প্রশ্ন: আপনারা যে কাজ করছেন তা প্রশংসনীয় কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসায় করছেন না কেন? | হেযবুত তওহীদ

প্রশ্ন: আপনারা যে কাজ করছেন তা প্রশংসনীয় কিন্তু মসজিদ মাদ্রাসায় করছেন না কেন?

উত্তর: আমরা মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ করছি না, এটা সম্পূর্ণ সত্য নয়। বেশ কিছু মাদ্রাসায় আমরা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করেছি। পত্রিকা তো যাচ্ছেই। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কাজ করা আমাদের নীতি নয়। আমরা আমাদের কর্মকাণ্ডে সর্বশ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততা আশা করি। মসজিদের ইমাম, খতিব, বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রধান এরকম অনেক আলেমদেরকে নিয়ে আমরা রাজধানীতে আলোচনা অনুষ্ঠান করেছি, বহু স্থানে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। অনেক আলেম আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধও হচ্ছেন।
আসলে বর্তমানে মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা হচ্ছে, ইসলাম মানেই দাড়ি, টুপি, মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম ওলামা, সুর করে কোর’আন তেলাওয়াত, আযান দেয়া, হজ্জ করা ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলাম শব্দের অর্থ হলো শান্তি অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার, ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শৃংখলা, আনুগত্য, কোথাও অভাব নেই, অনটন নেই, দুঃখ নেই, যন্ত্রণা নেই এমন একটা পরিস্থিতির নাম ইসলাম। আপনারা জানেন, ১৬ কোটি বাঙালি কেবল মসজিদ মাদ্রাসায় থাকে না। তারা বাড়িঘরে থাকে, পার্টি অফিসে থাকে, প্রেসক্লাবে থাকে, উপাসনালয়ে থাকে, সিনেমা হলে থাকে, সংসদে থাকে, তারা হাটে বাজারে থাকে, রাস্তাঘাটে সর্বত্র থাকে। মানুষ যেখানে আছে সেখানেই সত্য পৌঁছানো আমাদের কর্তব্য। এ কারণে আমরা সবজায়গাতেই কাজ করার চেষ্টা করি। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে গ্রাম-পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত সর্বত্র কাজ করার চেষ্টা করছি।
তবে বাস্তবতা হলো- মসজিদ মাদ্রাসাগুলো যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা অধিকাংশই ধর্মীয় বিভিন্ন উপাসনামূলক কার্যাদি করে অর্থ রোজগার করে থাকেন যেটা আল্লাহ হারাম করেছেন। তারা ভাবছেন আমাদের আদর্শের প্রচারে তাদের স্বার্থ নষ্ট হবে। এই কারণে মসজিদ মাদ্রাসায় কাজ করতে গেলে সহযোগিতার পরিবর্তে শত্রুতাই করা হয়, এমন কি কোনো কোনো স্থানে মানুষকে মিথ্যা বুঝিয়ে ফেতনা সৃষ্টি করে আমাদের সদস্যদেরকে হয়রানিও করা হয়েছে। ফলে ওসব প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার, কথা বলার পরিবেশটাই থাকে না। তথাপিও আমরা আশাবাদী যে সত্যনিষ্ঠ আলেমদের সহযোগিতা পেলে মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ব্যাপক আকারে কাজ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।