ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থা ও ধর্মবিশ্বাসকে ভুল খাতে প্রবাহিত করাই সকল অশান্তির কারণ | হেযবুত তওহীদ

ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থা ও ধর্মবিশ্বাসকে ভুল খাতে প্রবাহিত করাই সকল অশান্তির কারণ

শফিকুল আলম উখবাহ

বর্তমানে বিশ্বময় এমন একটা সিস্টেম চলছে যা না গণতন্ত্র না রাজতন্ত্র। সবাই এক বাক্যে বলছে এটি হল স্বৈরতান্ত্রিক পুঁজিবাদী একটা গণতন্ত্র যার অধীনে যাদের বিত্ত-বৈভব আছে তারা ক্ষমতার কেন্দ্রভাগে অবস্থান করে। কাজেই এখানে সুবিধাবাদ ছাড়া অপর কোনো ব্যবস্থা নেই। ভারসাম্যহীন এজন্যই বলা হচ্ছে কারণ মানুষ কেবল দেহ নয়, তার আত্মাও আছে। কিন্তু বর্তমানের প্রচলিত জীবনব্যবস্থাগুলোতে কেবল জড়ের দিক, দেহের দিক, বৈষয়িক দিকগুলোই আলোচনা করে। এই ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থায় মানুষগুলো যেন আত্মা হারিয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে। তাদের নির্মমতায় তাদের পাশবিকতায় জীবনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এখন তাদের ভিতর বাহির শূন্য। বাহিরে তারা ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে আর ভিতরে দেউলিয়া।
আল্লাহ ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা দিয়েছেন। সেটা হলো এই দীনুল কাইয়্যেমা অর্থাৎ শ্বাশ্বত, সনাতন জীবনব্যবস্থা। একে দীনুল ফেতরা বা প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থাও বলা হয়। আমরা যদি এটা গ্রহণ করি তাহলে আমাদের সামাজিক রাজনৈতিক ব্যক্তি পরিবার সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ একটা জীবনধারা আমরা লাভ করব। সিরিয়ায় জাহাজভর্তি করে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজ বাসভূমি ত্যাগ করে এমনকি ধর্ম ত্যাগের জন্যও প্রস্তুত হয়ে আছে। এদিকে আরেক দল মানুষ হজ করতে গিয়ে ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে মরছে।
একদিকে মানুষ সন্তানাদি নিয়ে জীবন রক্ষার জন্য ছুটে যাচ্ছে ইউরোপের সেই দেশগুলোতে যাদের বিরুদ্ধে একসময় মুসলিমরা কয়েক শতাব্দী ধরে ক্রুসেড করেছে, অপরদিকে হাজীরা ছুটছেন হজ্ব করে নিষ্পাপ হওয়ার জন্য। এই হাজীদের কয়জনের মনে আছে যে এদেরকে রক্ষা করা, এদেরকে আশ্রয় দেওয়া তাদের মুখ্য কর্তব্য ছিল। কিন্তু তারা সেটা উপলব্ধি করতে পারছেন না, কারণ তাদের ধর্মবিশ্বাসকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে আত্মকেন্দ্রিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই বৃহৎ সমস্যার সমাধান ততদিন করা যাচ্ছে না, যতদিন তাদের ধর্ম বিশ্বাসকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করা হয়। এই সমস্যরা সৃষ্টিও হয়েছে যে জঙ্গিবাদের থেকে সেই জঙ্গিবাদও ধর্মবিশ্বাসকে ভুল পথে চালিত করার ফল। মানুষ ঈমান দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েই এই সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, একে তারা জেহাদ ও কোরবানি মনে করছে। কিন্তু তাদের এই কাজ না তাদের উপকারে আসছে, না মানবজাতির উপকারে আসবে। যে বিশ্বাস বা ঈমান দুনিয়ার কাজে লাগে না, সেই ঈমান দিয়ে আখেরাতেও তাদের কোনো উপকার হবে না। এখন সময় এসেছে ঈমানকে মানবতার কল্যাণে সঠিক পথে প্রবাহিত করা। সেই পথ প্রদর্শন করছি আমরা হেযবুত তওহীদ। যারা মুক্তি চান তারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন।
[মতামতের জন্য: ০১৭৮২১৮৮২৩৭, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩]

Search Here

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ধর্মবিশ্বাসে জোর জবরদস্তি চলে না

April 15, 2019

মোহাম্মদ আসাদ আলী ইসলামের বিরুদ্ধে বহুল উত্থাপিত একটি অভিযোগ হচ্ছে- ‘ইসলাম বিকশিত হয়েছে তলোয়ারের জোরে’। পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া, লেখক, সাহিত্যিক এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত ও পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত গোষ্ঠী এই অভিযোগটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের প্রচারণায় অনেকে বিভ্রান্তও হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের প্রতি অনেকের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি […]

আরও→

সময়ের দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন রেনেসাঁ

April 14, 2019

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম অন্যায়ের দুর্গ যতই মজবুত হোক সত্যের আঘাতে তার পতন অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.) কে দিয়ে মহাশক্তিধর বাদশাহ নমরুদের জুলুমবাজির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটালেন। সেটা ছিল প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা যার নিদর্শন আজও হারিয়ে যায়নি। তৎকালে সেটাই ছিল বিশ্বের শীর্ষ সভ্যতা। তারা অহঙ্কারে এতটাই স্ফীত হয়েছিল যে উঁচু মিনার তৈরি করে তারা আল্লাহর আরশ দেখতে […]

আরও→

Categories