প্রশ্ন-উত্তর

একই কথা। আপনি বাংলায় বা ইংরেজিতে যা বলছেন সেটাই আরবি করলে দাঁড়াচ্ছে আমীর। এ পদবি যে কোনো সংগঠনেই থাকতে পারে। আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধবাদীদের দলের কথা বললেন। ’৭১ সনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি। তাদের সেনাবাহিনীর পদবিগুলো ছিল জেনারেল, মেজর, ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার ইত্যাদি, আমাদের সেনাবাহিনীর পদগুলোও কি তা-ই ছিল না? আজও আমাদের দেশের সেনাবাহিনী এ পদবিগুলোই ব্যবহার করছে। ওটা নিয়ে তো কথা উঠছে না। কেন উঠছে না? কারণ এগুলো পারিভাষিক শব্দ, যে কোনো দেশের সেনাবাহিনী এ পদবিগুলো ব্যবহার করতে পারে। পাকিস্তান আর্মি পদবিটি ব্যবহার করে বলে অন্য কোনো দেশের আর্মি সেটা ব্যবহার করতে পারবে না এটা ভাবা ঠিক নয়। আমীর শব্দটি ইসলামের পরিভাষা, শব্দটি কোর’আনে আছে, খলিফাদেরকেও আমীরুল মো’মেনীন বলা হতো। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক দেশ আছে আমিরাত, সেগুলোতে রাষ্ট্রনায়কের পদবি আমীর। মনে হয় সুচতুরভাবে ইসলামের যে কোনো কিছুর প্রতিই একটা অ্যালার্জি সৃষ্টি করা হয়েছে আমাদের সমাজে।

দেখুন আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রসুল, আমরা হেযবুত তওহীদ সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করি মাত্র। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য কর আর আনুগত্য করো তোমাদের আমীরের (নিসা-৫৯)।’’ আল্লাহর এই কথার প্রতিধ্বনি করে আমীর কেমন হলেও আনুগত্য করতে হবে সে সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেছেন, “আমীর কানকাটা নিগ্রো, ক্রীতদাস, ক্ষুদ্রমস্তিষ্ক হলেও তার আনুগত্য করবে।” কাজেই আনুগত্য হচ্ছে ঈমানী কর্তব্য।
আপনি যদি হেযবুত তওহীদের কর্মসূচি পড়েন তাহলে বুঝবেন এই কর্মসূচি আমাদের নিজেদের তৈরি করে নেওয়া নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া কর্মসূচি যেটা আল্লাহর রসুল তাঁর উম্মতের জন্য রেখে গিয়েছিলেন। তিনি জাতির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি সারাজীবন সেই পাঁচটি কাজ করেছি এবং তোমাদেরকেও সেই পাঁচটি কাজের দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি। সেগুলো হলো- ঐক্যবদ্ধ হবে, (নেতার আদেশ) শুনবে, পালন করবে (অর্থাৎ আনুগত্য করবে), হেজরত করবে এবং সংগ্রাম করবে। যে ব্যক্তি এই ঐক্যবদ্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও সরে যাবে তার গলদেশ থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে যাবে, যদি না সে তওবা করে ফিরে আসে। আর যদি কেউ (এর বাইরে) জাহেলিয়াতের কোনোকিছুর দিকে আহ্বান করে তাহলে সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথরে পরিণত হবে, যদিও সে নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে (আহমদ ইবনে মাজাহ, বাব উল ইমারত, মেশকাত)’। খেয়াল করুন কর্মসূচির তৃতীয় দফাটিই কিন্তু আনুগত্য। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, অন্যসমস্ত কিছু ঠিক থাকলেও একজন মানুষের জ্বাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবার জন্য আনুগত্য না করাটাই যথেষ্ট হতে পারে!
প্রশ্ন হচ্ছে, আনুগত্যের এত প্রয়োজনীয়তা কেন? এই কারণে যে, আনুগত্য ছাড়া কোনো শক্তিশালী জাতিসত্ত্বা গঠন সম্ভব নয়। জনসাধারণ অবাধ্য হলে, কথায় কথায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধাচারণ করলে তাদেরকে দিয়ে মহান কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না এবং জাতির সমস্ত উন্নতি, প্রগতি, গতিশীলতাই রুদ্ধ হয়ে পড়ে। এজন্য ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহর রসুল মূলত এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়েই এক অপ্রতিরোধ্য জাতি গঠন করেছিলেন তাঁর ইন্তেকালের পরে যে জাতির সামনে ঝড়ের মুখে তুলোর মত উড়ে গিয়েছিল তৎকালীন দুইটি সুপার পাওয়ার রোমান ও পারস্য সা¤্রাজ্য। আজও যদি আমরা তেমন একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে চাই তাহলে সেই জাতির সদস্যদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করার পরেই প্রয়োজন হবে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের।
ইবলিশকে যখন আল্লাহ হুকুম দিলেন আদম (আ.) কে সেজদা করার জন্য তখন ইবলিশ অহংকার করে সেজদা করল না অর্থাৎ আনুগত্য করল না। এর ফল কী হলো? তার বহু বছরের আমলসহ আল্লাহ তাকে রাজীম (বহিষ্কৃৃত) করে দিলেন। এই ঘটনা থেকেও আমরা আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর দেওয়া কর্মসূচি থেকে বহির্গত হয়ে আমরা মুসলমানরা আজ এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে আমাদের না আছে ঐক্য, না আছে শৃঙ্খলা, না আছে আনুগত্য। আল্লাহর রসুল এই জাতিকে যে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে গিয়েছিলেন সেই লক্ষ্য বহু শতাব্দী আগেই আমাদের সামনে থেকে হারিয়ে গেছে। লক্ষ্য হারিয়ে আমরা একেক ভাগ একেক দিকে যাত্রা করেছি। তৈরি হয়েছে নানাবিধ ফেরকা-মাজহাব, দল-উপদল। জাতি হয়ে গেছে বিশৃঙ্খল, লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যহীন। এখন এই জাতির নির্দিষ্ট কোনো নেতাই নেই, কে কার আনুগত্য করবে? সুতরাং আনুগত্যও নেই।
এই যে আমরা আনুগত্যের কথা বলছি, প্রথমত এই আনুগত্য কিন্তু ন্যায়-অন্যায় নির্বিশেষে নয়। ইমাম ও আমীর হুকুম করবেন আল্লাহ-রসুলের হুকুম মোতাবেক, সেই হুকুমের আনুগত্য জাতির জন্য বাধ্যতামূলক, কেননা কলেমার চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিম আল্লাহ-রসুলের হুকুম মানতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। দ্বিতীয়ত, আমীরের আদেশের পূর্বে পরামর্শ দেবার বেলায় সবাই কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীন, কাউকে ভয় না করে জাতির কল্যাণ অকল্যাণ চিন্তা করে উন্মুক্তভাবে পরামর্শ সবাই দিতে পারবেন। সেখানে দোষ-ত্রæটি, সমালোচনা সবই করা যাবে। কিন্তু একবার আমীরের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে তখন আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। তখনই শর্তহীন, দ্বিধাহীন আনুগত্য করার প্রশ্ন আসবে। আল্লাহ নিজেই মানুষ সৃষ্টির পূর্বে মালায়েকদের নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি সিদ্ধান্ত দিলেন সকল মালায়েককে যে, তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলিশ সেজদা করল না, অবাধ্য হলো, এর শাস্তি তাকে ভোগ করতে হলো। আল্লাহর অবাধ্যতা যেই করবে তাকেই প্রাকৃতিক নিয়মেই শাস্তি ভোগ করতে হয়। কারণ আল্লাহ তাঁর সমুদয় সৃষ্টিজগত পরিচালনা করছেন এক নিখুঁত শৃঙ্খলা দিয়ে, যেখানেই তাঁর আনুগত্য লঙ্ঘন হবে সেখানেই অশান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই আনুগত্যের জায়গটাতেই আজ এই জাতি ব্যর্থ।

১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ রাজধানীর উত্তরায় শুভ উদ্বোধন হলো তওহীদ ফুটবল ক্লাব আন্তঃশাখা ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০১৬-১৭। হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর সভাপতি আলী হোসেনের সভাপতিত্বে রাজধানীর উত্তরা ১৪ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠে গতকাল সকাল ৭টায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ নাগরিক। আর সুস্থ, সুঠাম, বলিষ্ঠ নাগরিক গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি এমন একটি মহতী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর কমিটির সংশ্লিষ্টদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা যা একজন মানুষকে একই সাথে গতিশীল, ক্ষিপ্র, সাহসী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলে, পাশাপাশি হৃদয়কেও প্রফুল্ল, উজ্জীবিত করে তোলে। জাতির অগ্রগতিতে অবদান রাখার গুণাবলি সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা দারুন ভূমিকা পালন করে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে তা যেন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত না হয়, সে ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন হেযবুত তওহীদের এমাম।
উদ্বোধনী দিনে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় উত্তরা শাখা ও মিরপুর শাখার মধ্যে। খেলার প্রথমার্ধে উত্তরা শাখা এক গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্থে সমতায় ফেরে মিরপুর শাখা। নির্ধারিত সময়শেষে ১-১ গোলের সমতায় খেলাটি শেষ হয়। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে অংশ নেয় মতিঝিল শাখা ও কেরানীগঞ্জ শাখা। খেলার প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে যায় মতিঝিল শাখা। দ্বিতীয়ার্থে কোনো পক্ষে আর গোল না হলে ২-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নেয় মতিঝিল শাখা।
অন্যদিকে ১-০ গোলে লালবাগ শাখাকে হারিয়ে দিনের তৃতীয় ম্যাচটি জিতে নেয় রামপুরা শাখা এবং ১-০ গোলে যাত্রাবাড়ি শাখাকে হারিয়ে চতুর্থ ম্যাচটি জিতে নেয় নারায়ণগঞ্জ শাখা। ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ শহীদুল ইসলাম।

এক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো, আমাদের নবীজী এসেছেন সমস্ত দুনিয়ার মানুষের জন্য। আল্লাহ বলছেন, “হে মুহাম্মদ (দ.)! ঘোষণা করে দাও, ওহে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি মহান আল্লাহর রসুল (সুরা আরাফ-১৫৮)”। কাজেই তিনি সমস্ত মানব জাতির জন্য রসুল, তিনি রহমাতাল্লিল আলামিন। সমস্ত মানুষকে সুখ-শান্তি দেওয়ার জন্য ওনার আবির্ভাব হয়েছে, আর সুখ-শান্তির প্রথম শর্ত হচ্ছে ঐক্য।
এখন সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা উম্মতে মোহাম্মাদির উপর রেখে যাওয়া আল্লাহর রসুলের দায়িত্ব। এখন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যারা তারা শত-সহস্র বছর থেকে তারা বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন কারণে সংঘাত-সংঘর্ষ করতে করতে আজকের এ পর্যায় এসেছে। হিন্দু দেখতে পারে না মুসলমানদেরকে, মুসলমান দেখতে পারে না হিন্দুকে। তারা একে অপরের ধর্মকে গালাগালি করে। আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা খ্রিষ্টান শব্দটি গালি হিসাবে ব্যবহার করে। আবার পাশ্চাত্যের অনেক দেশে মুসলমানদেরকে হাজার উপায়ে নিগ্রহ করা হয়, থুথু দেওয়া হয়, মেয়েদের হেজাব টেনে খুলে দেওয়া হয়, বাসা ভাড়া দেওয়া হয় না, সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এখন এই পৃথিবীর বাস্তবতার আলোকে আপনি সমস্ত জাতি-গোষ্ঠিীকে এক মঞ্চে, এক প্লাটফর্মে কিভাবে আনবেন? তারা তো কোর’আনকে স্বীকার করে না, নবীকে স্বীকার করে না, আপনারা তাদেরকে স্বীকার করেন না।
আমরা বলতে চাচ্ছি যে, অন্তত কয়েকটা মৌলিক বিষয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। প্রতিটি ধর্মের মূল সত্য হচ্ছে মানবতার কল্যাণ। এটাই সকল ধর্মের শ্বাশ্বত শিক্ষা। এই শিক্ষাকে পরিত্যাগ করে কেউ ধার্মিক হতে পারবে না, সে যতই উপাসনা, পূজা, অর্চনা করুক না কেন। আমরা প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ থেকে মিলগুলো খুঁজে নিয়ে তাদেরকে এক ঐক্যসূত্রে বাঁধতে চাই। আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারি সেজন্য হাজার হাজার গ্রন্থ লেখা হয়েছে, কিন্তু আমরা বলছি, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য একটি লাইনও যদি আমরা পাই, সেটাকে সূত্র ধরে আমাদের আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কিনউত আমরা একটি লাইন না, আমরা হাজার হাজার লাইন উপস্থাপন করছি বাইবেল থেকে, কোর’আন থেকে, বেদ থেকে, গীতা থেকে। আমরা বলেছি যে, সকল নবীই এসেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে, কেতাবগুলিও এসেছে আল্লাহর থেকে যদিও সেগুলো পরবর্তীতে বিকৃত করে ফেলা হয়েছে। কাজেই আপনারা এই কথাগুলো স্বীকার করেন যে; আমরা এক স্রষ্টার সৃষ্টি, এক পিতা-মাতা আদম-হাওয়ার সন্তান, আমাদের নবী-রসুলরা এক আল্লাহর থেকে আসছেন। সকলের শিক্ষাগুলো একই, সেই একই শিক্ষাটা কি? এক কথায়, মানবতার কল্যাণসাধনই স্রষ্টাকে পাওয়ার একমাত্র উপায়।
আসুন না, আমরা এক স্রষ্টার বিধানের অন্তত এই কথাটির উপর ঐক্য হই। আমরা মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করি। যেটা সত্য-হক, সেটার আমরা স্বীকৃতি দেই। আমরা বলি না যে সবাইকে শেষ রসুল মোহাম্মদ (দ.) এর উপর ঈমান আনতে হবে, সবাইকে হিন্দু বা খ্রিষ্টানও বানাতে চাই না, আমরা চাই সবাই যার যার ধর্মের এই একটি শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করুন, তাহলেই মানবজাতি সুখে, শান্তিতে, নিরাপত্তায় সহাবস্থান করতে পারবে, তাদের মধ্য থেকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ দূরীভূত হয়ে যাবে। তারা যার যার জায়গায় থাকুন, যেহেতু তারা ধর্ম পরিবর্তন করবেন না, এখন অন্তত শত্র“তা পরিহার করুন। যে বিষয়গুলোয় মতভেদ নাই, ঐকমত্য আছে সেগুলোতে অন্তত এক হই। এইজন্য অনেকে ভুল বোঝেন যে, আমরা নতুন ধর্ম শেখাতে চাই। না, আমরা চাচ্ছি মূলত মানবতার কল্যাণ, এজন্য মানবজাতির ঐক্য অপরিহার্য।

