নোয়াখালীতে ডাবল মার্ডারের ১০ বছর! বিচার দাবিতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালীতে ডাবল মার্ডারের ১০ বছর! বিচার দাবিতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

(14/03/2026)
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। এর তিব্র নিন্দা জানিয়ে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এসময় তিনি ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী গুজব রটিয়ে মব সৃষ্টি করে এই হামলা চালায়। তারা নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। তারা সংগঠনের সদস্যদের বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং ইব্রাহিম রুবেল ও সোলায়মান খোকন নামে ২ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর তাদের চোখ উপড়ে ফেলা হয়, হাত পায়ের রগ কাটা হয় এবং আলামত নষ্ট করার জন্য লাশে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
গত ১০ বছরেও এই নৃশংস ঘটনার বিচার হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীদের অধিকাংশই আইনের আওতায় আসেনি। ভূক্তভোগীরা বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আসামীরা প্রতিনিয়ত তাদেরকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলাকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
হেযবুত তওহীদের ইমাম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে দুইজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। কারা জবাই করেছে, কারা অর্থ দিয়েছে, কারা মিছিল করে এসে হামলা চালিয়েছে তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। সে সকল ছবি, ভিডিও, অডিও তাদের নাম ঠিকানা সহ আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। তারপরেও যদি আমরা বিচার না পাই, তাহলে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হবে।
তিনি এই বিচারহীনতার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসামীদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পুনরায় হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে এসময় তিনি বলেন, ‘‘এখনো বিভিন্ন সময় সেই উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি আশেপাশে বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে।’’ তিনি এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী সহ শহীদ রুবেল ও খোকনের পরিবারের সদস্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।