আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

সৃষ্টির কল্যাণই ধর্ম

08 Dec, 2015 Super Admin 1176 ভিউ
সৃষ্টির কল্যাণই ধর্ম

রাকীব আল হাসান:
——————
প্রাণীগণের অভ্যুদয়, ক্লেশনিবারণ ও পরিত্রাণের নিমিত্তই ধর্ম্মের সৃষ্টি হইয়াছে; অতএব যাহা দ্বারা প্রজাগণ অভ্যুদয়শালী, ক্লেশবিহীন ও পরিত্রাণ প্রাপ্ত হয়, তাহাই যথার্থ ধর্ম্ম। (কালি প্রসন্ন সিংহ অনুদিত মহাভারত ২য় খণ্ড: শান্তিপর্ব, নবাধিকশততম অধ্যায়- পৃষ্ঠা: ৬৪৪)।
মহাভারতের এই সত্যবাণী থেকে বোঝা যায় যে, ধর্মের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের কল্যাণ, সৃষ্টির কল্যাণ, জগতের কল্যাণ। যা দ্বারা মানুষের কল্যাণ হয়, সমাজের কল্যাণ হয়, সৃষ্টির কল্যাণ হয় তা-ই ধর্ম আর অকল্যাণকর সবই অধর্ম। সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু মানুষ নয় প্রতিটি প্রাণী, প্রতিটি উদ্ভিদ নিরাপদ থাকবে। কারণ ছাড়া একটি গাছের পাতাও কেউ ছিড়বে না।
আরেকটু বিস্তারিতভাবে বললে ধর্ম ও ধারণ একই শব্দ থেকে এসেছে। যে গুণ বা বৈশিষ্ট ধারণ করে কোনো বস্তু তার স্বকীয়তা, নিজস্বতা পায় তাকেই ঐ বস্তুর ধর্ম বলে। যেমন একটি লৌহদণ্ড আকর্ষণ করার গুণ ধারণ করে চুম্বকে পরিণত হয়। এই আকর্ষণ করার গুণটিই হলো ঐ চুম্বকের ধর্ম। যদি কোনো কারণে চুম্বক তার ধর্ম তথা আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তবে সেটি পুনরায় লৌহে পরিণত হয়, সেটি আর চুম্বক থাকে না। শ্রেষ্ঠতম সভ্যতার লীলাত্রে ভারতবর্ষের তিন কোটি মানুষ ব্রিটিশ শাসনের শেষার্ধে না খেয়ে মারা গেছে। কিন্তু সেই শোষণ নিপীড়নের কথা আমরা জাতিগতভাবে অবলীলায় বিস্মৃত হয়েছি। আজকের উত্তর আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া সেই ইউরোপেরই সম্প্রসারিত অংশ যদিও এক সময় সেগুলোও ব্রিটিশ কলোনি ছিল। সেখানকার আদিবাসীদেরকে কীভাবে নির্মূল করা হয়েছিল তা পাঠ করলে কঠোরহৃদয় মানুষও অশ্র“সংবরণ করতে পারবেন না। উপনিবেশ যুগের সীমাহীন শোষণের ফলে পাশ্চাত্য জগৎ হয়ে গেল উন্নত ধনী বিশ্ব, আর এশিয়া, আফ্রিকার দেশগুলো হয়ে গেলো অনুন্নত, পশ্চাৎপদ তৃতীয় বিশ্ব। গত একশ বছরে তারা কেবল ভাগ্যোন্নয়ন, ক্ষুণিœবৃত্তির নিবারণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেছে, কিন্তু পেরে উঠছে না। কারণ পশ্চিমাদের শোষণ এখনো চলছে, তবে ভিন্নরূপে। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। ওদিকে এই একশ বছরে ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এত বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে যে বাকি দুনিয়ার পক্ষে তাদের উপর নির্ভরশীল ও অনুগামী হওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই। তারাই আজ এই পশ্চাৎপদ দেশগুলোর মানুষকে বাথরুম সেরে হাত ধোয়ার উপকারিতা শেখায়।
তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে আবারও এই মুসলিম নামক জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরে যেতে হলে জঙ্গিবাদের দ্বারা ইসলামের উপর যে কলঙ্কটিকা পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারীরা লেপন করে দিয়েছে তাকে মুছে ফেলে প্রকৃত ইসলামের বিকাশ ঘটাতে হবে। অন্যথায় জঙ্গিবাদ নামক মতবাদের দানব আমাদের দেশটিকেও গ্রাস করে নেবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির কথা সবাই বলেন কিন্তু কারা সেটা করবে? একজন পেশাদার রাজনীতিবিদ যখন তার বক্তৃতায় মানুষকে দেশমাতৃকার জন্য ত্যাগস্বীকার করার আহ্বান করেন তাতে মানুষ কতটা অনুপ্রাণিত হয়? অনেকে বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেম সাহেবদের জুম্মার খোতবায় বয়ান করা উচিত, তাদের বিরাট দায় রয়েছে। কিন্তু ধর্মজীবী আলেমসমাজ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চাইলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। কারণ জঙ্গিবাদীরা ঈমানী চেতনা দ্বারা আÍোৎসর্গীকৃত পাক্ষান্তরে ধর্মজীবী দরবারী আলেমরা টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করেন। তাদের ওয়াজের কোনো তাসির (প্রভাব) মানুষের উপর পড়ে না, জনতা কেবল ওয়াজ শোনার সওয়াবটারই প্রত্যাশী, যদিও এতে কোনো ফায়দা হয় না। দুর্নীতিবাজ পুলিশ যদি ঘুষের বিরুদ্ধে উপদেশ দেয় তার ফল যতটুকু হবে, লেবাসধারী ধর্মব্যবসায়ীরা বা ধর্ম থেকে পার্থিব স্বার্থ হাসিলকারীরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ওয়াজ করলে ততটাই ফলপ্রদ হবে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াইয়ের কাজটি করতে পারে হেযবুত তওহীদ। কারণ হেযবুত তওহীদকে জঙ্গিবাদের অসারতা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধর্মীয় যুক্তিনির্ভর প্রমাণ আল্লাহ দান করেছেন এবং আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মানবতার কল্যাণার্থে তা মানুষের সামনে তুলে ধরছি। তথাপি স্রেফ সন্দেহ করে আমাদের বিরুদ্ধে এদেশের মিডিয়াগুলো অনেক অপপ্রচার করেছে। ফলে আমরা বিরাট হয়রানির শিকার হয়েছি। পাঁচ শতাধিক সন্দেহমূলক মামলা করা হয়েছে। কিন্ত আজ পর্যন্ত একটি মামলাতেও তদন্ত করে একটি অপরাধ বা আইনভঙ্গ করার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারে নি। এর কারণ আমাদের আন্দোলনের একটি নীতি হচ্ছে, আমরা দেশের আইন কোনো অবস্থাতেই ভঙ্গ করব না। আমরা এদেশে আইন মান্য করার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড স্থাপন করেছি যা কোনো রাজনীতিক দল দূরের কথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দাবি করতে পারবে না। তাদের হাজার হাজার সদস্য সাজা পায় কিন্তু আমাদের প্রতিটি সদস্য আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। যার ফলে বর্তমানের এই চরম সঙ্কটপূর্ণ সময়ে হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি প্রিয় নামে পরিণত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সত্য একদিন সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বমানবতাকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করবে।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি