নরসিংদীতে দৈনিক বজ্রশক্তির ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ও বেলাব উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন | হেযবুত তওহীদ

নরসিংদীতে দৈনিক বজ্রশক্তির ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ও বেলাব উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন

‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর’ এই স্লোগান নিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে দৈনিক বজ্রশক্তি’র পথচলা শুরু। মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে এই অগ্রযাত্রার চার বছর অতিক্রম করে গত ১৯ নভেম্বর ৫ম বছরে পদার্পণ করেছে জাতীয় এ সংবাদপত্রটি। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নরসিংদীর বেলাবতে পত্রিকাটির উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন ও ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে নারায়ণপুর বাজার সোনালি মাঠ সংলগ্ন মাঠে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং দৈনিক বজ্রশক্তির পাঠক, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ। দৈনিক বজ্রশক্তির প্রকাশক ও সম্পাদক এসএম সামসুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদ এর এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

হেযবুত তওহীদের এমাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাজারের প্রচলিত যে কোনো পত্রিকার চেয়ে দৈনিক বজ্রশক্তির পার্থক্য হচ্ছে, এটা কোনো বাণিজ্যিক ধারার পত্রিকা নয়। সমাজে বিরাজমান যাবতীয় অন্যায়, অবিচার ও অসত্য, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার জন্য পত্রিকাটি কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। তারপর গত ৪৬ বছর একটি দিনের জন্যও ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেওয়া হয় নি। ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে উস্কে দিয়ে দাঙ্গা লাগিয়েছেন, স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বার্থের রাজনীতি, হানাহানি, রক্তারক্তি করে, বিভেদ সৃষ্টি করে আমার জাতিটাকে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছে। এসবের সুযোগ নেয় সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। তারা আজকে এই দলের উপর ভর করে, কালকে অন্য দলের উপর। এভাবে ইরাক ধ্বংস হয়েছে, আফগান ধ্বংস হয়েছে, আজ সিরিয়া গণকবর, লিবিয়া গণকবর, ইয়েমেনে আগুন জ্বলছে, একটার পর একটা দেশ ধ্বংস করা হচ্ছে জঙ্গিবাদী তাÐব সৃষ্টি করে। আমাদের দেশেও এই ধরণের তাÐব সৃষ্টি করার পাঁয়তারা বহুদিন ধরে চলছে এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি ইন্ধন রয়েছে। জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে এদেশকেও যদি গণকবর বানানো হয় তাহলে কোথায় যাব আমরা? উদ্বাস্তু জীবন ছাড়া উপায় থাকবে কি? কাজেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামে জঙ্গিবাদ নেই। কিন্তু ‘ইসলামে জঙ্গিবাদ নেই’ এই কথা বলে বসে থাকলে চলবে না। জঙ্গিরা কোর’আনের আয়াত ব্যবহার করেই মানুষকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এই গোষ্ঠীর হাত থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে ইসলামের সঠিক আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দৈনিক বজ্রশক্তি মানুষের সামনে ইসলামের এই সঠিক আদর্শটি তুলে ধরার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন- রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আব্দুস ছাদেক, নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোছলে উদ্দিন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মজিবুর রহমান, রাধানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রী হরিদাস বিশ্বাস, রাধানগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জনাব ছিদ্দিকুর রহমান, নারায়ণপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি জনাব রোকন মিয়া, বেলাব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বেলাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদাক ডা: মো. খায়রুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।
গতকাল বিকাল ৩ টার সময় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। এর আগে সকাল ১১ টায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে তওহীদ সংস্কৃতি গোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ।

দৈনিক বজ্রশক্তি কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় -হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

গতকাল নরসিংদীর বেলাব’তে দৈনিক বজ্রশক্তির বেলাব উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন ও চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে আয়োজিত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে ভাষণ দান করেন হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তাঁর ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বজ্রশক্তির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
আজকে অত্র এলাকায় বজ্রশক্তি পত্রিকার কার্যালয় উদ্বোধন করা হলো। এজন্য পত্রিকা বিষয়ে প্রথমেই কিছু কথা বলে নেই। পত্রিকা আসলে কী? বর্তমানে আমরা চারদিকে পত্রিকার যত ছড়াছড়ি দেখতে পাই স্বাধীনতার সময় কিন্তু দেশে এত পত্র-পত্রিকা ছিল না। একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ছিল তার নাম ‘ইত্তেফাক’। স্বাধীনতার আগে আমরা যখন নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত হচ্ছিলাম তখন মানুষকে সেই অন্যায়-অত্যাচার থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখাতে পত্রিকা কত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা তৎকালীন সময়ের যারা বেঁচে আছেন তারা জানেন। এরপর স্বাধীনতা এল, কেটে গেল ছিচল্লিশ বছর। এরই মধ্যে বহু নতুন নতুন পত্র-পত্রিকা এসেছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ষান্মাসিক ইত্যাদি অনেক রকম। আরও আছে ফেসবুক, বøগ ইত্যাদি যেগুলোকে বলা হচ্ছে সোশাল মিডিয়া। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে আমরা প্রথম সারির মিডিয়া হিসেবে যেগুলোকে দেখি সেগুলো বিভিন্ন কর্পোরেট বাণিজ্যের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন  ব্যবসার মধ্যে এখন গণমাধ্যমও একটি ব্যবসা হয়ে উঠেছে। যার যার স্বার্থে সে সে পত্রিকা প্রকাশ করছে, নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার করছে, কিন্তু আদর্শ নিয়ে জাতির সঙ্কট নিয়ে, মানবজীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কথা বলছে না। এরকম অবস্থায় আমরা দৈনিক বজ্রশক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছি মানুষের সামনে আদর্শের আলোকবর্তিকা হয়ে। এটা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, আদর্শিক পত্রিকা। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বজ্রশক্তিতে ঢাকায় যারা কাজ করেন, প্রেসে যারা কাজ করেন, এমনকি যারা বিক্রয় করেন তারা সবাই নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেন, এর কোনো বিনিময় কেউ নেন না। তারা স্বেচ্ছায় শ্রম দেন কারণ এই পত্রিকায় আদর্শিক লেখাগুলো প্রকাশিত হয়, এই পত্রিকা দিয়ে অন্যায়, অবিচার, অসত্যের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করা হয়। তাদেরই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রামে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, রাজধানী পেরিয়ে, জেলা পেরিয়ে এখন বজ্রশক্তির কার্যালয় স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। আল্লাহ যেন এই এলাকায় আমাদের পথ চলাকে সুগম করেন। আমরা যে নিয়তে পথ চলা শুরু করেছি সেটা যেন সফলকাম করেন। আপনাদের কাছেও দোয়া চাই।
আজকে এমন একটি সময়ে আমি আপনাদের সামনে কথা বলছি যে সময়টার বিশেষ গুরুত্ব আছে। এই সময়ে সারা বিশ্বে কী হচ্ছে, আমাদের দেশে কী হচ্ছে, মুসলিম জাতিকে নিয়ে কী ঘটছে- এই সমস্ত কিছু সম্পর্কে আপনাদেরকে জানতে হবে, ভাবতে হবে ও সজাগ থাকতে হবে। আপনারা জানেন বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীকে বলা হয়ে থাকে গেøাবাল ভিলেজ অর্থাৎ বিশ্বগ্রাম। বিভিন্ন কারণে, রাজনৈতিক কারণে, অর্থনৈতিক কারণে, প্রযুক্তিগত কারণে সারা পৃথিবী একটি গ্রামের মত ছোট্ট হয়ে পড়েছে। আমরা গ্রাম-গঞ্জে যেমন দেখি এক পাড়ায় সমস্যা হলে অন্য পাড়ায় সাড়া পড়ে যায়। বিশ্ব এখন তেমনই। এক প্রান্তের সমস্যার প্রভাব অন্য প্রান্তে পড়ে। কাজেই আমরা বিচ্ছিন্ন নই আমাদেরকে পুরো বিশ্ব নিয়েই ভাবতে হবে। তাছাড়া আরও একটি মানবিক দায়বদ্ধতা আছে। আমরা সমস্ত মানুষই কিন্তু আদম-হাওয়ার সন্তান। পৃথিবীর যেখানেই বসবাস করি না কেন সবাই আমরা এক মাতা-পিতার সন্তান, ভাই-বোন। আমেরিকায় মারা গেলে আমার ভাই, বাংলাদেশে মরলে আমারই ভাই, ভারতে ধর্ষিতা হলে আমারই বোন। এই চেতনা হৃদয়ে লালন করতে হবে। আমি এই মানবজাতিরই একটি অংশ এটি ভুলে গেলে চলবে না। অনেক সময় দেখা যায় মুরুব্বিরা প্রশ্ন করেন, ‘‘এতকিছু নিয়ে ভাবতে হবে কেন? চাকরি বাকরি ব্যবসা বাণিজ্য করবি, খাওয়া দাওয়া করবি, সংসার করবি- এত কিছু ভাবার দায় পড়ল কেন?’’ আমি বলি- আমার এত ভাবার দরকার হত না যদি দেখতাম সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। যদি নির্যাতিত মানুষের ক্রন্দনের আওয়াজ আমার কানে আসত না, যদি ধর্ষিতা বোনের আহাজারি আমাকে দেখতে হত না। যদি পরাশক্তিধর দেশগুলোর শিক্ষার বাজেটের চাইতে সামরিক বাজেটের পরিমাণ শতগুণ বেশি হত না। কেউ জানে না কখন কোন দেশ আক্রান্ত হয়, কেউ জানে না কখন কোন মায়ের কোল খালি হয়- এই অবস্থায় আমি কীভাবে চোখ-কান বুঁজে ঘরে বসে ঘরে থাকব?
সমস্ত দুনিয়া আজ যুদ্ধের অস্ত্রে শান দিচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে কোনো মুহূর্তে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেতে পারে। মানুষ এখন বিনাশ হবার অপেক্ষায়। অন্যদিকে আমার মুসলমান নামক জাতির অবস্থাও করুণ। এই মুহূর্তে সাড়ে ছয় কোটি উদ্বাস্তু মুসলমান, রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করছে মুসলমান। ইরাক ধ্বংস করা হলো, সিরিয়া ধ্বংস করা হলো, আফগানিস্তান মাটির সাথে মিশে গেল, লিবিয়া গণকবর, ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষ চলছে, আফ্রিকায় না খেয়ে মারা যাচ্ছে মুসলমান। তারপর বাড়ির কাছে মিয়ানমার। দশ লক্ষ মুসলমানকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হলো। আপনি সারা দুনিয়ায় যেখানেই যান না কেন মুসলমানদের উপর নির্যাতন চলছে। এমন তো হবার কথা ছিল না। সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা আজকে ১৫০ কোটি। আমাদের লক্ষ লক্ষ আলেম, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বুজুর্গ, দরবেশ, পীর, কবি, সাহিত্যিক- কিন্তু সমস্ত জায়গায় আমরা মার খাই।
আজকে সমগ্র দুনিয়াময় মুসলমানদের কী পরিস্থিতি তা ভাবা কি আমাদের কর্তব্য নয়? আমার জাতির সঙ্কট নিয়ে কথা বলার অধিকার কি আমার নাই? আমার জাতির ভুল-ত্রæটির সমালোচনার অধিকার নাই আমার? অবশ্যই আছে। কিন্তু আমাকে কথা বলতে দিতে চায় না স্বার্থান্বেষীরা। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রটনা করে দেয়- আমার বক্তব্য শোনা যাবে না, আমার লেখা পড়া যাবে না, পড়লে ঈমান চলে যাবে। এই ধরনের কথা আল্লাহর কথার পরিপন্থী। কোর’আনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দটি হচ্ছে ‘পড়’, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন তার নামে। পড়ে কেন মানুষ? জানার জন্য নয় কি? অর্থাৎ আল্লাহ বললেন জানো। কী জানব? জানতে হবে নিজের সম্পর্কে, জানতে হবে তোমার মানবজাতি সম্পর্কে, জানতে হবে সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে, জানতে হবে মহাবিশ্ব সম্পর্কে, জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে। যে জাতি জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, আল্লাহ সেই জাতির মধ্যে সত্য নাজেল করলেন, তাদের সামনে চিন্তার খোরাক তুলে দিলেন। তাদেরকে বললেন- পড়, জানো। তারা যখন পড়া শুরু করল, জানা শুরু করল, মাত্র তেইশ বছরের সংগ্রামে তারা হয়ে গেল পৃথিবীর অন্যতম মাইট, তারা হয়ে গেল শিক্ষকের জাতি। আর আজকে মানুষকে শেখানো হচ্ছে দেখবে না, জানবে না, পড়বে না, পড়লে ঈমান চলে যাবে। এই কূপমÐূকতা, এই অজ্ঞতার বিরুদ্ধেই আমরা সংগ্রামে নেমেছি।
