প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদ কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকোণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাহলে জাতীয় নির্বাচনে তারা ভোট দিবে কিনা? দিলে তারা কোন দলকে সমর্থন দেবেন? যদি না দেন তাহলে তারা দেশের নাগরিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন না, আর যদি দেন তাহলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়েই গেল। | হেযবুত তওহীদ

প্রশ্ন: হেযবুত তওহীদ কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকোণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাহলে জাতীয় নির্বাচনে তারা ভোট দিবে কিনা? দিলে তারা কোন দলকে সমর্থন দেবেন? যদি না দেন তাহলে তারা দেশের নাগরিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেন না, আর যদি দেন তাহলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়েই গেল।

উত্তর: আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা শর্ত হলো এই প্রচলিত রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করব না। কিন্তু আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কাউকেই ভোট দেব না – এই অধিকার অবশ্যই আমার আছে। একবার অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও ‘না-ভোট’ দেওয়ার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তারপর কী কারণে যেন সেটা আবার উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম। এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী বলেছিলেন, ‘না-ভোট’ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে আমরা দলেবলে গিয়ে ভোট দেব। এখন কেন তারা ‘না – ভোট’ উঠিয়ে দিলেন? কারণ সম্ভবত ভোটে না ভোটের বাক্স ভর্তি হয়ে যাবে।
ভোট দিতে আমাদের অসুবিধা নাই। আমাদের দাবি শুধু একটা- যারা প্রার্থী হবেন তারা একটি অঙ্গীকার করবেন যে তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানবেন না আর স্বার্থের রাজনীতি পরিহার করবেন। তারা যদি এই কথার উপরে এশতেহার দাঁড় করাতে পারেন যে, তারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, জাতির ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না, নিজেদের ঘরে খাবেন, নিজের পকেটের টাকা খরচ করে জাতির কল্যাণে কাজ করবেন, নিজের টেলিফোন বিল ব্যবহার করবেন, নিজের গাড়ির তেল খরচ করবেন, মানুষের টাকায় রাজনীতি করবেন না- তাহলে আমরা তাদেরকে ঘোড়া সাজিয়ে, হাতি সাজিয়ে, ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে ভোট দিতে যাব। আমার কোনো আপত্তি নাই।
কেউ বলতে পারেন যে নিজের ঘরে খাব গাড়ির তেল পোড়াব, নিজের টেলিফোন ব্যবহার করব আমার কী দায় পড়েছে? আমি সেক্ষেত্রে বলব, আপনার যদি দায় না পড়ে তাহলে রাজনীতির নামে মানুষ খুন করে নেতা হওয়ার এত খায়েসটা কেন? আপনারা সামান্য একটা পদের জন্য নিজের দলের লোক পর্যন্ত খুন করে ফেলেন। এইটাই আমার কথা। স্বার্থ যদি নাই থাকে আপনি সরে যান সামনে থেকে। নিশ্চয়ই সমাজে ভালো মানুষ আছেন, তারা এগিয়ে আসবেন। শিক্ষিত, ভদ্র, মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিক মানুষ সমাজে আছেন। তারা মানুষের ক্ষতি করবেন না, দেশের ক্ষতি করবেন না, মরে গেলেও ওয়াদা খেলাফ করবেন না, তারা আল্লাহর নাফরমানি করবে না। আমি বিশ্বাস করি এই মানুষ বাংলার মাটিতে আছে। স্বার্থান্বেষী কিছু রাজনীতিকদের কারণে তারা উঠে আসতে পারছেন না। কাজেই আমাদের দাবি পরিষ্কার। আমাদের চাওয়া জটিল নয়, প্যাঁচালো নয়। নির্বাচনে ভোট দিতে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এই সংস্কৃতি, এই দ্বন্দ্বের রাজনীতি, হানাহানির রাজনীতি পরিহার করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে আমরা ভোট দিয়ে আপনাদেরকে নির্বাচিত করব। তখন এটা হবে আমাদের জন্য এবাদত। আপনারা হবেন আমাদের আমীর, আমাদের নেতা। আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করব। আপনারা আমাদের কল্যাণকামী হবেন। উমরের (রা.) মত পিঠে আটার বস্তা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরবেন। আমার আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু যতক্ষণ বর্তমানের নেতাদের মতো স্বার্থান্ধ, ধান্ধাবাজ রাজনীতিকরা আছেন ততক্ষণ আমাদের টেনশন আছে। আমাদের কথা সার্বজনীন কথা, সকলের জন্য কল্যাণকর কথা। জানি না আমার এ কথা কার কানে যাবে।