আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

জঙ্গিবাদ

18 Jan, 2016 Super Admin 202 ভিউ
জঙ্গিবাদ
মোহাম্মদ আসাদ আলী

বিকৃত ধর্মবিশ্বাস যে বৃহৎ সমস্যাগুলি সৃষ্টি করে তার মধ্যে অন্যতম হলো জঙ্গিবাদ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিরাট সঙ্কট। আমাদের দেশও এই সঙ্কটে আক্রান্ত। বরাবরই আমাদের দেশে জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করার জন্য শক্তি প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে শক্তি প্রয়োগের অসারতা ক্রমেই প্রকাশ হয়ে পড়ছে। আমরা বলি না যে শক্তি প্রয়োগের দরকার নেই, প্রয়োজন হলে অবশ্যই শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, কিন্তু এটা মূল প্রক্রিয়া নয়। শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগ করে এই সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
এটা কারও অজানা নয় যে, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুপার পাওয়ার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে, অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহার করে, লক্ষ লক্ষ সুশিক্ষিত সৈন্যবাহিনী কাজে লাগিয়েও জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করতে পারে নি। তাদের এই পথ সফল হয় নি। তারা প্রচুর রক্তক্ষয় করেছে কিন্তু জঙ্গিবাদের প্রকোপ আরও বেড়ে গেছে। আজকে তারা জঙ্গিদের সাথে আপসের রাস্তা বেছে নিয়েছে। কাজেই আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সফলতার আশা করা যায় না।
কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে, তারা জঙ্গিতে পরিণত হচ্ছে একটি বিকৃত ধর্মীয় আদর্শের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে। এক শ্রেণীর স্বার্থবাজ ধর্মব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তাদেরকে সেই ভ্রান্ত আদর্শ শিক্ষা দিচ্ছে। তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে এটা জেহাদ, এটা করলে তুমি জান্নাতে যাবে, এই কাজে নিহত হলে তুমি শহীদ হবে। এভাবেই ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে, প্রভাবিত হয়ে মানুষ জঙ্গি হচ্ছে, সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই দেখা যাচ্ছে- শক্তি প্রয়োগ করে একজনকে নির্মূল করতে গেলে আরও দশজন সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে, তারা আরও সতর্ক, নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, কোনো কিছুতেই তাদের উত্থান ঠেকানো যাচ্ছে না।
যামানার এমাম, এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী কোর’আন-হাদীস, ইতিহাস থেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, যারা জঙ্গি হচ্ছে তারা ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। এই পথে তারা দুনিয়াও হারাবে, আখেরাতও হারাবে। তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, এদেশের অধিকাংশ লোক বিশ্বাসগতভাবে মুসলমান। তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ-রসুলকে। তারা ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের কথায় প্রভাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ীদেরকে যদি শুধুমাত্র বল প্রয়োগে দমনের চেষ্টা করা হয় তখন তাদের অনুসারীরাই জঙ্গিতে রূপান্তরিত হয়। এখন অধিকাংশ জনগণকে যদি ইসলামের যুক্তি প্রমাণ দিয়ে এটা বোঝানো যায়, তাদের এই পথ ভুল, এই পথে তারা দুনিয়াও হারাচ্ছে এবং আখেরাতও হারাবে তাহলে আর ধর্মব্যবসায়ীরা কাউকে জঙ্গিতে রূপান্তরিত করতে পারবে না।
কোর’আন, হাদীস থেকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে বোঝানোর পরও অপরাধী চরিত্রের কিছু মানুষ থাকবে, তারা সংখ্যায় হবে অল্প, তখন তাদেরকে নির্মূল করার জন্য রাষ্ট্রশক্তির প্রয়োজন। তখন দরকার পড়বে বল প্রয়োগের। প্রকৃত সত্য যখন মানুষ জানতে পারবে, ধর্মজীবীদের করা অপব্যখ্যা যখন তারা বুঝতে সক্ষম হবে তখন আর জঙ্গিবাদীরা, অপরাজনীতিকারীরা মানুষকে প্রভাবিত করার মতো ধর্মীয় যুক্তি খুঁজে পাবে না। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাদেরকে সহজেই নির্মূল করা সম্ভব হবে, এতে অধিকাংশ জনগণ আর বিক্ষুদ্ধ হবে না। এই অধিকাংশ জনগণকে ধর্মব্যবসায়ীদের থেকে যতক্ষণ না বিচ্ছিন্ন করা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই শক্তি প্রয়োগের পন্থা কার্যকরী হবে না।
আমরা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি প্রকৃত ইসলাম কী তা মানুষ বুঝতে পারলে এনশা’আল্লাহ কেউ আর জঙ্গি হবে না। তারা সত্যের পথে আত্মনিয়োগ করবে, তারা সম্পদ বিক্রি করে এসে মানবতার কল্যাণে কাজ করবে, মানবতার ক্ষতি করবে না। যেমন আমরা আজকে করছি। গত ১৯ বছর যামানার এমামের একজন অনুসারীও একটি সামাজিক অন্যায় পর্যন্ত করে নি, কোনো একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আক্রমণের নজির নেই। আমাদের বিরুদ্ধে হাজারো অপপ্রচার করা হয়েছে। আমরা যে আদর্শ প্রচারের কাজ করছি, প্রকৃত ইসলাম মানুষের সামনে তুলে ধরছি সেটা এমামুযযামানের শিক্ষার প্রতিফলন।
তবে হ্যাঁ, অতীতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোর’আন-হাদীস দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় নি, তা নয়। অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু এই কাজ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের দিয়ে। জঙ্গিবাদ যেমন অবৈধ তেমনি ধর্মব্যবসাও অবৈধ, বিকৃত ইসলামের দু’টি শাখা- জঙ্গিবাদ ও ধর্মব্যবসা। ধর্মব্যবসায়ীদের কোনো নৈতিক বল থাকে না, আর যাদের নৈতিক চরিত্র সবল নয়, তাদের পক্ষে এই মহান কাজ করা সম্ভব নয়। তাদের কথা কেউ শুনবে না, জনগণের মধ্যে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে, ওয়াজ করলে মানুষ বিশ্বাস করবে না। মনে রাখতে হবে, একটি মিথ্যা দিয়ে কোনোদিন আরেকটি মিথ্যাকে প্রতিহত করা যায় না। আমরা যামানার এমামের অনুসারীরা ধর্মব্যবসা করি না এবং সত্য পথে আছি। কাজেই সমাধান একমাত্র আমাদের হাতেই রয়েছে।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি