বিভ্রান্তির অবসান: ফেরকার প্রাচীর ভেঙে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করছে হেযবুত তওহীদ | হেযবুত তওহীদ

বিভ্রান্তির অবসান: ফেরকার প্রাচীর ভেঙে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করছে হেযবুত তওহীদ

মো. মশিউর রহমান
আমাদের সম্পর্কে অনেকের মনে অনেক রকম জিজ্ঞাসা থাকে। অনেকেই আমাদের কথা শুনে মন্তব্য করেন যে আমরা নতুন একটি ধর্মমতের দিকে আহ্বান করছি। অনেকে আবার বলেন, বর্তমানে মুসলিম জনগোষ্ঠী ইতমধ্যেই শত শত ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত, আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম জাতিতে আবার নতুন একটি ফেরকার সংযোজন করছি না তো?
জনগণের এ সকল প্রশ্নের জবাবে বলব তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের মনে এ ধরনের প্রশ্ন আসার মুল কারণ হচ্ছে আমাদের কথা অনেকের কাছেই নতুন। বংশপরম্পরায় ও প্রচলিত সমাজের ভাবধারায় একটি বিষয় সম্পর্কে তারা একভাবে শুনে অভ্যস্ত এর ফলে আমরা যখন সে বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করি তখন তাদের কাছে তা নতুন বলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। যেমন ধরুন অনেককেই আমরা জিজ্ঞেস করি যে ইসলামের স্তম্ভ কয়টি? তখন তারা জবাব দেয় পাঁচটি। কিন্তু যখন এই পাঁচটি কী কী জিজ্ঞেস করা হয় তখন তারা বলেন, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত। প্রথমটি ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটির কথা অনেকেই বলতে পারেন না। সেই প্রথমটি হচ্ছে ঈমান, কালেমা বা তওহীদ। তখন আমরা সর্বপ্রথম এই তওহীদকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানাই। কারণ তওহীদ ছাড়া নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত বাকি সকল আমল ব্যর্থ। এই প্রথম তারা তওহীদের গুরুত্ব সম্পর্কে কারো থেকে কোন বক্তব্য শুনে। আবার বহুবছর ধরে সমাজে একটি ভুল ধারা প্রচলিত রয়েছে যে যারা ধর্মের কাজ করে তাদের সেই কাজের বিনিময় দেয়াটা জায়েজ, শুধু জায়েজই নয় সেই কাজের জন্য তাদের বিনিময় দেয়াটা সওয়াবের কাজ। এমনকি যারা বিনিময় নেয় তারাও মনে করে মিলাদ পড়িয়ে, মুর্দা দাফন করে টাকা কামানো তাদের অধিকার। সেখানে আমরাই প্রথম বলছি যে ধর্মের নামে টাকা নেওয়া হারাম, সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তখন মানুষের মনে ধাক্কা লাগে। তাদের চিন্তার জগতে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে ধর্মের বিনিময় হারাম হলে আলেমগণ তাদের ঘর-সংসার চালাবেন কী করে। এ ধরনের কথার ফলে তারা মনে করে আমরা নতুন ধর্মমত নিয়ে আগত হয়েছি। কিন্তু আমরা জানি যে আল্লাহর রসুল (স.) এর আগমনের মাধ্যমে নবুয়াতের ধারা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাঁর পর আর কোন নবী বা রসুল আসবেন না। তিনি যে হেদায়াত ও সত্যদীন নিয়ে এসেছেন তাই কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবুও তাদের এই প্রশ্নের একমাত্র কারণ হচ্ছে আমরা আল্লাহর কোর’আন ও রসুলের জীবনী থেকে সত্যকে তুলে ধরছি যে সত্য কালের পরিক্রমায় বহু আগেই হারিয়ে গিয়েছে।
আমাদের কথা শুনে আবার যারা বলেন আমরা নতুন ফেরকা তৈরি করছি তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো আল্লাহর দৃষ্টিতে দল কিন্তু দুটি। সুরা তাগবুনের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাদের মধ্যে একদল মো’মেন ও অন্যদল কাফের।” আমরা নিজেরা হাজার দল-উপদল, ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত হতে পারি কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টিতে দল শত শত নয় মাত্র দুটি। তেমনি পথ ও দুটি। হয় সত্যের পথ, ন্যায়ের পথ, সিরাতুল মুস্তাকিম। নয়তো মিথ্যার পথ, অন্যায়ের পথ, দালালাহ (পথভ্রষ্টতা)। এর ফলস্বরূপ পরিণতিও দুটি, হয় জান্নাত নয়তো জাহান্নাম। যারা সত্যের পথে থাকবে, তওহীদের উপর থাকবে অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানি না- এই কথার উপর থাকবে তারা হবেন মো’মেন। তাদের জাতি হবে একটি, এমাম (খবধফবৎ) হবেন একজন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও হবে একটি আর হুকুম চলবে শুধুমাত্র আল্লাহর। তাদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি, ডানপন্থী-বামপন্থী ইত্যাদি মতবাদের তো কোন প্রশ্নই আসে না। আর এর বাইরে যারা থাকবে তারা সকলেই পথভ্রষ্ট, কাফের। তারা সিরাতুল মুস্তাকিমের বদলে দালালা তে রয়েছে ও তাদের হুকুমদাতা হচ্ছে ইবলিস।
আমরা হেযবুত তওহীদ বলছি পৃথিবী জুড়ে বর্তমানে যে মুসলিম জনসমষ্টি রয়েছে তারা বহু আগেই তওহীদকে ত্যাগ করেছে। আল্লাহর রসুলে ওফাতের ৬০-৭০ বছর পরই মুসলিম জাতি আর এক জাতি ছিল না। আকিদা বিচ্যুতির ফলে তওহীদ প্রত্যখ্যান করায় তারা তখনই সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে দুরে সরে গিয়েছে। আজকে এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে পুনরায় আমরা সে সত্যকে তুলে ধরেছি। আমরা বলছি যে মানবজাতি হেদায়াহ-তে নেই, আল্লাহর হুকুমকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে, মানবজাতি আজ ইবলিস তথা দাজ্জালকে নিজেদের প্রভু হিসেবে গ্রহন করে সিরাতুল মুস্তাকিমের বদলে দালালাতে নিমজ্জিত রয়েছে। আমরা এখন মানবজাতিকে এ সত্য প্রচারের মাধ্যমে তাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
তাহলে পৃথিবীতে এখন দল হল দুটো। একটি হেযবুত তওহীদ, তওহীদের উপর বিশ্বাসীদের দল, এবং অপরটি হচ্ছে দুনিয়ার অন্যান্য যেসকল দল রয়েছে সেগুলো। আমরা কোন নতুন দল সৃষ্টি করি নি। আমরা, আল্লাহর রসুল যে সত্য নিয়ে এসেছিলেন, সেই সত্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য দাঁড়িয়েছি। আমি নিবেদন করব যারা আমাদের সম্পর্কে এরকম ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করেন যে আমরা নতুন ধর্মমত নিয়ে হাজির হয়েছি তারা আমাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানবেন। আমাদের ব্যাপারে না জেনে কোনো মন্তব্য করবেন না। আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে স্পষ্ট বলেছেন, “ধ্বংস হোক তাদের যারা অনুমানে কথা বলে (সুরা যারিয়াত ১০)।”
নতুন ধর্মমতের কোন প্রয়োজন নেই কারণ আল্লাহ তাঁর শেষ রসুলের মাধ্যমে এই শেষ দীন প্রেরণ করেছেন যা সমস্ত মানবজাতির জন্য উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। আমরা আল্লাহর রসুলের সেই আদর্শকেই গ্রহণ করেছি ও মানবজাতিকে পুনরায় সেই পথের দিকেই আহ্বান করছি। এর ফলে পুনরায় মানবজাতি সঠিক পথে আসতে পারবে, সিরাতুল মুস্তাকিমে উঠার মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারবে। আমরা আল্লাহর কিছু নগণ্য গুনাহগার বান্দা আজ এতবড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আসুন আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হন এবং পুনরায় তওহীদের পথে এসে নিজেদের ইহকাল ও পরকালকে সমৃদ্ধ করুন।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