প্রতারকের খপ্পরে মানবজাতি (পর্ব: ০২)

আতাহার হোসাইন
(পূর্ব প্রকাশের পর) গত শতাব্দীর শুরু থেকে দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের অবসানের মধ্যদিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জাতিসংঘ শুধুমাত্র কয়েকটি ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ হয়ে তাদেরই চাওয়াকে বাস্তবায়নে তৎপর থেকেছে অনবরত। এই একচোখা নীতির কারণে যারা পশ্চিমা সভ্যতার ঘৃণিত এক চোখা নীতিকে ঘৃণা করে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে তারা পতিত হয়েছে মানবাধিকারের ফেরীওয়ালা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতিদানকারীদের তোপের মুখে। আর তাদের শায়েস্তা করতে যেয়ে এই সভ্যতা গোপনে এবং প্রকাশ্যে এমন এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে ইতিপূর্বে আর ঘটেনি। শুধুমাত্র তাদের বশ্যতা স্বীকার না করার অপরাধে দিনের পর দিন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক অবরোধ করে রেখেছে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, লক্ষ লক্ষ শিশুদেরকে হত্যা করা হয়েছে, জেলে বন্দি করা হয়েছে, অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে খুন করা হয়েছে। চলতি শতাব্দীতে সন্ত্রাস দমনের নামে কথিত সন্দেহভাজনদের বছরের পর বছর গোপন ঘাঁটিতে আটক করে বিচারবহির্ভূত অকথ্য ও অমানবিক নির্যাতন করেছে। তাদের গৃহীত নীতির ফলে দেশে দেশে আজ যুদ্ধ, বিগ্রহ, মারামারি, অন্যায়, অত্যাচার, গৃহযুদ্ধ ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। যে কোনো পরিসংখ্যান বলে দেবে যে কম্যুনিজমের আমলে যত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যত মানুষ আহত, বিকলাঙ্গ হয়েছে, যত নারী ধর্ষিত হয়েছে, যত পিতামাতা তার সন্তানকে হারিয়েছে, যত সন্তান তার বাবা মা হারিয়েছে, তার চাইতে হাজার গুণ ছাড়িয়ে গেছে এই আধুনিক গণতন্ত্রের অধীন পৃথিবী।

দেশে দেশে আইন শৃঙ্খলা, সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়ে অবস্থা আজ এই রূপ হয়েছে যে পৃথিবীর আর বাকীসব অনুন্নত, দরিদ্র রাষ্ট্রের কথা বাদ দিলাম, একক ক্ষমতাসম্পন্ন পরাশক্তির অধিকারী, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত, যাদের বাহিনী পৃথিবীর আর সব বাহিনী থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত, সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, “আমরা আমাদের সন্তানদেরকে (সন্ত্রাসীদের হাত থেকে) রক্ষা করতে অক্ষম।” নিরূপায় মানুষ আজ বিকৃত সব পথ বেছে নিচ্ছে, বিচিত্রসব উপায়ে আত্মহত্যা করে বেরিয়ে যেতে চাইছে এই অবস্থা থেকে।

