মাহফিলের উপজীব্য যখন অপপ্রচার

রিয়াদুল হাসান

ওয়াজের জন্য সুবিধাজনক সময় শীতকাল। বৃষ্টি-বাদলা হয় না। আমাদের দেশের ওয়াজকারীরা ওয়াজের জন্য বিভিন্ন কেচ্ছা-কাহিনী বলে থাকেন, নবী প্রেমের কাহিনী বলে থাকেন। আর যেটা করেন তাহলো ভিন্ন মতাবলম্বী আলেমদের, পীরদের বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারণা করে থাকেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে শ্রোতাদের পকেট থেকে সর্বাধিক পরিমাণ অর্থ বের করে ওয়াজের আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষের হাত পযন্ত পৌঁছে দেওয়া। যে ওয়াজকারী শ্রোতার মধ্যে বেশি আবেগ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারেন অর্থের বিচারে তার মূল্যায়নও বেশি হয়। উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য তারা আমাদের দেশে সাধারণত হিন্দুদের দেব-দেবীর বিরুদ্ধে, ভগবান-অবতারদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করে থাকেন। কখনও কখনও যদি দেশে কাদিয়ানী বা ইসলামবিদ্বেষীদের ইস্যু জুটে যায় তখন ঐ ইসলামবিদ্বেষীদের নাস্তিক, মুরতাদ ইত্যাদি ফতোয়া দিয়ে গা গরম করা ওয়াজ পরিবেশন করেন।

হেযবুত তওহীদ এখন এদেশে ইসলামের কথা বলার একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে এবং দেশের লক্ষ কোটি মানুষ এই আন্দোলন স¤পর্কে বাইশ বছরের অপপ্রচার থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক পথ, সঠিক ইসলামের সন্ধান পাচ্ছে। হেযবুত তওহীদের এই গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টির বিষয়টি ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাপক অন্তর্জালা সৃষ্টি করেছে। তারা এই শীতের মৌসুমে উঠে-পড়ে লেগেছেন তাদের ভাষায় হেযবুত তওহীদের ‘গোমর ফাঁস’ আর ‘মুখোস উন্মোচন’ করার জন্য। বহু জেলায় মাহফিলগুলোতে এখন ওয়াজের বিষয়বস্তু মুসলমানদের দুর্গতি না, সমাজের অন্যায় অশান্তি না, দুনিয়াজোড়া মুসলমানেরা যে মার খাচ্ছে তার বিরুদ্ধে কী করণীয় এসব কিচ্ছু না, বিষয়বস্তু হলো হেযবুত তওহীদ। হেযবুত তওহীদ নিয়েই তাদের যত মাথাব্যথা, জনগণকে উসকে দিয়ে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা করতে হবে, তাদেরকে হত্যা করতে হবে, জবাই করতে হবে, আগুন জ্বালাতে হবে, এই হচ্ছে তাদের ওয়াজ।

প্রশ্ন করতে পারেন, আপনাদের বিরুদ্ধে তাদের এই ক্ষোভ কেন? বস্তুত এর কারণ খুব সোজা।

১. আমরা বলি যে, আমাদের সমাজের ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি যে ইসলামটাকে বিক্রি করে খাচ্ছেন সেটা আল্লাহ রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়। সেটা বিগত তেরশ বছরে বিকৃত হতে হতে এখন সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়ে গেছে।

২. আমরা বলি যে, তারা যে ধর্মীয় কাজের বিনিময় নিচ্ছেন এই কাজটি আল্লাহ হারাম করেছেন।

৩. হেযবুত তওহীদ ইসলামের কথা বলবে এটা তাদের অহঙ্কারের উপর বিরাট আঘাত। তারা এই সমাজে ইসলামের কর্তৃপক্ষ বলে স্বীকৃত, প্রতিষ্ঠিত। তারা নিজেরাও বিশ্বাস করেন যে, তারাই ইসলামের প্রতিভূ। তারা মাদ্রাসায় পড়ে এত সময় ব্যয় করেছেন, এত কেতাব মুখস্থ করেছেন। সেখানে তারা ছাড়া আর কেউ ইসলামের কথা কেন বলবে?

জাতির ধর্মীয় নেতাদের এই যে বাণিজ্যিক মনোভাব, স্বার্থপরতা এটাই হচ্ছে এ জাতির গত কয়েকশ বছরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারার এটাই মূল কারণ। আলেমদের পথভ্রষ্টতা, দোষাদোষী, এক ফেরকার বিরুদ্ধে আরেক ফেরকার রেষারেষি, ক্ষুদ্রচিন্তা, ইসলামকে মাসলা-মাসায়েলের মধ্যে বন্দী করা ইত্যাদি এ জাতিটাকে বৃহৎ চিন্তা করতে দিচ্ছে না। ইসলামবিদ্বেষীরা যেমন ইসলামের বিরুদ্ধে লেগেছে এরাও তেমনি একদল আরেকদলের বিরুদ্ধে লেগেছে। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষীরা ব্যবহার করছে তাদের গণমাধ্যম, তারা টেবিলে বসে তৈরি করছ মিথ্যা সংবাদ আর এই ধর্মজীবীরা করছেন ওয়াজ। তবে আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, সত্য যখন একবার প্রকাশ পেয়েছে এই সত্যের পথকে কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না ইনশাল্লাহ।

(কলামিস্ট: রিয়াদুল হাসান, সাহিত্য সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ)

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