আন্দোলনের সদস্য-সদস্যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে অর্থ দান করেন সেটাই হবে আন্দোলনের আয়ের মূল উৎস। আন্দোলন কর্তৃক প্রকাশিত বিভিনড়ব প্রকাশনা সামগ্রী বিক্রয়লব্ধ লভ্যাংশও আয়ের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আন্দোলন যদি কোনো ব্যবসায় বা অংশীদারী কারবারে বিনিয়োগ করে তাহলে সেখান থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আন্দোলনের আয় হিসাবে গণ্য হবে। আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে প্রকাশনা দ্রব্য মুদ্রণ বাবদ এবং বিভিনড়ব সময়ে গৃহীত কর্মসূচি যথা সভা, সেমিনার, সমাবেশ, র‌্যালি, ঘরোয়া বৈঠক ইত্যাদি আয়োজনের জন্য এমামের অনুমোদনক্রমে অর্থ ব্যয় করা হবে। হেযবুত তওহীদের আয় হতে উহার যেকোন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নির্বাহী প্রশাসনিক, আন্দোলনের অগ্রগতিসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাজে ব্যয় করা যাবে। কোনো আয় কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সদস্যদের মধ্যে লাভ বা বোনাস আকারে বণ্টন করা যাবে না এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে বেতন/ভাতা প্রদান করা যাবে না।

অর্থ সংগ্রহের খাতসমূহ: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মো’মেন হওয়ার শর্ত হিসাবে দুটো জিনিস দাবি করেছেন – জীবন এবং সম্পদ। মানবসমাজের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য সম্পদ যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পুঞ্জিভূত হতে না পারে এবং একটি গোষ্ঠীর মধ্যে আবর্তিত না হতে পারে, সম্পদ যেন কোথাও অলস পড়ে না থেকে সর্বদা উৎপাদনশীল থাকে, গতিশীল থাকে সেজন্য আল্লাহ সম্পদকে সমাজের মধ্যে সর্বদা দ্রুত থেকে দ্রুততর গতিতে সঞ্চালিত করার জন্য বহুবিধ নির্দেশনা ও পদ্ধতি দান করেছেন। ধনীর সম্পদের মধ্যে দরিদ্রের অধিকার একটি প্রাকৃতিক অধিকার। মো’মেন আল্লাহর নির্দেশিত পথে মানুষের কল্যাণে অর্জিত সম্পদ দান করবে। এতে একসাথে দুটো কাজ হবে – একদিকে তার আত্মা পরিশুদ্ধ হবে, অন্যদিকে সমাজ উপকৃত হবে। সত্য প্রতিষ্ঠায় শ্রমের পাশাপাশি অর্থের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। হেযবুত তওহীদ যেহেতু মানবতার কল্যাণে সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিয়োজিত, কাজেই এ আন্দোলনের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য সদস্যদের স্বতঃপ্রণোদিত শ্রমের যেমন প্রয়োজন তেমনি স্বেচ্ছায় প্রদত্ত অর্থেরও প্রয়োজন। আন্দোলনের বিবিধ কার্যাবলী যেমন পুস্তক, পত্রিকা প্রকাশ, সভা-সেমিনার ইত্যাদি এবং দরিদ্র, বিপদগ্রস্ত, প্রতিপক্ষের দ্বারা হয়রানির শিকার হওয়া সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন হয়। মাননীয় এমামুয্যামান আন্দোলন প্রতিষ্ঠার ক্ষণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যারা এ আন্দোলনের সাথে আন্তরিকভাবে ঐক্যবদ্ধ নয় তাদের থেকে আমরা কোনো অর্থ গ্রহণ করব না। আল্লাহর পথে তথা মানবতার কল্যাণে সংগ্রামে ব্যয়: আন্দোলনের যাবতীয় কার্যμম পরিচালনায় সদস্য-সদস্যাদের প্রদত্ত অর্থ ‘সাধারণ তহবিল’ হিসেবে গৃহীত হবে।

করজে হাসানা: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আন্দোলনকে যেকোন সদস্য বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে পারবেন।

যাকাত: যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে সে যাকাতের সম্পূর্ণ অংশ বা আংশিক পরিমাণ অর্থ আন্দোলনের তহবিলে প্রদান করতে পারবেন।

কাফফারা: সওম বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে কিংবা আল্লাহর হুকুমের পরিপন্থী কোনো কাজ করে অনুতপ্ত হলে কাফফারাস্বরূপ আন্দোলনের তহবিলে অর্থ প্রদান করতে পারবেন।

ফেতরা: ধনী-গরীব সকলে যেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের সময় প্রত্যেক সক্ষম সদস্য-সদস্যা নির্ধারিত অর্থ আন্দোলনের তহবিলে প্রদান করতে পারবেন, যা কেবল দরীদ্রদের মধ্যে বিলি-বন্টন করা যাবে।।

সদকায়ে জারিয়া: আন্দোলনের বিশেষ কোনো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য অর্থ প্রদান করাকে সদকায়ে জারিয়া হিসাবে গণ্য করা হবে। ‘সদকা’ শব্দের অর্থ দান করা এবং ‘জারিয়া’ অর্থ প্রবহমান, সদাস্থায়ী প্রভৃতি। সদকায়ে জারিয়া হলো এমন দান যার কার্যকারিতা কখনো শেষ হবে না এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

উশর: কৃষিজাত পণ্য-ফল ও ফসলের যাকাতকে ইসলামী পরিভাষায় ‘উশর’ বলা হয়। যে জমিতে সেচ-সার, কীটনাশক ব্যতিরেকে প্রাকৃতিক উপায়ে ফসল উৎপাদিত হয় তার উশর ফসলের দশভাগের এক ভাগ। কিন্তু যে জমিতে সেচ-সার, কীটনাশক প্রয়োগ প্রভৃতির জন্য আর্থিক ব্যয় সাপেক্ষে ফসল উৎপাদিত হয় তার উশর ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ। যাদের জন্য এ বিষয়টি প্রযোজ্য তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মানবতার কল্যাণে তাদের নেসাব পরিমাণ উশর কেন্দ্রীয় তহবিলে প্রদান করতে পারবেন।

ফেদিয়া: বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতার কারণে সওম না রাখতে পারলে বা অন্য কোনো আমল করতে না পারলে অন্য কাউকে সেই আমল করার জন্য অর্থ প্রদান করাকে ফেদিয়া বলে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থ সম্পাদকের কাছেও জমা দিতে পারেন অথবা ব্যক্তিগতভাবেও কোনো দরিদ্র সদস্যকে দিতে পারেন।

মানত: আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, ‘তারা যেন তাদের মানতসমূহ পূর্ণ করে।’ যেকোন সৎ ইচ্ছা পূরণের জন্য মানত করলে সেই অর্থ আন্দোলনে দান করবে বা মানত অনুযায়ী ব্যয় করবে।

ওয়াকফ বা অসিয়ত: কেউ যদি তার কোনো সম্পদ আন্দোলনকে অসিয়ত করে যান তাহলে তার ওয়ারিশগণ কর্তৃক সেই সম্পদ আন্দোলনের কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, আন্দোলনের ফান্ডসমূহ নির্দিষ্ট খাতেই জমা হয়। যে সদস্য যে খাতের নাম উল্লেখ করে দান করবেন তার অর্থ সেই খাতেই ব্যয় করতে হবে।