আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে বৈরাগ্যবাদ নেই

11 May, 2018 Super Admin 890 ভিউ
ইসলামে বৈরাগ্যবাদ নেই

আদিবা ইসলাম
মহান আল্লাহ আখেরী নবীর মাধ্যমে যে দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা পাঠিয়েছেন সেটা ভারসাম্যযুক্ত জীবনব্যবস্থা। এই ভারসাম্য হচ্ছে দুনিয়া ও আখেরাতের ভারসাম্য, দেহ ও আত্মার, শরিয়াত ও মারেফতের ভারসাম্য। এই দ্বীন সহজ-সরল, কোনো রকম আধিক্য বা বাড়াবাড়ির স্থান আল্লাহ রাখেননি। কারণ দ্বীনের কোনো কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করার অর্থ দ্বীনের বিকৃত হয়ে যাওয়া, যেমনটা অতীতের জনগোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে হয়েছিল। এই দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ির ফলে দ্বীনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে, জাতির উদ্দেশ্য হারিয়ে গেছে এবং জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। শেষ ইসলামের ক্ষেত্রেও যেন তেমনটা না ঘটতে পারে সেজন্য আল্লাহর রসুল সদা সতর্ক থেকেছেন এবং যখনই দ্বীনের কোনো বিষয়ে কাউকে বাড়াবাড়ি করতে দেখেছেন তখন কঠোর ভাষায় সাবধান করে দিয়েছেন। তেমনি একটি ঘটনা ঘটে মদীনায়।
একদিন রসুলাল্লাহ এমনভাবে কেয়ামতের বর্ণনা দিলেন যে, জনগণের মন তাতে বিগলিত হয়ে গেল। তাঁদের চোখ থেকে অশ্রুর ধারা প্রবাহিত হলো। রসুলাল্লাহর দশজন বিশিষ্ট সাহাবী উসমান বিন মা’আজুনের ঘরে একত্রিত হলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর (রা.) সহ আলী বিন আবু তালেব (রা.), আব্দাল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), আব্দাল্লাহ বিন উমর (রা.), আবু যার গেফারী (রা.), সালিম মওলা আবু হোযায়ফা (রা.), মেকদাদ বিন আসওয়াদ (রা.), সালমান ফারসী (রা.), মাকল বিন মাকরু (রা.) এবং গৃহকর্তা উসমান বিন মা’আজুন (রা.)। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের লক্ষ্যে সংসার-ধর্ম ত্যাগ করবেন। সাধু সন্নাসী ও সুফীদের মত জিন্দেগী যাপন করবেন, ছিন্নবস্ত্র পরিধান করবেন। সর্বদা দিনের বেলা সওম রাখবেন। সারা রাত এবাদত বন্দেগী করবেন। বিছানায় ঘুমাবেন না। গোশত, চর্বি এবং পুষ্টিকর কোন খাদ্য গ্রহণ করবেন না। বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত এবং গুহার মধ্যে বসবাস করবেন।
তাঁদের এই সিদ্ধান্তের খবর রসুলাল্লাহর নিকট পৌঁছলে তিনি উসমান বিন মা’আজুনের (রা.) ঘরে এলেন। উসমান তখন ঘরে ছিলেন না। রসুলাল্লাহ উসমান বিন মা’আজুনের (রা.) স্ত্রী খাওলা বিনতে আবু উমাইয়াকে বিষয়ের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। খাওলা নিজ থেকে কিছ্ইু বললেন না। ঘটনাটি চেপেও গেলেন না। জবাবে বললেন, রসুলাল্লাহর নিকট যখন সংবাদ পৌঁছেছে তখন তা কি করে মিথ্যা হতে পারে?
রসুলাল্লাহ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে গেলেন। খানিক বাদেই উসমান বিন মা’আজউন ঘরে ফিরে এলেন। তিনি শুনলেন আল্লাহর রসুল এসেছিলেন, তাঁর খোঁজ করেছেন। খবর শুনে উসমান আর দেরী করলেন না। তৎক্ষণাৎ সঙ্গীদের নিয়ে রসুলাল্লাহর দরবারে রওয়ানা হলেন। রসুল তাঁদেরকে বিষয়ের সত্যতা জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ আমরা তেমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে, অন্য কিছু নয়।
আল্লাহর রসুল বললেন, “তোমাদের উপর তোমাদের নফ্সের হক রয়েছে। নফল সওম রাখো এবং (কোন কোন সময়) তা থেকে বিরত থাকো। রাতের বেলা কখনো তাহাজ্জুদের সালাহ কায়েমে করো এবং কখনো ঘুমাও। আমি তাহাজ্জুদের সালাহ কায়েম করি এবং ঘুমাইও। কোন কোন সময় সওম রাখি। আবার কোন কোন সময় সওম ত্যাগও করি। গোশত খাই, চর্বিও খেয়ে থাকি। স্ত্রীদের নিকটও যাই। যে আমার সুন্নাহ- তরিকা ত্যাগ করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’’
রসুলাল্লাহর কাছে এই ধরনের সতর্কবাণী শুনে তারা সাবধান হয়ে গেলেন। কিন্তু আল্লাহর রসুল ক্ষান্ত হলেন না। কারণ তিনি জানেন, এই বৈরাগ্যবাদ মুসা (আ.) এবং ঈসা (আ.) এর উম্মাহদেরকে আসমানী দীনের পথ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়েছে। এর সাথে উম্মাহর জীবন-মরণ জড়িত। কাজেই ভবিষ্যতেও যাতে উম্মাহর মধ্যে এই বৈরাগ্যবাদী ধ্যান-ধারণা গজিয়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে উম্মাহকে আরও বিষদভাবে সতর্ক করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরামদের মসজিদে সমবেত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলো। এরপর সমবেত লোকজনের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘‘লোকজনের কি হলো তারা নিজেদের জন্য স্ত্রীলোক, আহার্য্য, সুগন্ধি এবং দুনিয়ার পছন্দনীয় জিনিস নিষিদ্ধ করেছে? আমি তোমাদেরকে সংসারবিমুখ পাদ্রী এবং রাহিব-সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য হুকুম করতে পারি না। আমার দীনের মধ্যে গোশ্ত (পুষ্টিকর খাদ্য) বর্জন, স্ত্রীলোক ত্যাগ এবং দরবেশ-সন্নাসীদের খান্কা ও আখ্ড়া গ্রহণ করার নিয়ম নেই। এবং সওম আমার উম্মতের এবাদত বন্দেগীর সফর আর জেহাদ হলো তাদের বৈরাগ্যবাদ-সংসার ত্যাগ। আল্লাহর এবাদত করো। তাঁর সাথে কাউকেও শরীক করো না। হজ্ব ও উমরাহ পালন করো, যাকাহ প্রদান করো এবং সিয়াম পালন করো। দীনের কাজে দৃঢ়পদ থাকো, আল্লাহ তোমাদেরকে সুদৃঢ় করে দিবেন। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ আধিক্য ও বাড়াবাড়ির জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। যখন তারা (দীনের ব্যাপারে) বাড়াবাড়ি করল তখন আল্লাহও তাদের উপর কঠিন অবস্থা আরোপ করলেন। তাই এখন তারা রাহিবদের খান্কা ও আখ্ড়ায় বেঁচে আছে মাত্র (দ্বীন তাদের হাতে নেই)। আল্লাহর বাণী স্মরণ রেখো- ‘হে মো’মেনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা তোমরা হারাম কর না। সীমালঙ্ঘন কর না। এ ধরণের লোককে আল্লাহ পছন্দ করেন না। (সুরা মায়েদাহ ৮৭)’’ তথ্যসূত্র: ‘বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.) এর ভাষণ’ গ্রন্থ।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি