হেযবুত তওহীদ

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত

ইসলামবিদ্বেষীদের অপপ্রচার: “ইসলাম তলোয়ারের জোরে!” তবে – গণতন্ত্র কিসের জোরে? (১ম পর্ব)

Eslam-toloyarer-jore-300x203মোহাম্মদ রিয়াদুল হাসান:

পূর্ববর্তী নবীদের যে কারণে আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন তাঁর এই শেষ নবীকেও সেই একই উদ্দেশ্যে পাঠালেন- অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষের জীবনে শান্তি, ইসলাম প্রতিষ্ঠা কোরতে। তাঁকে (দ:) নির্দেশ দিলেন- পৃথিবীতে যত রকম জীবনব্যবস্থা বা দীন আছে সমস্তগুলিকে নিস্ক্রিয়, বাতিল কোরে এই শেষ জীবনব্যবস্থা মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠা কোরতে। আল্লাহ বলেন, তিনি (আল্লাহ) তাঁর রসুলকে হেদায়াত (পথ নির্দেশনা) ও সত্য দীন (জীবন-বিধান) দিয়ে পাঠিয়েছেন এই জন্য যে তিনি এটাকে অন্য সমস্ত দীনের ওপর জয়ী করেন (সূরা আত্তওবা ৩৩, সূরা আল ফাতাহ ২৮, সূরা আস-সাফ ৯)। কারণ শান্তির একমাত্র পথই আল্লাহর দেয়া ঐ জীবন বিধান। আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ নবীকে শুধু নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি শেখাতে পাঠান নি, ওগুলো তার সেই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যে জাতির দরকার সেই জাতির চরিত্র গঠনের প্রক্রিয়া। ওগুলি উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হোল দীনুল কাইয়্যেমা, সেরাতুল মোস্তাকীমকে পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা। এই বিষয়টি পরিষ্কার বুঝে নেওয়া দরকার যে, একটি হোল উদ্দেশ্য আর অন্যটি হোল সেই উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া। এই জাতির উদ্দেশ্য, আকীদা হোল সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীতে সত্যদীন প্রতিষ্ঠা কোরে মানবজীবন থেকে সর্বরকম অন্যায়, অবিচার, অশান্তি দূর করা। আর এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য জাতির মধ্যে যে ঐক্য, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, জীবন ও সম্পদ কোরবান করার আত্মিক শক্তি ইত্যাদি চরিত্রগুলি দরকার সেই চরিত্রের প্রশিক্ষণ হোল সালাহ, সওম, হজ্ব ইত্যাদি। যদি সামনে উদ্দেশ্য না থাকে তবে এই সমস্ত আমলের কোন দামই নেই। মহানবীকে আল্লাহ পাঠিয়েছেনই ঐ এক উদ্দেশ্য দিয়ে, সেটা হোল সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করা। উম্মতে মোহাম্মদীও গঠন করা হোয়েছে ঐ একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ নবীর যে কাজ উম্মতেরও সেই একই কাজ।
এই বিশাল দায়িত্ব, সমস্ত পৃথিবীময় এই শেষ জীবন বিধান প্রতিষ্ঠা করা এক জীবনে অসম্ভব। বিশ্বনবী (দ:) তাঁর নবী জীবনের তেইশ বছরে সমস্ত আরব উপদ্বীপে এই শেষ জীবন বিধান প্রতিষ্ঠা কোরলেন- ইসলামের শেষ সংস্করণ মানব জীবনের একটি অংশে প্রতিষ্ঠিত হোল। কিন্তু তাঁর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ হোল না, তাঁর দায়িত্ব সমস্ত পৃথিবী, সম্পূর্ণ মানবজাতি। এর আগে কোন নবীর উপর সম্পূর্ণ মানবজাতির দায়িত্ব অর্পিত হয় নি। যতদিন সম্পূর্ণ মানবজাতির উপর এই শেষ জীবন বিধান জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা না হবে ততদিন মানবজাতি আজকের মতই অশান্তি, যুদ্ধবিগ্রহ, অবিচারের মধ্যে ডুবে থাকবে, শান্তি (ইসলাম) আসবে না এবং বিশ্বনবীর (দ:) উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্বও পূর্ণ হবে না।
