এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী

এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী

রুফায়দাহ পন্নী:

শুনিছ না ওই— দিকে দিকে কাঁদে রক্তপিশাচ প্রেতের পাল!
দূর-মশালের তপ্ত-নিশাসে ঘামিয়া উঠিছে গগন-ভাল!
কার পথে-পথে গিরি নুয়ে যায়! কটাক্ষে রবি অস্তমান!
খড়গ কাহার থির-বিদুুৎ! ধূলি-ধ্বজা কার মেঘ-সমান!
ভয় পায় ভয়! ভগবান ভাগে! প্রেতপুরী বুঝি হয় সাবাড়!
ওই আসে! ওই বাজে দুন্দুভি—বাজায় দামামা, কাড়া-নাকাড়
—কালাপাহাড়!
.
কবি মোহিতলাল মজুমদার ‘কালাপাহাড়’ কবিতায় এভাবেই এক বিস্মৃত বাঙালি বীরের রুদ্রমূর্তিকে চিত্রিত করেছেন অনুপম ছন্দমাধুর্যে। সেই মহাবলী যোদ্ধার নাম কালাপাহাড়। বাংলার ইতিহাস ও সাহিত্যে প্রলয়-ধবংসের মূর্ত প্রতীক হিসেবে যিনি আপন মহিমায় বিরাজমান তিনি কালাপাহাড়। তিনি এমন এক প্রবাদ পুরুষ যার ইতিহাস আমরা অনেকেই না জেনেও শক্তিমত্তা, পরাক্রম ও দুর্ধর্ষতার উপমা হিসাবে ‘কালাপাহাড়’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি।
.

সেনাপতি কালাপাহাড়কে নিয়ে লেখা বিশ্বনাথ ঘোষের বই 'আমার নাম কালাপহাড়'

সেনাপতি কালাপাহাড়কে নিয়ে লেখা বিশ্বনাথ ঘোষের বই ‘আমার নাম কালাপহাড়’

তার সম্পর্কে বিশ্বনাথ ঘোষের একটি বই আছে যার নাম “আমার নাম কালাপাহাড়”। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারেরও “কালাপাহাড়” নামে একটি উপন্যাস আছে। ইসলামের অকুতোভয় যোদ্ধা খানজাহান আলী (র.) ১৪০১ সালে বাগেরহাটে ঠাকুরদীঘি নামে দীঘি সংস্কার করে তিনি এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। সেই কুমিরের বংশধররা সাতশ বছর ধরে কালাপাহাড় এবং ধলাপাহাড় নামে ছিল। এদেরই সর্বশেষ বংশধর ধলাপাহাড় এ বছরেরই ৫ ফেব্র“য়ারি মারা গেছে, আর কালাপাহাড় মারা গেছে কয়েক বছর আগে। বলা বাহুল্য যে এই কুমিরটি নাম কালাপাহাড় রাখা হয়েছিল সেই বীর বাঙালির মহিমাকে স্মরণ করেই।
.
ধরে নেয়া হয় ১৫৩০ সালের কাছাকাছি কোন এক সময়ে রাজশাহীর এক সম্পন্ন ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম হয়। তখন তার নাম ছিল রাজীব লোচন রায় ওরফে রাজু ওরফে কালাচাঁদ। দিল্লীর মসনদে তখন মুঘল সম্রাট নাসির উদ্দীন মুহাম্মদ হুমায়ূন আর বাংলায় চলছে হুসেন শাহী বংশের স্বাধীন সুলতানি আমল।
.
১৫৪০ সালে মুঘল সম্রাট হুমায়ূন পরাজিত হয়ে দিল্লীর সিংহাসন হারান আফগান শাসক শের শাহ এর কাছে। তার আগেই কয়েকবারের প্রচেষ্টায় বাংলা ও বিহার জয় করে নিয়েছিলেন শের শাহ, যা কিছুদিন আগেই মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল। পরে ১৫৫৬ সালে পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর মুঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করলেও বাংলা থেকে যায় আফগানদের হাতেই।

খান জাহান আলীর (র.) দীঘির কুমির বংশ পরম্পরায় যার নাম ছিল কালাপহাড়

খান জাহান আলীর (র.) দীঘির কুমির বংশ পরম্পরায় যার নাম ছিল কালাপহাড়

.
যা হোক, দক্ষিণ বিহারের জায়গির লাভ করেছিলেন শের শাহের দুই সেনাপতি তাজ খান পন্নী ও তার ভাই সুলায়মান খান পন্নী। ক্রমে তারা পুরো বিহার ও বাংলা তাদের শাসনাধীন করেন (১৫৬৪ সাল) এবং বাংলা-বিহারের স্বাধীন সুলতান হিসাবে অধিষ্ঠিত হন। তাদের শাসন আমলকে ইতিহাসে কররানি আমল বলা হয়ে থাকে যদিও তাদের বংশধারা পন্নী নামেও সমধিক খ্যাত। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সুলতান সোলায়মান খান পন্নীরই ১৩ তম উত্তরপুরুষ।
.

পন্নী সুলতানদের শাসনাধীন এলাকা

পন্নী সুলতানদের শাসনাধীন এলাকা

রাজীব লোচন রায় ওরফে কালাচাঁদের শৈশব কৈশোর নিয়ে তেমন কিছু জানা যায় না। এটুকু জানা যায় তিনি কোনোভাবে সুলায়মান খান পন্নীর সেনাদলে যুক্ত হয়েছিলেন। সাধারণ সৈনিক থেকে ধাপে ধাপে উন্নতি করা বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান সমরবিদ রাজীব লোচন রায়ের উপর সুনজর পড়ে বাংলার সুলতান সুলায়মান খান পন্নীর। রাজীব লোচন রায় শাহজাদীর প্রেমে পড়লে সুলতানের প্রস্তাবে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং শাহজাদীকে বিবাহ করেন। তার নতুন নাম হয় মোহাম্মদ ফরম আলী।
.
সুলতান তাকে সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজীব রায়কে হিন্দু সমাজ একঘরে করে ফেলে। তার কাছে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করতে অস্বীকৃতি জানায় এমনকি তার সন্তানের পানের জন্য দুধ বিক্রয় পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। ক্ষোভে, দুঃখে বা অনুশোচনায় তিনি পুনরায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে চান। কিন্তু তৎকালীন কট্টর বাঙ্গালি হিন্দু সমাজ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে তিনি উড়িষ্যার পুরীতে অবস্থিত জগন্নাথের মন্দিরে যান শুদ্ধ হতে। কিন্তু এখানেও তাকে হতাশ হতে হয়। যবন (মুসলমান) হওয়ায় তাকে মন্দিরে ঢুকতে দেয়া হয় নি। জেদী কালাচাঁদ অনশন করে পড়ে রইল মন্দিরের দ্বারে সাত সাতটা দিন, অনশনক্লিষ্ট সেই দুর্বল দেহটাকে টেনে হিঁচড়ে মন্দিরের চৌহদ্দি থেকে বের করে দিল পুরুত-পান্ডার দল। একরকম অপমানিত হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসেন রাজধানীতে, যা গৌড় থেকে তান্ডায় স্থানান্তর করা হয়।
.
কথা রেখেছিলেন সুলায়মান খান পন্নী, তিনি নব্য মুসলিম রাজুকে সেনাপতি করেছিলেন যার ফলে রাজুর হাতে আসে প্রচুর ক্ষমতা। পন্নী শাসকদের মধ্যে খুব বিচক্ষণ আর দূরদর্শী ছিলেন সুলায়মান খান পন্নী। তিনি তার রাজত্ব বিস্তৃত করেন আসাম থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত এবং এই অভিযানগুলোতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন রাজু যিনি ততদিনে “কালাপাহাড়” নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিকৃত হিন্দু ধর্মের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তিনি খুবই কঠোরতা প্রদর্শন করেছিলেন যার নেপথ্যে কাজ করেছিল তার নিজের হিন্দুসমাজ এবং মন্দির থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার অপমান। এই সব অভিযানে যত মন্দির তার সামনে পড়েছে তার খুব কমই রেহাই পেয়েছে তার ধ্বংসের হাত থেকে। স্মরণযোগ্য যে কবি নজরুল মানুষ কবিতায় লিখেছিলেন,
.
কোথা চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?

ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার!
.
রবীন্দ্রনাথও তার দুই বোন উপন্যাসের এক জায়গায় লিখেছেন, “আমার যখন সময় আসবে তখন এই সামাজিক পৌত্তলিকতা ভাঙবার জন্য কালাপাহাড়ি করতে বেরোব।”
.
এই মন্দির ধ্বংসের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি আজ ইতিহাস বিকৃতির গহ্বরে হারিয়ে গেছে। সেই কারণটি ছিল রাজনীতিক কারণ। এ বিষয়ে একটু না বললেই নয়।.
.
মন্দির ভাঙ্গা ও লুণ্ঠনের অভিযোগ গজনির সুলতান মাহমুদ সম্পর্কেও করা হয়ে থাকেন। আমি এ কথা বলছি না যে, সুলতান মাহমুদ বা কালাপাহাড়ের কোনো ভুল-ত্র“টি ছিল না বা তাদের দ্বারা কেউ কোনোদিন কোনোভাবে কষ্ট পায় নি। তারা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী ছিলেন না, ইসলাম বিকৃত হয়ে গেছে আল্লাহর রসুলের ৬০/৭০ বছর পরেই। এর পরে ইসলামের নামে রাজতন্ত্রই চলেছে। তবে জীবনব্যবস্থায়, শাসনে ও সমাজে ধর্মের প্রভাব বেশ প্রবল থাকায় মানবজীবনে শান্তি, নিরাপত্তা, প্রাচুর্য ছিল অতুলনীয়। তথাপিও সুলতান মাহমুদ বা কালাপাহাড়ের প্রতিটি কাজকে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা বলে ধরে নিয়ে সেগুলো দায় ইসলামের উপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিহীন ঠিক যেভাবে খ্রিষ্টানদের দ্বারা কৃত দুটি বিশ্বযুদ্ধের দায় শান্তির যুবরাজ যিশুর (আ.) উপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।.

