তওহীদ কীভাবে মানবজাতির ঐক্যসূত্র

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
ধর্মের অপব্যবহার প্রতিরোধে এখন আমাদের কী করণীয়? আগেই বলেছি, মুসলিম নামক জাতিটি শত সহ¯্র ভাগে বিভক্ত হলেও জান্নাতে যাওয়ার পথ কিন্তু অতগুলো নয়। জান্নাতে যাওয়ার পথ কিন্তু একটাই। আপনারা জানেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন পবিত্র কোর’আনে বলেছেন, ‘আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের কেউ মো’মেন আর কেউ কাফের।” (সুরা তাগাবুন ২)। সুতরাং আল্লাহর ভাষায় মানুষের মধ্যে দল দু’টি, রাস্তাও দু’টি। আমরা প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সুরা ফাতেহা পাঠ করি, সেখানে আছে, ‘ইহদিনাস্ সিরাত্বাল মুস্তাক্বীম’, ‘সহজ-সরল পথ’। এটি হচ্ছে একটি পথ। আরেকটি পথ হচ্ছে ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বোয়াল্লিন’। দোয়াল্লিন মানে ভুল পথ, ইবলিসের পথ। হুকুমও দুইটা – আল্লাহর হুকুম, ইবলিসের হুকুম। মানুষের পরিণতি দুইটা- জান্নাত জাহান্নাম, সত্য-মিথ্যা, ডান-বাম, বৈধ-অবৈধ, ন্যায়-অন্যায়। আমি বনি আদম ঠিক মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আছি- আমাকে নফসের স্বাধীনতা, রুহের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমি ডান দিকে যাব, নাকি বাম দিকে যাব, আল্লাহর হুকুমকে ধারণ করব, নাকি ইবলিসের হুকুমকে ধারণ করব এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমাকে দেওয়া হয়েছে। এবং এ সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে দু’টা জিনিস। এই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে দু’টো জিনিস।
এক) আপনি পৃথিবীতে সুখ-শান্তিতে বসবাস করবেন, অন্যায় অবিচারের মধ্যে থাকবেন।
দুই) পরকালে আপনি জান্নাত যাবেন, নাকি জাহান্নাম যাবেন।
এই সিদ্ধান্তটি যেন মানবজাতি সঠিকভাবে নিতে পারে, এজন্য আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন নবী রসুলদের মাধ্যমে সঠিক পথনির্দেশও জানিয়ে দিয়েছেন। বাবা আদম যখন দুনিয়াতে আসলেন তখন তিনি শঙ্কিত হলেন, ভীত-সন্ত্রস্ত হলেন। ইবলিস যখন প্ররোচনা দিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে আল্লাহর হুকুম অমান্য করালো, আল্লাহ যখন বললেন, তোমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাও। তখন তাঁরা ভীত-শঙ্কিত হলেন। তখন আদম (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, “আল্লাহ আমি তো গুনাহ করে ফেলেছি, আমি জুলুম করে ফেলেছি নফসের উপরে, আমাকে ক্ষমা করুন। না হলে তো আমি ধ্বংস হয়ে যাব।” তখন আল্লাহ বললেন, “আদম তুমি চিন্তা করো না, ভয় করো না। আমার পক্ষ থেকে আমি হেদায়াহ্ পাঠাব, সঠিক পথ, Right Direction পাঠাব। যারা এই পথের উপর থাকবে, তাঁদের কোনো ভয় নেই। তারা চিন্তিত হবে না।”
এই যে আল্লাহর দেয়া পথ, সঠিক পথ, সেই পথের কি নাম? ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, এইটুকু কলেমা, তওহীদ। এর সঙ্গে সমসাময়িক নবীর নামটি যুক্ত হয়েছে। যেমন বাবা আদমের নাম সংযুক্ত হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ – আদম সফিউল্লাহ”। এই তওহীদের অর্থ হচ্ছে “আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই”। এই কলেমার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সঙ্গে এই অঙ্গীকারে আবদ্ধ হই যে, আমরা আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানবো না। আর কার হুকুম আছে পৃথিবীতে? ইবলিসের হুকুম, শয়তানের হুকুম। মানবজাতি যদি সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা সেরাতুল মুস্তাক্বীমে উঠবে, তবে মানবজাতি বাঁচবে। এই একটা সমাধান আছে, আর কোনো সমাধান নাই।
