পশ্চিমা সভ্যতা আজ উইয়ের ঢিবিতে পরিণত হোয়েছে | হেযবুত তওহীদ

পশ্চিমা সভ্যতা আজ উইয়ের ঢিবিতে পরিণত হোয়েছে

মোহাম্মদ আসাদ আলী:

প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের আদর্শগত দ্বন্দ্ব খুব পুরাতন বিষয়। গত প্রায় ২০০ বছর আগেও প্রাচ্যের জাতিগোষ্ঠীগুলো পাশ্চাত্যের জাতিগুলোকে অসভ্য হিসাবে জানতো। পাশ্চাত্যের ধ্যাণ-ধারণা, কৃষ্টি-কালচার, সংস্কৃতি-সভ্যতা সবগুলোই প্রাচ্যের মানুষের কাছে বরাবরই অপছন্দনীয় বিষয় হোয়ে থেকেছে। শত চেষ্টা কোরলেও যে কথা এড়ানো যায় না যে, প্রাচ্যের জাতিগোষ্ঠীগুলো সবসময়ই ধর্মীয় ধ্যান ধারণা, কৃষ্টি-কালচার সংস্কৃতি দিয়ে পরিচালিত হোয়ে এসেছে। ধর্ম থেকে তারা কখনই নিজেদেরকে পৃথক করার চিন্তা করেনি। ন্যায় অন্যায়, ভালো মন্দের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হোয়ে এসেছে ধর্ম। তবে এটা সত্য যে ধর্মের সত্য রূপ তখন ছিলো না। তাই সমাজে ধর্মের নাম দিয়ে অনেক কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি চালু করা হোয়েছিল যা ছিলো গুটিকয়েক ধর্মব্যবসায়ী এবং স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থসিদ্ধির উপায়। কিন্তু তবুও সম্মিলিতভাবে বিচার বিশ্লেষণ কোরলে যা দাঁড়ায় তা হোচ্ছে সে যুগের প্রাচ্যবাসীরা আজকের তুলনায় সামাজিকভাবে, পারিবারিকভাবে সুখে-শান্তিতে বসবাস কোরত। সমাজে একতা ছিলো, পরিবারে একতা ছিলো। রাজনীতি, অর্থনীতির জটিল মারপ্যাঁচ নিয়ে সাধারণ মানুষ কোন মাথা ঘামাতো না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বসবাস কোরত। অতঃপর একটা সময় এলো যখন পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী জাতিগুলো তাদের সামরিক ক্ষমতাবলে প্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশকে অধিকার কোরে নিলো। তারা তাদের ধ্যাণ-ধারণা, কৃষ্টি-কালচার, তাদের বস্তুবাদী সভ্যতা এই প্রাচ্যে বিস্তার করার চেষ্টায় লিপ্ত হোল। যেহেতু তাদের হাতে তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল তাই তারা ইচ্ছা কোরলেই তাদের শক্তিবলে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কোরতে পারত। কিন্তু তারা তা করে নি। তারা ভালোভাবেই জানতো যে জোর কোরে কারো শরীর দখল করা যায় কিন্তু আত্মা দখল করা যায় না। সুতরাং স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তারা একটা কার্যকর ফন্দি বের কোরল। অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার কোরল প্রাচ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে। বিস্তারিত বিবরণে না গিয়ে শুধুমাত্র এটুকু বোললেই চোলবে যে, তারা প্রাচ্যের ধর্মপ্রাণ মানুষগুলোকে তাদের তৈরি করা সিলেবাসে শিক্ষা দিয়ে ব্রেইনওয়াশ কোরে তাদেরকে সম্পূর্ণ মানসিকভাবে পাশ্চাত্যের গোলামে পরিণত কোরল। তারপর যখন তারা দেখলো তাদের উদ্দেশ্য সফল হোয়েছে তখন এই প্রাচ্যকে শারীরিকভাবে ত্যাগ কোরে তথাকথিত স্বাধীনতা দিয়ে চোলে গেলো। সেই সাথে প্রাচ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেল তাদের বস্তুবাদী স্রষ্টাহীন সভ্যতাকে, তাদের খ্রিস্টধর্মের ব্যর্থতার ফলে তৈরি হওয়া ধর্মনিরপেক্ষতাকে। ফলে কিছুদিনের মধেই প্রাচ্য হোয়ে গেল পাশ্চাত্যমুখী। শিক্ষা ব্যবস্থায় এমনভাবে এদেরকে মগজ ধোলাই করা হোয়েছিল যে এই সময়ে এসে প্রাচ্যের চোখে পাশ্চাত্য কেবল ঠিকই নয়, একেবারে নিখুঁত। ফলে প্রাচ্যের তথাকথিত শিক্ষিত এবং নেতৃত্ব লাভকারীরা তাদের জীবনের প্রতিটি পদে পদে পাশ্চাত্যকে নকল করার চেষ্টায় লিপ্ত হোল।
এই বাদামী ইংরেজ, কালো ফরাসী আর হলদে ওলন্দাজ স্পেনীয়রা যখন তাদের অশিক্ষিত নিরক্ষর জাতিগুলিকে শাসন কোরতে আরম্ভ কোরল তখন বিগত প্রভুরা বোঝালো যে, তোমরা অতি গরীব (গরীব কিন্তু তারাই কোরেছে, তারা অধিকার করার আগে প্রাচ্যের এই দেশগুলি ঐসব ইউরোপীয় দেশগুলির চেয়ে বহু ধনী ছিলো, এটা ইতিহাস) এখন তোমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি কোরতে হবে। কারণ মানব জীবনের মুখ্য, মুখ্য কেন, একমাত্র উদ্দেশ্যই হোচ্ছে সম্পদ অর্জন কোরে জীবনের উপভোগ। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নতি কোরতে গেলে আমাদের মত কল-কারখানা বসাতে হবে। তোমাদের দেশগুলিকে শিল্পায়ন কোরতে হবে। শিল্পায়ন কোরতে গেলে টাকার দরকার হবে। তোমাদের তো টাকা নেই। (টাকা তো আমরা এই কয়েক শতাব্দী ধোরে শুষে নিয়েছি)। কোন চিন্তা নেই, আমরা অত্যন্ত মহানুভব, টাকা আমরা ধার দেবো, তোমরা কল-কারখানা লাগানো শুরু কোরে দাও। পাশ্চাত্যের বিগত প্রভুদের এই মহানুভবতার আসল উদ্দেশ্য ছিলো অন্য। উদ্দেশ্য ছিলো রাজনৈতিক অধিকার ছেড়ে আসতে বাধ্য হোলেও অর্থনৈতিক আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখা। সুদখোর মহাজন যেমন মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ধার কর্জ দিয়ে খাতককে ঋণে জর্জরিত কোরে একদিন তার সর্বস্ব নিয়ে নেয় ঠিক সেই উদ্দেশ্য। মানসিকভাবে পাশ্চাত্যের দাস, প্রাচ্যের নেতৃত্ব পাশ্চাত্যের ঐ প্রস্তাব যে প্রত্যাখ্যান কোরবে না সে সম্বন্ধে কোন প্রশ্নই ওঠে না। তারা ঐ প্রস্তাব লুফে নিয়েছিল তা ইতিহাস। শুধু লুফে নেন নি, ইহুদি প্রবর্তিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় রাজী হোয়ে ঐ ঋণ গ্রহণ কোরেছেন প্রাচ্যের মোসলেম নেতৃত্ব, যারা নামাজও পড়েন, রোজাও রাখেন, হজ্বও করেন কেউ কেউ পীরের মুরীদ এমনকি অনেকের কপালে সাজদার দাগও হোয়ে গেছে। কিন্তু তাদের আসল এলাহ পাশ্চাত্যের প্রভুদের উপদেশ ও প্রস্তাব কি তারা ফেলে দিতে পারেন? আল্লাহ যে সুদ, সুদভিত্তিক সমস্ত অর্থনৈতিক আদান-প্রদান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ অর্থাৎ হারাম কোরে দিয়েছেন তা ঐ সব ‘মোসলেম’ নেতাদের কাছে কোন অর্থই বহন করে না।
যদিও পাশ্চাত্যের ঋণদাতা ধনী দেশগুলির আসল উদ্দেশ্য ছিলো প্রাচ্যের জাতিগুলির গলায় ঋণের সোনার শেকল পড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনৈতিক দাস বানিয়ে রাখা, কিন্তু প্রাচ্যের জাতিগুলি যদি ঐ ঋণের পূর্ণ সদ্ব্যŸহার কোরে তা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারতো তবে অর্থনৈতিক উন্নতি ও তাদের উদ্দেশ্য- জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন কোরতে পারতো। কিন্তু সেটাও করা সম্ভব হয় নি। প্রথম কারণ শিক্ষার অভাব, প্রকৃত শিক্ষার অভাব। পাশ্চাত্য তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য প্রাচ্যে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু কোরেছিল তাতে কিন্তু তারা কোন নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা রেখেছিলনা। তাদের স্বার্থটা ছিলো ঐখানেই। ফলে যারা ঐ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হোয়ে পরবর্তীতে নেতৃত্ব লাভ কোরল তাদের মাঝে না ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, না ছিলো ব্যক্তিগত ভালো হোয়ে চলার শিক্ষা। আর তাই এরা তাদের সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে হাজারো অপরাধ কোরতে পারে, অন্যায়- অবিচার কোরতে পারে, নিজের জাতির লোককে বঞ্চিত কোরে বিদেশি প্রভুদের মনোরঞ্জন কোরতে পারে, ঠিক পাশ্চাত্য যা চেয়েছিল। আর দ্বিতীয় কারণ হোচ্ছে পাশ্চাত্যের অনুকরণ কোরে তাদের সব কিছুই গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সিস্টেমও গ্রহণ করা। ঐ সিস্টেম মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত এবং ইউরোপের সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, মানসিক ও চারিত্রিক পরিবেশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে অর্থাৎ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমানের রূপ পেয়েছে। ঐ সিস্টেম প্রাচ্যের নেতৃত্ব তাদের অন্ধ হীনমন্যতায় অপরিবর্তিত রূপে তাদের নিজ নিজ দেশ ও জাতিগুলির উপর চাপালেন। এদের মানসিক দাসত্ব এতো গভীর যে, অশিক্ষিত নিরক্ষর মানুষেরও যে সাধারণ জ্ঞান আক্কেল থাকে সেটুকু ব্যবহার কোরলেও তারা দেখতে পেতেন যে, সম্পূর্ণ ভিন্ন, প্রধানত বিপরীত পরিবেশে যে সিস্টেম ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে পাশ্চাত্য জগতে গড়ে উঠেছে তা হঠাৎ কোরে প্রাচ্যের জাতিগুলির উপর চাপালে তা চোলবে না, অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে বিশৃঙ্খলা, হতাশা। ঠিক তাই হোয়েছে। স্বাধীনতা পাবার পর প্রাচ্যের অধিকাংশ দেশগুলির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে ও সেই সব দেশের সামরিক বাহিনীকে শাসনভার হাতে নিয়ে কঠোরতার সাথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হোয়েছে। একদিকে চরিত্রহীনতার জন্য কাজে ফাঁকি, কর্মবিমূখতা, ব্যক্তি ও দলগত স্বার্থকে জাতির স্বার্থের ওপরে স্থান দেওয়া ইত্যাদি, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘন ঘন সরকার বদল, আন্দোলন, কথায় কথায় হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও ইত্যাদি এই দুই মিলে কোন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, কোন বড় শিল্পায়নকে সুষ্ঠুভাবে কাজে পরিণত কোরতে দেয়নি। কাজেই বিগত প্রভুদের কাছ থেকে বিরাট অংকের ঋণ এনে প্রাচ্যের নেতৃত্ব তাদের কাঙ্খিত জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন কোরতে পারে নি, মান আরও নেমে গেছে। মাঝখান থেকে এই দেশগুলির উপর সুদে আসলে যে অংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে তা দেখলে মাথা ঘুরে যায়। বিশ্ব ব্যাংক হিসেব দিয়েছে “উন্নয়নশীল (অর্থাৎ প্রাচ্যের গরীব দেশগুলি) দেশসমূহ পাশ্চাত্যের সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে এক লক্ষ কোটি ডলারের ঋণজালে আবদ্ধ হোয়েছে। এক লক্ষ কোটি ডলার কত তা এই ঋণগ্রস্ত দেশের মানুষরা ধারণা কোরতে পারে? এ দেশের টাকায় ৮০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশী। বিশ্ব ব্যাংকের এ হিসাবটা আজকের নয় ১৯৮৬ সনের। বর্তমানে আরও কয়েক লক্ষ কোটি বেড়েছে। উন্নয়নের ব্যর্থতার জন্য আসল শোধ করা দূরের কথা শুধু সুদটুকুই এই সব দেশ দিতে পারছে না। কাজেই ঋণের অংক লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চোলছে। বিগত প্রাশ্চাত্য প্রভুরা যা চেয়েছিলো তা পূর্ণমাত্রায় অর্জন কোরেছে। প্রাচ্যের জাতিগুলির গলায় ঋণের শেকল লাগিয়ে তারা শুধু অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নয়, অন্যান্য বহুদিক দিয়ে কর্তৃত্ব কোরে চোলেছে। তারচেয়েও বড় কথা হোচেছ, ঐ অসম্ভব বিরাট অংকের ঋণের বোঝা ঐ নেতাদের ঘাড়ে নয়, ঐ বোঝা আসলে তাদের দেশগুলির জনসাধারণের ঘাড়ে। ঋণের শুধু সুদের একটা অংশ আদায় করার জন্য এই নেতৃত্ব করের উপর কর, খাজনার উপর খাজনা আরোপ কোরে চোলেছেন, তা সত্ত্বেও ঋণের বোঝা বেড়ে চোলছে। এই সব দেশের প্রতিটি মানুষের ঘাড়ে হাজার হাজার টাকার ঋণের বোঝা কিন্তু তারা জানে না। ঐ যে গরীব কৃষক ক্ষেতে হাল দিচেছ, সে জানে না যে, যাদের তারা ইউরোপের নকল করা প্রথায় ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচিত কোরেছে তারা তার প্রতিনিধি হোয়ে পাশ্চাত্যের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার, পাউণ্ড ঋণ নিয়েছে। ঐ যে নিু ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অফিস কর্মচারীরা সকাল-সন্ধ্যা অফিস যাচেছন আসছেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা কোরছেন, সবাই বেখবর যে, তাদের প্রত্যেকের মাথার উপর বিরাট অংকের ঋণ চেপে আছে এবং তা দিতে হবে, আজ হোক আর কাল হোক। আসল বাদ দিন শুধু সুদের একটা ক্ষুদ্র অংশ পরিশোধ করার জন্য জনসাধারণের উপর নতুন নতুন কর ধরা হোচেছ, পুরানো কর ক্রমাগত বৃদ্ধি করা হোচেছ। আজ একথা পাশ্চাত্যের মহাজন জাতিগুলি ও প্রাচ্যের খাতক জাতিগুলি উভয়ের কাছেই পরিস্ফুট হোয়ে উঠেছে যে, এইসব অর্দ্ধাহারী, অনাহারী প্রায় উলঙ্গ জাতিগুলির আর সাধ্য নেই ঐ বিরাট ঋণ শোধ করার। এতে অবশ্য মহাজন জাতিগুলির ক্ষতিবৃদ্ধি নেই, তাদের কোন লোকসান হবে না। কারণ ঋণ দেবার সময়ই তারা যেসব শর্ত আরোপ কোরেছিলো এবং গদগদ চিত্তে প্রাচ্যের নেতৃত্ব যে সব শর্ত মেনে নিয়েছিলো তার বদৌলতে ইতোমধ্যেই তারা সুদে আসলে ঋণের টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। আজ আসল টাকা না পেলেও তাদের কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু কাগজে পত্রে বিরাট টাকা তাদের পাওনা হোয়ে আছে, যার ফলে প্রাচ্যের নেতৃত্ব করজোড়ে মহাজনদের সামনে দাঁড়িয়ে দয়া প্রার্থনা কোরছেন, আরও ঋণ চাইছেন। আরও ঋণ চাইছেন এই জন্য যে, আরও ঋণ না হোলে তাদের চোলবে না। ঋণ নিয়ে এবং সে ঋণ সদ্ব্যবহার কোরে উন্নতির বদলে অবনতি হবার ফলে এখন এইসব দেশ এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য অর্থাৎ ভিক্ষা না নিলে এদের বাজেট করাই অসম্ভব, সুদের একটা আংশিক পরিশোধও অসম্ভব। তাই বাহ্যত টিকে থাকার জন্যই আরও ঋণ, আরও খয়রাত দরকার। নতুন নতুন ঋণ নিয়ে ঐ ঋণের টাকা দিয়েই কিছু কিছু সুদ এরা শোধ কোরছেন। কিন্তু নতুন ঋণ নতুন সুদের পাহাড় গড়ে উঠছে, যে ঋণ আসলে যার যার দেশের জনসাধারণের উপর চাপছে। আজ পাশ্চাত্যের কাছে প্রাচ্যের প্রায় সব কটি দেশের, বিশেষ কোরে মোসলিম দেশগুলির শুধু হাড্ডি-মজ্জা নয়, আত্মা পর্যন্ত দেনাবদ্ধ হোয়ে গেছে।
পাশ্চাত্যের তৈরি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত প্রাচ্যের মোসলেম জাতির নেতৃত্বের কথা বোলছিলাম। আরও বলার দরকার আছে। কারণ ইহুদি খ্রিস্টান সভ্যতার গোলাম হোয়ে এই অন্ধ নেতৃত্ব তাদের যার যার দেশের অশিক্ষিত ক্ষুধার্ত জনগণকে কোথায় টেনে নিয়ে যাচেছন তা অবশ্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ। তারা অবশ্যই জান্নাতের পানে নিয়ে যাচেছন না, একথা আহাম্মকও বুঝবে। কারণ তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্যই হোচেছ উন্নত দেশগুলির মতো জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন। সোজা কথায় উন্নত অর্থাৎ পাশ্চাত্য জাতিগুলির জীবন দর্শন অনুসরণ করা, যে দর্শন হোচেছ উদয়াস্ত- কঠিন পরিশ্র্রম কোরে প্রচুর সম্পদ আহরণ কর ও প্রাণ ভরে জীবন ভোগ কর। এটা যে তারা কখনো পারবেন না তা কারণসহ পেছনে বোলে এসেছি। ঐ চেষ্টা কোরতে যেয়ে বিরাট অংকের টাকা ধার কোরে আজ এমন অবস্থায় এসে পৌঁছেছেন যে, তারা যদি উন্নয়নের কোন প্রচেষ্টা না কোরতেন, কোন টাকা ধার না কোরতেন তবে এই দেশগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানের চেয়ে ভালো থাকতো। অন্ততঃ এখনকার মত প্রতিটি মানুষের মাথার উপর হাজার হাজার টাকার ঋণের বোঝা থাকতো না। তর্কের খাতিরে যদি ধোরে নেই যে, বর্তমান ‘মোসলেম’ দুনিয়ার নেতৃত্ব সফলকাম হোলেন অর্থাৎ তাদের দেশগুলিতে পশ্চিমের উন্নত দেশগুলির মতো ধনী বানিয়ে দিলেন, তাহোলে কী হবে? ঐ দেশগুলি উন্নত শুধু একটি দিক দিয়ে- বস্তুতান্ত্রিক দিক দিয়ে, ঘর-বাড়ী, গাড়ী, প্লেন, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, আরাম আয়েশের দিক দিয়ে, জীবন উপভোগের দিক দিয়ে। মানবজীবনের অপর দিকের প্রতি তারা অন্ধ। আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা ত্যাগ কোরে তারা নিজেরা জীবন বিধান তৈরি কোরে নিয়েছে। সেই একপেশে ভারসাম্যহীন জীবন বিধান, দীনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে বস্তুতান্ত্রিক ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানে উন্নতির ফল হিসাবে তারা আজ এমন ভয়াবহ অস্ত্র তৈরি কোরেছে যা দিয়ে সমস্ত- মানব জাতিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা যায়। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থা আরও মর্মান্তিক। জাতীয় জীবন থেকে ধর্মকে নির্বাসন দেবার পর থেকে যে পতন আরম্ভ হোয়েছে তা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, আজ পাশ্চাত্যে পারিবারিক বন্ধন প্রায় অনুপস্থিত, যৌন নৈতিকতা ধরতে গেলে কিছুই নেই। চৌদ্দ পনের বছরের অবিবাহিতা মেয়েদের মধ্যে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ জনের সতীত্ব নেই। প্রতি তিনটি সদ্য প্রসূত শিশুর মধ্যে একটা জারজ। এসব হিসাব তাদেরই করা, আমার নয়। খুন, জখম, ছিনতাই ইত্যাদি অপরাধের হার এখনও গরীব দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশী। প্রাচ্যের বিশেষ কোরে ‘মোসলেম’ দেশগুলির বর্তমান নেতৃত্ব উর্দ্ধশ্বাসে ছুটে চোলেছেন যার যার দেশের অশিক্ষিত সরল অজ্ঞ জনসাধারণকে নিয়ে ঐ আত্মাহীন নারকীয় সভ্যতার দিকে। আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো শান্তি, তাই এর নাম ইসলাম (শান্তি)। শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিতে শান্তি- আসবে না। তা আসলে আজ সবচেয়ে ধনী ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানে মহাশান্তি- বিরাজ কোরত। তা কোরছে না। প্রতি রকমের জঘণ্য অপরাধে ডুবে আছে তো বটেই তার উপর যে কোন মুহূর্তে পারমাণবিক বোমায় মৃত্যুর ভয়ে মানুষ ঘুমাতে পারছে না। ওদের কথা না হয় বাদ দিলাম, এই প্রাচ্যের মোসলেম দুনিয়ায়ই একটা অংশ তো তেলের বদৌলতে পাশ্চাত্যের মত ধনী হোয়ে গেছে। তারা তো টাকা রাখবার জায়গা না পেয়ে তাদের মহামূল্যবান গাড়িগুলিকে পর্যন্ত- সোনার পাত দিয়ে মুড়ে রেখেছে। তাতে আল্লাহর কী হোয়েছে? রসুলাল্লাহর (দ:) বা কী হোয়েছে? যে জন্য মোসলিম জাতিরই সৃষ্টি হোয়েছে সেই উদ্দেশ্য অর্জন করাতো দূরের কথা, ঐ বিপুল সম্পদ দিয়ে, এলাকায় ও জনসংখ্যায় চল্লিশ গুণ বেশী হোয়েও ছোট্ট ইসরাইলের লাথি খেতে খেতে তাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তাহোলে বাকি মুসলিম দুনিয়ার নেতৃত্ব কোন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পেছনে পড়ি কি মরি হোয়ে ছুটছেন?
না উন্নতি নয়, নিজের তুলে ধরা অকাট্য যুক্তিকে সমর্থন কোরে বোলছি এই প্রাচ্যের মোসলেম নামধারী জাতিটি নির্ঘাত ধ্বংসের পানে ছুটে চোলছে। জাতি তো আদর্শগত দিক দিয়ে অনেক আগেই ধ্বংস হোয়েছে আমি সেই ধ্বংসের কথা বোলছি না, বোলে কোন লাভও নেই। আমি এই জাতির শারীরিক ধ্বংসের কথা বোলছি, যা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেই পাশ্চাত্যের প্রভুদের লেজ ধোরে এরা এগোচ্ছে একবার ভালোভাবে খেয়াল কোরলেই দেখতে পারবে তারা ঐ প্রভুদের সাথে কোথায় যাচ্ছে? পশ্চিমা সভ্যতা আজ উইয়ের ঢিবিতে পরিণত হোয়েছে, যে কোন মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পোড়বে। তখন শুধুু প্রভুরাই নয় তাদের পায়ের নিচে থাকা এই মোসলেম নামধারীরাও অস্তিত্বহীন ইতিহাসে পরিণত হবে। কাজেই সময় এসেছে এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া আত্মাহীন সভ্যতাকে প্রত্যাখ্যান করার। আমাদেরকে এই মহাসত্যটি উপলব্ধি কোরতে হবে যে, আমাদের নিজস্ব দীন আছে, আছে সভ্যতা। আমরা যদি স্রষ্টার পাঠানো সেই সিস্টেমকে গ্রহণ কোরে নেই তবে শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই নয়, আত্মিক উন্নতিও হবে, মানবতা মুক্তি পাবে। পৃথিবীকে গর্ব কোরে বোলতে পারবো আমরা ‘মানুষ’ আমরা আল্লাহর খলিফা।

Search Here

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ধর্মবিশ্বাসে জোর জবরদস্তি চলে না

April 15, 2019

মোহাম্মদ আসাদ আলী ইসলামের বিরুদ্ধে বহুল উত্থাপিত একটি অভিযোগ হচ্ছে- ‘ইসলাম বিকশিত হয়েছে তলোয়ারের জোরে’। পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া, লেখক, সাহিত্যিক এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত ও পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত গোষ্ঠী এই অভিযোগটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের প্রচারণায় অনেকে বিভ্রান্তও হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের প্রতি অনেকের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি […]

আরও→

সময়ের দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন রেনেসাঁ

April 14, 2019

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম অন্যায়ের দুর্গ যতই মজবুত হোক সত্যের আঘাতে তার পতন অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.) কে দিয়ে মহাশক্তিধর বাদশাহ নমরুদের জুলুমবাজির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটালেন। সেটা ছিল প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা যার নিদর্শন আজও হারিয়ে যায়নি। তৎকালে সেটাই ছিল বিশ্বের শীর্ষ সভ্যতা। তারা অহঙ্কারে এতটাই স্ফীত হয়েছিল যে উঁচু মিনার তৈরি করে তারা আল্লাহর আরশ দেখতে […]

আরও→

Categories