এক নজরে হেযবুত তওহীদ | হেযবুত তওহীদ

এক নজরে হেযবুত তওহীদ

হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে করটিয়ার দাউদ মহলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ।

প্রতিষ্ঠাতা:
মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। তিনি ১৯২৫ সনের ১১ মার্চ পবিত্র শবে বরাতে টাঙ্গাইলের করটিয়ার বিখ্যাত পন্নী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৬ জানুয়ারি ২০১২ ঈসায়ী তারিখে তিনি প্রত্যক্ষ দুনিয়া থেকে পর্দা (ইন্তেকাল) করেন।
প্রতিষ্ঠা:
১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ ঈসায়ী; করটিয়া, টাঙ্গাইল।
ধরন:
সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন যার মূল কাজই হলো মানবজাতিকে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা এবং মানবজাতির অশান্তির মূল কারণ দাজ্জালের অনুসরণ না করে সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
কাঠামো:
এমাম-আমীর-সদস্য (সদস্যদেরকে মোজাহেদ-মোজাহেদা বলা হয়ে থাকে)
বর্তমান আনুগত্যের ধারাবাহিকতা:
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি হেযবুত তওহীদ মহান সৃষ্টিকর্তার এক মহাদান, তাঁরই অশেষ রহমতে এই আন্দোলন গত ২৩ বছর ধরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। মহান আল্লাহ এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান দান করলে তিনি এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা (হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারা) তাঁর নিকট থেকে প্রকৃত ইসলামের বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেছি, হেদায়াতের রাস্তা পেয়েছি, এ জন্য আমরা তাঁকে মাননীয় এমামুযযামান তথা যুগের নেতা হিসাবে মান্য করি। তাঁর মহাপ্রয়াণের পর থেকে আন্দোলনের এমাম হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাঁরই আদর্শের উত্তরাধিকার জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার পোরকরা গ্রামে ২৮ নভেম্বর, ১৯৭২ ঈসায়ী সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জনাব নুরুল হক এবং মাতা হোসনে-আরা বেগম। তিনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর পার্শ্ববর্তী বিপুলাসার আহম্মদ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে এস.এস.সি পাশ করেন। লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এইচ.এস.সি এবং একই কলেজ থেকে ১৯৯৩ ইং সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পড়ালেখা শেষ করে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেন।
উদ্দেশ্য:
সমগ্র মানবজাতি আজ অন্যায়, অবিচার, জুলুম, হত্যা, যুদ্ধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ঘুষ ইত্যাদি এক কথা চরম অশান্তিতে পরিপূর্ণ। এই অশান্তির কারণ হলো প্রচলিত জীবনব্যবস্থা। মানুষ কী ব্যবস্থায় শান্তি ও নিরাপত্তায় পৃথিবীতে বসবাস করতে পারবে তা সবচেয়ে ভালো জানেন মানবজাতির স্রষ্টা মহান আল্লাহ। তাই তিনি ১৪০০ বছর আগে পুরো মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য এবং অপরিবর্তনীয় প্রাকৃতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল একটি দীন তাঁর শেষ রসুলের মাধ্যমে প্রেরণ করেন। সেই দীনটি যখন আল্লাহর রসুল ও তাঁর উম্মাহ কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে অর্দ্ধ-পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেন তখন সেখানে এমন শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয় যার দৃষ্টান্ত মানব ইতিহাসে অনন্য। হেযবুত তওহীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবজাতিকে সেই অকল্পনীয় শান্তি ও নিরাপত্তার আস্বাদ দেওয়া। সমগ্র মানবজাতিকে স্রষ্টার হুকুমের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা।
সংক্ষিপ্ত কিছু বক্তব্য:
