পাবনার পৌর মিলনায়তন মুক্তমঞ্চে জনসভা

০৯ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে পাবনায় এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনা জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে জেলা শহরের রফিকুল ইসলাম পৌর মিলনায়তন মুক্তমঞ্চে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসা ও ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের চলমান জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। পাবনা জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি শামসুজ্জামান মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জঙ্গিবাদকে পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদীদের সৃষ্টি বলে অভিহিত করেন এবং এর মাধ্যমে ইসলামেরই ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। বর্তমান মুসলিম বিশ্বের দুর্দশা ও এর কারণ তুলে ধরে তারা মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার অপরিহার্যতার কথাও ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, যে মুসলিম জাতি এক সময় বিশ্বের নেতৃত্ব দিত, তাদের আজকের করুণ পরিণতির কারণ নিজেদের মধ্যকার দলাদলি, ফেরকাবাজি ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকা-। অভ্যন্তরীণ অনৈক্য আর ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত দূর করতে না পারলে এ দুর্দশা ঘুচবে না বলে মতামত ব্যক্ত করেন তারা। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে জাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে ১৬০ কোটি মুসলমানের আমলে কম বেশি থাকতে পারে, কিন্তু তারা সবাই কোর’আন বিশ্বাস করে, এক আল্লাহতে বিশ্বাস করে। এখন তাদের এই ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে তোলা যেতে পারে, তাদেরকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে তাদের ঈমানকে ব্যবহার করে জঙ্গি হামলা করা হচ্ছে তাতে কী লাভ হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। জঙ্গিবাদীরা সংখ্যায় কম হলেও ইসলামের নাম করে, জেহাদের নাম করে কিছু মানুষ ভিন্ন ধর্মের মানুষদের উপর হামলা করছে, বোমাবাজি করে ত্রাসের সৃষ্টি করছে। এটা করে তারা কোরআনের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।” প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “সারা বিশ্বের মুসলমানদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে সা¤্রাজ্যবাদীরা অস্ত্র ব্যবসা করছে।” তিনি ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানের উদ্বাস্তু মুসলমানদের বর্তমান দুর্দশা তুলে ধরে বলেন, “এই হচ্ছে জঙ্গিবাদী ও সা¤্রাজ্যবাদীদের কর্মকা-ের পরিণতি।” ড. মাহাথির মোহাম্মদের কথা সূত্র ধরে তিনি বলেন, “মুসলমানরা শিয়া সুন্নী বিরোধ করে হাজারো ভাগে ভাগ হয়ে, একে অপরের সাথে হানাহানি করে ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে। পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে এখনও তাদের সামনে মুক্তির একটি পথ খোলা আছে। তা হলো তারা যদি পারস্পরিক দোষাদোষী ত্যাগ করে, একে অপরকে কাফের না বলে আপাতত জাতির অস্তিত্বরক্ষার জন্য হলেও ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আজ এমনভাবে একদলের আলেম ও পীরেরা আরেকদলের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করেন যে আমরাও বিভ্রান্ত হয়ে যাই যে কে আলেম আর কে জালেম।”

হোলি আর্টিজানে আগত বিদেশিদের হত্যা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা আমাদের দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য এসেছিল তাদেরকে কাফের আখ্যা দিয়ে হত্যা করা ইসলামের কোন নীতিতে রয়েছে? রসুলাল্লাহর জীবদ্দশায় একজন সাহাবীর অধীনে একজন বিধর্মী যুদ্ধবন্দী ছিল। সেই সাহাবী ও তাঁর স্ত্রী নিজেরা না খেয়ে বন্দীকে খাইয়েছেন।” তিনি হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেটাও তিনি একে একে তুলে ধরেন। জনগণ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের মুখ্য বক্তা হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বর্তমানের অস্থির বিশ্বপরিস্থিতি ও জাতীয় সংকটকালে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও প্রাঞ্জল বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্তির পাশাপাশি সঠিক একটি আদর্শ লাগবে যেটা কেবল হেযবুত তওহীদকে আল্লাহ দান করেছেন। আল্লাহর রসুলের আনীত সত্যিকার ইসলামের এই আদর্শটি যদি আমরা ধারণ করতে পারি তাহলে আমাদের দেশ ইরাক সিরিয়ার মতো হবে না। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করবেন। সেই আদর্শটি কী সেটাই বলার জন্য আমরা সারা দেশে আশি হাজারের উপরে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছি। যার ফলে সারাদেশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ সচেতন হয়ে উঠছে। এটা অত্যন্ত শুভ লক্ষণ।” তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের তা-বে পড়ে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানের মতো দেশগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়েও এক ধরনের ষড়যন্ত্রের দৃশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি।” জঙ্গিবাদ দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়ে মন্তব্য করে এর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বর্ষিয়ান জননেতা রেজাউল করিম লাল। তিনি বলেন, “হেযবুত তওহীদ যখন প্রথম এসে পাবনাতে কাজ শুরু করল তখন ভেবেছিলাম যে এরা আবার কারা, তারা কী উদ্দেশ্যে এসেছে, শেষ পর্যন্ত আবার কী যেন করে বসে। কিন্তু কয়েক বছর তারা এই পাবনাতে যেভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করেছে আমরা তাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাদের অনেক অনুষ্ঠানে গেছি, তাদের বক্তব্য শুনেছি। এখন আমরা জানি তারা যে কাজ করছে তা জাতির জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমরা চাই তাদের এই প্রচারকার্য বহুগুণ বৃদ্ধি করা হোক, আরো বড় বড় জনসভার আয়োজন তারা করুন। এজন্য আমরা সবাই তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব ইনশাল্লাহ।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো বক্তব্য রাখেন পাবনা কামিল আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মো. আনসারুল্লাহ। ইসলামে আত্মহত্যা কেন নিষিদ্ধ এবং আত্মঘাতী হামলা যারা করছেন তাদের ভুলগুলো নিয়ে তিনি কোর’আন হাদীসের ভিত্তিতে বক্তব্য রাখেন। মুসলমানদের এই সংকটে, বিশ্বময় তাদের উপর চলমান নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং এ লক্ষ্যে হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার রেখা, পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি শরীফ উদ্দিন প্রধান, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান প্রধান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান সুইট, হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, পাবনা জেলা হেযবুত তওহীদের সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান আলী প্রমুখ।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রচ- গরম উপেক্ষা করে পাবনা সদর এবং আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাবনা শহরের প্রধান সড়কের উভয়পাশে স্থাপিত বহু লাউড স্পিকারের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ বক্তব্য শ্রবণ করেন।

জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য

 

Search Here

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

রংপুর তারাগঞ্জে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী জনসভা

May 26, 2017

২৬ মে, ২০১৭ জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল রংপুরের তারাগঞ্জে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টায় তারাগঞ্জ উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তারাগঞ্জ উপজেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. আব্দুর ওয়াহাব মিন্টুর সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য […]

আরও→

রাজধানীর মানিকনগরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক বিশাল জনসভা

May 19, 2017

১৯ মে ২০১৭ তারিখে রাজধানীর মুগদায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেলে মুগদায় অবস্থিত মানিকনগর মডেল হাইস্কুল প্রাঙ্গণে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। এই আন্দোলনটি গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সবকটি জেলা, থানা এমনকি গ্রামে-গঞ্জে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার […]

আরও→