্রয় দিতে সম্মত হলো। তিনি মদিনায় চলে গেলেন, কারণ সত্য প্রতিষ্ঠাই তাঁর মিশন। যারা সত্য গ্রহণে আগ্রহী তাদের কাছেই তিনি যাবেন। তখন মদিনাকেন্দ্রীক একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজব্যবস্থা কায়েম হলো। সেই ঐক্যবদ্ধ সমাজ নেতা হিসাবে রসুলাল্লাহকে মেনে নিলেন, তারা তাদের যাবতীয় সমস্যার সিদ্ধান্তদাতা হিসাবে রসুলকে মেনে নিলেন। সেখানে বসবাসকারী সকল ধর্মের অনুসারীদেরকে নিয়ে তিনি একটি ঐক্য ও নিরাপত্তাচুক্তি করলেন। যখন একটি জাতি রসুলাল্লাহকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হলো তারপর থেকে তাদের যাবতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ একটার পর একটা বিধান নাজেল করতে থাকেন। এ বিধানগুলোর সমষ্টিই হচ্ছে আজকের কোর’আন। এখন আমাদের এ দেশের অবস্থার প্রেক্ষাপটে আপনি যদি শ্লোগান তোলেন যে আল্লাহর আইন চাই, শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন কমিটি করেন তাহলে এসব কথা হবে লোকভুলানো কথা, প্রতারণামূলক রাজনৈতিক শ্লোগান। কারণ আমাদের দেশের জনগণ ধর্ম-অধর্মের পার্থক্য বোঝে না, তারা বিকৃত ইসলামকেই ধর্ম বলে মানে। সেই ধর্ম এখনো ধর্মব্যবসায়ীদের কুক্ষিগত এবং জনগণ তাদেরকেই সমীহ করে চলে। ধর্মব্যবসা যে ইসলামে নিষিদ্ধ, ধর্মব্যবসায়ী আলেমরা যে আসমানের নিচে নিকৃষ্টতম জীব তা তারা জানেই না, তাই ধর্মব্যবসায়ীদেরকে তারা টাকা দিয়ে পালন করে। ঐক্যের বিরুদ্ধে কথা বলা যে কুফর সেটাও তারা জানে না, তাই তারা এখনো নিজেদেরকে শিয়া, সুন্নি, হানাফি বলে বিশ্বাস করে, নিজেদের মধ্যে ফেরকা মাজহাবের দেওয়ালকে লালন করে। এমনকি পশ্চিমাদের বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থাই সর্বোৎকৃষ্ট বলে তারা মনে করে, পশ্চিমাদেরকেই প্রভু মনে করে, তাদের তৈরি ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের উপর ভিত্তি করা শত শত রাজনীতিক দলে বিভক্ত হয়ে নিত্য দাঙ্গা-ফাসাদ, হানাহানি, মারামারিতে লিপ্ত। অর্থাৎ চূড়ান্ত অনৈক্য বিরাজিত। সেখানে এখনই এ জাতির সামনে ‘কোর’আনের শাসন চান কি চান না’, না বলে আমাদের প্রথম কর্তব্য হচ্ছে সমাজের মানুষগুলোকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বোঝানো, ঐক্যের সুবিধা, অনৈক্যের অসুবিধাগুলো বুঝানো। তাদেরকে সর্ব উপায়ে বোঝানো যে, কোন কাজ করলে সেটা আল্লাহর এবাদত হবে, কোন কাজ আল্লাহর কাছে প্রিয়। জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে বের করে মানুষগুলোকে সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের মধ্যে একটি জাতীয় ঐক্যবোধের চেতনা জাগ্রত করাই হবে আমাদের প্রথম কাজ। তারপর সমস্ত জাতি যখন এই কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হবে যে, আমরা ষোল কোটি মানুষ সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, হকের পক্ষে থাকব তখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে, তাদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে কীসের ভিত্তিতে হবে।
সশস্ত্র বিপ্লব ঘটিয়ে যারা রাতারাতি একটি সংবিধান প্রতিষ্ঠা করে ফেলতে চান তাদের ভুলটাও তুলে ধরতে হবে যেন কেউ সেই পথে পা না বাড়ায়। মনে রাখতে হবে, ইসলাম কেবল কয়েকটি বিধানের সমষ্টি নয়, এটি একটি সভ্যতা বা সিভিলাইজেশন যার স্থায়িত্ব হতে পারে হাজার হাজার বছর। একটি সভ্যতার সঙ্গে একটি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতি, জীবনযাপন, পেশা, সামগ্রিক জীবন, শিল্প, সাহিত্য, গান, স্থাপত্য, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, পোশাক আশাক সবকিছু জড়িত থাকে। সুতরাং একটি বই থেকে কয়েকটি আইন চালু করে দিলেই কি সেটাকে সভ্যতা বলা যাবে? যাবে না। সর্বশ্রেণির মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে না। এ কারণেই তালেবানরা রাজ্যজয় করতে পারলেও মানুষের মনজয় করতে পারে নি। যেটা রাতারাতি প্রতিষ্ঠা হয় সেটা রাতারাতি উৎখাতও হয়। রাতারাতি বিপ্লবের দ্বারা সমাজতন্ত্র বা গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠিত হয় নি, বহু ঘাত প্রতিঘাত সইতে হয়েছে, বিশ্বময় এই মতবাদগুলোর ইতিবাচক নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে, হাজার হাজার বই লেখা হয়েছে, গণমাধ্যমে ঝড় তোলা হয়েছে। এভাবে এই আদর্শগুলো মানুষের মনে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, তারপর চলেছে পরীক্ষা নীরিক্ষা, সংস্কারসাধন। আদর্শ প্রতিষ্ঠার এটিই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক রীতি। যারা সহিংসতার মধ্যে দিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন তারা কোথাও সফল হন নি, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, এমন কি সমাজতন্ত্রের পথিকৃৎগণও তাদেরকে সমর্থন দেন নি।
আল্লাহ চান মানুষজাতি যেখানেই থাকুক ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কারণ তিনি মানুষকে সামাজিক জীব হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। তাদের সেই সমাজে জুলুম না থাকুক, অবাধ বাক স্বাধীনতা থাকুক, অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি না থাকুক, শাসকের জবাবদিহিতা থাকুক এটাই আল্লাহ চান। আমরাও এটা চাই। আমরা মানুষকে এগুলোর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই- কারণ ঐক্যবদ্ধ না হলে এই চাওয়া কখনোই পূর্ণ হবে না। এক কথায় মানুষ ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয় তাহলেই সমাজের মধ্যে যদি শান্তি, ন্যায়, সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের এই ঐক্যের মাধ্যমে ইসলামের অধিকাংশ বিধান আপনিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। বাদ থাকে শুধু দ-বিধি বা পিনাল কোড। সেটা জনগণই ঠিক করে নেবে যে তারা এই পিনাল কোড চায় কি চায় না। যদি তারা কোর’আনের পিনাল কোড না চায় সেটা তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ইসলামের নীতি বিরুদ্ধ। এমনকি আমরা এও বলছি না যে কেবল কোর’আনই স্রষ্টার দেওয়া জীবনব্যবস্থা। যারা সনাতন ধর্মাবলম্বী তারা হয়তো কোর’আনের বদলে বেদের বিধানকে উত্তম মনে করবেন, ইহুদিরা চাইবে তওরাতের বিধান। অসুবিধা নেই, ওগুলো সবই স্রষ্টারই বিধান। ওগুলো দিয়েও শান্তি এসেছে। মদিনায় ইহুদিরা কোর’আনের বিধানের বদলে তওরাতের বিধান দিয়ে নিজেদের বিশ্বাসঘাতকতার দ- কামনা করেছিল, কারণ সেটাকেই তারা সুবিচার বলে বিশ্বাস করত। রসুলাল্লাহ সেটা মোতাবেকই তাদের বিচার করেছিলেন। এখনো কোনো অপরাধী যদি ব্রিটিশ পিনাল কোড মোতাবেক নিজের দ- চায়, তার উপর জোর করে কোর’আনের কানুন চাপিয়ে দেওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি না। রাষ্ট্রগঠনের আধুনিক সংজ্ঞায় জনগণের ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে রাষ্ট্র। জনগণ কী চায় সেটাই মুখ্য। জনগণ যদি বলে আমরা তিনশত বছর ব্রিটিশ রুল দেখেছি। এটা আমাদেরকে শান্তি দিতে পারে নাই, তাহলে তারা সেটা আর মানবে না। আর যদি বলে আমরা এই অশান্তির মধ্যেই থাকতে চাই। তাহলে ধর্ম সেটাকে উৎপাটন করে জোর করে কোর’আনের বিধান চাপিয়ে দেবে না। কারণ জোর করা ধর্মের কাজ নয়, সেটা অধর্মের কাজ।
তবে আমরা দ্ব্যার্থহীনভাবে বলছি যে, পশ্চিমা সভ্যতার যে জীবনব্যবস্থা মানুষকে শান্তি দিচ্ছে না, দিতে পারবে না। কারণ এগুলো মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত বিধান আর স্বল্পজ্ঞানী মানুষ যে এক মিনিট পরে কী হবে তাও জানে না, সে কখনোই মানবজাতির শান্তির জন্য নিখুঁত একটি জীবনবিধান রচনা করতে পারে না। এগুলো প্রতারণামূলক ব্যবস্থা, এরা মানবাধিকারের কথা বলে, বাকস্বাধীনতার কথা বলে, রাষ্ট্রের কাজে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনের কথা বলে, সুবিচারের কথা বলে, সাম্যবাদের কথা বলে কিন্তু কিছুই দিতে পারে না। কিন্তু স্রষ্টার বিধানে এগুলো দেওয়া অতীতেও সম্ভব হয়েছিল, এখনও সম্ভব। এই বিশ্বাসটা আগে মানুষের মনে আমরা সৃষ্টি করতে চাই, তাহলে মানুষের সামনে কোনটা সত্য আর কোনটা প্রতারণা তা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। তখন মানুষই তার পথ বেছে নেবে। তবে আমরা মনে করি, আল্লাহর দেওয়া বিধানের চেয়ে সত্য, ন্যায়নিষ্ঠ, সুবিচারপূর্ণ কোনো বিধান হতে পারে না, তথাপি সেটা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া আল্লাহর নীতি পরিপন্থী।
প্রশ্ন: যখন জনগণ আপনাদেরকে মেনে নিবে তখন কি আপনারা বর্তমানের দলগুলিকে রাজনীতিক অধিকার দিবেন?
উত্তর: একটি জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। একটি জাতিকে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। এটা যখন একবার করা যাবে তারপর কোনো অজুহাতে সেখানে আবার অনৈক্য সৃষ্টির সুযোগ আপনি কেন দেবেন? আপনি কি জাতির মঙ্গল চান না? আমরা জাতিকে ঐক্যের গুরুত্ব বোঝাব, যুগে যুগে যত ধর্মগ্রন্থ এসেছে সব জায়গায় আছে ঐক্যবদ্ধ থাকার হুকুম, ঐক্য ভঙ্গকে সবচেয়ে বড় অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতকিছুর পরও জাতি যদি অনৈক্যের পথে পা বাড়ায় সেটা তাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি। কোনো মতবাদের নামেই হোক আর ধর্মের নামেই হোক যা কিছুই জাতির ঐক্যকে বিনষ্ট করবে সেটাকে আমরা অন্যায় বলে বলে মনে করি। একটি উদাহরণ দেই। ইসলামে পরনিন্দা নিষিদ্ধ, সমালোচনা করতে চাইলে যার দোষ তার সামনে করতে হবে। বর্তমানের রাজনীতিক দলগুলোর কাজই হচ্ছে অন্যকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা। আমরা বলব, যা বলবেন সামনে বলুন, আড়ালে যা বলবেন কেবল ভালোটা বলবেন। একটা খারাপ কথাও আড়ালে বলতে পারবে না। মিথ্যা বলার তো প্রশ্নই আসে না। কোনো রাজনীতিক দল যদি এই নীতি মেনে রাজনীতি করতে চায় আমাদের আপত্তি নেই।

আপনারা বাংলাদেশকে কি একটি ইসলামি রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চান?2016-12-06T11:09:59+06:00

ইসলামি রাষ্ট্র বিষয়টা নিয়ে এখন মানুষের যে কনসেপ্ট, ধারণা আছে আমাদের ধারণাটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন ধরুন প্রথমত ইসলাম বলতে মানুষ বুঝে দাড়ি টুপি নামাজ রোজা সুর করে কোর’আন তেলাওয়াত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এগুলো মানুষ মনে করে ইসলাম। আর ইসলামি শাসন বলতে এখন মানুষ বুঝে তালেবানি শাসন মোল্লা ওমরের শাসন, সৌদি আরবের শাসন- এগুলোকে মানুষ মনে করে ইসলামি শাসন। আর ইসলামি দল বলতে এখন দু রকমের দল বোঝান হয় যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে, যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ করে। কাজেই ইসলাম বলতে এখন মানুষের মনে যে কনসেপ্টটা, ধারণাটা আসে এখন আসে সেটা নিয়ে আমাদের ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস একটু ভিন্ন। প্রচলিত যে ইসলামি রাষ্ট্র, এমন রাষ্ট্র আমরা চাই না। আমাদের ধারণা মোতাবেক ইসলাম কি? ইসলাম হলো শান্তি। এটা এমন একটি সিস্টেম যা প্রয়োগ করার ফলে ন্যায় সুবিচার শান্তি আসবে সেই ১৪০০ বছর আগে যেটা হয়েছিল। মানুষ যেন দরজা খুলে ঘুমাতে পারে, মানুষ যেন নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে পথ চলতে পারে। তাদের সকল মানবাধিকার রক্ষিত হবে, তাদের অবাধে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে। এমন একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থার নামই হলো ইসলাম। আমরা সেই ইসলাম চাই, আশা করি শুধু আমরা না কেবল পৃথিবীর তাবত মানুষও এই শান্তিপূর্ণ জীবন চায়। শান্তি চায় মানেই ইসলাম চায়। জাতিসংঘ তৈরি হয়েছে এই ইসলামের জন্য অর্থাৎ শান্তির জন্য। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি ইসলামের জন্য, মানে শান্তির জন্য। কাজেই ইসলাম প্রিয় মানুষ কিন্তু পৃথিবীতে সিংহভাগ, দাঙ্গাপ্রিয় লোক অল্প। ঐ অর্থে আমরা ইসলাম চাই, মানে শান্তি চাই। ইসলামে জোর করার কোনো জায়গা নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক জায়গায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আকারের বোরখায় আবৃত না করলে বেত্রাঘাত করা হতো, আরবে এখনো নির্দিষ্ট ড্রেসকোড বাধ্যতামূলক। পুলিশ বাহিনী রাখা হয়েছে, কেউ নামাযে না গেলে পিটানো হয়, জোর করে নামাজে দাঁড় করে দেওয়া হয়। এটাতো ইসলাম না। এমন ইসলাম সৃষ্টি করা হয়েছে পরবর্তীতে। এসব জোর জবরদস্তির কারণেই তো মানুষের মন থেকে ইসলাম উঠে গেছে। ইসলাম বলতে তারা এখন জবরদস্তিই মনে করে, আফগানিস্তান মনে করে। কিন্তু প্রকৃত ইসলাম হলো উদারনৈতিক ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা এখন বলিষ্ঠভাবে বলতে চাই, বেত দিয়ে পিটিয়ে নামাজে নেওয়া, মেয়েদেরকে বোরখা পরতে বাধ্য করা, জোর করে দাড়ি রাখাতে হবে, দাড়ি না রাখলে সেনাবাহিনীতে জায়গা হবে না, ফুটবল ক্রিকেট খেলা যাবে না, গান গাওয়া, ছবি আঁকা যাবে না এসব ধ্যানধারণা ইসলাম সমর্থন করে না। কিন্তু এগুলোকেই ইসলাম বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিকৃত ইসলামের বিরুদ্ধেই আমাদের সংগ্রাম। আমরা এখন মানবজাতিকে বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষকে সত্যমিথ্যার পার্থক্য বুঝাচ্ছি, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝাচ্ছি। এখন যদি আপনি বলেন ইসলামি রাষ্ট্র চান কি না, আমার কথা হলো যে রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ হবে মানুষের সমস্ত অধিকার সে লাভ করবে এটাই ইসলামি রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র কেবল আমরা না, সবাই চায়। আর যদি বলেন মোল্লাতান্ত্রিক রাষ্ট্র চান কিনা, এক বাক্যে বলব আমরা তা চাই না।

আপনাদের সদস্য সংখ্যা কত?2016-12-06T11:09:24+06:00

যেহেতু হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনীতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন, তাই মাননীয় এমামুয্যামান এ আন্দোলন গঠন করার পর থেকে আজ পর্যন্ত সর্বশ্রেণির হাজার হাজার লোক এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছেন। অনেকে কেবল সমর্থন দিয়েছেন, অনেকে এ সত্য প্রচারে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন। কিন্তু কিছুদিন কাজ করার পর তাদের সিংহভাগই আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে, হেযবুত তওহীদের কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিঃস্বার্থভাবে নিয়োজিত করে করতে হয়। এটা ইসলামের নীতি যে, ইসলামের কাজ করে, এবাদত করে এর কোনো পার্থিব বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না। নিজের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে, সময় দিয়ে কাজ করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ যারা নিতে পারেন তারাই হেযবুত তওহীদে সক্রিয়ভাবে টিকে থাকেন। এভাবে বহু এসেছে, বহু চলে গেছে। অতি সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি যখন আমরা ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান নিয়ে মাঠে নেমেছি, পত্রিকা আর ডকুমেন্টারি ফিল্ম নিয়ে কাজ করছি, আমাদের বক্তব্য যখন সাধারণ মানুষ সরাসরি জানতে পারছে তখন এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ দু হাত তুলে আমাদের কর্মকা-কে সমর্থন জানিয়েছেন। যদি জনসমর্থনের কথা বলেন এই লক্ষ লক্ষ জনতাও আমাদের অন্তর্ভুক্ত। যারা সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, তারাও সত্যের অংশীদার। তবে সক্রিয় সদস্য যারা সার্বক্ষণিকভাবে আন্দোলনের কাজ করছে, এমন কয়েকশত লোক আমাদের আছে। এর বেশি হবে না।

আপনারা কি বাংলাদেশের সংবিধানকে স্বীকার করেন?2016-12-06T11:06:28+06:00

বাংলাদেশে গত কুড়ি বছর থেকে সংবিধান মেনেই আমরা কাজ করছি এবং আমরাই বলতে পারি যদি কেউ এদেশে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংবিধানের নিয়মগুলো রক্ষা করে চলে তবে সেটা এই হেযবুত তওহীদ। কারণ গত কুড়ি বছর ধরে সংবিধান পরিপন্থী কোনো কাজ করেছি বলে কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না। বরং সংবিধানপ্রদত্ত যে নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার তা আমাদের বেলায় অন্যদের দ্বারা বার বার লংঘিত হয়েছে। আমাদের কথা বলতে দেয়া হয় নাই, আমাদের মিটিং করতে দেয়া হয় নাই, আমাদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে মর্যাদাহানি করা হয়েছে, অনর্থক সন্দেহ করে প্রশাসনিক ও সামাজিক হয়রানি করা হয়েছে, ৪৬০ এরও অধিক বার মিথ্যা অভিযোগে জেলে দেয়া হয়েছে যে মিথ্যা আদালতে আর প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা করা হয়েছে, আমাদের লেখা সম্পূর্ণ বৈধ হ্যান্ডবিল ও বই প্রচার করতে দেওয়া হয় নি। এগুলো গত কুড়ি বছরে হাজার হাজার বার হয়েছে, যার ডকুমেন্ট আমরা সংরক্ষণ করেছি, কেউ দেখতে চাইলে দেখবেন। অথচ আমাদের বইপত্র ও সিডি সব প্রকাশনা সামগ্রীই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মকানুন অনুসরণ করেই ছাপানো হয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সংবিধানের নীতি পরিপন্থী কাজ আমাদের সঙ্গে করা হয়েছে, কিন্তু আমরা করি নাই। আজ পর্যন্ত একবারের জন্যও আমরা আইন ভঙ্গ করি নাই, আইনকে নিজের হাতে তুলে নেই নাই।
আমাদেরকে প্রশ্ন করা হয়, আমরা সংবিধান মানি কি না? আরেকটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে সংবিধানের মূলনীতিগুলো অর্থাৎ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এগুলো আমরা স্বীকার করি কিনা?
এ বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য হলো, প্রথমত আমরা গণতন্ত্র মানি কি না। আসলে এক কথায় এর উত্তর হয় না। কারণ কেতাবে যাই লেখা থাক বাস্তবে গণতন্ত্রের যে করাল রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি দুনিয়াময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে দেশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করা হয়, গণতন্ত্রের নামে অন্যের অধিকার হরণ করা হয়, কথায় কথায় হরতাল ডাকা হয়, নাস্তানাবুদ করা হয়. সহিংস কর্মাকা- চালানো হয়, কারখানায় লক আউট করা হয়, এভাবে গণতন্ত্রের নামে সমস্ত অপকর্মগুলো যে চলে। যেখানে ন্যায়-অন্যায়ের কোনো মাপকাঠি নেই, জনতার নামে সব চালিয়ে দেওয়া হয় আমরা এ গণতন্ত্র মানি না। শুধু তা-ই না, আমরা মনে করি, কোনো সভ্য মানুষ এই জাতীয় গণতন্ত্র মানতে পারে না এবং এ জাতীয় গণতন্ত্র দিয়ে কোনো দেশ সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নতি করতে পারে না। যে গণতন্ত্রের কারণে গত ৪৪ বছরে জাতিটি একদিনের জন্যও স্বস্তি পায় নি, যার দ্বারা জাতির মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়, ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, হানাহানি হয়, একটা জাতি টুকরো টুকরো হয়ে যায়, নিজের দলের লোকেরা পদের জন্য নিজেদের হত্যা করে, আমরা এমন সর্বনাশা গণতন্ত্রকে ঘৃণা করি, প্রত্যাখ্যান করি। এ জাতীয় গণতন্ত্র দিয়ে পুরো দেশ, জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে, এটা হচ্ছে পশ্চিমাদের চাপিয়ে যাওয়া ষড়যন্ত্রমূলক ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতি। আশা করি এ সহিংসতা জাতিবিনাশী গণতন্ত্রের কথা আমাদের সংবিধানে লেখা নেই। সেখানে যে গণতন্ত্রের কথা লেখা আছে তা হলো, ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা, অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সকলের বাক স্বাধীনতা, গবেষণার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা, অবাধে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন দিয়ে সরকার গঠনের স্বাধীনতা, সরকারকে পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন নাগরিক হিসাবে আমার মতামত প্রদানের স্বাধীনতা ইত্যাদি। এই যদি গণতন্ত্র হয়ে থাকে তবে আমি এই সব নীতেকে স্যালুট করি, আমি এই সকল অধিকার চাই, এর জন্য লড়াই করি। আল্লাহর রসুলের প্রকৃত ইসলামও মানুষের এ অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দেয় এবং তা প্রাপ্তির সঠিক পথ দেখায়।
এরপরে ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানে বর্ণিত ধর্মনিরপেক্ষতার মানে যে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, যার যার ধর্ম সে সম্মানের সঙ্গে পালন করবে, তার বিশ্বাসে কেউ আঘাত করবে না, তার উপাসনালয়ে কেউ হামলা করবে না, অর্থাৎ ধর্ম পালনে স্বাধীনতা, ধর্মীয় আনন্দ-অনুষ্ঠান করার স্বাধীনতা। এটা ধর্মনিরপেক্ষতা যদি হয়ে থাকে তবে এই ধর্মনিরপেক্ষতাকে আমরা সম্মান করি, এর জন্যই আমরা লড়াই করছি। ইসলাম যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখন সব ধর্মের লোকেরাই সেই ভূখ-ে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করেছিল। আমরা প্রকৃত ইসলামের যুগ বলতে রসুলাল্লাহর পর থেকে ৬০/৭০ বছর পর্যন্ত সময়কালকে বুঝি। এর পরে ইসলাম শাসক ও ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। সেটার উদ্দেশ্য হয়ে গিয়েছিল ভোগবিলাস ও সাম্রাজ্যবাদ। তারপর থেকে ইসলামের নামে যা কিছু করা হয়েছে তার সঙ্গে আল্লাহ-রসুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না, এর জন্য উম্মতে মোহাম্মদীকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক।
পাশ্চাত্য ধর্মনিরপেক্ষতার জন্ম কীভাবে সেটাও স্মরণে রাখা প্রয়োজন। বাইবেলে রাষ্ট্রীয় জীবনব্যবস্থা নেই, তাই রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তির পথনির্দেশ করতে খ্রিষ্টধর্ম ব্যর্থ হয়। এজন্য ইউরোপে ধর্মকে ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ রেখে মানুষের তৈরি বিধান দিয়েই রাষ্ট্র চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ইউরোপ রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা একটা বস্তুবাদী সভ্যতার জন্ম দিয়ে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা, মিডিয়ার মাধ্যমে অপ-প্রচার চালিয়ে সেই বক্তি জীবনের ক্ষুদ্র গ-ি থেকেও ধর্মকে উৎখাত করে দিতে চেষ্টা করে। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম নিয়ে প্রকারান্তরে ধর্মহীনতার চর্চা শুরু হয়, এটাকে যদি ধর্মনিরপেক্ষতা বলেন তবে সেই ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সেই ধর্মহীনতা আমরা মানি না। কারণ এতে ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মনিরপেক্ষতা যিগির তুলে আল্লাহর দেওয়া বিধানের প্রাকৃতিক ও মহাসত্য বিষয়গুলোকেও ব্যক্তি জীবনের ক্ষুদ্র গ-ির মধ্যে আবদ্ধ করে জীবনকে অপ্রাকৃতিক করে তোলা হয়। মানুষের ঈমানকে বনসাই বানিয়ে রাখার এ প্রচেষ্টার ফলেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয় আর ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাকে ভিন্নখানে প্রবাহিত করে ধর্মকে ধ্বংসাত্মক কাজে লাগায়। ধর্মকে জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠার প্রেরণা থেকেই জন্ম নিয়েছে ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদ। এগুলোর দ্বারা মানুষ ইহজীবনও হারিয়েছে, পরকালও হারিয়েছে। ধর্মের বিরুদ্ধাচারণ বা ধর্মপ্রাণ মানুষের চিন্তা চেতনাকে হেয় করার ফলে মানবতা, জাতি, রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ নৈতিকতা হারিয়ে অপরাধী হয়েছে। কাজেই ধর্মনিরপেক্ষতা যদি ধর্মহীনতা হয়, তবে আমরা এই ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে নই। আমাদের সংবিধানে যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যার যার ধর্ম প্রালন ও প্রচারের অধিকার নিশ্চিত করা, আমরা দৃঢ়ভাবেই এর সমর্থন করি।
এরপরে জাতীয়তাবাদ। এমামুয্যামান বলেছেন, জাতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি জাতির এককমাত্র, কিন্তু জাতির বাইরে ব্যক্তির কোনো মূল্য নেই। ইসলাম অর্থ শান্তি, আর শান্তি একটি সমষ্টিক বিষয়। এককভাবে একজনের জীবনকে শান্তিময় করা সম্ভব নয়, যদি আরেকজন অশান্তি সৃষ্টি করে। ইসলামের সবকিছুই হলো জাতি ভিত্তিক। আমি প্রথমে বলব মানবজাতি এক জাতি। বাবা আদম (আ.), মা হাওয়ার সন্তান সবাই আমরা একজাতি মানবজাতি। সে হিসাবে আমরা বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষও একজাতি। অন্যদিকে আমরা বাঙালি জাতি। কিন্তু নামে একজাতি হলেই হবে না, প্রত্যেকের অনুভূতি, জাত্যবোধ, চিন্তা চেতনা এক হতে হবে। আমরা একে অন্যের সমস্যাগুলো ভাগাভাগি করে নেব, প্রত্যেকের বিপদে এগিয়ে যাব। একজন বিপদগ্রস্তকে দেখে পাশ দিয়ে হেঁটে চলে যাব না, তাকে রক্ষার চেষ্টা করব। এটা হচ্ছে জাতীয়তাবাদ। তা না করে কেবল রাজনীতির মঞ্চে গলার রগ ফুলিয়ে আমি বাঙালি, আমি মুসলমান ইত্যাদি বলে চিৎকার করে লাভ নেই। আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, আমরা ষোল কোটি যদি সত্যিই এক জাতিভুক্ত হয়ে থাকি তাহলে আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি থাকবে না। আমাদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে যদি সমাজের স্বার্থকে স্থান না দেই, তবে আমাদের দিয়ে কোনোদিন জাতিগঠন হবে না। জাতীয় উন্নতির স্বার্থে আমরা সর্বদা একমত থাকব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব সমস্ত ধর্মব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে, অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে। এই অর্থে আমরা জাতীয়তাবাদের পক্ষে। পাশ্চাত্য জাতিগুলিও তাদের ভৌগোলিক জাতীয়তায় বিশ্বাসী, এবং ঐ ভৌগোলিক রাষ্ট্রের স্বার্থকে তাদের অধিকাংশ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের উপর স্থান দেয়। আমার লাভ হবে কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে এমন কাজ তাদের অধিকাংশ লোকেই করবে না। তাদের বিদ্যালয়, স্কুল-কলেজে, ছোট বেলা থেকেই কতকগুলি বুনিয়াদী শিক্ষা এমনভাবে তাদের চরিত্রের মধ্যে গেঁথে দেওয়া হয় যে, তা থেকে কিছু সংখ্যক অপরাধী চরিত্রের লোক ছাড়া কেউ মুক্ত হতে পারে না। ফলে দেখা যায় যে ওসব দেশের মদখোর, মাতাল, ব্যভিচারীকে দিয়েও তার দেশের, জাতির ক্ষতি হবে এমন কাজ করানো যায় না, খাওয়ার জিনিসে ভেজাল দেওয়ানো যায় না, মানুষের ক্ষতি হতে পারে এমন জিনিষ বিক্রি করানো যায় না ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের দেশে জাতীয়তাবাদের শ্লোগান আছে কিন্তু সেই শ্লোগান দিয়ে জাতির সম্পদই ধ্বংস করা হচ্ছে। ষোল কোটি বাঙালিকে নিয়ে একটি শক্তিশালী জাতি সত্তা গড়ার কাজ আমরা করে যাচ্ছি। গত ৪৪ বছরে এই কাজ কেউ করে নাই, সবাই ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করাকেই রাজনীতি মনে করা হচ্ছে। এটা কি জাতীয়তাবাদ হলো? প্রতিটি ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে দেয়াল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, রাজনীতিক মতবাদ চাপিয়ে দিয়ে রাজনীতিক দল সৃষ্টি করে হানাহানির ইতিহাস দেখেছি আমরা গত ৪৪ বছরে। আমাদের সংবিধানে শক্তিশালী জাতিসত্তার যে ধারণা আছে আমরা মনে করি সেটা পূরণ করতে পারছে হেযবুত তওহীদ। আমরা বিগত ২০ বছরে বহু নির্যাতিত হয়েছি, কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। ভাঙচুরের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না, ওপথে কোনোদিন মানুষের শান্তি আসতে পারে না।
তবে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী ধারণায় আমরা বিশ্বাসী নই, কারণ এটাও এক প্রকার অন্ধ অমানবিকতার জন্ম দেয়। আমি বাঙালি জাতি নিয়ে খুব সুখ সমৃদ্ধির মধ্যে আছি, অথচ পার্শ্ববর্তী দেশে একটি জনগোষ্ঠী না খেয়ে মরছে আমি তার দিকে চেয়ে দেখব না এটা ঠিক নয়। আমাদের দেশেই ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে বাস করছে, প্রতিনিয়ত সেখানে মানবতা পদদলিত হচ্ছে সেটা আমারও কষ্টের কারণ হতে হবে। এটা যদি না হয় তবে তা মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো না, কাল আমাকেও হয়তো বিপদে পড়তে হবে, তখন আমার পাশেও কেউ দাঁড়াবে না। কাজেই ন্যায়-নীতিভিত্তিক, শক্তিশালী জাতিসত্তা গঠনে আমরা অগ্রগামী থাকতে চাই।

