Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/htmain/public_html/wp-content/plugins/elementor-pro/modules/dynamic-tags/tags/post-featured-image.php on line 36

Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/htmain/public_html/wp-content/plugins/elementor-pro/modules/dynamic-tags/tags/post-featured-image.php on line 36

Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/htmain/public_html/wp-content/plugins/elementor-pro/modules/dynamic-tags/tags/post-featured-image.php on line 36

Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/htmain/public_html/wp-content/plugins/elementor-pro/modules/dynamic-tags/tags/post-featured-image.php on line 36

জাতিকে ধ্বংস হতে দিবেন না -মহানগর নাট্যমঞ্চে হেযবুত তওহীদের এমাম


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/htmain/public_html/wp-content/plugins/elementor-pro/modules/dynamic-tags/tags/post-featured-image.php on line 36


‘লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এই জাতিকে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয়া হয়নি। স্বার্থান্বেষী রাজনীতিকদের রাজনীতির নামে হানাহানি, ধর্মের নামে ধর্মব্যবসায়ীদের স্বার্থোদ্ধার, অপরাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদী-সা¤্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি নানাবিধ কারণে দেশে প্রায়ই অস্থিরতা হানাহানি সৃষ্টি হয়। এদিকে বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একদিকে সা¤্রাজ্যবাদী অস্ত্রব্যবসায়ী রাষ্ট্রগুলোর অসম প্রতিযোগিতা অন্যদিকে নানা ইস্যু সৃষ্টি করে মুসলিম দেশগুলোতে যুদ্ধ উন্মাদনা লাগিয়ে একে একে ভূ-খ-গুলো ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এদেশের বেশিরভাগ মানুষই মুসলমান, এদেশের মানুষের ঈমানকে অতীতে বিভিন্ন সময়ে হাইজ্যাক করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক সঙ্কট, জাতীয় সঙ্কট ইত্যাদি থেকে রক্ষার জন্য জাতির মধ্যে ঐক্য জরুরি। অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির মধ্যে ঐক্য বিনষ্ট করার যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকলের প্রতি আমার আহ্বান- তুচ্ছ বিষয়ে বিভেদ করে, হানাহানি মারামারি করে জাতিটাকে ধ্বংস হতে দিবেন না। একটি জাতি ধ্বংস করা সহজ, কিন্তু গড়া অনেক কঠিন।’ গতকাল রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এ আহ্বান জানান।
হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ধর্মের অপ-ব্যবহার, নারী প্রগতির অন্তরায়’। গতকাল আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল গত ৬ নভেম্বর ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্সে হেযবুত তওহীদ কর্তৃক আয়োজিত নারী সম্মেলনেরই বর্ধিত সভা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে অবস্থান করছি যে সময়টাতে পুরো মানবজাতি এক ভয়ানক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবথেকে বড় সঙ্কট হচ্ছে দাজ্জাল তথা বস্তুবাদী ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতা। পৃথিবীর প্রতি ইঞ্চি ভূ-খ- আজ দাজ্জালের করায়ত্ব, সমস্ত মাটি-পানি-বাতাস আজ দাজ্জালের কু-প্রভাবে কলুষিত। গত শতাব্দীতে দাজ্জাল পৃথিবীতে দুই-দুইটি বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়েছে, ১৪ লক্ষ আদম সন্তান ওইসব যুদ্ধে নিহত হয়েছে, আহত-বিকলাঙ্গ হয়েছে এ সংখ্যারও অনেক বেশি মানুষ। হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, মানবজাতির ইতিহাসের সবথেকে ভয়াবহ সঙ্কট এই দাজ্জালকে হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী চিহ্নিত করেছেন। তাই সকলের প্রতি আহ্বান, দাজ্জালকে চিনুন, দাজ্জালকে প্রতিহত করুন, দাজ্জালের চাকচিক্যময় প্রতারণার ফাঁদে পা দেবেন না।

