ফতোয়াবাজি করে হেযবুত তওহীদের পথরোধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছো, তারা জেনে রাখো- আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করার শক্তি তোমাদের কারো নাই। আমি সত্য নিয়ে দাঁড়িয়েছি, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে দাঁড়িয়েছি, দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছি, আমি তোমার দুই টাকার ক্ষতি করতে দাঁড়াই নাই। কাজেই আমার সামনে দাঁড়াবে না।’ গত ০১ জুন ২০১৮ তারিখ শুক্রবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাতারকুল রোডস্থ এলিন কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদ কর্তৃক আয়োজিত ‘মাহে রমজানের অঙ্গীকার, ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ব এবার’ শীর্ষক এক ইফতার মাহফিলে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দানকালে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অনলাইন টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেটিভি অনলাইনের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান, হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি মো. আলী হোসেন, হেযবুত তওহীদের প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক বজ্রশক্তির প্রকাশক ও সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা, হেযবুত তওহীদের সাহিত্য সম্পাদক মো. রিয়াদুল হাসান, বাড্ডা থানা সভাপতি মেজবাহ উল ইসলাম, রামপুরা থানা সভাপতি ফরিদ উদ্দিন রব্বানী প্রমুখ।

বক্তব্যে মুখ্য আলোচক মুসলিম জাতির বর্তমান দুর্গতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ লক্ষ আলেম, লক্ষ লক্ষ মুফতি, লক্ষ লক্ষ মুহাদ্দিস, লক্ষ লক্ষ হাফেজে কোর’আন, এমাম সাহেব, মুসল্লি, পীর, পীরের মুরীদ কোটি কোটি। কিন্তু সারা পৃথিবীতে মার খাই আমরা। একটা ভূখণ্ড রক্ষা করতে পারি না। একটা নারীর ইজ্জত রক্ষা করতে পারি না। গণহত্যা বন্ধ করতে পারি না। তাহলে কোথায় যাচ্ছে আমাদের আমল, কোথায় যাচ্ছে আমাদের বিশ্বাস, কোথায় যাচ্ছে আমাদের তাকওয়া? নিশ্চয়ই কোথাও ফুটো হয়ে গেছে, গলদ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মুসলিম জাতি সম্পর্কে আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন- তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদেরকে মানবজাতির মধ্য থেকে উত্থিত করা হয়েছে যেন তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করতে পারো এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারো। এটাই কি সেরা জাতির নমুনা? কেন জাতির এই দুর্গতি? সেই কারণটা জানাতেই আমরা দাঁড়িয়েছি। হে মুসলমান জাতি, আমরা নামাজ পড়ছি, রোজা রাখছি, আমল করছি, কিন্তু আমলের আগে তো কলেমায় ঈমান আনতে হবে। আমরা আল্লাহর সাথে যে কলেমার চুক্তি করেছি, সেই চুক্তি গত কয়েক শতাব্দী আগেই ভঙ্গ করেছি। কথা ছিল আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানব না- এই কথার ভিত্তিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা সেই চুক্তিতে নেই।’
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘পৃথিবীতে হুকুম দুইটা, আল্লাহর হুকুম, ইবলিসের হুকুম। মানুষের পরিণতি দুইটা, জান্নাত জাহান্নাম, সত্য-মিথ্যা, ডান-বাম, বৈধ-অবৈধ, ন্যায়-অন্যায়। আমরা বনি আদম ঠিক মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আছি- আমাকে নফসের স্বাধীনতা, রুহের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমি ডান দিকে যাব, নাকি বাম দিকে যাব, আল্লাহর হুকুমকে ধারণ করব, নাকি ইবলিসের হুকুমকে ধারণ করব এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমাকে দেওয়া হয়েছে। এবং এই সিদ্ধান্তটি যেন মানবজাতি সঠিকভাবে নিতে পারে, এজন্য আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন নবী রসুলদের মাধ্যমে সঠিক পথনির্দেশও জানিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাবা আদম যখন দুনিয়াতে আসলেন তখন তিনি শঙ্কিত হলেন, ভীত-সন্ত্রস্ত হলেন। ইবলিস যখন প্ররোচনা দিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে আল্লাহর হুকুম অমান্য করালো, আল্লাহ যখন বললেন, তোমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাও। তখন তাঁরা ভীত-শঙ্কিত হলেন। তখন আদম (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, “আল্লাহ আমি তো গুনাহ করে ফেলেছি, আমি জুলুম করে ফেলেছি নফসের উপরে, আমাকে ক্ষমা করুন। না হলে তো আমি ধ্বংস হয়ে যাব।” তখন আল্লাহ বললেন, “আদম তুমি চিন্তা করো না, ভয় করো না। আমার পক্ষ থেকে আমি হেদায়াহ্ পাঠাব, সঠিক পথ, Right Direction পাঠাব। যারা এই পথের উপর থাকবে, তাঁদের কোনো ভয় নেই। তারা চিন্তিত হবে না।” হেযবুত তওহীদের এমাম প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এই যে আল্লাহর দেয়া পথ, সঠিক পথ, সেই পথের কী নাম? সেই পথের নামই হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’