মানবজাতির বর্তমান সঙ্কট থেকে মুক্তির একমাত্র পথ স্রষ্টার বিধান। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ সমস্ত মানবজাতি আজ তার সমষ্টিগত জীবন মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা দিয়ে পরিচালনা করছে। ফলে সমস্ত পৃথিবীতে কোথাও শান্তি নেই, মানুষের জীবন সংঘর্ষ, রক্তপাত, অন্যায়, অবিচারে পূর্ণ হয়ে আছে। মানুষের তৈরি এই বিভিন্ন তন্ত্রমন্ত্র এ সমস্যাগুলোর সমাধান করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বরং দিন দিন পৃথিবীর পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। হেযবুত তওহীদের বক্তব্য এই যে, শান্তি, ন্যায়, সুবিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ বর্তমান জীবনব্যবস্থা (System) বাদ দিয়ে স্রষ্টার, আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং তা সমষ্টিগত জীবনে কার্যকরী করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম নামে যে ধর্মটি চালু আছে সেটা আল্লাহর প্রকৃত ইসলাম নয়। গত ১৪০০ বছর ধরে ধীরে ধীরে আল্লাহর প্রকৃত ইসলাম ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা বিকৃত ও বিপরীতমুখী হয়ে গেছে। আল্লাহ অতি দয়া করে তাঁর প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে বুঝিয়েছেন। তিনি তুলে ধরেছেন আল্লাহর রসুলের জাতি উম্মতে মোহাম্মদী কেমন ছিলেন, কী ছিল তাদের উদ্দেশ্য এবং কী অকল্পনীয় শান্তি, ন্যায়, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই জাতি। হেযবুত তওহীদ সেই প্রকৃত ইসলামের ধারক।
সমগ্র মানবজাতি এক স্রষ্টার সৃষ্টি এবং একই বাবা-মা আদম হাওয়ার সন্তান। কাজেই সবাই ভাই-বোন। এই ধারণার ভিত্তিতে পুরো মানবজাতি যদি স্রষ্টার বিধানের উপর ঐক্যবদ্ধ হয় তবে এই পৃথিবীর যাবতীয় অশান্তি দূর হবে।
ধর্ম এসেছে মানবতার কল্যাণে। ধর্মের কাজ করে কোনো পার্থিব বিনিময় নেওয়া চলে না। পার্থিব বিনিময় নিলে ধর্ম বিকৃত হয়ে যায়। কাজেই ধর্মের কাজ সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে করতে হবে এবং বিনিময় আশা করতে হবে কেবল আল্লাহর কাছ থেকে।
ব্রিটিশ শাসকরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য আমাদের এই অঞ্চলে দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করে। তার মধ্যে একটি হলো- মাদ্রাসা শিক্ষা ও অপরটি সাধারণ শিক্ষা। ব্রিটিশ পণ্ডিতরা অনেক গবেষণা করে একটি বিকৃত ইসলাম তৈরি করল যা থেকে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও জেহাদকে বাদ দেওয়া হলো এবং ব্যক্তিগত জীবনের মাসলা-মাসায়েল, ফতোয়া, দোয়া-কালাম, মিলাদের উর্দু-ফার্সি পদ্য, বিশেষ করে দীনের যে বিষয়গুলো স¤পর্কে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন মাজহাবের ফকীহদের মধ্যে বহু মতবিরোধ সঞ্চিত ছিল সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলো যেন সেগুলো নিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষিতরা তর্ক, বাহাস, মারামারিতে লিপ্ত থাকে। সেই ইসলামটিকে জাতির মনে-মগজে গেড়ে দেওয়ার জন্য বড়লাট লর্ড ওয়ারেন হেসটিংস ১৭৮০ সনে ভারতের তদানীন্তন রাজধানী কোলকাতায় আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করল। সেখানে নিজেরা অধ্যক্ষ থেকে পর পর ২৬ জন খ্রিষ্টান (প্রথম খ্রিষ্টান অধ্যক্ষ এ.এইচ. স্প্রিংঙ্গার এম.এ. এবং শেষ খ্রিষ্টান অধ্যক্ষ এ. এইচ. হার্টি এম.এ.) ১৯২৭ সন পর্যন্ত ১৪৬ বছর ধরে মুসলিম জাতিকে সেই বিকৃত ইসলামটি শেখাল। [দেখুন- আলীয়া মাদ্রাসার ইতিহাস, মূল- আঃ সাত্তার, অনুবাদ- মোস্তফা হারুণ, ইসলামী ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এবং Reports on Islamic Education and Madrasah Education in Bengal by Dr. Sekander Ali Ibrahimy (Islami Foundation Bangladesh)]।
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাসে অংক, ভূগোল, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদির কোনো কিছুই রাখা হলো না। ফলে আলেমরা বাস্তব জীবনে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিমজ্জিত হলেন। কিন্তু জীবিকা ছাড়া তো মানুষ চলতে পারে না। তাই অগত্যা তারা ধর্মের বিভিন্ন কাজ করে রুজি-রোজগার করাকেই নিয়তি হিসাবে গ্রহণ করলেন। ইংরেজ খ্রিষ্টানরা এটা এই উদ্দেশ্যে করল যেন তারা সর্বদা পরনির্ভরশীল হয়ে থাকে এবং মেরুদণ্ড সোজা করে কখনো তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে। ইংরেজরা তাদের এ পরিকল্পনায় শতভাগ সাফল্য লাভ করল। সেখান থেকে কোর’আন-হাদীসের জ্ঞান নিয়ে লক্ষ লক্ষ আলেম বেরিয়ে আসছেন কিন্তু তাদেরকে জাতির ঐক্য গঠনের গুরুত্ব, জীবন-সম্পদ উৎসর্গ করে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার প্রেরণা, সমাজে বিরাজমান অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়া হয়নি। এই ষড়যন্ত্রের পরিণামে তাদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞানের অহঙ্কার যেমন সৃষ্টি হলো, পাশাপাশি তাদের হৃদয়ে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গতিশীল ভ‚বন থেকে পিছিয়ে থাকার দরুন একপ্রকার হীনম্মন্যতাও সৃষ্টি হলো। তাদের অন্তর্মুখিতা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে গোঁড়ামি, বিভক্তি, নিস্পৃহতা, অন্তর্মুখিতা, স্বার্থপরতা ও অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষের কারণ এই শিক্ষাব্যবস্থার গোড়াতেই গ্রথিত রয়েছে। এ কারণে আমাদের জাতির মধ্যে লক্ষ লক্ষ আলেম থাকা সত্ত্বেও জাতীয়ভাবে আল্লাহর দেওয়া বিধান কার্যকর নেই এবং সেটা করার প্রচেষ্টাও তাদের মধ্যে নেই।
অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় (General Education System) দীন সম্পর্কে প্রায় কিছুই শিক্ষা দেওয়া হয়নি। বরং সুদভিত্তিক অংক, ব্রিটিশ রাজা- রানির ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, গণিত, পাশ্চাত্যের ধর্মহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা, পাশ্চাত্য বস্তুবাদী দর্শন ইত্যাদি শিক্ষার পাশাপাশি ধর্ম সম্পর্কে, বিশেষ করে ইসলাম সম্পর্কে একটা বিদ্বেষভাব (A hostile attitude) শিক্ষার্থীদের মনে প্রবেশ করানো হলো। ওখান থেকে লক্ষ লক্ষ কথিত আধুনিক শিক্ষিত লোক বের হচ্ছেন যারা চরম আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর। নিজেদের বৈষয়িক উন্নতি ছাড়া আর কিছুই তারা ভাবেন না। তারা অধিকাংশই আল্লাহর দীনকে মনে করেন সেকেলে, মধ্যযুগীয় চিন্তাধারা; ধর্মকে মনে করেন কল্পকাহিনী। তাদের দৃষ্টিতে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে ধর্ম অচল। তাদেরকে শেখানো হলো আধুনিক সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পশ্চিমাদের উদ্ভাবন। কিন্তু এই জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত্তি যে মুসলিমরাই নির্মাণ করেছিল সেটা তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হলো না। এদের মধ্যে অনেকেই আছে প্রচণ্ড ধর্মবিদ্বেষী অথচ মুসলিম পরিবারে তাদের জন্ম। এর মূল কারণ যে বস্তুবাদী ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থা, এ বিষয়টি এখন আমাদের সবাইকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের জাতির, কারণ আমাদের ধর্মীয় জীবন পরিচালিত হচ্ছে কিছু ব্যক্তিগত আমল করে আর জাতীয় জীবন পরিচালিত হচ্ছে পাশ্চাত্য প্রবর্তিত জীবনব্যবস্থা বা System দিয়ে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে- একদিকে ইসলামের মূল চেতনাবিহীন আচারসর্বস্ব ধর্মীয় শিক্ষা অপরদিকে একেবারে ধর্মহীন পাশ্চাত্য ধ্যান ধারণার একটি সাধারণ শিক্ষা। এই দুই বিপরীত চেতনায় শিক্ষিত দুটো শ্রেণির আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের মাঝখানে পড়ে বিশাল সংখ্যক ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ মানুষ আজ দিদ্বিদিক জ্ঞানশূন্য। এই দুটো চেতনার সংঘর্ষে আমাদের সমাজ, দেশ ও জাতি প্রায়ই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পতিত হয়। এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের রাস্তা একটাই, সেটা হলো- এমন একটা ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করা যেটা একাধারে দেহ-আত্মা, দুনিয়া-আখেরাতের সমস্যার সমাধান করবে।
কর্মসূচি:
মানবজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহ যে কর্মসূচি তাঁর শেষ রসুলকে দান করেছিলেন, যে কর্মসূচি স্বয়ং আল্লাহর রসুল এবং তাঁর হাতে গড়া উম্মতে মোহাম্মদী অনুসরণ করেছিলেন, সেই পাঁচ দফা কর্মসূচি অনুসরণ করেই হেযবুত তওহীদ সত্যদীন, দীনুল হক প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ৫ দফা কর্মসূচি তিনি তাঁর উম্মাহর উপর অর্পণ করার সময় বলছেন- এই কর্মসূচি আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, এখন এটা তোমাদের হাতে অর্পণ করে আমি চলে যাচ্ছি। সেগুলো হলো –