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আজ বিশ্বব্যাপী চলছে ‘মাইট ইজ রাইট’ এর শাসন। বিশ্বনেতাগণ প্রতিনিয়ত তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছেন। একে অন্যের সাথে হুমকির ভাষায় কথা বলছেন। সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের উপর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে। শতভাগে বিভক্ত মুসলিম জাতিরাষ্ট্রগুলোতে তাদের রণক্ষেত্র স্থাপন করে রেখেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি জমজমাট হচ্ছে তাদের অস্ত্রব্যবসা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা আজ দাজ্জালেরই অনুসরণ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যেদিন থেকে স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব বাদ দিয়ে দাজ্জালীয় বস্তুবাদী সভ্যতার সার্বভৌমত্ব মেনে নিল, সেদিন থেকেই তার সকল সমস্যার সূত্রপাত হলো। এরপরে মানুষ নানা রকম তন্ত্র-মন্ত্র, বাদ-ইজম ইত্যাদি আদর্শকে নিজেদের জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে নিল, কিন্তু তার কাক্সিক্ষত শান্তি এলো না। এই তন্ত্র-মন্ত্র, বাদ-ইজম সমাজের অর্থনৈতিক অবিচার বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষ আজ আত্মিকভাবে দেউলিয়া, পারিবারিকভাবে সীমাহীন অশান্তির শিকার। অন্যদিকে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনার্থে যে ধর্মের আগমন ঘটেছে, যে ধর্মের বাণী মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথ দেখানোর কথা- সেই ধর্মকে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী নিজেদের কুক্ষিগত করেছে। তারা নিজেদের মনগড়া ফতোয়া দেন, কখনওবা মানুষের ঈমানী চেতনাকে ব্যবহার করে সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধান, কখনও ব্যবহার করে থাকেন রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে। কিন্তু স্রষ্টা তার রুহ মানুষের মাঝে ফুঁকে দিয়েছেন। কাজেই মানুষকে ¯্রষ্টার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। সে কখনওই শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, মানবজাতি আজ দিশেহারা। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচারে, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনায়, শাসিতের উপর শাসকের অত্যাচারে, সরলের উপর ধূর্তের অন্যায় আধিপত্যে পৃথিবী আজ যেন বাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মানুষের সামনে এখন কোনো আদর্শ নেই, মানুষ বুঝতে পারছে না কোন পথে তাদের মুক্তি। এমন একটি সময়ে মানব জাতির মুক্তির বারতা নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। মানুষের দ্বারে দ্বারে সর্বোতভাবে হেযবুত তওহীদ এই কথা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, বর্তমান বস্তুবাদী সভ্যতার পরিবর্তন করে একটা মানবিক ও ভারসাম্যযুক্ত সভাতাকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে এ অবস্থার উত্তরণ আশা করা বৃথা।
তিনি আরও বলেন, আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সমাজে নারীরা তাদের সমস্তরকম অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রসুলাল্লাহ এসে সেই নারীদেরকে তাদের প্রাপ্য মর্যাদায় আসীন করলেন। ফলে নারীরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজের সকল অঙ্গনে তাদের ভূমিকা রাখা শুরু করলেন। অথচ আজ এক শ্রেণির ধর্ম অপব্যবহারকারী তাদের মনগড়া ফতোয়ার বেড়াজালে নারীদেরকে গৃহবন্দি করে রাখতে উঠে-পড়ে লেগেছে। তাই নারীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা এই ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে আবারও নিজেদের মেধা-যোগ্যতাকে কাজে লাগান। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এই নারীরা যদি নিজেদেরকে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত করতে পারেন তাহলে জাতির উন্নতি-প্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অনলাইন টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেটিভি অনলাইন’র চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান, হেযবুত তওহীদের প্রধান উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন, শফিকুল আলম উখবাহ, এনামুল হক বাপ্পা, নিজাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, মো. সাইফুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১০টায় পবিত্র কোর’আন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম ও বরিশাল জেলা হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা। পরে একে একে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্য দান করেন। বক্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে দারুণভাবে প্রভাবিত হন সারা দেশ থেকে আগত আন্দোলনটির নেতা-কর্মী ও সদস্যগণ। তারা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে বক্তাদেরকে অভিনন্দন জানান ও তাদের ভালোলাগার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তারা বক্তাদের বক্তব্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়ে পুরো অনুষ্ঠাটিকে প্রাঞ্জল করে তোলেন। দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে বিভিন্ন সময় হেযবুত তওহীদের আদর্শ প্রচারে বই, পত্রিকা বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনেককেই পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিল তওহীদ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও মাটি মিউজিকের শিল্পীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানস্থলে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন প্রকাশনা, টি-শার্ট, ডায়েরি ইত্যাদির এক স্টল বসানো হয়।

অনুষ্ঠানের ভিডিও চিত্র

সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...