আমরা ঢালাওভাবে জাতিকে কাফের, মোশরেক বলছি না। আমরা বলছি জাতি কার্যত  কাফের-মোশরেক। এখানে কিন্তু আলেমরা দুটো ভাগ করেছেন, যেমন শেরকের ক্ষেত্রে বলা হয় আমলগত শেরক আর বিশ্বাসগত শেরক। আমরা বলি, জাতির যে ব্যক্তিগণ আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, যারা অন্যান্য বাধ্যতামূলক বিষয় যেমন নবী-রসুল, কেতাব, হাশর, তকদির ইত্যাদিতে বিশ্বাস করেন তারা বিশ্বাসগতভাবে মুমিন দাবি করতে পারেন, কিন্তু তাদের আমল বা কাজকে বিবেচনায় নিলে অর্থাৎ কার্যত তারা কাফের ও মোশরেক ছাড়া কিছুই না। মক্কার কাফেররাও কিন্তু তাদের মত আল্লাহয় বিশ্বাস করতো, নামাজ, রোযা, হজ্ব, কোরবানি ইত্যাদি আমল করত, কিন্তু জাতীয় জীবনে আল্লাহর বিধান মানতো না, তাই তারা কাফের মোশরেক ছিল। একইভাবে এই জাতিটিরও আল্লাহ-রসুলের প্রতি বিশ্বাস থাকা সত্বেও, কার্যত তারা কাফের। কারণ তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও দীনকে প্রত্যাখ্যান করে পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতার তৈরি জীবনব্যবস্থা ও মূল্যবোধকে জাতিগতভাবে বরণ করে নিয়েছে। জাতীয় জীবনে আল্লাহর হুকুম প্রত্যাখান করার কারণে এরা কাফের হয়ে গেছে। এটা আমাদের কথা না, আল্লাহর কথা এবং আল্লাহর রসুল যে কারণে আবু জাহেল, আবু লাহাবদের কাফের বলেছেন সেই একই কারণে আমরা এ জাতিকে কার্যত কাফের ও মোশরেক বলছি।

এই একটা অভিযোগ আমরা প্রায়শই শুনি। কিন্তু পাহাড় সমান মিথ্যার বিরুদ্ধে যখন কোনো সত্যকে তুলে ধরতে হয়, সেই সত্যের পক্ষে মানুষকে উজ্জীবিত করতে হয়, তখন সেই সত্যকে বারবার উত্থাপন করতে হয়, বারবার বলতে হয়, বিভিন্নভাবে নানা আঙ্গিকে উল্লেখ করতে হয়। আমরা ১৩০০ বছরের জমানো জঞ্জালকে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত ১৩‘শ বছর থেকে বিকৃত হতে-হতে আল্লাহর প্রকৃত ইসলাম একেবারে হারিয়ে গেছে। যে বিষয়টার গুরুত্ব নেই, সেটাকে এক নাম্বারে আনা হয়েছে, আর যেটার গুরুত্ব এক নাম্বারে সেটা গায়েব করে দেয়া হয়েছে। বহুত সুন্নত-মোস্তাহাব জাতীয় আমলকে ফরযের উপরে জায়গা দেয়া হয়েছে। কাজেই এখন প্রকৃত ইসলামের কথা বলতে গেলে মানুষ মনে করে, আমরা পুরো ইসলামের বিরুদ্ধেই কাজ করছি। আসলে কিন্তু ঘটনা তা নয়। এখন এই বিষয়টাকে বোঝানোর জন্য বারবার উল্লেখ না করে আমাদের কোনো উপায় নাই। যে মিথ্যাগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রচার মাধ্যম, বই-পত্র, আলেম ওলামাদের ওয়াজে খোতবায় লক্ষ লক্ষবার প্রচার করা হয়েছে, যা মানুষের মনে মগজে স্থায়িভাবে গেড়ে বসেছে, সেটাকে পরিবর্তন করে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ক্ষীণ কণ্ঠে একটি বিষয় হাজার হাজার বার বললেও কমই বলা হবে।
দ্বিতীয় কথা হলো, আমাদের পত্রিকাটি প্রচলিত যে মাধ্যমগুলোর দ্বারা পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছায় আমরা সেই মাধ্যম ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের পত্রিকা সাধারণ হকাররাও বিক্রি করেন না, কারণ তাদেরকে যে মূল্যে পত্রিকা দিতে হয়, তার বহুগুণ টাকা আমাদের খরচ করতে হয় পত্রিকা প্রকাশ করতে। অন্যান্য পত্রিকাগুলোর প্রধান আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন যা আমরা বলতে গেলেই একেবারেই পাই না। এসমস্ত কারণে আমাদের পত্রিকা আমাদের নিজেদের লোকেরাই অর্থাৎ হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারাই হকারি করে বিক্রি করে থাকেন। এজন্য আজ যে এলাকায় পত্রিকা যাচ্ছে, পরদিন হয়তো সেই এলাকায় পত্রিকা যাচ্ছে না। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের হাতে আমাদের পত্রিকা পড়ছে। কাজেই একই আর্টিকেল বা বিষয়বস্তু একজনে পেলেন আরেকজনে পেলেন না। এজন্য আমাদেরকে বারবার দিতে হচ্ছে। আর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তির কথা যদি বলেন তাহলে আল্লাহর পবিত্র কোর’আন সম্পর্কেও এই অভিযোগ আছে। এটা গুরুত্বের উপর নির্ভর করে। কাজেই বারবার দেয়াটা দোষের কিছু না।