১. ঐক্যবদ্ধ হও।
২. (নেতার আদেশ) শোন।
৩. (নেতার ঐ আদেশ) পালন করো।
৪. হেযরত (যাবতীয় অন্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কত্যাগ) করো।
৫. এই দীনুল হক (ন্যায়, সত্য) পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা, প্রচেষ্টা।

যে ব্যক্তি এই ঐক্যবন্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও বহির্গত হলো, সে নিশ্চয় তার গলা থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলল- যদি না সে আবার ফিরে আসে (তওবা করে) এবং যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের দিকে আহ্বান করল, সে নিজেকে মুসলিম বলে বিশ্বাস করলেও, নামাজ পড়লেও এবং রোজা রাখলেও নিশ্চয়ই সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে [আল হারিস আল আশয়ারী (রাঃ) থেকে আহমদ, তিরমিযি, বাব উল এমারাত, মেশকাত]।

প্রশিক্ষণ:

মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করে সংগ্রাম করে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় চরিত্রবল, আত্মিক শক্তি, সবর, লক্ষ্যের প্রতি অবিচলতা (হানিফ)। সেই চরিত্র হতে হবে প্রধানত উপরোক্ত পাঁচ দফা ভিত্তিক অর্থাৎ তাদেরকে হতে হবে ইস্পাতের মত ঐক্যবদ্ধ, পিঁপড়ার মতো সুশৃঙ্খল, স্রষ্টার প্রতি প্রকৃতির মতো আনুগত্যশীল, সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক, কঠোর, প্রতিবাদী, নিঃস্বার্থ মানবপ্রেমী ও সংগ্রামী। এই চরিত্র অর্জনের জন্য হেযবুত তওহীদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে সঠিক পদ্ধতিতে সালাহ বা নামাজ কায়েম করা। হেযবুত তওহীদকে আল্লাহ সালাতের সঠিক উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া দান করেছেন। সালাতের বাইরে হেযবুত তওহীদ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন শরীরচর্চামূলক খেলাকে (যেমন কাবাডি, ফুটবল, সাঁতার) উৎসাহিত করে থাকে।

পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহ:

১. তওহীদ প্রকাশন
২. তওহীদ কাবাডি দল
৩. দৈনিক বজ্রশক্তি
৪. ইলদ্রিম মিডিয়া
৫. বাংলাদেশেরপত্র ডটকম (অনলাইন পত্রিকা)
৬. জেটিভি অনলাইন (অনলাইন টিভি)
৭. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: http://heybuttawheed.org

