আপনাদের প্রোগামে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসাবে যারা গিয়েছিলেন তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বিভিন্ন প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। পরবর্তীতে তাদের আপনারা অতিথি হিসাবে পাবেন না। | হেযবুত তওহীদ

আপনাদের প্রোগামে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসাবে যারা গিয়েছিলেন তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বিভিন্ন প্রকার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। পরবর্তীতে তাদের আপনারা অতিথি হিসাবে পাবেন না।

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয়, যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলেন, যারা সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের অধিকারের কথা বলেন, সভা-সমাবেশে বিরাট বিরাট বুলি আওড়ান তারাই যদি এসমস্ত নীতিমালা পরিপন্থী কাজ করে তখন সেটা কী মেনে নেওয়া যায়? হেযবুত তওহীদ কর্তৃক আয়োজিত সভা সেমিনারগুলো রাজনীতিক আলোচনামুক্ত। আপনারা জানেন আমাদের আলোচ্য বিষয়গুলো কী কী। আমাদের বিষয়গুলো হলো, ‘এক জাতি এক দেশ ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’, ‘ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদের ইতিবৃত্ত’, ‘সকল ধর্মের মর্মকথা সবার ঊর্ধ্বে মানবতা’ ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো নিয়ে মনোভাব বিনিময়ের জন্যই আমরা আমন্ত্রণ জানাই সর্বশ্রেণীর মানুষদেরকে, সাহিত্যিক, শিল্পি, সাংবাদিক, অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমরা কাউকে বাদ রাখি নি। একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে এরা অন্যদের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। আমরা কৃষক শ্রমিক মেহনতি জনতা সবাইকে আমরা দাওয়াত দিই। কারণ তারাই এ সমাজের বাসিন্দা, তাদের সুখ শান্তির জন্যই সবকিছু। সমাজের মানুষগুলোকে যদি শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হয় তাহলে যে সমস্ত ফ্যাক্টরগুলো ঐক্যের সঙ্গে সংগতিশীল নয়, যে সমস্ত বিকৃতিগুলো প্রকৃত ইসলামের সঙ্গে সঙ্গতিশীল নয়, সে সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। সরকার কথায় কথায় বলেন, সর্বস্তরের জনগণকে জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান করছি। এখন আমরা যখন এগেিয় গেলাম, তখন বলা হলো, ওদের প্রোগ্রামে যাবেন না। আমরা যদি কোনো অন্যায় কথা বলে থাকি, আমাদেরকে সেটা দেখিয়ে দিন, আমরা শুধরে নেব। আমাদের সেই মানসিকতা আছে। কিন্তু তাও করছেন না। আসলে আমাদের এ সমস্ত সেমিনারগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করলে সেটা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে, জাতির সমৃদ্ধির পথ রচিত হবে, আর একটি বড় গোষ্ঠী আছে যারা এটা চায় না। তারা সমাজে দুর্নীতি, অন্যায়, অশান্তি, মারামারি, কোন্দল টিকিয়ে রাখতে চায় ব্যক্তিস্বার্থে বা গোষ্ঠীস্বার্থে। ধর্মব্যবসা সমাজের জন্য ক্যান্সারস্বরূপ। যারা একে টিকিয়ে রাখতে চায় তারা কি সমাজের শুভাকাক্সক্ষী? আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এটাই কি মুক্তচিন্তা, উদার নৈতিকতার পরিচয় নাকি কূপম-ূকতা ও ক্ষুদ্রতার পরিচয়? অমুকের মিটিং-এ যাবেন না, অমুকের পেপার পড়বেন না এ কথা বলতে পারে অসভ্য বর্বর ইউরোপীয় মধ্যযুগীয় সমাজের বাসিন্দারা, অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির সভ্য জগতে কোনো শিক্ষিত শ্রেণি এ জাতীয় কথা কীভাবে বলে? হেযবুত তওহীদ যদি নিষিদ্ধ হতো তাহলে এক কথা ছিল। হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধ নয়, জঙ্গি নয়। হেযবুত তওহীদের সেমিনারে এসে কোনও গণ্যমান্য ব্যক্তি কথা বললে তিনি হেযবুত তওহীদ হয়ে যান না, দূষিত হয়ে যান না। আমরা গোলটেবিল বৈঠক করছি, মুক্ত আলোচনা করছি। তিনি যদি আমাদের কথার সঙ্গে একমত না হন, তবে তিনি প্রকাশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিন, আমরা সে সুযোগ অবশ্যই তাকে দেব। সমাজের দায়িত্বশীল অবস্থানে যারা আছেন তারা যদি আমাদের অনুষ্ঠানে না-ই আসেন তবে আমরা যা বলছি তা সত্য বলছি না মিথ্যা বলছি তা তারা কীভাবে জানবেন? আমাদের বক্তব্য যদি সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়, কথা যদি মিথ্যা হয় তার প্রতিবাদ করার অধিকার ও কর্তব্য দুটোই তার আছে। তিনি সেই অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আর যদি কথা সত্য হয়, তবে তাকে সত্যবিমুখ করা হলো যা একটি ক্রাইম।
দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমরটারে রুখি,
সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?
দ্বার বন্ধ করে অজ্ঞতার অন্ধকারের মধ্যে বসে থাকাই কি আপনার শিক্ষা? সত্য-মিথ্যা যাচাই করবেন না? আমাদের কথা হচ্ছে সত্যের প্রবেশের পথটি খোলা রাখুন। মানুষের কল্যাণ হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই আচরণে আমার মক্কার সেই ঘটনা মনে পড়ে যায়। আল্লাহর রসুল যখন মানুষকে সত্যের দিকে ডাকতে লাগলেন তখন ক্বাবার পুরোহিতরা প্রচার করতে লাগল যে, কেউ তার কাছে যাবে না, তার কথা শুনবে না। শুনলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। কিন্তু এ করে কি সত্যের উত্থান রোধ করা গেছে? যায় নি। এতদিন ধর্মব্যবসায়ীরা আমাদের বিরুদ্ধে এমন বহু অপপ্রচার চালিয়েছে যে ওদের বই পড়বে না, মিটিং-এ যাবে না। গেলে খ্রিষ্টান হয়ে যাবে, কাফের হয়ে যাবে। এখন তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত শ্রেণিরও একটি অংশ একই কাজ আরম্ভ করেছেন। যারাই আমাদের মিটিং-এ আসেন তাদেরকে হাজারো প্রশ্ন করা হয়, কেন গেলেন, তারা বিতর্কিত ওখানে যাবেন না, গেলে অসুবিধা আছে। এসব কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, তারা এমন এক সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, যে সত্যকে রুখবার সাধ্য পৃথিবীতে কারো নেই। যে কেউ চেষ্টা করে দেখতে পারেন।