আপনারা বলেছেন এমামুয্যামান, উনি কীভাবে এমামুয্যামান হলেন? শেষ যামানায় এমাম মাহদী (আ.) আসার কথা। তবে কি আপনারা মাহদী (আ.) এর কথা অস্বীকার করছেন?2016-12-06T11:05:14+06:00

এই বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে সকলকে আগে ইসলামের একটি মূলনীতি জানতে হবে। আল্লাহর রসুল বলেছেন, যে ব্যক্তি তার যামানার এমামের বায়াত না নিয়ে মারা গেল সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল (বোখারি)। আপনারা আরো জানেন যে প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বোঝায়, অর্থাৎ কিছু বিশ্বাস আর উপাসনা, ইসলাম এমন ধর্ম নয়। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি সামষ্টিক জীবনব্যবস্থা, যেভাবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদিও একেকটি জীবনব্যবস্থা। আর উম্মতে মোহাম্মদী একটি জাতিসত্তা। আল্লাহ তাঁর শেষ নবীর উপর যে জীবনব্যবস্থাটি দান করেছেন সেটি তিনি কোনো গোত্রের জন্য দেন নি, দিয়েছেন সমগ্র মানবজাতির জন্য। তিনি চান মানবজাতি ঐক্যবদ্ধ হোক, তারা এক জাতিভুক্ত হয়ে এক পরিবারের মত বসবাস করুক। মানবজাতিকে তার কাক্সিক্ষত শান্তির সন্ধান দিতে আল্লাহর রসুল উম্মতে মোহাম্মদী জাতিটিকে সৃষ্টি করেছিলেন। উম্মতে মোহাম্মদীর কাজই হচ্ছে আল্লাহর অভিপ্রায় মোতাবেক সমগ্র মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি মহাজাতি তৈরি করা। ইসলামের কনসেপ্ট হচ্ছে, পুরো মানবজাতি একটা জাতি হবে, তারা ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়, অবিচার, অসত্য ও আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে থাকবে। তাদের নেতা থাকবে একজন। যে কোনো ঐক্য রক্ষা করতে হলে একজন নেতা থাকতে হয়- এটা প্রাকৃতিক নিয়ম। সেভাবেই এ জাতিটা তৈরি হয়েছিল। রসুলাল্লাহর এন্তেকালের পর আবু বকর (রা.) হয়েছিলেন সেই জাতির নেতা বা এমাম। আবু বকর (রা.) চলে যাওয়ার পর ওমর (রা.), ওমর (রা.) চলে যাওয়ার পরে ওসমান (রা.)। তারপর থেকেই ইসলামের ইতিহাসে কয়েকটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটলো, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জাতির ভিতরে ঐক্য নষ্ট করে দিল, ক্রমান্বয়ে সিয়া সুন্নি ফেরকা সৃষ্টি হলো। এ জাতির মধ্যে কখনো এই দুঃখজনক বিভক্তি সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল না। যাই হোক জাতিটা ভাঙতে ভাঙতে আজকে যে অবস্থায় এসেছে যে মুসলিম এখন আর কোনো জাতিসত্তা নয়। যাঁকে কেন্দ্র করে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব এমন কোনো নেতাও এ জাতির নেই, যে নেতা আমাদের জাতীয় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক সবকিছু ব্যবহারে নেতৃত্ব দেবেন এমন কেউ নেই। অথচ এটা ছাড়া জাতির অস্তিত্ব টেকে না। আপনারা আরো জানেন যে সুরা বনী ইসরাইলের ৭১ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন যে, ‘সেই দিন প্রত্যেক জাতিকে তাদের ইমামের অর্থাৎ নেতার সাথে ডাকা হবে।’ আল্লাহ এই শৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, তিনি সে মোতাবেকই হাশরের দিনে প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতার নেতৃত্বে আহ্বান করবেন। কথা হলো, এই যুগে আমরা যারা হেযবুত তওহীদে এসেছি, আমাদেরকে কোন এমামের নেতৃত্বে ডাকা হবে, আমাদের এমাম কে? আমরা যাঁর মাধ্যমে সত্য পেয়েছি, যিনি আমাদেরকে ইহ ও পারলোকিক জীবনে শান্তিলাভের সঠিক পথ দেখিয়েছেন, অর্থাৎ আমাদের এমামুয্যামান, আমরা চাই আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর সঙ্গে ডাকুন, আমরা তাঁকে আমাদের এ যামানার এমাম, ঞযব খবধফবৎ ড়ভ ঃযব ঞরসব- এ সময়ের নেতা হিসাবে মেনে নিয়েছি।
আমরা জানি শেষ যামানায় এমাম মাহদী (আ.) এর আসার কথা। আল্লাহ রসুল বলেছেন যে একজন মানুষ আসবেন তাঁর নাম অন্য থাকবে, কিন্তু তাঁর উপাধি হবে হেদায়াত প্রাপ্তদের নেতা বা এমাম মাহদী। কাজেই ইসলামে যেহেতু এ ধারণাটা আছে, সেটা আমরা অস্বীকার করছি না। তিনি যখন আসবেন, তখন তাঁকে যারা অনুসরণ করবেন তারা পথ পাবেন। কিন্তু এই সময়ে আমরা যারা আছি তারা কি নেতৃত্বহীন অবস্থায় থাকব? না। আল্লাহ আমাদেরকে এ যুগের নেতা দান করেছেন, তিনি হচ্ছেন এমামুয্যামান। মাহদী (আ.) নিয়ে অনেকে স্বয়ং এমামুয্যামানকেও প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু তিনি সব সময় বলতেন, খবরদার, আমাকে তোমারা মাহদী (আ.) বলবে না। আমি একজন অতি গোনাহগার মানুষ, আমি রসুলাল্লাহর একজন সাধারণ উম্মত। তবে আমি তোমাদের সামনে যে ইসলাম উপস্থাপন করেছি, সেটা সত্য ইসলাম।’ এজন্য আমরা কোথাও এমামুযযামানকে এমাম মাহদী লিখি নাই এবং বলিও না।
কবি নজরুল বলেছিলেন,
হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদী ঈসা,
কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা?
কার মধ্যে মাহদী বা ঈসা বিরাজ করছেন সেটাতো বলা যায় না, সে জন্য সত্যসন্ধানীরা অনুসন্ধান বা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে পারেন। তবে আমরা মনে করি তাঁরা কবে আসবেন সে আশায় নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকাকে ইসলাম সমর্থন করে না। পৃথবীতে চলমান সঙ্কট থেকে মানুষকে উদ্ধারের জন্য সব সময় প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কবে এমাম মাহদী (আ.) আসবেন আর এলান করবেন, তখন দলে দলে মানুষ তার দলে যোগদান করে পৃথিবীকে পরিবর্তন করে ফেলবেন, সে সময় কবে আসবে তা আমরা জানি না। আমাদের কাছে মাননীয় এমামুয্যামান যে পন্থা তুলে ধরেছেন তা মহাসত্য, তা দিয়ে মানবজাতির সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হবে। তাই আমরা সে চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করেছি।

আমরা জানি, ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। কিন্তু মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ প্রত্যেক ধর্মের লোকেরাই শান্তি চায়। তাহলে শান্তি আসছে না কেন?2016-11-29T18:34:19+06:00

দু’টি কারণ। (এক) একটি সমাজের শান্তি নির্ভর করে ঐ সমাজটি যে সিস্টেম দিয়ে পরিচালিত হয় সেই সিস্টেম বা জীবনব্যবস্থার উপর। জীবনব্যবস্থা ত্র“টিযুক্ত হলে শান্তি আসবে না, ত্র“টিহীন হলে শান্তি আসবে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে পাশ্চাত্য সভ্যতার তৈরি বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থা চালু আছে। এ জীবনব্যবস্থাগুলো মানুষের তৈরি বিধায় অবশ্যই ত্র“টিযুক্ত, তাই এর ফলও অশান্তি। আপনি বিষ খেয়ে সুস্থ থাকার আশা করবেন এটা কি যৌক্তিক?

(দুই) ধর্ম বর্তমানে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের উপাসনা, আচার-অনুষ্ঠানের একটি বিষয়। এর সঙ্গে পার্থিব জীবনের কোনো যৌক্তিক সম্বন্ধ নেই। এর পুরো বিষয়টাই আখেরাতকেন্দ্রিক। তাই সমাজের শান্তি অশান্তিতে ধর্মের কোনো যোগাযোগ নেই। উপরন্তু প্রতিটি ধর্মই আজ ধর্মব্যবসায়ীদের কুক্ষিগত। তারা সেগুলো দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে এবং যে যেভাবে পারছে মনগড়া ব্যাখ্যা করছে, বিকৃত করছে। এসব বিকৃত ধর্ম দিয়ে কীভাবে শান্তি আসবে। ফর্মুলা ভুল হলে কী কখনো অংক মেলে?

২০০৮ সালের ২রা ফেব্র“য়ারি কী ঘটেছিল?2016-11-29T18:33:45+06:00

হেযবুত তওহীদের জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ২০০৮ সনের ২ ফেব্র“য়ারি। আল্লাহ হেযবুত তওহীদকে সত্যায়ন করার জন্য বিরাট এক মো’জেজা বা অলৌকিক ঘটনা সংঘটন করেন। মোবাইল ফোন যোগে মাননীয় এমামুয্যামান যাত্রবাড়িতে একটি বাড়ির ছাদে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে দশ মিনিট নয় সেকেন্ডের একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে আল্লাহ সেখানে ন্যূনতম নয়টি অলৌকিক ঘটনা সংঘটন করেন। ৩১৮ জন মানুষ সেগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী। বিস্তারিতভাবে সেগুলো এখানে বলার সময় হবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণসহ একটি বই আমরা প্রকাশ করেছি যার নাম “আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয়-ঘোষণা”। এ দিন আল্লাহ জানিয়ে দেন যে হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর চিরন্তন, সত্য জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

আপনাদের এখানে বলা হয়েছে, দাজ্জাল হচ্ছে ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতা। কিন্তু আমরা জানি, দাজ্জাল বিরাট একটি দানবীয় প্রাণী। আবার এখানে বলা হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা জন্ম দিয়েছে দাজ্জাল। কিন্তু কীভাবে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার সাথে একটা প্রাণীর সম্পর্ক থাকতে পারে? তাছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা কি মানব জাতির কোনো কল্যাণে আসছে না?2016-11-29T18:33:11+06:00

দাজ্জাল সম্পর্কে হাদিসে যে অতিকায় দানবের কথা বলা আছে সেটা বর্তমানের পাশ্চাত্য সভ্যতার রূপক বর্ণনা, মাননীয় এমামুয্যামান তাঁর দাজ্জাল বইতে এটা প্রমাণ করেছেন। তাঁর যুক্তিগুলো কেউ খ-াতে পারেন নি, পারবেও না। সংক্ষেপে মূল কথা হচ্ছে, ইউরোপের মধ্যযুগে যখন চার্চ ও রাজতন্ত্রের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, তখন রাজা অষ্টম হেনরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চার্চের ক্ষমতাকে খর্ব করেন এবং রাজাকে চার্চের প্রধান বলে ঘোষণা করেন। সেই থেকে জাতীয় জীবনে ধর্মের আর কোনো গুরুত্ব রইল না, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত হলো। এর পূর্বে মানুষের ইতিহাস যতদূর জানা যায়, ধর্মের দ্বারাই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, সেই ধর্ম সঠিক হোক আর বিকৃতই হোক। ১৫৩৭ এর পরের রেনেসাঁ যুগের দার্শনিক, সাহিত্যিক ও রাষ্ট্রনীতির কারণে ধর্মহীন একটি জীবনব্যবস্থা সৃষ্টি হলো যাকে কেতাবি ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতা বলা হচ্ছে। পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক যুগে প্রায় সমগ্র বিশ্বে এটি চালু করা হয়। এর কু-প্রভাবে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে গেল যে কোনো উপায়েই হোক অধিক উপার্জন, ভোগবিলাস, বস্তুগত স্বার্থোদ্ধার। একেই বলা হচ্ছে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। অথচ মানুষ দেহসর্বস্ব নয়, তার আত্মাও আছে। তার আত্মিক পরিশুদ্ধির ও চারিত্রিক উৎকর্ষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ধর্মহীন জীবন ব্যবস্থার প্রভাবে ব্যক্তিজীবন থেকেও ধর্ম লুপ্ত হয়ে মানবসমাজে চরম নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি হলো। সর্বত্র বিরাজমান স্রষ্টার ভয়ে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ অপরাধ করে না, কিন্তু স্রষ্টাহীন জীবনব্যবস্থায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেই অপরাধ সংঘটন করে। এভাবে সর্বপ্রকার অপরাধ মাত্রা ছাড়িয়ে গেল। এই যে একদিকে প্রযুক্তির উন্নয়ন, অপরদিকে মনুষ্যত্বের চরম অধঃপতন পৃথিবীতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অবশ্যই মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ ও স্রষ্টার নেয়ামত, কিন্তু আজ এগুলো যতটা না মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বহুগুণ ব্যবহৃত হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে। সংবাদপত্রগুলো দুঃসংবাদে ভরা, রাজনীতি আর মিথ্যা সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে, নিকৃষ্ট চরিত্রের মানুষ সম্মানিত হচ্ছে। ধর্মকে জাতীয় জীবন থেকে নির্বাসন দেওয়ার পরিণামেই এই ভয়ঙ্কর বস্তুবাদী সভ্যতার জন্ম হয়েছে। তাই একে আল্লাহর রসুল দানবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা মানুষের কোনো উপকারে আসছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। আমাদের কথা হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতা যদি ধর্মহীনতায় পর্যবসিত হয় তাহলে তা মানবজাতিকে আত্মিকভাবে ভারসাম্যহীন করবে, মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আত্মাহীন পশুতে পরিণত হবে- যার প্রমাণ বর্তমান সময়। আর জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য ধর্মকে বিসর্জন করার প্রয়োজন নেই, ধর্মকে বাদ দিলে জ্ঞান বিজ্ঞানের ব্যবহার হয় মানুষের ক্ষতিসাধনে। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, ইসলামের সোনালি যুগে অর্থাৎ ১২৫৮ সনে আব্বাসীয় খেলাফতের পতন পর্যন্ত বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলিমরাই ছিল শিক্ষকের আসনে। ঐ সময়ে ইউরোপে চলছিল মধ্যযুগীয় বর্বর যুগ। আজকের আধুনিক বিজ্ঞানে ইউরোপীয়দের একচেটিয়া আধিপত্য যার ভিত্তি রচনা করে গেছেন মুসলিম বিজ্ঞানীরাই। এটা ইতিহাস যদিও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেগুলো চাপা দেওয়া হয়েছে।

আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন, টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে একজন পীর একদা ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছেন যার না বাবা আদম কাশমিরি (র.)। তাঁর সঙ্গে পন্নী পরিবারেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর পর আটিয়া পরগনায় তার মাজারকে ঘিরে জমে উঠেছে জমজমাট ব্যবসা। এখনও প্রতি বছর সেখানে উরসের নামে চাঁদা তোলা হয়, তাছাড়া নানা রকম অপকর্মও সেখানে সংঘটিত হয়ে থাকে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। এ ব্যাপারে জনাব বায়াজীদ খান পন্নীর ভূমিকা কী ছিল বা আপনারা এটি বন্ধে কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না?2016-11-29T18:32:37+06:00

এটাও এক প্রকার ধর্মব্যবসা আর আমাদের অবস্থান সর্বপ্রকার ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে। এ ধরণের ধর্মব্যবসা শুধু আটিয়ায় নয়, সারা পৃথিবীতে রয়েছে। পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে একটি নির্দিষ্ট মাজারের ধর্মব্যবসা বন্ধ করা আমাদের কাজের নীতি নয়, আমরা জনসচেতনতা সৃষ্টি করে যাচ্ছি, মানুষ যখন বুঝতে পারবে যে, তাদের ধর্মানুভূতিকে পুঁজি করে বিভিন্ন শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ীরা তাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে, তাদের অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে, আখেরাতকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে তখন জনগণই এসব ধাপ্পাবাজির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, এদের পেছন থেকে সরে যাবে। মানুষকে না বুঝিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মাজার বা ধর্মব্যবসার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ধর্মব্যবসায়ীরা উস্কানি দিয়ে স্থানীয় জনতার সেন্টিমেন্টকে জাগিয়ে তুলবে, দাঙ্গা সৃষ্টি করবে। আর বহু রাজনীতিক দল গোষ্ঠীতো বসেই আছেন ইস্যুর অপেক্ষায়।

আপনাদের অনুষ্ঠানে শুধু মুসলিম সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন? কেন অন্য ধর্মের লোকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় নি।2016-11-29T18:32:04+06:00

আমন্ত্রণ জানানোর সময় আমরা কে কোন ধর্মের লোক তা বিবেচনা করি নি। আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়েই কাজ করি। আমরাই শত শত অনুষ্ঠানে সনাতন, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, উপজাতি নৃগোষ্ঠীর প্রধান ব্যক্তিদেরকে নিয়ে এক টেবিলে বসেছি, প্রত্যেকে নিজেদের একান্ত কথাগুলো শেয়ার করেছি। তারা সকলেই একবাক্যে আমাদের উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছেন। আজকের এ বৈঠকেও অনেক সনাতনধর্মী আছেন।

আপনাদের আন্দোলনের বিভিন্ন পদে যারা আসীন আছেন তাদের পদবী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধবাদী সংগঠনের পদবিগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। যেমন আমীর। কথাটা আমীর না হয়ে সেক্রেটারি, সভাপতি ইত্যাদি হতে পারত?2016-11-29T18:31:24+06:00

একই কথা। আপনি বাংলায় বা ইংরেজিতে যা বলছেন সেটাই আরবি করলে দাঁড়াচ্ছে আমীর। এ পদবি যে কোনো সংগঠনেই থাকতে পারে। আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধবাদীদের দলের কথা বললেন। ’৭১ সনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি। তাদের সেনাবাহিনীর পদবিগুলো ছিল জেনারেল, মেজর, ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার ইত্যাদি, আমাদের সেনাবাহিনীর পদগুলোও কি তা-ই ছিল না? আজও আমাদের দেশের সেনাবাহিনী এ পদবিগুলোই ব্যবহার করছে। ওটা নিয়ে তো কথা উঠছে না। কেন উঠছে না? কারণ এগুলো পারিভাষিক শব্দ, যে কোনো দেশের সেনাবাহিনী এ পদবিগুলো ব্যবহার করতে পারে। পাকিস্তান আর্মি পদবিটি ব্যবহার করে বলে অন্য কোনো দেশের আর্মি সেটা ব্যবহার করতে পারবে না এটা ভাবা ঠিক নয়। আমীর শব্দটি ইসলামের পরিভাষা, শব্দটি কোর’আনে আছে, খলিফাদেরকেও আমীরুল মো’মেনীন বলা হতো। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক দেশ আছে আমিরাত, সেগুলোতে রাষ্ট্রনায়কের পদবি আমীর। মনে হয় সুচতুরভাবে ইসলামের যে কোনো কিছুর প্রতিই একটা অ্যালার্জি সৃষ্টি করা হয়েছে আমাদের সমাজে।

আপনাদের আয়ের উৎস কী?2016-11-29T18:30:11+06:00

এই প্রশ্নটা আমাদেরকে প্রায়ই করে থাকেন এবং করাটা খুব স্বাভাবিক। যদিও যারা গণতন্ত্রের নামে রাজনীতি করছেন, মানুষের জীবনযাত্রাকে বারবার বিপর্যস্ত করছেন, সহিংসতার জন্ম দিচ্ছেন, রাজনৈতিক অধিকারের নামে ভাংচুর, জালাও-পোড়াও, হরতাল, অবরোধ করছেন, তারা যে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের কোটি-কোটি টাকার ক্ষতি করছেন, চুরি করছেন এ ব্যাপারে কিন্তু তেমন অতি উচ্চ-বাচ্য দেখি না। কিন্তু এই প্রশ্নটা আমাদেরকে প্রায়ই করেন যে, এত টাকা আপনারা পান কোথায়? অর্থের উৎস কি আপনাদের? এত টাকা কোত্থেকে আসে? যেহেতু অনেকগুলো ইসলামী সংগঠন আছে আমাদের দেশে যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের থেকে অর্থ পেয়ে থাকেন তাই আমাদের ক্ষেত্রেও এ প্রশ্নটি তোলা আমরা অযৌক্তিক মনে করি না। যার অর্থের উৎস গোপন এবং অবৈধ তার প্রতি কেউ নৈতিক আস্থা রাখবে না এটা স্বাভাবিক কথা।

আমাদের কথা হলো, আমরা আমাদের এমামুয্যামান থেকে যেটা শিখেছি তা হচ্ছে যে, মানুষের জীবন এবং সম্পদ অন্য মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার মধ্যেই রয়েছে মো’মেনের জীবনের এবং মানুষের জীবনের ইহকাল এবং পরকালের সফলতা। আমি যদি আমার জীবন-সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় না করি, আমি কাফের হয়ে যাবো, মো’মেন হতে পারবো না। মাননীয় এমামুয্যামানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্য মানুষের কল্যাণে, আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার জন্য যারা ‘হেযবুত তওহীদ’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তারা প্রায় সবাই সমাজের খেটে খাওয়া শ্রেণির দরিদ্র সাধারণ মানুষ, যাদের তিনবেলা অন্ন সংস্থান করাই কষ্ট হয়ে যায়। তথাপিও তারা তাদের উপার্জনের একটি বড় অংশ আন্দোলনের কাজে ব্যয় করে থাকেন এবং বিবিধ ফান্ডে জমা দেন। অতীতে যারাও বা কিছুটা অবস্থাস¤পন্ন ছিলেন বা ভালো চাকরি করতেন তাদের অধিকাংশই নিজেদের জমি-জমা, সম্পদ এমনকি ঘরবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়ে মানবতার কল্যাণে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তারাও এখন হকারি করে চলেন, রিক্সা চালান, কায়িক শ্রমের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং সেখান থেকেই আন্দোলনের ব্যয়ভার বহনে সহযোগিতা করেন। আমাদের এমামুয্যামানও তাঁর সমস্ত কিছু এ আন্দোলনের জন্য দান করে গেছেন। তারপর যখন কোনো সভা হয়, সেমিনার হয় বা কোনো বই ছাপানো দরকার হয়, হ্যান্ডবিল প্রয়োজন হয় তখন তারা উদ্যোগ নিয়ে টাকা তুলে তার ব্যয় নির্বাহ করছেন।

আর্থিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরা মামলায়। আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে মামলার পেছনে। ধর্মব্যবসায়ী ও মিথ্যাশ্রয়ী গণমাধ্যমের অপপ্রচারের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচশ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, শুধু গ্রেফতার করে হয়রানি করা হয়েছে হাজার বারেরও বেশি। মাসের পর মাস আমাদের নির্দোষ কর্মীরা জেল খেটেছেন। তাদের পরিবারগুলো বার বার জীবিকা হারিয়ে কী অবর্ণনীয় কষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন এটা কাছ থেকে কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না। তো এই মামলার ব্যয় নির্বাহের জন্য আমাদেরকে অকল্পনীয় পরিশ্রম করতে হয়েছে। অনেকে গায়ে খেটে, রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে, মুড়ি বিক্রি করে, হকারি করে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তারপর জামিন হওয়ার পরও বছরের পর বছর হাজিরা দিয়ে যেতে হয়েছে, এক জেলা থেকে আর এক জেলায়, এক স্থান থেকে আরেক স্থানে গিয়ে কী কষ্টই না তারা স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না।

অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে আমরা নিজেরাই নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়েই মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এখন আমাদের এই উত্তরে যদি কেউ সন্তুষ্ট না হন তাহলে আমরা বলব, আপনি আমাদের সঙ্গে একটু থাকুন এবং স্বচক্ষে দেখুন; আমরা যা খাই সেটাই আপনারা খাবেন। দেখুন, আমরা আসলে কিভাবে আন্দোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করি। বিদেশ থেকে অথবা কোনো বিশেষ মহল থেকে অর্থ আসে কিনা ইত্যাদি প্রশ্ন আল্লাহর রহম হেযবুত তওহীদের বেলায় চলে না। কারণ, হেযবুত তওহীদ পরিচালনার নীতি হিসেবে এমামুয্যামান শুরুতেই নিয়েছিলেন যে আমরা বাহিরের কারও কাছ থেকে কোনরূপ অর্থ গ্রহণ করব না। এ পর্যন্তআল্লাহর রহমে আমরা বাহিরের কারও কাছ থেকে এক পয়সাও নেই নি। তার অর্থ এই নয় মানবতার কাজ আমাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে অন্য অর্থসম্পন্ন লোকেরা করতে পারবেন না। অবশ্যই পারবেন। কিন্তু আমরা আমাদের কাজের বিনিময়ে কোনো অর্থ নিব না। আয় রোজগারের ক্ষেত্রে আন্দোলনের নীতি হল কর্মক্ষম আমাদের কেউ বেকার থাকতে পারবে না, তাদেরকে কোন না কোন কর্ম করতে হবে। এজন্য এখানে অবৈধ অর্থের আগমন অসম্ভব এনশা’আল্লাহ।

আমরা জানি, পন্নী সাহেব একজন জমিদার ছিলেন। তিনি কি তার প্রজাদের উপর অন্যান্য জমিদারদের মতো অত্যাচার, অবিচার করেছিলেন? তিনি তাঁর এলাকার লোকজনের জন্য কী কী কাজ করেছে?2016-11-29T18:28:58+06:00

পন্নী পরিবারের শাসনকার্যে সম্পৃক্ত থাকার ইতিহাস শত শত বছরের। তারা একাধারে যেমন ধার্মিক ছিলেন আবার খুব প্রজাহিতৈষী ছিলেন। এটা আমাদের কথা নয়, যারা তাদেরকে চেনেন তারা জানেন, আপনারা ইতিহাস পড়ে দেখতে পারেন, স্থানীয় জনগণকে জিজ্ঞেস করেও দেখতে পারেন। আমি মওলানা ভাসানীর একটি উক্তি বলছি। ১৯৫৪ সালে যখন জমিদার প্রথা বিলুপ্ত করা হয় তখন তিনি বলেছিলেন, সব জমিদারেরা যদি পন্নী জমিদারদের মতো হতো তবে এ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য বিল প্রস্তাব করার দরকার হতো না। তবে আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি মাননীয় এমামুয্যামান কর্তৃক কোনো অত্যাচার, অবিচার করার প্রশ্ন আসে না, বরং তিনি মানুষের কল্যাণে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেছেন।

আমাদের প্রিয় রসুল হযরত মোহাম্মদ (দ.) নিজ মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। মহাগ্রন্থ আল কোর’আন বিশ্বনবীর ভাষায় রচিত ও অবতীর্ণ হয়েছে। তাই স্বভাবতই প্রতিটি মানুষ তার মাতৃভাষার প্রতি দুর্বল এবং এটা কোনো দোষের বিষয় নয়। আমার প্রশ্ন হলো- আপনাদের আন্দোলনটির নাম কেন বাংলা অর্থাৎ নিজ মাতৃভাষায় করা হলো না?2016-11-29T18:28:18+06:00

আসলে নাম কোন ভাষায় রাখা হলো সেটার চেয়ে নামের অর্থই অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমাদের মনে হয়। আমরা এখানে যারা আছি আমাদের সবার নাম কি আমাদের মাতৃভাষায়? না। আমাদের দেশের প্রধান রাজনীতিক দলগুলো যেমন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এগুলো একটাও তো বাংলা ভাষায় নয়, উর্দু-বাংলা-ইংরেজি মেশানো। হিযব শব্দের অর্থ দল, ইংরেজিতে লীগ বা পার্টি বলতে পারেন, তওহীদ অর্থ একত্ববাদ বা ওয়াহদানিয়াত। বাংলায় একেশ্বরবাদ বা এক আল্লাহর সার্বভৌমত্বের দল বলতে পারেন। সুতরাং নাম যে ভাষায়ই রাখা হোক তাতে আপত্তির কিছু দেখছি না। সেই সঙ্গে এটাও বলে রাখা ভালো, আরবি ভাষাকে শ্রদ্ধা করলেও আমাদের কাছে প্রয়োগের দিক থেকে আমাদের মাতৃভাষার গুরুত্ব সর্বাধিক। বাংলায় আমরা মনের ভাব বিনিময় করি, যে কোনো সত্য আদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রেও মাতৃভাষার বিকল্প নেই। স্বয়ং আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শেষ নবী যেহেতু আরবে এসেছেন, তাই আরবিতেই তিনি কথা বলেছেন, কোর’আনও আরবিতেই অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি সব নব-রসুলকেই তাঁদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি যাতে তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারেন (সুরা এব্রাহীম ৪)। সুতরাং আখেরি নবী অন্য দেশে আসলে অন্য ভাষাতেই কেতাব আসত।

লতিফ সিদ্দিকীকে এদেশের আলেমরা মুরতাদ ঘোষণা করেছে। তার সম্পর্কে আপনাদের মতামত কী?2016-07-13T08:29:21+06:00

হ্যাঁ, আমাকে প্রশ্ন করলে কিন্তু আপনাকে উত্তর শুনতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি- প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করে বাইরে চলে যান। তার উদ্দেশ্য হলো যে কোনো প্রকারে তিনি একটি বিতর্ক বা হট্টগোল সৃষ্টি করে দিতে চান। কিন্তু আমরা হেযবুত তওহীদ। আমরা সব কথা বলার জন্য এসেছি। আল্লাহ দয়া করে সকল কথার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের দিয়েছেন। সুতরাং মনোযোগ দিয়ে সকল উত্তর শুনবেন, তাহলে অনুমান করে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

প্রথমত, লতিফ সিদ্দিকীর যে প্রসঙ্গটা এসেছে সে সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়- লতিফ সিদ্দিকী সম্পর্কে মিডিয়াতে যতটুকু এসেছে আমরা শুধুমাত্র ততটুকুই জেনেছি। এ বিষয়ে আমরা মিডিয়ার একপাক্ষিক কথাই শুনেছি। তার সাথে কথা বললে আমরা স্পষ্ট হতে পারতাম যে, তিনি কোন প্রেক্ষিতে কী বোঝাতে ওই কথাগুলো বলেছেন। যেহেতু উভয়পক্ষের কথা আমরা শুনি নি, তাই তার সম্পর্কে এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করতে পারছি না। এটুকু বলতে পারি, ধর্ম, আল্লাহ ও রসুলের প্রতি যার শ্রদ্ধাবোধ থাকবে সে এমন মন্তব্য সজ্ঞানে করতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, যারা মু’মিন, যারা আল্লাহ ও রসুলকে ভালোবাসে, তারাও ভুল করতে পারে। আল্লাহ বলেছেন, সত্তর হাজার বার গুনাহ করলেও যদি বান্দা ক্ষমা চায়, আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন। কাজেই ভুল করে ফেললে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে বান্দার জন্য দোষের কিছু নেই, লজ্জার কিছু নেই। প্রকৃত মু’মিন যদি মুখ ফসকে কোনো কথা বলে ফেলে, ভুল করে ফেলে তাহলে অকপট হৃদয়ে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন, সে আল্লাহর সঙ্গে ঔদ্ধত্ব করবে না। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এখন পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে মিডিয়াতে আসে নি।

তৃতীয়ত, আমাদের দেশে ধর্ম সম্পর্কে কারো বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যকে নিয়ে রাজনীতি করা হয়, ধর্ম ব্যবসায়ীরা একে ইস্যু হিসাবে নিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রয়াস পান। কিন্তু আমরা মনে করি, ইসলাম ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এমন বিরূপ মন্তব্য ১৪০০ বছরে অনেক হয়েছে, রসুলের সামনেও হয়েছে। কিন্তু এজন্য প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করার কোনো নজির রসুলাল্লাহর জীবনে নেই। বরং উপযুক্ত যুক্তি, প্রমাণ দিয়ে এর জবাব দেওয়া যুক্তিসঙ্গত। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা কোনো সমাধান নয়, দেশে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা আছে, আইন আছে। সুতরাং ওই ব্যক্তিকে আইনের হাতে সোপর্দ করা যেতে পারে, তারপর আইন মোতাবেক যা হয় হবে। কিন্তু এগুলোকে ইস্যু বানিয়ে মানুষের অধিকার ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করা, আতঙ্ক সৃষ্টি করা, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা, ভাঙচুর করা এগুলো কখনোই ইসলামসম্মত নয়। যাই হোক, তিনি এখনও জেলখানায় আছেন, বিচারাধীন আছেন, কাজেই এ ব্যাপারে আমরা এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

পাশ্চাত্য সভ্যতা ও সংস্কৃতি, তাদের জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনারা অনেক কথাই বলেছেন। তাদের দোষারোপ করে অনেক বিবৃতি দিয়েছেন। তাহলে আমাদের পার্শ্ববর্তী পরাশক্তি ভারত সম্পর্কে আপনাদের মন্তব্য কী?2016-07-13T08:25:32+06:00

বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের শক্তিবলে সারা পৃথিবীতে একটি সভ্যতা বা Civilization প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যে সভ্যতাটা স্রষ্টাহীন, আত্মাহীন, ঈশ্বরহীন একটা বস্তুবাদী সভ্যতা। এতে ধর্মের কোনো জায়গা নেই, ভূমিকা নেই, ধর্মকে করা হয়েছে ব্যক্তিজীবনের ঐচ্ছিক বিষয় যা কোনোভাবেই সামাজিক কাঠামোর উপর প্রভাব বিস্তারের অধিকার রাখে না। এই সভ্যতার মিডিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা, সংস্কৃতির মাধ্যমে অবিশ্রান্ত প্রচারণার ফলে মানুষের জীবন হয়েছে চূড়ান্ত ভোগবাদী, অপরের সুখের জন্য নিজে ত্যাগস্বীকার করা, নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকারের জন্য কিছু বলার মতো লোকও সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। আর মানবজাতির কল্যাণে জীবনকে অতিবাহিত করবে এমন কথা কল্পনাতেও আনা যায় না। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে কেউ আর রাজি নয়। যা কিছু করবে সব নিজের স্বার্থে। এর পরিণামে মানুষ কারো উপর অন্যায় দেখলে তার প্রতিবাদ করে না, ফলে ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে অন্যায়কারীরা নির্বিঘ্ন। একমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে পারলেই আর কারো কোনো পরোয়া কেউ করে না। মানুষের মনে স্রষ্টার প্রতি জবাবদিহিতা বা পরকালের ভয় বিলীন হয়ে যাওয়ায় সমস্ত অপরাধ লাগামহীনভাবে বাড়ছে, মিথ্যা, প্রতারণা, ব্যভিচার যুগের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো দুনিয়াটা হয়ে গেছে অশান্তির নরককুণ্ড। এই সভ্যতাটাকে সৃষ্টি করেছে পশ্চিমারা। বিশ্বটা যখন তাদের অধীনে চলে গেল তখন তাদের থেকে এই জীবনদর্শন সব জায়গায় ঢুকেছে। আমরা এটার জন্যই পশ্চিমা সভ্যতার বিরুদ্ধে কথা বলি, পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে নয়। মানুষের নিরাপত্তার সমস্ত দায়-দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর চাপিয়ে দেওয়া, যেন এজন্য নাগরিকদের বিধিবদ্ধ কোনো ভূমিকা নেই। এটা অযৌক্তিক। ভারতে কিন্তু কখনো এমন জীবন দর্শন ছিল না। ভারতে হাজার হাজার বছর গেছে শাস্ত্রের বিধানে, এখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নীতিবোধ মানুষের রক্তে, অস্থিমজ্জায় মিশে ছিল। সেখানে পরিবার, গ্রাম, সমাজ ইত্যাদি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানরূপে কাজ করত। এগুলো মানুষের আচরণ ও শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করত। সে ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়েছে এই পশ্চিমা জীবনব্যবস্থার বিষাক্ত দর্শন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আগে শাস্ত্র থেকে জ্ঞান লাভ করে ব্যক্তিজীবনে এতই সৎ ছিলেন দুধে পানি মেশানোর কথা কল্পনাও করত না, অথচ আজ সব খাদ্যেই বিষ, সবকিছুতেই ভেজাল, এ বিষয়ে সনাতন-মুসলিমের কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ সবাই সবাইকে বিশ্বাস করত, চিন্তাও করত না মানুষ মিথ্যা কথা বলতে পারে, কিন্তু ব্রিটিশরা মামলা মকদ্দমার সিস্টেম চালু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মিথ্যাবাদী হতে বাধ্য করেছে। সনাতন কি মুসলিম, মানুষের ওয়াদা ছিল পাহাড়ের মত অনড়, সেখানে পশ্চিমাদের শেখানো রাজনীতির দ্বারা মানুষের ওয়াদা মূল্যহীন হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ব্যাপারে কথা বলি না কেন প্রশ্ন করা হয়, আগে বলুন- ৪৭ সালের আগে কি ভারত আলাদা ছিল? কারা একে আলাদা করল? যারা হাজার হাজার বছর ধরে একই ভূখণ্ডে, একই জলবায়ুতে লালিত হয়েছে, আজ তারা একে অপরের শত্রু, পাকিস্তান বাংলাদেশ শত্রু, ভারত পাকিস্তান শত্রু। একে অপরকে শোষণ-শাসন করার চেষ্টা করছে, সীমান্তে হানাহানি করছে। এরা কবে থেকে পরস্পরের শত্রু হলো সে ইতিহাস দেখবেন না? আজ এই মানুষগুলি সম্পূর্ণ শত্রু ভাবাপন্ন হয়ে গেছে কারণ তারা নিজস্ব সভ্যতাকে পরিত্যাগ করে পশ্চিমাদের স্বার্থপর সভ্যতাকে গ্রহণ করে নিয়েছে; ফলে ব্যক্তিজীবনে তারা অসৎ হয়েছে, জাতীয় জীবনে হয়েছে দাঙ্গাপ্রিয়।

ভারতকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার রাষ্ট্র বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বিজেপির কাছে ১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস যেভাবে পরাজিত হলো তাতে আমরা এটুকু বলতে পারি যে, বর্তমানে ধর্মীয় অনুভূতিই সেখানে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি বা ফ্যাক্টর। গোটা উপমহাদেশের জনগোষ্ঠীই, সনাতন কি মুসলিম, তারা অধিকাংশই ধর্মবিশ্বাসী। তাদের এ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করে রাজনীতিকরা ও ধর্মব্যবসায়ীরা। আমরা মনে করি, আমাদের দেশেও ধর্মকে নিয়ে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই এখন জরুরি হয়ে পড়েছে মানুষকে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার, যাতে ধর্মবিশ্বাস দেশ ও জাতির অকল্যাণে নয় কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।