প্রকাশিত পুস্তকসমূহ-

১. ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা
২. ইসলামের প্রকৃত সালাহ্
৩. দাজ্জাল? ইহুদি -খ্রিষ্টান ‘সভ্যতা’!
৪. Dajjal? The Judeo-Christian Materialistic ‘Civilization’! (অনুবাদ)
৫. হেযবুত তওহীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
৬. জেহাদ, কেতাল ও সন্ত্রাস
৭. আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা
৮. বর্তমানের বিকৃত সুফিবাদ
৯. ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্রমূলক শিক্ষাব্যবস্থা
১০. যুগসন্ধিণে আমরা
১১. বাঘ-বন-বন্দুক
১২. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যামানার এমামের পত্রাবলী
১৩. বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.) এর ভাষণ
১৪. ইসলাম শুধু নাম থাকবে
১৫. যামানার এমামের পক্ষ থেকে মহাসত্যের আহ্বান
১৬. এ জাতির পায়ে লুটিয়ে পড়বে বিশ্ব
১৭. আসুন-সিস্টেমটাকেই পাল্টাই
১৮. চলমান সঙ্কট নিরসনে হেযবুত তওহীদের প্রস্তাবনা
১৯. Divide and Rule: শোষণের হাতিয়ার
২০. জোরপূর্বক শ্রমব্যবস্থাই দাসত্ব
২১. দান: ইসলামের অর্থনীতির চালিকাশক্তি
২২. সম্মানিত আলেমদের প্রতি
২৩. শ্রেণিহীন সমাজ, সাম্যবাদ, প্রকৃত ইসলাম
২৪. জঙ্গিবাদ সঙ্কট সমাধানের উপায়
২৫. পাশ্চাত্যের মানসিক দাসত্ব এবং আমাদের গণমাধ্যম
২৬. The Lost Eslam

প্রামাণ্যচিত্র-

১. এক জাতি এক দেশ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ
২. ধর্মব্যবসা ও ধর্ম নিয়ে অপ-রাজনীতির ইতিবৃত্ত
৩. নারীর মর্যাদা
৪. দাজ্জাল? ইহুদি-খ্রিষ্টান ‘সভ্যতা’!
৫. দাজ্জাল প্রতিরোধকারীদের সম্মান ও পুরস্কার
৬. আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা
৭. অন্যান্য দল না করে হেযবুত তওহীদ কেন করব?
৮. The Leader of the Time (গানের অ্যালবাম-সিডি)
৯. সকল ধর্মের মর্মকথা-সবার ঊর্ধ্বে মানবতা
১০. সন্ত্রাসবাদ

বৃহত্তম মাইলফলক:

২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মহান আল্লাহ এক মহান মো’জেজা অর্থাৎ অলৌকিক ঘটনা সংঘটন করেন যার দ্বারা তিনি তিনটি বিষয় সত্যায়ন করেন। যথা: হেযবুত তওহীদ হক (সত্য), এর এমাম আল্লাহর মনোনীত হক এমাম, হেযবুত তওহীদের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।

কর্মপ্রক্রিয়া-

হেযবুত তওহীদ রাষ্ট্রীয় আইনকে পূর্ণরূপে মান্য করে গত ২১ বছর ধরে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। মানবজাতিকে স্রষ্টার সার্বভৌমত্বের দিকে আহ্বান করার জন্য হেযবুত তওহীদ মাননীয় এমামুযযামানের বক্তব্য ও লেখা সম্বলিত হ্যান্ডবিল, বই, পত্রিকা, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদি সর্বশ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। এরই অংশ হিসাবে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে এই প্রকাশনা সামগ্রীগুলি বিক্রয়, বই মেলায় স্টল গ্রহণ, শিল্পকলা একাডেমী, পৌর মিলনায়তন, জাতীয় প্রেসক্লাব, পাবলিক লাইব্রেরির সেমিনার কক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হল, জাতীয় যাদুঘরের সেমিনার কক্ষসহ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতিতে, সকল ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তি ও ধর্মগুরুদের নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে আমাদের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত করে থাকি এবং প্রকাশনাসমূহ দিয়ে আমাদের বক্তব্য সম্পর্কে জানিয়ে থাকি। হেযবুত তওহীদের প্রকাশনাগুলি আন্দোলন ও পত্রিকার ওয়েবসাইটগুলিতেও প্রকাশ করা হয়।

অর্থের উৎস-

হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিজেদের উপার্জিত বা অর্জিত সম্পদ ব্যয় করে আন্দোলনের কাজ করে থাকেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড-

হেযবুত তওহীদ সুস্থ ধারার সংস্কৃতিকে লালন করে। এমামুযযামানের স্মরণে হেযবুত তওহীদের প্রকাশিত প্রথম গানের অ্যালবাম “দ্য লিডার অব দ্য টাইম’। সেমিনারগুলিতে হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যরা যন্ত্রানুসঙ্গ সহযোগে সঙ্গীত পরিবেশন করে। আমরা জানি অশ্লীলতা ইসলামে হারাম বা অবৈধ কিন্তু যা অশ্লীল নয়, সুস্থ- এমন বিনোদন ইসলামে বৈধ।