দেশে দেশে আইন শৃঙ্খলা, সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়ে অবস্থা আজ এই রূপ হয়েছে যে পৃথিবীর আর বাকীসব অনুন্নত, দরিদ্র রাষ্ট্রের কথা বাদ দিলাম, একক ক্ষমতাসম্পন্ন পরাশক্তির অধিকারী, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত, যাদের বাহিনী পৃথিবীর আর সব বাহিনী থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত, সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, “আমরা আমাদের সন্তানদেরকে (সন্ত্রাসীদের হাত থেকে) রক্ষা করতে অক্ষম।” নিরূপায় মানুষ আজ বিকৃত সব পথ বেছে নিচ্ছে, বিচিত্রসব উপায়ে আত্মহত্যা করে বেরিয়ে যেতে চাইছে এই অবস্থা থেকে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে, প্রাণভয়ে আতঙ্কিত মানুষ পৃথিবীর আসন্ন ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচার লক্ষ্যে মাটি খুঁড়ে, বাঙ্কার বানিয়ে মাটির গভীরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বসবাস আরম্ভ করেছে। এসব বিষয় ছাড়াও মানবজাতির সামনে আরো ভয়ংকর বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক বোমা আতংক। এই সভ্যতা আজ মানবজাতিকে এমন অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে যে, তারা যে সংখ্যক পারমাণবিক বোমার মজুদ ঘটিয়েছে তা দিয়ে শুধু পৃথিবী নামক এই গ্রহকেই নয়, একসাথে কয়েকটি পৃথিবী ধ্বংস করতে সক্ষম। আর তাতে যে শুধু এই সভ্যতার যুদ্ধবাজ নেতাদের আত্মহত্যা হবে তাই নয়, সাথে সাথে আত্মহত্যা হবে গোটা মানব জাতির। সুস্থ মানুষ এই ভেবে আজ দিশেহারা।
এই অবস্থা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাওয়ার কোন পথ নাই। কল্পিত সীমানা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে মানুষকে। আল্লাহর সৃষ্টি এই বিশাল পৃথিবী, মানুষের জন্যই তৈরি করেছেন তিনি স্বাধীন, মুক্তভাবে চলাফেরা করার জন্য। যার যেখানে প্রয়োজন, যেখানে ইচ্ছা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াবে, ভ্রমণ করবে। কিন্তু নানাবিধ জটিল সিস্টেমের মাধ্যমে ছোট একটি ভুখণ্ডে অধিক সংখ্যক জনসংখ্যাকে আটকে রাখা হয়েছে, সংখ্যা এবং সম্পদের আনুপাতিক ব্যবধানের কারণে মানুষ অনাহার, অর্ধাহারে ভুগছে, অপরদিকে বিশাল ভূখণ্ডে স্বল্পসংখ্যক মানুষ বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদকে ভোগ করছে পাশবিকভাবে। তাহলে পশ্চিমা সভ্যতার এই উন্নতি, এই প্রযুক্তিগত ক্ষমতা, যান্ত্রিক প্রগতি মানুষকে কী দিল? কোথায় তাহলে তাদের মানবাধিকার, কোথায় তাদের ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি? তাহলে এ-ই কি মানবসৃষ্ট জীবনবিধানগুলির পরিণতি, এই কি নেট ফল, এই-ই তাদের প্রদত্ত স্বাধীনতার নমুনা! এ যে স্বাধীনতা নয়, তা আর মুখে বলে দিতে হবে না, এ যে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়, তা মানুষ আজ হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গেছে।
প্রথমে সামন্তরাজাদের রাজতন্ত্র, তারপর ধনতান্ত্রিক বুর্জোয়া গণতন্ত্র কিংবা সাম্যবাদ- এই ব্যবস্থাগুলি একটার ব্যর্থতার মাধ্যমে আরেকটার জন্ম হয়েছে। শান্তির লক্ষ্যে পাগলপ্রায় মানুষ অন্ধকারে হাতরে বেড়িয়ে তাদের ক্ষুদ্রজ্ঞানে আবিষ্কার করেছে একটার পর একটা ব্যবস্থা। কিছুদিন না যেতেই দেখতে পেয়েছে এর ফলাফল, ব্যর্থতা। তাদের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে তারা বুঝতে পারে নি যে তারা যে ব্যবস্থাগুলি চালু করেছে তা অপূর্ণাঙ্গ এবং এসকল জীবনব্যবস্থাগুলি শুধুমাত্র জীবনের একটা অঙ্গনকে মুখ্য ধরে এগিয়ে গেছে। কোন কোন জীবনব্যবস্থায় সমষ্টিগত জীবন থেকে ধর্মকে বিতাড়িত করে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতিকে, প্রগতিকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করেছে বটে, কিন্তু তারা আত্মিক দিক দিয়ে দেউলিয়া হয়ে প্রায় পশু পর্যায়ে নেমে গেছে। দিন দিন তারা বস্তুবাদী, জড়বাদী আত্মাহীন প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। পরিণামে তারা ব্যর্থ হয়েছে মানবজাতির কাক্সিক্ষত সেই শান্তি এবং স্বাধীনতা প্রাপ্তি থেকে। আজ মানুষকে এই নিষ্পেষণের কারাগার থেকে মুক্তি দিতে পারে কেবল মাত্র মানবজাতির স্রষ্টা আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা অর্থাৎ দীনুল হক। মুশকিল হচ্ছে, গত ১৩০০ বছর ধরে আল্লাহর সত্যদীনকে এই জাতির আলেম ওলামারা অতি বিশ্লেষণ করে অত্যন্ত জটিল ও দুর্বোধ্য করে ফেলেছেন। আজ সারা পৃথিবীতে ইসলাম বলে যে ধর্মটি প্রচলিত আছে সেটি আল্লাহ-রসুলের ইসলামের ঠিক বিপরীতমুখী একটি ধর্মাচার, প্রকৃত ইসলামের সঙ্গে এর কিছু বাহ্যিক মিল ছাড়া আর কোন মিল নেই। মানুষ যদি এই বিকৃত বিপরীতমুখী ইসলামটিই তাদের জাতীয় ও সামষ্টিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করে, তাহলেও অন্যায় অশান্তি অবিচার দূর হবে না। কারণ যে ইসলাম এই জাতির আলেম ওলামারা শিক্ষা দেন, যেটা বিক্রী করে তারা চলেন সেটা দিয়ে শান্তি আসবে না, আসেও নি কোথাও। শান্তির জন্য প্রয়োজন সেই প্রকৃত ইসলাম যা তিনি ১৪০০ বছর আগে তাঁর প্রিয় হাবীবকে দান করেছিলেন। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যে সেই হারিয়ে যাওয়া সত্যদীন আল্লাহ আবার নতুন করে এ যামানার এমামকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেই সত্যদীনের প্রতি হেযবুত তওহীদ আজ মানবজাতিকে আহ্বান করে যাচ্ছে। মানুষের সামনে এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে শান্তিময় বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার। এখন মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা কি এই অশান্তির মধ্যে ডুবে থাকবে নাকি আল্লাহর প্রকৃত দীনুল হক-সত্যদীনকে বরণ করে শান্তিময় পৃথিবী এবং শান্তিময় আখেরাত অর্জন করবে।

 

প্রতারকের খপ্পরে মানবজাতি (পর্ব: ০১)

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