দীনের খেদমতে নিঃস্বার্থভাবে নিয়োজিত আছে হেযবুত তওহীদ

নিজাম উদ্দিন:
হেযবুত তওহীদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির নিজাম উদ্দিন গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীনের খেদমতে নিঃস্বার্থভাবে নিয়োজিত আছে হেযবুত তওহীদ।’ তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বছর ঘুরে আসা ঈদুল আজহার এই সময়ে যখন মক্কায় হাজী সাহেবরা হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন, ক্বাবা তাওয়াফ করেন, কোরবানি দেন ও আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন, তখন আমরা যারা দূরে রয়েছি, আমরাও অপেক্ষা করি হাজীদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন ও পশু কোরবানির জন্য। রবিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উৎযাপিত হয়েছে। যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা কোরবানি দিয়েছেন এবং কোরবানির গোশত গরীব, অসহায় মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম নিয়ে বলেন, ‘হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মানবতার কল্যাণে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করে চলেছে। হেযবুত তওহীদের কোনো রাজনৈতিক অভিপ্রায় নেই, অর্থনৈতিক স্বার্থ নেই। আপনারা জানেন- আল্লাহর রসুলের আনীত ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা যদি প্রচার করা হয়, তাহলে সবাই সমানভাবে সেটাকে গ্রহণ করবে না। যারা সত্যকে চায় না, যারা সমাজের কল্যাণ চায় না, যারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, সাম্প্রদায়িক হানাহানি, মারামারি ইত্যাদি জারি রাখতে চায়, তারা ইসলামের আদর্শকে ভালোভাবে নিবে না। এই মহলটি হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার হেন অপচেষ্টা নেই যা করে না। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা দীন প্রতিষ্ঠা হোক তা চায় না, তারা নানা ধরনের বানোয়াট, আজগুবি ও মিথ্যা তথ্য হেযবুত তওহীদের নামে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যে সমস্ত কথা হেযবুত তওহীদ কোনোদিন বলেনি, হেযবুত তওহীদের আকিদা যেটা নয়, সেটা হেযবুত তওহীদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও এই গোষ্ঠীর দ্বারা আমাদের নির্দোষ, আইন মান্যকারী কর্মীরা বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। অনেকে আহত হন, এমনকি অনেকের বাড়িঘর পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু অন্যায়ের মোকাবেলায় হেযবুত তওহীদ কখনোই অন্যায়ের পথ বেছে নেয়নি। সর্বদা ন্যায়ের পথ ও সত্যের পথ অনুসরণ করেছে।’

নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই ঈদের সময় যখন সারা দেশের মানুষ আনন্দ উদযাপন করছেন, আমাদের কর্মীরাও ঈদ উদযাপন করছেন, তবে ভিন্নভাবে। আমাদের কর্মীরা কোর’আন হাদিসের শিক্ষা সংবলিত পত্রিকা নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন এবং ইসলামের এই খেদমতের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এই আনন্দঘন সময়ও আমরা দেখতে পেলাম নোয়াখালীর মাইজদীতে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। গতকাল সোমবার সকাল ১১ টায় মাইজদীর স্থানীয় হাসপাতাল রোডের মধুপুর জামিয়াতুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া মাদরাসার সামনে পত্রিকা বিক্রির সময় হেযবুত তওহীদের নির্দোষ সদস্যদের উপর হামলা চালায় ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। হামলায় হেযবুত তওহীদের সদস্যরা কাঁধে, মাথায় ও গলায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ ঘটনায় দু’জন পুরুষ ও আটজন নারী আহত হন এবং একজন নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা ইতোমধ্যেই সদর থানা মাইজদীতে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলাকারীরা শেষ পর্যন্ত পালিয়েছে।’

তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘আল্লাহ আমাদেরকে বিবেক দিয়েছেন, জ্ঞান দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন, আমরা অন্যের অপপ্রচারে বা মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজেরা যাচাই করি আসল সত্য। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়ির সামনে মসজিদ রয়েছে। এখানে প্রতি সপ্তাহে জুমার সালাতে হাজারও মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ কমপ্লেক্স। এখানে কোর’আনের আলোচনা, হাদিসের আলোচনা হচ্ছে, খুতবা হচ্ছে, নামাজ হচ্ছে। কাজেই আপনারা আসুন নিজেরাই দেখুন আমরা কী বলি, কী করি।’

তিনি অপপ্রচারকারীদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচুর অপপ্রচার চালানো হয়েছে। যা আমরা বলি না, সেগুলো আমাদের নামে প্রচার করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমাদের দেশের জনগণের উদ্দেশে বলবো, শত সহস্র বছর থেকে আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। তারা ইসলামকে ভালোবাসে, আল্লাহ রসুলকে ভালোবাসে। তারা চায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামকে ব্যবহার করে মানুষের ঈমানকে হাইজ্যাক করে নিয়ে যায় জাতিবিনাশী কাজে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নইলে আমাদের দুনিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আখেরাতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি সবার দোয়া কামনা করে বলেন, ‘এই ঈদুল আজহায় আমি দেশবাসীর সুস্থতা কামনা করি, কল্যাণ কামনা করি। সকল নিপীড়িত, দুর্দশাগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মুক্তি হোক। আল্লাহর দেওয়া ইসলামের আলোয় সমাজ আলোকিত হোক, আল্লাহর দেওয়া ইসলাম মানবজীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক এই দোয়া করি। আপনারাও আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যারা নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছি মানবতার কল্যাণে, দেশের কল্যাণে, দীনের খেদমতে, আমরা যেন আমাদের লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারি। কোনো ধরনের অন্যায় আমাদের দ্বারা সংঘটিত না হয়। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি যেন বৈশ্বিক সঙ্কটে জর্জরিত না হয়, সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিণত না হয়। নোয়াখালীর বিভাগীয় আমির হিসেবে আমি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, ‘ঈদ মোবারক।’

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Email
Facebook
Twitter
Skype
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