আল্লাহর রসুল (দ:) আংশিকভাবে তাঁর দায়িত্বপূর্ণ কোরে চলে গেলেন এবং তাঁর বাকি কাজ পূর্ণ করার ভার দিয়ে গেলেন তাঁর সৃষ্ট জাতির উপর, তাঁর উম্মাহর উপর। প্রত্যেক নবী তার উপর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ কোরেছেন তার অনুসারীদের, তার উম্মাহর সাহায্যে। কোন নবীই একা একা তাঁর কাজ, কর্তব্য সম্পাদন কোরতে পারেন নি। কারণ তাদের প্রত্যেকেরই কাজ জাতি নিয়ে, সমাজ, জনসমষ্টি নিয়ে, ব্যক্তিগত নয়। কেউই পাহাড়ের গুহায়, নির্জনে, বা হুজরায় বোসে তার কর্তব্য করেন নি, তা অসম্ভব ছিলো। শেষ নবীর (দ:) বেলাও তার ব্যতিক্রম হয় নি। নবুয়ত পাবার মুহূর্ত থেকে ওফাত পর্যন্ত পৃথিবীর ব্যস্ততম মানুষটির জীবন কেটেছে মানুষের মধ্যে, জনকোলাহলে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে, সশস্ত্র সংগ্রামে- এ ইতিহাস অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। নবুয়তের সমস্ত জীবনটা বহির্মুখী- যে দীন তিনি আল্লাহর কাছ থেকে এনে আমাদের দিলেন সেটার চরিত্রও হোল বহির্মুখী{ (Extrovert) }সংগ্রামী। আল্লাহর রসুল (দ:) তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব যে তাঁর উম্মাহর উপর ন্যস্ত কোরে গেলেন, তাঁর উম্মাহও যে পূর্ণভাবে তা উপলব্ধি কোরতে পেরেছিলেন তার প্রমাণ হোল তাঁর উম্মাহর পরবর্তী কার্যক্রমের ইতিহাস। কারণ বিশ্বনবীর (দ:) লোকান্তরের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উম্মাহ তাদের বাড়িঘর, স্ত্রী-পুত্র, ব্যবসা-বাণিজ্য এক কথায় দুনিয়া ত্যাগ কোরে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতার অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ কোরতে দেশ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তাদের অধিকাংশের কবর হোয়েছিল আরবের বাইরে বিদেশের মাটিতে।

Eslam-toloyarer-jore-1-193x300

মানবজাতির নিখুঁত আদর্শ, স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ রসুলের (দ:) অনুসারী এই মহাজাতির এই যে চরম আত্মত্যাগ- স্ত্রী, পুত্র, বাড়ি-ঘর, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা-বাণিজ্য এক কথায় পার্থিব সবকিছু বিসর্জন দিয়ে পৃথিবীর বুকে বেরিয়ে পড়ল, এর একমাত্র কারণ সমস্ত পৃথিবীতে শান্তি, ইসলাম স্থাপন, এবলিসের যে চ্যালেঞ্জ আল্লাহ গ্রহণ কোরেছেন তাতে আল্লাহকে জয়ী করা। আল্লাহর জন্য ও মানুষের কল্যাণের জন্য উভয় দিক থেকেই এর চেয়ে বড়, এর চেয়ে মহান কাজ, মহান আমল আর সম্ভব নয়। তাই সর্বজ্ঞানী সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক স্রষ্টা এই সর্বত্যাগী সংগ্রামীদের জন্য রেখেছেন তার সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার- বিনা বিচারে দেহান্তরের সঙ্গে সঙ্গে সর্বোত্তম জান্নাত আর রেখেছেন এ উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান- তাদের মৃত পর্যন্ত বলার উপর নিষেধাজ্ঞা (সুরা বাকারা ১৫৪, সুরা এমরান ১৬৯)। অথচ সভ্যতার দাবিদার পাশ্চাত্যের বুদ্ধিবাদী এবং শিক্ষিতরা এই মহান ব্রতকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, তলোয়ারের জোরে ধর্মান্তর করা বোলে অভিহিত কোরেছেন। শুধু তাই নয় তাদের শিক্ষায় শিক্ষিত প্রাচ্যের, এমন কি এই জাতির অন্তর্ভুক্ত অনেক বুদ্ধিজীবীও তাদের প্রভুদের সুরে সুর মিলিয়েছেন। তবে সবাই নয়। এ দীনের, জীবনব্যবস্থার বিরোধী পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের প্রত্যেকেই যে অন্ধ তা নয়। কেউ কেউ আছেন ও ছিলেন যারা সত্য আংশিকভাবে হলেও দেখতে পেয়েছেন এবং স্বীকার কোরেছেন। যেমন {De Lacy O Leary লিখেছেন History makes it clear, however, that the legend of the fanatical Muslims sweeping through the world and forcing Islam at the point of the sword upon conquered races is one of the most fantastically absurd myths that historians have ever repeated. }অর্থাৎ- যাহোক, ইতিহাসই একথা পরিষ্কার কোরে দেখায় যে, ইতিহাসবেত্তারা যত কিছু পুনরাবৃত্তি কোরেছেন তার মধ্যে পৃথিবীতে দ্রুত ধাবমান ধর্মান্ধ গোড়া মোসলেম তলোয়ারের জোরে অন্য জাতিগুলির উপর ইসলাম চাপিয়ে দিচ্ছে, এই উপকথা অত্যন্ত উদ্ভট কল্পনা ও হাস্যকর মিথ্যার অন্যতম {(Islam at the cross Roads – D Lacy O Leary) }। এখানে লক্ষ্য কোরুন লেখক{ Repeated,} পুনরাবৃত্তি শব্দটা ব্যবহার কোরেছেন অর্থাৎ এই উদ্ভট কল্পনা ও হাস্যকর মিথ্যাটি যে তথাকথিত ইতিহাসবেত্তারা বারবার উল্লেখ কোরেছেন, লিখেছেন সে সম্বন্ধে তিনি সচেতন।

এ গেলো তলোয়ারের জোরে ইসলাম চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপার। তারপর কেন এ সংগ্রাম এ সম্বদ্ধে ইতিহাসবেত্তা {Lothrop} লিখেছেন- {Forgetting the chronic rivalries and blood feuds which had consumed their energies is internecine strife, and welded into a glowing unity by the fire of their nwe found faith, the Arabs poured forth from their deserts to conquer the earth for Allah the One true God (The Nwe World of Islam- Lothrop).} অর্থাৎ “যে পুরাতন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুরুষাণুক্রমিক রক্তাক্ত বিবাদের দরুন ও আত্মকলহে তাদের শক্তি নিঃশেষ হোচ্ছিল তা ভুলে যেয়ে এবং নতুন বিশ্বাসের আগুনে উজ্জ্বল ঐক্যে দৃঢ় সংবদ্ধ হোয়ে আরবরা তাদের মরুভূমি থেকে বানের ঢলের মত নির্গত হোল- এক এবং সত্য আল্লাহর জন্য পৃথিবী জয় কোরতে।” তারপর এ দীন জীবন-বিধান যে কোনও জাতি বা গোত্র বা ঐ ধরনের কোনও কিছুর মধ্যে সীমিত থাকার জন্য নয়, এ দীনকে অধ্যয়ন করার পর এ কথাও অনুধাবন কোরতে পেরেছেন অনেকেই। যেমন বিশ্বনবী (দ:) সম্বন্ধে লিখতে চেয়ে {Joseph I Nunan }লিখেছেনঃ {His creed…. necessarily connotes the existence of Universal empire. }অর্থাৎ তাঁর (মোহাম্মদ) ধর্ম অবশ্যই একটি বিশ্ব সাম্রাজ্যের অর্থ বহন করে {(Islam and European Civilization – Joseped I Nunan)।}মনে রাখতে হবে যে খ্রিস্টান {Nunan} এ কথা মহানবী (দ:) বা ইসলামের প্রশংসায় বোলছেন না, বোলছেন নিন্দা কোরে। অর্থাৎ বিশ্ব সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মত নিন্দনীয় কাজ হোচ্ছে মোহাম্মদের (দ:) এবং তার ধর্মের। এটা যে {ঘঁহধহ} এর দৃষ্টিতে সাম্রাজ্যবাদ তার কারণ পৃথিবীময় একটা আদর্শ, একটি সংবিধান প্রতিষ্ঠা তাদের আকীদায় {(Concept)} এ আসে না। আমার বক্তব্য হোচ্ছে, ঐ সব খ্রিস্টান চিন্তাবিদরা যে সত্য এই দীনে দেখতে পেয়েছেন অর্থাৎ
ক) তলোয়ারের জোরে মানুষকে এ দীন গ্রহণ কোরতে বাধ্য করা হয় নি।
খ) এই উম্মাহ একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম কোরেছে এবং
গ) ঐ আদর্শটি সমস্ত পৃথিবীর মানবজাতির জন্য। এই সত্য আজ মোসলেম নামক এই জাতির সমস্ত রকম কাজ, চিন্তা এবং আকীদার বাইরে। ওগুলো কোনোটার মধ্যেই আজ এই জাতি নেই। আছে হাস্যকর খুটিনাটির মধ্যে জড়িয়ে, স্থবির হোয়ে মাকড়সার জালে আবদ্ধ মাছির মতো। দীনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্বনবীর (দ:) ও তাঁর আসহাবদের (রা:) প্রকৃত সুন্নাহ থেকে যে তারা লক্ষ কোটি মাইল দূরে সে বোধ পর্যন্ত হারিয়ে গেছে।
আমরা ইতিহাসে পাই, এই প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী, মো’মেন ও মোসলেম উম্মাহ শেষ নবীর (দ:) ওফাতের পর থেকে তার আরদ্ধ কাজ চালিয়ে গেলো এবং পৃথিবীর এক বিরাট এলাকা তাদের অধীনে এলো, মানবজাতির একটা উল্লেখযোগ্য অংশকে শেষ জীবনব্যবস্থার সুফল উপহার দিলো। এ বিজয়কে অ-মোসলেম ইতিহাসবেত্তারা সাম্রাজ্যবাদী বিজয় এবং মোসলেম শাসনাধীন এলাকাকে ইসলামী সাম্রাজ্য বোলে অভিহিত কোরেছেন, এমনকি নিজস্ব স্বত্তাহীন মোসলেম ইতিহাসবেত্তারাও তাদের নকল কোরে একে “মোসলেম সাম্রাজ্য, ইসলামী সাম্রাজ্য, আরবীয়দের সাম্রাজ্য” ইত্যাদি বোলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বোঝেন নি যে সামরিক শক্তিবলে দখল কোরলেও ওটা ‘সাম্রাজ্য’ ছিলো না, ছিলো একটা আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সাম্রাজ্যবাদ যে শোষণ ও অন্যায় করে, ওটা ছিলো তার ঠিক উল্টো, শোষণ ও অন্যায় বন্ধ কোরে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসকে সত্যান্বেষী মন দিয়ে পড়লে ঐ ইতিহাসবেত্তারা দেখতে পেতেন যে যারা আল্লাহর দেয়া দীন, জীবন-ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা কোরতে সশস্ত্র বাধা দেয়নি তাদের কোন সম্পদ মোসলেম বাহিনী হস্তগত করে নি, তাদের কোন শোষণ করে নি। প্রত্যেক মোসলেমের উপর যে কর ধরা হতো অ-মোসলেমের উপরও সেই কর ধরা হতো। কেবলমাত্র যারা শত্র“ দ্বারা আক্রান্ত হোলে অস্ত্র ধোরতে রাজী ছিলো না তাদের রক্ষার জন্য তাদের উপর একটা সামান্য অতিরিক্ত কর ধরা হতো। তাও দুর্বল, বৃদ্ধ, স্ত্রীলোক, শিশু এমন কি রোগাক্রান্ত লোকদের বাদ দিয়ে শুধু যুদ্ধক্ষম, কিন্তু অস্ত্র ধোরতে রাজি নয়, – এমন লোকদের উপর ঐ কর ধরা হতো- যার নাম জিজিয়া। অ-মোসলেমদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হোলে মোসলেমদের সাথে নিজেদের রক্ষার জন্য অস্ত্র ধোরতে রাজী ছিলো তাদের উপর ঐ জিজিয়া ধরা হতো না। এর চেয়ে ন্যায্য নীতি আর কী হোতে পারে? এই আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে যারা সাম্রাজ্যবাদ বোলে নাম দিয়েছে তারাই অস্ত্রের বলে সমস্ত প্রাচ্য অধিকার কোরে তাকে নিঃশেষে শোষণ কোরেছে, তা আজ ইতিহাস। এমন কি এখনও তারা অস্ত্রের বলে মধ্যপ্রাচ্য দখল কোরে সেখানকার খনিজ সম্পদ লুট কোরছে।
উম্মতে মোহাম্মদী যত যুদ্ধ কোরেছিল সেগুলির উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রশক্তি অধিকার কোরে সেখানে আল্লাহর বিধান জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তারা ব্যক্তিগতভাবে একটি মানুষকেও তার ধর্ম ত্যাগ কোরে এই দীন গ্রহণে বাধ্য করেন নি। শুধু তাই নয়, যেখানেই তারা আল্লাহর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কোরেছেন সেখানেই অন্য ধর্মের চার্চ, সিনাগগ, মন্দির ও প্যাগোডা রক্ষার দায়িত্ব তো নিয়েছেনই তার উপর ঐ সব ধর্মের লোকজনের যার যার ধর্ম পালনে কেউ যেন কোন অসুবিধা পর্যন্ত না কোরতে পারে সে দায়িত্বও তারা নিয়েছেন। অন্যান্য ধর্মের লোকজনের নিরাপত্তার যে ইতিহাস এই জাতি সৃষ্টি কোরেছে তা মানবজাতির ইতিহাসে অনন্য, একক, পৃথিবীর কোন জাতি তা কোরতে পারে নি। কোর’আন-হাদিসের কোথাও কিন্তু অপর ধর্মকে হেয় করে কিছু বলা হয় নি। কোরআনে ¯পষ্ট এসেছে- ‘এক আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য দেব-দেবীর উপাসনা যারা করে, তাদের উপাস্যদের তোমরা গালি দিও না (সুরা আন’আম, আয়াত : ১০৮)। এবং রসুলাল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘কোনো মোসলেম যদি কোনো অ-মোসলেমের প্রতি অবিচার করে তাহোলে আমি কেয়ামতের ময়দানে সেই মোসলেমের বিরুদ্ধে অ-মোসলেমের পক্ষে আল্লাহর আদালতে মামলা দায়ের করবো (আবু দাউদ শরিফ)। আল্লাহ ও রসুলের নির্দেশের বাস্তবায়ন উম্মতে মোহাম্মদী কিভাবে কোরেছিল তা সর্বজনবিদিত ইতিহাস, তবু দু’একটি উদাহরণ দিতেই হয়।
আমর ইবনুল আস (রা:) এর মিসর বিজয়ের পর আলেকজান্দ্রিয়ায় কে একজন একদিন রাত্রে যীশু খ্রীস্টের প্রস্তর নির্মিত প্রতিমূর্তির নাক ভেঙ্গে ফেলেছে। খ্রিস্টানরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। তারা ধরে নিল যে, এটা একজন মোসলেমেরই কাজ। আমর (রা:) সব শুনে ক্ষতিপূরণ স্বরূপ তিনি প্রতিমূর্তিটি স¤পূর্ণ নতুন কোরে তৈরি কোরে দিতে চাইলেন। কিন্তু খ্রিস্টান নেতাদের প্রতিশোধ নেবার বাসনা ছিল অন্যরূপ। তারা বললো, “আমরা চাই আপনাদের নবী মোহাম্মাদের (দ:) প্রতিমূর্তি তৈরি করে ঠিক অমনিভাবে তাঁর নাক ভেঙ্গে দেব।”
এ কথা শুনে বারুদের মত জ্বলে উঠলেন আমর (রা:)। প্রাণপ্রিয় নবীজির প্রতি এত বড় ধৃষ্টতা ও বেয়াদবি দেখে তাঁর ডান হাত তলোয়ার বাটের উপর মুষ্ঠিবদ্ধ হয়। ভীষণ ক্রোধে তাঁর মুখমণ্ডল উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলো। কিছুক্ষণ নীরব থেকে নিজেকে সংবরণ কোরে নিয়ে বোললেন, “আমার অনুরোধ, এ প্রস্তাব ছাড়া অন্য যে কোন প্রস্তাব করুন আমি তাতে রাজি আছি।” পরদিন খ্রিস্টানরা ও মোসলেমরা বিরাট এক ময়দানে জমায়েত হোল। আমর (রা:) সবার সামনে হাজির হয়ে বিশপকে বললেন, “এদেশ শাসনের দায়িত্ব আমার। যে অপমান আজ আপনাদের ধর্মের হোয়েছে, তাতে আমার শাসন দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে। তাই তরবারি গ্রহণ করুন এবং আপনিই আমার নাক কেটে দিন।” এই কথা বলেই তিনি বিশপকে একখানি তীক্ষনধার তরবারি হাতে দিলেন। জনতা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খ্রিস্টানরা স্তম্ভিত। চারদিকে থমথমে ভাব। সহসা সেই নীরবতা ভঙ্গ করে একজন মুসলিম সৈন্য এলো। চিৎকার করে বললো, “থামুন ! আমি ঐ মূর্তির নাক ভেঙ্গেছি। অতএব আমার নাক কাটুন।” বর্তমান বিকৃত ইসলামের ধারণায় অন্যধর্মের উপাসনালয়ের মূর্তি ভাঙ্গা আর প্রকৃত ইসলামের সৈনিকদের দ্বারা অন্যজাতির পূজার জন্য মূর্তি বানিয়ে দেওয়ার মধ্যে রোয়েছে প্রকৃত ইসলাম আর বিকৃত ইসলামের ধারণাগত বিস্তর ফারাক। যাক সে কথা। বিজিতদের উপরে বিজয়ীদের এই উদারতায় ও ন্যায়বিচারে মুগ্ধ হোয়ে সেদিন শত শত খ্রিস্টান ইসলাম কবুল কোরেছিলেন। এভাবে ইসলামের সৌন্দর্য দেখেই ব্যক্তিগতভাবে মানুষ ইসলাম কবুল কোরেছে। (চোলবে….)

সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...