আপনারা পরিচয় দিতে পারেন আপনারা হিন্দু। আপনারা ঈশ্বরকে, ভগবানকে পাওয়ার জন্য গীতা পাঠ করছেন, মৃত মূর্তির সামনে প্রণতি করছেন, আন্তরিকতার কোন অভাব নাই। আপনারা পরিচয় দিতে পারেন আপনারা খ্রিষ্টান, রবিবারে প্রার্থনায় যাচ্ছেন, যিশুর মূর্তির সামনে উপাসনা করছেন, বাইবেল পাঠ করছেন- অসুবিধা নেই। আপনারা ইহুদী, আপনারা তওরাত পাঠ করছেন, মুসাকে (আ.) আপনারা শ্রদ্ধা করছেন, শনিবারে স্যাবাথ ডে-তে উপস্থিত হচ্ছেন, আল্লাহকে, এলিকে পাওয়ার জন্য। আমরা যারা মুসলিম দাবি করি, আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি, কোর’আন মুখস্থ করি। রসুলকে আল্লাহর প্রেরীত নবী বলে বিশ্বাস করি। আমরা মসজিদে যাই, আমরা জান্নাতে যাওয়ার আশা করি। আর বৌদ্ধদের মধ্যে বহু ভাগ হয়ে গেছে, অনেকে এখন আল্লাহও বিশ্বাস করে না। তারা বুদ্ধের মূর্তির সামনে বসে আরাধনা করছেন, মন্ত্রপাঠ করছেন।
যাই হোক, আমি পুরো মানবজাতিকে বলছি, “হে মানবজাতি, আমি এক গোনাহগার সাধারণ মানুষ, আমার বাংলার মাটিতে, এই পবিত্র মাটির মুখে দাঁড়িয়ে আমি বলছি, তোমরা যারা মানবজাতিকে বিনাশ করে দেয়ার জন্য সমগ্র আয়োজন সম্পন্ন করেছ, তোমরা বাইবেল পাঠ করছ, ত্রিপিটক পাঠ করছ, জেন্দাবেস্তা পাঠ করছ, কোর’আন মুখস্থ করছ আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান, এলি, গডকে পাওয়ার জন্য জান্নাতে, হ্যাভেনে যাওয়ার জন্য। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমাদের সকলের ধর্মপরিচয় মিথ্যা! মিথ্যা! মিথ্যা! এই ঘোষণা আজকে জেনে রাখ, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দাঁড়িয়ে আমি আজ এই ঘোষণা দিচ্ছি, তোমাদের সকলের ধর্ম পরিচয় মিথ্যা। কারণ কি? এত বড় কথা! সমস্ত ধর্মগুরুরা একত্রিত হয়েছেন আমাকে হত্যা করার জন্য। কিন্তু লাভ হবে না। এই জমিন আল্লাহর, হুকুম চলবে আল্লাহর। তোমরা আল্লাহর দাসত্ব বাদ দিয়ে দাজ্জালের হুকুম মেনে নিয়েছ সবাই মিলে। এ জন্যে আজ দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা, বাতাস দূষিত হয়ে গিয়েছে, মাটি দূষিত হয়ে গিয়েছে, বায়ু দূষিত, পানি দূষিত হয়ে গিয়েছে, প্রতিটা মানুষের আত্মা আজকে দূষিত হয়ে গিয়েছে। মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, মাটিকে পবিত্র করার জন্য, সমাজকে সুখময় করার জন্য, মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমরা এসেছি। আমাদের আর কোন স্বার্থ নাই, আমাদের আর কোন অভিসন্ধি নাই, আমাদের আর কোন ইচ্ছা নাই, এটা আমার পরিষ্কার কথা। এখন মানবজাতির একটাই কর্তব্য, মানবজাতি আবার সেই তওহীদ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এই কথার উপরে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
[১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ সোমবার ঢাকার উত্তর বাড্ডায় অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের খ-াংশ। সম্পাদনায় মো. রিয়াদুল হাসান। বক্তব্যের পরবর্তী অংশ দেখুন আগামীকাল।]

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