রংপুরের মিঠাপুকুরে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা করেছে রংপুর জেলা শাখা হেযবুত তওহীদ। হেযবুত তওহীদের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস শামীম এর সভাপতিত্বে গত ০৫ মার্চ, ২০১৮ তারিখে মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপজেলার হাজারো সাধারণ জনতার ব্যাপক সমাগত ঘটে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক মিন্টু মিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথি হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক, জেটিভি অনলাইন’র চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অনলাইন টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মশিউর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবেদ আলী, মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সম্পাদক প্রদীপ কুমার গোস্বামী, হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশোক মাহমুদ, মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব বাবর আলী, প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আতিয়ার রহমান।
প্রধান অতিথি হেযবুত তওহীদের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সারা দেশের ন্যায় হেযবুত তওহীদ আমার উপজেলায় কয়েক বছর যাবত নিঃস্বার্থভাবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভিন্ন উপায়ে সচেতন করে যাচ্ছে। তাদের এ কার্যক্রম বিপথগামী তরুণ ও যুবসমাজকে সঠিক পথে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, পশ্চিমা পরাশক্তিধর সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে ইসলামকে টার্গেট করেছে। মুসলমানরা সন্ত্রাসী, মুসলমানরা অসভ্য, মুসলমানরা বিজ্ঞানবিরোধী, মুসলমানরা বিশৃঙ্খল, মুসলমানরা সভ্য দেশে বসবাস করতে পারে না, মুসলমানরা সভ্যতার অনুপযুক্ত ইত্যাদি প্রচারণা চালাচ্ছে। মিডিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তারা তাদের মনগড়া কথা প্রচার করে যাচ্ছে। এভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে তারা বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সুযোগ খুঁজে নিচ্ছে। একটার পর একটা মুসলিমপ্রধান দেশ ধ্বংস করে ফেলছে।

হেযবুত তওহীদের এই সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, এক আল্লাহ, এক রসুল, এক কিতাবের অনুসারী জাতি আজকে হাজার হাজার ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। একেক পীরের একেক তরিকা। এক পীরের অনুসারীরা হামলা করে আরেক পীরের অনুসারীদেরকে হত্যা করে। কয়েকদিন আগে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে এক ফেরকার মানুষ আরেক ফেরকার মানুষকে হামলা করে হত্যা করল। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলও রয়েছে হাজার হাজার, কিন্তু একটার সাথে আরেকটার আকীদা মিল নাই। আছে সন্ত্রাসবাদী-জঙ্গিবাদী দলও। তাদেরও একটার সাথে আরেকটার চিন্তাধারায় যোজন যোজন দূরত্ব। তাহলে এত মত, এত পথ, এত রাস্তা কোথা থেকে এলো? জান্নাতের রাস্তা কি এতগুলো হতে পারে? কারা জান্নাতে যাবে? আজকে শুনে রাখুন- যারা মো’মেন, যাদের কাজের ফলে দুনিয়াতে শান্তি আসবে, তারাই জান্নাতে যাবে। আর যারা মো’মেন নয়, যাদের কাজের ফলে দুনিয়াতে অশান্তি সৃষ্টি হয়, তারা জাহান্নামে যাবে। তিনি আরও বলেন, দল মাত্র দুইটি। মোমেন আর কাফের। মো’মেনরা হবেন একজাতি। মো’মেনরা থাকবেন ঐক্যবদ্ধ একটি কথার উপরে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কারো হুকুম মানি না। এর মর্মকথা কিন্তু বুঝতে হবে। এতদিন কেবল তসবিহর দানায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে এসেছেন কিন্তু অর্থ বোঝেন নাই, তাৎপর্য বোঝেন নাই। এই ঘোষণার অর্থ হলো- হে আল্লাহ, তোমার হুকুম ছাড়া, তোমার আদেশ-নিষেধ ছাড়া অন্য কারো হুকুম বিধান মানব না। কোন্ মৌলবী সাহেব কী বলল, কোন্ পীর সাহেব কী বলল, কোন মাওলানা কী বলল, তা দেখব না, তুমি যেটা বলেছো সেটাই চলবে। এই ঘোষণা দিলে আপনি হবেন মো’মেন, জান্নাতি।
তিনি ইসলামের অপব্যবহার বিষয়ে বলেন, একটা বন্দুক যদি ডাকাতের হাতে পড়ে তাহলে সে সেটা দিয়ে ডাকাতি করবে, আর যদি পুলিশের হাতে থাকে তাহলে সেটা সমাজের উপকার করবে। ভালো-মন্দ নির্ভর করে ব্যবহারের উপর। ইসলামের প্রকৃত আকীদা না জানলে তাদের দ্বারা ইসলামের অপব্যবহার হবেই, কাজেই ইসলামের প্রকৃত আকীদা সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে হবে, তবেই ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি নির্মূল হবে।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি রুহল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাসেল আহমেদ।

অনুষ্ঠানের ভিডিও চিত্র