আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

লড়াই যখন অসম শক্তিতে

16 Jun, 2018 Super Admin 425 ভিউ
লড়াই যখন অসম শক্তিতে

রাকীব আল হাসান:
লড়াইটা ধর্ম নিয়ে। ধর্মের ধ্বজা আলেম-পুরোহিত শ্রেণির হাতে। ধর্মকে মুছে ফেলার জন্য যে শ্রেণিটা এদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে সেটা হলো- পাশ্চাত্য বস্তুবাদী আত্মাহীন, স্রষ্টাহীন সভ্যতা তথা দাজ্জাল।
অর্থনীতিক শক্তি, সামরিক শক্তি, বিশ্বমিডিয়া, নব নব আবিষ্কার, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা শাস্ত্র, মহাকাশবিজ্ঞান, নৌবিদ্যা, অস্ত্র-সস্ত্র ইত্যাদি এক কথায় বর্তমান পৃথিবী যা দিয়ে চলছে তার সমস্ত কিছুই পাশ্চাত্যদের দখলে, সকল ক্ষেত্রে তারাই শ্রেষ্ঠ। মানুষ শক্তির পূজারী তাই তাদের পূজা করছে, তাদের অনুকরণ করছে। মানুষ নিজের চোখকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে, তাই তাদের আবিষ্কৃত বিজ্ঞানকে অস্বীকার করতে পারছে না, তাদের দৃশ্যত চাকচিক্যময়তাকে অস্বীকার করতে পারছে না, কাজেই তাদের জয়গান গাইছে।
পাশ্চাত্য নারীরা ঘর থেকে বের হয়েছে বহু আগে, এখন তারা পৃথিবী থেকে বের হয়ে মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সকল ক্ষেত্রে নারীদের বিচরণের সুযোগ দিচ্ছে তারা। ফলে সারা পৃথিবীর নারীরা তাদের অনুকরণে এখন মহাকাশ পানে ছুটতে চায়। মানুষের দৃষ্টি স্বভাবগতভাবে ওপরের দিকে থাকে। পাশ্চাত্যরা যখন সকল ক্ষেত্রে প্রভুত্ব করছে, ঊর্ধ্বগামী তখন মানুষ তাদের অনুকরণ করবে এটাই স্বাভাবিক।
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি ইত্যাদি সকল ধর্মের সাধারণ মানুষ, ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষ, শিক্ষিত, চিন্তাশীল সকল শ্রেণির মানুষই আজ পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণ, অনুসরণ, পূজা করে চলেছে। সাধারণ মানুষের চোখে পাশ্চাত্য শ্রেণির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে ধর্মজ্ঞানী আলেম-পুরোহিত একটা শ্রেণি। বাস্তবে পাশ্চাত্যদের প্রতিরোধ করার ন্যুনতম শক্তি, ক্ষমতা, জ্ঞান, ঐক্য, শৃঙ্খলা কোনোটাই তাদের নেই এবং তারা এই সভ্যতার কার্যত কোনো প্রতিরোধ তো করছেই না বরং অন্যদের মতোই আত্মসমর্পণ করে নিয়েছে কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষকে দেখানোর জন্য অনর্থক, অহেতুক মৌখিক বিরোধিতা করছে মাত্র। তাদের দৃশ্যত অবস্থা হলো- বর্তমান বিশ্ব সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অতি সামান্য, বিজ্ঞান সম্পর্কে তারা প্রায় অজ্ঞ, অর্থনীতিক শক্তি, সামরিক শক্তি, তথ্য-প্রযুক্তি, মিডিয়া ইত্যাদি কোনোকিছুতেই তাদের কর্তৃত্ব নেই। তারা কেবল ধর্মের কিছু পুস্তক মুখস্থ করে সাধারণ (অধিকাংশই অশিক্ষিত, দরিদ্র শ্রেণির) মানুষকে নসিহত করতে ব্যস্ত। এর বিনিময়ে তাদের ক্ষুন্নিবৃত্তির যোগান হয়। বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে উদ্ভূত নানা রকম সমস্যার বাস্তব সমাধানও তারা ধর্ম থেকে দিতে অপারগ। তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো- তারা দাড়ি কতটুকু রাখতে হবে, টুপি কেমন হবে, পাগড়ীর রং কেমন হবে, সুরা ফাতিহার শেষের শব্দটার উচ্চারণ দোয়াল্লিন নাকি জোয়াল্লিন হবে, মিলাদের মধ্যে রসুলাল্লাহর প্রতি দরুদ দাঁড়িয়ে পড়তে হবে নাকি বসে পড়তে হবে ইত্যাদি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে নিজেরাই মতভেদে লিপ্ত, তারা শিয়া-সুন্নি, হানাফি-হাম্বলি-শাফেয়ি-মালেকি ইত্যাদি মাজহাব-ফেরকা, মত-পথে বিভক্ত। মধ্যপ্রাচ্যে তো রীতিমতো শিয়া-সুন্নি একে অপরের রক্তে হোলি খেলছে, উভয়পক্ষেই বিরাট বিরাট আলেম, মুহাদ্দীস, মুফাস্সির, পীর, দরবেশ রয়েছেন। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কাফের বলে গালি দেন, একে অন্যকে হত্যা করা ঈমানী দায়িত্ব মনে করেন।
তাদের অনুসারী সাধারণ ঐ মানুষগুলোকে তারা এই চিন্তার মধ্যে নিমজ্জিত করে রেখেছে যে, দুনিয়ার যা হয় হোক, তোমরা কোনোমতে ধর্ম-কর্ম করে জীবনটা পার করে দাও, তাহলে আখেরাতের অনন্তকালের জীবনে শান্তি পাবে, জান্নাত পাবে, স্বর্গ পাবে, হ্যাভেন পাবে। যে নারীদেরকে পাশ্চাত্যরা মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছে সেই নারীদেরকে তারা ঘরের বাইরে বের হতে দিতে চান না। নিতান্তই যদি ঘরের বাইরে বের হতেই হয় (না হাওয়াই ভালো) তবে তাকে এমনভাবে আবৃত করতে হবে যেন কেউ তার চুলের আগা, নখের ডগা বা চোখের তারাটিও দেখতে না পায়।
কেউ যদি তাদের এই মনগড়া ফতোয়াবাজির বেড়াজাল ছিন্ন করে পবিত্র কোর’আন এবং মহানবীর জীবনীর আলোকে দীনের অনুশীলন করতে চায় তাহলে তার ভাগ্যে জোটে নানা গালাগালি ও অধার্মিক, ধর্মবিদ্বেষী, মুর্তাদ, নাস্তিক, দালাল ইত্যাদি তকমা।
আপনি যতই ধর্ম-কর্ম পালন করেন না কেন যদি ধর্মের লেবাস না থাকে তাহলে আপনাকে ধার্মিক মনে করা হবে না। বোরখা পরবেন না, তাহলে আপনি তো ধার্মিকই না (যদিও বোরখা নামের কোনো পোশাকের সাথে রসুলাল্লাহ ও তাঁর সাহাবাগণ পরিচিতই ছিলেন না), আপনার মাথায় টুপি নেই মানেই আপনি অধার্মিক (যদিও টুপি বলে কোনো কিছু রসুলাল্লাহ কখনো মাথায় দিয়েছেন- এমনটা আমি কোথাও পড়িনি)।
যতদিন ধর্মের ধ্বজাধারীরা উন্নত না হবেন, উদার না হবেন, মানবিক গুণসম্পন্ন ও যুক্তিশীল না হবেন, সত্যিকারের আলেম (জ্ঞানী- সমস্ত বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন) না হবেন, ক্ষমতাবান না হবেন, কর্তৃত্বশালী না হবেন ততদিন সর্বশ্রেণির মানুষ তাদের অনুকরণ করবে না, অনুসরণ করবে না। কাজেই এখন সত্যিকারের ধর্মের প্রেমিকদের এক মহা সংগ্রামে নামা দরকার। যারা ধর্মের বিজয় চায় এমন সকল মানুষকে এক বিন্দুতে ঐক্যবদ্ধ করতে উদ্যোগী হওয়া দরকার।
ধর্মের পক্ষশক্তিটি এখন কেবল পরাজিতই নয়, একেবারে নিশ্চিহ্ন হবার কাছাকাছি। এখনো যদি ধর্মের পক্ষশক্তির মানুষগুলো তাদের যাবতীয় মতভেদ, অনৈক্য দূর করে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে, আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে তাহলে তাদের অস্তিত্ব সঙ্কট দেখা দেবে। তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। এই দায়িত্ব যেহেতু ধর্মের ধ্বজাধারীরা পালন করতে পারছেন না এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ছে না কাজেই এ ধ্বজা এখন তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে হবে। তারা ধ্বজা বহন করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বহু আগেই।
[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট,
ফেসবুক: facebook.com/rblee77, মতামতের জন্য যোগাযোগ: ০১৬৭০-১৭৪৬৪৩, ০১৬৭০-১৭৪৬৫১]

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি