বানান রীতি প্রসঙ্গে দু’টি কথা | হেযবুত তওহীদ

বানান রীতি প্রসঙ্গে দু’টি কথা

সম্মানিত পাঠক, আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, বই-পুস্তকসহ বিভিন্ন প্রকাশনায় বানানরীতি নিয়ে অনেক সময় আমাদেরকে কল কোরে থাকেন। অনেকে আবার এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোরও চেষ্টা করে। কাজেই সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমাদের কথা হোল- আমরা পত্রিকায় যে বানানরীতি প্রয়োগ কোরে থাকি তা মোটেও ভুল নয়। আমরা সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই এসলাম, এমাম, মোসলেম ইত্যাদি বানানগুলি ব্যবহার কোরে থাকি এবং এই বানানরীতি বাংলা অভিধানসিদ্ধ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবী শব্দের বানানের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতির উচ্চারণে ভুল রোয়েছে। আরবী যে বর্ণের নিচে যের থাকবে বাংলায় সেখানে এ-কার (,ে a), এবং খাড়া ‘যের’ বা ‘যেরের পরে ইয়া’ যুক্ত থাকবে সেখানে ‘ই’ বা ‘ঈ’-কার (ি / ী) ব্যবহার কোরতে হবে। আমাদের ব্যবহৃত বানানরীতি নতুন কিছু নয়। মাত্র ৩০/৪০ বছর আগেও সর্বত্র আরবি ‘যের’ এর উচ্চারণ এ-কার দিয়েই করা হোত। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আকরাম খাঁ রচিত বিখ্যাত ‘মোস্তফা চরিত’ গ্রন্থটিতেও ইসলামের বানানে ‘এসলাম’-ই লেখা হোয়েছে। কবি কাজী নজরুল ইসলামও তার নামের বানানে ‘এসলাম’ লিখতেন। তখনকার একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকার নাম ছিলো ‘মোসলেম ভারত’ যা সকলেই অবগত আছেন। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত অভিধানে ‘ইসলাম’ এবং ‘এসলাম’ দুটো বানানই উল্লেখ করা হোয়েছে। অনেক আরবি শব্দ আমরা এখনও এ-কার এবং ও-কার দিয়ে উচ্চারণ কোরি। যেমন: মোবারক, কাফের, মোশরেক, আলেম, জালেম, এবাদত, গায়েব, এশা, মাহে রমজান, হাফেজ ইত্যাদি। কিছুদিন হোল আরবি থেকে এই ‘এ’-কার এবং ‘ও’-কারের ব্যবহার বাদ দেওয়া হোচ্ছে। এ পদ্ধতি যারা চালু কোরেছেন তারা যে শুধুমাত্র একটি ভুলই কোরেছেন তাই নয়, তারা আরবি ভাষা থেকে দুটি উচ্চারণই বাদ দিয়েছেন। এমনিতেই আরবি ভাষা উচ্চারণের দিক দিয়ে খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। চ, ট, ঠ, থ, প, ড় ইত্যাদি অনেক উচ্চারণই এ ভাষায় নেই। তার মধ্যে এই ভাষা থেকে এ-কার এবং ও-কারের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চারণ উঠিয়ে দিয়ে আরবি ভাষাকে আরো দরিদ্র করা হোচ্ছে। তাই আমরা আরবি ভাষার চিরাচরিত ও শুদ্ধ উচ্চারণ অনুসারেই আরবি শব্দের বানান লিখে থাকি।
দ্বিতীয়ত, কোনো কোনো শব্দ যেভাবে মুখে উচ্চারণ করা হয় সেভাবে লেখা হয় না। আবার যেভাবে লেখা হয় সেভাবে মুখে উচ্চারণ করা হয় না। যেমন ‘করি’ শব্দটির উচ্চারণের সময় ক্ +ও=কো করা হয় কিন্তু লেখার সময় লেখা হয় ক্+অ=ক। এতে লেখা এবং বলার মাঝে অসামাঞ্জস্যতা থেকে যায়। আবার যেমন বর্তমানে লেখা হয়- “সে সুর করে কোর’আন পাঠ করে।” এখানে দুই বার ‘করে’ শব্দটি ব্যবহৃত হোয়েছে। প্রথমটির উচ্চারণ ‘কোরে’ আর দ্বিতীয়টির উচ্চারণ ‘করে’। দু’টো পৃথক উচ্চারণকে একই বানান দিয়ে লেখা নিশ্চয়ই যুক্তিসঙ্গত নয়। যেহেতু বাংলা সর্বদিক থেকে একটি সমৃদ্ধ ভাষা এবং এর যাবতীয় শব্দই তার উচ্চারণ অনুসারে হুবহু লেখা সম্ভব। তবু কেবলমাত্র ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে বলা ও লেখার মধ্যে যে অকারণ ব্যবধান রাখা হয় আমরা তা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ কোরেছি। এজন্যই আমরা করে, বলে, হয়েছে, হল ইত্যাদির বদলে কোরে, বোলে, হোয়েছে, হোল ইত্যাদি বানান ব্যবহার কোরছি। [যোগাযোগ: হেযবুত তওহীদ, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩৭৬৭৭২৫, ০১৭৮২১৮৮২৩৭, ০১৫৫৯৩৫৮৬৪৭]