এখন আমাদের টেনশনটা কোথায়? আমরা কেন এত উদ্বিগ্ন? কেন আমরা গ্রামে গঞ্জে, শহরে বন্দরে, রাস্তাঘাটে সর্বত্র এইভাবে সমাবেশ করে চলেছি? কী বোঝাতে চাই আপনাকে? আমি আপনার ঈমান নষ্ট করতে আসি নাই, আপনার সম্পত্তি দখল করতে আসি নাই, ক্ষতি করতে আসি নাই, আপনাকে ইহকালে ও পরকালে উদ্ধার করতে এসেছি। অন্যায় কিছু যদি বলে থাকি পাও ধরে ক্ষমা চাইব, সমস্যা নাই। আপনারা কেবল উপলব্ধি করুন সঙ্কটটা কী, কী বলতে চাই আমরা।
আমাদের ব্যানারে লেখা থাকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আলোচনা সভা। আমাদের হেযবুত তওহীদের অবস্থান সমস্ত প্রকার জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতা তথা অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে। আপনারা নিশ্চয়ই বিভিন্নভাবে আমার বক্তব্য শুনেছেন। আমি কীসের বিরুদ্ধে বলি, কীসের পক্ষে বলি তা হয়ত আপনারা জানেন। এই যে সন্ত্রাসবাদের কথা বলা হয়ে থাকে, আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বইতে কিন্তু সন্ত্রাসের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বইটা আনলে আপনাদেরকে দেখাতে পারতাম। শোনেন, সন্ত্রাস কাকে বলে সেটা কেবল উকিলরা জানলে হবে না, আপনাদেরকেও জানতে হবে। মানুষের ক্ষতি করার জন্য, মানুষের জান-মালের ক্ষতি করার জন্য যারা আতঙ্ক সৃষ্টি করবে তারা সন্ত্রাসী। স্বাধীনতার পর থেকে কারা মানুষের জান-মালের ক্ষতি করেছে, কারা দেশের ক্ষতি করেছে তা আপনারা জানেন। আজকে সারা দুনিয়ায় আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন সমস্ত পরাশক্তি পৃথিবীময় কী করে বেড়াচ্ছে তাও আপনারা জানেন। অথচ সন্ত্রাসবাদের দায় গিয়ে পড়ে কেবল ইসলামের উপর, কোর’আনের উপর, মুসলমানের উপর।
১৯৭১ সালে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। তারপর গত ৪৬ বছর একটি দিনের জন্যও ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেওয়া হয় নাই। ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে উস্কে দিয়ে দাঙ্গা লাগিয়েছেন, স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বার্থের রাজনীতি, হানাহানি, রক্তারক্তি করে, বিভেদ সৃষ্টি করে আমার জাতিটাকে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছে। এসবের সুযোগ নেয় সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। তারা আজকে এই দলের উপর ভর করে, কালকে অন্য দলের উপর। এই যে ইরাক ধ্বংস হলো, আফগান ধ্বংস হলো, সিরিয়া গণকবর, লিবিয়া গণকবর, ইয়েমেনে আগুন জ্বলছে, একটার পর একটা দেশ ধ্বংস করা হচ্ছে জঙ্গিবাদী তাÐব সৃষ্টি করে। আমাদের দেশেও এই ধরণের তাÐব সৃষ্টি করার পাঁয়তারা বহুদিন ধরে চলছে এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি ইন্ধন রয়েছে। জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে এদেশকেও যদি গণকবর বানানো হয় তাহলে কোথায় যাব আমরা? উদ্বাস্তু জীবন ছাড়া উপায় থাকবে কি? কাজেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। ইসলামে কি জঙ্গিবাদ আছে? নেই। কিন্তু ভাইজান, কেবল নেই বলে বসে থাকলে চলবে না। জঙ্গিরা কোর’আনের আয়াত বলে, হাদীস বলে, বলে আমরা মুজাহিদ, জিহাদ করছি। কাজেই কেবল ‘না’ বললে হবে না, সঠিক ব্যাখ্যাটাও দিতে হবে।
গত সপ্তাহে রংপুরে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালানো হলো। বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হলো। কয়েক মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা হলো, লুটপাট, আগুন দেওয়া হলো। কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে হামলা হলো। এভাবেই ২০১৬ সালে হামলা হলো আমার বাড়িতে। ফেসবুক হচ্ছে এসবের উৎস। আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে কে যেন, আল্লাহ-রসুলকে গালাগালি করে। সেই পোস্টকে অবলম্বন করে হাজার হাজার মানুষ ছুটে গেছে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা করতে। এটা কি ইসলামসম্মত? শরিয়তসম্মত? কে তাদেরকে এই ইসলাম শিখিয়েছে? আল্লাহর রসুল কি এমন ছিলেন? উম্মতে মোহাম্মদী কি এমন ছিলেন? মুসলমানরা এভাবে কাজ করতে পারে না। হুজুগের বশে চলতে পারে না। হ্যাঁ, আল্লাহর রসুলকে গালি দিলে কেউ সহ্য করতে পারবে না এটা সত্য। আমি আমার রসুলের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। গালি দিতে দেখলে আমার রক্তে আগুন ধরে যায়। কিন্তু বুঝতে হবে, সেই আগুন যেখানে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া যাবে না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর কী আদেশ, রসুলের কী সুন্নাহ, সেটা জানতে হবে। তা না করে অন্য কোনোভাবে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। আজকে আমরা এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছি আমাদের কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। রসুল যখন আমাদের মধ্যে ছিলেন তখন আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আমাদের সমস্তকিছুর কর্তৃপক্ষ ছিলেন আল্লাহর রসুল। তিনি চলে যাবার পরেও আমাদের একজন নেতা ছিলেন, গাইডলাইন ছিল, আমরা ছিলাম এক জাতি। কিন্তু এখন তা নেই। আমরা এক জাতি নেই, সিদ্ধান্ত একটি নেই, কার সিদ্ধান্ত মানবে মুসলমানরা? শিয়া মানে না সুন্নিকে, সুন্নি মানে না শিয়াকে। আলীয়া মানে না কওমীকে, কওমী মানে না আলীয়াকে। কাকে মানবে কে? সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ নাই। একজন আরেকজনকে বলেন কাফের। মানুষের ঈমানকে, বিশ্বাসকে ব্যবহার করে যে যেভাবে পারছে ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার করছে। মাঝখান থেকে বদনাম হচ্ছে আল্লাহর, রসুলের, ইসলামের, কোর’আনের। এই অবস্থায় কেবল সাম্প্রদায়িকতা ইসলামে নেই, কূপমÐূকতা ইসলামে নেই- এসব বলে গলা ফাটালেই হবে না, ইসলামে কী আছে সেটাও বলতে হবে। সে কথাই বলছে হেযবুত তওহীদ। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বহুবার বলেছেন, কেবল শক্তি দিয়ে সন্ত্রাস নির্মূল হবে না, সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতে হবে। কে করবে সেটা? নিজের খেয়ে, নিজের পরে, নিজের পকেটের পয়সা খরচা করে, এক পয়সাও আশা না করে কে এগিয়ে যাবে? হেযবুত তওহীদ ছাড়া কেউ নাই। আমরা সরকারের নি¤œপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সর্বত্রই বলে এসেছি শক্তির পাশাপাশি আদর্শ লাগবে সেটা আমাদের কাছে আছে। আপনারা এই আদর্শ সর্বস্তরের মানুষের সামনে তুলে ধরুন। মানুষ সচেতন হোক। তাহলে আর শক্তি দিয়ে জোর করে দমিয়ে রাখতে হবে না।
এই যে ধর্মের নামে এত অন্ধত্ব, এত অনৈক্য, এত বিদ্বেষের চর্চা, এত নির্মমতা, অস্থিতিশীলতা- এটা তো আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামে ছিল না। আল্লাহর রসুল দুনিয়া থেকে চলে যাবার ৬০/৭০ বছর পর দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটল। জাতি লক্ষ্য ভুলে গেল। সংগ্রাম বন্ধ হয়ে গেল। তওহীদ ত্যাগ করল। মানবতার ইসলাম আর থাকল না। তারপর থেকে গত ১৩০০ বছরের কালপরিক্রমায় একটু একটু করে বিকৃত হতে হতে বর্তমানে পৃথিবীর কোথাও আর আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামটি নেই। যে ইসলাম শত্রæকে ভাই বানায়, শত্রæকে বন্ধু বানায়, দয়ায় মায়ায়, ভ্রাতৃত্বে, ঐক্যে, শৃঙ্খলায় বিশ্বের দৃষ্টান্ত ছিল সেই ইসলামে আমরা এখন নেই। অনেকে এই কথা হজম করতে পারেন না। উত্তেজিত হয়ে বলেন, কী? আমরা ইসলামে নেই? তাদেরকে বলি, ভাই, আল্লাহর হুকুমের সাথে তো আমাদের আচরণ মিলে না, আল্লাহর রসুলের জাতির সাথে তো আমাদের চিত্র মিলে না। উত্তেজিত পরে হবেন, আগে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন। বৃক্ষ যদি একই হবে তাহলে ফল কেন দু’রকমের? মুসলমান কূপমÐূক, মুসলমানরা পশ্চাদপদ, মুসলমানরা অসভ্য, মুসলমানরা জঙ্গি, মুসলমানরা বর্বর এই বলে পৃথিবীময় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চলছে। আমরা কি এইসব প্রচারণার দায় এড়িয়ে যেতে পারছি? পুরোপুরি পারছি না, কারণ যতটা রটছে তার কিছু তো ঘটছে।
এখন এই জাতির সামনে আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামকে তুলে ধরতে হবে। আমরা সরকারকে বারবার প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা হেযবুত তওহীদ সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি আজকে সারা পৃথিবীতে ধর্মের নামে যে জঙ্গিবাদ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করা হচ্ছে তা শক্তি দিয়ে বন্ধ করতে পারবেন না। শক্তির পাশাপাশি আদর্শ লাগবে। অধিকাংশ ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে বোঝাতে হবে ধর্ম কোনটা আর অধর্ম কোনটা। কোনটা সওয়াব কোনটা গুনাহ। এই জ্ঞান মানুষকে দিতে হবে। অস্বীকার করতে পারবেন না। গত কয়েক শতাব্দী ধরে ধর্মবিশ্বাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে তারা। কাজেই এক নম্বর রাস্তা বন্ধ। দ্বিতীয়ত অবজ্ঞাও করতে পারবেন না। এক শ্রেণির শিক্ষিত লোক গজিয়েছেন, তারা ধর্মকে অবজ্ঞা করতে শেখেন। তাদের ধারণা অনেকটা এরকম যে- ‘কীসের ধর্ম? এইসব মুর্খদের চিন্তাভাবনা, এইসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই।’ আমি বলব- না, অবজ্ঞা করতে পারবেন না। অবজ্ঞা করলে কী হবে তা দেখতে পাচ্ছেন না? পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হবে। তাহলে এখন করণীয় কী? আমরা সরকারের কাছে সেই প্রস্তাব তুলে ধরেছি। বিভিন্নভাবে সরকারকে বলে যাচ্ছি। সরকার চিন্তা করেছে কিনা জানি না। তবে আমরা বসে নেই। আমরা একদিকে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি, অন্যদিকে জনগণকে বোঝাচ্ছি। জনগণ যদি সত্যটা বুঝতে পারে তাহলে অন্তত তাদের ঈমানকে অপব্যবহার করে কেউ জাতিবিনাশী কর্মকাÐ করতে পারবে না। যে ইসলাম সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করার তওফিক দান করেছিল সেই ইসলামের শিক্ষা আল্লাহর রহমে আমরা পেয়েছি। ইসলাম কী শেখায় তার নমুনা দেই শুনুন।
মদীনাকে ধ্বংস করার জন্য সমস্ত আরবের শয়তানী শক্তি একজোট হয়ে একটি যুদ্ধের আয়োজন করেছিল। কিন্তু আল্লাহর রসুল মদীনা সনদের ভিত্তিতে ইহুদি, পৌত্তলিক, মুসলিমদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মদীনাকে রক্ষা করেছিলেন। সেদিন রসুল ও তাঁর আসহাবরা খেয়ে না খেয়ে, পেটে পাথর বেঁধে, গাছের লতাপাতা খেয়ে, অন্য ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মদীনাকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন বলেই তো আজকে এতদূর ইসলাম এসেছে। কাজেই আজকে আমাদের এই বাংলার মাটি, যে মাটিকে আমি সেজদাহ করি, যেই মাটিতে আমার পূর্বপুরুষের অস্থিমজ্জা মিশে আছে, সেই মাটিকে যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি তাহলে আমাদের উদ্বাস্তু হওয়া ছাড়া উপায় নাই। মুসলমানদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে এই মাটিকে রক্ষা করা কি আমাদের ঈমানী কর্তব্য নয়? কিন্তু আলেমদের দেখে আমরা হতাশ হই। তারা দেশের স্বার্থে, ধর্মের স্বার্থে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সা¤্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আপনারা জানেন শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম ফরিদুদ্দিন মাসুদ সাহেব জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক লক্ষ আলেমের সিগনেচার নিয়েছেন, কিন্তু গণমাধ্যমে খবর এসেছে, অনেক আলেমই নাকি সিদ্ধান্ত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও আলেমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি যে যুদ্ধ করা উচিত নাকি বিরোধিতা করা উচিত। এমন সিদ্ধান্তহীনতা কেন? সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগ তো ইসলামে নেই, সন্দেহের সুযোগ তো ইসলামে নেই। ন্যায়-অন্যায়কে স্পষ্ট করতে হবে। কোনটা জেহাদ আর কোনটা জেহাদের নামে সন্ত্রাস, কোনটা ইসলাম আর কোনটা বিকৃত ইসলাম তার মধ্যে সীমারেখা টানতে হবে। এখানে সিদ্ধান্তহীনতায় তারাই ভুগবে যাদের কাছে ন্যায়-অন্যায় সুস্পষ্ট নয়, অর্থাৎ যারা ইসলামকে সম্যকভাবে বুঝতেই পারেন নি।
আজকে আমরা হেযবুত তওহীদ শপথ নিয়েছি- ‘‘সা¤্রাজ্যবাদী পরাশক্তিরা, তোমাদের হাতে থাকতে পারে সামরিক শক্তি, অ্যাটম বোম, জঙ্গি বিমান, আমাদের আছেন আল্লাহ-রব্বুল আলামিন। আমরা যদি মো’মেন হই তাহলে আমরাই বিজয়ী হব, আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করবেন এই প্রতিশ্রæতি কোর’আনে আল্লাহ দিয়ে রেখেছেন। কাজেই আমরা তোমাদের ভয় পাই না।’’
আল্লাহর কাছে আমাদের আত্মার চাওয়া- আমরা যেন আমাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারি, সংগ্রামে অটল থাকতে পারি। আমরা যেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজীর সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারি- ‘‘ইয়া রসুলাল্লাহ, আপনার জাতি তাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়েছিল, আমরা আবার সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি, সমস্ত বাধা-প্রতিবন্ধকতা, সমস্ত প্রতিকূলতা, সমস্ত অপপ্রচার পাড়ি দিয়ে আমরা আপনার অর্পিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আপনি আমাদেরকে আপনার উম্মত হিসেবে স্বীকৃতি দান করুন।’’

Search Here

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

নরসিংদীতে দৈনিক বজ্রশক্তির ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ও বেলাব উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন

November 20, 2017

‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর’ এই স্লোগান নিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে দৈনিক বজ্রশক্তি’র পথচলা শুরু। মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে এই অগ্রযাত্রার চার বছর অতিক্রম করে গত ১৯ নভেম্বর ৫ম বছরে পদার্পণ করেছে জাতীয় এ সংবাদপত্রটি। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নরসিংদীর বেলাবতে পত্রিকাটির উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন ও […]

আরও→

ভোলায় দৈনিক দেশেরপত্র ও বজ্রশক্তির কার্যালয় উদ্বোধন

July 31, 2014

ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘এক জাতি এক দেশ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে দৈনিক দেশেরপত্র ও দৈনিক বজ্রশক্তি। এই কার্যক্রমকে আরো গতিময় করে তুলতে সারা দেশে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পত্রিকা দুইটির কার্যালয় উদ্বোধন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলা সদরে উদ্বোধন করা হয়েছে দৈনিক দেশেরপত্র […]

আরও→