হেযবুত তওহীদের চারটি মূলনীতি | হেযবুত তওহীদ

হেযবুত তওহীদের চারটি মূলনীতি

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
মাননীয় এমামুয্যমান হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠার পর এটি পরিচালনার জন্য চারটি মূলনীতি গ্রহণ করলেন। প্রথমত তিনি বললেন, “হেযবুত তওহীদের তোমরা কোনোদিন বেআইনী কর্মকাণ্ড করবে না, অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবে না।” দ্বিতীয়ত, আমরা কাজ করব সবাইকে জানিয়ে।

আমাদের কাজ পুরো মানবজাতির জন্য নয় কি? এটা কি আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি? এটা মানবজাতির মুক্তির পথ। আল্লাহ আপনাকে বুঝিয়েছেন, আপনি সবাইকে বুঝাবেন। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আলেম, ওলামা, মুরুব্বি সবাইকে নিয়ে বসবেন, বোঝাবেন। বিরোধিতা করলে ঝগড়া করার দরকার নাই। সবাইকে জানাবেন কিন্তু জোর করবেন না। অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবেন না। এটা অন্যায়।

তৃতীয়ত, এই স্বার্থের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তোমরা সম্পৃক্ত হবে না। আমাদের এমামুয্যামান বলেছিলেন, এর শেষ আছেই। তোমরা এর শেষ দেখবে। ভয়ংকর শেষ। এই হানাহানির রাজনীতির শেষ পরিণতি ভয়াবহ। সেটা দেখার জন্য তোমরা তৈয়ার হও। তাদেরকে শুধু সেরাতুল মোস্তাক্বীমের দিকে ডাকবে। যদি তারা আসে, তাহলে বাঁচবে। চতুর্থত, তোমরা অবৈধ উপায়ে রোজগার করবে না। তোমরা দীনের কাজ করে, ইসলামের কাজ করে কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় নিবে না। বিনিময় নিবে আল্লাহর কাছ থেকে। ইসলামের কাজ করে ওয়াজ করে হেদায়েতের বাণী শুনিয়ে টাকা রুজি করা হারাম। ইসলাম এসেছে আল্লাহর থেকে মানবজাতির জন্য এর বিনিময় নেয়া হারাম। ধর্মের নামে কাজ করে টাকা নেয়া হারাম। এটা আমাদের কথা না, আল্লাহর কথা। এখন আপনি বলেন কী করে খাবেন। আমরা হেযবুত তওহীদের হাজার হাজার সদস্য কী করে খাই? আমরা কি নামাজ পড়ি না? আমাদের কেউ মারা গেলে কি আমরা মুর্দা দাফন করি না? নাকি মাটির উপর রেখে দিয়েছি? আমরা কি বিয়ে-সাদি করি না? আমরা কি গরু জবাই করে খাই না? তাহলে আমাদের গরু জবাইতে টাকা লাগে না, মুর্দা দাফন করতে টাকা লাগে না, বিয়ে পড়াতে টাকা লাগে না, নামাজের ইমামতি করতে টাকা লাগে না, ওয়াজ শুনতে টাকা লাগে না, আপনাদের এত টাকা লাগে কেন? আমরা প্রমাণ দিয়েছি টাকা ছাড়াও ইসলামের কাজ হয়। আমরা মাননীয় সরকারকে বলেছি টাকা ছাড়াও আদর্শিক লড়াই করা যায়। নিজের ঘরে খেয়ে, টেলিফোন ব্যবহার করে, নিজের গাড়ির তেল পুড়িয়ে, রাস্তায় রাস্তায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছি এক লক্ষের উপরে। সরকারকে বলেছি, মাননীয় সরকার কয় হাজার কোটি টাকা দিবেন ধর্মব্যবসায়ীদের? দেয়ার দরকার নাই। আপনার নেতা কর্মীদেরকে বলে দিবেন, মোল্লাদের কথায় যেন তারা প্রভাবিত না হয়। পুলিসের আইজিকে বলে দিবেন, ডিসিকে বলে দিবেন, সচিবকে বলে দিবেন আমাদেরকে যেন একই পাল্লায় না মাপে। আমরা ধর্মব্যবসায়ীদের মত নই, আমরা স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক নই। আমরা সন্ত্রাসী নই। আমরা জানমাল উৎসর্গ করেছি, আমরা এবাদত কী জিনিস বুঝেছি, ধর্ম কী জিনিস বুঝেছি। আমরা শপথ নিয়েছি – প্রয়োজনে জীবন দেব। তবুও এই বাংলার মাটিকে ইরাক সিরিয়া আফগানিস্তান হতে দেব না। আমরা শপথ নিয়েছি আমার রসুল যেমন করে পেটে পাথর বেঁধে, জলিল কদর সাহাবীদের রক্ত দিয়ে মদিনা রক্ষা করেছেন সেভাবে আমরা বাংলার মাটিকে রক্ষা করব ইনশাল্লাহ। মুখে বললাম, কাজেও প্রমাণ দেব ইনশাল্লাহ। কাজে প্রমাণ না দিলে আমি হবো মোনাফেক। আমাদের শুধু দাবি একটা সরকারের প্রতি – ভুল বুঝবেন না। ঐ পশ্চিমা দাজ্জালীয় সাম্রাজ্যবাদীরা ইসলামের শত্রু, তারা আল্লাহ রসুলের শত্রু, তারা সবাইকে এক পাল্লায় মেপেছে। ইসলামের কথা বলছে? তাহলে ঐ একই। দিনশেষে সবাই জঙ্গি হবে। আজকে জঙ্গি হয় নাই কালকে জঙ্গি হবে।

আমাদের অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিরা আসতে চাইলে তাদেরকে বিভিন্নজনে কুমন্ত্রণা দেয়। বলে যে আপনি ওদের প্রোগ্রামে যাবেন না। গেলে আপনার ইমেজ নষ্ট হয়ে যাবে। তারা বিতর্কিত দল। কী বিতর্কিত? বলে পন্নী সাহেব নবী বলে দাবি করেছে। নায়ুযুবিল্লাহ মিন যালেক। আমরা জানতে চাই, তিনি কবে কোথায় এই দাবি করেছেন প্রমাণ দাও।

আরো বলে যে হেযবুত তওহীদ কথা বলে ভালো কিন্তু মতলব খারাপ, নিয়ত খারাপ। তাদের কাছে প্রশ্ন করি, নিয়ত খারাপের কী দেখলেন? তেইশটি বছর যে আন্দোলন কথা আর কাজে এক থেকেছে তাদের কী খারাপ নিয়ত আপনি দেখলেন? নিয়ত খারাপ থাকলে এতদিনেও কি সেটা প্রকাশ পেত না?

আমরা বলি না যে, আমাদের কথায় আপনারা অন্ধবিশ্বাস করেন। আমাদের দাবি হলো, যাচাই করেন। অন্যের কথাও নেওয়ার দরকার নাই, আমার কথাও নেওয়ার দরকার নাই। আপনি যাচাই করেন, আমাদের কার্যক্রম দেখেন, বই পড়েন। আমাদের বিষয়ে জানেন। না জেনে কিছু বলবেন না, সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমরা শুধু এটাই চাই আর কিচ্ছু চাই না।

এই চারটি হলো হেযবুত তওহীদের মূলনীতি। হেযবুত তওহীদের কেউ এর ব্যতিক্রম করলে আমি সরাসরি তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করব। একদম পরিষ্কার কথা। যদি কেউ ভালো হওয়ার ইচ্ছা হয় আসুন এখানে, এটা ভালো হওয়ার রাস্তা। ভালো হওয়ার পথ চলে এসেছে। ভালো হতে কোনো পয়সা লাগে না। আমাকে কোনো পয়সা দিতে হবে না। কারো জান্নাতের জিম্মাদার আমি হতে পারব না। কারণ জান্নাত আমার বাপ দাদার নয়। জান্নাত মোমেনদের জন্য। আপনি আল্লাহর বিজয়ের জন্য কাজ করেন, সেরাতুল মোস্তাকিমে উঠেন আপনি জান্নাতে যাবেন এই ঘোষণা দিতে পারি ইনশাল্লাহ।

[১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ সোমবার ঢাকার উত্তর বাড্ডায় অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের খণ্ডাংশ । সম্পাদনায় মো. রিয়াদুল হাসান। বক্তব্যের পরবর্তী অংশ দেখুন আগামীকাল।]

Search Here

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ধর্মবিশ্বাসে জোর জবরদস্তি চলে না

April 15, 2019

মোহাম্মদ আসাদ আলী ইসলামের বিরুদ্ধে বহুল উত্থাপিত একটি অভিযোগ হচ্ছে- ‘ইসলাম বিকশিত হয়েছে তলোয়ারের জোরে’। পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া, লেখক, সাহিত্যিক এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত ও পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত গোষ্ঠী এই অভিযোগটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের প্রচারণায় অনেকে বিভ্রান্তও হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের প্রতি অনেকের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি […]

আরও→

সময়ের দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন রেনেসাঁ

April 14, 2019

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম অন্যায়ের দুর্গ যতই মজবুত হোক সত্যের আঘাতে তার পতন অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.) কে দিয়ে মহাশক্তিধর বাদশাহ নমরুদের জুলুমবাজির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটালেন। সেটা ছিল প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা যার নিদর্শন আজও হারিয়ে যায়নি। তৎকালে সেটাই ছিল বিশ্বের শীর্ষ সভ্যতা। তারা অহঙ্কারে এতটাই স্ফীত হয়েছিল যে উঁচু মিনার তৈরি করে তারা আল্লাহর আরশ দেখতে […]

আরও→

Categories