.
মন্দির ভাঙ্গা সম্পর্কে আমাদের অভিমত শুধু এটুকুই যে, ঐ যুগে মন্দিরগুলো ভরা মৌচাকের মতো ধনভাণ্ডার হয়ে থাকতো এবং সেজন্যই সেগুলো বার বার আক্রমণের শিকার হয়েছে। বর্তমান যুগের মন্দিরগুলোর মতো সেগুলো শুধু দেবতাকেন্দ্রিক হলে আক্রমণের ব্যাপার থাকতো না। বিভিন্ন এলাকায় যে আক্রমণগুলো রাজা বা সুলতানগণ পরিচালনা করতেন তা প্রধানত রাজনীতিক কারণেই করতেন।
.
তদানিন্তন সময়ে ভারতের ধনসম্পদ, এমনকি অনেকের মতে জলদস্যুরাও তাদের লুণ্ঠিত সম্পদ বিভিন্ন মন্দিরে গচ্ছিত রাখতেন। এসব নানা কারণে মন্দিরগুলো রাজনীতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল তাই মন্দির আক্রমণে সুলতান মাহমুদ বা কালাপাহাড় ধর্মীয় নীতি দ্বারা বাধাগ্রস্ত হন নি। .
.
সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির ধ্বংস সম্পর্কে এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় ড. ঈশ্বরী প্রসাদের লেখায়,“The temples of India which Mahmud raided were store-houses of enormous and untold wealth and also some of these were political centers”. (History of Medieval India)”
.
মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের জন্য যে সমস্ত অভিযোগকারীরা সুলতান মাহমুদকে (এবং কালাপাহাড়কেও) লুণ্ঠনপ্রিয় ও হিন্দু বিদ্বেষী বলে প্রচার করতেন বা আজও করেন তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, এ সমস্তই যুদ্ধের ন্যায় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হয়েছিল এবং তার পূর্ববর্তী ও তদানীন্তন যুগে আদৌ অসঙ্গত ছিল না। তদানীন্তন প্রচলিত যুদ্ধনীতি অনুসারে বিজিত জাতির লুণ্ঠিত ধন-সম্পত্তিতে বিজয়ী সৈন্যদের ন্যায্য অধিকার স্বীকার করা হতো।.
.

বৃত্তাঙ্কিত স্থলভাগে বিচরণ ছিল কালাপাহাড়ের

বৃত্তাঙ্কিত স্থলভাগে বিচরণ ছিল কালাপাহাড়ের

যাই হোক, প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সুলায়মান খান পন্নী উড়িষ্যা জয়ের সংকল্পে তার পুত্র বায়াজীদ খান পন্নী ও দুর্ধর্ষ সেনাপতি কালাপাহাড়ের অধীনে অভিযান প্রেরণ করেন। কূটসামার নিকট যুদ্ধে উড়িষ্যার রাজা হরিচন্দন মুকুন্দরাম ও তার সৈন্যাধক্ষ রামচন্দ্র ভানজা (ধৃত ও নিহত) পরাজিত ও নিহত হন (১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দ)।.
.
একই সময় কুচবিহারের রাজা বিশ্ব সিংহ তার পুত্র ও খ্যাতনামা সেনাপতি শুক্লধ্বজের অধীনে একদল সৈন্য পন্নী রাজ্য আক্রমণ করতে পাঠান। সুলায়মান খান পন্নী শুক্লধ্বজকে পরাজিত ও বন্দী করে কালাপাহাড়কে কুচবিহার জয়ের জন্য প্রেরণ করেন। কালাপাহাড় কুচবিহারের কামাখ্যা ও হাজু পর্যন্ত অধিকার করেন। এই সময় উড়িষ্যায় এক বিদ্রোহ দেখা দিলে সুলায়মান খান পন্নী কালাপাহাড়কে ডেকে পাঠান এবং দখল করা জায়গাগুলো ফিরিয়ে দিয়ে ও শুক্লধ্বজকে মুক্তি দিয়ে বিশ্ব সিংহের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
.
একদিকে রাজ্য বিস্তার করলেও কূটনৈতিক দূরদৃষ্টি স¤পন্ন সুলায়মান খান পন্নী মুঘল সম্রাট আকবরের আনুগত্য মেনে নিয়ে তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলছিলেন উত্তর প্রদেশের মুঘল শাসক মুনিম খাঁর মাধ্যমে। কিন্তু ১৫৭২ সালে সুলায়মান খান পন্নীর মৃত্যু হলে হুমকির মুখে পড়ে বাংলায় কররানি তথা পন্নী বংশের শাসন।
.
সুলায়মান খান পন্নীর পুত্র দাউদ খান পন্নী বাংলার সিংহাসনে বসেই নিজেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ঘোষণা দেন। ফলশ্রুতিতে মুঘল সম্রাট আকবরের নির্দেশে মুনিম খান আক্রমণ করেন দাউদ খানকে এবং তার রাজধানী তান্ডা দখল করে নেন, দাউদ খান উড়িষ্যায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। এদিকে তান্ডায় প্লেগের সংক্রমন হলে মুনিম খান এবং তার প্রচুর সৈন্য মারা যায়, এই সুযোগে দাউদ খান আবার তান্ডা পুনরুদ্ধার করেন।
.
বাংলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়োজিত পন্নী শাসকদের সেনানায়কদেরকে ইতিহাসে বারো ভুইয়াঁ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এদেরই একজন ঈশা খাঁ পুর্ব বাংলা থেকে মুঘল সৈন্যদের তাড়িয়ে দেন। সকল যুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে দাউদ খানের পাশে ছিলেন কালাপাহাড়।.
.
মুনিম খাঁর মৃত্যু সংবাদ দিল্লীতে পৌঁছালে অভিযানের দায়িত্ব নিয়ে খান জাহান হুসেন কুলি খান এবং তার সহকারী হিসেবে আসেন নবরত্নের অন্যতম রাজা টোডরমল। উভয় পক্ষের মাঝে চূড়ান্ত যুদ্ধ হয় রাজমহলে। ১২ জুলাই ১৫৭৬, রাজমহলের যুদ্ধের শুরুতে কালাপাহাড়ের তীব্র আক্রমণে মুঘল সৈন্যরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। বিহারের শাসনকর্তা মুজাফফর খান তুরবাতি এই যুদ্ধে মুঘলদের সহযোগিতা করেন। প্রচণ্ড এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত হন এবং পরে তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। কথিত আছে যে, এই একই যুদ্ধে মুঘল কামানের গোলার আঘাতে কালাপাহাড় নিহত হন কালীগঙ্গা নদীর তীরে।
.

ব্রাহ্মণ বংশোদ্ভূত এই বাংলাভাষী মুসলিম বীর ছিলেন মাননীয় এমামুযযামানের পূর্বপুরুষ সুলতানদের সেনাধিপতি। ইতিহাসের এই বিস্মৃত অধ্যায়টি আমরা পাঠকবৃন্দকে মনে করিয়ে দিতে চাই এ জন্য যে, গাছের পরিচয় যেমন ফলের মধ্যে নিহিত থাকে, তেমনি পরিবারের ঐতিহ্য সংস্কার ব্যক্তির মহিমাকে তুলে ধরে। এমামুযযামানের পূর্বপুরুষ দাউদ খান পন্নী ও তাঁর সেনাপতি কালাপাহাড় বাংলার স্বাধীনতার জন্য মহা পরাক্রমশালী দিল্লেশ্বর বাদশাহ আকবরের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলার মাটিতে প্রাণ বিসর্জন করে গেছেন। তাদের মত প্রাণোৎসর্গকারী বীরদের সেই বীরত্বের ইতিহাস আমরা ভুলে গেছি বলেই বিশ্বসভায় আমরা আত্মমর্যাদাহীন জাতি বলে, তৃতীয়বিশ্বের অনাহারী ভিখারি জাতি বলে পশ্চিমা লুণ্ঠনকারীদের করুণার পাত্র হয়ে জীবন নির্বাহ করছি। আমাদের এই লেখায় যদি কেউ কোনো ঐতিহাসিক অসঙ্গতি দেখতে পান অবশ্যই জানাবেন কেননা ইতিহাস নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বহু ভিন্ন মত থাকে।
.
পরিশেষে কবি নজরুলের যৌবনের গান থেকে একটি লাইন উল্লেখ করছি:
“তারুণ্য দেখিয়াছি আরবের বেদুইনদের মাঝে, তারুণ্য দেখিয়াছি মহাসমরে সৈনিকের মুখে, কালাপাহাড়ের অসিতে, কামাল-করিম-মুসোলিনি-সানইয়াৎ-লেনিনের শক্তিতে।