 আমাদের কর্মকান্ডে মসজিদকে গুরুত্বহীন করা হয় না। পত্রিকাতে আমরা বলেছি, মসজিদের উদ্দেশ্য কি এবং আজানের উদ্দেশ্য কি। উদ্দেশ্যহীন সবকিছুই নিষ্ফল, ব্যর্থ।
প্রথম কথা হলো, মসজিদে আমরা যাই কি-না? মসজিদ নিয়ে আমাদের কোনো নেতিবাচক বক্তব্য নেই। কিন্তু মসজিদ কেমন হওয়া উচিত ছিল সেটা আমরা তুলে ধরছি। মসজিদ হলো মুসলিম জাতির সমস্ত কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনিক, শাসনব্যবস্থা, আইন-কানুন থেকে সালাহ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু মসজিদ। কিন্তু সেই মসজিদ হয়ে গেছে আজকে নি®প্রাণ। শুধু নির্দিষ্ট কয়েক মিনিট নামায পড়ানো হয়, অধিকাংশ সময় তালা মারা থাকে। ওখানে যারা নামায পড়াচ্ছেন, তারা ধর্মের বিনিময়ে টাকা নিচ্ছেন, টাকার বিনিময় নামায পড়াচ্ছেন, আমরা তাদের পেছনে নামায পড়ি না। এজন্যই প্রশ্নটি উঠেছে যে, আমরা মসজিদকে গুরুত্বহীন মনে করি কিনা। কাবাঘর আল্লাহর ঘর, কিন্তু মক্কার কাফের মোশরেকরা এই পবিত্র ঘরে তিনশ ষাটটি প্রতিমা স্থাপন করে একে গৃহকে অসম্মান ও অপবিত্র করেছিল। তারা কাবাগৃহকে নিজেদের ব্যবসার মাধ্যমে পরিণত করেছিল। কোরায়েশ নেতৃবৃন্দ রসুলাল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেন নি এর প্রধান কারণ ছিল তাদের কাবাকেন্দ্রিক ধর্মব্যবসা তাতে বন্ধ হয়ে যাবে। রসুলাল্লাহ সেই মূর্তি অপসারণ করে ধর্মব্যবসায়ীদের হাত থেকে, শেরকের হাত থেকে কাবাকে পুনরুদ্ধার করেন। একইভাবে আজ ধর্মব্যবসায়ীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এই ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। এইজন্য ধর্মব্যবসায়ীরা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে থাকেন। কিন্তু আমরা যে একেবারে মসজিদে যাই না তা নয়, ব্যক্তিগতভাবে সালাহ করার জন্য আমরা প্রয়োজনে মসজিদে যাই, কিন্তু ধর্মব্যবসায়ীরেদ পেছনে পড়ি না, তাদের আগে পড়ি বা পরে পড়ি। তবে যে মসজিদের এমাম সাহেব অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আল্লাহর নাজেল করা সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, হকের পক্ষে অবস্থান নেবেন এবং যিনি ধর্মব্যবসা করবেন না, ধর্মের বিনিময় নিবেন না, টাকা ছাড়া নামায পড়াবেন, এমন এমাম হলে তার পেছনে নামায পড়তে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা আরও খুশি, আনন্দিত হবো। আমরা চাই ঐটাই। সুতরাং আমরা মসজিদ অপছন্দ করি না, কিন্তু দুইটি কারণে আমরা মসজিদকেন্দ্রিক নই। প্রথমত, ইসলামের ধারণা মোতাবেক মসজিদ হবে জাতির সমস্ত কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু, যেটা বর্তমানে নেই। সুতরাং এই মসজিদ ইসলামের প্রকৃত মসজিদ নয়। দ্বিতীয়ত, মসজিদ আজ যাদের দখলে, সেই পেশাদার ধর্মীয় নেতারা মুমিন না, কোনো অবস্থাতেই মুমিন না তারা। মুমিন হতে হবে জান-মাল দিয়ে, যে নেবে সে মোমেন হতে পারবে না। যদি তারা আল্লাহর দেওয়া সংজ্ঞা মোতাবেক মুমিন হন তবে তার পেছনে তাদের পেছনে নামায পড়বো, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে, কোনো ইট-পাথরের ঘর-বাড়িকে নিয়ে কোনো কথা নাই, সেটা দিয়ে কী হচ্ছে? এইটা আসল কথা।

না। হেযবুত তওহীদ মানবতার কল্যাণে, পুরো মানবজাতিকে, মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বায়ক। কাজেই ‘হেযবুত তওহীদ’ সবাই মুসলমান ব্যাপারটা তা নয়। এখানে বহু সনাতনধর্মীয় বা বৌদ্ধধর্মীয় ব্যক্তিরও সমর্থন আছে। আমরা আমাদের সেমিনারগুলিতে ‘সকল ধর্মের মর্মকথা – সবার ঊর্ধ্বে মানবতা’ নামক ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখিয়েছি। সেখানে সনাতন ধর্মী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, উপজাতি অনেকেই আমাদের সম্মেলনে এসেছেন এবং দু’হাত তুলে আমাদেরকে সমর্থন জানিয়েছেন, একাত্ম হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি তারাও আমাদের দলভুক্ত। কারণ আমাদের এটি একটি আদর্শিক আন্দোলন। কেউ আমাদের আদর্শের সঙ্গে একমত হলেই তিনি আমাদের সহযাত্রী। আমরা বামপন্থীদের সঙ্গেও কাজ করেছি, তাদের অনেক নেতা-কর্মী আমাদের মিটিংয়ে এসেছেন। তারাও আমাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আমাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করার, সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। কাজেই আমাদের আন্দোলনের সাথে শুধুমাত্র যে মুসলমান, ব্যপারটা তা নয়। সকল ধর্ম, জাতি, বর্ণ এমনকি ধর্ম-অস্বীকারকারীদেরও সমর্থন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যে ডকুমেন্টারি দেখানো হয়, বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকা বিক্রি করা হয়, সেখানেও কিন্তু আমাদের অনেক সনাতনধর্মী ভাইয়েরা উদ্যোগী হয়ে তাদের মহল্লায় বা মন্দিরে আমাদের ডকুমেন্টারি দেখানোর আয়োজন করেছেন। আমাদের পত্রিকাতে অনেক সনাতন ধর্মের ভাই সাংবাদিকতার কাজ করছেন, আমাদের সকল কাজেই সহযোগিতা করছেন। আমরা যে কাজ করছি তা কেবল মুসলমানদের কাজ নয়, এটা মানুষের কাজ।

 আক্ষরিক ও প্রায়োগিক অর্থ ধরতে গেলে মুসলিম দাবি করা যায় না। কারণ যারা আল্লাহর আইন, বিধানের আওতাধীন ভূখ-ে বাস করে না তারা পারিভাষিক অর্থে মুসলিম হয় না। মুসলিম আর মুমিন আলাদা। আমাদের বইতে বিস্তারিত আছে, আপনারা পড়ে দেখবেন। মুসলিম হলো যারা আল্লাহর হুকুমকে সসম্মানে তসলিম বা গ্রহণ করে ন্যায়। এখন আর পৃথিবীতে কোথাও আল্লাহর হুকুম নেই। কাজেই মুসলিম হওয়ার কোন সুযোগই নেই। এখন আমরা মুমিন হওয়ার প্রচেষ্টারত। আল্লাহ মুমিনের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, মোমেন শুধু তারাই, যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনে, আর তাতে সন্দেহ পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ বা সংগ্রাম করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ (সুরা হুজুরাত ১৫)। আমরা জীবন ও সম্পদ দিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছি। এই সংগ্রামের ফলে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা হবে, তখন আমরাও মুসলিম হবো, যারা আল্লাহর হুকুমকে সসম্মানে গ্রহণ করবে তারাও মুসলিম হবেন এনশাল্লাহ।

একটাই উদ্দেশ্য, মানুষকে সত্য জানানো, সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে গড়ঃরাধঃব করা, উদ্বুদ্ধ করা। কারণ, এমন অনেক মানুষ আছে যারা লেখা-পড়া জানেন না, পড়তে পারেন না। আমরা পত্রিকায় বহু লিখেছি কিন্তু পড়ার প্রতি অনেকের আগ্রহ কম থাকায় আমাদের বক্তব্য অনেকেই সুস্পষ্টরূপে জানতে পারছেন না। অনেকে অল্প একটু জেনেই বাকিটা বোঝার জন্য নামধারী আলেমদের কাছে দৌঁড়ে যান, আর আলেমরা নিজেদের অবস্থান ও ধর্মব্যবসাকে নিরাপদ রাখার জন্য আমাদের ব্যাপারে ভুল বুঝিয়ে দেন। আমরা অসংখ্য হ্যান্ডবিল দিয়েছি, অনেকে পড়েনই না। ইসলাম-বিদ্বেষী মিডিয়ার অপপ্রচারে যাদের মনোভাব আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে তারা আমাদের হ্যান্ডবিল, বই ইত্যাদি প্রচার করতেও বাধা দেন, বলেন জঙ্গিদের হ্যান্ডবিল, কেউ ধরবেন না, ধরলে পুলিশে ধরবে। তারপরে মোল্লারা অপপ্রচার চালিয়েছে যে, এ হ্যান্ডবিল পড়লে তাদের ঈমান চলে যাবে। বিবিধ কারণে বহু সংখ্যক মানুষ আমাদের কোন হ্যান্ডবিলও পড়েন না, এমামুয্যামানের লেখা কোন বইই তারা পড়েন না। কিন্তু মানুষকে তো জানাইতে হবে আমাদের সম্পর্কে। তখন আমরা এই ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার চিন্তা করলাম। এই যুগটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার। মানুষ এখন পড়ার থেকে শোনে বেশি। সেজন্য আমরা আমাদের এ সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্য দিয়ে ঘরোয়াভাবে আমাদের বক্তব্যটাকে বোঝার মতো করে সংক্ষিপ্ত কিছু ডকুমেন্টারি আমরা নির্মাণ করেছি এবং বিভিন্ন জায়গায় আমরা প্রদর্শন করেছি যাতে মানুষ শোনে এবং বোঝে। এটাই উদ্দেশ্য যে, মানুষকে অধর্মের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অনুপ্রাণিত করা। আর কোনো উদ্দেশ্য নাই।

অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন। প্রশ্নকারীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এমামুয্যামান যখন হেযবুত তওহীদ গঠন করেছেন তখন থেকেই তিনি একটি কথা প্রায়ই বলতেন, ‘হেযবুত তওহীদ যে কাজ নিয়ে দাঁড়িয়েছে, দুনিয়াবি হিসাবে এ এক অসম্ভব কাজ। অল্প কিছু মানুষ দাঁড়িয়েছে এই বড় যমুনা নদীর উল্টে দেওয়ার জন্য। আমাদের মত কয়েকজন দরিদ্র্য সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, অস্ত্র নেই, শক্তি নেই, এই আমরা যে দাজ্জালের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি সে দাজ্জাল বর্তমান দুনিয়ার প্রভুর আসনে উপবিষ্ট। তার হাতে রয়েছে বিরাট সামরিক শক্তি, সমস্ত মিডিয়া, বিশাল অর্থ-সম্পদ। কাজেই এত বিরাট অপশক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ অসম্ভব ব্যাপার। ‘হেযবুত তওহীদ’ সেই দাজ্জালের তুলনায় একটা বিন্দু বা একটা ক্ষুদ্র কণার মতো। এই অসম শক্তির মোকাবেলা কী আদৌ সম্ভব?
হ্যাঁ। এই অসম শক্তির মোকাবেলা করতে সক্ষম কেবলমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ। তিনিই আমাদের শক্তি। তিনিই হেযবুত তওহীদের দ্বারা বিরাট দাজ্জালকে পরাজিত করবেন ইনশাল্লাহ। তিনি বলেছেন, “তোমরা হতোদ্দম হয়ো না, নিরাশ হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।” যদি আমরা আল্লাহকে আমাদের সমুদয় জীবন-সম্পদ দিয়ে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাই তাইলে আল্লাহ মুমিনদের প্রতি ওয়াদাবদ্ধ-অঙ্গিকারাবদ্ধ যে তিনি তাদের পৃথিবীময় কর্তৃত্ব দিবেন, এই হলো আল্লাহর ওয়াদা (সুরা নুর ৫৫)। তাছাড়া ২০০৮ সনে যাত্রাবাড়ীতে এমামুয্যামানের ভাষণের মধ্যে দিয়ে আল্লাহ স্বয়ং এক মহান মো’জেজা ঘটিয়েছিলেন, সেখানে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তিনি হেযবুত তওহীদ দিয়ে সমস্ত দুনিয়াময় তার সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করবেন। এটা শুধু আমাদের ঈমান নয়, এটা আমরা জানি, এটা আমাদের ইলমাল ইয়াকীন বা নিশ্চিত জ্ঞান। এমামুয্যামান বলেছেন, “পৃথিবীতে ‘হেযবুত তওহীদ’ দিয়ে সত্যদীন প্রতিষ্ঠা হবে না, হয়ে গেছে। এটা অতীতের মতো সত্য। আল্লাহ এনশাল্লাহ বিজয় করবেন। কারণ ‘হেযবুত তওহীদ’ আল্লাহর। একে অশান্তির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয়ী করার দায়িত্ব আল্লাহর। কীভাবে সম্ভব? ঐ যে বললাম, আল্লাহ করবেন। তবে শর্ত হলো, আমাদের জীবন-সম্পদ দিতে হবে। আমরা আমাদের শর্ত পূরণ করার চেষ্টা করছি।

ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বই হচ্ছে মানবসমাজের শ্বাশ্বত ইতিহাস। এই দ্বন্দ্বে সত্য হচ্ছে শুভশক্তি আর মিথ্যা হচ্ছে অপশক্তি। যাবতীয় সত্য এসেছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে, সত্যের ফল হচ্ছে শান্তি, ঐক্য, সম্প্রীতি, মানবতা। পক্ষান্তরে মিথ্যার ফল হচ্ছে অশান্তি, অনৈক্য, বিদ্বেষ ও পাশবিকতা। সুতরাং কোনো স্বার্থের দ্বারা প্রণোদিত হয়ে যারাই মিথ্যার পক্ষ অবলম্বন করে, মিথ্যার বিস্তার ঘটায় তারাই অপশক্তি। তারা মানবসমাজের অশান্তির কারণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, যারা ধর্মের প্রকৃত সত্যগুলোকে গোপন করে এবং ধর্মকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে তারা সমাজে মিথ্যার বিস্তার ঘটায়। সুতরাং তারা বড় একটি অপশক্তি। যারা জনসেবার নামে রাজনীতি করেন আর ব্যক্তিগত আয়-উন্নতির জন্য দুর্নীতি, লুটতরাজ করেন তারা একটি বড় অপশক্তি। বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অপশক্তি হচ্ছে দাজ্জাল অর্থাৎ ইহুদি-খ্রিষ্টান বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’, যা আত্মাহীন, আত্মকেন্দ্রিক, জড়বাদী, ভোগবাদী, স্বার্থপর একটি জীবনযাত্রায় মানুষকে অভ্যস্ত করে তুলেছে। পরিণামে মানুষ দিন দিন পশুতে পরিণত হয়েছে। আজ আমাদের ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিহিংসা আর স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে হানাহানি, রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ধর্মব্যবসা ও স্বার্থের রাজনীতি চলছে তার মূল হোতা এই পাশ্চাত্য জড়বাদী সভ্যতা। একেই আল্লাহর রসুল রূপকভাবে বলেছেন যে আখেরি যুগে একটি বিরাট শক্তিশালী দানব আসবে যার এক চক্ষু কানা হবে অর্থাৎ সে শুধু জড়ের দিক, বস্তুর দিক দেখবে, আত্মার দিক দেখবে না। তার কপালে কাফের লেখা থাকবে। কাফের শব্দের তাৎপর্য হচ্ছে সে স্রষ্টার প্রেরিত মূল্যবোধ, ন্যায়-অন্যায়ের মানদ-কে প্রত্যাখ্যান করবে, তার দ্বারা মানবতার অকল্যাণ হবে, অশান্তি বিস্তার হবে। আমরা এই সব অপশক্তিগুলোর বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানোর কথা বলছি।

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শুধু তাই নয়, হাইকোর্ট থেকেও নির্দেশনা, রায়, অনুমোদন ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, প্রত্যেকটা আদালতের রায় আছে। পুলিশ, র্যাব সদস্যরা আমাদের বই-পুস্তক যাচাই বাছাইয়ের জন্য সন্দেহবশত জব্দ করছে বিভিন্ন সময়ে, কিন্তু আদালত সেগুলো কিন্তু ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই আপনারা বলতে পারেন যে, সরকার কর্তৃক আমরা অনুমোদিত এবং আমরা প্রতিটা কাজ করি অনুমতি নিয়ে। আমাদের মত এতো অনুমোদন নিয়ে, এতো বিধিবিধান মেনে, সরকারের নিয়ম-নীতি রক্ষা করে, সাংবিধানিক নিয়ম-নীতি রক্ষা করে এদেশে এমন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর দ্বিতীয় কেউ করছে না তা আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। কিন্তু তবুও এই হয়রানি করছে কেন? এখানেই হলো প্রশ্ন।
প্রথমত ভুল প্রচারণা। ধরুণ এক জায়গায় আমাদের হ্যান্ডবিল বিতরণ বা পত্রিকা বিক্রি করা হচ্ছে, কেউ একজন অতি উৎসাহী হয়ে তাদেরকে থামিয়ে থানায় ফোন করে দিল যে, ওখানে জঙ্গিরা হ্যান্ডবিল বিতরণ করছে। শুনেই পুলিশ হাজির। কোনো কথা-বার্তা নাই, তিনজন লোককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে এলো। থানায় সাংবাদিকরা বসেই থাকে ক্রাইম রিপোর্টের আশায়। তারা পুলিশকে তাদের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে বুকে নেমপ্লেট লিখে ছবি তুলে পত্রিকায় প্রকাশ করে দিল যে, হেযবুত তওহীদের তিন জঙ্গি গ্রেফতার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই হয়েছে। জনগণ, সাংবাদিক জানাজানি হয়ে গেছে এই অজুহাতে ৫৪ ধারায় পুলিশ তাদেরকে আদালতে ও হাজতে চালান দিয়েছে, কিছুদিন বাদে ৫৪ ধারা থেকে অব্যহতি চেয়ে তারাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আবার কোনো ক্ষেত্রে গ্রেফতারের পর আমরা থানায় যোগাযোগ করলে ভুল বুঝতে পেরে পুলিশ তাদেরকে থানা থেকেই ছেড়ে দিয়েছে। এইভাবে সন্দেহবাদীদের বা স্বার্থান্বেষীদের অপপ্রচারে, মিথ্যা তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদেরকে প্রশাসন হয়রানি করেছেন।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের মধ্যে এমন অনেক লোক আছেন যারা আদর্শিকভাবে আমাদেরকে সঠিক বলে গ্রহণ করেন নি। হয়তো তারা কোনো না কোনো পীরের অনুসারী ওনারা বা কোনো আলেমের অনুসারী, বা কোনো দলের মতবাদের অনুসারী। আবার অনেকেই আছেন উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে ভালো হওয়ার জন্য, জঙ্গি ধরেছি বলে নিজেদের চাকুরির সুবিধাবৃদ্ধির জন্য ইত্যাদি বিবিধ কারণে আমাদেরকে হয়রানি করেছেন।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর মধ্যে অনেকে আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম বুঝতে সক্ষম হয়েছেন এবং এনশা’আল্লাহ অন্যরাও অচিরেই বুঝবেন। ফলে এখন হয়রানির মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। আমাদেরকে হয়রানি করার পেছনে প্রধানত দু’টি শ্রেণির অপপ্রচার দায়ী- ধর্মব্যবসায়ী ও ইসলামবিদ্বেষী গণমাধ্যম। গণমাধ্যমকর্মীরা বিন্দুমাত্র যাচাই-বাছাই না করে আমাদেরকে জঙ্গি, চরমপন্থী, নিষিদ্ধ, গোপন বলে প্রচারণা চালিয়েছে হাজার হাজার বার। বিষোদগার করার সুবিধার্থে এমামুয্যামানের নাম পর্যন্ত বিকৃত করেছে, আন্দোলনের নাম বিকৃত করেছে, বিভিন্ন নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে, হিজবুত তাহরীর, জেএমবি, হুজি, শিবির ইত্যাদির সঙ্গে হেযবুত তওহীদের নাম মিশিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। জেএমবির সঙ্গে তওহীদ প্রচার করেছে। বিভিন্ন নামি-বেনামি সংগঠনের সাথে..তারা অপপ্রচার চালিয়েছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা আছেন; (আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যারা নতুন নতুন নিয়োগ পেয়েছেন) ভালোভাবে এখনও কাজের ওনার অভিজ্ঞতা হয় নাই, আমাদের সংস্পর্শে অনেকে আসেন নাই। ফলে এসমস্তকিছুর মধ্যে উরভবৎবহপব টা কি? পার্থক্য নির্ণয় করতে না পেরে সবগুলিকে এক কাতারে ফেলেছেন। একই রকম আচরণ আমাদের সাথে করেছেন। এর ফলেও আমরা অনেকটাই হয়রানির স্বীকার হয়েছি।

আপনি বলছেন যে তারা ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছেন, আমরা কিন্তু সেটা বলছি না। তারা যেটাকে ইসলাম মনে করছে আমরা সেটাকে ইসলামই মনে করি না, বরং আমরা শত শত প্রমাণ দিয়েছি যে সেটা একটি বিকৃত ও বিপরীতমুখী ইসলাম। আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, জঙ্গিবাদ আসলে মানুষের ধর্মীয় চেতনার অপব্যবহার। মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে বহু পন্থায় হাইজ্যাক করা হয়, এটি তারই একটি উপায়। এর দ্বারা ব্যক্তি, জাতি ও সমাজ সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
গত তেরশো বছরে বিকৃত হতে হতে আল্লাহ রসুলের ইসলাম বর্তমানে একেবারে বিপরীত হয়ে গেছে। সবশেষে ইউরোপীয় প্রভুরা এ জাতিকে পদানত করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে এবং আরো বহু প্রকার ষড়যন্ত্র করে এরকম একটা বিকৃত ইসলাম শিক্ষা দিয়ে গেছে। কাজেই কেবল যুদ্ধ করলেই তো হবে না, যেটার জন্য যুদ্ধ সেটা আল্লাহর ইসলাম হতে হবে। এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওটা কখনোই আল্লাহ-রসুলের ইসলাম না। এটা প্রতিষ্ঠা হলে শান্তি পাবে না মানুষ। তালেবানরা শরিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে, সৌদিরা করেছে, ইরান করেছে, আই.এস. করেছে কিন্তু শান্তি আসে নাই। যাদের উপরে সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের আত্মা মুক্তির জন্য ত্রাহিসুরে চিৎকার করে উঠেছে। সুতরাং তারা যতই বলুক যে ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছে আমরা মনে করি তারা বিভ্রান্তির মধ্যে আছে।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে তারা যে প্রক্রিয়ায় প্রচেষ্টা করছেন সেটা অবশ্যই ভুল তরিকা। আল্লাহ্র রসুল এভাবে করেন নি। তারা এখানে-ওখানে বোমা মেরে, আতঙ্ক সৃষ্টি করে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, গাড়ীতে বোম মেরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছেন। কিন্তু এসব করে তারা আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, জনগণ তাদেরকে ভালোবাসে নি। কিন্তু আল্লাহর রসুল আগে মানুষের মন জয় করেছেন। এই জঙ্গিদের কর্মকা-ে ইসলামের শত্র“রাই লাভবান হচ্ছে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে যে, ‘দেখো, ইসলাম কত খারাপ, এরা জঙ্গি, এরা মানুষদের হত্যা করে, এরা শিশু-নারী হত্যা করছে, এরা কত নিষ্ঠুর’। তাদের অপপ্রচারের ফলে মানুষ এখন জেহাদ ও কেতালকে ঘৃণা করছে, ইসলামকে ঘৃণা করছে। ইসলাম ধর্মকে মানবতাবিরোধী, নৃশংস-বর্বর, অযৌক্তিক ইত্যাদি বলে ইসলামকে উপস্থাপন করছে। আমাদের কথা হলো, এই জঙ্গিবাদ প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের একটি পাতানো ফাঁদ বা পাতানো খেলা মাত্র। যারা ইসলামকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসে এমন হাজার হাজার কিংবা লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পাতানো এই ফাঁদে পা দিয়েছে। আফগানিস্তানের রণাঙ্গন, সিরিয়ার রণাঙ্গন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গন তার প্রমাণ। আমরা তাদের প্রতি করুণা বোধ করি, তাদের জন্য আমাদের দুঃখ হয় কিন্তু সত্যের খাতিরে আমরা বলতে বাধ্য যে, এই সরলপ্রাণ মানুষগুলোর ধর্মবিশ্বাসকে মানবতার অকল্যাণে এবং ইসলামের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছ পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারী সভ্যতা।
কাজেই ইসলামের নামে যারা অস্ত্র ধরেছে তাদেরকে আমরা জঙ্গি বলে গালাগাল দিচ্ছি না। বরং আমরা জঙ্গিবাদকে ভুল পন্থা বলে চিহ্নিত করছি। যারা এই ভুল পথে পা বাড়িয়েছে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এইপথ ভুল। আপনারা এইপথ ত্যাগ করুন। কারণ এতে আপনারা দুই জীবনেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, আপনাদের দ্বারা মানবজাতিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, ইসলাম তো প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনই না, কারণ ইসলাম আপনাদের কাছে নেই। শুধু শুধু আপনাদের দ্বারা ইসলামের বদনাম হচ্ছে। বরং আপনাদের কর্তব্য হলো, আগে প্রকৃত ইসলাম কি তা বুঝুন, তারপর সেই সত্যের ভিত্তিতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন।

যেহেতু আল্লাহ বাংলাদেশ থেকে হেযবুত তওহীদ নামক পবিত্র আন্দোলনের সূচনা করেছেন, তাই বাংলাদেশ আমাদের চোখে বাকি দুনিয়া থেকে আলাদা। এদেশে আমরা জন্ম নিয়ে, দেশের সম্পদে ও প্রতিপালনে লালিত হয়েছি, তাই এদেশের প্রতি আমাদের আত্মিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা চাই এ জাতিটি শাশ্বত ও চিরন্তন সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ হোক। কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা, কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায় তা বোঝার জন্য প্রতিটি মানুষের বিবেকই যথেষ্ট। তারপরও আমরা সবচেয়ে মারাত্মক কয়েকটি অন্যায় যা আমাদের সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে গেছে সেই অন্যায়গুলোকে বিশেষভাবে প্রতিরোধ করতে চাই যেমন জঙ্গিবাদ, স্বার্থের রাজনীতি, ধর্মব্যবসা ইত্যাদি। আমরা চাই মানুষ ধর্ম বলতে বুঝুক মানবতা, এবাদত বলতে বুঝুক দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মোৎসর্গ করা। এই শিক্ষাগুলো এ জাতিকে দেওয়া হলে জাতির বিরুদ্ধে দেশে ও আন্তর্জাতিক অংগনে যে ষড়যন্ত্র চলছে তা রুখে দেওয়া যাবে এবং ষোল কোটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ জাতি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হতে পারবে। একটি অধঃপতিত জাতি থেকে রেনেসাঁ সৃষ্টির জন্য যে আদর্শিক প্রেরণা দরকার তা আমাদের কাছে আছে। আর অন্যায় প্রতিহত করার জন্য যে শক্তি দরকার তা সরকারের কাছে আছে। শুধু শক্তি দিয়ে হবে না, শুধু আদর্শ দিয়েও হবে না। দুটোই একসঙ্গে লাগবে। জাতিকে উন্নতি অগ্রগতির দিকে ধাবিত করার জন্য এবং একটি আদর্শকে গণমানুষের কাছে শিক্ষাব্যবস্থা, গণমাধ্যম প্রভৃতি ব্যবহার করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যা কিছ প্রয়োজন সবই সরকারের কাছে আছে, এবং এটা সরকারেরই কাজ। এই কাজে আমরা চাই সরকারকে আদর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে। রাজনীতি বা রাষ্ট্রক্ষমতা কোনোটাই আমাদের প্রয়োজন নেই, ইচ্ছাও নেই। কারণ দেশের কর্ণধারগণ তিনি যে-ই হোন, যদি সত্যের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তাহলে দেশে শান্তি আসবে, আর সেটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি, হেযবুত তওহীদ কোনোদিন বাংলাদেশে সহিংসতা সৃষ্টি করে নি, করবে না, দেশের কোনো আইনভঙ্গ করে নি, করবে না। কারণ যিনি আমাদের আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, আমরা যাঁর অনুসারী- তিনি এই নীতি নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। তাঁর অবাধ্যতা করলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব এটা আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।
আজকাল তো সবকিছু বস্তুবাদী দৃষ্টিতে বিচার করা হয়, কিন্তু আমরা তা করি না, কারণ আল্লাহ আমাদের দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, হেযবুত তওহীদের পরিচালক ও রক্ষাকর্তা মহান আল্লাহ। তাই কারো দ্বারাই হেযবুত তওহীদের কোনো ক্ষতি হওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বের মানুষের সুখ, দুঃখ নিয়ে ভাবার দায়িত্ব আমাদের আছে, কারণ একদিকে আমরা এই পৃথিবীর মানুষ। অপরদিকে আমরা আল্লাহর মনোনীত আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। আমরা শুধু বিশ্বাস করি না, আমরা জানি যে, হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমগ্র পৃথিবীতে এনশা’আল্লাহ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সিনসিয়ারলি বলছি, সেটা কীভাবে হবে তা আমাদের জানা নেই। আল্লাহ কীভাবে সেটা করবেন আল্লাহই জানেন। হেযবুত তওহীদের ক্ষেত্রে আল্লাহই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। আমরা উপস্থিত সংকট নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ্য সারা দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বড় কাজ কী প্রক্রিয়ায় সিদ্ধ হবে সেটা আমরা জানি না।